Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৩

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৩
লিজা মনি

নিক যেন শান্তি পেলো। এনির ঠোঁটে শক্তভাবে চুমু খেয়ে সোজা হয়ে বসে। অতিরিক্ত ড্রাগস নেওয়ার ফলে এখন সে নিজের মধ্যে নেই। আচমকা কিছুর শব্দ নিক কপাল কুচকে ফেলে। দুর থেকে দেখা যাচ্ছে কোনো একটা আলো। একদম এনির মাথা বরাবর আলোটা এসে ঠেকেছে। নেশায় চেপে থাকা মাথাটা যেন সচল হয়ে উঠতে চাইছে। সময় ব্যয় না করে বাম হাতের সাহায্যে এনিকে ধ্বাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেকেন্ডের ব্যবধানে এক বিকট শব্দে চারপাশ স্তব্দ হয়ে যায়। এনি মাঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় দুই কান চেপে ধরে। রক্ত গিয়ে ছিটকে পড়ে তার চোখ -মুখে। মুখে ভেজা কিছু অনুভব করতেই হাত দিয়ে স্পর্শ করে। হাতে পায়ে লাল রক্ত দেখে নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে। কাঁপা-কাঁপা দৃষ্টিতে সামনে তাকাতেই দু কদম পিছিয়ে যায়। আতঙ্কে জমে উঠে তার শরীর। কান্না করতেও সে ভুলে গিয়েছে। গ্যাংস্টার বসের কালো শার্টের উপর দিয়ে রক্ত ভেসে উঠছে ধীরে ধীরে। নিক হাত দিয়ে বক্ষ চেপে ধরে রেখেছে। তার পূর্ন দৃষ্টি বাহিরের প্রাঙ্গনে। ঈগল পাখির ন্যায় তীক্ষ্ম চোখ দুইটা শিকারির সন্ধান করছে। পুরো মুখ লাল হয়ে আছে। ধূসর চোখ দুইটা ভয়ংকরকম ক্রোদ্ধ হয়ে আছে। এনি ফ্লোরে পড়ে থাকা অবস্থায় আতঙ্ক নিয়ে নিকের দিকে তাকিয়ে আছে। মাথা ঘুরে আসছে তার রক্ত দেখে।

ঘরের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া অস্থির নড়াচড়াটা যেন সময়ের বুকে এক প্রচণ্ড ধাক্কার মতো আঘাত হেনেছে। গ্যাংস্টার বস যিনি এতক্ষণ পর্যন্ত অটল পাথরের মত দাঁড়িয়ে ছিলেন সময়ের ব্যবধানে সামান্য হেলে পড়ে। এনি মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। তার চোখ দুই পা পিছিয়ে যেতে যেতে অবিশ্বাসে বিস্তৃত হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে কোনো শীতল স্রোত হঠাৎ তার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেছে। সে মুখে হাত হাত চেপে ধরে রেখেছে ভয়ে। কিন্তু সেই হাতের আঙুলগুলোই মনে হচ্ছে তাকে বিশ্বাসঘাতকতার মতো কাঁপিয়ে দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে । এনির নিঃশ্বাস আটকে
আসছে। এনি ভুলে যায় নিজের অবস্থান। ভুলে যায় সামনে থাকা ব্যক্তিটা কে? অস্থির হয়ে উঠে তার ব্যাথা নিবারনের জন্য। মনে হচ্ছে গুলিটা তার বুকে এসে লেগেছে। কেউ তাকে গুলিবিদ্ধ করেছে। একটা গুলিতে থেমে নেই। উপর থেকে কেউ অসংখ্যা গুলি ছুঁড়ছে। নিক যথাসম্ভব প্রতিঘাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একটা বুলেট এসে একদম বাম হাতের ফুলে উঠা মাংশ -পেশি ভেদ করে বের হয়ে যায়। গুলির শব্দে এনি কান চেপে ধরে আছে। এক কোণে আতঙ্কে জমে উঠেছে সে। নিকের দুই হাত থেকে প্রয়োজনের বেশি ব্লিডিং হচ্ছে। গায়ে থাকা শার্টটা ছিঁড়ে গিয়েছে। রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে সাদা মার্বেল টাইলসের উপর। এমন মৃত্যুর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে ও লোকটা কেমন শক্ত ভাবে সামলাচ্ছে সব কিছু। নিকের অবস্থা দেখে চিৎকার উঠে,

