রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২
মহাসিন
“ভাইয়া, আপনার ফোনটা একটু দেন।”
“আগে আমার ঠোঁটে কি*স কর, তাহলে ফোন কেন, যা চাইবি তাই পাবি।”
সিয়ামের কথা শুনে শাপলা মুখ ভেংচে বলল, “আহারে! আমার তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই, আপনার ঠোঁটে কি*স করব।”
সিয়াম শাপলার একদম কাছে এগিয়ে গিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “আমার ঠোঁটে একবার কি*স কর, এত মজা পাবি যে সব সময় আমার ঠোঁটে কি*স করার জন্য ছ*টফট করবি।”
সিয়ামের মুখে এমন কথা শুনে লজ্জায় শাপলার গাল লাল হয়ে গেল, আবার ভ*য়ও হলো। শাপলা সিয়ামের থেকে দূরে সরে গিয়ে বলল, “আপনি তো কালকে আমার ঠোঁটে কি*স করলেন, তেমন তো ভালো লাগল না।”
সিয়াম শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি যখন তোকে কি*স করছি, তুই তো তখন কোনো রেসপন্স করিসনি। তাহলে ম*জা পাবি কী করে?”
শাপলা বলল, “ভাইয়া, কি*স করার সময় কীভাবে রেসপন্স করতে হয়, আমি তো জানি না।”
সিয়াম শাপলার কথা শুনে তার দিকে গুটি গুটি পায়ে এগোতে লাগল। শাপলাও পেছনের দিকে পা ফেলতে লাগল। একটা সময় শাপলার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। সিয়ামও তার একদম কাছাকাছি চলে এলো।
সিয়াম নিজের হাত দুটো দিয়ে দেয়ালে ভর দিয়ে শাপলার দিকে ঝুঁকে গেল। শাপলা এখন সিয়ামের দুহাতের মাঝখানে ব*ন্দি। সিয়াম কা*ম*নায় উ*ত্তে*জিত হয়ে উঠল। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার মুখে পড়ার সাথে সাথে শাপলার হার্টবিট বেড়ে গেল। শাপলা পুরোপুরি পাথরের মতো হয়ে গেল।
সিয়াম ফিসফিস করে বলল, “শিখতে চাস, কি*স করলে কীভাবে রেসপন্স করতে হয়? আয়, তোকে আজকে শিখিয়ে দেই।”
সিয়ামের পুরু*ষালি কণ্ঠের ফিসফিস কথাগুলো শাপলার বেশ ভালো লাগলো। শাপলা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
“ভাইয়া, আপনার গলার স্বরে কী আছে? আমাকে কেমন যেন মা*তাল করে দেয়! আপনার এই ফিসফিস কথাগুলো অনেক ভালো লাগে!”
সিয়াম মুচকি হাসি দিয়ে বলল, “ও তাই নাকি? তুই শুধু আমার হয়ে যা। আমার ফিসফিস করে কথা বলা না, আরও অনেক কিছু ভালো লাগবে।”
শাপলা শুধাল, “ভাইয়া, আপনার আর কী কী আছে যা আমাকে মা*তাল করে দেবে?”
সিয়াম ফিসফিস করে আওড়াল, “তুই শুধু আমার হয়ে যা, তাহলে তোকে সব দে*খাব।”
শাপলা শুধাল, “কী দেখাবে?”
সিয়াম মুচকি হেসে আওড়াল, “আমার শ*রীরের সবকিছু দেখাব। তুই যদি আমার হয়ে যাস, তাহলে আমার পুরো শ*রীরটা তোর হয়ে যাবে। যা ইচ্ছা তাই করতে পারবি।”
শাপলা কোতুহলী হয়ে শুধাল, “তোমার শ*রীরে কী কী আছে?”
সিয়াম বাঁকা হেসে বলল, “আমার হ*ট জিম করা ব*ডি, সুন্দর চেহারা, সুন্দর চোখ, নাক, কান, ঠোঁট, গলা, আমার সি*ক্স প্যাক, না*ভি। আরও কিছু জানতে চাস নাকি?”
