লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২ (২)
লিজা মনি
শুভ্র বেড সিটের নরম বিছানায় শুয়ে থাকা অষ্টাদশী এক দৃষ্টিতে উপরে তাকিয়ে আছে। আর তার দিকে ঈগল পাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গ্যাংস্টার বস। নিকের এমন দৃষ্টি এনির নজর এড়িয়ে যায় নি। বরং এই নজর থেকে বাঁচার জন্য হাঁশ -ফাঁশ করতে থাকে। এনি শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” এইভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? আ… আর ওই লোকটা কি মরে গিয়েছে?
নিকের কপাল কুচকে আসে,
” রক্তে ফোবিয়া থাকা মেয়েটা ও পর পর খুন করে যাচ্ছে। তুমি তো দেখছি আমার থেকেও বড় কিলার।
এনি বিছানার চাদর খামছে ধরে। চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে বলে,
” আমিও আপনার মতই খুনী তাই না?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে,
” এক বনে শুনা যায় দুইজন সিংহের রাজত্বে চলে না। অথচ এক রুমে থেকে দুই সিংহ মিলে রাজত্ব চালাচ্ছে। ইন্টারেস্টিং তাই না বেবিগার্ল!
এনি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলে,
” আমি এতটাও সাহসী নয়। পরিস্থিতি আমাকে এমন হতে বাধ্য করে। বার বার খুনের আসামী হয়ে যায়।
নিক গ্রিবাদেশ নাড়ায়,
” আমার বউ। আমার মতেই হবে।
এনির গলায় চোখ যায়। লাল হয়ে জায়গাগুলো স্পষ্ট।নিকের দৃষ্টির রং বদলাতে থাকে। ধীরে ধীরে কঠোর হতে থাকে চোয়াল। ঘন -ঘন নিশ্বাস টেনে এনির গলায় প্রথমে নরমভাবে হালকা স্পর্শে করে। কিন্তু সেই নরম স্পর্শ ছিলো সাময়িকের জন্য। নিকের হাতের শক্ত চাপ গিয়ে লাগে এনির গলাতে। ক্ষত-বিক্ষত এনি দুর্বল শরীর নিয়েই ছটফটিয়ে উঠে। লম্বা শ্বাস টানে। চোখ থেকে বিরতহীন ভাবে পানি পড়তে থাকে। পানিতে ভরে উঠা চোখ দুইটা নিয়েই নিকের দিকে তাকায়। নিকের পৈশাচিক চোখ দুইটা তাকে কাঁপিয়ে তুলে। নিক চোখ বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস টানে। হাতের বাঁধ ধীঁরে ধীরে নরম হয়ে আসে। এক ঝটকায় এনির বুকের উপর থেকে চাদরটা সরিয়ে দেয়। নীল টি – শার্টটা উপরে তুলে। পেটের এক পাশে সেলাইয়ের জায়গাটা দৃশ্যমান হয়ে উঠে। নাভির নিচে কারোর নখের আচর এড়ায় না। সেলাইয়ের পাশে অগণিত চুমু খায়। এইদকে এনি হতভম্ভ হয়ে যায়।গ্যাংস্টার বস ছন্নছাড়ার ন্যায় উন্মাদের মত নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে। তার নিশ্বাসের শব্দ পুরো রুম জুড়ে বিচরন করছে। এনি চোখ বন্ধ করে রেখেছে। ভয়ে শিউরে উঠছে বারবার।
নিক দাঁত পিষে চোয়াল শক্ত করে ক্ষতের দিকে তাকায়,
” খোদার কসম করে বলছি এই শরীরে যে সামান্য স্পর্শ করেছে তাকে আমি নরকের থেকেও বেশি কষ্ট দিয়ে মারব। এতদিন অনেক ছাড় দিয়েছি ব্লাডি বিচ গুলোকে। সবার জীবনের অন্তিম মুহূর্ত গুলো চলে এসেছে। এই যন্ত্রনা, এই চোখের পানি, এই রক্ত সব আমি লক্ষ গুণ ফিরিয়ে দিব। যত ফোটা রক্ত এই শরীর থেকে নির্গত হয়েছে তার থেকে ও হাজার গুণ রক্ত দিয়ে আমি আফ্রিকার রাস্তা রাঙ্গাব। যতটুকু যন্ত্রনা নিয়ে এই চোখ দুইটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তার থেকে কোটি গুণ যন্ত্রনা পাবে। পুরো দেশ, আকাশ -জমিন, চন্দ্র -সূর্য দেখবে নিক জেভরানের স্ত্রীর শরীরে আঘাত করার পরিনতি ঠিক কতটা যন্ত্রমাদায়ক।
এনি মুখে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠে,
” আমি খুব খারাপ তাই না? আমার ভাগ্য তো আল্লাহ নির্ধারন করেছে। ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে। তাই বলে এতটা জঘন্য না হলেও পারত। বুঝে উঠার আগেই প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেললাম। নিজের অস্তিত্ব অনুমান করার আগেই বাবা -মায়ের বিকৃত রক্তাক্ত লাশ দেখেছি। বাপ হারালাম। মা হারালাম। সম্মান -ইজ্জত সব হারিয়ে ফেললাম। যে চাচা বাবার সমতুল্য হয়। সেই আপন চাচার কু নজরে পড়েছি দিনের পর দিন। ভালোবাসার বদলে পেয়েছি লালসা। এক পর্যায়ে তাকেও খুন করলাম। তাও এমন ভাবে যেটা আমি সজ্ঞানে দেখলে কখনো টিকতে পারতাম না। ভাগ্য আমার সহায় হলো না। একের পর এক পুরুষের কালো নজর আমাকে শেষ করে দিচ্ছিলো। পাচার হলাম। নিলামে উঠলাম। রক্ষিতা হলাম। টর্চারের স্বীকার হলাম। এক পর্যায়ে কারোর নাম মাত্র বউ হয়ে গেলাম। নাবালক থেকে সাবালক ও হতে পারলাম না। আঠারো বাছরের জীবনে এত এত ভিবৎস্য ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি যে এখন আর উঠে দাড়ানোর শক্তি নেই। হাঁপিয়ে উঠেছি। শক্তি সব ফুরিয়ে গেছে শরীরের। চারপাশে অন্ধকার শুধু। নিশ্বাস – আছে কিন্তু প্রান নেই। আমি বেঁচে আছি কিন্তু এই বেঁচে থাকা আমার মরণ সমতুল্য। আমার ধ্বংসের মুল কারন এই ফাকিং সৌঁন্দর্য। আপনার কাছে মিনতি করছি এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিন আমার মুখটা। প্রয়োজনে পুরো শরীরে এসিড ঢেলে দিন।