” আপনার হাত! প্লিজ রুমে যান। শুনছেন? প্রতিঘাত পরে করবেন। এখন রুমে যান প্লিজ। ব্লিডিং হচ্ছে। আঘাতের সম্মুখীন হচ্ছেন। শুনুন -না?
এনি ভয়ে একাধারে চিৎকার করেই যাচ্ছে। কিন্তু আদ’ও কি গ্যাংস্টার বস শুনার মত ব্যক্তি? প্রয়োজনে পুরো শরীর ঝাঝড়া হয়ে যাবে এরপরও যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়ার মত ব্যক্তি সে নয়। এনি আর অপেক্ষা করতে পারে নি। রক্ত দেখে তার মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে উঠেছে। মেঝে থেকে উঠে অস্থির হয়ে নিকের কাছে আসতে যাবে এমন সময় আবার ও থেমে যায়। নিকের কর্কশ ধমকে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়।
“স্টে এক্‌জ্যাক্টলি হুইয়ার ইউ আর। অ্যান্ড ডোন্ট ইউ ডেয়ার রেইজ ইয়োর হেড। ভুলেও মাথা উপরে ও তুলবে না। এখানে আসলে থাপরিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিব।
নিকের এমন ধমকে এনি চোখের পাতা নাড়া-চড়া শুরু করে। বার বার চোখ যাচ্ছে রক্তাক্ত বুকের দিকে। মেঝেতে বসা অবস্থায় আঙ্গুল তাক করে নিকের বুকের দিকে। কাঁপা গলায় বলে,

” আ.. আপনার বুক থেকে ব্লিডিং হচ্ছে।
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” তো? তোমার কি? আমার বুক থেকে ব্লিডিং হচ্ছে আমার সমস্যা। তোমাকে কাঁদতে বলেছি আমি?
এনি দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে বলে,
” না।
” তাহলে কাঁদছো কেনো?
এনি কান্নার জন্য কথা বলতে পারছে না। কোনোরকম শ্বাস নিয়ে বলে,
” প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। কিছু একটা হয়ে যাবে। প্লিজ রুমে চলে যান।
নিক উদ্ভুতভাবে তাকালো এনির দিকে। এনির চোখ নিচু করে রাখা। হেচকির ফলে শরীরটা মৃদু কেঁপে উঠছে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির হাতের দিকে তাকায়। দুই হাত কেমন অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছে। অদ্ভুত এক শব্দে নিক আকাশের দিকে তাকায়। আবছা পূর্নিমার চাঁদের আলোতে কালো একটা হেলিকপ্টার দৃশ্যমান হয়ে উঠে। নিক ভ্রুঁ ভাঁজ করে সেদিকে তাকায়। সাথে সাথে আবার ও চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। গ্যাংস্টার বসের রাগ এমনভাবে তার মুখের ওপর ছায়া বিস্তার করছে যেন প্রতিটি অনুভূতি একে অপরকে চূর্ণ করে আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছে। নিকের চোখ দুটো অস্বাভাবিক স্থিরতায় সংকুচিত হয়ে আসে। দৃষ্টির অস্বাভাবিকভাবে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠে। চোখের মণি দুটো অদ্ভুতভাবে গাঢ়। নীরব অগ্নিদাহ ভিতর থেকে উঠে এসে পাপড়ির কিনারা পর্যন্ত জমাট বাধিয়েছে।
চোয়ালের হাড়ের রেখাগুলো এতটাই শক্ত হয়ে উঠে। মনে হচ্ছে ভেতরের রাগ সেই জায়গাগুলোকে পাথর বানিয়ে ফেলেছে। গালের পাশের পেশিগুলো ধীর ও স্পন্দিত কম্পনে নড়ছিল । ঠোঁটের কোণ দুটো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে আঁটসাঁট হয়ে উঠেছে।

নিকের কাঁধ সামান্য উঁচু। বাহুর মাংসপেশি কড়া দড়ির মতো শক্ত হয়ে উঠেছে। বুকের ওপর ভর করা নিঃশ্বাস এমনভাবে ওঠানামা করছিল যেন কোনো অদৃশ্য ঝড়কে সে নিজের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। দাঁড়ানোর ধরনটাও অদ্ভুত রকম কঠোর। এক পা সামান্য সামনে যেন যেকোনো মুহূর্তে সামনে এগিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়ে আছে। তার পুরো শরীরই যেন এক অস্থির বৈদ্যুতিক উত্তেজনায় আটকে গেছে।যে উত্তেজনায় আছে দমন করা ক্রোধের অন্ধকার ছায়া।শব্দ চারপাশের পরিবেশেই ছড়িয়ে গেছে।
নিক চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টেনে। হাতে থাকা ব্রেসলেট-টার উপর তাকিয়ে বাঁকা হাসে। এরপর বৃদ্ধা আঙ্গুলে টাচ করতেই লাল বাতি জ্বলে উঠে। সাথে এক লাইনের কিছু একটা ভাষা উচ্চারিত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শুনা যায় মিনারের চার-পাশে তীব্র গুলাগুলির শব্দ। নিক রহস্যময়ভাবে হেসে ডিভানে ধপ করে বসে পড়ে। একদম নরম কন্ঠে এনিকে আদেশ করে,