শাপলা বেশ লজ্জা পেয়ে বলল, “না, আর কিছু বলতে হবে না।” একটু থেমে আবার বলল, “ভাইয়া, আমার অনেক ভ*য় লাগছে।”
সিয়াম মৃদুস্বরে বলল, “কোনো ভ*য় নেই। আমি তোকে এখন শেখাব, ঠোঁ*টে কি*স করার সময় কীভাবে রেসপন্স করতে হয়। কী, শিখতে চাস তো?”
শাপলা যেন নিজের হুঁশে ফিরে এল। দৃঢ় গলায় বলল, “না, কোনো কিছু শেখার প্রয়োজন নেই।”
মুহূর্তের মধ্যে সিয়ামের মাথা গ*রম হয়ে গেল। চোখ দুটো লাল হয়ে উঠল। গর্জে উঠে সে বলল “শিখতে চাস না? তাহলে এতক্ষণ ন্যাকামি করলি কেন? আমার মেজাজ খা*রাপ করবি না, বলে দিলাম।”
শাপলা ভ*য়ে ভ*য়ে বলল, “আমি তো একবারও বলিনি যে কি*স করলে কীভাবে রেসপন্স করতে হয় তা শিখব। আপনিই তো সব নিজে নিজে বললেন।”
শাপলা বুঝে ওঠার আগেই সিয়াম তার গালে কষে একটা চ*ড় মেরে দিল। ব্য*থায় শাপলা কুঁ*কড়ে উঠল। ভ*য়ে জড়োসড়ো হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল।
সিয়াম মুহূর্তেই নিজের হুঁশে ফিরল। নিজেকেই বলতে লাগল, “আমি এটা কী করে ফেললাম!”
তাড়াতাড়ি শাপলাকে আলতো করে মেঝে থেকে দাঁড় করাল। ব্যাকুল হয়ে শুধাল, “কিরে, বেশি ব্য*থা লাগছে? দেখি, আমাকে দেখতে দে।”
সিয়াম শাপলার গালে ফুঁ দিয়ে বলল, “তুই জানিস না, আমি রে*গে গেলে আমার কিছু খেয়াল থাকে না? তুই কেন এমন করিস? তুই বুঝিস না, আমি তোকে কতটা ভালোবাসি? তোকে এক মুহূর্তের জন্য না দেখলে আমি পা*গলের মতো হয়ে যাই। অফিসে গেলেও তোর ছবি দেখি।”
শাপলা এক ঝটকায় সিয়ামকে সরিয়ে দিল। বলল, “আমি তো আপনাকে বলেছি, এসবের জন্য সময় প্রয়োজন। আমার আগে ভাবতে হবে, তারপর বলব।”
সিয়াম শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধাল, “কতদিন লাগবে তোর?”
শাপলা কিছুক্ষণ ভেবে মৃদুস্বরে বলল, “এক মাস।”
সিয়াম বলল, “ঠিক আছে। এক মাস সময় দিলাম।”
শাপলা রুম থেকে চলে যেতে নিলে সিয়াম পেছন থেকে ডেকে বলল, “দাঁড়া, ফোনটা নিয়ে যা।”
শাপলা মুখ ভেংচে বলল, “লাগবে না। আমাকে চ*ড় মে*রে এখন আবার পিরিত দেখানো হচ্ছে? লাগবে না আপনার ফোন। আপনার ফোন ধুয়ে পানি খান।” এই বলে হনহন করে বেরিয়ে গেল।
সিয়াম নিজে নিজে আওড়াল, “এই কারণেই তো তোকে এত ভালো লাগে। তোর এই কথাবার্তা, বেপরোয়া কৌতূহল—এসব আমাকে আরও উ*ত্তে*জিত করে দেয়।” কথাগুলো বলতে বলতে তার ঠোঁটে ফুটে উঠল একচিলতে মুচকি হাসি।
শাপলার মা-বাবা বিদেশে থাকেন। তাই পড়াশোনার জন্য শাপলা তার আন্টির বাসায় থাকে। এই বাড়িতে তার তিন মাস হলো।
