রুহ এ ইশক পর্ব ২২
আনান রোজ
আবির ইনশিরার গাল স্পর্শ করছে এই দৃশ্য দেখে প্রফেসর উযাইনের চোখ দুটো যেন রাগে কয়লার মতো কালো হয়ে উঠল! তার ভেতরের পজেসিভ শয়তান পুরুষটা এক নিমেষে জেগে উঠল। সে নিজের চোয়াল শক্ত করে, ফোনটা চেক করে পকেটে গুঁজে চুপচাপ ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে চলে গেল।
ক্লাসের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও প্রফেসর উযাইন আবরার আর সেই রুমে ফিরে এলো না। পুরো ক্লাস যখন পরীক্ষা শেষ করে খাতা জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই ডিপার্টমেন্টের একজন পিয়ন হন্তদন্ত হয়ে ক্লাসরুমে প্রবেশ করল। পিয়ন সবাইকে উদ্দেশ্য করে চড়া গলায় বলল—
—”Attention please, everyone! প্রফেসর উযাইন আবরার এই মুহূর্তে ওপরের ব্লকে পিএইচডির একটা ইমার্জেন্সি ক্লাস নিচ্ছেন। ওনার ওখানে লেইট হবে, তাই উনি আজ আর ক্লাসে ফিরবেন না। তোমরা খাতাগুলো মনিটরের কাছে জমা দিয়ে দিতে পারো।”
মুহূর্তেই ইনশিরার ফর্সা মুখটা এক বুক কষ্টে শুকিয়ে আমসি হয়ে গেল!
ইনশিরা ক্লাস থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের খোলা মাঠের একটা বেঞ্চে এসে ধপ করে বসল। আবির আর ওর বাকি বন্ধুরা পাশে বসে আড্ডা দিলেও ইনশিরার মন সেখানে ছিল না। সে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে, চেক করতে লাগলো বারবার, উযাইন মেসেজ দিয়েছে কি না, অনেকক্ষন হয়ে গেল। ইনশিরার আর সহ্য হলো না,সে তীব্র ক্ষোভ আর ছলছল চোখে উযাইনকে মেসেজ টাইপ করল—
—”আপনি যদি এখনই আমার সামনে না আসেন তবে আমি সোজা ট্যাক্সি ধরে ল’ ফার্মে যাচ্ছি!
মেসেজটা সেন্ড করার পর ইনশিরা অনবরত স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু এক মিনিট… দুই মিনিট পার হয়ে গেলেও উযাইন মেসেজটা সিন করল না! ইনশিরার চোখ জোড়া নোনা জলে পুরোপুরি ছলছল করে উঠল,ওর বুকটা অভিমানে ভেঙে আসতে চাইল।
ঠিক তখনই ক্যাম্পাসের মাঠের নিস্তব্ধতা ভেঙে হুট করে ডিপার্টমেন্টের সেই চেনা পিয়নের চড়া কণ্ঠস্বর ইনশিরার বেঞ্চের সামনে এসে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল
পিয়ন ইনশিরার সামনে দাঁড়িয়ে, অত্যন্ত ফর্মাল ও মার্জিত গলায় বলল—
—”Excuse me! আপনি কি মিস ইনশিরা কায়নাত আপনাকে, প্রফেসর আবরার এক্ষুনি ডেকে পাঠিয়েছেন! প্লিজ কাম উইথ মি!”
উযাইনের এই জরুরি তলব শোনামাত্রই ইনশিরা নিজের চোখের জল চট করে মুছে সোজা হয়ে বসল।
ইনশিরার চোখমুখ খুশিতে এক নিমেষে চিকচিক করে উঠল। সে নিজের ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে ওপুরের প্রফেসরের ব্লকের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। সে মনে মনে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছিল যে ল’ ফার্ম কথা শুনে তার এই পাষাণ পুরুষটা বড্ড বেশি ভয় পেয়ে গেছে!
