Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৮

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৮

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৮
লিজা মনি

নিকের গাড়িটা গিয়ে থামে একটা বাংলোর সামনে। গাড়ি থেকে নেমে খুব ধীর পায়ে এগিয়ে যায় সেই বাংলোর দিকে। রাগে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে। উন্মাদ হিংস্র হায়েনার ন্যায় শিকারির খুঁজে এদিক- সেদিক তাকায়। সময় অপচয় না করে বাংলোর এখানে পা রাখে। সাথে সাথে হাজারজন গার্ড তার দিকে বন্ধুক তাক করে। নিক সমস্ত গার্ডের দিকে এক মিনিট নজর রাখে। এরপর মাথাটা নিচু করে নিজের সুজের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হেসে বলে,

” আফ্রিকার প্রতিটা গান থমকে যায় আমার সামান্য উপস্থতিতে। আজ দেখছি ক্ষমতাশালী নাভিদের দেহরক্ষীরা আমার দিকে রিভলভার তাক করেছে।
নিক কথাটা বলে রক্তচক্ষু ন্যায় তাকায় গার্ডদের দিকে। গার্ডরা ভয়াতুর দৃষ্টি ফেলে মাথা নিচু করে রেখেছে। এখনও একই ভঙ্গিতে রিভলভার ধরে রেখেছে। একজন ভয় মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
” দেহরক্ষী হয়েছি নিজের বসকে হেফাজতে রাখার জন্য। এখন সামনে যদি হায়েনার সমতুল্য গ্যাংস্টার বস ও দাড়িয়ে থাকে তাহলেও আমাদের কিছু করার নেই। বস আসা আগে পর্যন্ত আপনি বাংলোর ভিতরে ডুকতে পারবেন না।
নিক গার্ডটার দিকে বাজ পাখির ন্যায় তাকায়। চোখের মনি ঘুরিয়ে বা হাতের অনামিকা আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘেষে বলে,

” ক্ষমতা আছে আমাকে আটকানোর?
গার্ড মাথা নিচু করে ভয়াতুর কন্ঠে বলে,
” শেষ রক্তপাত পর্যন্ত লড়াই করব। কিন্তু বসের অনুমতি ছাড়া আপনি রুমে ডুকতে পারবেন না।
— আসতে দাও ওকে।
এক গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে দুর থেকে। প্রতিটা গার্ড তাকায় সেই গম্ভীর সুদর্শন ব্যক্তিটার দিকে।নাভিদ দুই হাত পকেটে গুঁজে দিয়ে পিঠ টান – টান করে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি নিকের উপর। গার্ডরা রাস্তা ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়ায়। নিক বাঁকা হেসে এগিয়ে যেতে থাকে নাভিদের দিকে। নিকের প্রতিটা পদচারনের দিকে তাকিয়ে নাভিদ নিশ্বাস ছাড়ে। সে খুব ভালো করেই জানে নিক আসবে কিন্ত এত দ্রুত আসবে কল্পনা ও করে নি। নিক দুরত্ব বজায় রেখে নাভিদের মুখো-মুখি হয়ে দাঁড়ায়। একই মুদ্রার এপি- ওপিঠ দুই ব্যক্তি চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে এক নারীর জন্য। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে নাভিদের দিকে তাকিয়ে বলে,

” আজকাল আপনার গার্ডরা দেখছি আমার দিকে বন্ধুক তাক করা শুরু করে দিয়েছে। ওরা কি জানে ঠিক কি হবে এর ফলাফল?
আরিশ গার্ডদের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
” প্রতিটা দেহরক্ষী নিজের মালিকের কথায় চলে। আপনার গুলো তো সেইম। আপনার জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে থাকলে হয়ত আপনার দেহরক্ষীরা কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়ত। আমার গুলো তো তাও সম্মান দিয়েছে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান।
নিক তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” হে.. হে.. জুতার মালা গলায় পড়িয়ে চেয়ারে বসিয়ে মর্যাদার মত হয়ে গেলো না? সে যায় হোক। ও কোথায়?
নাভিদের পুরো শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। নিক কাকে ইঙ্গিত করেছে বুঝতে বাকি নেই। গম্ভীরতা টেনে বলে,
” ও কে?
নিক ভ্রু নাঁচিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলে,

” কার কথা বলছি বুঝতে পারছিস না?
নাভিদ অবুঝের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে বলে,
” একদম নয়। ঠিক কার কথা জিজ্ঞাসা করেছেন আপনি?
নিক রাগ কন্ট্রোল করার জন্য চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে বলে,
” দেখ নাভিদ ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না। মেয়েটাকে কোথায় রেখেছিস?
নাভিদ কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,
” দেশের খ্যাত গ্যাংস্টার নিক জেভরানের কথায় এত জড়তা? কাকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন না বললে বুঝব কিভাবে?
নাভিদের হেয়ালিপনায় নিক নিজের ধৈর্য হারায়। ক্ষেঁপা বাঘের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে নাভিদের উপর।শার্টের উপরের অংশ চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” শুয়রের বাচ্চা আমার বউ কোথায়? কোথায় রেখেছিস তাকে?
বউ শব্দটা শুনতেই নাভিদ নিজের ব্যাথা ভুলে যায়। অবিশ্বাস্য চাহনিতে নিকের দিকে তাকায়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,

