Home রুহআবিষ্ট তুমি রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৩

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৩

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৩
অধরা মিনহা

শার্লিন ইমরোজ সোফায় বসে আছেন। ডান হাত সোফার হাতলে রেখে হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরেছেন। চোখজোড়া বন্ধ, মুখে গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ। ছেলের কথা ভাবতে ভাবতে তিনি অস্থির হয়ে উঠেছেন। মিডিয়ায় ছেলের নাম জড়িয়ে নানা নেতিবাচক খবর বেরিয়েছে। তবে সেগুলো নিয়ে যতটা না চিন্তা, তার চেয়ে বেশি চিন্তা এই নিয়ে যে ছেলে এখন এক অচেনা অজানা রাস্তার মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনছে। বিষয়টা উনার কাছে ভীষণ লজ্জার।
মেয়েটার পরিবার, শিক্ষাগত মান, কিছুই জানা নেই। উনি মনে মনে ভাবেন, ভালো পরিবারের কোনো মেয়ে কি এভাবে এক অচেনা ছেলের বেড পর্যন্ত যেতে পারে? তাহলে নিশ্চয়ই মেয়েটি খুব নিচু মানসিকতার, থার্ড ক্লাস পরিবারের। কিন্তু এমন মেয়েকে নিয়ে তারা কিভাবে এমন হাই সোসাইটিতে চলাফেরা করবে? শার্লিন ইমরোজ নিজের ফ্রেন্ডদেরই বা কি বলবেন?
যে তাঁর ছেলের বউ একটা থার্ড ক্লাস পরিবারের মেয়ে? এসব ভাবনায় তিনি আরও অস্থির হয়ে পড়েন। ইখতিয়ার চৌধুরী আর ইফতিন বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই উনার অশান্তি যেন বেড়েই চলেছে।

শার্লিন ইমরোজ দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন সন্ধ্যা আটটা বাজতে চলেছে। এখনো কেউ ফিরছে না। ঠিক তখনি কলিংবেল বেজে উঠে। তিনি তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ান। মেইড দ্রুত এসে মেইন ডোরের দিকে এগিয়ে গেল দরজা খোলার জন্য। শার্লিন ইমরোজও দ্রুত পায়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ান।
মেইড দরজা খুলে সরে দাঁড়াতেই দেখে বাইরে ইফরাদ ও আনতারা দাঁড়িয়ে আছে। ইফরাদের ডান পাশে ইখতিয়ার চৌধুরী আর তাদের পেছনে ইফতিন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ইফরাদ ভেতরে ঢুকে সোজা হেঁটে গিয়ে সোফায় বসে পড়ে। আনতারা বাইরেই দাঁড়িয়ে আছে। ইফরাদের যেন খেয়ালই নেই যে আনতারা পেছনে রয়ে গেছে।
ইখতিয়ার চৌধুরী বিরক্ত হয়ে বলেন,
— এটা কেমন কাজ রাদ? বৌকে দরজায় রেখে নিজে একা ভেতরে ঢুকে গেলে!
ইফরাদ তাচ্ছিল্যের সুরে জবাব দেয়,

— ওকে বউ মানে কে? জাস্ট ইমেজ নষ্ট হওয়ার চাপে বিয়ে করেছি! এই মেয়ে বাচুক মরুক আমার যায় আসে না।
ইখতিয়ার চৌধুরী আবার বলেন,
— নতুন বউয়ের সাথে এভাবে কেন কথা বলছো?
ইফরাদ রেগে বলে,
— নতুন বউ মাই ফুট!
ইখতিয়ার চৌধুরী অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। এদিকে শার্লিন ইমরোজ এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে আনতারাকে দেখছিলেন। আনতারার পরনে সুতি সালোয়ার-কামিজ আর উড়না দেখেই তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন, তাঁর ধারণা ভুল ছিল না। মেয়েটি নিশ্চয়ই তাদের থেকে অনেক নিচু পরিবারের।
এবার শার্লিন ইমরোজ রাগে ফেটে পড়েন,