ইনশিরা যখন কেবিনের দরজার সামনে গিয়ে পৌঁছাল, সে নক করার জন্য হাতটা মাত্র ওঠাতে যাবে—ঠিক তখনই ভেতরের লক খোলার এক খটাস শব্দ হলো। ইনশিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, দরজাটা এক ঝটকায় খুলে গেল এবং ভেতর থেকে উযাইনের একটা শক্ত বলিষ্ঠ হাত বের হয়ে ইনশিরার হাতটা খপ করে ধরে এক টানে ওকে কেবিনের ভেতরে নিয়ে এলো! উযাইন অন্য হাত দিয়ে ধড়াস করে দরজাটা বন্ধ করে লক করে দিল।
পরমুহূর্তেই সে ইনশিরাকে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরল! ইনশিরা হুট করে এই অতর্কিত আক্রমণে হালকা ভয় পেয়ে গেল, তার হৃৎস্পন্দন এক সেকেন্ডের জন্য থমকে দাঁড়াল। সে উযাইনের দিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করল—আজ ওর চোখ দুটো রাগে ও কামনায় এক্কেবারে বন্য পশুর মতো জ্বলজ্বল করছে, সে ওকে এই ৩ বছরে কোনোদিন এতখানি ভয়ংকর রূপে দেখেনি!
উযাইন মুখে একটা শব্দও উচ্চারণ করল না, কোনো রকম সময় নষ্ট করল না। সে এক বুক পজেসিভনেস নিয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে ইনশিরার পড়নের শার্টের নেক টা খুব আলতো করে একপাশে সরিয়ে দিল। ইনশিরার ফর্সা,গলার নরম চামড়ার ওপর নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে নিয়ে—এক্কেবারে বন্য এক উন্মাদনায় তীব্রভাবে একটা গভীর কা*মড় বসিয়ে দিল!
—”আহহ…!”
ইনশিরা তীব্র ব্যথায়, শিহরণে আর এক অপার্থিব সুখে উযাইনের কাধে জ্যাকেটের কাপড়টা নিজের হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল । সে নিজের চোখ জোড়া কুঁচকে শক্ত করে বন্ধ করে নিল। এই প্রথম কোনো পুরুষের এমন বন্য, আদিম ও উন্মত্ত স্পর্শ সে নিজের শরীরে অনুভব করল, তাও আবার তার সেই জীবনের প্রথম ও একমাত্র স্বপ্নের শখের পুরুষের!
কয়েক সেকেন্ড পর উযাইন ইনশিরার গলার সেই লাল হয়ে ওঠা বাইটটার ওপর নিজের নরম ঠোঁট জোড়া খুব আলতো করে ছোঁয়াল। সে ইনশিরার কানের লতির একদম কাছাকাছি নিজের তপ্ত নিশ্বাস ফেলে দাঁতে দাঁত চেপে কড়া গলায় ফিসফিসাল—
—”বলেছিলাম না? সারনেইমটা সবসময় মনে রাখতে?!
ইনশিরার নরম ঠোঁট জোড়া তখন তীব্র শিহরণে কাঁপছিল, তার পুরো শরীরটা দেয়ালের সাথে এক্কেবারে জমে বরফ হয়ে গিয়েছিল। সে ধীরে ধীরে নিজের চোখ মেলে উযাইনের ক্লোজ ফেসটার দিকে তাকাল। তার মাথায় মুহুর্তেই ফ্ল্যাশব্যাকের মতো ভেসে উঠল একটু আগে ক্লাসরুমের পেছনের মেয়েগুলোর বলা সেই কথা— “এক্কেবারে এক খাঁটি ওয়াইল্ড লুক!”। ইনশিরা মনে মনে ভাবল, মেয়েগুলো সত্যি কথা বলেছে, এই লোকটা আসলে কতটা ভয়ংকর আর ওয়াইল্ড হতে পারে, দুনিয়ার আর কেউ জানে না!
উযাইন ইনশিরার চোখের দিকে তাকিয়ে, এক চরম নেশালো ও ভাঙা গলায় বলল—
—”কী হলো? কী বললাম আমি… কানে শুনতে পাওনি?”
ইনশিরা চরম অস্বস্তিতে আর এক বুক ধড়ফড়ানি নিয়ে আমতা আমতা করে কাঁপা গলায় বলল—
—”আ… আবরার…! মনে আছে আমার..!”
উযাইনের বন্য রূপটা যেন এক সেকেন্ডে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে কোনো কথা না বাড়িয়ে, নিজের পাহাড় সমান ইগো সাইডে রেখে। এক নিমেষে ফ্লোরের মধ্যে ইনশিরার একদম পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল!
