রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৩
মহাসিন
সিয়াম কি*স করার ফলে শাপলার ঘুম ভেঙে গেল। ধড়ফড় করে উঠে বসল সে। চোখ বড় বড় করে বলল, “আপনি! আপনি এখানে কেন?”
সিয়াম মৃদু হাসল। “আজ সারাদিন তোকে দেখে রাখব। মায়ের অর্ডার।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল। “আমি স্কুলে যাব। ওখানেও কি যাবেন নাকি?”
“মা বলেছে দু-তিন দিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বাসায়ই থাকবি।”
শাপলা আর কথা বাড়াল না। বিছানা থেকে নেমে রুম থেকে বের হতে যাবে, ঠিক তখনই সিয়াম খপ করে তার হাত চেপে ধরল।
শাপলা চমকে উঠল। “একি! হাত ধরছেন কেন? ছাড়ুন!”
সিয়ামের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি খেলে গেল। “তোর হাত কি ছাড়ার জন্য ধরেছি?”
শাপলার গলা কেঁপে উঠল। “তাহলে… হাত ধরেছেন কেন?”
সিয়াম এক ঝটকায় শাপলাকে টেনে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। তারপর শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তোর হাত ধরেছি রো*মা*ন্স করার জন্য।”
কথাটা শুনেই শাপলার সারা শরীর শিউরে উঠল। এক মুহূর্ত দেরি না করে সিয়ামকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তারপর ছুটে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেল। সিয়ামও হাল ছাড়ল না, শাপলার পিছু পিছু গেল।
সময় গড়িয়ে দুপুর একটা। ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে টিভি দেখছে দুজন। ঘরে পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ শাপলা টিভি থেকে চোখ সরিয়ে সিয়ামের দিকে তাকাল।
“ভাইয়া, খুব আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে।”
সিয়াম বলল, “ফ্রিজে আছে কি?”
শাপলা মাথা নাড়ল। “না, নেই।”
“তাহলে আমি গিয়ে কিনে আনি। তুই কিন্তু কোথাও যাবি না। বাড়িতেই থাকবি।”
শাপলা লক্ষ্মী মেয়ের মতো বলল, “আচ্ছা, ঠিক আছে।”
সিয়াম দরজা খুলে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই শাপলা বিদ্যুৎবেগে উঠে গেল। দরজাটা টেনে ভেতর থেকে সশব্দে ছিটকিনি আটকে দিল।
স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। হইচই করতে করতে সব ছাত্রছাত্রী বেরিয়ে যাচ্ছে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কলি, দীপা আর ক্লাস এইটের রূপালী।
দীপা রূপালীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এই, তুমি বাসায় যাবে না?”
রূপালী মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, কিন্তু আমাকে নিতে এখনো কেউ আসেনি।”
দীপা বলল, “আমাদের সাথে চলো। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকবে এভাবে?”
রূপালী ইতস্তত করে বলল, “আমার সাথে তো টাকা নেই।”
কলি হেসে বলল, “সমস্যা নেই। আজ আমরা তোমার ভাড়াটা দিয়ে দেব। কাল স্কুলে এসে আমাদের টাকা দিয়ে দিও।”
রূপালী কৃতজ্ঞ চোখে তাকাল। “আচ্ছা, ঠিক আছে।”
দীপা হাত তুলে একটা সিএনজি থামাল। তিনজন উঠে বসল। সিএনজি গর্জন তুলে চলতে শুরু করল।
দীপা কলির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আজ একটুও মজা করতে পারলাম না। শাপলা স্কুলে না এলে কোনো মজাই হয় না।”
কলি সায় দিল। “হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস। ও না থাকলে ক্লাসটাই ফাঁকা ফাঁকা লাগে।”
কথা বলতে বলতে রূপালীর বাড়ির গলির মুখে চলে এলো ওরা।
রূপালী বলে উঠল, “মামা, এখানে থামান।”
সিএনজি থামতেই দীপা বলল, “এখানেই নেমে যাবে?”
