Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১১

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১১

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১১
মহাসিন

আরিফ কাঁপা গলায় বলল, “নীলাঞ্জনা… আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
অসম্ভব, পাগলের মতো, নিঃশেষ করে ভালোবেসে ফেলেছি। তোমাকে ছাড়া আমার নিঃশ্বাস নিতেও দম আটকে আসে। তোমার জন্য আমার হৃদয়টা খাঁচার ভেতর বন্দি পাখির মতো ছটফট করে বেরিয়ে আসতে চায়।”
নীলাঞ্জনা পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে। চোখে জল নেই, কিন্তু বুকের ভেতর র*ক্তক্ষরণ হচ্ছে। সে তীব্র গলায় বলল, “তাতে আমি কী করব? আমিও তো আপনাকে ভালোবেসেছিলাম। আমার হৃদয়ও এমনই ছটফট করত আপনাকে ছাড়া। তাহলে ভাবুন, প্রতিটি মুহূর্ত আমি কীভাবে পার করেছি? আমার চোখ দুটো থেকে শ্রাবণের মেঘ হয়ে অশ্রুর ধারা বয়েছে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত।”

আরিফের চোখ ভরে উঠল। “এখন কি আমাকে ভালোবাসো না?”
নীলাঞ্জনা বুকের ভেতর জমে থাকা সব কষ্ট এক নিঃশ্বাসে উগরে দিল, “ভালোবাসি। এখনো ভালোবাসি। এক আকাশ সমান ভালোবাসি। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় আপনাকে বুকে নিয়ে ঘুমাই, কল্পনায়। এতটা ভালোবাসি যে নিজেকেই শে*ষ করে দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমার এই ভালোবাসা আপনার চোখে মূল্যহীন, তুচ্ছ।”
আরিফের গলা ভেঙে আসছে। “যদি আমাকে এখনো ভালোবেসে থাকো, তাহলে আমার সাথে চলো, নীলাঞ্জনা।”
নীলাঞ্জনা বিদ্রূপের হাসি হাসল, যে হাসিতে হাজারটা ক্ষত লুকানো। “কেন যাব? আমি তো আপনাকে আমার জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে দিয়েছি। আমার প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস থেকে মুক্তি দিয়েছি। আমার চোখের শ্রাবণ মেঘের অশ্রু থেকে মুক্তি দিয়েছি। তাহলে আবার কেন আপনার সাথে যাব? আপনি কি সেই চিঠিটা পড়েননি? যদি পড়তেন, তাহলে বুঝতেন, আমি আমার ভেতরের নীলাঞ্জনাকে আপনার পায়ের নিচে ক*ব*র দিয়ে আপনার জীবন থেকে চিরদিনের জন্য চলে এসেছি।”

আরিফ পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, নীলাঞ্জনা! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁ*চতে পারব না, ম*রে যাব। তোমাকে এক মুহূর্ত না দেখে থাকতে পারছি না। ফিরে চলো না আমার জীবনে, চিরদিনের জন্য। আমি তোমার দীর্ঘশ্বাসে বন্দি হতে চাই। তোমার চোখের শ্রাবণ মেঘের অশ্রুর মাঝে ডুবে ম*রতে চাই। তোমার কষ্টগুলো আমাকে দাও।”
নীলাঞ্জনার চোখে আ*গুন জ্বলে উঠল। “আমি আর আপনার জীবনে ফিরে গিয়ে র*ক্তাক্ত হতে চাই না। বহুদিন, বহুবার র*ক্তাক্ত হয়েছি। আপনার কথার , আপনার অবহেলার বি*ষ আমাকে প্রতিদিন মে*রেছে! এখন গিয়ে যদি আবার নির্মমভাবে র*ক্তাক্ত হই, তাহলে এই যে নীলাঞ্জনাটা খুব কষ্ট করে, ম*রতে ম*রতে বেঁচে আছে, সেও এই পৃথিবী থেকে চিরদিনের জন্য চ*লে যাবে! তখন এই নীলাঞ্জনার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না! একটা লা*শ হয়ে যাব। একটা সময় এই লা*শটাও বিলিন হয়ে যাবে!”
আরিফ মাথা নিচু করে কাঁপা গলায় বলল, “আমি সব জেনে গেছি, নীলাঞ্জনা।”