এনি কথাটা শেষ করতে পারে নি। তার আগেই নিক এনির চোয়াল শক্ত ভাবে চেপে ধরে। নিকের রেগে যাওয়া দেখে তাচ্ছিল্যভাবে হাসে। রক্তাক্ত ধূসর চোখ দুইটার দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে বলে,
” রাগ করছেন? এইটা ভেবে যে আমি কুৎসিত হয়ে যাব। আমি অসুন্দর হয়ে গেলে আমকে স্পর্শ করবেন কিভাবে। আমার কাছে আসবেন কিভাবে। অসুন্দর,
কুৎসিত হলে তো তখন আসতে রুচিতে বাঁধবে। আন্ডারগ্রাউন্ডের বস আপনি। তখন হয়ত ধ্বাক্কা মেরে নিজের বাড়ি থেকে বের করে দিবেন। শেয়ালে খেলো নাকি মানুষরুপী নরখাদক খেলো সেটাও দেখবেন না। তখন অবশ্য কেউ পাচার কেন্দ্রেও নিবে না। কোনো পুরুষ আমার দিকে কু নজর দিবে না। মাফিয়ারা আমার সম্মান – আমার অহংকার নিলামে তুলবে না। আমিতো সেটাই চাই। সবাই আমাকে এড়িয়ে চলুক। আমার মুখ দেখে যাতে সবাই ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিক।
এনির কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। এনির দুইটা ঠোঁট চুম্বকের মত আকড়ে ধরে। এনির চোখ বড় বড় হয়ে যায়। নিক চুমুর বদলে ঠোঁটের নরম অংশ কামড় বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে এনি ব্যাথায় গোঙ্গিয়ে উঠে। নিক পুনরায় চুমু খেলো না। যতটা রাগ নিয়ে সে ঠোঁটে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো ঠিক ততটা রাগ নিয়েই এনির চোখে চোখ রাখলো। এক হাতর আঙ্গুল দিয়ে এনির রক্তাক্ত ঠোঁটে চেপে ধরলো। এনি নাক -মুখ খিঁচে নেয় সাথে সাথে। এনির ব্যাথাটাকে নিক তোয়াক্কা করলো না। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” আমাকে রাগানোর জন্য তোমার মুখের বাক্যই যথেষ্ট।কিন্তু এই দৃষ্টি আমাকে থামিয়ে দেয়। তবে আমার হাত চলে বেশি। এই মুহূর্তে ক্ষত -বিক্ষত না থাকলে প্রতিটা শব্দের জন্য অগণিত থাপ্পর এই নরম গালে পড়ত।
থেমে আবার ও নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে,
” ট্রাস্ট মি বেবিগার্ল ক্ষমতা থাকলে এই মুহূর্তে তর পুরোটা শরীর এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলতাম। কিন্তু তর আর্তনাদ, ছটফট করার দৃশ্য কে সইবে। গ্যাংস্টার বসের আছে কি সেই ক্ষমতা? বল বান্দির বাচ্চা!
শেষের লাইনটা এতটা গর্জন দিয়ে বলেছে যে এনির পুরো শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠেছে। সে যখন প্রায় চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলো তখন নিকের উন্মাদ আচরন সে একটু হলে ও দেখেছে। চিনতে পারে নি এই বেপোরোয়া -ছন্নছাড়া মানবটাকে। এই লোকটা তো একটা মনস্টার। কিন্তু সেদিন এমন উন্মাদ কেনো হয়ে গিয়েছিলো। এনির চোখে এখনও সেই দৃশ্য ঝাপসা ভাবে দৃশ্যমান। নিক ওর দুই গালে হাত দিয়ে বলছিলো,
” এই চোখ খুল। তর কিছু হলে শ্বাস নিতে পারব না আমি। জান আমার জীবনেও আর আঘাত করব না তকে। তবে আঘাত করব সেটার পরিমান কম। শুয়রের বাচ্চা চোখ খুলে রাখ। শালী আমি ছোট থেকেই হতভাগা। মা নেই। বাবা নেই। বিশাল এই পৃথিবীতে আমি একা। আমার মত এতিমের ভাগ্যে হয়ত সুখ ও নেই । কুত্তার বাচ্চাদের সহ্য হচ্ছিলো না, আমার জীবনে কেউ এসেছে। জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত বাপ ছাড়া কারোর ভালোবাসা পায় নি। মাদার্ফাকদের কলিজা জ্বালা করছিলো নিক জেভরানের সুখ দেখে। তার পরিবার হয়ে যাবে এইটা ভেবে। বউ চাই আমার। খবরদার চোখ বন্ধ করলে ধ্বংস চালিয়ে দিব। ওদের টার্গেট ছিলো গ্যাংস্টার বসের প্রানভোমড়া। আমার প্রানভোমড়া এতটা ও দুর্বল নয় যে একটা ব্লাডি বিচের আঘাতে নেতিয়ে পড়বে। এই গল্পের সহজ -সরল মেয়েটি তুমি হলে এই গল্পের সব থেকে ভিবৎস্য রমণী ও তুমি। কলিজা আমার শ্বাস বন্ধ করবে না। চোখ বন্ধ করবে না। প্রয়োজনে নিজের জীবনে ত্যাগ করব এরপর ও তোমার সুরক্ষা নিশ্চিত করব। এই পৃথিবী অনেক নিষ্ঠুর জান। টিকে থাকতে হলে যুদ্ধ করতে হয় প্রতিনিয়ত। আমি চোখ বন্ধ করলে কেউ নেই তর। একা বাঁচতে পারবি না দুই মিনিট। তুই চোখ বন্ধ করে ফেললে আমার ও কেউ নেই। তুই মরে যেতি কালো হাতের থাবায়। আর আমি মরব হৃদয়ের রক্তক্ষরণে।
এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে। কথাগুলো এখনও তার কানে বাজে। এরপর কি হয়েছে জানা নেই।
বাহিরে ও হয়ত নিকের এই চিৎকারের শব্দ গিয়েছে। কিন্ত কেউ আসার সাহস নেই। করিডরের সামনে গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। কারোর আসার ক্ষমতা নেই এই রুমে। অধিরাজ বসে ছিলো একটা চেয়ারে। নিকের চিৎকারে শুকনো ঢোক গিলে গলা ভেজায়। বসের রাগ অধিরাজ সব থেকে কাছে দেখেছে। নিক রেগে গেলে কারোর কাচা মাংস চিবিয়ে খেতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু সেই পর্যন্ত এখনও যায় নি। মাংস খেতে দেখে নি কখনো সে। অধিরাজ ঠোঁট ভেজায়।
নিক কথাটা বলেই এনির কাছ থেকে সরে যায়। রাগে কাঁপছে তার শরীর। সেটা চোখ মুখ দেখলেই বুঝা যায়। নিক দরজার কাছে আসতেই থেমে যায়। কোনো এক সাধারন বাক্য গ্যাংস্টার বসের রাগ কোথাও বিলীন হয়ে যায়। চোখে-মুখে ভেসে উঠে অপ্রত্যাশিত বিস্ময়।
” পাঁচ মিনিট জড়িয়ে ধরে রাখবেন আমায়। কথা দিচ্ছি পাঁচ মিনিট শুধু।
নিক ঘুরে দাঁড়ায়। আশ্চর্য হয়ে এনির দিকে তাকিয়ে থাকে। নিকের ভাষা হয়ত এনি বুঝেছে। এরপরও খুঁচা মেরে ছাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
” শরীরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে আসতে চাইছেন না। সামান্য সেলাই পড়েছে মাত্র, এতেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
নিকের চোয়াল খানা শক্ত হয়ে যায়। বড় বড় পা ফেলে এনির কাছে যায়। সরিয়ে দেওয়া চাদরটা ঠিক করে দিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” এই কথার অপরাধে এখন তোমার নাজেহাল অবস্থা হত। তোমার চিৎকার পুরো হসপিটালের মানুষ শুনত। আর তোমার ছোট….
নিকের কথা শেষ করতে পারলো না। অসমাপ্ত রেখেই এনি নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,
” কি করতেন? আঘাত করতেন? নিজের অসুস্থ স্ত্রীকে আঘাত করতে আপনার খারাপ লাগবে না।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে মৃদু হাসলো। এনির গালে ঠোঁট ঘেষে বলে,
” উহুম মাই ফা*কিং লেডি । জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার মত ক্রিকেট ম্যাচ খেলতাম। হসপিটালের বেডটা অনেক নড়বড়ে। বেড ভাঙ্গার কাজ করতাম।।তোমাকে শাওয়ারের কাজে ভুগাতাম। গ্যাংস্টার বসের হাতে আবার ও নিজের সব কিছু হারাতে।
এনি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলে। মিনমিন সুরে বলে,
” আপনার মত নির্লজ্জ পুরুষ জীবনে একটাও দেখিনি নি। মুখ তো নয় যেন এটম বোমা।
নিক অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” সব উপরওয়ালার পবিত্র দান। বউ দেখলে শুধু মুখ নয় আরও অনেক কিছুই চলে।
এনি চোয়াল পিষে চোখ রাঙ্গায়,
” চুপ করবেন আপনি। কিসব অশ্লীল কথাবার্তা, ছিহহহ। কিছু করতে হবে না আপনাকে। কোথায় যাচ্ছিলেন, চলে যান।
নিক গম্ভীরতা টেনে বলে,
” যাবো বেবিগার্ল, এখনই যাব। অনেক বড় খেলা যে এখনও বাকি।
এনি চট করে তাকায় নিকের দিকে,
” ক.. কিসের খেলা।
নিক বাঁকা হাসে। এনির মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। এনি হার্টল্যাস পুরুষটার শরীর ঘাণ নেয়। মাতাল করা ঘ্রাণ এইটা। যা অষ্টাদশীর হৃদয়কে তুলপাড় করে দেয়। এনি চোখ বন্ধ করে বলে,
” ঘৃনা করি আপনাকে নিক জেভরান। প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে সমুদ্রে যত ঢেউ উঠে তার থেকেও বেশি ঘৃনা করি। এই ঘৃণার পরিমাপ নেই। আপনার জন্য মায়া কাজ করে না।
নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো,
” এই ঘৃনার ভাগ ও আমি কাউকে দিব না। এইটাও আমার ব্যক্তিগত সম্পদ। যাকে ঘৃনা করো তার বুকেই শান্তির নিশ্বাস ফেলছো। তোমার চিন্তাভাবনা উদ্ভুত মাই ফা*কিং রোজ।
এনি থমথমে খেয়ে যায়। নিকের বুক থেকে মাথা তুলার জন্য যুদ্ধ শুরু করে। নিক ছেড়ে দেয়। এনি বুক থেকে মাথা তুলে বিরবির করে উঠে,
” লোকজন খোঁটা দেওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত থাকে। শয়তান কোথাকার!
