Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৬

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৬

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৬
মহাসিন

শিখা ও শাপলা দুই বোন হেঁটে হেঁটে সেই প্রাচীন বটগাছের নিচে চলে এলো। বির এখনো আসেনি। শিখা গাছের মোটা, নরম শেকড়ের উপর আরাম করে বসে পড়ল। শাপলা তার পাশে বসল। সুন্দর মৃদু বাতাস বয়ে চলছে, যেন তাদের ক্লান্ত শরীর ও মনকে জুড়িয়ে দিচ্ছে। পাতার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের হালকা আলো তাদের মুখে খেলা করছে।

‎কিছুক্ষণ চুপচাপ কাটল। শাপলার কপালে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভ্রু কুঁচকে সে শিখার দিকে তাকিয়ে বলল,
‎_“ধ্যাত! আর বসে থাকতে ভালো লাগছে না রে। কতক্ষণ ধরে বসে আছি, এখনো কোনো খবর নেই।”
‎শিখা একটু হেসে বলল,
‎_“আমি কী করে বলব? আর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করি। তারপর চলে যাব।”
‎শাপলা অধৈর্য হয়ে বলল,
‎_“পাঁচ মিনিট কেন? পাঁচ সেকেন্ডও আর ভালো লাগছে না। তুই বরং ছেলেটাকে কল দে।”
‎শিখা মাথা নেড়ে বলল,_ “তা সম্ভব না।”
‎শাপলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, _“কেন সম্ভব না?”

‎শিখা একটু থেমে বলল, _“ফোনের ব্যালেন্স শেষ। তাই কল করতে পারব না।”
‎শাপলা হতাশ হয়ে বলল, _“ধ্যাত! আর এখানে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে না। কতক্ষণ ধরে বসে আছি!”
‎শিখা শান্ত গলায় বলল, _“আর একটু অপেক্ষা কর।”
‎আরও কিছু সময় কেটে গেল। হঠাৎ একটা মেরুন রঙের গাড়ি এসে বটগাছের নিচে থেমে গেল। গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এল বির। চোখে সানগ্লাস, পরনে কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট। চুলগুলো সামান্য উস্কোখুস্কো, কিন্তু তাতে তার সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। ধীর পায়ে সে শিখা ও শাপলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।
‎শাপলা ভ্রু কুঁচকে, চোখ বড় বড় করে বলল, _“আপনি কি মানুষ, নাকি অন্য কিছু?
‎বির মুচকি হেসে শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল, _“হ্যাঁ, আমি মানুষ না। আমি এলিয়েন।”
‎শিখা চোখ বড় করে বলল, _“সেই কখন থেকে আমরা বসে আছি, আপনার আসার কোনো নাম গন্ধই ছিল না।”

‎বির সামান্য লজ্জিত হয়ে বলল,
‎_ “সরি। আসলে রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম ছিল, তাই দেরি হয়ে গেল।” একটু থেমে সে আবার বলল, _“আচ্ছা, আমরা তো এখনো ভালো করে পরিচিতই হলাম না। আপনাদের নাম কী?”
‎শিখা মৃদু হেসে বলল,
‎_“আমার নাম শিখা। আর এ আমার ছোট বোন শাপলা।”
‎বির মাথা নেড়ে বলল,
‎_“আমার নাম বির। তা শিখা, আপনি কি সিদ্ধান্ত নিলেন?”
‎শিখা স্পষ্ট গলায় বলল,
‎_ “আমি আপনার বউয়ের অভিনয় করব। তবে মাত্র পনেরো দিনের জন্য। এর বেশি পারব না। আর আমার বোন শাপলা আমার সাথেই থাকবে।”
‎বির বলল, _“ঠিক আছে, তাই হবে। আমি তো বলেছিলাম দু’লাখ টাকার কথা। আপনি কত চান?”
‎শিখা দৃঢ়ভাবে বলল, _“না, এতে হবে না। চার লাখ হলে ঠিক আছে।”
‎বির এক মুহূর্ত ভেবে বলল, _“আচ্ছা, ঠিক আছে। তাই হবে।”

‎একটু পরে সে গাড়িতে উঠে কিছু চকলেট ও পানীয় নিয়ে এসে তাদের হাতে দিল। তারপর গম্ভীর হয়ে বলল,
‎_“আপনি যেহেতু আমার বউয়ের অভিনয় করবেন, তাই কয়েকটা জিনিস ঠিকমতো চলতে হবে। আমরা ঝগড়া করব, ঝগড়া করতে করতে শেষ দিন চলে আসবেন। বুঝতে পারছেন তো?”
‎শিখা মাথা নেড়ে বলল,
‎_“হ্যাঁ। তাহলে কাল থেকে শুরু হবে।”
‎বির বলল,
‎_“হ্যাঁ। কাল সকাল নয়টায় এখানে চলে আসবেন।”
‎কথা শেষ করে বির বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠল। গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে যেতে লাগল। শিখা একদৃষ্টিতে সেই চলে যাওয়া গাড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।
‎শাপলা মুচকি হেসে বলল, _“কিরে, কী দেখছিস অমন করে?”
‎শিখা লজ্জা পেয়ে মুখ ফিরিয়ে বলল, _“ধ্যাত! কী দেখব?”
‎বাতাসে বটগাছের পাতা মৃদু মর্মর শব্দ তুলছে। দুই বোনের সামনে এক অদ্ভুত নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে গেছে। যার ভেতর আছে রহস্য, অভিনয় আর হয়তো কিছু অপ্রত্যাশিত অনুভূতি।