“কী জেনে গেছেন?”
“যে মেয়েটাকে আমি ভালোবাসতাম সে আমাকে ঠকিয়েছে, আমার বিশ্বাস নিয়ে খেলেছে। আর তুমি… নীলাঞ্জনা, আমি যে কখন, কীভাবে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি তা নিজেও জানি না। প্লিজ, আমার জীবনে ফিরে এসো। একটা শেষ সুযোগ দাও।”
নীলাঞ্জনা শক্ত হয়ে বলল, “না। আমি আর আপনার জীবনে ফিরতে চাই না। কখনো না।”
আরিফ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ছুটে গিয়ে নীলাঞ্জনার পা দুটো জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। “নীলাঞ্জনা, এমন করো না! আমি তোমার কাছে আমার ভালোবাসা ভিক্ষা চাইছি! ফিরে এসো আমার জীবনে! আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি! আমাকে একবার সুযোগ দাও, প্লিজ! শেষ বারের মতো!”
নীলাঞ্জনা শিউরে উঠল। সে জোর করে আরিফকে পা থেকে সরিয়ে দিল। “প্লিজ, আমার পা ছাড়ুন। আপনি বাচ্চাদের মতো আবদার করবেন না। আমি আর আপনার জীবনে ফিরতে চাই না। চলে যান এখান থেকে। আপনি আমার কাছ থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন, আমি আপনাকে মুক্তি দিয়ে দিয়েছি। তো প্লিজ, চলে যান।”
আরিফ উঠে দাঁড়াল। তার চোখে আ*গুন, বুকে সমুদ্র। সে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি! তোমাকে ছাড়া আমি যাব না! আমি নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করব তোমার জন্য! সারাজীবন অপেক্ষা করব!” এই বলে সে ঝড়ের মতো বেরিয়ে গেল!
আরিফ চোখের আড়াল হতেই নীলাঞ্জনার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল। সে ধপ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। বুক ফাটিয়ে কাঁদতে লাগল। চোখ দুটো দিয়ে শ্রাবণের মেঘ ভেঙে অশ্রুর বন্যা নামল। সে দুই হাতে মেঝে খামচে ধরে আর্তনাদ করে উঠল, “কী করব আমি এবার? আরিফ, আমি যে আপনাকে বড্ড ভালোবাসি! আমার কলিজাটা ছিঁ*ড়ে যাচ্ছে।”

দরজার ওখানে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ নিঃশব্দে সব দেখছিল লিমা। নীলাঞ্জনার এই ভাঙন সে আর সহ্য করতে পারল না। গুটি গুটি পায়ে এসে সে নীলাঞ্জনাকে মেঝে থেকে আলতো করে বুকের মাঝে টেনে তুলল।
নীলাঞ্জনা লিমাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো ফুঁপিয়ে উঠল। “আমি এবার কী করব, লিমা? আমার হৃদয়টা আরিফকে ছাড়া ছটফট করছে, পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে! আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না!”
লিমা নীলাঞ্জনার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “তুই আরিফের জীবনে ফিরে যা, নীলু। আমি আরিফের চোখে তোর জন্য ভয়ংকর, উন্মাদ, সর্বনাশা ভালোবাসা দেখেছি। যে ভালোবাসা মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়।”
নীলাঞ্জনা লিমার বুকে মুখ গুঁজে বলল, “আমি যদি আরিফকে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলি, তখন আমি একদম ম*রে যাব রে। আমার আর বাঁ*চার কোনো কারণ থাকবে না।”
লিমা নীলাঞ্জনাকে ধরে সোফায় বসাল। তারপর দুই হাতে নীলাঞ্জনার অশ্রুভেজা মুখটা তুলে ধরল। “তুই আরিফের জীবনে ফিরে যা। একটা ছেলে তোকে ভালোবাসে বলে তোর পায়ে পর্যন্ত পড়েছে, তোর জন্য কান্না করছে। তাহলে ভাব, তোকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে যে নিজের সমস্ত পুরুষত্ব, অহংকার, আত্মসম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। এই ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দিস না, নীলু। তাহলে তুই নিজেই নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবি না।”

বিকেলের সোনালি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের মেঝেতে আলো-ছায়ার নকশা এঁকেছে। বাইরে কৃষ্ণচূড়ার ডালে দুটো শালিক ডাকছে। বাতাসে হালকা বিষণ্ণতা। এই বিকেলের নরম আলোয় বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে আছে শাপলা। মুখটা ফ্যাকাশে, চোখের পাতা কাঁপছে।
পাশে বসে আছে সিয়াম। নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে শাপলার মুখের দিকে।
হঠাৎ শাপলার চোখের পাতা নড়ে উঠল। জ্ঞান ফিরতেই সে ধড়ফড় করে উঠে বসল। বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে। ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে, যেন বাতাসটুকুও বুকে আটকে যাচ্ছে।
কাঁপা গলায় শাপলা বলল, “আমাকে বাসায় কে আনল? নিরব ভাইয়া আনছে কি?”
সিয়াম আলতো করে শাপলার হাতটা নিজের মুঠোয় নিল। “হ্যাঁ, ভাইয়াই তোকে বাসায় আনছে। আমি তোর এই অবস্থা শুনে আফিস থেকে চলে এসেছি। কিরে, খুব ভয় পেয়েছিলি?”
শাপলা চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ… ভীষণ।”