— বউ বউ করো না। পায়ে থাকা জিনিস মাথায় উঠে যাবে। ভুলে গেছে এই মেয়ে কি করেছে? এই মেয়ের জন্য আমাদের কতটা ভোগান্তি হয়েছে? আমার ছেলেটার নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়েছে!
ইখতিয়ার চৌধুরী লজ্জা পেলেন। নতুন বউ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে, আর বাড়ির লোকজনের এমন ব্যবহার! তিনি চোখের ইশারায় শার্লিন ইমরোজকে চুপ করতে বলেন।
তারপর আনতারার দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলেন,
— আচ্ছা, মা তুমি ভেতরে ঢুকো।
এতক্ষণ আনতারা মাথা নিচু করে চুপচাপ সব কথা শুনছিল। গত রাতের ঘটনার কথা তুলে বারবার তার চরিত্র নিয়ে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে, এতে আনতারার ভীষণ কষ্ট লাগছে। এত মানুষের সামনে এভাবে অপমান সহ্য করা। তবুও আনতারা ইখতিয়ার চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে ভদ্রভাবে মাথা নেড়ে ভেতরে ঢুকে। ভেতরে এসে মাথা তুলে দেখে, সোফায় বসে ইফরাদ তার দিকেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। আনতারা সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নেয়।
শার্লিন ইমরোজ ছেলের পাশে গিয়ে বসে বলেন,

— কেন বিয়ে করলে তুমি এই মেয়েটাকে? এই মেয়ের থেকে তো আমাদের বাড়ির মেইডরা অনেক ক্লাসি।
ইফরাদ বিরক্ত হয়ে আনতারার দিক থেকে চোখ সরিয়ে মায়ের দিকে তাকায়। ধমকের সুরে বলে,
— শখ করে বিয়ে করে আনিনি! জানো তো এটা? তাহলে মাথা ব্যথা বাড়াচ্ছো কেন?
ইফরাদ কথাটা বলেই রাগে উঠে দাঁড়ায়। তার সবকিছু অসহ্য লাগছে। এমনকি বাড়ির মানুষ গুলোকেও সহ্য হচ্ছে না। ইফরাদ দ্রুত পায়ে হেঁটে আনতারার দিকে এগিয়ে এলো। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় আনতারাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারপর গটগট পায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
হঠাৎ ধাক্কায় আনতারা টলে উঠলেও নিজেকে সামলে নেয়। শার্লিন ইমরোজ ছেলের ধমক খেয়ে মুখ গম্ভীর করে ফেলেন। কিন্তু সেই রাগ তিনি ছেলের উপর ঝাড়লেন না। চোখ ঘুরিয়ে গরম দৃষ্টিতে তাকান আনতারার দিকে।
উনার মতে, এই মেয়ের কারণেই ইফরাদ উনাকে ধমক দিয়েছে। ফলে আনতারার প্রতি শার্লিন ইমরোজের ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। এদিকে ইফতিন এতক্ষণ সবকিছু বেশ উপভোগ করেই দেখছিল। ইফরাদকে বেরিয়ে যেতে দেখে সে আনতারার দিকে তাকায়। আনতারার মুখ ফ্যাকাসে, মাথা নিচু। তখন ইফতিন হেসে বলে,

— ভাবি, লাগেনি তো জোরে?
আনতারা বুঝতেই পারে না যে ইফতিন মজা করছে। আনতারা মাথা নিচু রেখেই আস্তে করে দুদিকে মাথা নেড়ে বোঝায় — না, লাগেনি। ইখতিয়ার চৌধুরী ভেতরে ভেতরে হতাশ হচ্ছেন ইফরাদ আর শার্লিন ইমরোজের আচরণে। এখন তিনি চান না কেউ আনতারার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করুক। কারণ পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক। উনি সবকিছু প্ল্যান করে রেখেছেন। দুদিন পর মিডিয়ার সামনে আনতারাকে দাঁড় করিয়ে ইফরাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো ফেইক নিউজের জবাব দেওয়া হবে। যদি এখন আনতারা তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে বসে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। সমস্যা কমার বদলে বেড়ে যাবে। তাই আপাতত তিনি চান আনতারাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
তিনি এক মেইডকে ডেকে আনতারার দিকে ইশারা করে বলেন,