“হ্যাঁ, আর একটুখানি হাঁটলেই বাসা।” এই বলে রূপালী নেমে পড়ল। সিএনজি আবার ছুটে চলল দীপা আর কলিকে নিয়ে।
রূপালী সরু গলি ধরে হাঁটতে লাগল। চারদিক শান্ত। কিন্তু হঠাৎ তার কেমন যেন অদ্ভুত লাগল। মনে হলো কেউ তাকে অনুসরণ করছে। পেছনে ঘুরতেই দেখল, কেউ নেই। অথচ একটা ছায়া যেন দ্রুত আড়ালে সরে গেল।
বুকের ধুকপুকানি নিয়ে রূপালী আবার হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু অনুভূতিটা গেল না। কেউ একজন ঠিকই তার পিছু নিয়েছে।
লোকটা আপাদমস্তক কালো পোশাকে ঢাকা। কালো প্যান্ট, কালো শার্ট, পায়ে কালো জুতো, আর মুখে কালো মুখোশ। শুধু চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।
রূপালী দ্রুত পা চালাল। হঠাৎ রাস্তার ধারে একটা কাঠগোলাপ ফুল দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। আনমনে ফুলটা তুলে নিল সে। গন্ধ শোঁকার জন্য নাকের কাছে ধরতেই মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠল।
তারপর সব অন্ধকার।
রূপালী জ্ঞান হারিয়ে রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়ল।
সাথে সাথে কালো মুখোশ পরা লোকটা ছায়ার মতো বেরিয়ে এলো। এক মুহূর্ত দেরি না করে রূপালীকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটা কালো রঙের গাড়িতে তাকে তুলে দিয়েই দরজা বন্ধ করে দিল।
পরমুহূর্তেই গাড়িটা হাওয়ার বেগে মিলিয়ে গেল রেখে গেল শুধু রাস্তায় পড়ে থাকা সেই কাঠগোলাপটা।
অন্ধকার ঘরের ভেতর হঠাৎ রুপালীর জ্ঞান ফিরল। তার হাত-পা শক্ত করে চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা । চারপাশ প্রায় অন্ধকার, শুধু একটা ছোট জানালা দিয়ে সামান্য আলো এসে পড়েছে মেঝেতে। রুপালী চিৎকার করে উঠল, “কেউ আছেন? আমাকে এখানে কে এনেছেন? আমি কোথায়? প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দিন! আমার অনেক ভয় লাগছে!”
কোনো উত্তর এল না। শুধু তার নিজের কণ্ঠস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এল ঘরের দেয়ালে। ভয়ে রুপালীর গলা শুকিয়ে গেল।
হঠাৎ দরজা খুলে গেল।কালো মুখোশ পরা সেই লোকটা ঢুকল। তার চোখ দুটো ঠান্ডা, নিষ্ঠুর। রুপালীর শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। র*ক্ত যেন হিম হয়ে গেছে শিরায়। রুপালী ভয়ে শুকনো ঢোঁক গিলে কাঁপা গলায় বলল,
“কে আপনি? আমাকে কেন এখানে বেঁধে রেখেছেন? প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি কিছু করিনি…”
লোকটা চুপচাপ রুপালীর চারপাশে ঘুরতেছে ।যেন শিকারকে জরিপ করছে। রুপালী রাগে-ভয়ে গজগজ করে উঠল,
“এই শয়*তা*ন! আমাকে ছেড়ে দে! কু*ত্তা*র বাচ্চা, কথা বল! তুই কি বো*বা নাকি? আমাকে কেন ধ*রে আনলি?”
লোকটা অবশেষে থামল। তার গলা নিচু, ভয়ংকর শান্ত। “তোকে ধরে এনেছি আমার জ্বা*লা মেটাতে। তোর শ*রীর দিয়ে আমার খা*য়েশ পূরণ করব। তোকে ভো*গ করব। ক*চি মেয়েদের শরী*রের স্বা*দ আমার খুব প্রিয়। আজ তোকে খু*বলে খু*বলে খা*ব। এমনভাবে ভো*গ করব যে, য*ন্ত্র*ণায় কা*তরাতে কা*তরাতে তুই নিজেই মৃ*ত্যু ভি*ক্ষা চাবি আমার কাছে।”
সে একটু হাসল। সেই হাসিতে কোনো মানবিকতা ছিল না।
“তোকে পুরোপুরি ভো*গ করে, তোর শরীর টু*করো টু*করো করে তোর স্কুলের ডা*স্টবিনে ফে*লে দেব। ভাবতেই কী মজা লাগছে!”
