Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২
লিজা মনি

রাতের শুনশান অন্ধকার এই মুহর্তে অভিশাপের মক্ত ঘিরে আছে। আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর ছাপিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সর্ববৃহৎ হাসপাতালটিও আজ সেই অন্ধকারের ভার বহন করছে। বহুতল ভবনের প্রতিটি জানালায় জ্বলে থাকা আলো বাইরে থেকে আশ্বাসের মতো মনে হলেও ভেতরে জমে আছে নিঃশব্দ উৎকণ্ঠা ও দীর্ঘশ্বাসের চাপা হিসাব।
এই বিশাল কাঠামোর এক প্রান্তে নিবিড় পরিচর্যার সীমাবদ্ধ কক্ষে এক রমণী কোনো মতে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। তার শ্বাস এখন আর স্বাভাবিক জীবনের প্রকাশ নয় এই মুহূর্তে। প্রতিটি নিঃশ্বাস যন্ত্রনির্ভর হয়ে আছে। প্রতিটি মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে করা এক অনিশ্চিত সমঝোতা। অচেতন দেহটি নিথর হয়ে পড়ে আছে।তবু সেই নিথরতার গভীরে চলছে এক নীরব লড়াই।যেখানে জয় কিংবা পরাজয়ের ঘোষণা কেউ দিতে সাহস পায় না। অপারেশনের পর শরীরটি যেন নিজেরই ভার বহন করতে ক্লান্ত। হৃদস্পন্দন চলছে কোনোরকম। কিন্তু দৃঢ়তার নিশ্চয়তা নেই। মনিটরের পরিমিত আলো তার মুখাবয়বে পড়ে জীবনের সীমারেখা টেনে দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। আর সেই সংখ্যার ওঠানামার মধ্যেই চিকিৎসকদের দৃষ্টি স্থির থাকে। কণ্ঠস্বর হয়ত নিচু হয়ে আছে। নির্দেশ সংক্ষিপ্ত পদচারণা সংযত। কারণ এখানে প্রতিটি শব্দই ভাগ্যের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই রাতটা যেন কেবল সবাইকে অপেক্ষা করতে শেখাচ্ছে। রমণীটি ঘুমে নেই চোখে। আবার জাগ্রতও নয়। সে বর্তমানে ঝুলে আছে জীবন ও শূন্যতার মাঝখানে। সময়ের নিঃশব্দ বিচারের অধীনে। বাইরে অন্ধকার আরও ঘন হচ্ছে ধীরে ধীরে।

অপারেশন থিয়েটারের দরজাটি নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে আছে । রমণীর বুকের গভীরে ঢুকে পড়া ছুরির আঘাত প্রাণঘাতী সীমা অতিক্রম করেছিল। তবু দক্ষ হাতের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে সে আপাতত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছে। তবে এই ফেরা চূড়ান্ত হয়ে উঠেনি এখনও। এটি কেবল এক অনিশ্চিত বিরতি। এনি শুয়ে আছে নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে। বুকের ওঠানামা যন্ত্রের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। হৃদস্পন্দন দুর্বল কিন্তু স্থির রাখার চেষ্টা চলছে। অচেতন দেহের চারপাশে নীল আলো, মনিটরের ক্ষীণ শব্দ, আর জীবনের সঙ্গে লড়াইরত প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব। শ্বাস নিচ্ছে কোনোরকম।
সমস্ত ডাক্তার বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। গ্যাংস্টার বসের আদেশ, দুনিয়া উল্টে যাক কেউ যাতে এখান থেকে এক পা ও না সরে। ড. চোখে ক্লান্তি। নিকের পাগলাটে ছন্ন-ছাড়া আচরনে সবাই ভয়ে সিটিয়ে আছে। কিন্তু গ্যাংস্টার বস কোথাও নেই। হসপিটালের চারপাশে কোনো অস্তিত্ব নেই। এনিকে যখন নিরাপত্তার সাথে হসপিটালে নিয়ে আসে তখন পুরো হসপিটালের পরিবেশ যেন পাল্টে যায়। একজন ড. নিককে চিনতে পারে নি। দশ মিনিট অপেক্ষা করতে বলে।