” রুমে যাও।
এনি শুনেনি নিকের কথা। কান চেপে ধরে কেমন ঘাপটি মেরে বসে আছে। এনির রেসপন্স না পেয়ে নিক সোজা হয়ে বসে। এরপর সেদিকে কপাল কুচকে তাকায়। এনিকে এমন অস্বাভাবিকভাবে বসতে দেখে পুনরায় কর্কশ মেজাজে বলে,
” রুমে যেতে বলেছি আমি তোমাকে।
নিকের ধমকে এনির টনক নড়ে উঠে। চোখে পানি টুইটুম্বুর। নিকের দিকে তাকিয়ে অধৈর্য হয়ে উঠে মন। বসা থেকে উঠে দ্রুত তার কাছে চলে যায়। রক্তাক্ত নিককে দেখে অস্থির হয়ে উঠে,
” আল্লাহ! কি করব এখন আমি। পুরো শরীর থেকে ব্লিডিং হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে না আপনার?
” তোমার ঘৃনার দৃষ্টি থেকে কম কষ্টকর গুলিবিদ্ধ হওয়া।
এনি চোখ তুলে তাকায়। নিকের চোখে চোখ রেখে বলে,
” বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে এইসব বলছেন কিভাবে? জীবন -মৃত্যুর লড়াই চলছে। বুকের মধ্যে বুলেট গেঁথেছে। ধারনা করতে পারছেন?

” কষ্ট হচ্ছে?
” কার?
” তোমার?
” আমার কষ্ট হবে কেনো?
” তাহলে কাঁদছো কেনো?
এনি নিকের ক্ষতস্থানে শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” আপনার জায়গায় যে কেউ থাকলে এমন রিয়্যাক্ট করতাম। নিজেকে বেশি যোগ্যতম ভাবার দরকার নেই।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে এনির কোমড়টা চেপে ধরে। এনি হকচকিয়ে উঠে এমন ব্যাবহারে। ছটফট শুরু করে ছুটার জন্য। কিন্ত পুরুষনালী শক্তির সাথে পেরে উঠে নি। নিক এনিকে নিজের উড়ুর উপর বসিয়ে ঘাড়ে মুখ গুঁজে দেয়। এনি আশ্চর্য হয় নিকের এমন ব্যবহারে। পুরো শরীরে বুলেটের আঘাতে ঝাঝরা হয়ে গিয়েছে। রক্ত ঝড়ছে। আর এই লোক এমন লুচ্চামির মুডে আছে। নিক এনির চুলগুলো সরিয়ে উন্মুক্ত পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। এনি শক্তভাবে নিজের জামাটা খামছে ধরে। নিক ধীরে ধীরে জামার চেইন খুলে ফেলে। কাধের এক অংশ নামিয়ে চুমুর পরিবর্তে দাঁত বসিয়ে দেয়। এনি চোখ -মুখ কুচকে ফেলে। ব্যাথায় চোখ দিয়ে পুনরায় অশ্রু ঝড়তে থাকে। নিকের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যুদ্ধ শুরু করে দেয়। নিক পেট উন্মুক্ত করে নিজের সাথে আরও ভালোভাবে চেপে ধরে। পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলে,

” শান্ত হয়ে থাকো জান। কোলে বসাতেই কিছু একটা ছটফট করছে।
নিকের লাগামহীন কথায় এনি নাক-মুখ খিঁচে ফেলে। চোয়াল শক্ত করে বলে,
” নির্লজ্জ লোক। ছাড়ুন আমাকে। অশ্লীল ইঙ্গিত দিতে লজ্জা করে না?
” কি ভেবেছো তুমি? আমি তো হার্টবিট ছটফট করার কথা বলেছি। আর ইউ, ইন সাম ওয়ে, হিন্টিং অ্যাট মাই পাওয়ারফুল ফিউচার, ইউ ড্যাম বেবিগার্ল?”
এনি উত্তর দিলো না। ছুটার জন্য ছটফট করে বলে,
” ব্লিডিং হচ্ছে শরীর থেকে। ডক্টর ডাকতে হবে। আর আপনি রোমান্সের মুডে আছেন? নির্লজ্জ চিতাবাঘ। মৃত্যুর ঘন্টা বাজছে।পাপ তো জীবনে কম করেন নি। কালিমা উচ্চারন করুন।
নিক শুনেও শুনলো না। নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এনি শান্ত হয়ে আসে,
” আপনি তো মাতাল ছিলেন। এখন এত সুস্থ আচরন কিভাবে করছেন? মুহূর্তের ভিতরে সজ্ঞানে কিভাবে আসলেন?
নিক এনিকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরায়। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রেখে বলে,