— যাও, আনতারাকে ইফরাদের রুমে দিয়ে আসো।
শার্লিন ইমরোজ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন,
— কেন?
ইখতিয়ার চৌধুরী বিরক্ত হয়ে বলেন,
— কেন আবার কী? ইফরাদের বউ ইফরাদের রুমেই যাবে! আর কোথায় যাবে?
শার্লিন ইমরোজ আপত্তি জানান,
— না, ইফরাদের রুমে যাবে না। ইফরাদ তো ওকে বউ হিসেবেই মানে না।
ইফতিন হেসে বলে উঠে,
— তাহলে আমার রুমে দিয়ে আসো।
কথাটা কানে যেতেই আনতারা মাথা তুলে ইফতিনের দিকে তাকায়। ইফতিনের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি। এই ভঙ্গিটা আনতারার একদমই পছন্দ না। বিয়ের সময়ও ইফতিন যেভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাকে দেখছিল, তাতে আনতারা ভীষণ বিরক্ত হয়েছিল। তার এই তাকানো, এই ধরনের কথা, সবই আনতারার ভীষণ অপছন্দ।
এবার আনতারা দৃঢ় কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,

— কেন আমি আপনার রুমে যাবো?
ইফতিন হেসে বলে,
— ফান করছিলাম, ভাবি!
আনতারা আগের মতোই দৃঢ় স্বরে বলে,
— আর এমন মজা করবেন না, ভাইয়া। আমি পছন্দ করি না।
ইফতিন হালকা হেসে বলে,
— দেবর হই! মজা তো করতেই পারি!
আনতারা শান্ত কিন্তু শক্ত কণ্ঠে বলে,
— না, পারেন না। দেবর হন আপনি আমার। আর দেবর হচ্ছে মৃত্যুর সমান। দেবরের থেকে দূরে থাকা ফরজ। ইসলামে সবচেয়ে বেশি পর্দা দেবরের সাথে করতে বলা হয়েছে। ইসলামে দেবর-ভাবি কিংবা শালি-দুলাভাইয়ের এমন মজার সম্পর্ককে লানত দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করছি, আপনি না নিজের গুনাহ বাড়াবেন আর না আমার।
শার্লিন ইমরোজ ব্যঙ্গ করে বলেন,

— বাবারেহ! ইসলাম নিয়ে এত জ্ঞান? এত কথা? তা এখন যে পর্দার কথা বলছো, এত সামান্য মজা করা নিয়ে, কই এইসব কথা আমার বড় ছেলের বেডে শুয়ে পড়ার আগে মনে ছিল না?
শার্লিন ইমরোজের কথার বিপরীতে আনতারা কিছু বলে না। চুপ করে থাকে। গত রাতের ঘটনাটা যখনি কেউ তোলে, তার লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়।বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে যেমন লজ্জা লাগে, তেমনি নিজের হয়ে সাফাই দিতেও সংকোচ হয়। যদিও সবকিছু তার অজান্তেই ঘটেছিল। তবুও তো কিছু একটা হয়েছিল তাদের মধ্যে, আর সেটাও বিয়ের আগে। এই সত্যিটাই আনতারাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। মানুষের অপমানসূচক কথার বিপরীতে কিছু বলতে পারে না। মাথাটা নিচু হয়ে থাকে।

তার উপর সামনে দেবর আর শ্বশুর দাঁড়িয়ে। তাদের সামনে এসব কথা বাড়ানো ঠিক হবে না। আনতারা বুঝে গেছে, তার শাশুড়ি তাকে অপমান করার ক্ষেত্রে কোনো কথা ভেবে বলবে না। বরং যদি কথা বাড়ায়, তাহলে দেবর আর শ্বশুরের সামনেই আরও লজ্জা ও অপমান সহ্য করতে হবে। তাই চুপ থাকাই আনতারার কাছে ঠিক মনে হয়।
আনতারা চুপ করে থাকায় শার্লিন ইমরোজ ভেতরে ভেতরে খুশি হন। মুখে আত্মবিশ্বাসী ভাব এনে দাঁড়িয়ে থাকেন। উনার চেহেরা দেখেই বুঝা যাচ্ছে উনি আনতারাকে বুঝিয়ে দিতে চান আনতারা উনার সামনে কিছুই না। ইখতিয়ার চৌধুরী খেয়াল করেন, আপাতত উনার স্ত্রী চুপ আছেন। তিনি ভাবেন, এটাই সুযোগ আনতারাকে রুমে পাঠানোর। নয়তো আবার কখন শার্লিন ইমরোজ মুখ খুলে অপমান শুরু করেন, বলা যায় না। তাই সুযোগ বুঝে মেইডকে বলেন,