সিয়াম শাপলার কপালের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে নরম গলায় বলল, “কী হয়েছিল তোদের সাথে? আমাকে বল।”
শাপলা লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল, “আমার বান্ধবী কলি ডাস্টবিনে ঠোঙা ফেলতে গিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। আমি আর দিপা দৌড়ে ওর কাছে যাই। কলি থরথর করে কাঁপছিল। বলছিল, ডাস্টবিনে মানুষের লা*শ… টুকরো অংশ। আমার আর ওসব দেখার সাহস হয়নি। দিপা গিয়ে দেখে… সত্যিই ওসব।”
একটু থেমে, গলাটা ধরে এলো শাপলার। “আমি তো এর আগেও একবার ডাস্টবিনে মানুষের কা*টা হা*ত দেখেছিলাম। তাই এবার আরও বেশি ভয় লাগছিল। চারদিকে হইচই, চিৎকার, কান্না। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে নিরব ভাইকে দেখলাম। তারপর আর কিছু মনে নেই। আমি দৌড়ে তার দিকে গিয়েছিলাম… এরপর সব অন্ধকার হয়ে গেল।”

সিয়াম শাপলার ঠান্ডা হাতটা শক্ত করে ধরে শুধাল, “এখনো কি ভয় লাগছে?”
শাপলা মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলল, “এখনো একটু একটু ভয় লাগছে। বুকের ভেতরটা কেমন করছে।”
সিয়াম শাপলার চোখে চোখ রাখল। গলায় সমস্ত ভরসা ঢেলে বলল, “কোনো ভয় নেই, পাগলি। আমি আছি তো তোর পাশে। শোন, তোর জন্য গিফট এনেছি। একটু অপেক্ষা কর, আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।”
এই বলে সিয়াম শাপলার কপালে হাত বুলিয়ে একটা আশ্বস্ত হাসি দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
আর শাপলা? সে বিছানায় হেলান দিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। বিকেলের পড়ন্ত আলো তার চোখের কোণে চিকচিক করছে। সিয়ামের ফিরে আসার অপেক্ষায় বুকের ভেতর ধুকপুকানি আরও একটু বেড়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম ফিরে এলো শাপলার রুমে। হাতে তার গিফট পেপারে মোড়ানো একটা বক্স। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি। এসে খাটের ওপর শাপলার পাশে বসল।
শাপলা কৌতূহলী চোখে বক্সটার দিকে তাকাল। “কী আছে এতে?”
সিয়াম মুচকি হেসে বলল, “তুই নিজেই খুলে দেখ।”

শাপলা ধীরে ধীরে গিফট পেপার সরিয়ে বক্সটা খুলল। ভেতরে একটা ঝকঝকে কালো রঙের নতুন স্মার্টফোন। সাথে অনেকগুলো চকলেট। শাপলা অবাক হয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল।
সিয়াম অধীর আগ্রহে জানতে চাইল, “পছন্দ হইছে কি?”
শাপলা ফোনটা উল্টেপাল্টে দেখে বলল, “হ্যাঁ, খুব সুন্দর। আমার পছন্দ হয়েছে। আচ্ছা, ফোনটার দাম কত?”
সিয়াম কথাটা এড়িয়ে যেতে চাইল। “তুই দাম জেনে কী করবি?”
শাপলা এবার চোখে চোখ রাখল। “আপনাকে বলতে বলছি, বলুন।”
সিয়াম একটু আমতা আমতা করে বলল, “নয় হাজার টাকা।”
শাপলা সাথে সাথে ধরে ফেলল। “সত্যি কথা বলুন। আমি আপনার কাছ থেকে মিথ্যা শুনতে চাই না, ওকে?”
সিয়াম জোর দিয়ে বলল, “আরে মিথ্যা কেন বলব? সত্যি বলছি, নয় হাজার টাকা।”
শাপলা বিশ্বাস করল না। “এত সুন্দর ফোনের দাম কখনো নয় হাজার টাকা হয় না। আপনি সত্যি কথা বলুন।”
সিয়াম আর লুকাতে পারল না। মাথা চুলকে আমতা আমতা করে বলল, “আটচল্লিশ হাজার টাকা।”
কথাটা শুনেই শাপলার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে রেগে ফোনটা সিয়ামের দিকে বাড়িয়ে দিল। “আপনার ফোন আপনি চালান। আমার প্রয়োজন নেই। আমি আগেই বলেছি কমদামি ফোন আনতে, তবুও কেন এত দামি ফোন আনলেন?”

