লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৫ (২)
লিজা মনি
টর্চার সেলের সেই গুপ্ত রুম। যেখানে নিঃশব্দ অন্ধকার প্রতিটি কোণকে শুষে নিতে চায়। সেই রুমে সামনা সামনি বসা গ্যাংস্টার বস। তার তীক্ষ্ণ চাহনি প্রতিটি বাতাসকেও ছেদ করছে। চোখের প্রতিটি নড়াচড়া এবং অদৃশ্য ভ্রূঁ-উঠা যেন তার কর্তৃত্ব ও অস্থিরতার অনবরত বার্তা বহন করছে। নিকের দৃষ্টি পুরোটাই জেডের উপর। জেড ঠোঁটে ঝাপসা বক্র পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে তুলে। হাসিতে সামান্য শব্দ হয়। সেই হাসি নিঃশব্দে চারপাশে অদৃশ্য কম্পন ছড়িয়ে দেয়। বর্তমানে দুইজনের উপস্থিতি পুরো দৃশ্য এমন এক ছমছমে আবহ তৈরি করছে। দুইজনের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। জেডের এক হাতে ব্যান্ডেজ করা। কব্জি থেকে বাকি অংশ নেই। নিক সেখানে তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে বলে,
” হাত ছাড়া কেমন লাগছে?
জেড বক্র হেসে বলে,
” প্রথম প্রথম তাই অস্বাভাবিক লাগছে। সময় গেলে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। যা রক্ত ঝড়ার সব তো তোমার রক্তেই ঝড়েছে ভাই। আমার আর কি দায়বদ্ধতা।
জেড শব্দ করে মাতালের মত হাসতে থাকে। নিক ঠোঁটে ঠোঁট চেপে স্টিলের উপরে রাখা বাকি হাতের অংশটার দিকে তাকায়। যার উপরের চামড়া আলাদা করে ফেলা হয়েছে। আঙ্গুল গুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। আর বাকি অংশটুকুর উপর লাল -লাল কিছু দেখা যাচ্ছে। হয়ত রক্ত বা চিলি সস। যেটা দিয়ে জেড আহার করে।
নিক সেদিকে তাকিয়ে জেডের উদ্দেশ্যে শীতল গলায় বলে,
” স্টিলের উপরে রাখা হাতটা চিবিয়ে খা। যেভাবে অন্যদের গুলো খাস।
জেড হিংস্রাত্নকভাবে তাকায় নিকের দিকে,
” নিজের শরীরের অংশ এইটা। অন্যদেরগুলো দাও।
নিক শব্দ করে স্টিলের উপর ছুঁরি রাখে,
” সময় তকে দশ মিনিট দিলাম। এই দশ মিনিটের ভেতরে যদি তুই না খাস তাহলে তর শরীরের প্রতিটা রক্তকণা আমি শুষে নিব।
জেড শান্ত গলায় বলে,
” এই প্রথম এতটা হিংস্র হয়েছো আমার প্রতি।
নিক চোয়াল শক্ত করে গর্জন করে উঠে,
” কারন তুই আমাকে নয় ডাইরেক্ট আমার কলিজায় গিয়ে ছুঁয়েছিস। আর আমার কলিজায় যে ছুঁয়ার চেঁষ্টা করে তার সমাপ্তি হয় মৃত্যু। কিন্তু তকে মারলেই কি আর না মারলেই কি। বরং বেঁচে থাকতে কষ্ট কর। আমার কথা তুই কোনোদিন আমান্য করিস নি। এখনও করবি না জেড।
জেড দাঁত কটমট করে স্টিলটার দিকে এগিয়ে যায়। যেখানে তার হাতটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কেনো জানি নিজের অংশ নিজেকে টানছে না। অন্যদের হলে কখন সে ঝঁপিয়ে পড়ত। জেড দাঁত কটমট করা অবস্থায় চেয়ারে গিয়ে বসে। এরপর নিকের দিকে তাকায় হিংস্রতা নিয়ে। নিক ভ্রুঁ ভাঁজ করে তাকিয়ে আছে। জেড হাতটাকে নিয়ে জানোয়ারের মত কামড় বসায়। মাংস চিবোতে চিবোতে নিকের দিকে তাকায়। নিক এখনও একই ভঙ্গিমায় তাকিয়ে আছে। জেড পাগলাটে আচরন করতে থাকে।।তার চিবোনোর শব্দ নিস্তব্দ রুমে শাঁ শাঁ আওয়াজ তুলছে। কাচা মাংস পেয়ে জিহ্বা বের করে ঠোঁট ভেজায়। এক হাত দিয়ে হাতটাকে শক্তভাবে ধরে। পুনরায় কামড় বসিয়ে আবার ও নিকের দিকে তাকায়। প্রতিটা কামড়ে জেড নিকের দিকে তাকায়। তার দৃষ্টিতে কি আছে জানা নেই। কিন্তু হিংস্র হয়ে আছে সেটা বুঝতে সময় লাগলো না। জেডের খাওয়া প্রায় শেষ। হাড্ডি গুলো এক পাশে রেখে ঠোঁট মুছে বলে,