রুপালীর শরীর কেঁপে উঠল। সে চিৎকার করে উঠল,
“কেউ আছো? আমাকে বাঁ*চাও! এখানে আ*টকে রেখেছে, মে*রে ফেলবে! কেউ বাঁ*চাও!”
লোকটা রেগে গিয়ে রুপালীর মুখ চে*পে ধরল।
“চুপ! একদম চুপ! মেয়েমানুষের এই কান্না আমার একদম পছন্দ না। তোর চিৎকার কেউ শুনবে না। শুধু শুধু আমার রা*গ বাড়াস না।”
রুপালী তবু চিৎকার করতে থাকল। লোকটা রুপালীর গ*লা টি*পে ধরল।
এই শা*লি, চুপ কর বলছি। আমার মাথায় একবার র*ক্ত উঠলে তোকে আস্ত গি*লে খা*ব।”
রুপালী হাঁফাতে হাঁফাতে চুপ করে গেল। তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে।
লোকটা রুপালীর হাত-পায়ের বাঁ*ধন খুলে দিল। রুপালী তৎক্ষণাৎ দরজার দিকে দৌড় দিল। কিন্তু লোকটা তার চু*লের মু*ঠি ধরে টেনে ফেলল।
“কোথায় পালাবি, ক*চি মা**গি? আমার হাত থেকে তুই বেঁ*চে ফি*রতে পারবি না।”
“আহ্! চুল ছেড়ে দিন! অনেক ক*ষ্ট হচ্ছে!” রুপালী ককিয়ে উঠল।
একটা প্রচণ্ড থা*প্পড় পড়ল রুপালীর গালে। সাথে সাথে রুপালী ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল। ঠোঁট ফে*টে র*ক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল। তারপর পে*টে একটা লা*থি দিলো। রুপালীর শরীরের সব শ*ক্তি যেন নিমেষে চলে গেল।
রুপালি কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“প্লিজ… আপনার পা*য়ে পড়ি… আমাকে ছে*ড়ে দিন…”
লোকটা কোনো কথা না বলে নিজের সব পো*শা*ক খু*লে ফে*লল। তারপর হিং*স্র প*শুর মতো রুপালির ও*পর ঝাঁ*পিয়ে পড়ল। রুপালি করু*ণ আ*র্তনাদ করে উঠল,
“না… এসব করবেন না… আমার স*র্ব*নাশ করবেন না… প্লি*জ…”
অন্ধকার ঘরটায় শুধু একটা ম্লান আলোর ঝাপসা আভা। বাতাস ভারী, ভ*য় আর র*ক্তের গন্ধে ভরা।
লোকটা রুপালীর জা*মাকা*পড় ধরে হিঁ*চড়ে টে*নে ছিঁ*ড়ে ফেলল। কাপড়ের ছেঁ*ড়া শব্দটা যেন তার আ*ত্মার শেষ চিৎকার। ন*গ্ন হয়ে যাওয়া শ*রীরটা কাঁপছে ঠান্ডায় আর অবিশ্বাস্য ভ*য়ে। তারপর শুরু হলো নি*র্মম, হিং*স্র ভো*গ।
রুপালীর চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছে। সে চিৎকার করছে, নখ দিয়ে আঁ*চড়াচ্ছে, কিন্তু লোকটার লোহার মতো শক্ত হা*ত তার সব প্রতি*রোধ ভেঙে দিচ্ছে। প্রতিটা আ*ঘাত, প্রতিটা কা*মড় যেন রুপালীর শরীরে আ*গুন ধরিয়ে দিচ্ছে। লোকটা তার সারা শ*রীরে পা*শবিক ক্ষু*ধায় কা*মড় বসাতে লাগল। য*ন্ত্র*ণায় রুপালীর গলা ফে*টে চিৎকার বেরিয়ে আসছে, কিন্তু কেউ শুনছে না।
অনেকক্ষণ ধরে চলল এই পা*শবিক নি*র্যা*তন। যখন লোকটার জা*ন্তব খা*য়েশ মিটল, লোকটা উঠে নিজের পো*শাক পরে নিল। রুপালী তখন ন*গ্ন, র*ক্তা*ক্ত, অ*চেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। রুপালীর শরী*রের প্রতিটা ইঞ্চিতে কা*মড়ের দাগ, আঁ*চড়ের রক্তিম রেখা।