নিক দাঁত পিষে শক্ত গলায় করে ধমকে উঠে,
” মুখ দিয়ে গালি বের করলে থাপরিয়ে কানের তালা ঝুঁলিয়ে দিব বিয়াদব।
এনি চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” আর আপনি যখন সারাদিন -ফাক -ফুক ব্লা ব্লা উঠতে বসতে ভিবিন্ন গালি দিতে থাকেন তখন?
নিক এনির দুই গাল ধরে ওর দিকে ঝুঁকে যায়। নেশালো গলায় বলে,
” আমি খারাপ তাই আমি গালি দেয়। এই কন্ঠস্বর, এই ঠোঁট পবিত্র। আমার জন্য এইগুলো কোটি টাকার থেকেও দামী। এই জিনিসগুলোকে দুনিয়ার কোনো জিনিস দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। এইগুলো আমার জন্য অমুল্য রত্ন। এদের উপর বাজে প্রলেপ পড়তে দিলে বাজে কিছু ঘটিয়ে ফেলব। এই ঠোঁটে আমি স্পর্শ করে বার বার রক্তাক্ত করবে। ঘাঁ শুকানোর জন্য মলম লাগিয়ে দিব। ঘাঁ শুকিয়ে গেলে সেখানে পুনরায় আমার ওষ্ঠ আর দন্তের স্পর্শ পাবে। এই জবান আর ঠোঁটের সাহায্যে গালি যাতে দিতে না দেখি।
এনি শুকনো ঢোক গিলে। নিক একইভাবে ঝুঁকে অধিরাজের ফোনে টেক্সট পাঠায়। দুই -তিন মিনিটের মধ্যে দুইজন মহিলা ড. কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করে। নিক এখনও এনির উপর ঝুঁকে আছে। ড. রুমে প্রবেশ করে এদের এমন পরিস্থিতিতে দেখে অন্য কিছু ভেবে নেয়। পিছন থেকে মনে হচ্ছে তারা কোনো ভালোবাসায় লিপ্ত। ড. দুইজন অপ্রস্তুত হয়ে গলা কেঁশে বলে,
” মি নিক কিছু লাগবে?
ডাক্তারদের কন্ঠ পেয়ে এনি থতমত খেয়ে যায়। নিকের বুকে হাত দিয়ে ইশারা করে সরে যাওয়ার জন্য। নিক চোখ রাঙ্গাতে গিয়েও থেমে যায়। এনির কাছ থেকে উঠে দাঁড়ায়। বুক টান টান করে এক হাত পকেটে গুঁজে গম্ভীর আওয়াজ তুলে বলে,
” আমার ওয়াইফকে আজ নিয়ে যাব। সব কিছুর ব্যবস্থা করুন।
একজন ড. অবাক হয়ে বলে,
” কিন্তু স্যার, অপারেশন কাল মাত্র হলো। উনি এখনও অনেক দুর্বল। সেলাইয়ের ক্ষত এখনও তাজা। আর চিকিৎসার সময় অনেক কিছুই আমাদের চোখে এসেছে। উনার মানসিক কন্ডিশন ও বেশ একটা ভালো নয়। হয়ত অনেক দিন বা বছর ধরে ট্রমাতে আছে। এখনও এই ট্রমার মধ্যেই পড়ে আছে। সময় এইভাবে চলতে থাকলে উনার শারিরীক সমস্যা হতে পারে।
নিক এক পলক তাকায় এনির দিকে। এনি নিজেও জানত না সে ধীরে ধীরে এত ট্রমাতে চলে যাচ্ছে। সেজন্য হয়ত মাঝে মাঝে নিজেকে মারাত্নক অস্থির লাগে। ইচ্ছে করে সব কিছু ধ্বংস করে দিতে। এনি চোখ নামিয়ে ফেলে। নিক এনির দিকে তাকিয়েই বলে,
” এই সব নিয়ে চিন্তা আপনাদের না করলেও চলবে। সম্পূর্ন নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাব। এখানে যা চিকিৎসা পাবে তার থেকে বিপুল পরিমান ভালো চিকিৎসা সে নিজের রুমে পাবে। মানসিক সমস্যা হলে হোক। আমাকে না ভুললেই হবে।
ড. থমথমে খেয়ে বলে,
” স্যার আপনি কি অন্য জায়গা থেকে ড. আনার কথা ভাবছেন? দেশের বাহির থেকে?