” নিজের শরীরের মাংস খেতে বাধ্য করলে ভাই।
নিক শক্ত গলায় বলে,
” শুক্রিয়া কর তর শরীরটাকে কুকুর দিয়ে খাওয়াই নি। পুনরায় আমার বুক পেরিয়ে কলিজায় হাত বাড়ালে ঠিক কোন সীমা অতিক্রম করব কল্পনাও করতে পারবি না।
সারারাতের জ্বরে ভোগে সকালে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা ছিলো এখন আপাযত কিছুটা কমেছে। ঘুম থেকে উঠে শরীরে জামা জড়ানো না দেখে আৎকে উঠে। চাদরটা ভালোভাবে জড়িয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখে। বুকের ভেতরে ধুক ধুক শব্দ করছে। দরজা খুলার শব্দ কানে আসতেই ধরফরিয়ে উঠে। ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে দেখে নিক তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে। অজান্তেই এনির চোখ যায় নিকের বুকে -শরীরের ক্ষতস্থানগুলোর দিকে। যেগুলো এখনও কাচা হয়ে আছে। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে। এনিকে এমন অপ্রস্তুত আচরন করতে দেখে নিক এগিয়ে আসে। নিককে এগিয়ে আসতে দেখে এনি আরও সিটিয়ে যায়। কাল রাতের ঘটনা ধীরে ধীরে আবারও মনে করতে থাকে। গলা শুকিয়ে আসে তৃষ্ণায়। চোখ খিঁচে ফেলে মুহূর্তের মধ্যেই। নিক যখন একদম এনির কাছাকাছি এসে দাঁড়ায় এনি চট করে চোখ খুলে ফেলে। নিককে কিছু বলতে না দিয়ে সাহস জুগিয়ে বলে,
” আমার ড্রেস চেইঞ্জ করেছেন কেনো?
নিক সামান্য ঝুঁকে এনির পুরো মুখে দৃষ্টি রাখে। প্রচন্ড উত্তেজনায় কম্পিত এনির ঠোঁটের দিকে তাকায়। নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে হাস্কি সুরে বলে,
” সো হুয়াট?
এনি নিজেকে ধাতস্থ করে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” আমার কাপড় খুলেছেন কেনো?
” খুলাখুলিতে আমি একটু বেশিই এক্সপার্ট।
এনি চোয়াল শক্ত করে বলে,
” একটা মেয়ের পারমিশন ছাড়া কাপড় খুলতে লজ্জা করে না।
নিক অধরে হাসি ফুটিয়ে বলে,
” একদম লজ্জা করে না বেবিগার্ল । পুরুষ মানুষ হয়ে যদি শয্যাশায়িনীর কাপড় এই খুলতে না পারি তাহলে আবার কেমন পুরুষ মানুষ হলাম।বুঝলে ব্লাড রোজ, তোমাকে বিয়ে করার পর যতবার তোমার কাপড় খুলেছি ততবার নিজের কাপড় খুলেছি কি-না সন্দেহ!
এনি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। এইটা মুখ নাকি এটম বোমা। মিনিমাম লজ্জা বলতে নেই। যখন -তখন অশালীন কথা-বার্তা বলা শুরু করে দেয়। এনি রাগে গিজগিজ করতে করতে বলে,
” গজব পড়ুক আপনার এই নির্লজ্জ জবানের উপর।
নিক এনির গাল সামান্য চেপে ধরে বলে,
” তার অর্ধেক ভাগিদার ও তুমিই হবে।
এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” আপনার গজবের ভাগিদার হব ভাবলেন কিভাবে?
নিক আলতো হেসে বলে,
” আমার সমস্ত পাপ, অভিশাপ, পতন, উত্থান, সুখ-বিলাসিতা, কান্না -হাহাকার সমস্ত কিছুর অর্ধেক ভাগিদার তুমিও ব্লাড রোজ। তুমিও চাইলেও আর না চাইলেও।
নিক এনির গাল ছেড়ে দেয়। বিছানা থেকে উঠে সামনে এগিয়ে যায়। এনি চোখের পানি সংযত করে ভাঙ্গা গলায় বলে,
” আপনি আমাকে রক্ষিতা হিসেবে ঘরে না তোলে নিজের স্ত্রী হিসেবে কেনো ঘরে তুললেন না নিক? কেনো একটু ভালোবাসার চাদরে আমাকে মুড়ালেন না? এই যে এত কেয়ার, আসক্তি, তীব্রতা এতকিছু দেখান সবই আপনার নির্মম আর হিংস্র ব্যবহারের নিচে কুরবান হয়ে যায়। এতটা ঘৃনা জমতে কেনো দিলেন?