ইনশিরা অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে নিচে তাকাল, সে কিছুতেই ওনার এই আকস্মিক রূপান্তর মাথায় মেলাতে পারছিল না। উযাইন নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ইনশিরার দুই পা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের মুখটা ওর পায়ের ওপর চেপে ধরল। সে এক পরম আকুলতা ও বুক ভাঙা হাহাকার নিয়ে বাচ্চার মতো ফুঁপিয়ে উঠে বলল—
—”আমি তো কাল রাতেই বলেছিলাম… তুমি চাইলে আমাকে মেরে ফেলো, আমার কোনো আপত্তি নেই! তাও দয়া করে বিচ্ছেদ আর দূরত্বের কথা আর বলো না। আমি তো স্বীকার করেছি আমি আজীবন তোমার দাস হয়ে থাকব… তবে কেন হুট করে ওমন ল’ ফার্মে যাওয়ার মেসেজ পাঠালে তুমি?
উযাইনের এই অবিশ্বাস্য রূপ আর বাচ্চার মতো পা জড়িয়ে ধরে কাঁদা দেখে ইনশিরা আবার চরমভাবে থতমত খেয়ে গেল সে নিজের মনে মনে এক প্রকাণ্ড বিস্ময় নিয়ে ভাবল—
—”একজন ব্যক্তিত্ববান,অহংকারী আর ইগোইস্টিক মানুষ… সে শুধু আমার একটুখানি দূরে যাওয়ার হুমকিতেই নিজের সমস্ত অহংকার বিসর্জন দিয়ে এভাবে আমার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ল?! আমি তো জাস্ট এমনি বলে…
ইনশিরা তার ভাবনা আর এগুলো না সে ধীর পায়ে একটু ঝুঁকে এসে নিজের কাঁপতে থাকা নরম হাতটা বাড়িয়ে উযাইনের চুলের ভেতর আলতো করে আঙুল গলিয়ে দিল। সে অত্যন্ত মায়াবী, আদুরে গলায় বলল—
—”উযা… উযাইন সাহেব! প্লিজ শান্ত হোন… আগে ফ্লোর থেকে উঠুন আপনি, প্লিজ!”
উযাইন ইনশিরার পা দুটো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওভাবেই ফ্লোরে বসে রইল।
কোনোভাবেই সে ইনশিরার পায়ের বাঁধন ছাড়তে চাইছিল না ইনশিরা নিজের মন সামলে নিয়ে, এই প্রকাণ্ড আত্মসমর্পণ দেখে হুট করে এক মিথ্যা বাহানা দিয়ে বসল—
—”উযাইন… ছাড়ুন প্লিজ! আ…আমার পায়ে লাগছে!”
উযাইন উদ্বিগ্ন হয়ে এক নিমেষে নিজের হাতের বাঁধন আলগা করে দিল। সে ফ্লোর থেকে নিজের মুখ তুলে অত্যন্ত ব্যাকুল চোখে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলল—
—”সরি… আই অ্যাম সো সরি, লিটল বার্ড! আমি সত্যি বুঝতে পারিনি সোনা… বেশি লেগেছে তোমার? আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি!”
ইনশিরা উযাইনের এই ভড়কে যাওয়া ফেসটা দেখে আলতো করে দুই পা পিছিয়ে একটু সরে দাঁড়াল। সে নিজের ওড়নাটা ঠিক করতে করতে খুব সিরিয়াস হওয়ার ভান করে বলল—
—”আগে ফ্লোর থেকে উঠুন প্লিজ! আমি আপনার চেয়ে কত ছোট, আর আপনি ওভাবে আমার পায়ে…”
উযাইন নিজের চশমার আড়ালে থাকা সেই মায়াবী নীলচে চোখ দুটো ইনশিরার ফেসের ওপর স্থির রাখল। সে ফ্লোর থেকে এক নিমেষে উঠে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত গভীর, নেশাতুর এবং অমোঘ কণ্ঠে আবার নিজের দাবি পেশ করল—
—”ছোট মানে? Slave! I am your slave, Mrs. Abrar! আর একজন দাসের কাছে তার মালিকের বয়সের কোনো হিসাব থাকে না।
ইনশিরা এই “স্লেইভ” শব্দের তীব্রতা আর চাক্ষুষ সত্য দেখে এক সেকেন্ড হা করে তাকিয়ে রইল উযাইন আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। সে এক কদম এগিয়ে এসে নিজের দুই হাত দিয়ে ইনশিরার সরু কোমরটা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল তারপর কোনো সুযোগ না দিয়ে এক ঝটকায় ইনশিরাকে কোল তোলার ভঙ্গিতে তুলে নিয়ে অফিশিয়াল টেবিল ওপর বসিয়ে দিল।
আর উযাইন ইনশিরার দুই হাঁটুর মাঝখানে নিজের সুগঠিত শরীরটা এনে একদম গা ঘেঁষে খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তাদের মাঝখানের দূরত্ব তখন মাত্র এক ইঞ্চি! ইনশিরার হার্টবিট এক লাফে একশো পার হয়ে গেল, সে চরম লজ্জায় আর শিহরণে নিজের মুখটা উযাইনের চোখ থেকে বাঁচিয়ে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল।
উযাইন ইনশিরার চিবুকটা নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে চেপে ধরে নিজের দিকে ফেরাতে চাইল। সে অত্যন্ত কড়া ও পজেসিভ গলায় জিজ্ঞেস করল—
—”এখন সোজা সাপটা জবাব দাও… কেন ওমন ল’ ফার্মের মেসেজ পাঠিয়েছিলে আমাকে?”