সিয়াম বলল, “কই এত দামি? সামান্য আটচল্লিশ হাজার টাকা মাত্র।”
শাপলার গলা এবার শক্ত হলো। “আপনার কাছে এই টাকা কম হতে পারে। আমার কাছে অনেক বেশি। আর আপনার পরিবারের লোকজন জানলে কী ভাববে?”
সিয়াম হেসে উড়িয়ে দিল। “কিছু ভাববে না।”
শাপলা জেদ ধরে বলল, “এই ফোন আমি নেব না, ওকে?”
এই বলে সে মুখ ফুলিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বসে রইল।
সিয়াম বক্স থেকে একটা চকলেট বের করল। কাগজটা ছাড়িয়ে শাপলার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল, “ওই পিচ্চি বউ, রাগ করে না। এই নাও, চকলেট খাও।”
শাপলা মুখ ভেংচে অন্যদিকে তাকাল। “আপনার চকলেট আপনি খান।”
সিয়াম মুচকি হেসে শাপলার দিকে ঝুঁকে এলো। চোখে তার দুষ্টুমির ঝিলিক। “তাহলে আমার চকলেটের বদলে অন্য কিছু খাবি? যদি আমার অন্য কিছু খেতে চাস, তাহলে তোকে তাই খাওয়াব।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে তাকাল। “আপনার সাথে আবার কী আছে যে খাব?”

সিয়াম রহস্যময় গলায় বলল, “অনেক মূল্যবান জিনিস আছে। তুই যদি খেতে চাস, তাহলে বল। তোকে খাওয়াই।”
শাপলার কৌতূহল বাড়ল। “কী মূল্যবান জিনিস আছে?”
সিয়াম ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলল, “আছে, আছে। তুই খাবি কি না বল।”
শাপলা অধৈর্য হলো। “আগে বলেন কী জিনিস।”
সিয়াম জেদ ধরল। “তুই আগে বল যে খাবি কি না।”
শাপলা হার মানল। “হ্যাঁ, খাব। এবার বলেন কী মূল্যবান জিনিস।”
সিয়াম এবার শাপলার একদম কাছে এলো। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস শাপলার মুখে লাগছে। ফিসফিস করে বলল, “আমার ঠোঁট। আমার ঠোঁট অনেক মূল্যবান, পিচ্চি বউ।”
শাপলা লজ্জায়, বিরক্তিতে মুখ ঘুরিয়ে নিল। “ধ্যাত! ভাল্লাগে না। আমি ভাবলাম কী না কী!”
সিয়াম হেসে উঠল। “এবার আমার ঠোঁ*টে চু*ষে খা।”
শাপলা মুখ ভেংচে বলল, “আমার তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে আপনার ঠোঁ*ট চু*ষে খাব!”
সিয়াম শাপলার রাগ দেখে আরও মজা পেল। “ঠিক আছে। এখন খেতে হবে না। বিয়ের পর খাবি। তখন যদি না খাস, তাহলে জো*র করে খা*ওয়াব।”

একটু থেমে সে আবার চকলেটটা শাপলার দিকে বাড়িয়ে দিল। “এখন চকলেটটা খা।”
শাপলা ঝাঁঝিয়ে উঠল। “আজব লোক তো! কতবার বলব যে খাব না?”
সিয়াম তবুও হাসছে। শাপলার রাগী মুখটা তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য মনে হচ্ছে।
সিয়াম ভ্রু নাচিয়ে বলল, “ঠিক আছে। আমিই খাব।” এই বলে সে চকলেটটা মুখে পুরে নিল। চোখ বন্ধ করে বলল, “উম্… অনেক মজা কিন্তু। না খেলে মিস করবি।”
শাপলা ঠোঁট উল্টাল। “আহা রে! কী এমন চকলেট না খেলে মিস করব? আপনিই খান।”
কথা শেষ হতে না হতেই সিয়াম হঠাৎ শাপলাকে আলতো ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। শাপলা চমকে উঠে বলল, “আজব লোক তো! কী করছেন?”
সিয়াম শাপলার ওপর ঝুঁকে পড়ল। চোখে তার দুরন্ত দুষ্টুমি। “এবার আমার মু*খ থেকে তোকে চকলেট খাওয়াব।”
শাপলা দুই হাতে সিয়ামকে ঠেলতে ঠেলতে বলল, “সরুন বলছি!”
সিয়াম আরও কাছে এলো। নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে। “না, সরব না। আমার ভবিষ্যৎ পিচ্চি বউটাকে এখন মন ভরে আদ*র করব।”