নিক থেমে যায়। এনির মুখে নিজের নাম শুনে গ্যাংস্টার বসের হৃদয় অস্থির হয়ে উঠে। এনির ঠোঁট থেকে নিজের নামটি উচ্চারিত হতেই নিকের অন্তর এক অদৃশ্য বিস্ফোরন ঘটে। নিকের দৃষ্টি স্থির থাকার চেষ্টা করলেও চোখের কোণ থেকে ভেতরে জ্বলছে এমন এক উত্তেজনা যা শরীরের প্রতিটি শিরা দিয়ে কম্পিত হচ্ছে। নিঃশব্দ বাতাসও তার ফুসফুসে চাপ সৃষ্টি করছে, আর সে খুঁজছে কোনো শব্দ যা তার ভিতরের দ্বন্দ্বকে সামলাতে পারে। তবু প্রতিটি মুহূর্তে নামটি পুনঃউচ্চারণের অনুরণন তার হৃদয়কে অচেনা উদ্বেগে আবদ্ধ করে রাখছে। নিক স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে স্থির মনে হলেও তার মন যেন অচেনা অস্থিরতার লহরে ভেসে চলেছে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দিকে তাকায়। ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” কি বললে তুমি? নামটা আবারও উচ্চারন করো।
এনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে নিকের কথায়। ভেজা পাপড়ি গুলো ঝাপ্টে অন্য দিকে তাকায়। নিক গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে ছন্নছাড়া হয়ে উঠে,
” বউ করে ঘরে তুললে তুমি ঘৃনা করতে না?
” হয়ত না।
” পারতে আমার মত একজন নরপশুর সাথে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে? যেখানে প্রতিনিয়ত রক্ত আর অন্ধকার জগতের খেলা হয়?
এনি চোখের পানি মুছে বলে,
” প্রশ্নটা অনেক কঠিন গ্যাংস্টার বস। উত্তরটা জানতে হলে আপনার সমাকামী হতে হবে। যে ঝড় সবকিছু বিশৃঙ্খলা করে দিল, সে বাতাসকে আমি কিভাবে দোষ দেই। জানালাটা তো আমি খুলছিলাম। সেদিন আরেকটু সতর্ক থাকা উচিত ছিলো।
নিক চাপা হাসলো। এনি এইবার নিকের দিকে তাকায়। দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে বলে,
” আমাকে বউ হিসেবে মানেন?
নিকের মুখ তুলনার থেকেও বেশি গম্ভীর হয়ে উঠে,
” সব ধরনের ট্রিট করছি। মানা -না – মানা দিয়ে কি করবে?
” জানতে চাই।
” কি?
” প্রশ্নটা বুঝেন নি?
” নাহহ।
” বউ হিসেবে মানেন আমাকে?
নিক কপাল কুচলে এনির অস্থির মুখটার দিকে তাকায়। গলায় গম্ভীরতা টেনে বলে,
” বউ মানলে ঘৃনা করা কমিয়ে দিবে?
এনি চোখ নামিয়ে নেয় আচমকা। ছোট্ট করে উত্তর দেয়,
” না।
নিক রাগে দাঁত কটমট করে বলে,
” তাহলে উত্তর ও পাবে না।
” কিন্তু আপনি আমাকে বউ হিসেবে মেনেছেন। ওই লোকটার সামনে আমাকে বউয়ের স্বিকৃতি দিয়েছেন।
নিক বিরক্তি নিয়ে তাকায় এনির দিকে,
” কবুল কি আমি তোমার বান্ধুবীর সাথে বলেছিলাম, ইডিয়েট!
নিকের এমন হুট করা ধমকে এমি থতমত খেয়ে যায়। নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,
” তাহলে মানছেন?
” বাস্তবতা বদলাতে পারব?
” আপনি বদলাতে না পারলেও আমি পারব। আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি না।
নিক শক্ত করে ঠোঁট কামড়ে ধরে। এতটাই শক্ত ছিলো যে ঠোঁট কেটে লাল রক্ত বের হয়ে যায়। নিক আঙ্গুল দিয়ে রক্তটা মুছে বলে,
” কারোর মানা -না মানার ধার ধারি নয় আমি। তোমার মানা -না-মানা দিয়ে আমি কি করব? রাতে আমার বউ পেলেই চলবে।
এনি ছটফটিয়ে উঠে,
” আবার ও নিজের বউ হিসেবে স্বীকার করছেন? দ্বিতীয়বারের মত বউ উচ্চারন করেছেন আপনি।
নিক কপাল কুচকে বলে,
” তা-তে এত খুশি হচ্ছো কেনো?
এনি থমথমে মুখে বলে,
” বউ তো আপনি আমাকেই বলেছেন তাই -না?