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” আমার থেকে বড়. ডাক্তার আর কে আছে।
ছত্রিশ বছর বয়সী ডাক্তারটা অবাক হয়ে বলে,
” আপনি ড. পড়াশুনা করেছেন কবে? আমার জানামতে আপনি তো একজন গ্যাংস্টার।
নিক চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে বলে,
” এইজন্য আপনাদের সংসার টিকে না। এত বাল মার্কা প্রশ্ন করতে বলেছি আপনাদের। ডাক্তার, ডাক্তারের মত থাকবেন। অতিরিক্ত বকবক করলে শরীরটা থেকে মাথাটা আলাদা করে ডাস্টবিনে ফেলে দিব। প্রতিনিয়ত জামাইর চুমু দিনে মিনিটে মিনিটে খেলে বউ এমনিই সুস্থ হয়ে যায়।
নিক থেমে যায়। সামান্য ধমক দিয়ে বলে,
” ব্যবস্থা করুন সব কিছুর।
ডাক্তার দুইজন নিকের ধমাকানো আর নির্লজ্জ কথায় থতমত খেয়ে যায়। ব্যবস্থা করার জন্য বের হয়ে যায় রুম থেকে।
এনি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এইটা কোনো জাতের মানুষ আল্লাহ। ধমকানো ছাড়া কোনো কথা বলতে পারে না। ভাই তুই খারাপ আর নৃশ্যংস সেটা আমরা সবাই জানি। তাই বলে এইভাবে কথা বলবি।
” একজন আপনার বড়। আরেকজন আপনার মায়ের বয়সী। নিজের মায়ের বয়সী একজন মহিলার সাথে এইভাবে কথা বলতে খারাপ লাগে না?
নিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়। দেখেই বুঝা যাচ্ছে রেগে যাচ্ছে। এনির মস্তিষ্ক সজাগ হয়। নিক মা নামক শব্দটা সহ্য করতে পারে না। লোকটা কি আবার রেগে যাবে? তীব্রভাবে আঘাত করবে তাকে? শুকনো ঢোক গিলে রমণী মিহি সুরে বলে,
” সরি। প্লিজ রাগ করবেন না।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” তোমার সাথে রাগ করেও এখন লাভ নেই। আপাযত কিছু করতে পারব না। আর মহিলা মানুষের সাথে রস মিশিয়ে কথা বলার মত পুরুষ আমি নই।
এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” এইজন্য আমার সাথে এতটা বাজে ব্যবহার করেন? আমাকে যন্ত্রনা দেন। কখনো মানসিক কখনো শারিরীক।
নিক এনিকে দুই হাত দিয়ে আলগোছ কোলে তুলে নেয়। এমন ভাবে নেয় যেন এনি ছোট একটা বাচ্চা। একটু চাপ লাগলেই ব্যাথা পাবে। নিক কোলে তুলে তাকিয়ে বলে,
” এইটার নামই বউ জাত। পুরো রাত সোহাগে ডুবিয়ে রাখলেও দিনে কি করেছি সেটা মনে রাখবে।
এনি চোখ বন্ধ করে নেয়। কথা বদলে ঠোঁট চেপে ধরে নিজের,
” এত তাড়া কিসের আপনার? দুই দিন না যেতেই ওই জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছেন কেনো? আর এইভাবে নিয়ে যাচ্ছেন, যদি ব্যাথা পায়?
নিক হাটা ধরে,
” আমার থেকে নিরাপদ স্থান তর জীবনে আর একটাও নেই। আর বাড়িতে তো যেতেই হত। তোমার জন্য তো গেইম অপেক্ষা করছে বেইবি।
রাতের শেষ প্রহর। এখনও আবছা অন্ধকার। ধরনীতে সামান্য আলো ফুটেছে মাত্র। নাজলী ঘুম থেকে উঠে কেন্দ্রের দিকে চলে যায়। রিদ্ধিমা মেয়েটা প্রচুর মিশুক। মেয়েটা গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গিয়েছে কখন হয়ত নিজেও টের পায় নি। কিন্ত নাজলী পুরো রাত চোখের পাতা এক করতে পারে নি। ভেতরে একটাই টেনশন নিক, এনি, নাভিদ, প্রতিটা ব্যক্তিকে ঘিরে। কাউকে বাঁচানোর তাগিদে। আবার কারোর থেকে বাঁচার তাগিদে। বর্তমানে নাভিদের খোঁজে সে অস্থির। নাভিদের নম্বরটা সে মনে করতে পারছে না। নাভিদের নম্বরের শেষ সংখ্যাটা দুইটা ভুলে গিয়েছে। এখন কি করবে সে নিজেই হতাশ। নাজলী হাটতে হাটতে একটা নির্জন রাস্তার সামনে এসে পড়ে। হুট করে কোথা থেকে যেন একটা কালো গাড়ি ঝঁড়ের গতিতে এসে থামে। নাজলী ভয়ে অনেকটা পিছিয়ে যায়। গাড়িটা এতটা বেগে ব্রেক কষেছে যে একটুর জন্য এক্সিডেন্ট করে ফেলত। গাড়িটা থামার সাথে সাথে সাথে নাজলী কিছু বিশ্রি গালি প্রয়োগ করে। রাগে কিড়মিড়িয়ে বলে,
” মাতালের বাচ্চা। গাড়ি চালানোর সময় খবর থাকে না? নাকি মানুষ মনে হয় না লোকেদের।
নাজলী রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করছে। গাড়ির দরজা খুলে নেমে আসে একজন শক্তপোক্ত দেহের লোক। লোকটার রাগান্বিত দৃষ্টি নাজলীর দিকে। নাজলী রাগ দেখিয়ে আরও কিছু বলতে যাবে মুহূর্তেই থেমে যায়। সামনে থাকা পুরুষটাকে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। মনে পড়তে থাকে রাতের সেই অন্ধকার নরকময় দৃশ্যগুলো। ঘৃনায় গা গুলিয়ে আসে তার। আরিশ চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে গাড়ির ভেতরে ছুঁড়ে মারে। নাজলীর দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলে,
” ইচ্ছে তো ছিলো গাড়ির নিচে পিষে ফেলি। বাট আফসোস সরে গেলে।
নাজলী দুর সমুদ্রের দিকে তাকায়। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” আপনার এড়িয়া থেকে চলে এসেছি। এখনও শত্রুতা কিসের আপনার? অন্যকে না পিষে নিজেই পিষে যান। তাহলে অন্তত একটু মুক্তি পাব।জানোয়ার কোথাকার!