” বউ! মেনে নিয়েছিস বিয়েটাকে?
নিক দাঁত পিষে ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় নাভিদকে। নিশ্বাস টেনে বলে,
” মানা – না – মানা সেটা আমার ব্যাপার। তার হিসেব আমি তকে দিব না।
নাভিদ নিজেও কিছুটা রেগে যায়,
” দিতে হবে নিক। এখানে তিনটা জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পড়ে আছে। এনি আমার ভালোবাসা, এইটা তুই খুব ভালো করেই জানিস। ওর জন্য আমি সব ছেড়েছি। ওর মত কোমল হৃদয়ের মেয়ে একটা ভালো পুরুষ ডিজার্ব করে। তর মত নরপশুর সাথে এনি কখনো থাকতে পারবে না।
নিক রাগটাকে কন্ট্রোল করে অদ্ভুতভাবে হাসলো। রহস্যময় হেসে বলে,
” রাইট ভালো ছেলে ডিজার্ব করে। কিন্তু তুই কি ভালো ছেলে?
নাভিদ শুকনো ঢোক গিলে বলে,

” ম….মানে?
নিক ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
” তুই ভার্জিন?
নাভিদ ঠোঁট ভিজায়। ঘন- ঘন শ্বাস টেনে বলে,
” নিক স্টপ।
নিক দুই কদম এগিয়ে আসে নাভিদের দিকে। প্যান্ট এর পকেট থেকে এক হাত সরিয়ে বলে,
” ঠিক কয়টা মেয়েকে ছিঁড়ে খেয়েছিস হিসেব আছে? ঠিক কয়টা মেয়ের সাথে ইন্টি*** হয়েছিস তার হিসেব আছে? অফফস সরি, সরি। এইটাকে ই*** নয় রে**প বলে। তুই তো রে**পিস্ট। আর একজন রে**পিস্ট কিভাবে কোমলমতী নারিকে ডিজার্ব করে ভিকি ।
নাভিদের পুরো শরীর কাঁপছে। কপাল দিয়ে চিকন ঘাম ঝড়ছে। গলায় শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে এই মুহূর্তে। ছোট করে উত্তর দিয়ে বলে,

” ওইটা আমার বিষাক্ত অতীত ছিলো। তখন আমি ধর্মহীন জানোয়ার রুপী পিশাচ ছিলাম। এখন আমি আর সেই ভিকি নেই। তুই হয়ত ভুলে যাচ্ছিস নিক তওবা পড়লে উপর ওয়ালা সব ক্ষমা করে দেন।এই ছোট্ট মেয়েটাকে ভালোবেসে বারো বছরে আমি জানামতে কোনো খারাপ কাজ করি নি। আজও কোনো নারীর সান্নিধ্যে যায় নি। বদলে গিয়েছি আমি। ভিকি নামক মানুষ- খেকো নরখাদকটা আজ পুরো পুরি পাল্টে গিয়েছে। নাভিদ নামে নিজের পরিচিতি অর্জন করেছে হালাল উপায়ে। মাফিয়া সম্রাজ্যকে বিদায় জানিয়ে আলোকে বেছে নিয়েছি। সব সেক্রিফাইস ছিলো শুধু মাত্র মেয়েটার জন্য। তুই কেনো আমাদের মাঝে ডুকছিস?
নিক বাংলোটার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” ট্রাস্ট মি নাভিদ বহু কষ্টে কন্ট্রোলে আছি। আরেকবার যদি এই মেয়েকে নিজের ভালোবাসা বলে দাবি করিস তাহলে সম্পর্ক ভুলে যাব।
নাভিদ নিকের দিকে পূর্নাঙ্গ দৃষ্টি বুলিয়ে বলে,

” একটা প্রশ্ন করব লাস্ট বারের মত। কোনো রকম দ্বন্দ ছাড়া উত্তর দিবে। কেমন আছিস?
” কেমন আছিস” শব্দটা কর্ণে প্রবেশ করতেই নিক ঠোঁট কামড়ে শব্দ করে হেসে উঠে।
— আমার জিনিস নিজের কাছে এনে জিজ্ঞাসা করছিস কেমন আছি?
— এনি তকে ভালোবাসে না নিক। হ্যা আমি ট্রাস্ট করি তুই এনিকে বিয়ে করেছিস। কিন্তু জোর করে বিয়ে করলে সেই বিয়ে হিসেবে থাকে না। এনি যদি তকে ভালোবাসত তাহলে আমি নিশ্বন্দেহে তদের মাঝ থেকে সরে আসতাম। কিন্তু ও তকে ভালোবাসে না। মেয়েটা তর কাছে থাকলে মৃত লাশ হয়ে যাবে। মন কোনোদিন ও পাবি না। দেহটা নিয়ে কি করবি?
নিক রেগে গিয়ে বলে,
” মন দিয়ে কে কোন বাল ছিঁড়ছে। আমার তো দেহটায় প্রয়োজন বেশি। মাত্র দুই বার করেছি। আরও অনেকবার করা বাকি। নিজের ইচ্ছে পূরন না হওয়া অব্দি এই মেয়েকে আমার দৃষ্টিসীমার ভিতরে থাকতে হবে।
নাভিদ না বুঝে বলে,
” কি দুইবার করেছিস?
নিক নাভিদকে এড়িয়ে বাংলোর ভিতরে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” বললে তুই আবার উত্তেজিত হয়ে পড়বি।
নাভিদ বিরক্তি নিয়ে বলে,
” বাজে কথা বন্ধ কর নিক। নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা ভিকির ছিলো না। কিন্তু নাভিদের ঠিক এই আছে।
— এই সত্যিটা হজম হচ্ছে না। যার দৈনিক রাত – দিন দশ – থেকে বারোটা মেয়ে লাগত সে এতটা ভদ্র হয়ে গিয়েছে ভবতে কষ্ট হচ্ছে।
নাভিদ রেগে গিয়ে বলে,
” তুই কিন্তু এইবার বাড়াবাড়ি করছিস।অতীত নিয়ে কেনো পড়েছিস? আমার বাংলোতে ডুকছিস কার অনুমতিতে?
নিক কিছুক্ষনের জন্য দাঁড়ায়।।চোখে রহস্য রেখে বলে,
” আমার উপরে যাওয়ার চেষ্টা করিস না। তর রহস্য ফাঁশ করতে আমার দুই সেকেন্ড ও টাইম লাগবে না। ঘুমন্ত সিংহকে ঘুমন্ত থাকতে দে।জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করিস না। পস্তাবি প্রচুর।
নাভিদ গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,

