লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৫
লিজা মনি
মিনারের আড়াল-আবদ্ধ গভীর অন্তস্থলে অবস্থিত সেই গুপ্ত রুমটি এমন এক গুমোট ও অব্যাখ্যাত নীরবতার আবরণে আচ্ছন্ন ছিল যেন বহু শতাব্দীর অচল সময় সেখানে স্থির হয়ে জমাট বেঁধে আছে এবং যে নীরবতা অনধিকার প্রবেশকারীর পদধ্বনি পর্যন্ত গ্রাস করে নিতে সক্ষম।
দেয়ালের বিবর্ণ পট্টবস্ত্রে ঝুলে থাকা জীর্ণ লণ্ঠনের কাঁপমান শিখাটি অতল অন্ধকারকে ভেদ করার ক্ষীণ চেষ্টা চালালেও তার ফ্যাকাসে আলো রুমের কোণাগুলোতে এমন সব ছায়া সৃষ্টি করছিল যেগুলোর আকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল। যেন ছায়াগুলো নিজস্ব সত্তা নিয়ে ধীরে ধীরে নড়াচড়া করছে এবং রুমটিকে অদৃশ্য কোনো উপস্থিতির নীরব পর্যবেক্ষণে সমর্পিত রাখছে।
মেঝের জীর্ণ কাঠামোতে স্থাপিত তক্তাগুলো এমন অকারণ কর্কশ শব্দ তুলছিলো।
মিনারের গভীর অন্তস্তলে অবস্থিত সেই স্টিল-ঢাকা কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি এমন এক হিমশীতল স্থিরতার আবরণে মোড়া ছিল যেন তার চারপাশের স্যাঁতসেঁতে বাতাসও তার অস্বাভাবিক মানসিকতাকে অনুভব করে নিঃশব্দ আতঙ্কে জমে রয়েছে এবং সেই জড়তা তার প্রতিটি নড়াচড়াকেই আরও অশুভ ও সন্দেহজনক করে তুলছে।
স্টিলের কঠোর মসৃণতায় আচ্ছাদিত টেবিলটির উপর রাখা বস্তুটি তিনি যে অস্বাভাবিকভাবে নিয়মিত ধীর-যান্ত্রিক ভঙ্গিতে কাটছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল এ কার্যটি তার কাছে কোনো সাধারণ প্রস্তুতিপর্ব নয় বরং তার মনস্তত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত বিকৃত এক আচার যার প্রতিটি অনুশীলন তাকে এক অদ্ভুত মানসিক পরিতৃপ্তির দিকে ধাবিত করে।
তার চোখদুটি ফ্যাকাসে আলোর প্রতিফলনে এমন শীতল স্থিরতায় ঝলসে উঠছিল যে মনে হতো সেই চোখের গভীর স্তরগুলো থেকে মানবিক আবেগ বহু আগেই অপসৃত হয়ে গেছে।এবং সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে কেবল এক নিঃসাড় নৈঃশব্দ্য।যা তাকে স্বাভাবিক মানুষের সীমানা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।
রুমের উপরস্থ ধাতব বাতিটি কাঁপতে কাঁপতে যখন আলো ছড়াচ্ছিল। তখন তার দেহাবয়বের দীর্ঘ ছায়া দেয়ালে এমনভাবে উঠানামা করছিল যেন ছায়াগুলোই তার বিকৃত আচরণের নীরব সাক্ষী হয়ে অস্থির ছন্দে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। আর সেই ছন্দ পরিবেশকে আরও ছমছমে করে তুলছিল।
লোকটার হাতের মাপা, নিখুঁত, প্রায় পাষাণ-সম যান্ত্রিক চলনে এমন এক ঠান্ডা ধ্যানমগ্নতা নিহিত ছিলো। সে এখন কোনো কর্ম সম্পাদন করছে না বরং এক অদ্ভুত মানসিক শূন্যতার গভীরতায় নিমজ্জিত থেকে নিজের অস্থির সত্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। স্টিলের উপর একটা ডেডবডিকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। টুকরো মাংসগুলোকে কেটে টেপ ছেড়ে ধুয়ে নিয়ে আসে। নিজের স্থানে এসে বসে পড়ে। স্টিলের উপরে কাটা মাংসের টুকরো গুলো সাজিয়ে রাখে। মহিলাটার কাটা মাথাটা ফ্রিজ খুলে রেখে আসে। বাকি শক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ফ্রিজের মধ্যে বরফে ঢেকে রেখে আসে। নিজের চেয়ারে এসে বসে। চোখ দুইটা হিংস্র অথচ শান্তভাবে তাকিয়ে আছে কাচা মাংসগুলোর দিকে। মাংসের টুকরো -গুলোর উপর সামান্য লবণ, চিলি সস দিয়ে মিশিয়ে নেয়। প্রত্যেকবারের মত রক্তের গ্লাস গুলো সামনে সাজিয়ে রাখে। দশ গ্লাস রক্ত রেখে বাকি রক্তগুলো একটা পাত্রে রেখে দেয়। রক্তে সামান্য ওয়াইন মিশিয়ে বরফ ঢেলে দেয়। জেড বিকৃত হেসে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়।