লোকটা টেবিল থেকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে রুপালীর মুখে-শরীরে ছুড়ে মা*রল। শীতল স্পর্শে রুপালীর জ্ঞান ফিরল। সে জড়সড় হয়ে কেঁপে উঠল, চোখ দুটোতে শুধু মৃ*ত্যুর ছায়া।
লোকটা নোংরা হাসি হেসে বলল, “তোকে ভো*গ করা শেষ। এবার তোকে টু*করো টু*করো করার পালা।”
রুপালী কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল, “আমাকে ছে*ড়ে দিন… প্লি*জ… আমি বাঁ*চতে চাই। আমার ওপর একটুও মায়া নেই আপনার? ক*রুণা করুন… আমাকে মা*রবেন না…”
মুখোশ পরা লোকটা রুপালীর মু*খে লা*থি মে*রে হো হো করে হেসে উঠল।
“জী*বন্ত ছেড়ে দিলে তো মজা পাব না। তোকে ট*র্চার করতে করতে মা*রব। তবেই মানসিক শান্তি পাব। উফ্, কত ম”জা হবে!”
মুখোশ পরা লোকটা একটু থেমে শুধাল, “শে*ষবারের মতো কিছু খেতে চাস?”
রুপালী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলল, “না… আমি ম*রতে চাই না… আমাকে ছে*ড়ে দিন। আমি কাউকে কিছু বলব না… দ*য়া করুন…”
লোকটা রুপালীর মু*খে পা দি*য়ে চে*পে ধরে গর্জে উঠল, “চুপ! একদম চুপ! আমার মাথা খা*রাপ করে দিবি না। অপেক্ষা কর, তোর জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসতেছি।”
সে চলে গেল।
রুপালী ন*গ্ন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে কাঁ*পছে। চোখ থেকে অশ্রু আর র*ক্ত মিশে গড়িয়ে পড়ছে। তার চুল এলোমেলো, ঠোঁট ফে*টে গেছে, শরীরে ক*লঙ্কের দাগ। একসময়ের পবিত্র মেয়েটি এখন নোং*রা পু*রুষের ছোঁ*য়ায় অ*প*বিত্র হয়ে গেছে। তার স্প*র্শকা*তর জায়গাগুলো থেকে এখনও র*ক্ত ঝরছে।
কিছুক্ষণ পর কালো মুখোশ পরা লোকটা ফিরে এল। এক হাতে ধারালো রা*ম দা ছু*রি, অন্য হাতে খাবারের প্যাকেট।
রুপালী লোকটাকে দেখে ভয়ে শুকনো ঢোঁক গিলল। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে গেছে।
লোকটা হাসতে হাসতে বলল, “এই যে রা*ম দা দেখছিস? এগুলো দিয়েই তো*কে টু*করো টু*করো করব। তার আগে পেট ভরে খেয়ে নে।”
সে খাবারের প্যাকেট খুলে রুপালীর সামনে বসল।
“নে, খেয়ে নে।”
রুপালী কাঁপা গলায় বলল, “আমি কিছু খাব না… আমাকে ছে*ড়ে দিন… প্লি*জ…”
লোকটা হঠাৎ নিজের মাথার চুল খামচে ধরে চিৎকার করে উঠল, “চুপচাপ খা! আমার মাথা খা*রাপ হয়ে যাচ্ছে!”
মুখোশ পরা লোকটা জো*র করে খাবার ঠে*সে ঠে*সে রুপালীর মু*খে ঢুকিয়ে দিতে লাগল।
“জানিস এটা কীসের বিরিয়ানি? আমি রাস্তার কু*ত্তা ধরে তার মাং*স দিয়ে নিজের হাতে রান্না করেছি। কেমন লাগছে বল?”
রুপালী শুনে ব*মি করে দিল।
লোকটা পাগলের মতো রুপালীর মুখে লা*থি মা*রল।
“আমি এত ক*ষ্ট করে রান্না করলাম, আর তুই ব*মি করলি? তাহলে এখন কী করব? আমি যে হাত দিয়ে রান্না করেছি সেই হাত কা*টব, নাকি তুই যে পে*টে খাবার রাখতে পারলি না সেই পেট কা*টব? তুই বল!”