” এনি আমার কাছে নেই।
নিক চোয়াল চেপে ধরে রাখে। কিছুক্ষন দাঁত কটমট করে মোবাইলে দৃষ্টি রাখে। বাঁকা হেসে বলে,
” তর বাংলোতে দুই তলার মধ্যে, ডান পাশের রুমে, আয়নার সামনে এই মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আর সে এই মুহূর্তে শরীর থেকে জামা খুলছে। মুলত আমি যাতে সাথে সাথে একশন নিতে পারি তাই আমার কাজটাকে সহজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নাভিদ আৎকে উঠে। অধৈর্য হয়ে নিকের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
” ফোনের ভিতরে কি আছে? তুই জানলি কিভাবে এতসব?
নিক ঠোঁট চেপে ধরে। চোখ দুইটা থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে। শান্ত রুপটাকে বিদায় জানিয়ে অশান্ত রুপে ফিরে আসে। মোবাইলটা চট করে বন্ধ করে গর্জে উঠে,

” কাপুরুষ ভেবেছিস আমাকে? এতটা ভালো মনে করেছিলি শালা মাদার্ফাক। এই নারীর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে তার চোখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়। কলিজা টেনে বের করে নিয়ে এসেছি হাজার ও পুরুষের। এক রাত এই নারী তর সাথে ছিলো। প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিটের হিসেব আমি নিব। কতবড় ছলনাময়ী নারী তুই ভাবতে পারছিস? প্রতিটা গার্ডকে নাকে – চুবানি খাইয়ে শালী পালিয়ে এসেছে। তর ব্যবস্থাটাও পরে করব।
নিকের রাগ দেখে নাভিদ কপাল কুচকায়। হাতে থাকা রিভলভারটা নিকের দিকে রেখে বলে,
” ট্রাস্ট মি নিক। তুই যদি এনির কাছে যাওয়ার চেষ্টাও করিস তাহলে এখানে থাকা প্রতিটা বুলেট তর মাথায় ডুকবে।
নিক ঘাড় কাৎ করে তাকায় নাভিদের দিকে। সেই হৃদয় কাঁপিয়ে তুলা হিংস্র চাহনি। নাভিদ পিছু হলো না। নিক ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,

” চেষ্টা করে দেখতে পারিস।তবে দেখিস তার আগে নিজে যেন মাটিতে লুটিয়ে না পড়িস।
নাভিদ গানটা নিকের মাথার বরাবর রেখে তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” যার জন্য পুরো জগৎটাকেই পাল্টে ফেলেছি। তাকে এত সহজে চলে যেত দিব? ভালোবাসার অর্থ তুই বুঝিস নিক? জীবনে কোনোদিন ভালোবেসেছিস কাউকে? আমি এই মেয়েটার প্রতি উন্মাদ নিক। প্লিজ আমার পাখিটাকে ছেড়ে দে। আমি নাভিদ তর কাছে ভালোবাসার ভিক্ষে চাইছি। প্রচন্ড ভালোবাসি। এই মেয়ে যদি আমার না হয় আমি বাঁচব কার জন্য? যার জন্য পুরো সম্রাজ্য ছাড়লাম সে যদি আমার না হয় তাহলে বেঁচে থেকে কি করব। জেদ ধরে তুই একজনের কলিজাকে ছিনিয়ে নিচ্ছিস নিক। ভালোবাসি আমি তাকে। তুই সেই ভালোবাসার গভীরতা বুঝবি না।
নিক শব্দ করে হেসে বলে,

” তুই এই মেয়েকে পাওয়ার জন্য সেক্রিফাইস করেছিস। আর আমি সেক্রিফাইস না করে আমাতে পাগল করব। এই মেয়ে একদিন আমার জন্য এমন পাগল হবে যে এক দিনের অনুপস্থিতিতে আমার থেকেও বড় সাইকোতে পরিনত হবে।
— হাসালি। যে তকে সহ্য করতে পারে না সে তর জন্য পাগল হবে। হাহহহহ!
নিক অদ্ভুতভাবে হেসে আরেকটা পা বাড়ায়। সাথে সাথে সে সামান্য হেলে পড়ে। বুলেটটা গিয়ে একদম সিঁড়ির দিকে ছিটকে পড়ে। নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রাগটাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ডান হাত উচু করে একটা সঁরু নাইফ আচমকা ছুঁড়ে মারে। নাইফটা গিয়ে একদম নাভিদের বক্ষ ভেদ করে। মুহূর্তেই তাজা রক্তে ভেসে যায় তার বুক। শাদা শার্টটা লাল হয়ে যায়। নিক সেদিকে এক পলক তাকিয়ে মুখ বিকৃত করে বলে,
” বিচ!