একটা চপস্টিকের সাহায্যে কাচা মাংস গুলো তুলে মুখে তুলে নেয়। জেড পৈশাচিক ভাবে চি***বোতে থাকে। বাম হাতের সাহায্যে গ্লাসটা তুলে পুরোটা রক্ত গিলে ফেলে। ঠোঁটের উপরে লেগে থাকা রক্তটা জিহ্বা দিয়ে টেনে মুখে নিয়ে যায়। পুনরায় কা**চা মা**ংস চিবিয়ে পৈশাচিক ভাবে হাসে । কি আশ্চর্য কিছুক্ষন আগেও মেয়েটা বেঁচে ছিলো। কিন্তু তীব্র যন্ত্রনায় মরতে হয়েছে । কারোর শারিরীক ভোক্তভোগী হয়ে রে*পে*র স্বীকার হতে হয়েছে। বিকৃতভাবে খুনের স্বীকার হয়েছে। জানা নেই কার বোন ছিলো, কার মেয়ে ছিলো অথবা কার ভালোবাসার মানুষ। কাল হয়ত নিউফিডে ভাসবে কোনো এক মেয়ে নিঁখোজ কিন্তু সেটা চলবে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ। এরপর সবাই ভুলে যাবে। বন্ধ রুমে মেয়েটার চিৎকার, আর্তনাদ কেউ শুনে নি। কেউ দেখে নি এক সাইকোপ্যাথের থাবায় পড়ে ঠিক কতটা শারীরিক যন্ত্রনায় ছটফট করেছে।
জেড মাংসগুলো এমনভাবে খাচ্ছে যেন কতদিনের ক্ষুধার্ত বাঘ। তার চোখদুটি নিস্তরঙ্গ অন্ধকারের দিকে স্থির হয়ে আছে। মনে হচ্ছে এই মাংস আর রক্ত শুধু খাবার নয় বরং নিজের ভেতরের গভীর কোনো অন্ধকারকে সন্তুষ্ট করছে। কক্ষের ফ্যাকাসে বাতি যখন কেঁপে ওঠে তখন তার ছায়া লম্বা হয়ে দেয়ালে পড়ে। এবং সেই দুলতে থাকা ছায়া দেখে মনে হয় যেন তার ভেতরের বিকৃত স্থিরতা ছায়ার উপরেও প্রভাব ফেলছে।
কাচা মাংসের চিবানোর ধীর ভারী শব্দ কক্ষের নীরবতাকে এমনভাবে ভেদ করে আসছিল যে মনে হচ্ছিল এই নৈঃশব্দ্য কোনো সাধারণ নীরবতা নয় বরং তার অস্বাভাবিক আচরণকে ঘিরে থাকা এক অদৃশ্য চাপা উত্তেজনা। যা পুরো পরিবেশকে শিরশিরে ঠান্ডায় ডুবিয়ে দিচ্ছে।
এক বিকট শব্দে দরজা খুলে যায়। জেড শান্ত চোখে সামনে তাকায়। সামনে থাকা হিংস্র ব্যক্তিটাকে দেখে বাঁকা হাসে। জেডের ঠোঁটে এখনও রক্ত লেগে আছে। টিস্যু দিয়ে রক্তটুকু মুছে সামনে থাকা ব্যক্তিটার উদ্দেশ্যে বলে,
” কারনে এসেছো নাকি অকারনে? অসময়ে আসতে দেখে অবাক হলাম কিন্তু ভাই।
নিক অন্ধকার ভেদ করে গভীর ভাবে ভেতরে প্রবেশ করে। ঈগল চোখে তাকায় জেডের দিকে। তার সামনে শিকারকে অনড় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্যাংস্টার বসের মুখমণ্ডলে এমন এক দহনজন্মা ক্রোধের ছাপ ফুটে ওঠে।যেন নীরবতার আবরণ ভেদ করে ভেতরকার বিস্ফোরণমুখী ক্ষোভ প্রতিটি শ্বাসের সাথে তীব্রভাবে স্পন্দিত হয়।আর তার দৃষ্টির কঠোরতা এতটাই তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে যে তা সমগ্র ঘরের হিমশীতল পরিবেশকে আরো ভয়ানক নীরবতায় আবদ্ধ করে রাখে। হঠাৎ করেই অগ্নিসদৃশ জ্বলতে শুরু করে। সেই ঝলক চারপাশের বাতাসকে এমনভাবে স্থবির করে দিচ্ছিল যেন প্রতিটি উপস্থিতি তার অগ্নি-বিক্ষিপ্ত দৃষ্টির তলে অবশিষ্ট থাকে।নিকের বড় হাতের আঙুলের আঙ্গুলের নড়াচড়া যা সাধারণত নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে থাকে। হঠাৎ করেই অল্প অস্থির হয়ে ওঠে সে। আর সেই অপ্রকাশিত অস্থিরতা তার সমগ্র দেহের স্থিরতার সঙ্গে সংযোগে এমন এক অদৃশ্য কম্পন ছড়ায় যা উপস্থিতদের মস্তিষ্কে অচেনা এক শীতল স্রোত সৃষ্টি করে। জেড তাকিয়ে আছে নিকের দিকে। জেডের ঠোঁটে বক্র হাসি। নিক শান্ত গলায় বলে,
” রুম থেকে বের হয়েছিলি?