” যাকে স্বামী মানো না তার জবান থেকে বউ শুনে এত খুশি হচ্ছো কেনো? আর ইউ কমপ্লিটলি লস্ট ইন হ্যাপিনেস ইনসাইড, মাই ডিয়ার?
এনি আমতা আমতা করে বলে,
” খুশি হতে কবে দেখলেন?
” এতদিন জানোয়ার, নরপশু, পিশাচ সব বলতে। সেটা মেনে নিতাম। এখন কি অন্ধ সাজাতে চাচ্ছো নাকি?
এনি বিরক্তিতে তাকায় নিকের দিকে,
” সকাল -সকাল এত ঝগড়া করছেন কেনো আমার সাথে?
নিক একদম এনির কাছে এসে বলে,
” তাহলে চলো তিন -চার ঘন্টার জন্য ক্রিকেট ম্যাচ খেলে আসি। রাতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার শাস্তিটাও একসাথে দেওয়া যাবে।
নিক আর ও এক কদম সামনে এগিয়ে আসবে তার আগেই এনি বিছানা থেকে নেমে যায়। চাদরটা শরীরের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেয়। নিক স্থির চোখে এনির দিকে তাকায়। এনি শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” কাছে আসলে খুন করে ফেলব। বরবাদ হয়ে যাবেন কিন্তু।
নিক কূটিল হেসে এনির গলায় নজর দেয়। নিকের এমন দৃষ্টি অনুসরন করে নিজের দিকে তাকায়। গলা থেকে খানিকটা চাঁদর নিচে নেমে যায়। এনি চট করে চাদরটা উপরে তুলে শরীরের সাথে মিশিয়ে নেয়। নিক চোখ গরম করে তাকায় এনির দিকে। চোয়াল শক্ত করে সামনে এগিয়ে আসবে তার আগেই এনি বাঁধা দেয়। সামনে রাখা ফল কাটার ছুঁরি দিয়ে নিকের দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর সামান্য চেঁচিয়ে বলে,
” খবরদার যদি কাছে এসেছেন? খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।
ছুঁরিটা একটুর জন্য নিকের গলায় লাগে নি। পাশেই মেঝেতে গিয়ে ছিটকে পড়ে। নিক একটুও সরে নি জায়গা থেকে। এনিতো ভেবেছিলো হয়ত সরে যাবে। তাই সাহস নিয়ে এমনটা করেছে। যদি গলায় সত্যি লেগে যেত! নিক ক্রুব্দ চোখে মেঝেতে পড়ে থাকা ছুঁরিটার দিকে তাকায়। কপাল ঘেষে রাগটাকে নিয়ন্ত্রন করে ঠোঁট কামড়ে হাসে। বাঁকা হেসে এনির দিকে এগিয়ে আসে। এনি ভয়ে দুই কদম পিছাতে যাবে তার আগেই নিকের শক্ত হাতের বাঁধনের সম্মুখীন হয়। টাল সামলাতে না পেরে এনি নিকের শক্ত বুকের সাথে ধ্বাক্কা খায়। চাদর খানিকটা আলগা হয়ে আসে। এনি আতঙ্কে জমে গিয়ে চাদর খানা আরও শক্তভাবে চেপে ধরে।নিক কূটিল হেসে এনির উন্মুক্ত ঘাড়ে ইচ্ছে করে স্লাইড করতে করতে এনির কানে কানে কিছু একটা বলে। এনির পুরো শরীর শিরশির করে উঠে। এই লোককে কি ধাতু দিয়ে বানানো হয়েছে। কোনো মানুষ আদ’ও এত ঠোঁট কাটা হয়! এনি কাঁপাকাঁপা গলায় বলে,
” লাগাম টানুন মুখের। আবার ও বলছি বরবাদ হয়ে যাবেন। ছাড়ুন আমাকে?
নিক একই ভঙ্গিমায় স্পর্শ আরও গভীর করে তোলে। এনির কানের কাছে হিসহিসিয়ে বলে।,
” বরবাদ হয়েছি আমি তর অপেক্ষায়। চুরমার করে যে হারাও কিছু ইশারায়। আমাকে থাকতে দে, ডুবে থাকতে দে তর মাঝে।
নিকের এমন অবাধ্য আচরনে এনি আরও ভয় পেয়ে যায়। আতঙ্কে গলা শুকিয়ে আসে। মিনমিন সুরে বলে,
” আমি অসুস্থ নিক জেভরান।
নিক থেমে যায়। ঘাড় থেকে মুখ তোলে এনির দিকে তাকায়। এনি এখনও ভয়ে কাঁপছে। নিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে থমথমে গলায় বলে,
” কতদিন?
এনি কাঁপা গলায় বলে,
” ত… তিন দিন।
নিক এনিকে ছেড়ে দেয়। বিরক্তি নিয়ে বলে,
” সেটা আগে বলতে পারলে না, বিয়াদব!
