রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৬
সোহানা ইসলাম
ভাইয়া তোমার গাল এমন লাল হয়ে আছে কেনো..?কি হয়েছে তোমার গালে..??
বোনের এহন প্রশ্ন শুনে আরমান গালে হাত দেয়।
মনে পরে রাস্তায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা।
বেয়াদব মেয়ে কতো জোরেই না থাপ্পড় মেরেছে তাকে।তার ফর্সা গালটা লাল হয়ে আছে। এখন সবার চোখে পরছে।রাগ হচ্ছে তার। ঐ মেয়ে কে ধরে একটা আছাঁড় মারতে ইচ্ছে করছে। বেয়াদব কোথাকার। হাফ ইঞ্চির মেয়ে হয়ে ৫ফুট ১১ ইঞ্চির ছেলের গালে থাপ্পড় মারে।এখন তো আর
বলতে পারবে না
হাঠোঁর সমান মেরের হাতে থাপ্পড় খেয়ে এসেছে তার ভাই। মানসম্মান কিছুই থাকবে না আর তার। লজ্জায় মাথায় কাটা যাবে তার। তাই আরমান মনে মনে কিছু মিথ্যা সাজিয়ে বোন কে বলে…..
“এলার্জির কারণে এমন লাল হয়ে আছে হয়তো।
” কিন্তু তুমি তো এখনো তেমন কিছু খাওনি! তাহলে এলার্জি হবে কি করে..?
বোনকে এমন গোয়েন্দা’দের জেরা করতে দেতে কিছু টা বিরক্ত হয়ে বলে….
“কতো প্রশ্ন করিস তুই! সর সামনে থেকে। খিদে পেয়েছে আমার।
দুপুরে যে যার মতো খেয়ে আবার নিজের রুমে চলে আসে। কাল এতো যার্নি করে আসায় আজ সবার উঠতে লেইট হয়ে গেছে। কাল রাত থেকে এখনো রোহান জিনিয়ার সাথে একটা কথাও বলেনি আর না বলছে জিনিয়া।শুধু খাওয়ার সময় একসাথে বসে খেয়েছে। তাও একবারও জিনিয়ার দিকে তাকিয়েও দেখেনি রোহান। সে তার চাঁদ সুন্দরীর কথা রাখতে ব্যস্ত।
সে আর যাবে না ঐ মেয়ের সাথে কথা বলতে। তর সামনেও পরবে না আর।মনে মনে প্রতিজ্ঞ করে রোহান। কিন্তু বেহায়া মন তা মানতে নারাজ।
বিকেলের দিকে তাদের সব প্রয়োজনীয় জিনিসপএ চলে আসে। এসব গুছাইতে রাত হয়ে যায়। এতো কাজ করে সবাই ক্লান্ত হয়ে ডিনার করে শুয়ে পরে।
ঘুম নেই শুধু জিনিয়ার চোখে।আজ রোহান তার সাথে একবাও আসেনি কথা বলতে।এমনকি তার দিকে ফিরেও তাকায়নি রোহান।খুব কষ্ট হচ্ছে তার। এই তার ভালোবাসা..?? রাগে দুঃখে জিনিয়ার চোখে পানি চলে আসে। একটু পর পর ডাক টানছে আর চোখের পানি মুচ্ছে বালিসে মাথা দিয়ে।
বড় বোনে এমন এমন ডাক টানার শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় জেরিনের। ঘুম ঘুম চোখে বলে….
” আপু তোমার কি হয়েছে..?? এমন নাক টানছো কেনো..?তোমার কী ঠান্ডা গেলেছে..??
“” জেরিনের প্রশ্ন শুনে তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নেয় জিনিয়া।নিজেকে কিছু টা স্বাভাবিক করে বোনের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে বলে….
“না বনু আমার ঠান্ডা লাগেনি। আমি ঠিক আছি।তুই ঘুমাসনি এখনো। রাত হয়েছে অনেক এখন ঘুমা তুই।
“ঘুম চোখে থাকার কারণ আবারও ঘুমিয়ে যায় জেরিন”
বোনের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতে দিতে কখন যে সে নিজেই ঘুমিয়ে গেছে বোঝতেই পারেনি জিনিয়া।
আরমান… এই আরমান…!!ঘুমিয়ে গেছিস তুই।
এতো রাতে রোহানের ডাক শুনে কপালে বাঁজ পরে আরমান। কারো কোনো বিপদ হলো না তো আবার। এমনতেই নতুন জায়গায়। তাই সময় ব্যয় না করে বেড থেকে তাড়াতাড়ি নেমে দরজাটা খুলে দেয়। দরজার সামনে এলোমেলো হয়ে দাড়িয়ে আছে রোহান। ….
