রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৬
সোহানা ইসলাম
জারা যখন বেড থেকে ব্যাগ টা নিতে যাবে, তখন আচমকাই হুঁচট খেয়ে পরে যায় আরমানের উনমুক্ত বুকে দাঁপ করে । হটাৎ এমন একটা পরিস্থিতিতে পরবে জারা তা কস্মিনকালেও কল্পনা করে নি। জারা নিজের চোখ তৎক্ষনাৎ খিঁচে বন্ধ কর নেয়। জারার বুকপিঞ্জরে ধুকপুক করা শুরু হয়ে যায়। পুরুষ মানুষের পস্শ পেয়ে হাতে পায়ে কাঁপুনি দিয়ে উঠে জারা। জারার মনে অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে যায়। যার সাথে সে কোনো পূর্ব পরিচিত হয়। এই অনুভূতি এটা একদম নতুন তার কাছে। সব কিছু যেনো তার কাছে এখন এলোমেলো লাগছে। মনের ভিতর কেমন তান্ডব শুরু হয়ে যায় জারার।
জারার শিরদাঁড়া ভেয়ে মূহুর্তে এক শীতল স্রোত নেমে যায়। নিজের এই অবস্থায় নিজেই অবাক হচ্ছে জারা, কই আগে তো এমন হয়নি কখনো। তাহলে আজ কেনো হচ্ছে। আস্তে আস্তে চোখ খোলে আরমানের দিকে তাকায় জারা। লোকটা তার দিকে তাকিয়ে আছে কেমন চোখ করে। চোখ দুটো কেমন গুলাটে হয়ে আছে লোকটার। লোকটা যেনো নেশা করে আছে এমন লাগছে তার কাছে। আরমানের চোখের দিকে তাকিয়ে সেও যেনো কেমন ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছে।
নিজের অনুভূতি গুলো কে দমিয়ে, জারা ধীরে ধীরে যাখন আরমানের বুকে নিজের দুই হাত সরিয়ে উঠার চেষ্টা করে তখন আবারও হাত ফসকে আরমানের বুকে পরে যায়। আরমানের বুকের উপরে পরে লজ্জায় হাসফাস করতে থাকে।
__ জারা’কে এতো লজ্জা পেতে দেখে আরমান ঠোঁট কামড়ে হাসে। তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে তার বুকে পরে আছে। কিন্তু তার বুকে মেয়েটাকে একটা চুনাপুঁটি গালছে। মেয়েটা আসলেই অনেক ছোট তর থেকে। কিন্তু পরী। ঠোঁটের কোণে কালো তিলটা। মেয়ে টা যেমনই হোক তারই তো হাফ ইঞ্চি মেয়ে। জারা লজ্জায় লাল হয়ে আছে। জারা’র লজ্জা আরও বাড়িয়ে দিতে আরমান বলে,
__” ১৭ বছরের মেয়ে হয়ে ২৮ বছরের ছেলের ইজ্জত হরন করতে লজ্জা করছে না মেয়ে। আমি বোকাসোকা বলে এমন অত্যাচার করবে তুমি। ”
আরমানের কথা শুনে জটপট করে আরমানের বুক থেকে উঠে পরে। মাথা টা নিচু করে দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে দাঁড়ায় । লজ্জা কান গরম হয়ে গেছে জারার। গাল দুটো এখন পুরো লাল টমেটু হয়ে আছে।লজ্জায় গলা দিয়ে কথা বের যাচ্ছে না তার । লোকটা ইচ্ছে করে তাকে লজ্জায় ফেলছে।
আরমান বেড থেকে উঠে এসে জারা’র সামনে দাঁড়ায়। তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে লজ্জা পাচ্ছে তাক।আরমান আবারও বলে,
–” একটু আগে আমায় তুমি উ*ল*ঙ্গ অবস্থায় যাকে বলে বিনা পোশাকে দেখে ফেলেছো। এখন আবার এসে সোজা আমার বুকে ঢলে পরছো মনে। মতলব ভালো ঠেকছে না মেয়ে তোমার। ”
আরমানের এমন তাকে এমন খোঁচা দেওয়া কথা শুনে বড় বড় চোখ করে তাকায়। লোকটা তাকে ইন্ডাইরেক্টলি নির্লজ্জ বলছে। কিন্তু সে তো কিছু দেখিনি লোকটার। আর না এখন ইচ্ছে করে তার বুকের উপরে পরেছে। সে তো কোনো টাই ইচ্ছা করে করেনি সেটা লোকটা যানে। তারপরেও তাকে এমন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। রাগ হচ্ছে এখন তার লোকটার উপর। শয়তান লোকটা এখন ইচ্ছে করে তার সাথে এমন করছে। জারা চোখে মুখে রাগ জরে পরছে। আরমানের দিকে রাগী দৃষ্টিতে চিল্লিয়ে বলে,