নিক সরে যেতেই যেন এনির নিশ্বাস ফিরে এলো। নিক কাবার্ডের সামনে এগিয়ে যায়। দরজা ধ্বাক্কার শব্দে কপাল কুচকে ফেলে। দরজা খুলে স্টাফ থেকে খাবারের ট্রলি নিয়ে ভিতরে ডুকে। এরপর পুনরায় দরজা লাগিয়ে দেয়। নিক ট্রলিটা এনির সামনে রাখে। এনি এখনও আতঙ্কে আছে। খাবারের দিকে তাকয়ে মুখ হা হয়ে যায়। এত খাবার কার জন্য এনেছে? তা ও আবার সব ঘাসপাতা! নিক ল্যাদারের জেকেট পরিধান করতে করতে এনিকে আদেশ করে বলে,
” ফিনিশ ইউর ফুড কুইকলি!
এনি নাক ছিটকে বিরক্তি নিয়ে বলে,
” এইসব ঘাসপাতা আমাকে খেতে বলছেন? খেতে পারি না এইসব।
“এইসব খাবে তুমি। ছুঁয়ার আগেই অজ্ঞান হয়ে যাও।
” জ্বরে পুরো মুখ তেঁতো হয়ে আছে।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” চাইলে ললিপপ খেতে পারো আমি মাইন্ড করব না।
নিকের কথা প্রথমে এনি না বুঝলেও পরিবর্তে ছটফটিয়ে উঠি। রাগান্বিত চোখে নিকের দিকে তাকাতেই নিক বাঁকা হেসে বলে,
” বাচ্চাদের খাবার, ললিপপের কথা বলেছি বেবিগার্ল। কারন এইটা মিষ্টান্ন থাকে। আই ডিড্ন’ট আস্ক ইউ টু লুক অ্যাট মাই থিংস। দেয়ার’স নো নিড টু শো সো মাচ ইন্টারেস্ট।
এনি অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রাখে। এত ঠোঁট-কাটা, নির্লজ্জ ব্যক্তির সাথেই কেনো তার দেখা হলো?
নিক ক্লাইভ ক্রিস্টিয়ান নাম্বার ওয়ান ইম্পেরিয়াল ম্যাজেস্টি পারফিউম শরীরে স্প্রে করে এনির দিকে আসে। গম্ভীর গলায় বলে,
” তিন দিন আমি কাজের জন্য বাহিরে থাকব। তোমার ভাষায় যাকে বলে গুন্ডামি, তার জন্য। আর এই তিন দিনে ঘাস -পাতা খেয়েই শরীরে এনার্জি তৈরি করে রাখো। কারন সব কিছু শুষে নিতে আমার জন্য এক রাতের সময়।
নিক আর দাড়ালো না। বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এনি পিছন থেকে ডেকে বলে,
” সেই গুপ্ত রুমের লোকটা কে ছিলো?
নিক যেন শুনেও শুনলো না। হয়ত শুনার প্রয়োজন বোধ করলো না। অথবা উত্তরের প্রয়োজন মনে করলো না। নিক রুম ত্যাগ করার সাথে সাথে অটোমেটিক দরজা আটকে যায়। এনি আহাম্মকের মত নিকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। খাবারের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে। নিকের থেকে বাঁচার জন্য অসুস্থতার নাটক করেছে। লোকটা এত সহজে বিশ্বাস করেও ফেললো? যদি একবার জানে আমি মিথ্যে বলেছি তাহলে মাটির নিচে পুতে দিতে একবার ও ভাববেন না। ওইদিন তো একটা দয়া দেখিয়ে বেশিক্ষণ রাখে নি। কিন্তু এইবার আর ছাড় দিবে না। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে বিরিবির করে,
” আপনি ভয়াংকর সত্তা দিয়ে গড়ে উঠা এক হিংস্র মানব। যার পুরোটাই মরিচীকা। আপনার সাথে স্বাভাবিকভাবে থাকার ক্ষমতা আমার নেই। এখনও আপনার থেকে মুক্তি চাই।
আরিশ রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করছে। রাগে আয়নার সামনে বসে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছে। তবে প্রতিচ্ছবি নয় নিজের জিহ্বা দেখছে। যেখান থেকে এখনও সামান্য রক্ত ভেসে উঠতে চাইছে। নাজলী নিজেকে সিটিয়ে ফেলে। ডিভানে ভালোভাবে বসে পিটপিট করে তাকায়। আরিশ রক্তলাল চোখে তাকিয়ে, চোয়াল শক্ত করে বলে,