— আচ্ছা, হয়েছে অনেক কথা। এখন আনতারাকে তাড়াতাড়ি ইফরাদের রুমে দিয়ে এসো।
তারপর আনতারার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলেন,
— যাও মা। ওর সাথে যাও, ও তোমাকে ইফরাদের রুম দেখিয়ে দিবে। আজ থেকে সেটাই তোমার রুম।
আনতারা ভদ্র মেয়ের মতো মাথা নেড়ে মেইডের পেছন পেছন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলে যায়। ইফতিন তাকিয়ে থাকে আনতারার চলে যাওয়ার দিকে। আনতারা চোখের আড়াল হতেই ইখতিয়ার চৌধুরী বিরক্ত গলায় বলেন,
— তোমরা কি পাগল? এখন যদি মেয়েটাকে আদর করে আমাদের হাতের মুঠোয় রাখি, তাহলে মিডিয়ার সামনে আমরা যা বলতে বলবো তাই বলবে। কিন্তু এখন খারাপ ব্যবহার করলে দেখা গেলো মিডিয়ার সামনে সব সত্যি বলে দিলো। সাথে তোমাদের মা-ছেলের ব্যবহারও বলে দিলো। তখন জিনিসটা আরো খারাপের দিকে যাবে।
শার্লিন ইমরোজ নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেন,
— ভালোটা গিয়ে ছেলেকে বুঝাও! দেখো কি বলে!
স্ত্রীর এমম গা ছাড়া উত্তরে ইখতিয়ার চৌধুরীর রাগ হলো। শার্লিন ইমরোজ এতটা ছোট নন যে বিষয়টা বুঝবেন না। বয়স ও অভিজ্ঞতা যথেষ্ট। তবুও তিনি ব্যাপারটা বুঝতে চাইছেন না।
এদিকে আনতারা মেইডের পেছন পেছন হাঁটছে। দ্বিতীয় তলার করিডোরটা বেশ বড়। অনেকটা পথ হেঁটে তারা একটা দরজার সামনে থামে।
মেইড বলে,

— এটাই স্যারের রুম। আসুন।
বলেই দরজা খুলে দেয়। আনতারা বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই ভেতরটা এক নজরে দেখে। ঘরটা বিশাল। মাঝখানে বড় একটা বিছানা। বিছানার মাথার দুই পাশে দুটি সাইড টেবিল আর তার উপর বেডসাইড ল্যাম্প রাখা। বিছানার পায়ের দিকে একটি লম্বা বসার বেঞ্চ। বাম পাশে দুটি ছোট গোলাপি রঙের চেয়ার ও একটি ছোট টেবিল। ডান পাশে কাচের দরজাওয়ালা কাভার্ড, ভেতরে ইফরাদের কাপড়গুলো দেখা যাচ্ছে। একটু দূরে আরেকটি দরজা, সম্ভবত ওয়াশরুম।
মেঝেতে চকচকে কালো টাইলস। তার উপর বড় ধূসর রঙের নরম গালিচা বিছানো। দেয়ালে বাদামী আর সোনালি রঙের মিশ্রণ। সিলিং ও দেয়ালে আধুনিক ডিজাইনের বিভিন্ন লাইট। বিছানার পেছনের দেয়ালে শৈল্পিক নকশা। জানালার পাশে রাখা বড় একটি কৃত্রিম গাছ। মেইড ভেতরে ঢুকতে ইশারা করে। আনতারা ধীরে ভেতরে ঢুকে, মেইডও পেছনে।
মেইড বলে,

— আপনার কোনো কিছু লাগলে আমাকে বলবেন।
আনতারা শান্ত গলায় বলে,
— আচ্ছা।
মেইড বলে,
— আমি গেলাম।
বলেই মেইড দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবে ঠিক তখনি আনতারা মেইডকে ডাকে,
— শুনেন?
মেইড ঘুরে তাকায়,
— জি, ম্যাডাম?
আনতারা একটু ইতস্তত করে বলে,
— জায়নামাজটা কোথায়? একটু বের করে দিবেন?
মেইড বলে,
— আচ্ছা, এনে দিচ্ছি।
আনতারা আবার জিজ্ঞেস করে,
— এই রুমে জায়নামাজ নেই?
মেইড অবাক হয়ে বলে,
— এই রুমে জায়নামাজ থাকবে কেন? ইফরাদ স্যার কি নামাজ পড়েন নাকি?
আনতারা চমকে উঠে,
— ইফরাদ নামাজ পড়ে না?
মেইড নির্লিপ্ত গলায় বলে,