আর এক মুহূর্তে ও দাঁড়ায় না। দুই তালার সিঁড়ি পেরিয়ে একটা রুমে ডুকে পড়ে। আচমকা এত শব্দ করে দরজা খুলার জন্য এনি ভয়ে শিউরে উঠে। ভালোভাবে দেখতেও পারে নি লোকটা কে। কেউ একজন ঝড়ের গতিতে এসে চুলের মুঠি চেপে ধরে। সাথে সাথে শক্ত হাতের থাপ্পর খেয়ে এক পাশে গিয়ে ছিটকে পড়ার উপক্রম। চুল ধরে রাখার কারনে লম্বা সোনালী চুলগুলোতে বাজেভাবে টান লাগে। মনে হচ্ছিলো চুলগুলো এই বুঝি সব ছিঁড়ে গিয়েছে। থাপ্পরটার ওজন সহ্য করার মত ক্ষমতা তার ছিলো না। কিন্তু একই গালে একাধারে আরও থাপ্পর পড়ে। এনি চোখ খুলে এক নজর দেখতে পারছে না ব্যক্তিটা কে? শুধু মাথা ঝিমঝিম করছে। ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে। আরও চারটা থাপ্পর পড়ে বাম গালে। পর পর আটটা থাপ্পরের ওজন সহ্য করার মত শক্তি তার কোনো কালেই ছিলো না। পরিবর্তে আরেকটা থাপ্পর দিতেই এনি ছিটকে মেঝেতে গিয়ে পড়ে। এইবার আর পাষন্ড পুরুষটি ধরে নি। এনি মেঝেতে পড়েই আর্তনাদ করে উঠে। শক্ত মেঝেতে মনে হচ্ছিলো যেন হাড় ভেঙ্গে গিয়েছে। এনি নিশ্বাস ফেলতে পারছে না। ব্যাথায় গাল দুইটা হয়ত ফুলে উঠেছে। মাথা ঘুরছে, ফলে চোখ মেলে তাকাতে পারছে না। এর মধ্যেই কেউ একজন আবার ও তার চুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরে দাড়া করায়।

এরপর দেয়ালের সাথে শক্তভাবে চেপে ধরে গর্জন করে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা কলিজা কত বড় হয়েছে তর? ছলনা করিস আমার সাথে ! কার নাকে চুবানি দিতে চেয়েছিলি? শালী তুই জানতি না তকে ঠিক খুঁজে বের করব। শুয়রের বাচ্চা কথা বল বলছি! কথা বলছিস না কেনো? এই বিয়াদব কথা বল।
এনির শ্বাস আটকে আসছে। যে কোনো সময় হয়ত দমটা বন্ধ হয়ে যাবে। নিক আরও ক্ষুব্দভাবে এনির গলাটা চেপে ধরে আছে। নিকের প্রতিটা হুংকার মস্তিষ্কে গিয়ে আঘাত করছে। কিভাবে এসেছে এই লোক? এখন কি করবে? নাভিদ ভাইকে কি মেরে ফেলবে? ওহহ আল্লাহ আমার জন্য একজন নির্দোষ ব্যক্তির প্রান কেনো যাবে? এনি বহু কষ্টে কাঁপা গলায় বলে,

” আ.. আপনি এখানে?
এই শব্দটা যেন নিকের শরীরে আগুন ধরার মত বাক্য। রাগে – ক্ষোভে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে এক টানে এনির শরীরের কাপড়ের এক অংশ ছিঁড়ে ফেলে। সাথে সাথে এনি আৎকে উঠে। দুর্বল শরীরটা নিয়ে নিককে ধ্বাক্কা দিতে চায়। কিন্তু এক চুল ও সরাতে পারে নি। নিক হিংস্রতা নিয়ে ডান পাশের কাপড়টাও ছিঁড়ে ফেলে। নিকের নখের স্পর্শে এনির দুই বাহু থেকে তরল রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। এমন মনে হচ্ছে যেন হিংস্র পশু তার শরীরে আচর কাটছে। এনি শব্দ করে কেঁদে উঠে,
” ছাড়ুন বলছি আমাকে। অসভ্য ! লজ্জা করছে না আপনার একটা মেয়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলছেন। ফা** স্টে আওয়ে ফ্রম মি।”
নিক রক্তচক্ষু ন্যায় তাকায় এনির দিকে।।চোয়ালটা শক্ত করে চেপে ধর বলে,

” ইউ সন অফ আ বিচ, টক! আই ক্যান’ট কন্ট্রোল মাইসেলফ। সত্যি করে বল, কোথায় – কোথায় স্পর্শ করেছে তকে। ঠিক কোন – কোন জায়গায় তার হাতের ছোঁয়া তর শরীরে লেগেছে।
এনি ভয়ে শিউরে উঠে। এইটা কোনো মানূষ হতেই পারে না। মানুষের স্বভাব এতটা হিংস্র কিভবে হয়। এনি কিছু বলতে গিয়ে ও আটকে যায়। নিক এক টানে বাকি জামাটাও ছিঁড়ে ফেলে। বর্তমানে অন্তর্বাস ছাড়া এনির শরীরে আর কিছুই নেই। লজ্জায় আরষ্ঠ হয়ে দুই হাত দুই আকড়ে ধরতে চাইছে। কিন্তু পাষন্ড পুরুষটার জন্য সেটাও সম্ভব হলো না।
দুই হাত খাঁমছে ধরে দাঁত পিষে বলে,
” কথা বলছিস না কেনো? কোথায় – কোথায় স্পর্শ করেছে তকে।
এনি রাগে – চাপা আর্তনাদ করে উঠে,
” তাতে আপনার কি? আপনি নিজে’ই তো ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে শতবার স্পর্শ করেছেন। কলঙ্কিত তো আমি সেদিন এই হয়েছি। নতুন করে কিসের কালিমা লাগাব শরীরে।
নিক ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে এনির মুখের দিকে তাকায়। এনির চোখ নিভু নিভু হয়ে আসে। নিক এনির গাল চেপে ধরে বলে,

— বান্দির বাচ্চা, আমার স্পর্শ আর সবার স্পর্শ এক?
এনি এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে পেলো না। নরম গলায় বলে,
— পার্থক্য করছেন?
নিক ভ্রু কুচকে বলে,
” পর – পুরুষের স্পর্শ পেতে এত ভালো লাগে? এমন হলে তো সেদিন নিলাম কেন্দ্রেই ছেড়ে আসা উচিত ছিলো। কোন দুঃখে তর মত বিয়াদবকে এত টাকা দিয়ে কিনলাম। এই নিয়ে আফসোস হচ্ছে।
এনি টলমল চোখে তাকিয়ে বলে,
” এত আফসোস হচ্ছে? যখন আফসোস হচ্ছে তখন এইভাবে বন্ধী করে কেনো রাখেন? ছেড়ে দিলেই তো পারেন।
নিক প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় এনির চুলগুলো চেপে ধরে বলে,