ইনশিরা মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে রেখে, অভিমানী গলায় খোঁচা দিল—
—”কেন বলব না, উযাইন সাহেব? আপনিও তো কতবার আমাকে ল’ ফার্মে নিয়ে যাওয়ার আর ডিভোর্স পেপারসের কথা বলেছেন! কতবার তাড়িয়ে দিয়েছেন!”
উযাইন ইনশিরার ঠোঁটের একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা নিয়ে এসে এক চরম তপ্ত ও গভীর পুরুষালী চাউনি ছুড়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিসাল—
—”হ্যাঁ! মুখে হাজার বার বলেছি… কিন্তু কোনোদিন কি তোমাকে সত্যিই ল’ ফার্মে নিয়ে গেছি ? যেতামও না কোনোদিন! তুমি আমাকে এই ওসবের জন্য যত খুশি শাস্তি দাও, একদম ক্ষমা কোরো না… কিন্তু নেক্সট টাইম ল’ ফার্মে যাওয়া বা বিচ্ছেদের সাহস কোনোদিনও দেখাবে না।
ইনশিরা মুখে আর কোনো কথা বলল না। সে নিজের মনে মনে এক তীব্র কাঁপন নিয়ে ভাবল— “এই লোকটাকে বন্ধ ঘরের আড়ালে এত বেশি ভয়ানক লাগছে কেন! মুখে ঠাস ঠাস করে কী সব বোল্ড কথা বলে দেয়!”
ইনশিরাকে একদম চুপচাপ নিজের খাঁচায় বন্দি দেখে উযাইনের ভেতরের রাগটা একটু থিতিয়ে এলো। সে ইনশিরার কোমরে নিজের হাত দুটো ওভাবেই লক করে রেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল—
—”আচ্ছা, ওসব কথা বাদ দাও। আগে এটা বলো… পরীক্ষার হলে বসে তুমি আমাকে ওমন মেসেজ দিচ্ছিলে কেন?”
উযাইনের মুখে এই ক্লাসরুমের মেসেজের কথা শোনামাত্রই ইনশিরার মুখটা আবার একরাশ জেলাসি আর অভিমানে ভার হয়ে গেল। সে নিজের দুই হাত উযাইনের কাঁধের ওপর রেখে, এক চরম বিরক্তি নিয়ে চোখ রাঙিয়ে চড়া গলায় ধুয়ে দিল—
—”বলব না?! ইউনিভার্সিটিতে রোজ রোজ এত রূপ নিয়ে, এত সেজেগুজে আসার কী দরকার ছিল আপনার, শুনি? আপনি যে বুড়ো হয়ে গেছেন, তা কি নিজের মাথায় একটুও মনে নেই ?”
এসব শুনে উযাইন আকাশ থেকে পড়ল। সে ভ্রু কুঁচকে, হা করে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত বিস্ময়ের স্বরে বলল—
—”হোয়াট?! আমি সেজেগুজে আসি?! আজব তো তোমার লজিক, ইনশিরা! আমি অলওয়েজ একই লুকে ইউনিভার্সিটিতে আসি, এটা ড্রেসিং সেন্স! এখানে সাজার কী দেখলে তুমি?”
ইনশিরা পেছনের মেয়েগুলোর ওই “ওয়াইল্ড লুক” আর ক্রাশ খাওয়ার কথা মুখে এনে উযাইনকে আর বেশি মাথায় তুলতে চাইল না। সে আমতা আমতা করে নিজের চোখ দুটো কেবিনের এদিক-ওদিক বোলাতে বোলাতে বিষয় ডাইভার্ট করার জন্য কড়া গলায় পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ল—
—”আচ্ছা, ওসব ছাড়ুন! আপনি ওভাবে ক্লাস থেকে চলে গেলেন কেন, হ্যাঁ?”