–” একদম নির্লজ্জের মতো কথা বলবে না শয়তান লোক। আমি আপনার কিচ্ছু দেখি’নি। আপনি তো কালো আন**…. ”
নিজের কথায় নিজেই চমকে উঠে জারা। জিবে কামড় দিয়ে মনে মনে ভাবে,, সে এখন কী বলতে যাচ্ছিলো এই শয়তান লোকটা কে?? লোকটা তো তাকে এমনিতেই নির্লজ্জ বলছে, তারউপর এসব কথা শুনলে তো হয়েই গেলো। জারা’র অর্ধেক বলা কথা টা বোঝতে পারে আরমান। এই কথা যে জারা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে তা সে ঢের বোঝতে পেরেছে। কথাটা বলে এখন বোকা হয়ে গেছে। জারা’র মুখভঙ্গি দেখে হাসি পাচ্ছে আরমানের। কিন্তু না হেসে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
—” আমি যে কালো আ*ন্ডা*র পে*ন্ট পরেছি তা তুমি দেখে ফেলেছো হাফ ইঞ্চি মেয়ে। আমার ২৮ বছরের জমানো ইজ্জত সব খেয়ে দিলে মেয়ে। ”
আরমান আবারও নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,
–” এখন আমার কী হবে গো? আমাকে এখন কে বিয়ে করবে?? আমার ইজ্জত সব দেখে ফেললো এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে টা। আমার মানসম্মান, ইজ্জত সব লুটেপুটে নিয়ে নিলো এই মেয়ে। আমাকে সবাই এখন ইউজ করা মাল বলবে। এই মেয়েকে ছোটমোটো, হাফ ইঞ্চি,সরল সোজা দেখে কতোই না ভালো ভাবতাম। এখন এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে আমি ইজ্জত নিয়ে খেলছে। আমার যৌবন গেলো এখন রসাতলে। ‘”
আরমানের এমন ঢং করা নাটক দেখে জারা হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে রাগে মুখ হা’ করে কামড় দিতে যাবে, তখন আরমান কড়া একটা ধমক দেয় জারা কে।
–” এই মেয়ে মুখ বন্ধ করো। হাফ ইঞ্চি মেয়ে হয়ে ৩২ ইঞ্চি মুখ করে কামড় দিতে আসে।সব গুলো দাঁত একসঙ্গে ভেঙ্গে ফেলবো তোমার। ”
কাল যে হাতে জারা তাকে কামড় দিয়ে ছিলো, সে হাত দেখিয়ে আবারও আরমান বলে,
—-” এই দেখো মেয়ে কী করেছ কাল আমার হাতটাকে। বেন্ডেজ করতে হয়েছে তোমার কারণে। ভাগ্যিস তোমার মুখে বিষ ছিলো না, না হলে তো আজ আমাকে হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকতে হতো.?? ”
আরমানের হাতের অবস্থা দেখে সত্যি এবার জারা’র গিলটি ফিল হচ্ছে। সে তো আর ইচ্ছে করে করেনি কাজটা। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কামড় বসিয়ে দিয়েছে। রাগ উঠলে তার দাঁত গুলো কিরবির কিরবির করে কামড় দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন খুব নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে তার। মাথা নিচু করে অনু সুচনা থেকে বলে ,
–” দুঃখিত!! আমি ইচ্ছে করে করিনি। ”
__“ তা না হয় ইচ্ছে করে করোনি, কিন্তু আমার ইজ্জত তো তুমি ইচ্ছে করেই দেখে ফেলেছো হাফ ইঞ্চি মেয়ে।
আরমানের কথায় লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। কেমন অসভ্য ইতর লোক, বার বার একই কথা বলে চলেছে। নির্লজ্জদের মতো। কিন্তু কিছু বলে না সে শুধু মিনমিন সুরে বলে,
–” প্লিজ আমার ব্যাগটা দিয়ে দিন। ওরা সবাই অপেক্ষা করছে আমার জন্য। ”
__” তো নিয়ে যাও না। ধরে রেখেছি না-কি আমি.? এমনিতেই তো আমার সব দেখে ফেলেছো তুমি। ”
আরমানের কথায় বেডের দিকে অগ্রসর হয় জারা ব্যাগটা নেওয়ার জন্য। কোনো রকম ব্যগটা হাতে নিয়ে যেই না দৌড় দিবে, তখনই আরমান জারা’র হাত ধরে ফেলে। আবারও আরমানের ছোঁয়া পেয়ে কেঁপে ওঠে জারা। হাসফাস করতে থাকে সে নিজের হাতটা ছুটানোর জন্য। কিন্তু আরমান শক্ত করে চেপে ধরার হাতটা সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় জারা । জারা’র হাত ধরে টা’ন দিয়ে নিজের সামনে দাঁড় করা আরমান। জারা’র চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