শাপলার আন্টির নাম মহুয়া আহমেদ। তার স্বামী সায়েক আহমেদ। দুজনেই বিজনেস নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের কাটে অফিস আর মিটিংয়ে।
তাদের তিন ছেলে আর এক মেয়ে। বড় ছেলে আরিফ সে বাবার বিজনেস সাহায্য করে। সে বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম নীলাঞ্জনা। তাদের ছয় বছরের ফুটফুটে একটা মেয়ে আছে।
মেজো ছেলে নিরব আর ছোট ছেলে সিয়াম। দুজনেই বাবার বিজনেসে হাত লাগিয়েছে। সায়েক আহমেদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। সে এখন শ্বশুরবাড়িতে থাকে। এই হলো আহমেদ পরিবার।
চৈত্রের দুপুর। আকাশ থেকে আ*গুন ঝরছে যেন। রোদের তেজে পিচগলা রাস্তা, গাছের পাতা নুয়ে পড়েছে, পথে মানুষ নেই বললেই চলে। চারদিকে একটা খাঁ খাঁ নিস্তব্ধতা— যেন পুরো শহরটাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে এই প্রখর তাপে। কাক-চিলের ডাকও শোনা যায় না। শুধু দূরে কোথাও একটা কুকুরের আলসে ঘেউ ঘেউ, আর বাতাসে ভেসে আসা গরম হলকার নিঃশ্বাস।
এমন এক দহনবেলায় বাড়িটা নিঝুম। সবাই অফিসের ব্যস্ততায়, আর ঘরের ভেতর এখন কেবল তিনটি প্রাণ— শাপলা, নীলাঞ্জনা আর নীলাঞ্জনার ছোট্ট মেয়ে আলো।
শাপলা নিজের ঘরের জানালার ধরে উদাস চোখে বাইরে তাকিয়ে আছে। বাহিরে বাতাসও যেন থমকে গেছে। তার চোখে কোনো কাজ নেই, মনে মনে কিছু একটা ভাবছে — শুধু দুপুরের এই অলস প্রহর গিলছে নিঃশব্দে।
পাশের রুমে নীলাঞ্জনা। মেয়ে আলোকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছে।
ঠিক তখনই সেই নিস্তব্ধতা চিরে বেজে উঠল কলিং বেল— ক্রিং… ক্রিং…
অসময়ের শব্দে নীলাঞ্জনার ভেতরটা কেঁপে উঠল। এ ভরদুপুরে কে এলো? পা টিপে টিপে, গুটি গুটি পায়ে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে।
সদর দরজার ছিটকিনি খুলতেই চোখ কপালে উঠল তার। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে তার স্বামী— আরিফ আহমেদ।
ঘামে জবজবে শার্ট, কপাল বেয়ে নামছে ঘামের ফোঁটা, চোখে-মুখে ক্লান্তির সাথে মিশে আছে কেমন একটা অস্থিরতা। নীলাঞ্জনা হতভম্ব। আরিফ তো দুপুরে কখনো বাড়ি ফেরে না! তার ফেরার সময় একেবারে সন্ধ্যা, অফিস শেষে, সূর্য ডোবার পর।
নীলাঞ্জনা দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে স্বামীর দিকে তাকাল। গলার স্বর নামিয়ে শুধাল, “কী মনে করে দুপুরে বাড়িতে এলেন?”