” ছেড়ে যাওয়া শব্দটা উচ্চারন করা তর জন্য নিষিদ্ধ। একবার ছেড়ে দেয়, হাজারটা পুরুষের নজরে পড়বি। চিলের মত ছিঁরে ফেলবে তকে। তর ধারনা ও নেই তুই ঠিক কাদের নজরে পড়েছিস। অবশ্য এদের কাছে গেলেই ভালো হত। ঘন্টা – ঘন্টায় সুখ খুঁজে পেতি।
এনি নিকের বুকে ঘুষি মেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” মুখে আটকাচ্ছে না কিছু? তাদের কথা জানি না। কিন্তু আপনি কি কোনোদিক দিয়ে কম? আপনার মত কুকুরের মত ব্যবহার কেউ করে নি নিক জেভরান। আপনাকে ঘৃনা করি অনেক। ঘৃনিত পুরুষটার স্পর্শ যখন শরীরে লাগে তখন মনে হয় যেন কেউ শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
নিক হাতের বাঁধন আরও শক্ত করলো। দাঁত কটমট করে বলে,
” এতটা ঘৃনা কেনো করিস আমাকে?
এনি ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে,
” আপনি আমাকে আঘাত করেন। গালি দেন অনেক। খুব খারাপ আপনি।
নিক ঠোঁট চেপে রেখে বলে,

” আমার অবাধ্য হয়ে পালিয়ে কেনো আসলি?
— বদ্ধ রুমে আদও দিনের পর দিন থাকা যায় নিক জেভরান? আপনি নিজে থাকতে পারবেন?
নিক শব্দ করে পৈশাচিকভাবে হেসে উঠে। কি ভয়ানক সেই হাসির শব্দ। এনির শরীর শিরশির করে উঠে।।লোকটা অদ্ভুত – রকম সুন্দর। যে কোনো মেয়ে এক দেখাতে ভালোবেসে ফেলবে। এনিও হয়ত প্রতিটা মেয়ের মত ভালোবেসে ফেলত। কিন্ত এই লোকটাকে কি আদ’ও ভালোবাসা সম্ভব! এনির চোখ নিভু নিভু হয়ে আসে সামান্য হেলে পড়তেই নিক শক্ত গলায় বলে,
‘ আমার অতীত ঘাটতে এসো না। তবে জ্ঞান হারালে কলিজা টেনে নিয়ে আসব। ভুলেও জ্ঞান হারাবি না।
এনি আর কথা বলার মত অবস্থাতে নেই। চোখ দুইটা প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে। নিকের রাগের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওয়াশরুমের দরজা খুলে এনিকে ধ্বাক্কা মেরে বাথটপে ফেলে ফেলে দেয়। শক্ত বস্তুর সাথে ধাক্কা খেতেই শরীরটা ঝাঁকুনিয়ে দিয়ে উঠে। নিক এনির মাথাটা পানি ভর্তি বাথটপে চেপে ধরে দাঁত পিষে বলে,
” আমার আগলে রাখা দেখেছিস কিন্তু পষুত্ব দেখিস নি। প্রয়োজনে তকে মারব। এরপর নিজে মরব। এরপরও এই শরীরের এক অংশেও কেউ তাকাতে পারবে না।
বাথটপে মাথা চেপে ধরাতে এনি নিশ্বাস নিতে পারছে না। ছুটার জন্য ছটফট করতে থাকে। যখন নিশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাবে ঠিক তখন মাথাটা উপরে তুলে ধরে। চার সেকেন্ডের ভিতরে আবার ও চেপে ধরে। এইভাবে বিশবার এই অত্যাচার চলতে থাকে।।এনি জ্ঞান হারায় নি এখনও।। কিন্তু মস্তিষ্ক যেন মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে গিয়েছে। কান্না করে ফুঁপিয়ে বলে,

” খুব খারাপ আপনি। জানোয়ার! এত কিসের জ্বলা আপনার আমাকে নিয়ে? আজ দুর্বল বলে আঘাত করছেন?
নিক সামান্য তাকালো এনির দিকে।।মনের অজান্তেই বলে,
” যার স্বামী পুরো দেশ শাষন করে সে কিভাবে দুর্বল হয়? বলেছিলাম না, আমার কথায় বাধ্য হয়ে চল। দুনিয়ার সব সুখ পদতলে এনে রাখব।
এনির শরীরটা শিরশির করে উঠলো। তবে কেনো হলো জানা নেই। এনি অবাক হয়ে বলে,
” স্বামী! নিজের জেদ ছাড়া আমাকে বউ মানেন?
নিক কথাটা শুনল। কিন্ত কোনো উত্তর করলো না। গম্ভীর হয়ে এনির পুরো শরীরের দিকে তাকালো। অর্ধ নগ্ন মেয়েটাকে দেখে পুরুষ মন জাগ্রত হয়ে উঠে। আচমকা এনির ঠোঁট দুইটা তীব্রভাবে চেপে ধরে। এনি ব্যাথায় চোখ – খিঁচে ফেলে। নিক কানের নিচে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,
” তর শরীরের চমড়া পরিবর্তন না করা অব্দি আমি শান্ত হব না। ভিতরে তীব্র দহনে জ্বলছি।তর এই শরীরটা তো আমার। আমার নামে লেখা হয়ে গিয়েছে।।তাহলে পর – পুরুষের সামান্য স্পর্শ কেনো লাগবে তর শরীরে। আমাকে শান্ত কর বেবিগার্ল।।অশান্ত আমিটাকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আয় দ্রুত। নাহলে হাজারটা লাশ দেখবি চোখের সামনে। তর শরীরের চামড়া যদি খুলে ফেলি তাহলে কি কষ্ট পাবি?
এনির হৃদয়ের পানি শুকিয়ে আসছে। কি বলে যাচ্ছে এই সাইকো। আল্লাহ এমন কি পাপ করেছিলাম এমন এক চিতা বাঘের সাথে আমার সাক্ষাত করিয়েছিলে। ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। আর পারছি না লড়াই করতে। এনি চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে বলে,