” পিশাচিনীর মত কামড়াতে খুব ভালো লাগে? অসভ্য গুন্ডা মেয়ে।
নিজের নামে এত প্রশংসা শুনে নাজলীর মুখ হা হয়ে যায়। তীব্র ক্ষোভ নিয়ে বলে,
” মুখ সামলে কথা বলবেন। গুন্ডা কে সেটা পুরো জগত জানে। আমাকে নিয়ে এত প্রশংসা করার দরকার নেই। কামড়েছি, বেশ করেছি। আরেকবার বাসর করার ধান্দায় আসলে এর থেকেও বেশি খারাপ অবস্থা করব।
আরিশ জিহ্বা ভিতরে ডুকিয়ে কথা বলতে পারছে না। জিহ্বা যেহেতু খুব নরম অংশ। সামান্য আঘাত লাগলেও যেখানে পাহাড় সমান সেখানে এক ডাইনীর বত্রিশটা দাঁত বসিয়ে দিয়েছে। আরিশ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো। আশ্চর্য ব্যাপার! একটা মেয়ে তাকে কামড়ে রক্তাক্ত করে ফেলেছে অথচ সে এখানে রাগ দেখাচ্ছে। তার হাত তো এই মুহূর্তে মেয়েটার গলায় থাকার কথা ছিলো। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। কিন্তু কেনো? ক্রিমিনাল লিডার আরিশের ব্যক্তিত্ব তো এমন নয়। তাহলে একজন তুচ্ছ নারী -কে কেনো সে কিছু করতে পারছে না।
আরিশ ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে নিজের রুপে ফিরে আসে। বুকে হাত গুঁজে নাজলীর দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে,
” কাম*ড়া*কাম*ড়ি করাটা কি তোমার স্বভাব।
” জীবনের প্রথম কামড় দিয়েছি। তাও আপনাকে।
” কামড়েছো কেনো?
” আপনি আমার ইজ্জত লুট করতে এসেছেন। আর আমি শুয়ে শুয়ে কি আপনাকে চুমু খাব।
আরিশ চোয়াল শক্ত করে বলে,
” সেটাও খাবে। শুধু সময় আসতে দাও।
নাজলী মুখ ভেংচি কেটে বলে,
” জাতীয় আবদার। আন্তর্জাতিক আত্নবিশ্বাস। উনাকে নাকি আমি চুমু খাব। প্রয়োজনে পাগলের ঠোঁটে গিয়ে হাজারটা খাব তার পর আপনার মত এমন ব্যক্তির উপর নয়।
আরিশ ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” তোমার জন্য একটা পাগল এই ঠিক আছে। রাস্তার পাগলীর জন্য রাস্তার পাগল একদম ম্যাচ করবে।
নাজলী ফুঁশে উঠে বলে,
” এতিম হতে পারি বাট রাস্তার নয় ক্রিমিনাল লিডার। বাই দ্যা ওয়ে ব্যাথা কি বেশি করছে?
” তোমাকে খুন করে ফেললে ও আমার শরীরের জ্বালা মিটবে না।
” আপনার পুরো শরীর কামড়ে ফেললে ও আমার জ্বালা মিটবে না।
আরিশ কপাল কুচকে বলে,
” কুকুরের মাংস খেয়ে বড় হয়েছো নাকি? জলাতঙ্ক রোগী তুমি?
নাজলী থমথমে খেয়ে বললে,
” সেইম প্রশ্ন আমার ও? পুরো গলা, ঠোঁট কামড়ে নাজেহাল করে ফেলেছেন। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিলো রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়ায় ক্ষুধার্ত কুকুরদের কথা। যাদের সাথে হুবহু আপনার মিল পেয়েছিলাম।
আরিশ দাঁতে দাঁত পিষে রক্তাক্ত চোখে তাকায়। নাজলীর গলায় চোখ যেতেই শিনা টান টান করে দাঁড়ায়। দবদবে ফর্সা গলা লাল লাল হয়ে আছে। ঠোঁট ও কেমন লাল রক্তে জমাট বেঁধে আছে। আরিশ সেদিকে তাকিয়ে বলে,
” এতটা ফর্সা হওয়া তোমার উচিত হয় নি?
” আর সেই কারনেই থুথু খাওয়ানোর প্রতিযোগীতায় নেমেছিলেন? ভাগ্যিস জিহ্বা কামড়ে ধরে আটকেছিলাম। নাহলে সমস্ত ইজ্জত লুটে নিয়ে স্বামীর হক মেরে দিতেন।
” হুয়াট! ফা*ক….
” ইংরেজী গালি কম দিবেন। থু-থু ফেলার জন্য কি ডাস্টবিন খুঁজে পাননি। নিজের মুখের সব থু-থু আমার মুখে ঢেলে দিয়েছেন। ওয়াক থুহহহ!