যে গ্যাংস্টার বস দুই মিনিট ও অপেক্ষা করে না কারোর জন্য। সেখানে ওর প্রান ভোমড়া ছুঁড়ি আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে সেখানে ড. তাকে বলে অপেক্ষা করতে। গ্যাংস্টার বস সময়ের অপেক্ষা করে নি। এনির কাছ থেকে সরে গিয়ে সোজা ড. গলা চেপে ধরে।ড. জিহ্বা বের হয়ে যাচ্ছে কিন্তু নিকের ছাড়ার নাম নেই। এক প্রকার মনের বিরুদ্ধে সবার অনুরোধে ছেড়ে দেয়। নিকের রাগ কমে নি। এমনিতেই চোখ দুইটা লাল হয়ে আছে। যেন চোখ বন্ধ করলেই রক্ত গড়িয়ে পড়বে। সেদিকে তাকিয়ে দাঁত পিষে বলে,
” তর হিসেব তুলা রইলো।
এক মুহূর্তে ড. নিকের ভয়ানক চেহারার দিকে তাকায়। নিকের দেওয়া পাগলাটে আঘাতে গলায় ধরে বসে যায়। ব্যাথায় টনটন করছে। তাকে ধরে দুইজন নার্স নিয়ে যায়। নিক চুল খামছে ধরে নিজের। ছন্নছাড়া গ্যাংস্টার বস গর্জে উঠে।
দ্রুত এনিকে অপারেশন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। যিনি অপারেশন করাবেন তিনি নিকের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,

” মি. নি রাগ সামলান নিজের। আপনার পরিস্থিতির অনুভব করতে পারছি। উনি বুঝতে পারে নি। প্লিজ উনার আর কোনো ক্ষতি করবেন না।
নিক রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়। ড. শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” আপনি চাইলে ভেতরে আসতে পারে।
নিক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায় ডাক্তারের দিকে। এই দৃষ্টিতে কোনো হিংস্রতা ছিলো না। তবে কিছু একটা ছিলো। যেটা অনুভব করার ক্ষমতা কারো নেই। নিক অপারেশন রুমের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
” আমার প্রানটা আপনার কাছে দিয়ে যাচ্ছি। এসে যেন অক্ষত পায়।
ডাক্তার বাক্যহারা হয়ে তাকিয়ে আছে। উনি কখনো গ্যাংস্টার বসকে সামনে দেখে নি। তবে এইটা জানে তার ব্যক্তিত্ব, স্বভাব ভয়ংকর। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যার উপর এক বার পড়ে সে বিষধর তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করে মরে। যার কোনো মায়া নেই, মমতা নেই, হৃদয় নেই। অশুভ দুনিয়ায় বসবাস। যার জীবনে কোনো আলো, সুগন্ধ নেই। কারোর জন্য ভালোবাসা নেই এই মনে। একা, স্বাধীন , ভয়হীন চলাফেরা। মাফিয়া সম্রাজ্যের সব থেকে ক্ষমতাধর ও হিংস্র মাফিয়া। তার এই রুপ কি আসলেই সত্যি? নাকি শুধু ভ্রম!

নিক কিছু বললো না। হসপিটালের সামনে হাজারও গার্ড রাখা।দুইজন মহিলাকে ইশারা করে নিক বেরিয়ে যায় হসপিটাল থেকে।
এরপর থেকে নিকের কোনো দেখা মিলে নি। হসপিটালের সামনে অধিরাজ আর আরিশ অস্থির হয়ে বসে আছে। বার বার নিকের সাথে কন্ট্রাক্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো খবর নেই।
অপারেশন সফল বলা যায়। কিন্তু বিপদ কাটেনি। অভ্যন্তরীণ ক্ষত, রক্তক্ষয়, সংক্রমণের আশঙ্কা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন। সামান্য অসতর্কতা, সামান্য প্রতিকূলতা সব কিছু আবার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এনির শরীর নিথর হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু সেই নিথরতার নিচেই চলছে এক নিঃশব্দ যুদ্ধ। জীবন এখানে কোনো আবেগ নয় এটি এখন কেবল পরিসংখ্যান, পর্যবেক্ষণ আর অপেক্ষার নাম।
এই মুহূর্তে এনি বেঁচে আছে কিন্তু নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকবে কি না তার উত্তর এখনও সৃষ্টিকর্তার হাতে বন্দী।
ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে আরিশ দাঁড়িয়ে যায়। অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করে,