” আপনার মত অমানুষ আমি একটাও দেখি নি। শরীরের চামড়া খুলে ফেললে কোনো মানুষ বাঁচবে?
নিক শান্ত চোখে তাকালো এনির দিকে। হঠাৎ টি-শার্টটা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলো মেঝের উপর। এনি সেদিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিকের আক্রমনের স্বীকার হয়। এনির ঠোঁট দুইটা পুনরায় নিজের ঠোঁটের ভাঁজে নিয়ে নেয়। এনি ছটফট করে নিককে ধ্বাক্কা দিতে থাকে। নিক প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় এক হাতে প্যান্টের ব্যাল্ট খুলে দ্রুততার সাথে হাত বেঁধে ফেলে। নিক ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে এনিকে এক ঝটকায় নিজের নিচে ফেলে দেয়। গালটা চেপে ধরে বলে,
” এই শরীরে একটা স্পর্শও যদি অন্যের থাকে তাহলে আমি শান্তিতে শ্বাস নিতে পারব না। আমার স্পর্শে সব আবার আগের মত সজীব হয়ে উঠবে।
এনি কান্না করে বলে,

” আমার শরীরে সেই ক্ষমতা নেই আজ। আই’ম টেলিং ইউ, স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মি। ইউ ডোন’ট টাচ মি নরমালি।”
নিক কিছুক্ষন চুপ থাকে। এনি পালিয়ে এসেছে কথাটা মনে হতেই আবার ও আগের রুপে ফিরে আসে। এনি কিছু বলতে যাবে আবার ও নিক একটা কাপড়ের সাহায্যে মুখটা বেঁধে ফেলে। অসহায় চোখে দেখে নিককে। জীবন কি তাহলে এইটাই? এই লোকটার সাথেই কি তাহলে সারাজীবন থাকতে হবে? এমন বর্বর, রক্তাক্ত জীবনে আমি টিকতে পারব না। এই লোক কখনো নরমাল হতে পারে না। আমার দেখে সর্বশ্রেষ্ঠ সাইকো।বাহির থেকে দরজা ধাক্কানো শব্দে এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। মন বলছে এখন তোমরা এসো না। আমি মরে যায় তবুও এই মুহূর্তে যাতে কেউ দরজা ভেঙ্গে না ডুকে। প্রায় বিশ মিনিট ধাক্কা- ধাক্কির পর শব্দ কমে যায়। আশ্চর্যের বিষয় কেউ দরজাটা ভাঙ্গে নি। কিন্তু কেনো কেউ আসে নি?
কিন্ত কেনো? এনি প্রতি বারের মত শক্ত দেহের নিচে পিষে যায়। নিককে সামলানোর মত ক্ষমতা কোনো কালেই তার ছিলো না। কিছুক্ষনের মধ্যে – জ্ঞান হারিয়ে পড়ে। এনির নিস্তেজ শরীরটা দেখে নিক থেমে যায়। বাঁকা হেসে এনির গলায় চিকন একটা চেইনের দিকে তাকায়। চেইনের নিম্নাংশে ঝলঝল করছে ছোট একটা রকেট। নিক এনির গালে স্লাইড করে হিসহিসিয়ে বলে,

” আস্ত একটা ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছে অথচ খবর নেই। পর – পরুষের স্পর্শ গায়ে লাগানোর শাস্তি মাত্র পেয়েছো। পালিয়ে আসার শাস্তি তো এখনও বাকি ব্লাড রোজ। জীবন্ত কবর তোমার জন্য বরাদ্দ করলাম।
নিক বাথটপ থেকে উঠে আসে। কোমড়ে টাওয়েল পেচিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকা হালকা ভেজা প্যান্ট আর গ্যাঞ্জি পরিধান করে ফেলে। ট্রায়াল রুম থেকে একটা জামা বের করে এনিকে পড়িয়ে দেয়। এরপর পাজা কোলে তুলে নিয়ে রুমে থেকে বেরিয়ে আসে। সিঁড়ি দিয়ে নেমে লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে যায়। নাভিদের বুকে ব্যান্ডেজ করা। নিকের কোলে এনিকে দেখে নাভিদের চোখ ভিঁজে আসে। পুরুষদের কাঁদতে নেই।নাভিদ অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,

” ক.. কি করেছিস নিক?
নিক বিরক্তি নিয়ে বলে,
” বললাম না এইসব বললে উত্তেজিত হয়ে পড়বি।
নাভিদ চোখ বন্ধ করে ফেলে। সে আগে থেকেই অনুমান করেছে। এমন কিছুই হয়েছে। তাই সরে এসেছে দরজা থেকে। নাহলে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ডুকার ও ক্ষমতা তার ছিলো।
নাভিদ এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
নিকের সরল উক্তি,
“স্বাভাবিক ”
নাভিদের চোখ দুইটা জ্বলে উঠে। আর সহ্য করতে পারছে না এইসব।
নিক বাংলো থেকে বেরিয়ে যাবে এমন সময় গার্ডরা পথ আটকায়। নিক ভ্রুঁ কুচকে তাকায়। দেখে পিছনে নাভিদ দাঁড়িয়ে আছে। নিক ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে গাড়ির ভিতরে এনিকে বসিয়ে দেয়। এনির মথাটা এক প্রকার হেলে পড়ে আছে। নিক নাভিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” এইটাকে আগে কবর দিয়ে আসি। এরপর তর সাথে ফাইট করছি।
নাভিদ তেরে এসে বলে,
” বলদ মনে হয় আমাকে?