নাজলী নাক -মুখ কুচকে ফেলে। আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে রাখে। রাগে কাঁপছে তার শরীর। আরও পনেরো দিন বাকি আছে সব কাজ কমপ্লিট করতে। এরপর এই মেয়েটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। কিন্তু এই পনেরো দিন কিভাবে সহ্য করবে সে। আরিশ দাঁত পিষে নাজলীর দিকে তাকিয়ে বলে,
” তোমার মৃত্যুটা হয়ত সৃৃষ্টিকর্তা আমার হাতেই লিখে রেখেছেন। হয় নিজের মুখটা অফ রাখবে নয়ত মুখে টেপ লাগিয়ে রাখব। জানা নেই কবে নিজের নিয়ম ভঙ্গ করে নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়। হয়ত আমি নিকের মত এতটা হিংস্র নয়। কিন্তু একবার নিজেকে হারিয়ে ফেললে নিজের সব কিছু অন্ধকার দেখতে পাবে।
নিক গাড়িটা নিয়ে মিনারের বাহিরে বের করতেই সাথে সাথে ব্রেক কষে।তার গাড়ির সামনে চারটে গাড়ি এসে থামে। নিক গ্লাসের আড়ালে গাড়ি গুলোর দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ভাবে হাসে। গাড়ি থেমে নেমে আসে কায়াত, ইগর আরও দুইজন মাফিয়া। নিক ও সেইমভাবে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। নিক সানগ্লাস খুলে পকেটে হাত গুঁজে কপাল কুচকে ফেলে। ইগর রাগান্বিত হয়ে নিকের দিকে এগিয়ে আসে। বন্ধুক থেকে বুলেট আকাশের দিকে উড়িয়ে গর্জন করে উঠে,
” আমার চল্লিশ জন বডিগার্ডকে আটকেছিস কোন সাহসে?
নিক দাঁত কটমট করে চার-পাশে তাকায়। শান্ত গলায় বাজ পাখির ন্যায় চোখ দিয়ে তাকিয়ে বলে,
” গলার আওয়াজটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না, ইগর। মৃত্যুর ঘন্টা বেজে উঠেছে নাকি?
ইগর ক্ষোভ নিয়ে তেড়ে আসে,
” বাইন**** বাচ্চা, এই চল্লিশ জন বডিগার্ড সব থেকে শক্তিধর ছিলো। তুই এদের বিষ দিয়েছিস কেনো?
নিক কপাল ঘেষে বলে,
” ইচ্ছে হয়েছি তাই দিয়েছি। তুই এমন বলির পাঠার মত ভেঁ ভেঁ করছিস কেনো? ছাগলামি না করে সামনে থেকে বিদায় হ ব্লাডি বিচ!
ইগর আরও ফুঁশে উঠে,
” তুই আমার লোকদের মেরেছিস নিক। কেনো মেরেছিস ওদের?
নিক ক্ষেপে গিয়ে বলে,
” আমার মিনারের উপর হ্যালিকপ্টর দিয়ে লোক পাঠানোর সাহস কোথায় পেলি তুই ইগর! নিজের ইশ্বরের কাছে দোয়া কর যে তর বুক এখনও ঝাঁঝরা করে নি। যদি আমার বউয়ের দিকে সামান্য আচর ও লাগত তাহলে সমস্ত মাফিয়া নিয়ম ভেঙ্গে তর কলিজা টেনে নিয়ে আসতাম। গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান নিজের স্ত্রীর জন্য হাজারটা নিয়ম ভাঙতে পারে। প্রয়োজনে পুরো দেশে অগ্নি কান্ডে ধাউ ধাউ করে জ্বালবে । আর সেই আগুনে তরা নিজেও জ্বলবি।
কায়াত তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” আরেব্বাহহ! রক্ষিতার জন্য এত মায়া? আন্ডারগ্রাউন্ড এর গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান শেষে একজন রক্ষীতাকে নিজের স্ত্রী বানিয়েছে। কত জন পুরুষের বিছানায় নিয়ে এরপর নিজের বিছানায় নিয়েছেন গ্যাংস্টার বস! আমাদের জানা মতে নিজের টিস্যুতে ও হাত লাগাতে কাউকে দেন না। আর এখন একজন রক্ষিতার জন্য এইভাবে ধ্বংসে মেতে উঠলেন? যে মাফিয়া সম্রাজ্য আপনার কথায় উঠবস করত। সেখান থেকে আঠারো জন মাফিয়া আপনার শত্রুতে রুপ নিয়েছে। মেয়েটাকে দিয়ে দিন সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। রক্ষিতাকে রেখে কি লাভ? যদি…….