— ইফরাদ স্যার নামাজ তো দূর, উনার মুখে কখনো আল্লাহর নাম শুনেছি কিনা সন্দেহ।
কথাটা শুনে আনতারার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। সে ছোটবেলা থেকে কখনো এক ওয়াক্ত নামাজও বাদ দেয়নি। আর আজ সে শুনছে, তার স্বামী নাকি কখনো নামাজই পড়েনি! অথচ সে সবসময় চেয়েছিল একজন ঈমানদার, দ্বীনের পথে চলা মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে। আর এখন শুনছে, তার স্বামী আল্লাহর নাম পর্যন্ত নেয় না। কবরে প্রথম যে হিসাব নেওয়া হবে, তা তো নামাজের। সেখানে ইফরাদ যদি কখনো নামাজই না পড়ে থাকে! নামাজ না পড়ার শাস্তি কত ভয়াবহ হতে পারে, ভাবতেই আনতারার শরীর ঘামে ভিজে যায়। ইফরাদকে দ্বীনের পথে আনা যে সহজ হবে না, তা আনতারা বুঝতে পারে।
আনতারা নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,

— আচ্ছা, আমাকে জায়নামাজটা এনে দিন। আর হ্যাঁ, একটা তোয়ালে আর জামাও লাগবে।
— তোয়ালে এনে দিচ্ছি, কিন্তু জামা কোথা থেকে দিবো?
আনতারা লজ্জা পায়।
— আসলে আমি তো কোনো কাপড় আনিনি। আপনার কাছে একটা থাকলে একটু দিবেন? আসলে নামাজ পড়বো। এই কাপড় দিয়ে পড়া যাবে না।
মেইড মাথা নেড়ে বলে,
— আচ্ছা, দেখছি।
মেইড চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো। হাতে জায়নামাজ, তোয়ালে আর বেশ কয়েকটা ড্রেস। সব এনে আনতারার সামনে রাখে।
আনতারা অবাক হয়ে বলে,
— এত অল্প সময়ে এতগুলো জামা কোথায় পেলেন?
মেইড বলে,

— ইখতিয়ার স্যার দিয়েছেন এগুলো। শার্লিন ম্যাডামের একদম নতুন ড্রেস। একদমই পড়েননি। এখান থেকে কোনটা নিবেন নিন। বাকিগুলো কাভার্ডে রেখে দিচ্ছি।
আনতারা তোয়ালে আর একটা ড্রেস বেছে নেয়। কালো আর ক্রিম রঙের মিশ্রণে ফ্লোরাল প্রিন্টের জর্জেট কাপড়ের একটি থ্রিপিস। তারপর সেগুলো নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। মেইড বাকি কাপড়গুলো কাভার্ডে গুছিয়ে রেখে জায়নামাজটা রেখে চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
গোসল শেষ করে আনতারা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে রুমে কেউ নেই। পায়ের দিকের লম্বা বসার বেঞ্চটার উপর জায়নামাজ রাখা। আনতারা গোসলের পর ওযু করেই বের হয়েছিল। পাশে রাখা নতুন জামার ওড়নাটি মাথায় হিজাবের মতো পেঁচিয়ে নেয়। তারপর আনতারা জায়নামাজটা বিছানার ডান পাশে মেঝেতে বিছিয়ে দাঁড়িয়ে গেল নামাজে।
সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর কারণে নামাজ পড়তে পারেনি। তাই প্রথমে ফজরের ২ রাকাআত ফরজ, যোহরের ৪ রাকাআত ফরজ, আসরের ৪ রাকাআত ফরজ এবং মাগরিবের ৩ রাকাআত ফরজ সব কাজা নামাজ আদায় করে। এরপর এশার নামাজ আদায় করে। এশার নামাজ শেষ করে গত রাতের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে ২ রাকাআত সালাতুল তওবা আদায় করে। এভাবে আনতারা মোট ৬ রাকাআত সালাতুল তওবা নামাজ পড়ে। নামাজ শেষ করে দুহাত তুলে মোনাজাত ধরে। হাত উঠাতেই আনতারার চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরতে লাগল। কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে,