” ক.. কেমন আছে? সব ঠিক-ঠাক তো?
ডাক্তার ফুঁশ করে শ্বাস টেনে বলে,
” সৃষ্টিকর্তার রহমত আছেন উনার উপর। ছুঁড়িটা গভীরভাবে আঘাত করে নি। যাস্ট চামড়া ভেদ করে অল্প ডুকেছিলো। ব্লিডিং হয়েছে অনেক। তাই এখনও অনেক দুর্বল। তবে চিন্তা করবেন না, আশা করব কিছুক্ষণের মধ্যে উনার জ্ঞান ফিরবে।
আরিশ আর অধিরাজ চোখ বন্ধ করে স্বস্থির নিশ্বাস ছাড়ে। ডাক্তার এদিক-সেদিক তাকিয়ে বলে,
” গ্যাংস্টার মি, নিক কোথায়? পুরো হসপিটালের লোক এখনও ভয়ের মধ্যে আছে। পাগল হয়ে গিয়েছেন স্ত্রীর জন্য। উনার খোঁজ নেই কেনো? উনার জিনিস অক্ষত আছে। সংবাদটা পাঠিয়ে দিয়েন। নাহলে এমন ছন্ন-ছাড়া – বেপোরো গ্যাংস্টারকে দেখলে পুরো শহর স্থব্দ হয়ে যাবে।
আরিশ ঠোঁট চেপে ধরে গম্ভীর গলায় বলে,

” আপনি আসতে পারেন।
ডাক্তার আর কিছু বললো না। সামনের দিকে হাটা ধরলো। আরিশ চিন্তামুক্ত হয়ে অধিরাজের উদ্দেশ্যে বলে,
” তুই থাক আমি আসছি।
” কোথায় যাচ্ছেন স্যার?
” নিক হয় বাগান বাড়িতে গিয়েছে না হয় মিনারে আছে। আর না হয় মাফিয়া প্যালেসে। আমি দেখে আসি।
অধিরাজ শান্ত গলায় বলে,
” যদি সেখানেও না পান?
আরিশ হাতের ব্রেসলেটের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” তুই হয়ত ভুলে যাচ্ছিস অধিরাজ আত্না একসাথে কানেক্ট করা।
আরিশ কথাটা বলে আর দাড়ালো না। দ্রুত গতিতে লিফট ব্যবহার করে নেমে যায়। নিজের কালো বুলেট প্রুফ গাড়িতে বসে হসপিটাল থেকে বের হয়ে যায়।

মসজিদের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পাপিষ্ঠ, অশুভ ছায়ায় ঢেকে যাওয়া এক হিংস্র মানব। যার পুরো জীবন দূষিত। যে মুসলিম হিসেবে এক অভিশাপ। যার মধ্যে শান্তির ধর্মের কোনো চিহ্ন নেই। তার শরীরে -রন্ধ্রে -গন্ধে আছে অশুভ আত্নার বাস। নিক চোখ বন্ধ করে বির বির করে উঠে,
” এই পবিত্র জায়গার ভেতরে ডুকার সামর্থ আমার নেই। জীবনে এতটা পাপ করেছি যে তোমার দরবারে কিছু চাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু দিন শেষে আমি তোমার এই সৃষ্টি। তোমার বান্দা। চাওয়ার অধিকার আমার ও আছে। এইটা এমন এক পবিত্র স্থান যেখানে নিজের পাপ ধ্বংস করার জন্য আসে। অথচ আজ আমি আসলাম এক রমণীর জন্য। সে কিন্তু আমার মত পাপী নয়। আমার শত্রুর হাতে আজ তোমার বান্দী ক্ষত -বিক্ষত। আমার কেউ নেই। বাবা নেই। মা নেই। পরিবার -পরিজন কেউ নেই। এই জগতে সম্পূর্ণ একা আমি। তথাকথিত এক জানোয়ার রুপী নরপশু। এই যন্ত্রিক হৃদয়টা কেনো কম্পিত হচ্ছে? শুধু মাত্র কাগজে-কলমে বৈধ স্ত্রী বলে? শূন্য, অন্ধকার মরুভূমিতে এই মেয়েটা এসে পড়েছে । যদি পারো তবে পুনরায় আমার ঘরে ফিরিয়ে দিও। কেউ নেই আমার পৃথিবীতে। ওকে না হয় আমায় দিয়ে দাও। কলিজায় ডুকিয়ে রাখব বলেছিলাম কিন্তু পারি নি। ওকে আমার করে দাও তোমার দরবারে আর কিছু চাওয়ার নেই।
গাড়ির হর্নের শব্দে নিকের ধ্যান ভাঙ্গে। পিছন থেকে আরিশ গাড়ি থেকে নেমে নিকের পাশে দাঁড়ায়। আরিশ মসজিদের ভেতরে তাকিয়ে বলে,