আর বলতে পারে নি। তীব্র আর্তনাদে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সমস্ত গার্ড নিকের দিকে বন্ধুক তাক করে। কিন্ত চোখের পলক ফেলার আগে তারাও রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কালো হুডিতে আবৃত বিশ জন গার্ড এগিয়ে আসে। যে গুলো অদৃশ্যের মত গ্যাংস্টার বসের সাথে থাকে। তাদের হাতেই নিহত হয় কায়াত আর ইগরের দেহরক্ষী। ইগর ভয়ার্ত চোখে তাকায় রক্তাক্ত কায়াতের দিকে। গলার এক অংশ থেকে গের গের করে রক্ত ঝরছে। নিক রাগে হিংস্রতা নিয়ে গাড়ির কাউচের উপর আঘাত করে। কাউচে ফাটল ধরে যায়। গ্যাংস্টার বসের হাত থেকে টিপটিপ করে রক্ত পড়ছে। রক্তাক্ত চক্ষু নিয়ে এগিয়ে যায় কায়াতের দিকে। ছটফট করা কায়াতের বুকে পা তুলে চেপে ধরে গর্জন করে উঠে,
” কুত্তার বাচ্চা! আমার রানীকে বাজে ইঙ্গিত দেওয়ার সাহস কিভাবে করলি? তুই জানিস সে কে? তার পরিচয় কি? সে কার প্রানভোমড়া? ও আনাস্তাসিয়া এনি। ইরানের রাজকন্যা আর আমার রাজ্যের রানী। গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের বেঁচে থাকার অবলম্বন। যে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের হুংকারে পুরো রাজ্য থমকে যায় সেই গ্যাংস্টার এই রমনীর চোখের পানিতে থমকে যায়।
নিক রাগে নিজের খেঁই হারিয়ে ফেলে। পা দিয়ে আরও চাপ প্রয়োগ করে বলে,
” শুধু মাত্র তদের থেকে হেফাযত করার জন্য ওকে রক্ষিতা বানানোর অভিনয় করেছিলাম। গ্যাংস্টারদের দুর্বলতা থাকতে নেই। পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চাই নি সেই দুর্বলতা। জারজের বাচ্চা আমার দুর্বলতা জেনে গেলে তদের মত কুত্তারা চলে আসবে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তাই এত লোকোচুরি – এত নাটক- এত তালবাহানা। সে তদের সহ্য করতে পারে না। আজ পুরু পৃথিবী জানুক আর তরাও জেনে রাখ, রক্ষিতা নামক ক্রয় করা মেয়েটা আমার জীবনের সব থেকে বড় দুর্বলতা। আমার প্রানভোমড়া! পুরো মাফিয়া রাজ্যের মালিকিনী। আমার রানী। আমার ঘরের রানি! আমার ভালোবাসা! আমার অক্সিজেন! আমার ভবিষ্যত সন্তানদের মা। সর্বশেষ এক হার্টল্যাস গ্যাংস্টার বসের বেঁচে থাকার এক মাত্র অবলম্বন।
নিক আবারও থামে। কায়াত ছটফট করছে গলা কাটার মুরগীর মত। পাশ থেকে ইগর অনুরুধ করছে ছেড়ে দিতে। নিক দাঁত পিষে বলে,
” আমার ঘরের রানীকে নেওয়ার জন্য বার বার যে আ্যটাক করছিস কলিজা কাঁপে না? মাদার্ফাক, মাফিয়া সম্রাজ্যে হাজারটা নিয়ম হয়ত আছে একজন মাফিয়া আরকেজন মাফিয়াকে প্রানে মারতে মারবে না। কিন্তু তরা হয়ত ভুলে যাচ্ছিস আমি কে? না কোনোদিন নিয়ম মেনেছি আর না কারোর কথা শুনেছি। হাজারটা নিয়ম আমি নিজ হাতে তৈরি করি। আবার ও যদি আমার স্ত্রীর দিকে লালসা নিয়ে আসিস খোদার কসম শুধু দেহ টুকরো -টুকরো করব না, প্রতিটা মাংসের টুকরোকে ফালিতে রুপান্তর করব শুয়রের বাচ্চা!
নিকের এই হিংস্র রুপ ইগর ভয়ে থমথমে খেয়ে যায়। নিকের হাত ধরে চেঁচিয়ে উঠে,
” নিক স্টপ! মরে যাবে। স্টপ! স্টপ! ভুলে যাবেন না ও একজন মাফিয়া। তাদেরকে জানে মারতে নেই। একজন গ্যাংস্টার লিডার হয়ে আপনি এই নিয়ম ভঙ্গ করলে সমস্ত মাফিয়াদের সম্পর্ক বিচ্ছেদে পরিনত হবে। একজন -আরেকজনের সাথে যুদ্ধ শুরু করবে। এই নিয়ম ভাঙবেন না প্লিজ।
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৫
নিক থাম। রাগে ফুঁশ -ফুশ করছে। ইগর দ্রুত কায়াতের কাছে যায়। নিকের দুইজন গার্ডকে ইশারা করে গাড়িতে তোলার জন্য সাহায্য করতে। সমস্ত গার্ড যেন এতক্ষন অন্য জগতে ছিলো। কারোর জন্য নিজের বসের এত মরিয়া হয়ে উঠা তারা এই প্রথম দেখেছে। যেই গ্যাংস্টার বসকে লোকের কলিজা আর গলা কাটতে দেখেছে, সে একটা মেয়ের প্রতি এতটা আসক্ত হয়েছে? কি হবে এই আসক্তির পরিনাম?