” সেটা তোমার না জানলেও চলবে।
এনি কিছু একটা বলতে গিয়ে আবারও থেমে যায়। দুইজনের কাঁশির শব্দে চোখ বড় বড় করে ফেলে। নিক বিরক্ত নিয়ে দরজার কাছে তাকায়। চোখ দুইটা তার নিভু নিভু হয়ে আসছে। অথচ এমন ভাবে বসে আছে যেন কিছুই হয় নি। অধিরাজ আরিশের উদ্দেশ্যে বলে,
” বস অসময়ে বাসর ঘরে ডুকে গিয়েছি। মামা হওয়ার সংবাদ পেলে মিষ্টি নিয়ে এসে দেখে যাব। চলুন আপাযত আমরা নিজেদের বাড়ি ফিরে যায়।
এনি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে।নিক ডান হাতের সাহায্যে জামার চাইন লাগিয়ে দেয়। এনি চোখের পাতা ঝাঁপ্টায়। নিক এনির ঠোঁটে শক্ত করে চুমু খেয়ে আরিশ তাদের উদ্দেশ্যে বলে,
” পিছনে ঘুর।

আরিশ এখনও ভালোভাবে তাকায় নি নিকের দিকে। রক্তাক্ত নিকের শরীরটা তার চোখের সামনে এখানো ভেসে উঠে নি। ডিভানের উপরের অংশে জন্য অর্ধেক দেখা যাচ্ছে যাস্ট। একবার যদি রক্তাক্ত নিককে দেখতে পেত তাহলে হয়ত এতক্ষণে সব কিছু তোয়াক্কা করে অধৈর্য হয়ে ছুটে আসত। নিকের হাতে রাখা ব্রেসলেটটার মত একই রকম ব্রেসলেট সাত জনের হাতে আছে। আরিশ, অধিরাজ, টর্চার সেলের দুইজন গার্ড বাকি দুইটা সব থেকে বিশ্বস্ত গার্ডদের হাতে। যখন কোনো এক জায়গায় বিপদের সংকেত আসে তখন সামান্য স্পর্শে সবার কাছে সংবাদ পৌঁছে যায়। যেমন এখন সবাই একত্রে লড়াই করেছে। হেলিকপ্টার অনেক আগেই চলে গিয়েছে। তবে সেই হেলিকপ্টারের পিছনে গার্ডরাও হেলিকপ্টার নিয়ে পিছু নিয়েছে। আরিশ আর অধিরাজ সেখান থেকেই ছুটে আসলো নিকের কাছে। আরিশ পিছনে ঘুড়ার জন্য প্রস্তুতি নিবে তার আগেই এনি ভাঙ্গা গলায় বলে,
” ভাইয়ারা ওনার ব্লিডিং হচ্ছে শরীর থেকে। বুকে -হাতে গুলি লেগেছে।
এনির কথায় আরিশ নিকের দিকে তাকায়। নিকের নিভু-নিভু আখি পল্লব দেখে অধর্য হয়ে ছুটে আসে। নিক এনির মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে শক্ত গলায় বলে,

” একদম মাথা তুলবে না।
এরপর আরিশ -অধিরাজের দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” চোখ বন্ধ কর দ্রুত।
আরিশ অবাক হয়ে যায়। এতটা পজেসিভ হওয়া কি আদ’ও প্রয়োজন! আরিশ ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” ভাই দেখ, তাকাচ্ছিনা তর বউয়ের দিকে। প্লিজ শান্ত হ। এনিকে ছাড়। দ্রুত হসপিটালে নিতে হবে।
নিক চোয়াল আরও শক্ত করে বলে,
” চোখ বন্ধ করতে বলেছি তদের।
নিকের রাগান্বিত ধমকে আরিশ আর অধিরাজ অপারক হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিক নিজের রক্তাক্ত শার্টটা খুলে এনির শরীরে জড়িয়ে দেয়। এরপর ইশারা দিয়ে বলে,
” শরীরে উড়না জড়িয়ে নাও ফার্স্ট।
নিকের ধমকে এনি আর দেরী করলো না। রক্তাক্ত শার্ট সহ মেঝে থেকে উড়না তুলে মাথা ঢেকে নেয়। নিক স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে ঠোঁট চেপে রেখে আদেশ করে,