“কি হয়েছে..?এতো রাতে ডাকছিস কেনো.?? কারো কিছু হয়েছে না-কি..??
” সিগা*রেট আছে দোস্ত..?? থাকলে একটা আমাকে দেহ তো..??
এহন কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকায় রোাহানের দিকে। বিরক্তি নিয়ে বলে…
“শা*লা এতো রাতে এসে ডাকছিস সিগা*রেটের বা*ল ‘রেনজন্য.??
” হুমমম.!বা*ল থাকলে দেহ শা*লা, গলাটা শুকিয়ে আছে৷
মাথা যন্ত্রণা করছে খুব।
শান্ত কন্ঠে প্রতিটি বাক্য উচ্চারণ করে রোহান..
“এতো রাতে এই বা*ল খাওয়ার জন্য এসেছিস..??এই বা*লা খাওয়া বন্ধ কর না হলে ক্যান্সার হয়ে যাবে।
” আমাকে জ্ঞান না দিয়ে আগে নিজে বা*ল খাওয়া বন্ধ কর। শা*লা..!!
‘দেহ একটা..”
“আর কিছু বললো না রোহান’কে আরমান।বেশি ডিপ্রেশনে থাকলেই সিগারেটের জন্য পাগলের মতো করে রোহান তা ভালো করেই যানে সে। এমন এলোমেলো অবস্থায় রোহান কে দেখে বোঝতে পারে তার কলিজার দোস্ত ডিপ্রেশনে আছে। তার বন্ধুর মনের অবস্থা ভালো না। একাকিত্ব সময়ের প্রয়োজন তার। তাই বলে…
” চল নদীর পাড় থেকে হেঁটে আসি। দুজন মিলে ধোঁয়া
উঁড়াবো।
রোহান আর কিছু না বলে হাঁটা ধরে নদীর দিকে। রোহানকে যেতে দেখে আরমানও যায় তার পিঁছন পিঁছন..”
একটা সিগারেট ধরিয়ে নিজে একটা টা’ন দিয়ে রোহানের হাতে দিয়ে বলে….
” কী হয়েছে.? এমন ডিস্টার্ব দেখাচ্ছে কেন তোকে.??
” কই কিছু হয়নি আমার.! আমার আবার কি হবে..? মিথ্যা হাসি দিয়ে বলে।
__ জিনিয়া কিছু বলে তোকে..??
‘ না! ও কি বলবে আমাকে..? কিছু বলেনি.!
” ভালোবাসিস জিনিয়া ‘ কে.??
” সব যেনো আবার জিজ্ঞেস করছিস কেনো..??
_ এমনি করলাম.!! বল ভালোবাসিস ওকে..??
__হুমমমম___
“” তাহলে ওর থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা কর।
রোহান বোঝতে পারলো না আরমানে কথা ধরণ। তাই আবার জিজ্ঞেস করে….
” কী বললি..??
“বললাম জিনিয়ার থেকে দূরে থাকতে..!! ”
___ আরমান তুই আমার বন্ধু হয়ে এমন কথা বলতে পারলি..?তুই জানিস না আমি জিনিয়া ‘ কে কতো টা ভালো’বাসি। সে যদি আমাকে ঘৃণা করে তার শেষ পৃষ্ঠায় নিয়ে দাঁড় করায়, তারপরও আমি জিনিয়া’ কেই ভালেবাসি। আমি কি ভাবে তার থেকে দূরে থাকব..?? এক দমে কথা গুলো বলে থামে রোহান….