কথাটা বলেই সে শাপলার কাঁপা ঠোঁটে নিজের ঠোঁ*ট ছুঁইয়ে দিল।
শাপলার শরীরের ভেতর দিয়ে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। শিরশির করে উঠল প্রতিটা লোম। সে জোরে ধাক্কা দিয়ে সিয়ামকে সরিয়ে দিল। লজ্জায় গাল দুটো টুকটুকে লাল, বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা পাগলের মতো ধুকপুক করছে।
সিয়াম ঘোর লাগা গলায় বলল, “এমন করিস কেন? আমি তো রো*মা*ন্টিক মুডে আছি। আমার কাছে আয়, তোকে অনেক আ*দর করব। তোর ভালো লাগবে।”
শাপলা কাঁপা গলায় বলল, “আপনি যান তো আমার রুম থেকে। আমাকে আ*দর করতে হবে না।”
সিয়াম বাঁকা হাসল। “ফোনটা নে। আর আমার ঠোঁটে একটা কিস কর, তাহলে তোর রুম থেকে যাব। আর না হলে… জো*র করে রো*মা*ন্স করব।”
শাপলা মাথা নাড়ল। “না, পারব না। আপনি এখান থেকে যান।”
“যাব,” সিয়াম বলল।
শাপলা বিছানা থেকে নেমে গেল। সিয়ামও নামল। ধীরে ধীরে শাপলার দিকে এগোতে লাগল। একদম কাছে চলে এলো। সিয়ামের উষ্ণ নিঃশ্বাস শাপলার মুখে লাগছে।
শাপলা চোখ বুজে ফিসফিস করে বলল, “আচ্ছা… আপনার ঠোঁটে কি*স করব। আর ফোনটাও নেব।”
সিয়াম শাপলার দিকে ঝুঁকে এলো। শাপলা কাঁপা ঠোঁটে সিয়ামের ঠোঁট ছুঁ*তেই সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। লজ্জায় গাল আরও লাল হয়ে গেল, পা দুটো কাঁপছে।
সিয়াম তৃপ্তির হাসি দিল। তারপর আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে শাপলার রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
আর শাপলা? সে দরজার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ঠোঁটে তখনো সিয়ামের স্পর্শ লেগে আছে। বুকের ধুকপুকানি থামছেই না।

অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা ছুঁয়েছে। শাপলার রুমে এখন মহুয়া, সায়েক আহমেদ আর নিরব। সবাই শাপলাকে দেখতে এসেছে।
মহুয়া শাপলার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “এখনো ভয় লাগছে, মা?”
শাপলা হালকা হাসার চেষ্টা করে বলল, “না আন্টি, এখন আর ভয় লাগছে না।”
সায়েক আহমেদ স্নেহের দৃষ্টিতে শাপলার দিকে তাকালেন। “তোর যদি ভয় লাগে তাহলে বল। তোর আন্টি আজ রাতে তোর সাথে থাকবে।”
শাপলা তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল। “না, আঙ্কেল। থাকতে হবে না। আমার সত্যিই আর ভয় লাগছে না।”
মহুয়া আশ্বস্ত হয়ে বললেন, “আচ্ছা, তাহলে ঘুমিয়ে পড়। আমরা যাই। আর শোন, খুব তাড়াতাড়ি একজন কাজের মেয়ে ঠিক করব। তাহলে তোকে আর কষ্ট করে রান্না করতে হবে না।”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১০

এই বলে মহুয়া আর সায়েক আহমেদ রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
ঘরে এখন শুধু নিরব আর শাপলা। নিস্তব্ধতা ভেঙে শাপলা নিরবের দিকে তাকাল। “ভাইয়া, আপনি আমার স্কুলে গিয়েছিলেন কেন?”
নিরব শান্ত গলায় বলল, “হ্যাঁ। তোকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওই অবস্থা। তুই তো জ্ঞান হারিয়ে ফেললি। তারপর তোকে নিয়ে বাসায় এলাম।”
শাপলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ কৌতূহলী গলায় বলল, “ভাইয়া, আপনার প্রেমিকার ছবিটা দেখাবেন? প্লিজ!”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here