— তুই তো বলদ এই। নতুন করে মনে করার কি আছে।
তুই বলদ না হলে আমার জিনিস ছিন্তাই করার সাহস পেতি নাকি। আর এমন একটাকে ছিন্তাই করেছিস যেটাকে দেখলেই আমার রাগ উঠে। এই আপদটাকে নিয়ে তুই কি করবি?
— এই আপদটাকে নিজের রানী করব।
নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। চোখের পলকে দক্ষ হাতে রিভলভার তাক করে বুলেট ছুড়ে মারে। প্রতিটা বুলেট গিয়ে লাগে গার্ডদের পায়ের নিচে। নাভিদ হতভম্ব হয়ে যায় হুট করে আক্রমনে। নিক গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে স্ট্রিয়ারিং এ হাত রাখে। হঠাৎ কাউচ ভেঙ্গে একটা বুলেট এনির দিকে চলে আসে। সাথে সাথে নিক হাত দিয়ে আটকে ফেলে। ফলে হাতের তালু ছিদ্র করে অন্য কাউচ ভেঙ্গে বের হয়। নিক ব্যাথায় নাক খিঁছে ফেলে। ভাঙ্গা কাউচ ভেদ করে বাহিরে দৃষ্টি রাখে। শান্ত চাহনীতে নাভিদের এসিস্টেন্টের দিকে তাকায়। বিরবির করে বলে,
” আই উইল সাক ইয়োর ব্লাড। ইয়োর টাইম ইজ আপ।
নাবিদের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি দেয়। নিকের গোপনীয় একটা কথায় নাবিদ থমকে যায়। এনিকে না পেলও হয়ত সে শান্তিতে মরতে পারবে। কিন্তু তার চোখের ঘৃনা সে সহ্য করতে পারবে না। এক ব্যার্থ প্রেমিক পুরুষ হিসেবে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের সামনে দিয়ে নিকের গাড়িটা দ্রুত গতিতে দৃষ্টিসীমা অতিক্রম করে। সাথে সাথে নাভিদ হাটু ভেঙ্গে বসে পড়ে। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে,
” আজ যার জন্য সব ত্যাগ করলাম আজ সে অন্যের ঘরে চলে যাচ্ছে। যদি ভালোবাসায় ব্যার্থতা লিখে রেখেছিলে তাহলে এতটা মায়ায় কেনো ফেলেছো। কেনো এই নারীকে ছাড়া আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। হয় ওকে আমার করে দাও নচেৎ আমার রুহটা ছিনিয়ে নাও। সব সহ্য করব কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে অন্যের সাথে দেখতে পারব না। প্রয়োজনে সেই পুরনো ভিকিতে পরিনত হব।
নাভিদের চোখ জ্বলে উঠে। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” জ..জেড!

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের এক নির্জন উপকণ্ঠে প্রভাতের নিস্তব্ধ আলো ফুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীর নিথর দেহ। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে দেহটি রাস্তার একপাশে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে ছিল
পুরো শরীর বিকৃতভাবে খুবলে নেওয়া হয়েছে। বডির একটা হাত নেই। দুইটা পা হাটু থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। কলিজাটা খুব বর্বরতার সাথে টেনে বের করা হয়েছে। কলিজা বের করার ফলে পেটের অনেকংশ দৃশ্যমান হয়ে আছে। মুখটা এতইটা বিকৃত যে চেনার উপাই নেই এইটা কার লাশ। রক্তে ভেসে গেছে পুরো মাটি। যেন মৃত্যুর নির্মমতা সেখানে নিজের সাক্ষর এঁকে রেখে গেছ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ দৃশ্য।যেখানে মুখাবয়ব বিকৃত হয়ে আছে। রক্তে লাল হয়ে গেছে মাটি। বাতাসে শীতল নিঃশব্দতার ভার। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গভীর রাতে। তবে অপরাধের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য এখনো অজানা।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন, আর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে “অমানবিক নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি” বলে আখ্যায়িত করেছে।
আফ্রিকা নিউজ নেটওয়ার্ক জানাচ্ছে।এই মর্মান্তিক ঘটনা সমগ্র অঞ্চলে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বাজানানহয়েছে।
আফ্রিকা গ্লোবাল নিউজ | স্পেশাল রিপোর্ট | উপস্থাপনায় — আমারা নকোসি
[স্ক্রিনে ভেসে উঠছে হেডলাইন]

“নির্জন রাস্তায় নারীর মরদেহ উদ্ধার।রহস্যে আচ্ছন্ন আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল”
অ্যাঙ্কর (স্টুডিও থেকে) বলে,
শুভ সন্ধ্যা। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনশূন্য সড়কপথ থেকে আজ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীর নিথর দেহ।
এই মুহূর্তে গোটা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও প্রশ্ন।কে এই নারী? কীভাবে এমন নির্মম পরিণতি?
ঘটনাটির বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি লিন্ডা মুসেকা ঘটনাস্থল থেকে বলেন,
রিপোর্টার (ঘটনাস্থল থেকে মাইক্রোফোন হাতে বাতাসের শব্দের ভেতর)
ধন্যবাদ, আমারা। আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি দক্ষিণ আফ্রিকার লুমুম্বা প্রদেশের উপকণ্ঠে
যেখানে ভোরের কুয়াশা সরে যাওয়ার পর পথচারীরা প্রথম দেখতে পান রক্তে ভেজা মাটি।আর তার মাঝখানে এক নারীর নিথর দেহ পড়ে আছে নিস্তব্ধ ও নিঃসঙ্গভাবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায় দৃশ্যটি ছিল যেন ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। দেহটির মুখাবয়ব আঘাতে এতটাই বিকৃত যে চেনার উপায় নেই।শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষতের চিহ্ন।যেন নিষ্ঠুরতার প্রতিটি আঘাত সময়ের গায়ে এক একটি দাগ কেটে গেছে।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এলাকা ঘিরে ফেলেছে। ফরেনসিক টিম প্রমাণ সংগ্রহ করছে প্রতিটি ইঞ্চি থেকে রক্তের দাগ, পদচিহ্ন, কিংবা বাতাসে ভাসা কোনো অচেনা গন্ধ যা হয়তো নির্দেশ করবে অপরাধীর ছায়ার দিকে।
এখানকার মানুষরা আতঙ্কিত। এই নির্জন পথটিতে সাধারণত কেউ আসে না রাতের পরে অথচ আজ সেই পথই যেন মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অ্যাঙ্কর (স্টুডিওতে ফিরে):
ধন্যবাদ।লিন্ডা। সত্যিই এক শিহরণ জাগানো বর্ণনা।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায় নি।
কয়েকদিন পর পর এইভাবে খুনের তদন্ত চলতে থাকে। কিন্তু কোনো পুলিশ, প্রাসাশন আসল কালপ্রিটকে ধরতে পারছে না।