—” তুমি তোমার জিনিস নিয়ে যাচ্ছো ভালো কথা কিন্তু সাথে আমাও মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছো
কেনো.?? আমার জিনিস আমাকে ফেরত দিয়ে যাও। ”
আরমানের কথায় আহাম্মক ভনে গেলো জারা। সে তো ব্যগ ছাড়া আর কিছু নেয়নি। তাহলে এই লোকটার জিনিস তার কাছে কী করে আসবে।
অবুঝের মতো করে বলে উঠে _
_” আমি তো কিছু নেয়নি আপনার কাছ থেকে!! ”
__” নিয়েছো, আমার ইজ্জত নিয়েছো তুমি। এখন ফিরিয়ে দিয়ে যাও। আ*… কথা বলার মাঝে ফোন বেজে ওঠে আরমানের। জারা’র হাত ছেড়ে দিয়ে বেডসাইড টেবিল থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে তার আব্বু ফোন করেছে। কলটা রিসিভ করে কানে ধরে আরমান। আব্বু সাথে কথা বলায় মনোযোগী হয় সে।
আরমান তার হাত ছেড়ে কথা বলতে দেখে হাফ ছেড়ে বাঁচলো জারা।এই সুযোগ টাই কাজে লাগায় সে। ব্যগটা শক্ত করে চেপে ধরে রুমের বাহিরে এক ছোট্টে চলে যায় জারা।
জারাকে পালিয়ে যেতে দেখে আরমানও জারার পিছন পিছন দৌড়ে এসে।কিন্তু ধরতে পারে না সে জারা তার হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। আরমান কিছু টা চিৎকার করে বলে
—“এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে, আমার ইজ্জত লুট করে কোথায় পালাচ্ছ। ফিরিয়ে দিয়ে যাও আমার জিনিস। ”
কে শুনে কার কথা। সে তো দৌড়াতে আছে। পিছনে ফিরে দেখার প্রয়োজন মনে করলো না। এক দৌড়ে এসে থামে মিমের কাছে। এসে হাঁটুর মধ্যে ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকে। নিজেকে স্বাভাবিক করতে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে জারা। জারাকে এমন হাঁপাতে দেখে মিম, ফিহা, জিনিয়া তিনজনই এসে জারা’কে ধরে।
” কী রে তোর এতো ধেরি হলো কেনো.?? আর পাগলের মতো এমন দৌড়ে আসলি কেনো.?? ” বললো ফিহা
” হ্যা রে সত্যিই তোর এতো সময় লাগলো যে, সমস্যা হয়েছে কোনো.?? জিজ্ঞেস করলো মিম ”
” তোমার এমন সময় লাগছে দেখে আমি আরও ভাবলাম ব্যগটা হয়তো খুঁজে পাচ্ছিলে না। ” জিনিয়া “”
সবার এমন জেরা করতে দেখে ফেসাদে পরে গেলো জারা। কী বললে এখন সে..?? অসভ্য লোক টা তাকে এসব বলেছে, তা বলে তো আর মানসম্মান কিচ্ছু থাকবে না তার।
” না ‘ মানে ঐ ব্যগটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই একটু সময় লেগে যায় আর কি। আমার জন্য তোমাদের অনেকক্ষন ধরে কষ্ট দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সরি আপু, বোঝতে পারিনি আমি। ”
জিনিয়া:- ধোর বোকা সরি বলতে হবে না। সমস্যা তো হতেই পারে। এখন চলো তোমাদের তিনজনে পৌঁছে দিয়ে আসি। ”
” হুমমম… হুমম… চলো এবার সবাই!! জাহেদ ”
একসাথে সবাই এসে থামলো জারা দের বাড়ির গেটের সামনে। মিম আর ফিহা জারা’কে রেখে যায়নি তাদের বাড়িতে । যায়নি বললে ভুল হবে জারা তাদের দুইজনকে জোর করে নিয়ে এসেছে। সবাই এক সাথে এসেছে, এখন তারা দু’জন বাড়ি চলে যাবে এটা কেমন দেখায়। তাই তাদের ও নিয়ে এসেছে, বলেছে বাড়ি পৌঁছে ফোন করে বলে দিবে মিম আর ফিহা তাদের বাড়িতে আছে। তাহলে আর কোনো সমস্যা হবে না।