” রুমে যাও।
এনি দুই পা এগিয়ে এসে বলে,
” প্লিজ। আজ অন্তত এমন করবেন না।
নিক এনির শরীরে রক্তাক্ত শার্ট দেখে অদ্ভুত হেসে বলে,
” এইটাই তোমার আসল পরিচয় আনাস্তাসিয়া এনি। একজন গ্যাংস্টার বস, খুনী, জানোয়ারের শ্যয্যাসঙ্গী তুমি। এই রক্তাক্ত শার্ট তোমার পরিচয়ের সিলমোহর। আমি একা রক্তাক্ত হয় নি। বাহ্যিকভাবে তুমি ও রক্তাক্ত হয়েছো।
এনি বুঝলো না নিকের কথার মানে। আরিশ আর অপেক্ষা করলো না। পিছনে ঘোরে একদম নিকের কাছে আসে। এনির দিকে তাকাতে গিয়েও আর তাকানোর সাহস পায় নি। আরিশ অধিরাজের দিকে ইশারা বলে,
” গাড়ি বের কর দ্রুত।
অধিরাজ সময়ের ব্যবধানে এখান থেকে চলে যায়। নিক কপাল কুচকে বলে,

” অনুমতি ছাড়া রুমে ডুকেছিস কেনো?
আরিশ নিকের হাত একটা শক্ত কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে বলে,
” ভেবেছিলাম আ্যাটাকের স্বীকার হয়েছিস। প্রয়োজন ছাড়া তুই সংকেত পাঠাস না। আজ যেহেতু দিয়েছিস কারন নিশ্চই আছে। গার্ড জানালো তুই রুমে। তাই সব কিছু বিসর্জন দিয়ে ছুটে চলে আসলাম। কিন্ত কে জানত অর্ধ মৃত অবস্থায় যে বউয়ের সাথে রোমান্স করে দিবি। তুই করেছিস বলেই আমরা দেখেছি।
নিক বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে বলে,
” কিসব বাঁধছিস এইসব? বা**ল সরা এইগুলো।
আরিশ হাত আটকে বলে,
” আজ অন্তন্ত হসপিটালে চল ভাই। তর কিছু হয়ে গেলে এনি একা হয়ে যাবে। কে বাঁচাবে মেয়েটাকে? চার-পাশ দিয়ে শকুনেরা ঘিরে ফেলবে।
নিক বড় বড় নিশ্বাস ফেলে বলে,

” আমার কিছু হয়ে গেলে এই মেয়ে ও বেঁচে থাকবে ভাবলি কিভাবে? ওকে না মেরে আমি মরব নাকি আশ্চর্য! প্রয়োজনে খুন করে নিজের সাথে দাফন করাব এরপও অন্য পুরুষের দৃষ্টি পড়তে দিব না। তর ও না।
আরিশের চোয়াল ঝুলে আসে। নিকের হাত শক্ত করে ধরে বলে,
” গড প্রমিস ভাই। তর বউ আমার মা সমতুল্য। এরপর ও আমাকে নিয়ে সন্দেহ করিস না। প্রয়োজন দিন -রাত ওকে মা ডাকব। এরপরও আমাকে রেহাই দে ভাই। আর সহ্য করতে পারছি না এই অপবাদ। ওইদিন তাকানোটা ভুল হয়েছিলো। আর সেই ভুলে একটু পছন্দ করে ফেলেছিলাম। এইটার শাস্থি তুই কম দিস নি। দশ দিন চোখে কালো কাপড় বেঁধে অন্ধকার রুমে ফেলে রেখেছিলি। বাহিরের আলো দেখতে দিস নি। সব মাথা পেতে নিয়েছি। এইবার অন্তত মাফ কর।
নিক বিরক্ত হয়ে উঠে আরিশের কথা শুনে। এনি চোখে -মুখে কাপড় দিয়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে কিছু বলতে ও পারছে না। আর তাদের কোনো কথা সে শুনতে পাচ্ছে না। রক্তে সে নিজেও মাখা-মাখি। চোখ দুইটা পানিতে ভড়ে উঠছে বার বার। ঠোঁট চেপে কান্না আটকে রেখেছে। নিকের শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। হাত -পা ছেড়ে দেয় ডিভানের উপর। কোনোমতে আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,

” কথা দে.. আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে এই মেয়ের নিশ্বাস বন্ধ করে ফেলবি।
আরিশ নিককে দুই হাতের সাহায্যে ধরে অধৈর্য হয়ে উঠে,
” নিক!
নিক শক্ত গলায় বলে,
” শালা কথা দে আগে। নয়ত আমি হসপিটালে যাব না।
আরিশ বাধ্য হয়ে বলে,
” ওকে মেরে দিব। বাঁচতে দিব না তাকে। শান্ত হয়েছিস? এইবার অন্তত শান্ত হ।
কিন্তু নিক আরও অশান্ত হয়ে উঠে। বড় বড় নিশ্বাস টেনে এনির দিকে তাকায়। নিকের এই দুর্বল অথচ শক্ত দৃষ্টি এনির ভিতরটা কেঁপে উঠে। এতটা ছটফট করছে কেনো তার হৃদয়? এই ব্যক্তিটাকে সে ঘৃনা করে। ওর কিছু হয়ে গেলেই তো ভালো। সে আজীবনের জন্য মুক্তি পেয়ে যাবে। আবার ও পালাতে পারবে সে। এমন এক জায়গায় যাবে যাতে বাকি নরপশুরাও নাগালে না পায়। কিন্ত ভেতরটা কেনো অস্থির হয়ে উঠছে?