উযাইন ইনশিরার কোমরের বাঁধনটা আরও একটু শক্ত করে ওর ফেসের একদম কাছে গিয়ে শান্ত গলায়, চোখ টিপে হাসতে হাসতে বলল—
—ইউনিভার্সিটির অথরিটি থেকে ইমেইল এসেছিল, নেক্সট ওয়ান উইক পিএইচডি যারা করছে, তাদের স্পেশাল কিছু অ্যাডভান্স টপিকে আমাকে ক্লাস নিতে হবে। ওপরের ব্লকে চলে গিয়েছিলাম, অন্য কোনো কারণ নেই বউ!”
ইনশিরার ফর্সা মুখটা লজ্জায়,আর নিজের অতিরিক্ত জেলাসি ধরা পড়ে যাওয়ায় এক নিমেষে একদম লাল টমেটো হয়ে গেল ! সে বুঝতে পারল সে স্রেফ ভুল বুঝে নিজে নিজেই এত বড় কান্ড ঘটিয়ে ল’ ফার্মের থ্রেট দিয়ে বসেছে। সে নিজের মুখটা লুকাতে উযাইনের চওড়া বুকের ভেতর নিজের কপালটা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করল, কিন্তু পরমুহূর্তেই এক প্রকাণ্ড “ডোন্ট কেয়ার ভাব ধারণ করল ! সে উযাইনের চওড়া বুক থেকে নিজের কপালটা সরিয়ে নিয়ে ঘাড় ত্যাড়া করে বলল—
—”তাতে আমার কী? আপনার ওপরে ব্লকে গিয়ে কোনো পিএইচডির ক্লাস নিতে হবে না! এটাই আমার শেষ কথা!”
উযাইন পিচ্ছি বউয়ের এই অদ্ভুত আবদার শুনে যেন পুরোপুরি আকাশ থেকে পড়ল, সে কিছুই মাথায় মেলাতে পারল না। সে দুই হাত বাড়িয়ে আলতো করে ইনশিরার গোলগাল ফর্সা গাল দুটো নিজের হাতের মুঠোয় আগলে ধরে অত্যন্ত বিস্ময়ের আদুরে গলায় বলল—
—”ওমা! এ কেমন কথা, ইনশিরা? এটা তো আমার জব ইউনিভার্সিটির অথরিটি আর ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে আমার এই চাকরিটা থাকবে, বলো? এটা কি ড্যাডের বিজনেস অফিস যে আমি নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি তা-ই করতে পারব?”
ইনশিরা উযাইনের এই লজিক্যাল কথার কোনো জবাব খুঁজে পেল না। সে মুখ কুঁচকে উযাইনের হাত দুটো নিজের গাল থেকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিল। সে কেবিনের অফিশিয়াল টেবিল থেকে নিচে নামতে নামতে উযাইনের দিকে চোখ রাঙিয়ে চড়া গলায় বলল—
—”এত বেশি কাছে আসবেন না আমার, দূরে থাকুন ! আর একটা কথা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে রাখুন… বেশি রূপ দেখিয়ে ক্লাস নিতে গেলে মেরে ফেলব একদম!”
বলেই ইনশিরা নিজের ব্যাগটা কাঁধে চেপে ধরে, উযাইনের মুখের ওপর এক শেষ জ্বলন্ত চাউনি ছুড়ে দিয়ে হনহনিয়ে কেবিনের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে চলে গেল। উযাইন নিজের ডেস্কের পাশে দাঁড়িয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে গেল। সে নিজের কপালে হাত দিয়ে কিছুতেই বুঝতে পারল না সে আসলে কী এমন অপরাধ করেছে যে মেয়েটা ওকে আস্ত খুন করার হুমকি দিয়ে গেল!