— হে আল্লাহ আমি তোমার সামনে লজ্জিত হয়ে দাঁড়িয়েছি। তুমি আমাকে দেখেছ, আমি যখন গুনাহ করেছি। আমি নিজের অজান্তে হারাম কাজে জরিয়ে গেছিলাম। হে রব, হয়ত আমি আমার নফসের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। হে আমার আল্লাহ রব্বুল আলামীন, যে দেহ তুমি হালাল পথে ব্যবহার করতে বলেছিলে, আমি তা হারামে ব্যবহার করেছি। যে হৃদয় তুমি পবিত্র রাখতে বলেছিলে, আমি তা কলুষিত করেছি। আমি লজ্জিত! খুব লজ্জিত! হে আল্লাহ, তুমি তো পরম ক্ষমাশীল। তুমি তো সেই রব, যিনি সবচেয়ে বড় গুনাহও মাফ করে দাও যদি বান্দা সত্যিকারের তওবা করে। আমি আজ প্রতিজ্ঞা করছি, আমি আর কখনো সেই হারাম কাজ করবো না। আমার এই বিয়ে যেন পবিত্র হয়, হালাল হয়, রহমতের হয়। আমার অতীতের কালো দাগ তুমি মুছে দাও। আমার গুনাহগুলোকে সওয়াবে পরিণত করে দাও। হে দয়াময়, আমাকে লজ্জার মৃত্যু দিও না। আমাকে ঈমানের সাথে বাঁচাও, ঈমানের সাথে মরার তাওফিক দাও। আমার চোখের এই কান্নাকে তুমি কবুল করো। আমার অন্তরকে পবিত্র করে দাও। তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই। তুমি ছাড়া আমাকে রক্ষা করার কেউ নেই। আমাকে ক্ষমা করো! সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করো! আমিন।
মোনাজাত শেষ করে আনতারা চোখের পানি মুছে নেয়। কান্নায় আনতারার চোখ আর নাক লাল হয়ে ফুলে গেছে। এবার আনতারার ভীষণ ক্ষুধা লাগে। সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। পেট ব্যথা করছে ক্ষুধায়। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে দশটা। ঠিক তখনি দরজায় নক করে কেউ।
আনতারা জায়নামাজে বসেই ঘাড় ফিরিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,

— আসেন।
মেইড ভেতরে ঢুকে। হাতে খাবারের ট্রে, তাতে বিরিয়ানির প্লেট। মেইড খাবারটি সাইড টেবিলে রেখে বলল,
— ম্যাডাম, আপনার খাবার এনেছি। খেয়ে নিবেন।
আনতারা জিজ্ঞেস করে,
— ইফরাদ আসবে কখন? সে এখনো আসছে না কেন?
মেইড বলে,
— ইফরাদ স্যার আসতে দেরি আছে। মাঝরাতে কিংবা ভোর সকালে আসতে পারে। উনার আশায় বসে না খেয়ে লাভ নেই। উনি সারারাত পার্টি করে খেয়েই ফিরবে।
আনতারা ছোট করে বলে,
— ওহ।
মেইড বলে,
— হ্যাঁ। এখন খেয়ে নিন।
মেইড চলে গেলে আনতারা উঠে জায়নামাজটা গুছিয়ে রাখে। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখমুখে পানি দিয়ে এসে বেডে বসে খেয়ে নেয়। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীর কিছুটা হালকা লাগে। খাওয়া শেষ করে বেডের পাশে বসে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকে। দোয়া পড়তে পড়তে তার মনে ঘুরপাক খেতে থাকে ইফরাদের কথা। ইফরাদ কখন ফিরবে? অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছে আনতারার ভেতরে।

দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে রাত একটা বেজে যায়। আনতারা আবার উঠে ওযু করে এসে জায়নামাজ বিছায়। সে প্রতিরাতেই তাহাজ্জুদ পড়ে। আজও পড়বে। নিয়ত করে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। ঠিক তখনি দরজা খুলে ইফরাদ ঘরে ঢুকে। তার হাতে দামি বিদেশি মদের বোতল। ঢুকেই বোতলে চুমুক দিতে দিতে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এক হাতে বোতল, অন্য হাতে ভর দিয়ে শুয়ে ইফরাদ তাকিয়ে থাকে নামাজ পড়তে থাকা আনতারার দিকে।
আনতারা সিজদায় যেতেই ইফরাদ হঠাৎ জোরে হেসে উঠে। হাসতে হাসতে বিদ্রূপের সুরে বলে,
— তোকে দেখলে শয়তান আর ফেরেস্তা দুজনই কনফিউজড হয়ে যায়! তুই কি মেয়ে! নষ্টামিও করিস আবার পর্দা করিস। পাপও করিস আবার নামাজও পড়িস!
আনতারা নামাজ শেষ করে সালাম ফিরায়। চোখ তুলে ইফরাদের দিকে তাকায়। তারপর জায়নামাজ ছেড়ে উঠে ইফরাদের কাছে এসে সামনে দাড়িয়ে বলে,
— আপনি দেখছেন আমি নামাজ পড়ছি, তারপর আপনি এসব কথা বলছেন। আবার মদও খাচ্ছেন! আপনি জানেন না মদ খাওয়া হারাম? এই মুখ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
ইফরাদ বিরক্ত হয়ে হাত দিয়ে আনতারাকে ধাক্কা দেয়,