সকালের প্রারম্ভিক নীরবতায় যখন দিগন্তের গোপন ভাঁজগুলি সূর্যের অতি সূক্ষ্ম আলোকরেখায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে তখন পরিবেশ এক অনির্বচনীয় প্রশান্তির ভারে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সদ্যোজাত আলোর মৃদু বিস্তার। ঘুমঘোর পাতার উপর ঝরে থাকা শিশিরবিন্দুকে এমনভাবে দীপ্তিময় করে তোলে যেন প্রকৃতি নিজেই অদৃশ্য কোন রহস্যময় আচ্ছাদনে আবদ্ধ। বাতাসের ক্ষীণশীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে। নিস্তরঙ্গ বৃক্ষশাখার মধ্য দিয়ে সঞ্চরণ করে এক নিঃশব্দ কম্পন সৃষ্টি করে যা পরিবেশকে যেন অদৃশ্য মুগ্ধতার গভীরতায় নিমজ্জিত করে। দূরবর্তী পাখিদের স্বর। অশান্তিহীন আবহে ছড়িয়ে পড়ে এমন নিখুঁত সুরে যেন প্রকৃতি তার নিজস্ব প্রারম্ভিক সংগীত রচনা করছে। এই সমগ্র দৃশ্যপটে এমন এক অনিবার্য স্নিগ্ধতা বিদ্যমান থাকে যা রাতের গাঢ় স্তর ভেদ করে মানুষের অন্তর্লোককে ধীরে ধীরে আলোকিত করার ক্ষমতা রাখে। এই শান্ত পরিবেশে ও সব কিছু কেমন অশান্ত হয়ে আছে। মেহের এদিক -সেদিক পায়চারী করছে। একবার তানভী- আরকেবার দাদামশাইয়ের কাছে যাচ্ছে। ভোর থেকে মেয়েটা কান্না করে যাচ্ছে। চোখ -মুখ ফুলে উঠেছে অতিরিক্ত কান্নার ফলে। দাদামশাই শক্ত হয়ে বসে আছে ডিভানে। তানভী- অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে মেহেরের দিকে। মেহের হেচকি তুলে বলে ,

” ও আপু দাদামশাইকে বলো না, আমাকে নিককে পলক দেখার সুযোগ করে দিতে। হসপিটালে যেহেতু নিয়েছে তার মানে গভীর কিছু হয়েছে। ওর গভীর ক্ষত হলেও কেউ সামান্য মেডিসিন লাগিয়ে দিতে পারে না। তাহলে আজ সোজা হসপিটালে কেনো নিয়েছে? নিশ্চই খারাপ কিছু হয়েছে। আমি ওর কাছে যেতে চাই। এক পলক দেখে তৃষ্ণার্ত হৃদয়টাকে শান্ত করতে চায়। আমি মরে যাচ্ছি আপু। কষ্ট হচ্ছে খুব।
মেহেরের কান্নার গতি আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তানভী-র কাছ থেকে সরে গিয়ে দাদামশাইয়ের কাছে চলে যায়। ধপ করে মেঝেতে বসে পা দুইটা আকড়ে ধরে। কান্নার কারনে কথা বলতে পারছে না। হেচকি তুলতে তুলতে বলে,
” ও দাদু একটিবার দেখতে দাও না আমাকে। আমার হৃদয়টা ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। আমার নিক কষ্ট পাচ্ছে দাদু। আমি মেহের কিভাবে শান্তিতে বসে থাকি। তোমরা -তো সবাই জানো আমি ওনাকে কতটা ভালোবাসি। ওনার কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচব না। পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকব শেষ পর্যন্ত গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানকে হৃদয়ের দখলদারী করে রাখব। উনি যতদিন আছে আমি ও ঠিক ততদিন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না দাদু। দেখতে চাই। খুব কষ্ট পাচ্ছে ও।
মেহের হাঁপিয়ে উঠে। কান্নার কারনে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। এতটা অস্থির হয়ে উঠেছে যে কথা বলতে পারছে না। তান-ভী নিজেও কান্না করে যাচ্ছে একাধারে। দাদামশাই গম্ভীর হয়ে মেহেরের বাহু ধরে দাড় করায়। এরপর নিজের পাশে বসায়। মেহের ঠোঁট ভেঙ্গে বলে,