রুপালী কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আপনার খাবার খুব ভালো… প্লি*জ আমাকে ছে*ড়ে দিন…”
“মা*`গি, তুই এক লাইন বেশি কথা বলিস!”
লোকটা টেবিল থেকে ধা*রালো রা*ম দা আর ছু*রি তুলে নিল। রুপালী ভয়ে চিৎকার করে উঠল।
প্রথমে ডান হা*তটা কে*টে ফেলল। র*ক্তের ফো*য়ারা ছুটল। রুপালীর আ*র্তনাদে ঘর কেঁপে উঠল। তারপর বাঁ হাত। লোকটা পাগলের মতো হাসছে।
“এবার বল, পা আগে কা*টব নাকি কান?”
রুপালী প্রায় নি*থর হয়ে ফিসফিস করল, “গ*লা কে*টে দিন… সব শেষ হয়ে যাক…”
লোকটা হাসতে হাসতে বলল, “এতক্ষণে মনের মতো কথা বললি। কিন্তু আফসোস, তোর কথা রাখতে পারব না। তোকে একটু একটু করে মা*রব।”
সে প্রথমে দুটো কান কে*টে ফেলল। তারপর দুই পা। শেষে পে*ট চি*রে ফেলল। রুপালীর শ*রী*রটা একবার কেঁপে উঠে চি*রতরে স্থি*র হয়ে গেল।
লোকটা হাসতে হাসতে নি*থর দে*হটাকে আরও টু*করো টুক*রো করতে লাগল। ঘরের মেঝে র*ক্তে ভেসে গেল। অন্ধকারে শুধু মুখোশ পরা লোকটার হাসির আওয়াজ ভেসে বেড়াচ্ছে।
চিৎকার করে বলতে লাগলো, “শাপলা খুব তাড়াতাড়ি আমাদের সামনাসামনি দেখা হবে। আমি আমার সা*ই*কো রুপে তোর সামনে খুব তাড়াতাড়ি আসবো।
তুই ভাবতেও পারবি না আমি কি জি*নিস।”
শাপলা সেই কখন থেকে ড্রয়িং রুমে বসে আছে। সিয়াম তার জন্য আইসক্রিম কিনে নিয়ে আসবে। কিন্তু কোথায় সে? এখনো তো এলো না।
অপেক্ষার প্রতিটা মুহূর্ত যেন একেকটা বছর। অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে শাপলা বিড়বিড় করল, “কথা দিয়ে কথা রাখে না। লাগবে না আমার আইসক্রিম।”
ঠিক তখনই হাতে থাকা ফোনটা বেজে উঠল। শাপলা চমকে উঠল। সিয়াম ফোনটা কিনে দেওয়ার পর এই প্রথম কারও কল এলো। এমনকি সিয়ামের সাথেও কখনো ফোনে কথা হয়নি। স্ক্রিনে নামটা দেখে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল—সিয়াম।
কল রিসিভ করেই শাপলা ইচ্ছে করে গলায় গম্ভীর ভাব আনল।
“হ্যালো, কে বলছেন?”
ওপাশ থেকে চেনা দুষ্টু হাসির সাথে ভেসে এলো সিয়ামের গলা, “আমি? আমি তো তোমার ভবিষ্যৎ হাসবেন্ড।”
শাপলা ঠোঁট চেপে হাসি আটকাল। তবুও ভাব ধরে বলল, “আ*জাইরা ফা*লতু কথা বন্ধ করুন। আপনি কে? আমাকে কেন কল দিয়েছেন?”