— সর এখান থেকে! তোর মতো নষ্টা থেকে অন্তত ইসলামের জ্ঞান নিবো না।
আনতারা একটু পিছিয়ে গিয়ে নিজের পোশাকের দিকে তাকায়। যেখানে ইফরাদের হাত লেগেছে। কষ্ট আর উদ্বেগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলে,
— এটা কি করেছেন ইফরাদ? আপনি দেখছেন না আমি নামাজ পড়ছি। তারপরও আপনি মদ স্পর্শ করা হাত দিয়ে আমার কাপড় ছুঁয়েছেন! এখন আমি এই পোশাক দিয়ে নামাজ পড়বো কিভাবে?
ইফরাদ এবার আরও রেগে গিয়ে পা দিয়ে আনতারাকে লাথি মেরে সরিয়ে দেয়,

— যা, এবার পা দিয়ে সরিয়েছি! এটারই যোগ্য তুই!
হঠাৎ আঘাতে আনতারা পিছিয়ে যায়। মুহূর্তেই তার চোখে পানি চলে আসে। বিয়ের প্রথম রাতেই স্বামীর কাছ থেকে এমন ব্যবহার মেনে নিতে পারছে না আনতারা। কাঁপা গলায় বলে,
— এমন করছেন কেন ইফরাদ? আমি তো আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছি!
এই কথাটা শুনেই যেন ইফরাদের মাথায় আগুন ধরে যায়। ইফরাদ হাতে থাকা মদের বোতলটা ছুড়ে দূরে ফেলে দিয়ে দ্রুত উঠে দাড়ায়। এক ঝটকায় আনতারার কাছে গিয়ে আনতারার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— তুই মেনে নিবি না? তুই তো চেয়েছিলিই এটা! আমাকে ফাঁসিয়েছিস তুই! নয়ত তোর মতো একটা থার্ড ক্লাস খ্যাত মেয়ে এই ইফরাদ রিদান চৌধুরী বউ কিভাবে হয়? আমি সেই ছেলে যাকে একপলক দেখার জন্য মেয়েরা ছটফট করে! আর সেই ছেলে কিনা তোর মতো একটা প্রস্টিটিউটকে বউ হিসেবে পেয়েছে!
চোখ ভরা জল নিয়ে আনতারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কাঁপা কণ্ঠে বলে,
— কিসব বলছেন আপনি? আমি এমন কিছু করিনি! একটাবার বিশ্বাস করুন আমার কথা।
ইফরাদ ফুঁসে উঠে,

— তুই কি ভাবিস তোর এইসব নাটকের কথা বিশ্বাস করবো আমি? আমাকে অভিনয় শেখাতে আসিস না। আমি এক্টর ইফরাদ রিদান চৌধুরী! তোর প্ল্যান ঠিকই ধরে নিয়েছি!
ইফরাদের কথা শুনে আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কি প্ল্যান?
ইফরাদ দাঁতে দাঁত চেপে রাগে বলে,
— এই যে আমার বউ হওয়ার প্ল্যান। সেজন্যই তো তুই গতরাতে আমার নেশার সুযোগ নিয়ে আমার রুমে ঢুকে পড়ে পুরো সুযোগ নিয়েছিস! তারপর সকালে মিডিয়া আনালি! এখন সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তোকে বিয়ে করতে হয়েছে! আর তুই যে সব ধর্ম নিয়ে কথা বলিস! পর্দা করিস! এসব ভং তোর! তুই একটা প্রস্টিটিউট!
এই নোংরা শব্দগুলো শুনে আনতারা কেঁদে উঠে। অপমানের ভার সে সহ্য করতে পারছে না। সে এমন না, এই সত্যিটা বলতে চাইছে, কিন্তু কেউ শুনতে রাজি না।
আনতারা অসহায় কণ্ঠে বলে,
— ইফরাদ, এসব বলবেন না আমার উপর! বিশ্বাস করুন, আমি জানি না আমি কিভাবে আপনার রুমে গেলাম। আমি ধর্ম নিয়ে মিথ্যা বলি না। আমি এমন না।
ইফরাদ ক্ষোভে আনতারাকে ধাক্কা মেরে ছুড়ে ফেলে দেয়,