__হুমমম’ যানি তো! তাই তো বললাম দূরে থাকতে।
দেখ রোহান আমাকে ভুল বোঝিস না। আমি তোর ভালো চাই। তাই বলছি তুই জিনিয়ার থেকে দূরে থাক। জিনিয়া’কে তোর ফিলিংস বোঝতে দেহ।
সে যদি তোকে ভালো “বাসে তাহলে সে তোরই থাকবে। আমি যানি জিনিয়া কাউকে ভালোবাসে না। ছেলেদের সাথে তার তেমন মেলামেশা নেই চলে। তাই হয় তো তোর ওর প্রতি এমন ব্যবহার ওকে বার বার বিরক্ত করছে।তাই সে বোঝতে পারছে না তোর ভালোবাসা। যে কাছে থাকতে ভালো’বাসা বোঝে না তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে বোঝাতে হয় ভালো” বাসা কী জিনিস..?? তোর জন্য যদি ওর মনে এই টুকু পরিমাণের ভালো লাগা থাকে, তাহলে সে তোর দেওয়া অবহেলা সহ্য করতে পারবে না। ও ছোট মানুষ একটু সময় দেহ।
দেখবি একদিন সব ঠিক হয়ে গেছে..!!
নিজেকে সময় দেহ আর জিনিয়া কেও।
আরমানের কথা শুনে রোহান ভাবে হয় তো তাকে আরমান ঠিক কথাই বলছে।যে কাছে থাকতে মূল্য দেয় না সে দূরে গেলে ঠিকই খুঁজে।
” হুমম বোঝেছি। তোর কথাই থাক তাহলে..
যতো দিন চাঁদ সুন্দরী নিজে থেকে আমায় না ডাকবে,আমি যাবো না আর ঐ রাস্তায়।করবো না আর কাউকপ বিরক্ত। ডাকবো না তাকে চাঁদ সুন্দরী বলে।কষ্ট হলেও তা নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখবো।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলে রোহান…
সেই রাতের পরে কেটে যায় মাঝখানে আরো দুইদিন। এই দু’দিন একটা বারের জন্য কথা বলে নি তার চাঁদ সুন্দরীর সাথে। তার পাষান নারীও একবার তার খুঁজ পর্যন্ত নেয়’নি। কি করছে,কি খাচ্ছে, শরীর ঠিক আছে কি না একবার জানতে চায় নি। অবশ্য এসব জিজ্ঞেস করার মতো কোনো সম্পর্কও নেই তাদের মাঝে। তারপর ও একবার জিজ্ঞেস করতে পারতো তাকে..??
কই তাকে ছাড়া তো সবার খুব ভালো করে দেখাশোনা করছে তার চাঁদ সুন্দরী। কার কী লাগবে না লাগবে।
তাহলে তাকে একটা বার জিজ্ঞেস করলে কী খুব একটা ক্ষতি হতো। তার নির্দয় চাঁদ সুন্দরী। এই পাষাণ নারীকে আবার সে ভালোবাসে বারংবার।
সকাল আট’টা বাজে।জারা বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড, দের জন্য। সে কখন থেকে দাঁড়ি আছে কিন্তু তার গুণধর বান্ধবীদের আাসার কোনো নাম’ই নেই। একা একা দাঁড়িয়ে থকতে কেমন ভয় করছে তার।হাতে থাকা বই’ টা বুকের মধ্যে আরো টাই’ট করে চেপে ধরে ভয়ের চোটে।
ঐদিন ঐ”লোক’টার সাথে দেখা হওয়ার পর এবার ও বাসা থেকে বের হয় ‘ নি সে।যদি দেখে হয়ে যায়। তাকে তুলে নিয়ে যদি বিক্রি করে দেয় তখন।
এসব ভাবতে ভাবতে আরও একবার আশেপাশে তাকায় জারা।যদি দেখা মিলে তার বান্ধবীদের।
কিন্তু তাদের কোনো পাত্তাই নেই এখনো। এসব ভাব’নার মাঝে কারে পায়ের শব্দ আসে কানে।
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৫
” হঠাৎ করে কারো পায়ের শব্দ শুনে মাথাটা গুরিয়ে পিঁছনে তাকায় সে…
এসময় এই বটতলায় লোকটা ‘ কে দেখে ভয়ে হাত, পার কাপোনি দিয়ে ওঠে।এমন সময় এই অনাকাঙ্খিত মানুষ টা কে এখানে দেখতে পারেন তা কল্পনা’তেও আশা করে’নি সে। এখন কী করবে সে..??লোকটা’কে দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে জারা –