” ও দাদু, যেতে দাও না আমাকে।
দাদামশাই গম্ভীর নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” নিক কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না। কোথায় নিয়ে যাব তকে?
মেহের যেন আশার আলো খুঁজে পেলো। চোখের পানি মুছে কোনোমতে বলে,
” আমাকে মিনারে যেতে দাও। ঠিক খুঁজে বের করে ফেলব।
দাদামশাই শান্ত কন্ঠে বলে,
” চারপাশে শত্রুদের প্রকোপ। তকে একা ছেড়ে দিলে বিপদের সম্মুখীন হবি । আরিশ জানলে রেগে যাবে।
” তান-ভী আপু আর গার্ডদের সাথে নিয়ে যাব। আর ভাইয়াকে আমি সামলে নিব। ভাইয়া তো আমার অবস্থা বুঝবে দাদু। শুধু তুমি সব কিছুর ব্যবস্থা করে দাও।
” কোথায় যাবে তুমি?
” মিনারে যাব। নিক তো বেশিরভাগ ওইখানেই থাকে। হয়ত এখান থেকে কোনো খোঁজ পেয়ে যাব।
দাদামশাই গম্ভীর হয়ে সম্মতি জানালেন। মেহের খুশিতে আরও কান্না করে উঠে।

এনি এখনও বারান্দায় বসে আছে। রক্তাক্ত শরীর। স্তব্দ হয়ে বসে আছে শার্টটা নিয়ে। পুরো মিনারে আরও বেশি করে সিকিউরিটি দিয়ে গিয়েছে। রুম থেকেও বের হতে পারছে না সে। রাত থেকে স্তব্দ হয়ে বারান্দায় বসে আছে। নিকের রক্তাক্ত শার্ট-টা তার কোলের উপর রাখা। আচ্ছা তার কি লোকটার জন্য মায়া হচ্ছে। কিন্ত এনি তুই তো ঘৃনা করিস ব্যক্তিটাকে। তকে প্রতিনিয়ত মানসিক টর্চার করছে। শারিরীক ভাবেও টর্চার কম করে নি। আঘাত করেছে, বাজে কথা বলেছে, রক্তাক্ত করেছে। তার পরও তুই কেনো অস্থির হয়ে উঠছিস? শুধুই কি মনুষ্যত্ববোধ নাকি অন্য কিছু?
এনি হাঁপিয়ে উঠে। মেঝে থেকে উঠে বসে সে। পুরো শরীরে লোকটার রক্ত লেগে আছে। এনি সেদিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলে,

” হাজার ও ব্যক্তিকে রক্তাক্ত করা পুরুষ আজ নিজেই রক্তাক্ত হয়ে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। অভিশাপ দিচ্ছি না। দোয়া করি সুস্থভাবে ফিরে আসুন।
এনি গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে বারান্দা থেকে রুমে চলে যায়। নিক যাওয়ার আগে বারান্দার কাউচ নামিয়ে দিয়ে গিয়েছে। পুরো -রুমের চার-পাশে সিকিউরিটি। একটা পাখি ডুকার ও সুযোগ নেই। এনি প্রায় দুই ঘন্টা সময় ব্যয় করে শাওয়ার নেয়। চোখ-দুইটা লাল হয়ে গিয়েছে। শীতে কাঁপছে শরীর। বিছানার উপর বসে চাঁদর দিয়ে শরীরটা ভালোভাবে ঢেকে নেয়।
তানভী- আর মেহের মিনারের গেইডের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভিতরে ডুকতে যাবে এমন সময় গার্ডরা পথ আটকে ফেলে,
” কে আপনি?
মেহের রাগান্বিত চোখে তাকায়। মুখ থেকে মাস্ক খুলে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” মেহরিমা মেহের!
যাস্ট এই নামটা বলাতেই সমস্ত গার্ড পথ ছেড়ে দেয়। মেহরিমা-কে সবাই কম – বেশি চিনে। আরিশের বোন কারোর অজানা নয়। আর তার রাস্তা আটকানো মানে -নিজের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। গার্ডরা পথা ছেড়ে দিতেই মেহের দ্রুত পায়ে মিনারে ডুকতে থাকে। ভয়ে তার হাত-পা কাঁপছে। মেইন করিডর খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। অন্যান্য মেহেরকে দেখে গার্ডরা আ্যটাক করতে গিয়েও আটকে যায়। মেহের গার্ডদের উদ্দেশ্যে অধৈর্য হয়ে কান্না করতে করতে বলে,