আরিশ চোয়াল শক্ত করে বলে,
” মুখটা কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিব ফাজিল। গাড়িতে উঠো। ফার্স্ট!
নাজলী চোখ ছোট ছোট করে ফেলে,
” মাথা ঠিক আছে আপনার? আমি উঠব? তাও আপনার গাড়িতে? সপ্ন দেখতে দেখতে চলে এসেছেন নাকি? প্লিজ বাড়িতে গিয়ে লম্বা শাওয়ার নিন। এতে মাতাল ভাবটা কেটে যাবে।
আরিশ রাগে কপালে ঘেষে আঙ্গুলের সাহায্যে। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” আমাকে রাগিও না। চলো আমার সাথে?
নাজলী ও একই ভঙ্গিতে বলে,
” আপনারা ক্ষমতাধর শক্তিশালী মানুষ। আপনাদের রাগানোর সেই শক্তি আছে আমার বলুন? যদি রেগে যান দেখা যাবে রাতের অন্ধকারে গাড়ির ভেতরে আমার ধ্বংসলীলা চালানো শুরু করেছেন। এরপর দুই একজন সঙ্গী এসে আমার মৃত দেহটাকে নিয়ে যাবে। এইটাই পরিনতি হবে।
আরিশ ভ্রু কুচকে ফেলে। সামনে এগিয়ে যায়। নাজলীও সামান্য পিছিয়ে যায়। অথচ তাদের দুরত্ব অনেকখানি। আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” সারাদিন স্বামী – স্বামী বলে চিল্লাতে থাকা মেয়েটা আজ পিছিয়ে যাচ্ছে কেনো?
নাজলী হেসে বলে,
” আপনি ক্রিমিনাল লিডার হয়ে এত বোকা চিন্তাভাবনা ধরে রেখেছেন। আই নো আপনি নিজেও জানেন আপনাকে জ্বালানোর জন্য এইসব বলতাম। যাতে আপনি জ্বলে -পুড়ে অতিষ্ঠ হয়ে যায়। যাতে মুক্তি দেন আপনার অন্ধকার কুঠুরি থেকে। বিশ্বাসঘাতক জানোয়ার!
আরিশ দাঁত পিষে,
” বালের মহিলা মানুষের বুদ্ধি যে হাটুর নিচে এইটার জ্যাঁন্ত প্রমান তুমি। তোমাকে নিয়ে রং-তামাসা করার জন্য আরিশ বিয়ে করে নি। এইটা নিকের আদেশ ছিলো। তোমার পিছনে অনেক জলাতঙ্ক কুকুর লেগেছিলো। এদের থেকে বাঁচানোর জন্য বগান বাড়িতে বন্ধী করে রেখেছে। আর এইসব বিয়ের সাইন ইটস নরমাল। এইসব কে মেনে বসে থাকবে। চুক্তির বিয়ে তো তুমিই অফার করেছিলে।
নাজলী কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। মুখ দেখে বুঝায় যাচ্ছে আরিশের কথা বিশ্বাস হয় নি।
” মিথ্যে বলতে এসেছেন? আর কি চাই? এমন মিথ্যে কেনো বলছেন? আর আমি চুক্তির বিয়ে এই কারনে করতে চাইছিলাম যাতে আপনার তথাকথিত বউ হয়ে আমার বোনের সান্নিধ্যে যেতে পারি। আপনার সাথে সংসার করার জন্য নয়। আপনাকে যখন চুক্তির কথা বলেছিলাম তখন তো চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আমার। যদি আগে থেকে আমাকে বাঁচানোর ইচ্ছে থাকত তবে চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন কেনো তুলেছেন?
আরিশ গম্ভীর গলায় বলে,
” প্রশ্নের বিপরীতে উত্তর দিতে আমি বরাবর এই অনাগ্রহী। কেউ প্রশ্ন করলেও রেগে যায়। তবে আজ তোমার প্রশ্নের একটা উত্তর দেওয়া যাক। তোমাকে বিয়ে করার কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না আমার। তুমি যখন আমার সাথে কথা বলছিলে তখন নিক আমার ফোনে কানেক্ট ছিলো। তোমার কথা ও সবই শুনেছে। তোমার কথা ডুকছিলো এক কান দিয়ে আর নিকের কথা ডুকছিলো অন্য কান দিয়ে। যখন তুমি বিয়ের অফার করো তখন আমি রেগে যায়। তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়ত বাজে কিছু ঘটিয়ে ফেলতাম। তখন জানতাম তুমি এনির বোন।। তাই অনেক কিছু থেকেই বেঁচে গেলে। তোমার প্রাস্তাব শেষ হতেই নিক জানালো আমি যাতে তোমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। দ্যান সহজেই রাজি হয়ে গেলাম। নাহলে তোমার কি মনে হয়। ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহাম কোনো কাচা খেলোয়ার। কেউ একটা অফার দিয়েছে আর সেটা হুর হুর করে গ্রহন করে ফেলেছে। আর সেটা যদি হয় মেয়েলী কাজ সেখানে আমি হাজার বার নাক ছিটকায়।
নাজলীর মাথা ভঁনভঁন করছে। ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” আমাকে শত্রুদের থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে?
আরিশ ঠোঁট চেপে বলে,
” নিকের শত্রুদের হাতে তোমার কিছু হয়ে গেলে এনি সারাজীবন নিককে ঘৃনা করত। মুলত এনি যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য তোমাকে বাঁচিয়েছে। নাহলে কে মরলো আর কে বাঁচলো এতে কিছু যায় আসে না। এমনিতেই দিনে কত জন মানুষকে মারি।
নাজলী আবার ও সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলে,
” সাহায্যের জন্য মি, জেভরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিবেন। জানি ধন্যবাদ দেওয়া উচিত নয় এমন মানুষকে। তবুও মানবতার জোরে দিয়ে দিলাম। এখন আপনি কি জানে মারার জন্য এসেছেন?