দেখতে দেখতে ঘড়িতে দুপুর ২টা বেজে গেল।
উযাইন নিজের পিএইচডির ক্লাস শেষ করে পার্কিং লটে নিজের কালো অডি গাড়ির ভেতর এসে বসল। সে নিজের ডিপার্টমেন্টের পিয়নকে পাঠিয়ে ইনশিরাকে পার্কিং লটে আসার জন্য খবর দিল । ক্যাম্পাসের মাঠে আবির ইনশিরার সাথে আসছিল। পিয়নের মুখে প্রফেসরের এই ডাক শুনে আবির কিছুটা মুখ কুঁচকে, ঈর্ষা মেশানো গলায় ইনশিরাকে জিজ্ঞেস করল—
—”কী রে ইনশি? তুই কি এখন থেকে রোজ ওই গম্ভীর প্রফেসরের সাথেই গাড়িতে আসা-যাওয়া করবি নাকি?”
ইনশিরা নিজের আইনি অধিকারের একটা অহংকার নিয়ে, এক গাল হেসে বলল—
—”হুম! উনার সাথেই যাব, আজীবন উনার গাড়িতেই আমার অফিশিয়াল সিট বুকড!”
এর কিছুক্ষণ পর, উযাইন গাড়ি ড্রাইভ করে ইউনিভার্সিটির চত্বর থেকে বেরিয়ে গেল। ইনশিরা এখনও ইচ্ছা করেই আবার ওর সাথে কোনো কথা না বলে পেঁয়াজের খোসার মতো মুখ করে ব্যাক-সিটে চুপচাপ বসে রইল। গাড়ি চলতে চলতে হুট করেই উযাইন একটা অচেনা হাইওয়ের দিকে টার্ন নিয়ে লন্ডনের টেমস নদীর এক নির্জন পাড়ে এসে নিখুঁত ব্রেক কষে গাড়িটা থামাল ।
ইনশিরা অবাক হয়ে গাড়ির জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল—
— “এটা কোথায় নিয়ে আসলেন আমাকে? এটা তো আমাদের বাসার রাস্তা নয় !”
উযাইন নিজের চশমাটা ড্যাশবোর্ডে রেখে শান্ত গলায় বলল—
— “নামো গাড়ি থেকে।”
এই বলে, ওরা দুজনে গাড়ি থেকে নেমে বরফে ঢাকা নদীর পাড়ে এসে দাঁড়াল। কিছু টা দূরে, চারপাশের পাইন গাছগুলো সাদা তুষারে ছেয়ে গেছে, আর থেমস নদীর তপ্ত জল ছুঁয়ে কনকনে ঠাণ্ডা তুষারপাত আর তীব্র বাতাস ওদের গায়ে আছড়ে পড়ছিল । ইনশিরা ভারী কাপড় না পরা থাকায় এই তীব্র শীতে থরথর করে কাঁপতে লাগল। উযাইন নিজের নিজের জ্যাকেটটা এক ঝটকায় খুলে পরম মায়ায় ইনশিরার দুই কাঁধের ওপর জড়িয়ে ওকে পরিয়ে দিল।
উযাইন ইনশিরার কপালে ছড়িয়ে থাকা ভেজা চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে নরম গলায় বলল—
—”বাইরে বড্ড বেশি ঠাণ্ডা, ইনশিরা… নিজের খেয়াল একটু রাখবে তো! সবসময় এত ছেলেমানুষি ভালো না! বড় হয়েছ, অনেক দায়িত্ব সামনে”
ইনশিরা উযাইনের আইস ব্লু চোখের দিকে নিজের ডাগর চোখ দুটো মেলে অপলক চেয়ে রইল । ঠিক তখনই উযাইন আর এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে, ইনশিরার একটা নরম ফর্সা হাত নিজের শক্ত বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় টেনে নিল। সে নিজের পকেট থেকে হীরের এক চমৎকার মায়াবী আংটি বের করে—ইনশিরার বাম হাতের অনামিকা আঙুলে খুব আলতো করে পরিয়ে দিল!
ইনশিরা নিজের আঙুলে তপ্ত ছোঁয়া আর আংটিটা দেখামাত্রই ওর বুকের ভেতরের হৃদস্পন্দন এক লাফে একশোতে পৌঁছে গেল, সে তীব্র বিস্ময়ে উযাইনের দিকে তাকাল! উযাইন ইনশিরার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় আরও শক্ত করে চেপে ধরে, বহমান নদীর রূপালী ঢেউগুলোর দিকে সোজা তাকিয়ে এক নিচু, গভীর, পুরুষালী এবং অত্যন্ত নেশাতুর গলায় বলল—
—”এটা একটা শিকল, ইনশিরা… তবে এটা কোনো দাসত্বের নয়, এটা ‘মালিকানার’! আজ এই লন্ডনের মাটিতে, এই দাস তার নিজের জীবনের সর্বস্ব দিয়ে তার মায়াবী মালিককে চিরকালের জন্য শিকলবন্দী করল !”