জেড মাংসগুলোর দিকে তাকিয়ে বলে,
” বাহিরে না গেলে মেয়ে পেয়েছি কোথায়?
নিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে স্টিলের উপর তাকায়। রক্তের গ্লাস আর কাচা মাংস দেখে কপাল কুচকে ফেলে,
” রে**প করেছিস?
” মেয়ে বুঝলে কিভাবে?
” তুই ছেলেদের মাংস খেয়েছিস কোনোদিন?
” নাহহ।
নিক নিজেকে যথেষ্ট সংযত করে বলে,
” তাহলে না বুঝার কি আছে শুয়রের বাচ্চা। মেয়ে যেহেতু এনেছিস রে**প তো অবশ্যই করেছিস।
জেড বিকৃতভাবে হেসে বলে,
” রে**প কি-না জানি না। তবে আমার মানসিক শান্তি। শালীদের কত বলি জোরে জোরে চিৎকার কর। ফলে আমার পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে। কিন্তু শালীরা চিৎকার করে এমনভাবে যেন গলা থেকে আওয়াজ এই বের হয় না। ফা**কিং ড্রামা!
নিক দাঁত কটমট করে বলে,
” এই হাত দিয়ে হাজারও নারীকে নষ্ট করেছিস। আমার পবিত্র সম্পদে স্পর্শ করেছিস কোন সাহসে?
জেড শান্ত গলায় বলে,
” তোমার জিনিসে কখন স্পর্শ করেছি আমি? নিষেধ করেছো পর যায় নি সেদিকে। কোনোদিন তোমার বউকে নিজের চোখেও দেখি নি।
নিক ছন্নছাড়া রুপে চার-দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হেসে বলে,
” রাইট তুই স্পর্শ করিস নি। কিন্তু তর বাম হাতটা স্পর্শ করে গিয়েছে। ভুলবশত এমন একজনকে ছুঁয়েছিস যার জন্য গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান পুরো পৃথিবীকে যুদ্ধ ক্ষেত্র বানিয়ে দিতে পারে। প্রয়োজনে হাজার বার নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিতে পারে কিন্তু এই নারীর দিকে কেউ সামান্য চোখ তুলে তাকালে সহ্য করতে পারে না। তর সাহস কত বড় হয়েছে জেড, আমার সম্পদের দিকে অশালীন হাত বাড়িয়েছিস? তর মনে হয় নি জানতে পারলে কি হবে?
জেড কপাল কুচকে বলে,
” তোমার বউ ছিলো সে? আমি আসার পথে ভুলবশত হয়ত লেগে গিয়েছে। আমি দেখেছি একটা মেয়ে ছিলো। কিন্তু অন্ধকারে ঠিক অনুমান করতে পারি নি। আমার জানামতে তোমার বউকে রুম থেকে বের হতে দাও না। আমি কি করে জানব সে তোমার বউ ছিলো।
নিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
” ডিটার্জেন্ট খেয়ে আমি মাফিয়া বস হয়েছি জেড? তর গলা না কাটা পর্যন্ত আমার শান্তি মিলছে না। বিগত পনেরো বছর ধরে আমি তকে রক্ত দিচ্ছি। যার উছিলায় তুই শ্বাস নিচ্ছিস। কিন্তু তুই এমন এক কাজ করলি কিভাবে? কলিজা কেঁপে উঠে -নি একবার ও।
জেড স্টিলের চেয়ারে বসে বলে,
” তুমি পৃথিবীর হার্টল্যাস গ্যাংস্টার হলেও আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা অসীম ভাই। আমার সব অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ তোমার নামেই উৎসর্গ করা। তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। তবে জানি প্রানে মারবে না। প্রতিশ্রুতি বদ্ধ তুমি।
নিক আচমকা জেডের গলায় চেপে ধরে বলে,
” নিজের ব্যক্তিগত নারীর দিকে কেউ তাকালে হাজার বার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারে এই নিক জেভরান। প্রয়োজনে ধ্বংসে মেতে উঠবে। আই রিপিট ধ্বংসে মেতে উঠবে এরপর ও কাউকে সামান্য চোখ তুলে তাকাতে দিবে না। শালা মাদা** সেখানে তুই স্পর্শ করেছিস ওকে। এই হাত যদি আর এক মিনিট ও অক্ষত থাকে তাহলে তর মরণ কবুল।