আরিশ কপাল কুচকে বলে,
” সব আমি করেছি আর তুমি নিককে ধন্যবাদ জানাচ্ছো? মারার জন্য নয় নিয়ে যেতে এসেছি।
নাজলী চট করে তাকায়,
” আপনি যা বলেছেন সেটার ভিত্তিতেই ধন্যবাদ জানিয়েছি। আপাযত আপনি এখান থেকে যেতে পারেন।
আরিশ দাঁত শক্ত করে বলে,
” গাড়িতে উঠো নাজলী।
নাজলী জেদ দেখিয়ে বলে,
” আশ্চর্য আমি কোথায় যাব?
” আমার বাড়িতে।
” আপনার বাড়িতে কেনো যাব আমি?
” তোমার উপর থেকে এখনও বিপদ কাটে নি।
নাজলী মেকি হেসে বলে,
” সেটা নিজেই লড়াই করতে পারব। হায়াত থাকলে দুনিয়ার এমন কারোর শক্তি নেই আমাকে প্রানে মেরে ফেলার। উপর ওয়ালা যেদিন ডাক দিব সেদিন সব থেকে নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ও সারা দিতে হবে। আর আপনার থেকে এমন সাহায্য নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে। এক জানোয়ার থেকে বাঁচার জন্য আরেক জানোয়ারের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়াটা হাস্যকর।
আরিশ ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে বলে,
” নাজলী তোমার অতিরিক্ত ত্যারা কথাটা আমার রেগে যাওয়ার প্রধান কারন।
” আপনাকে রাগানোর জন্যই তো বলি এইসব।
নাজলী কথাটা বলে আর দাড়ালো না। আরিশ রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় নাজলীর দিকে। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যায় নাজলীর দিকে। পিছন থেকে নাজলীর হাতটা মুচড়ে ধরে এক ঝটকায় গাড়ির কাছে নিয়ে আসে। গাড়ির সাথে চেপে ধরে রাগে চিবুক চেপে ধরে বলে,
” শুনতে পাচ্ছো না আমার কথা? নাকি বুঝতে পারছো না। বলেছি আমার সাথে যেতে।
হাতের ব্যাথায় চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে। নাজলী ভাঙ্গা গলায় বলে,
” জানোয়ার, ছাড়ুন আমাকে।
আরিশ ছাড়লো না। নাজলীর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বলে,
” টাকা নেই, ফোন নেই। পুরো রাত কোথায় ছিলে? কার সাথে ছিলে?
নাজলী আরিশের চোখে চোখ রেখে বলে,
” যেখানেই থাকি আপনাকে কেনো বলবো?
আরিশ শক্ত গলায় বলে,
” উত্তর দিতে বলেছি তোমাকে নাজলী। আমাকে হিংস্র হতে বাধ্য করো না।
নাজলী মুখ স্বাভাবিক করে বলে,
” আপনার হিংস্র রুপ ছাড়া আর কোনো রুপ কোনোদিন দেখিও নি।
” এর থেকেও দ্বিগুন দেখবে। কোথায় ছিলে তার উত্তর দাও।
” হোটেলে ছিলাম।
আরিস চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট! কোন হোটেল? টাকা ছাড়া হোটেলে কিভাবে থেকেছো?
নাজলী ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,
” হোটেলে টাকা লাগে না যেতে। বরং টাকা পাওয়া যায়। একজন বললো যেতে তাই গেলাম।
” ম.. মানে?
নাজলী ছোট ছোট তাকায় আরিশের দিকে,
” ওই যে আপনাদের প্রস্টিটউট ক্লাবের মেয়েরা যেভাবে যায়। ঠিক সেরকম।
নাজলী কথাটা বলে থেমে যেতে পারে নি। তার আগেই আরিশ হুট করেই গলাটা চেপে ধরে। এক হাত দিয়ে গাড়ির কাউচে ঘুষে মেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” শুয়রের বাচ্চা, এমন বাক্য বের করলে জবান টেনে রাস্তায় লোহা দিয়ে গেঁথে রাখব। প্রস্টিটউট ক্লাব আর ব্যশ্যা নগরী মানে চিনিস? কি মনে হয়, এতক্ষন সুস্থ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতি এখানে। জানোয়ারদের নিচে পড়েই মরে যেতি সাথে সাথে। এই চিনেপুটির মত শরীর নিয়ে যাবে প্রস্টিউক্লাবে। ওরা না মারলে ও এতক্ষনে আমার হাতে জিন্দা কবর হয়ে যেতি। সত্যি করে বল কোথায় ছিলি। আমি আড়াই ঘন্টা ধরে এখানে আছি। খবর অনুযায়ী এখানে আছিস। তার মানে আশে -পাশের কোনো একটা জায়গায় ছিলি। কার সাথে নাভিদ? নাভিদ কোথায়?
নাজলীর দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। চোখ দুইটা যেন বেরিয়ে আসবে। দুই হাত দিয়ে আরিশের বুকে ধ্বাক্কা দেয়। আরিশের কোনো হেলদুল না দেখে নাজলী হাটু দিয়ে একদম মেইন পয়েন্টে লাথি মারে। তীব্র ব্যাথায় সাথে সাথে আরিশ নাক -মুখ কুচকে ফেলে। নাজলীর গলা থেকে হাত সরে যায়। নাজলী গলায় ধরে কাঁশতে থাকে। নিশ্বাস নিতে নিতে বসে যায়। এইদিকে আরিশের নাজেহাল অবস্থা। গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁত কিড়মিড়িয়ে ধরে। যন্ত্রনায় মুখ লাল হয়ে গেছে। প্রায় দশ মিনিট দুইজন একইভাবে থাকে। আরিশ কিছুটা আরাম পেলে নাজলীর কব্জি ধরে হেচকা টানে দেয়,
” নিজের ভবিষ্যতের কিসের শত্রুতা তোমার? বার বার এখানে আ্যটাক করো কেনো?