ইনশিরার চোখ দুটো খুশির জলে পুরোপুরি ছলছল করে উঠল, তার পুরো শরীর ভালোবাসার এক অপার্থিব শিহরণে কাঁপতে লাগল। সে উযাইনের কাছাকাছি নিজের মুখটা এনে আদুরে আর বিভ্রান্তি গলায় বলল—
—”উযা… উযাইন! আপনি একটা বহুরূপী ! এক এক সময় আপনার এক একটা রূপ দেখে আমার নিজেরই ভয় লাগে !”
উযাইন ইনশিরার হাতটা নিজের ঠোঁটের কাছে তুলে নিয়ে ওর আঙুলের আংটির ওপর গভীর এক ওম ছড়ানো চুমু বসাল। সে ইনশিরার চোখের দিকে তাকিয়ে এক পরম আত্মসমর্পণ নিয়ে চিরন্তন ভাবে বলল—
—”আমার আপাতত সব বাদে, একটাই পরিচয় আছে বউ… আমি শুধু তোমার দাস! আর এই দাসত্বে আমি আজ থেকে নয়… তিন বছর আগেই নিজের সমস্ত জীবন লিখে দিয়েছিলাম!”
উযাইনের এই সর্বস্ব সঁপে দেওয়া অমোঘ জবানবন্দি শোনা মাত্রই ইনশিরা আর কোনো দূরত্ব রাখল না। সে দুই হাত বাড়িয়ে তুষারপাতের মাঝে উযাইনের চওড়া গলাটা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে ওর বুকের ওমের ভেতর নিজের পুরো অস্তিত্ব সঁপে দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করল ।
ইনশিরার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত অনুশোচনা আর ভালোবাসার সুনামি বয়ে গেল। সে নিজের মনে মনে এক বুক আবেগ নিয়ে ভাবল—
—”আর আমি? আমি বোকার মতো সবসময় ওনাকে ভুল বুঝতাম! ভাবতাম উনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না, আমাকে ঘৃণা করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন ! আমি কতটা ভুল ছিলাম!”
উযাইনও নিজের সব প্রতিরোধ হারিয়ে ইনশিরাকে নিজের দুই বলিষ্ঠ বাহুর মাঝে আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিল। সে ইনশিরার এলোমেলো কালো চুলে নিজের মুখ গুঁজে এক বুক তৃপ্তির ঘ্রাণ নিয়ে খুব নিচু ও ভাঙা গলায় বলল—
—”হয়… হয়তো আমি তোমার ভালো চাইতে গিয়ে, তোমাকে অপবাদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বড্ড বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি পাখি! তুমি আমাকে এই ভুলের জন্য একদম ক্ষমা কোরো না…”
কথা গুলো বলে উযাইন ইনশিরাকে আরও নিজের বুকের সাথে লেপ্টে ধরে মনে মনে এক চরম পজেসিভ ও নেশাতুর হাহাকার নিয়ে বলল—
—”তুমি তো শুধু আমার এই ওপরের গাম্ভীর্যটাই দেখেছ লিটল বার্ড ! কিন্তু আমি তোমার এই ছোট্ট অস্তিত্বটার জন্য কতটা ভয়ানকভাবে উন্মত্ত ও আসক্ত হয়ে আছি, তা তোমার এই মস্তিষ্কের কল্পনারও বাইরে। এই তীব্রতা তৃষ্ণা আর ঝড় তুমি সেই পিচ্চি বয়সে সইতে পারবে না বলেই দূরত্ব রেখেছিলাম !”
কিছুক্ষের মধ্যেই লন্ডনের আকাশে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে ঝমঝম করে এক তীব্র তুষারপাত শুরু হয়ে গেল। চারপাশ বরফে ঢেকে যাচ্ছে দেখে উযাইন আর ইনশিরা আর সেখানে দাঁড়াল না। ওরা দ্রুত দৌড়ে গিয়ে গাড়ির ভেতরে বসল, কিন্তু ততক্ষণে কনকনে ঠাণ্ডা পানিতে ওদের দুজনের শরীর আর চুল প্রায় অনেকখানি ভিজে একসা হয়ে গেছে । উযাইন এক বুক রোমাঞ্চ নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করে সোজা নিজেদের সেই একলা বাড়ির পার্কিং লটে এসে থামল।
বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতেই ইনশিরা ব্যাগ টা রেখে একটা শুকনো বড় তোয়ালে নিয়ে উযাইনের একদম কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল। ইনশিরা উদ্বিগ্ন চোখে উযাইনের দিকে তাকিয়ে বলল—
—”জলদি চুলগুলো ভালো করে মুছুন তো, বাইরে যে কনকনে ঠাণ্ডা… নয়ত আপনার সর্দি লেগে যাবে!”