নিক জেডকে ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। পিছনে ঘুরে বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। বদ্ধ রুমে আরও একটা রুমে ডুকে। যেখানে এনি পায়ের মধ্যে মুখ গুঁজে বসে আছে। নিকের উপস্থিতি অনুভব করে চোখ তুলে তাকায়। নিকের এই ভয়ানক চেহারা দেখে ঠোঁট কেঁপে উঠে। নিক এনির চোখের দিকে এক সেকেন্ড তাকিয়ে হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। এনি ব্যাথায় মৃদু কান্না করে উঠে। নিকের কান অব্দি গেলো না সেই শব্দ। এনিকে টেনে -হিচড়ে সেই অভিশপ্ত রুমে নিয়ে যায়। তাজা রক্তের গন্ধ নাকে আসতে এনি সামনে তাকায়। সামনে একজন বিদেশী সুদর্শন পুরুষকে দেখে অবাক হয়ে যায়। হা করে তাকিয়ে থাকে লোকটার দিকে। নিশ্বাসের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। লোকটাও তার দিকে তাকাতে যাবে তার আগেই নিক সামনে চলে আসে। এনি আশ্চর্য হয় নিকের ব্যবহার। স্টিলের উপরে রাখা লম্বা দা*** হাতে তুলে গর্জে উঠে,
” এক পলক ও যদি আমার বউয়ের দিকে তাকিয়েছিস তাহলে শুধু হাত নয় পুরো শরীর কেটে টুকরোতে পরিনত করব।
” বউ ” এই শব্দটা যেন এনির কানে এক বিকট আওয়াজ করে তুলে। কি শুনলো সে, লোকটা তাকে বউ সম্মোন্ধন করেছে! সত্যি করেছে নাকি সপ্ন। লোকটা কি আসলে এনিকে নিজের বউ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে! এনির চোখে পানি টুইটুম্বুর। কিন্তু সেই ভালো -লাগার অনুভুতি বেশিক্ষন স্থায়ী হলো না। নিকের অনাকাঙ্খিত কথাতে থমকে যায়,
” এই দা*** হাতে নাও আর এক কোপে তার বাম হাত দেহ থেকে আলাদা করে ফেলো। অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে সমস্ত রাগ আর হিংস্রতা তোমার উপর দিয়ে যাবে। কুইক!
জেড ও যেন অনেক অবাক হলো। তবে কিছু বলে না। অনুভুতিহীনভাবে চেয়ারে বসে পড়ে। আর বাম হাতটা স্টিলের উপরে রাখে। যেন সে নিকের পোষা কুকুর। এনি রিতীমত ভয়ে কাঁপছে। এত বড় জঘন্য কাজ তাকে করতে বলছে? এই লোক তো জানে এনির রক্তে ফোবিয়া। তার পরও এইসব কাজ করিয়ে মানসিক আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলে। এনিকে দাডিয়ে থাকতে দেখে নিক ঘর কাঁপিয়ে হুংকার ছাড়ে,
” কথা কানে যাচ্ছে না আমার। শুনতে পাস নি আমার কথা? যখন নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাব তখন সামলাতি পারবি? ট্রাস্ট মি পুরোটা ঘূর্নিঝর যখন তর উপর দিয়ে যাবে তখন সামান্য চোখের পানি যদি আমি দেখেছি তাহলে খোদার কসম ধ্বংসলীলা চালিয়ে দিব। শান্ত আছি শান্ত থাকতে দে। দশ সেকেন্ডের ভেতরে ওর বাম হাতটা আলাদা করবে। ইফ ইউ ডিস ও বে মাই ওয়ার্ডস। দ্য কন সেক উয়েন্স ইজ ওয়োন্ট বি গুড। ডু ইউর ওয়ার্ক কুইক্লি। ফা**ক ইউ বেবিগার্ল।
এনি দুই কদম পিছিয়ে যায়। নিক ভয়ানক দৃষ্টি দিয়ে তাকায় জেডের দিকে। জেডের দৃষ্টি একদম শান্ত। যেন এখানে কিছুই হচ্ছে না। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে একটা ছুঁড়ি হাতে নেয়। এনি এখনও শক্তভাবে নিকের হাত চেপে ধরে রেখেছে। নিক এনির দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে,
” এমন চিপকা-চিপকি করছো কেনো? আমার স্পর্শ ঘৃনা লাগে। অথচ এখন পারছো না ভিতরে ডুকে যেতে।
ভয়ের মধ্যে নিকের এমন খুঁচা মারা কথাটা যেন এনির গায়ে ছেৎ করে উঠে। চোয়াল শক্ত করে নিকের দিকে তাকায়। রাগে -কান্না করে উঠে। এক ঝটকায় হাতটা সরিয়ে ফেলতে যাবে তার আগেই নিকের কর্কশ কন্ঠ,
” খবরদার যদি হাতটা সরিয়েছো তাহলে ছুঁড়িটা ডাইরেক্ট গলায় চেপে ধরব।
এনি ধমকে কেঁপে উঠে। বিরক্তি নিয়ে পুনরায় তাকায়। নিক স্টিলের উপর অস্ত্রগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। এনি বিরবির করে বলে,
” সঠিক সময়ে খুঁচা দিতে ভালোই পারেন। এমন সামান্য আরিশ ভাইয়ের সামনেও যেতে দেন না। এখন এই অচেনা ব্যক্তির সামনে নিয়ে এসেছেন কেনো?