মিম এগিয়ে এসে দরজা নক করে। ফিহা জারা’কে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সাথে রোহান, জাহেদ, জেরিন, জিনিয়া ও দাঁড়িয়ে আছে।
একটু পর এসে দরজা খুলে দেয় মারজিয়া বেগম। দরজার সামনে এতো মানুষ দেখে ভয় পেয়ে যান। ফিহা জারা’কে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখে মুখে মারজিয়া বেগম এর চিন্তার ছাপ পরে। বুকটা মুচড় দিয়ে উঠে, তার মেয়ের কী হয়েছে.?? ব্যাকুল কন্ঠ বলেন –” কী হয়েছে জারা’র?? ফিহা তুই ওকে এভাবে ধরে আছিস কেনো?? আর এরা সবাই কারা, আগে তো দেখিনি কখনো .?? কী রে কথা বলছিস না কেনো তোরা দুইটা..?? ”
কথা বলা মহিলার দিকে তাকিয়ে জাহেদ মনে করে হয় তো এটা জারা’র বড় বোন। বয়স ও কম বলে মনে হচ্ছে তার। তাই ভদ্র মহিলাকে এমন ব্যাকুল হতে দেখে জাহেদ বলে
— ” আপু এতো উত্তেজিত হবে না। ওর তেমন কিছু হয়নি। শুধু একটু মাথা ঘুরে গিয়েছে।”
জাহেদর কথা কথা শুনে স্তম্ভ হয়ে যায় জারা,মিম আর ফিহা। এই ছেলে কাকে কী বলে ডাকছে?? এই ছেলের চোখে সমস্যা আছে বলে মনে হচ্ছে ফিহার। ?? ফিহা জাহেদের পায়ে জোরে লাথি মারে একটা। পায়ে লাথি লাগায় ফিহার দিকে তাকায় জাহেদ, ফিহা কেমন তার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সে কী কিছু ভুল বললো নাকি..??
নিজের সন্তানের বয়সি ছেলের মুখ থেকে আপু ডাক শুনায় লজ্জায় পরে যায় মারজিয়া বেগম।৪৮ বছর চলে ওনার, তিন সন্তানের মা তিনি। এখন যদি তার শরীরের বয়সে ছাপ না বোঝা যায় তাহলে তিনি কী করবেন..?? ”
নিজের মাকে লজ্জায় পরতে দেখে চটজলদি জারা বলে –” আম্মু তেমন কিছু হয়নি আমার। ”
জারার মুখ থেকে আম্মু ডাক শুনে চোয়াল ঝোলে যায় জাহেদের। এতো young জারা’র আম্মু। অবাক হচ্ছে বেশ আবার সন্দেহ ও হচ্ছে। হিসেবে তালগুল পাকিয়ে যাচ্ছে তার।
জাহেদ মুখ এমন বাংলার পাঁচের মতো হতে দেখে রোহান তার কানে কানে বলে–” বলি বা*ল পা*না**মি করলে যা হয় আর কি।নিজেও লজ্জায় পরলি সাথে আর একজনকে ও লজ্জায় ফেলে দিলি গাধা।”
” কিছু না হলে ফিহা তোকে এই ভাবে ধরে আছে কেন…? এই ফিহা বল কী হয়েছে জারা’র..?? ” বললেন মারজিয়া বেগম ”
কী বলবে এখন তারা। কি জবাব দিবে মারজিয়া বেগম কে..? এখন যদি বলে তার মেয়ে কী জন্য এই অবস্থা তাহলে তাদের আজ একচোট মার খেতে হবে। মারজিয়া বেগম তাদের নিজের মেয়ের মতো আদর করেন। কিন্তু শাসন করার সময়ও কম শাসন করেন না তিনি। মিম আর ফিহা কে ভয় পেতে দেখে জিনিয়া এগিয়ে এসে বলে,
—” আসসালামু আলাইকুম আন্টি! আমার এই গ্রামে নতুন। বড় ভাইয়ায় কাজের সূএে এই গ্রামে আসা। বড় মাঠের ঐ একতালা বাড়িটায় আমরা থাকছি এখন। জারা ঐ বড় মাঠ দিয়ে আসার সময় জ্ঞান হারায়। রোদের তাপে হয়তো মাথাটা ঘুরে গেছে, তেমন কিছু হয়নি। তাই আমরা ওকে নিয়ে এসেছি।”
জিনিয়ার কথা শুনে মারজিয়া বেগম ফিহা আর মিমের দিকে তাকিয়ে বলেন,
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৫
–” তোরা দুইটায় জারা’কে নিয়ে ওর রুম যাহ, ফ্রেশ হয়ে নেহ। আমি তোদের বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি তোরা আজ এখানে থাকবি। ”
তারপর জিনিয়া দের দিকে তাকিয়ে বলেন,
–“তোমরাও এসো বাবা’রা, ভিতরে এসো। এতোক্ষণ বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি বলে কিছু মনে করো না। মেয়ের এই অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গিয়ে ছিলাম। এসো তোমরা, ভিতরে এসে বসো। ”