কথাটা শেষ হতেই আরিফের চোখ কঠিন হলো। তড়িৎ জবাব দিল, “আমার বাড়ি। যখন ইচ্ছা তখন আসব।”
কণ্ঠের ঝাঁঝে নীলাঞ্জনা একটু দমে গেল। তবুও বলল, “না, এতদিন তো দুপুরে কখনো আসতে দেখিনি। তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
আরিফ দৃষ্টি সরিয়ে নিল। গম্ভীর গলায় বলল, “বাইরের খাবার আর ভালো লাগে না। মুখে রোচে না। তাই চলে এলাম। তুমি যাও, খাবার বাড়ো। আমি গোসল করে আসছি।”
এটুকু বলেই সে আর দাঁড়াল না। নীলাঞ্জনা কিছু বলার সুযোগই পেল না। স্বামীর চোখের গভীরে কী যেন লুকিয়ে আছে— পড়তে পারল না সে। নিঃশব্দে খাবার বাড়তে চলে গেল।
নীলাঞ্জনা কখন থেকে খাবার বেড়ে বসে আছে। কিন্তু আরিফের দেখা নেই।
বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে নীলাঞ্জনা উঠে দাঁড়াল। ধীর পায়ে শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। বাথরুমের দরজার কাছে গিয়ে গলা চড়িয়ে ডাকল, “এই যে, শুনছেন? হলো কী? সেই কখন থেকে খাবার বেড়ে বসে আছি।”
ভেতর থেকে আরিফের গলা ভেসে এলো, “এই তো, হয়ে গেছে। তুমি যাও, আসছি।”
নীলাঞ্জনা আর দাঁড়াল না। ফিরে এসে খাটের এক কোণে বসে পড়ল। পাশের টেবিলে রাখা আরিফের মোবাইলটা তখনই কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে অচেনা একটা নাম্বার ভাসছে।
কৌতূহল হলো নীলাঞ্জনার। নাম্বারটা সে আগে কখনো দেখেনি। ভাবল, হয়তো ব্যবসার কোনো জরুরি কল। ধরবে কি ধরবে না— এই দোটানায় ফোনটা হাতে নিয়ে আবার রেখে দিল।
কিন্তু ফোনটা থামল না। একবার, দুবার, তিনবার— বারবার বেজেই চলল। শেষমেশ আর না পেরে নীলাঞ্জনা কলটা রিসিভ করল।
“হ্যালো” বলতেই ওপাশ থেকে এক নারীকণ্ঠ ভেসে এলো। কণ্ঠে উৎকণ্ঠা, অভিমান মেশানো, “আরিফ, তুমি কোথায়? কতক্ষণ ধরে কল দিচ্ছি, রিসিভ করো না কেন? তোমার সাথে না আমার লাঞ্চ করার কথা? কী হলো, কথা বলো?”
মুহূর্তে নীলাঞ্জনার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। র*ক্ত হিম হয়ে গেল। কাঁপা গলায় সে বলল, “আমি আরিফের স্ত্রী। আপনি কে? আরিফকে দিয়ে আপনার কী কাজ?”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই পেছন থেকে হিং*স্র বাঘের মতো ছুটে এলো আরিফ আহমেদ। এক ঝটকায় নীলাঞ্জনার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিল।
“হ্যাঁ, হ্যালো… এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা হবে।” বলেই খট করে কলটা কেটে দিল সে।
নীলাঞ্জনা হতবাক চোখে তাকাল আরিফের দিকে। “মেয়েটা কে?”— প্রশ্নটা তার ঠোঁট পর্যন্ত এসেও আটকে গেল।
তার আগেই আরিফের হাত উঠে এলো শূন্যে। ঠাস করে একটা চ*ড় পড়ল নীলাঞ্জনার গালে। “তোর এত বড় সা*হস কী করে হয়? আমার পারমিশন ছাড়া আমার মোবাইল ধরিস?”
আকস্মিক আ*ঘাতে নীলাঞ্জনা গালে হাত চেপে ধরল। চোখে বিস্ময়, অবিশ্বাস। একটা কল রিসিভ করাই কি এত বড় অ*পরাধ?
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১
সে কাঁপা গলায় বলতে গেল, “অনেকক্ষণ ধরে কল বাজছিল, তাই রিসিভ করেছি…”
কথা শেষ করতে দিল না আরিফ। দ্বিতীয় চ*ড়টা পড়ল আগের চেয়েও জোরে। “কেন ধরবি তুই?”— গর্জে উঠল সে। কোমরের বে*ল্ট খু*লে নীলাঞ্জনাকে মা*র*তে লাগল।