সিয়াম হেসে ফেলল। “এই শাপলা, সত্যি চিনতে পারছিস না? আমি সিয়াম, তোর সিয়াম ভাইয়া।”
“আমি কোনো সিয়ামকে চিনি না,” শাপলা মুখ ঘুরিয়ে বলল, যদিও গলায় অভিমান উপচে পড়ছে।
“আচ্ছা বুঝেছি,” সিয়ামের গলায় আদর ঝরে পড়ল। “আমার পিচ্চি বউটা রাগ করেছে। রাগ করো না সোনা। একটা জরুরি কাজে অফিসে আসতে হইছে। বিশ্বাস করো, বাসায় আসার সময় তোমার জন্য অনেক আইসক্রিম নিয়ে আসব।”
“লাগবে না আপনার আইসক্রিম,” শাপলা নাক ফুলিয়ে বলল। “আপনার আইসক্রিম আপনিই খান। আমার চাই না।”
সিয়াম শব্দ করে হাসল। “হায়রে, আমার পিচ্চি বউটা দেখি তুলকালাম রাগ করেছে। ঠিক আছে, আজ রাতে এই রাগ আমি নিজ ভাঙাব। এত এত রো*মা*ন্স করব যে আমার পিচ্চি বউটা জীবনে আর কখনো আমার উপর রাগ করতেই পারবে না।”
কথা শেষ করেই ফোনের ওপাশ থেকে সিয়াম আলতো করে শাপলা কে উদ্দেশ্য করে চু*মু দিলো,, “উম্মাহ।”
লজ্জায় শাপলার গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে গেল। কান গরম হয়ে গেছে। আর এক মুহূর্তও কথা না বলে ধপ করে কলটা কেটে দিল।
তারপর সোফায় বসল। বুকের ভেতরটা এখনো ধড়ফড় করছে। সিয়ামের বলা প্রতিটা কথা কানে বাজছে। “পিচ্চি বউ… রো*মা*ন্স করব… উম্মাহ।”
নিজের অজান্তেই শাপলার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে লাজুক হাসি ফুটে উঠল।
শাপলার বয়স ষো*লো, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে বসন্তের প্রথম দিনটিকে রঙে-রসে সাজিয়ে মানুষ করে তুলেছে।
শাপলার মাথার চুল—কোমর ছোঁয়া, ঘন কালো, যেন আষাঢ়ের প্রথম মেঘ আকাশ থেকে নেমে এসেছে তার পিঠে। যখন সে হাঁটে, মনে হয় কালবৈশাখীর আগে জমে ওঠা মেঘমালা নিঃশব্দে ভেসে যাচ্ছে। সেই চুলের গভীর কালোয় রোদের আলো পড়লে ঝিলিক দিয়ে ওঠে, ঠিক যেন বর্ষার রাতে জোনাকির মিছিল।
তার ঠোঁট দুটি ফোটা কাঠগোলাপের মতো রক্তিম। ভোরের শিশিরে ভেজা সেই পাপড়ির মতোই টলটলে, কোমল। আর ঠোঁটের ঠিক নিচে ছোট্ট কালো তিলটি—যেন পূর্ণিমার চাঁদের গায়ে বিধাতার অযত্নে পড়ে যাওয়া এক ফোঁটা কাজল। এই তিলটুকুই তার মুখের সবটুকু মায়া দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
চোখ দুটি তার কাজলকালো দিঘি। টানা টানা, পল্লবের ছায়ায় ঢাকা। সেই চোখে তাকালে মনে হয়, শরতের নীল আকাশের নিচে কোনো শান্ত দিঘির জলে কেউ নিঃশব্দে ঢিল ছুঁড়ে দিয়েছে—ঢেউ উঠছে, কাঁপন ধরছে, অথচ শব্দ নেই। তার দৃষ্টিতে আছে হেমন্তের কুয়াশার মতো এক অদ্ভুত মায়া, যে মায়ায় একবার বাঁধা পড়লে আর ফেরা যায় না।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১২
শাপলা যেন প্রকৃতির সব ঋতুর সারাংশ। চুলে বর্ষা, ঠোঁটে বসন্ত, তিলে পূর্ণিমা, আর চোখে শরতের দিঘি। সে হাসলে মনে হয় কৃষ্ণচূড়ার ডালে নতুন পাতা গজাল, সে চুপ থাকলে মনে হয় সন্ধ্যার নদী সব কথা বুকে চেপে বয়ে চলেছে।
এই ষো*লো বছরের কিশোরীর সৌন্দর্য, মায়া আর একরাশ অপার মুগ্ধতা।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল। শাপলা চমকে উঠল। মনে মনে ভাবল, এ সময়ে আবার কে এলো? গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে সদর দরজাটা খুলতেই অবাক হয়ে বলল,
“সিরাজ ভাইয়া?”