নিকের মুখ ভঙ্গিমা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। জেডের দিকে তাকিয়ে বলে,
” জেড!
নিকের শান্ত কন্ঠ শুনার সাথে সাথে জেড চোখ বন্ধ করে ফেলে। নিক এনিকে হেচকা টানে পিছন থেকে সামনে নিয়ে আসে। এনি হাতে অনেকটা ব্যাথা পায়। নিক সেসব পরোয়া না করে আদেশ করে,
” দশ সেকেন্ড সময় দিলাম।
এনি ফুঁপিয়ে উঠে,
” পারব না আমি।
নিক এনির চোয়াল চেপে ধরে বলে,
” বান্দির বাচ্চা তর কান্না দেখতে এনেছি আমি? হয় ওকে মারবি নয়ত তুই মরবি আজ।
এনি নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কি করেছি আমি? আমাকে কেনো শাস্থি দিচ্ছেন?
” তকে ও স্পর্শ করেছে। অশালীনভাবে ছুঁয়ার চেষ্টা করেছে। তর এই কোমড়ে আমার স্পর্শ থাকার কথা। পর -পুরুষের আঘাত কেনো থাকবে।
এনি চট করে তাকাতে চায় পিছনে। কিন্তু নিকের জন্য পেরে উঠে না। তাহলে এই লোক তাকে ছুঁয়ার চেষ্টা করেছে? কিন্তু কে এই লোক? উনার সাথে কিসের সম্পর্ক? আর এই পাপাচারে ঢেকে যাওয়া মিনারেই কি করছে? এনি শক্ত চোখে তাকিয়ে বলে,
” প্রয়োজনে নিজে হাত কাটুন। আমাকে টানছেন কেনো? আমি পারব না এইসব করতে।
” মায়া দেখাচ্ছিস কোনোভাবে?
নিকের শান্ত কন্ঠে এনি কেঁপে উঠে। এই শান্ত কন্ঠ ঝড়ের পূর্ভাবাস। এনি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বলে,
” যে আমাকে অশালীন ভাবে ছুঁয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তার জন্য মায়া দেখানো নিছক বিলাসিতা। মায়া নয় নিজের ভয়টাকে স্মরন করাচ্ছি আপনাকে। যেতে দিন আমাকে এখান থেকে।
” নিজের চাচাকে খুন করতে কলিজা কাঁপে নি? আজ কেনো কাঁপছে?
নিকের শান্ত অথচ ভয়ানক গলায় এনির শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। নিশ্বাস টেনে বলে,
” প্রতিশোধের নেশায় ডুবে ছিলাম তখন।
নিক এনির গলাটা শক্ত করে ধরে বলে,
” এইবারও প্রতিশোধ নিয়েই করবি। আমার জিনিসে অন্যকে স্পর্শ করতে কেনো দিলি? একটুর জন্য নিরাপদে রাখতে পারলি না। সামান্য সময়ের জন্য নিজেকে নিরাপদে রাখতে পারলি না। এখন তুমি যাবে আর নাহয়….
” নাহয় কি?
এনির আতঙ্কিত স্বর।
নিক বাঁকা হেসে বলে,
” তোমার সামনে ওর পুরো শরীর খন্ড-বিখন্ড করব।
এনি আতঙ্কে শিউরে উঠে। কান্না আটকে বলে,
” আপনার অতীত জানার পর একটু মায়া জন্মেছিলো। সেই মায়াটা মাটি চাপা দিবেন না। অনেক বড় দেয়াল তৈরি হয়ে যাবে।
নিক পৈশাচিকভাবে হেসে বলে,
“তুমি আমাকে আটকানোর জন্য যতগুলো দেওয়াল তুলবে, আমি ততগুলো দরজা তৈরি করবো। কারণ, নিয়ম ভাঙাটা আমার শখ, আর অসম্ভবকে সম্ভব করাটা আমার স্বভাব।
থেমে..