‎শিখা শাপলা পা টিপে টিপে, চুপিচুপি ঘরে প্রবেশ করল। সকালের ম্লান আলোয় তাদের ছায়া দুটো দেওয়ালে লম্বা হয়ে পড়ছে। কিন্তু পা রাখার আগেই হঠাৎ শক্ত হাত শিখা শাপলার কান ধরল।
‎_“আঁ! কোথা থেকে আসা হচ্ছে?”
‎মৌসুমী বেগমের কণ্ঠস্বরে রাগ আর উদ্বেগ মিশে ছিল। শিখা শাপলা দুজনেই একসাথে চিৎকার করে উঠল,
‎_“উফ্ মা! ছাড়ো, ব্য. _থা পাচ্ছি!”
‎মৌসুমী বেগম তাদের কান ছেড়ে দিলেন। তারপর দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটোকে রসগোল্লার মতো বড় বড় করে বললেন,
‎_“আমাকে কি মা বলে মনে হয় না তোদের? আমাকে না বলে কোথায় গিয়েছিলি?”
‎শিখা নিচু গলায় বলল,
‎_“কোথায় আবার… পাশের বাড়ি।”
‎_“পাশের বাড়ি!” মৌসুমী বেগমের গলা উঁচু হয়ে গেল। _“এত বড় দিঙ্গি মেয়ে হয়েছিস, সারাদিন এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিস? আজ থেকে তোর আর অলসতা চলবে না। যা, রান্নাঘরে যা। আজ তুই রান্না করবি।”

‎শিখা মুখ বেঁকিয়ে বলল, “আমি রান্না করতে পারব না মা।”
‎মৌসুমী বেগম বড় বড় চোখ করে তাকালেন। এই দৃষ্টিতে এমন কিছু ছিল যে শিখা আর কথা বাড়াতে সাহস পেল না। মাথা নিচু করে চুপচাপ রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
‎মৌসুমী বেগম এবার শাপলার দিকে ঘুরলেন। মেয়েটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে দেখে ভুরু কুঁচকে বললেন, _“তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন? হাতে ঝাড়ু নিয়ে কাজে লেগে যা।”
‎শাপলা ফোঁস করে বলল, _“মাআআ, ভালো লাগে না।”
‎মৌসুমী বেগমের চোখ দুটো আবার গরম হয়ে উঠল। এই দৃষ্টির সামনে শাপলার আর কোনো উপায় রইল না। অনিচ্ছায় ঝাড়ু তুলে নিয়ে ঘর ঝাঁট দিতে শুরু করল।

‎দুপুরের খাবার টেবিলে গরম ভাতের গন্ধ। শিখা নিজের হাতে সবাইকে খাবার বেড়ে দিল।
‎শিখার বাবা প্রথমে মুখে তুলেই চোখ বড় বড় করে বললেন, “আরে! অনেক ভালো হয়েছে তো। তোর মায়ের চেয়েও খুব ভালো রান্না করেছিস।”
‎কথাটা শুনেই মৌসুমী বেগমের মুখটা মুহূর্তে ভেংচে গেল। কপাল কুঁচকে বললেন, “তার মানে এতদিন আমি খারাপ রান্না করেছি, তাই তো?”
‎রুবেল তাড়াহুড়ো করে বলল, “আরে না, সেটা বলিনি। তোমার রান্না অনেক মজা হয়, সেটা সবাই জানে। তবে আজ শিখার রান্নাটা… ওর হাতের স্বাদটা যেন একটু বেশিই ভালো হয়েছে।”
‎রুবেলের কথায় ঘরের ভারী পরিবেশটা একটু হালকা হলো।
‎_পরের দিন সকাল_
‎সকালের নরম রোদে শিখা আর শাপলা তৈরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‎মৌসুমী বেগম মেয়েদের মাথায় হাত রেখে বললেন, “শোন, আন্টির বাসায় গিয়ে কিন্তু কোনো ঝামেলা করবি না। ঠিক আছে?”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৫

শাপলা হেসে বলল, “ধ্যাত মা, কি যে বলো। ওখানে গিয়ে ঝামেলা করব কেন হ্যাঁ?”
‎”তোর বাবা এগিয়ে দিয়ে আসবে?” মৌসুমী বেগম জিজ্ঞেস করলেন।
‎শিখা মাথা নাড়ল, “না মা, লাগবে না। আমরা নিজেরাই যেতে পারব।”
‎”কেন? তোর বাবা এগিয়ে দিলে সমস্যা কি?”
‎শিখা মৃদু হাসল, “না মা, সমস্যা না। শুধু শুধু বাবাকে কষ্ট করতে হবে না। আমরা যেতে পারব।”
‎এরপর দুই বোন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলো। সামনে এক নতুন দিন, এক নতুন গল্প অপেক্ষা করছে ওদের জন্য।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here