অধিরাজ একবার বাগান বাড়ি যাচ্ছে আরেকবার মেনশনে ফিরে আসছে। সন্ধ্যা নেমে আসছে এখনও নিকের আসার খবর নেই। আরিশ কপাল ঘেষে বসে আছে একটা চেয়ারে। চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। কোথায় গিয়েছে কোনো ইয়াত্তা নেই। ফোন বাড়িতে রেখে গিয়েছে। আরিশকে অধৈর্য হতে দেখে অধিরাজ প্রশ্ন করে বলে,
” আপনি বসের জন্য চিন্তা করছেন স্যার?
আরিশ চোখ তুলে তাকায়,
” তর সেটা মনে হচ্ছে?
— ঠিক ধরতে পারি নি।
আরিশ গম্ভীর হয়ে বলে,
” নিকের জন্য টেনশন করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। আমি ভয়ে আছি এনিকে নিয়ে। এনিকে খুঁজে পেলে নিক ঠিক করবে। নিক রাগ সামলাতে পারে না। ঠান্ডা মাথায় বিরাট বড় আঘাত করে বসবে।
অধিরাজ শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” এমন মায়াবী চেহারার মেয়েকে বস আঘাত করে কিভাবে? সামান্য দৃষ্টিতে যে কারোর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়।
আরিশ ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” অকালে জীবন হারাতে চাস? কার বউকে নিয়ে প্রশংসা করছে আইডিয়া আছে? শুনতে পেলে ডাইরেক্ট কন্ঠনালী চেপে ধরবে।
অধিরাজ সিটিয়ে যায়। হুট করে ফোনটা বেজে উঠে। প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে ফোনটা একাধারে বেজে চলছে বার বার। তানভী-র উপর অধিরাজ বিরক্ত হয়ে উঠে। টেনশনে মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে তার উপর এই ফোনের জ্বালা। যখন ফোনটা সে রিসিভ করছে না তখন ভাবা উচিত ছিলো কোনো কাজে বিজি। সুইচ ও অফ করতে পারছে না। অনেক জরুরি কল আসে এই ফোনে। এই নাম্বারটা দেওয়া ভুল হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এখন।
ফোনের আওয়াজে আরিশ ভ্রুঁ কুচকে তাকিয়ে বলে,
” ফোন ধরছিস না কেনো?
অধিরাজ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপাযত কথা বলার মত মানসিকতা নেই।

— কে ফোন দিয়েছে? তানভী?
অধিরাজ অবাক হয়ে তাকায় আরিশের দিকে। স্যার জানলো কিভাবে এই কাহিনী।
— কিভাবে জানলেন? কাউকে তো জানায় নি আমি।
— এর শাস্তি তুই পাবি। না জানিয়ে প্রেম করার শাস্তি তুই লম্বা আকারে পাবি। আপাযত ফোনটা ধর। ফোনের শব্দ বিরক্ত লাগছে।
আরিশের বিরক্তি মাখা মুখ দেখে অধিরাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে। এক পাশে সরে এসে ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই নাক টানার শব্দ আসে। অধিরাজ ভেবেছিলো অনেক শক্ত করে একটা ধমক দিবে। কিন্তু কান্নার আওয়াজে সব রাগ পানি হয়ে গিয়েছে।
অধিরাজ রাগ না করলেও শক্ত গলায় বলে,

” স্টপ ক্রাইং! এইভাবে ফেঁচ – ফেঁচ করে কান্নার কি আছে? মরে গিয়েছি আমি। যখন ফোন ধরছি না তখন তো ভাবা উচিত ছিলো কোনো কাজে হয়ত আছি। এইভাবে বাচ্চামো করার মানে কি?
ওপাশ থেকে কোনো শব্দ আসলো। শুধু কান্নার শব্দ আসছে। অধিরাজ এইবার ধৈর্য হারায়। নরম সুরে বলে,
” কি হয়েছে জান? কাঁদছিস কেনো?
ওপাশ থেকে তানভীর এক লাইনের ভাঙ্গা গলা ভেসে আসে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৭

” বেঁচে থাকতে আর কোনোদিন কল দিব না আপনাকে। ডিস্ট্রাব করার জন্য সরি।
অধিরাজের ভিতরটা মুচর দিয়ে উঠে।ঠাস করে ফোনটা কেটে দেয়। ফোন কাটার শব্দে কান থেকে ফোনটা নামিয়ে বিরবির করে উঠে,
” কান্নার সময় ধমক দেওয়া একদম উচিত হয় নি। এখন এই রাগ ভাঙ্গাতে অনেক যুদ্ধ করতে হবে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৯