” দশ সেকেন্ড সময় দিলাম। এর ভেতরে যদি তুমি ওর হাত শরীর থেকে আলাদা করতে না পারো তাহলে গ্যাংস্টার বসকে দেখতে পাবে।
এনি ঘন -ঘন শ্বাস টেনে অস্থির হয়ে উঠে। হাত ছাড়া লোকটা বাঁচতে পারবে। কিন্তু খন্ড-বিখন্ড শরীর এনি দেখতে পারবে না। এনি পিছনে ঘুরে তাকায়। অস্থির পায়ে এগিয়ে যায় লোকটার দিকে। নিকের ঠোঁটে বক্র হাসি। এনি দা*** টা হাতে নিয়ে দুই ফোটা চোখের পানি ফেলে, চোখ বন্ধ করে ফেলে। এরপর এক কো**প বসায় জেডের হাতের উপর। শুধু মাত্র জেডের গলা ফাটানো আর্তনাদ সে শুনেছে। আর শুনার সাহস হয় নি। চোখ বন্ধ করা অবস্থায় দা*** মেঝেতে ফেলে সামনে ঘুরে তাকায়। মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে গিয়েছে তার। পিছনে তাকানোর সাহস নেই এই মুহূর্তে। এনি কোনোদিকে না তাকিয়ে এক দৌঁড়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। শুধু গ্যাংস্টার বসের ভয়ানক স্বর শুনতে পায়,
” তোমার শাস্থিতো এখনও বাকি মাই ফা**কিং বেবিগার্ল।
এনি শুনলো না। এক দৌঁড়ে অন্য একটা রুমে ডুকে যায়। দেয়াল কালো তার উপরে লাল ছোপ -ছোপ অনেক দাগ। রক্ত নাকি রং বুঝা মুশকিল। যে কেউ এখানে প্রবেশ করলে বলবে কশাইখানা। নিক এনির পিছনে পিছনে গুপ্ত রুমে ডুকে। এখানে চারটা স্টিল রাখা আছে। যেখানে মানুষ মেরে দেহ টুকরো -টুকরো করে। এনি সামান্য ঢোক গিলে। চারপাশে একদম পরিষ্কার কিন্তু তবুও গলা শুকিয়ে আসছে। অনুভব করতে পারছে এখানে বিকৃত কিছু হয়। পিছন থেকে নিকের অস্তিত্ব অনুভব করে আরও শিউরে উঠে। এই লোক আরও ভয়ানক। কোথায় যাবে এনি? কোথায় গেলে সে ভয় থেকে মুক্তি পাবে? কার আশ্রয়ে আশ্রয় নিবে সে। যদি লোকটা তাকে আবার ও বিকৃত দৃশ্য দেখিয়ে মানসিক যন্ত্রনা দেয় তাহলে এইবার সে মরেই যাবে। আর পারছে না এত পৈধাচিক দৃশ্য সহ্য করতে। নিক শব্দ করে এগিয়ে আসছে। এনি চোখ বন্ধ করে জামা খামছে ধরে শক্তভাবে। কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছে। ছোট ছোট সোনালি চুলগুলো সামনে এসে ল্যাপ্টে গিয়েছে। গোলাপি ঠোঁট জোড়া শুকিয়ে শুষ্ক হয়ে উঠেছে। চোখ -মুখ খিঁচে ধরে রেখেছে সে। ভয়ে গা ছমছম করে উঠে। এইভাবে পালিয়ে আসার কারনে কি করবে এখন? এই নরখাদকটা ছুঁয়েছে বলে কি তারও কোমড় কেটে ফেলবে! তাকে কি লোকটা আবার ও আঘাত করবে? চাবুক দিয়ে কি রক্তাক্ত করে ফেলবে? নাকি বিকৃত খুন দেখিয়ে মানসিক যন্ত্রনা দিবে। কোনটা করবেন উনি! সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছি। আল্লাহ হয় মরণ দাও নাহলে সুস্থ জীবন দাও। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে লড়াই করে আর বাঁচতে পারছি না। মরে যাচ্ছি আমি। আ…..
আর কিছু ভাবতে পারলো না এনি। ঘাড়ে কারোর গরম নিশ্বাস অনুভব করতেই চোখ খুলে ফেলে। এই স্পর্শ তার খুব পরিচিত। নিক এনির ঘাড় থেকে চুলগুলো সরিয়ে উন্মুক্ত ঘাড়ে নাক ঘেঁষে বিরবির করে বলে,
” কোমড়ের চামড়া খুলে ফেলি? চামড়া আলাদা করলে কি ব্যাথা পাবে?