নাজলী এখন ও শ্বাস নিচ্ছে। ওর গলা ব্যাথা হয়ে গিয়েছে। গলায় আঙ্গুলের দাগ স্পষ্ট। সামান্য কেঁশে বলে,
” আমার নয় আপনার ভবিষ্যত। এইটাই তো আপনাদের মেইন দুর্বলতা। আপনাদেরকে হুঁশে ফেরানো উচিত। এতে দুই একটা ভবিষ্যত নষ্ট হলে কিছু হবে না।
আরিশ তেরে যায় নাজলীর দিকে। নাজলী ভোঁ দৌঁড়। আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায়। সে নিজেও দৌঁড় দেয় নাজলীর পিছন -পিছন। নাজলী আরিশের থেকে বাঁচতে রিদ্ধিমাদের বাড়ির রাস্তা দিয়ে না গিয়ে, অচেনা এক পথে যেতে থাকে। নাজলী এমন ভাবে লাথি দিয়েছে যে এখন দৌঁড়াতেও সমস্যা হচ্ছে তার। কিন্তু এরপরও নাজলীর পিছু নিতে থাকে।পিছন থেকে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” ধরতে পারলে বাথটবে চুবিয়ে মারব.. বাল-ছাল কি হচ্ছে এইসব? আমি কেন দৌঁড়াচ্ছি। জাহান্নামে যাক এই মেয়ে।
এনিকে বিছানায় হেলান দিয়ে এমনভাবে বসিয়ে দেয় যাতে সেলাইয়ে ব্যাথা অনুভব না হয়। ফ্লোরে এখনও লোকটার মাথা কাটা লাশ। রক্তে ভাসছে মার্বেল টাইলস। এনির মাথা ঘুরে আসে এত রক্ত দেখে। মাথা ছাড়া লোকটাকে দেখে বমি আসার উপক্রম।এনি নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” লাশটাকে সরান নি কেনো এখনও?
নিক রহস্যময় হেসে বলে,
” উহুম মাই ফেকিং ওয়াইফি। লাশটাকে এখন খন্ড -বিখন্ড করে আমার সহকারী হান্টার আর শ্যাডো কে খাওয়ানো হবে।
এনি ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” রাগের মাথায় ছুঁড়ি ডুকিয়ে ফেলার সাহস থাকলে ও এমন দৃশ্য দেখার সাহস আমার নেই। প্লিজ দুরে নিয়ে যান এই লাশ। বমি চলে আসবে যে কোনো সময়।
নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
‘ যে রুমে এসে এই মাদার্ফাক সাহস দেখিয়েছে সেই রুমেই ওর তান্ডবলীলা চলবে।
এনি চোখ বন্ধ করে বলে,
” মিনারের সামনে বোম রাখা ছিলো। আপনি প্রবেশ করেছেন কিভাবে?
নিক গম্ভীর গলায় বলে,
” নষ্ট করে এসেছি।
” মানে? এত দ্রুত নষ্ট করে ফেলেছেন?
নিক চাপাতি হাতে নিয়ে বলে,
” নো বেবিগার্ল। এই কুত্তার বাচ্চা যখন মিনারে প্রবেশ করেছে তখই জেনেছি। ইভেন ওর প্রতিটা কার্য। কোথায় কোথায় স্পর্শ করেছে এই বিচ!
এনি অবাক কন্ঠে বলে,
” কিভাবে জেনেছেন? সিসি ক্যামেরা তো সব নষ্ট করে এসেছিলো।
নিক অদ্ভুত ভাবে তাকায় এনির দিকে,
” শরীরের দুরত্ব আলাদা হলেও চব্বিশ ঘণ্টা তুমি আমার নজরে থাকো। এখন কিভাবে সেটা, এইটা না জানলেও চলবে।
থেমে….
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২
” গ্যাংস্টার লিডার তো আর ঘাস কেটে হয়ে যায় নি। বোমের একটা আলাদা আওয়াজ আছে। আর সেটা আমরা কাছে আসলেই বুঝি। বোম নষ্ট করার জন্য আরিশের থেকে বড়।মাস্টার মাইন্ড আর কেউ আছে নাকি! দশ মিনিট দেরী হওয়ায় ভেতরে এই তান্ডব চলেছে। এখন আমার ধ্বংস চলবে। আগে খুঁজে বের করব কার লোক। এরপর সেই খেলোয়ারকে কোনো ছুঁড়ির আঘাতে নয় বরং বিষাক্ত সাপের গর্তে জ্যাঁন্ত কবর দিব।
এনি শীরর শিরশির করে উঠে। সাপ জিনিসটা ভাবতেই যেন নিশ্বাস ঘন হয়ে আসছে। শুষ্ক ঢোক গিলে বলে,
” বাহিরে এত গার্ড থাকতে ভেতরে প্রবেশ করলো কিভাবে?
নিকের শক্ত গর্জন,
” শত্রু যখন নিজের লোক হয় তখন চরম শত্রু খুব সহজেই ডুকতে পারে। যে গার্ড আমার টাকায় নুন-ভাত খেত। শালার জিন্দেগীহহ! সেই পিছন দিকে ছুঁড়িটা ডুকালো। এর মৃত্যু তো নরকের ন্যায় কঠিন হবে।