” তোমরা কেউ জানো আমার নিককে কোথায় নিয়ে গিয়েছে?
গার্ডরা মাথা নিচু করে না জানায়। মেহের কপালে হাত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে। বৃথা কান্না আটকানোর চেষ্টা করে। তানভী মেহেরকে বুকের সাথে চেপে ধরে বলে,
” মেহের শান্ত হ। উনি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান। আন্ডাগ্রাউন্ডের আতঙ্ক। তুই কেনো এত বেপোরোয়া হচ্ছিস?
মেহের তানভীকে জড়িয়ে ফুঁপিয়ে উঠে,
” সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ সেও মানুষ আপু। তার কি আঘাত লাগতে পারে না? কম আঘাতে কখনো হসপিটালে নিয়ে যায় নি। নিশ্চই অনেক বড় কিছু হয়েছে। ওর কিছু হলে আমি মরে যাব আপু।
তানভী কোনো উপায় না পেয়ে বলে,
” উনার রুমে যা। দেখ কিছু পাস কি-না?
মেহের নাক -মুখ মুছে বলে,
” উনার রুমে যাব? কিন্তু উনার রুমে যাওয়ার পারমিশন তো কারোর নেই।
” তুই আর সবাই কি এক? একদিন এই রুমটাই তো তর হবে। তাহলে ভয় কেনো পাচ্ছিস?
মেহের আজ লজ্জা পায় নি। তানভী-কে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে থাকে। গার্ডরা পথ আটকে বলে,
” ক্ষমা করবেন ম্যাম। আপনি রুমে যেতে পারব না।
মেহের চোখের পানি মুছে বলে,
” বেশিক্ষন সময় নিব না, বিশ্বাস করো। আমি শুধু দেখব নিক মোবাইল ফেলে গিয়েছে কি-না। মোবাইলটা খুব প্রয়োজন।
গার্ড মাথা নিচু করে বলে,

” সরি ম্যাম। ভিতরে যাওয়ার পারমিশন কারোর নেই।
মেহেরর দৃষ্টি শক্ত হয়ে আসে,
” তুমি জানো আমি কে?
গার্ড শান্ত কন্ঠে বলে,
” ” জি। আপনি আরিশ স্যারের বোন।
মেহের চেঁচিয়ে উঠে,
” জানার পরও আমাকে রুমে ডুকতে না দেওয়ার সাহস কিভাবে পাও? জানো এই মুহূর্তে আমি কিসের মধ্য দিয়ে আছি? আমাকে আটকানোর চেষ্টা করলে ছুঁরি চালাতে বাধ্য হব। ক্রিমিনাল লিডারের রক্ত কিন্তু আমার শরীরে বইছে। পথ ছাড়ো।
গার্ডরা নিজেদেরকে সিটিয়ে নেয়। এইটুকু মেয়ে তাদেরকে থ্রেট দিচ্ছে ভাবতেই অবাক হচ্ছে। নিজের হাতে হাজারজন লোকদের কুপিয়েছে। আর এই মেয়ে তাদেরকে মারার হুমকি দিচ্ছে। আর চাইলে পারতেও পারে। পুরু বংশ এদের দয়া-মায়াহীন। যার ভাই এমন সে আর কেমন হবে! গার্ড মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলে,

” বসের নিষেধাজ্ঞা। রুমের ভেতরে কাউকে ডুকতে দেওয়া যাবে না।
মেহের চোয়াল শক্ত করে বলে,
” আজ ভাইয়াকে ফিরতে দাও। তোমাদের নামে যদি বিচার না দিয়েছি তাহলে আমিও মেহরিমা মেহের নয়।
” কি বিচার দিবেন ম্যাম?
” বলব তোমরা আমার দিকে কু-নজর দিয়েছো। আমাকে বাজে টাচ করতে চেয়েছো।
গার্ড গুলো চোখ বড় বড় করে ফেলে।।ছটফট করে বলে,
” কি বলছেন এইসব? আপনি আমাদের বোনের মত। এইসব বাজে কথা কিভাবে বলবেন? কখন কুনজর দিয়েছি?
মেহের বিরক্ত হয়ে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩২

” মাত্রতো এইটুকু বলেছি। আরও অনেক কিছু নালিশ করব। এরপর আপনাদের কি হবে ভেবে দেখেছেন তো?
মেহেরের চোখে দুষ্টু হাসির ঝিলিক। গার্ড মাথা নিচু করে বলে,
” দুই মিনিটের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করে আসবেন।
মেহের আর দেরী করলো না। ঝড়ের বেগে দরজা খুলে রুমে ডুকে যায়। অস্থির মন সামনে এগিয়ে যেতেই থমকে যায়। পুরো শরীর অবশ হয়ে আসে। মস্তিষ্ক যেন শূন্য হয়ে উঠেছে। শ্বাসের ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” কে তুমি? এই রুমে কি করছো?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