এনি নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে শক্তভাবে। কি ধরনের কথা এইটা? শরীরের চামড়া খুলে ফেলার অফার দিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করছে ব্যাথা পাবে কি-না। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে কিছু বলতে গিয়ে ও থেমে যায়। কথা বলতে পারছে না সে। অতিরিক্ত ভয়ে কন্ঠ দিয়ে কোনো স্বর বের হচ্ছে না। কোমড়ে ঠান্ডা কিছুর স্পর্শ পেয়ে আরও সিটিয়ে যায়। এইটা হাতের স্পর্শ নয় সেটা ভালোভাবেই সে অনুভব করতে পারছে। ঠান্ডা ছুঁড়ির স্পর্শে শিরশির করে উঠে সর্বাঙ্গ। নিক এক হাতে ছুঁড়ি দিয়ে এনির কোমড়ে ছুঁরি ঘুরাচ্ছে। অন্য হাতে এনির চুল শক্তভাবে চেপে ধরে রেখেছে। ওষ্ঠ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘাড়ে -পিঠে। চুল -ছেড়ে দিয়ে জামার চেইন খুলে ফেলে এক টানে। এনি ভয়ের মধ্যেই চেঁচিয়ে উঠে। ফলে ধরে রাখা ছুঁড়িটা গিয়ে আঘাত লাগে উন্মুক্ত কোমড়ে। এনি ব্যাথায় চোখ-মুখ খিঁচে ফেলে। নিক এনির রিয়্যাকশন -চেঁচানোটাকে কানে তুলে নি। নিজের কাজে সে ব্যস্ত। তবে এনির অবস্থা নাজেহাল। ছুঁড়ি দিয়ে আঘাতের কারনে কোমড় ঝলসে যাচ্ছে। এইদিকে নিকের পাগলাটে স্পর্শ। হাতটা ধীরে ধীরে অবাধ্য হয়ে উঠছে। এনি কপালে ভাঁজ ফেলে। এই লোক এসেছিলো তাকে আঘাত করতে। আঘাত না করে এমন লুচ্চামি করছে কেনো? এনি চোয়াল শক্ত করে নিকের থেকে ছুটার জন্য ছটফট করে উঠে। নিজের কাজে বাঁধা পাওয়াতে গ্যাংস্টার বস রেগে হাতের বাঁধন শক্ত করে ফেলে। এনি ছটফট করে কোনোরকম উচ্চারন করে,
” ছাড়ুন আমাকে।
নিক প্রাগাঢ় ক্ষুব্দতায় এনিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ফেলে। নিকের লাল হয়ে যাওয়া হিংস্র চোখ দুইটা দেখে আন্তর আত্না কেঁপে উঠে। এই লোক এত ধ্বংসাত্বক ভাবে তাকাচ্ছে কেনো তার দিকে। এমন একটা নোংরা, খারাপ জায়গায় কি করতে চাইছে। নিক এনিকে জোড় করে স্টিলের উপর শুইয়ে দেয়। এনি ভয়ে কাঁপছে অনবরত। নিক শক্ত হাতে স্টিলের উপরে চার-পাশে চার কর্ণারে ঝুলিয়ে রাখা শিকলটা এক টানে খুলে ফেলে। এনি স্টিল থেকে উঠে দৌঁড় দিতে যাবে তার আগেই নিকের থাবার সম্মুখীন হয়। নিক এনিকে পুনরায় স্টিলের উপর ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এরপর এক টানে শিকলের সাথে হাত বেঁধে ফেলে। এনি আর ছটফট করছে না। সামান্য চেঁচামেচিও করছে না। কারন সে জানে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও এখানে দয়া মিলবে না। তার চোখের পানিতে কেউ গলবে না। তার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে একটা জানোয়ার। যে অতীতের কষ্টে বর্তমানে অমানুষে পরিনত হয়েছে। মানুষ হয়ে মানুষের সাথে যুদ্ধ করা যায়। কিন্তু একজন ক্ষমতাবিহীন নারী কিভাবে একটা মানুষরুপী জানোয়ারের সাথে যুদ্ধ করবে। কিভাবে বাঁচবে এখন? লোকটা কি সত্যি -সত্যি তার শরীরে চামড়া খুলে ফেলবে! নাকি তাকে আবারও ছুঁয়ে কলঙ্কিত করে ফেলবে। নিক পায়ে শিকল বেঁধে ঠান্ডা অথচ হিংস্র চোখে তাকায় এনির দিকে। এনির চোখ থেকে পানি টিপ-টিপ করে পড়ছে। নিক এক হাতে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে এনির দিকে এগিয়ে আসছে।নীল আলোতে দুইজনের অবয়ব কেমন নীলচে হয়ে আছে। নিক শার্টটা খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে। চোখ-মুখে কঠোরতা। রাগ-উন্মাদনা যে চেপে ধরে রেখেছে সেটা মুখেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এনি নিজের সামনে নিকের উন্মুক্ত শরীর দেখেই দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে। বাম হাতে আর গলার নিম্নাংশে ড্রাগণ ট্যাটু গুলো ঝলঝল করছে। দবদবে ফর্সা শরীরে অজস্র ক্ষতের চিহ্ন। নিক এনির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এনি চোখ বন্ধ করে সাহস জুগিয়ে বলে,
” কি করছেন? কি করতে চাইছেন?