— তুই যে কেমন, সেটা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছি! আর তোকে দেখলেই বমি আসে! দূরে থাক আমার থেকে!
আনতারা মাটিতে ছিটকে পড়ে। ইফরাদ গিয়ে বিছানায় বসে পড়ে। তারপর কঠিন গলায় বলে,
— এদিকে আয়।
আনতারা মাথা তুলে ইফরাদের দিকে তাকায়। ইফরাদ রাগে গর্জে উঠে,
— কি হলো? তোকে ডাকছি না আমি? আসবি, নাকি মার খেয়ে আসবি?
আনতারা ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে ইফরাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ইফরাদ আদেশের সুরে বলে,
— বস। পায়ের জুতাগুলো খোল।
কয়েক মুহূর্ত আনতারা ইফরাদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। চোখে বিস্ময় আর অপমানের ছাপ। যেন সবকিছু বোঝার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তারপর চুপচাপ নিচু হয়ে ইফরাদের জুতা খুলতে লাগল।
জুতা খোলা শেষ হলে ইফরাদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে,
— এটা হচ্ছে তোর জায়গা। আমার পায়ে। বুকে আসার যোগ্যতা তোর মতো নষ্ট মেয়ের নেই।
বলেই ইফরাদ পা তুলে বিছানার উপর রাখে। তারপর শুয়ে পড়ে। শোয়া অবস্থায় মাথা তুলে আবার বলে,

— শোন, কান্না করতে হলে মুখ চেপে করবি। শব্দ যেন আমার কানে না আসে। যদি তোর কারণে আমার ঘুম ভাঙে, তোকে ভেঙে ফেলবো। মনে রাখিস।
বলেই কম্ফোর্টার গায়ে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ইফরাদ। কিছু সময়ের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়ে নেশা করে থাকায়। আনতারা যেন পাথর হয়ে বসে থাকে। চোখ দুটো শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। স্বামী নামের মানুষটার কাছ থেকে এমন লাঞ্ছনা পাবে, এটা আনতারা কখনো কল্পনাও করেনি। সে তো স্বপ্ন দেখেছিল একটা শান্ত, ভালোবাসায় ভরা সংসার। যেখানে থাকবে সম্মান, থাকবে মমতা। থাকবে না কোনো অপমান আর দূরত্ব। অথচ তার কপালে জুটল অবজ্ঞা আর তিরস্কার।

কিছুক্ষণ পর আনতারা ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে কাভার্ড থেকে নতুন একটা ড্রেস বের করে। কাপড় বদলে আবার ওযু করে আসে। তারপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ায়। নামাজ পড়তে পড়তে আনতারার চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরতে থাকে। বুকের ভেতর ব্যথা যেন থামছেই না। ইফরাদের কথাগুলো বারবার কানে বাজছে। চার রাকাআত নামাজ শেষ করে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না আনতারা। হাত তুলে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করতে গিয়ে বাচ্চার মতো কাঁদতে শুরু করে। কান্নায় তার শরীর কাঁপছে। গলা দিয়ে ঠিকমতো শব্দ বেরোচ্ছে না। বুকের কষ্টে কথা আটকে যাচ্ছে।
তবু কোনোভাবে বলে,

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২

— আল্লাহ, ও আল্লাহ, আপনি সব ঠিক করে দিন মালিক। আমি আর পারছি না এতো অপমান, লাঞ্ছনা সহ্য করতে। আল্লাহ, আপনি সব ঠিক করে দিন। আল্লাহ, আপনি ইফরাদের মেজাজটা ঠান্ডা করে দিন। মনটা নরম করে দিন। আমাদের দূরত্ব কমিয়ে দিন। আমাদের মধ্যে পবিত্র মোহাব্বত দিয়ে দিন।

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ৪