উযাইন এক ঝটকায় ইনশিরার একটা নরম হাত নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় জড়িয়ে ধরল । সে ইনশিরার চোখের দিকে এক নেশাতুর চাউনি ছুড়ে দিয়ে ফিসফিসাল—
—”এত সুন্দর বউ থাকতে, আমি এত কষ্ট করব না”
ইনশিরা তার বাহানা শুনে নিজের মুখটা একটু কুঁচকে আদুরে গলায় বলল—
—”আরেহ! আপনি তো লম্বায় পাক্কা ছয় ফিটের ওপর! আমি হাত উঁচিয়েও তো আপনার মাথা ছুঁতে পারব না!”
উযাইন ইনশিরার এই কিউট লজিক শুনে মুচকি হেসে আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। সে একটা চেয়ার টেনে এনে ধপ করে ইনশিরার একদম সামনে বসে পড়ল। সে ইনশিরার কোমর বরাবর নিজের মাথাটা একদম নিচু করে পেতে দিল। ইনশিরা ওনার এই অবুঝ বাচ্চার মতো ছেলেমানুষি রূপ দেখে হেসে উঠল। সে তোয়ালেটা দুই হাতে নিয়ে খুব পরম যত্নে উযাইনের চুলগুলো মুছতে লাগল।
চুল মোছার এক ফাঁকে, উযাইনের মাথাটা যখন সামনের দিকে একটু বেশি ঝুঁকে ছিল, ইনশিরার তীক্ষ্ণ চোখ হঠাৎ গিয়ে নিবদ্ধ হলো উযাইনের ফর্সা ঘাড়ের ঠিক চামড়াটার ওপর। সে দেখল—উযাইনের ঘাড়ের ঠিক মাঝখানটায় লম্বালম্বি আকৃতির একদম সোজা, নিখুঁত একটা ছোট্ট কালো রঙের ট্যাটু করা রয়েছে!
ইনশিরা ভ্রু কুঁচকে কৌতূহল নিয়ে নিজের কোমল আঙুলের ডগা দিয়ে উযাইনের ঘাড়ের সেই ট্যাটুটার ওপর আলতো করে স্পর্শ করল । হটাৎ স্পর্শে উযাইন ঢোক গিলল, তার এডামস অ্যাপলটা তীব্রভাবে ওপর-নিচে ওঠানামা করে উঠল।
ইনশিরা ট্যাটুতে আঙুল বোলাতে বোলাতে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—
—”উযাইন…? আপনার ঘাড়ে হুট করে এমন অদ্ভুত আকৃতির এটা কি? ট্যাটু?”
উযাইন নিজের মাথাটা সোজা না করেই, ইনশিরার পেটের কাছাকাছি নিজের মুখটা রেখে খুব নিচু ও গভীর গলায় বলল—
—”ইংরেজি অ্যালফাবেট! লেটার ‘I’ (আই) !”
ইনশিরা আরও বেশি কনফিউজড হয়ে, ভ্রু কুঁচকে বলে—
—”অ্যালফাবেট আই মানে? কেন?
রুহ এ ইশক পর্ব ২১
উযাইন এবার চেয়ার থেকে ধীর পায়ে উঠে দাঁড়াল। সে ইনশিরার একদম মুখোমুখি হয়ে ওর দুই কাঁধ নিজের দুই হাতের মুঠোয় জড়িয়ে ধরল। সে তার নীলচে চোখ দুটো ইনশিরার চোখের একদম গভীরে ডুবিয়ে দিয়ে, এক তৃপ্তি গলায়—
—‘I for…Uzyan’s Little Bride…In shi ra Kainat’!
সে তীব্র বিস্ময়ে, অপার্থিব সুখে আর এক অদ্ভুত ভালোবাসার আদিম শিহরণে আক্ষরিক অর্থেই পুরো স্তব্ধ হয়ে হা করে উযাইনের দিকে তাকিয়ে রইল…