নিক প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কেমন ঘোলাটে তার দৃষ্টি। এনি সেই দৃষ্টির ভাষা আন্দাজ করে চেঁচিয়ে উঠে,
” নির্লজ্জ চিতাবাঘ! গরুর মত যেখানে -সেখানে অশ্লিলতা শুরু করে দেয় । এইটা আপনার টর্চার সেল। এখানে বাসর করার মুড জেগেছে। এমন একটা অপবিত্র জায়গায় জালিমদের মত পবিত্র সম্পর্ক স্থাপনে লজ্জা করছে না? শয়তানে যখন চেপে ধরবে তখন ক্ষমতা ভাঙ্গা দরজা দিয়ে পালাবে। অসভ্য, ছাড়ুন বলছি আমাকে।
নিক এনিকে ছাড়লো না। এনিকে স্টিলের উপর রেখে ঠোঁট কামড়ে বলে,
” অপবিত্র জায়গাকে পবিত্র করার জন্য দোয়া পাঠ করা যাক। তবে সেটা যথাসময়ে পড়ব। যখন সঠিক সময় আসবে।
এনি নিকের বুকে ধ্বাক্কা দিতে দিতে বলে,
” নির্লজ্জ। আপনার মত এত বড় শয়তান থাকতে নতুন করে আবার কোন শয়তান আসবে।
নিক এনির ঘাড়ে মুখ গুঁজে। হাতটা চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠে ,
” বান্দির বাচ্চা ছটফট করিস না । পরে নিজেই ব্যাথা পাবি।
এনি ভয়ে কাঁপছে,
” আঘাত করবেন নাকি আবার ও স্পর্শে কুলষিত করবেন?
নিক এনির কাধ থেকে জামার অংশ এক টানে ছিঁড়ে ফেলে। এনি কেঁপে উঠে। নিক সেখানে উন্মুক্ত জায়গায় মুখ গুঁজে হিসহিসিয়ে বলে,
” এইভাবেই শান্তভাবে থাকবে। আমি কাছে আসলে শান্তভাবে আলিঙ্গন করবে। নাহলে গ্যাংস্টার বসের হিংস্র স্পর্শ সহ্য করতে হবে। শাস্থি তো তুমি পাবেই বেবিগার্ল। যতক্ষন আমার রাগ আর যন্ত্রনা না মিটবে ততক্ষন আমার নিচে পিষে যাবে।
এনির ইচ্ছে করছিলো চিৎকার করতে। এই লোকের স্পর্শ ভয়ানক। সহ্য করতে পারে না সে। যন্ত্রনায় বুক ফেটে যায়। মনে হয় এই বুঝি নিশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাবে। এনি সেই ভয়টা মনে হতেই অজান্তে ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে। এনির ফোঁপানোর শব্দ গ্যাংস্টার বসের কানে গেলো না। নিক এনির ঠোঁট দুইটা আকড়ে ধরে হিংস্রতা নিয়ে। এনি অতিরিক্ত ভয়ে নিস্তেজ হয়ে আসে। ব্যাথায় ছটফট করে উঠে। ধীরে ধীরে শরীরটা নেতিয়ে পড়ে। পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে। নিকে এনির গলায় নেমে আসতেই থেমে যায়। কপাল কুচকে মাথা তুলে এনির মুখের দিকে তাকায়। এনিকে চোখ বন্ধ করে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে পেট-টা মুচড় দিয়ে উঠে। কিন্তু রাগ আর জেদের কারনে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। মাঝপথে এনির এমন জ্ঞান হারিয়ে পড়াটা গ্যাংস্টার বসের রাগ আরও তীব্র হয়ে উঠে। রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করতে করতে ঘাড় পর্যন্ত চুল গুলো শক্ত করে খামছে ধরে,
” ফা*****! ফা****ক! জ্ঞান হারানোর আর সময় পেলো না।
নিক চোখ বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা চালায়। ঠোঁট কামড়ে ধরে সামনে তাকায়। ভ্রু কুচকে এনির দিকে তাকাতেই নিজের হুঁশ ফিরে। শিকলে বাঁধা নিস্তেজ এনিকে দেখে অস্থির হয়ে উঠে মন। বিরক্তি নিয়ে এক টানে হাতে -পায়ের শিকল খুলতে থাকে। শিকল খুলে তাকায় সেদিকে। দবদবে ফর্সা হাতে -পায়ে লালচে হয়ে গিয়েছে। নিক সেদিকে ঝুকে পর পর অনেক গুলো চুমু খায়। নিক এনির উন্মুক্ত পেটের দিকে তাকায়। দৃষ্টি ঘুরিয়ে উন্মুক্ত কোমড়ে ছুরি দিয়ে আঘাত প্রাপ্ত জায়গায় চোখ বুলায়। সেখানে ঠোঁট ছুয়ে দিয়ে মুখের দিকে এগিয়ে যায়। অদ্ভুতভাবে তাকায় এনির দিকে। নিকের শরীর দিয়ে ঘাম হচ্ছে। অস্থির হয়ে উঠেছে তার মন। এনির ঠোঁটে শক্তভাবে চুমু খেয়ে রাগ দেখিয়ে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪ (২)
” চুমুও খেলাম না, স্পর্শ ও গভীর করলাম না। তার আগেই অজ্ঞান! এই মেয়ে বাকি জীবন সামলাবে কিভাবে।
নিক এনিকে পাজা কোলে তোলে নেয়। খুলে ফেলা জামাটা এনির উন্মুক্ত শরীর দিয়ে ঢেকে ফেলে।