” তুই এখানে?
নিক এগিয়ে যায় গাড়ির দিকে। গাড়ির ভেতরে বসে বলে,
” খোদার কাছে ভিক্ষে চাইতে আসলাম।
আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। নিককে চিনতে আজ সে ভুল করছে না তো? এতটা অগুছালো তো গ্যাংস্টার বস নয়। নিকের দৃষ্টি কঠোর হতে থাকে। চাপা গর্জনে বলে,
” আজ গ্যাংস্টার বসের তান্ডবলীলা দেখবে পুরো মাফিয়া প্যালেস। ওরা নিজেরাও জানে না কার গায়ে হাত দিয়েছে। পুরো গার্ডদের অজ্ঞান করে আমার মিনারে ডুকেছে। সেই মিনার, যেখানে আমার অনুমতি ছাড়া একটা পাখিও ডুকে নি।
আরিশ স্ট্রিয়ারিং চেপে ধরে বলে,
” তুই অনেকটা বদলে গিয়েছিস নিক? এনি শুধু তর আসক্তি নয়। ওকে তীব্রভাবে ভালোবেসে ফেলেছিস। এমনভাবে ফেঁসেছিস যে তুই দিশেহারা।
এখনও শান্ত আছিস মানে ঝড়ের পূর্ভাবাস। জানি না কাল কোন ঝড় উঠবে। তকে চেনা যাচ্ছে না নিক। এই মেয়ের হাতেই না তর ধ্বংস লেখা থাকে। এতটা ব্যাপোরোয়া হতে এতবছরে একবারেও দেখি নি।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে শরীর এলিয়ে দেয়,

” এমন পবিত্র জিনিস আমার মত পাপীষ্ঠের জন্য নয়। ধ্বংস যদি লেখা থাকে তবে অমৃত ভেবে সেটা অনেক আগেই পান করে ফেলেছি। ধ্বংসের শেষ মুহূর্তে ও দাঁড়িয়ে বলব তার মায়ায় আমি বিধ্বস্ত। তাকে অন্য কারোর সাথে দেখার সাহস আমার নেই । তাকে পাওয়ার সাধ্য আমার নেই। অথচ আমি সেই ধ্বংসের পথেই পা বাড়িয়েছি।
আরিশ হালকা হেসে বলে,
” এনি এখন বিপদমুক্ত। ওর ব্লাডের প্রয়োজন ছিলো সেটা অধিরাজ দিয়েছে। সব ম্যাচ করলো তাই দিয়ে দিয়েছে।
নিক রক্তচক্ষুর ন্যায় তাকায়। আরিশ থমথমে খেয়ে বলে,
” সমস্যা কোথায় নিক? তর রক্তের গ্রুপ তো Bপজেটিভ। বাট এনির A পজেটিভ। তর সাথে ম্যাচ করত না। তাই অধিরাজ দিয়ে দিয়েছে।
নিক দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
” এই শালা প্রথম আমার বউয়ের দিকে নজর দিয়েছিলো।
নিকের রাগ দেখে আরিশ হাসি সংযত করে বলে,
” এই শালাকে তুই নিজেই বলেছিস কোলে করে গাড়িতে উঠানোর কথা। ভুলে গিয়েছিস পাচার কেন্দ্রের কাহিনী।
নিক কূটিল হেসে বলে,

” লোক দেখানোর জন্য অনেক নাটক এই করতে হয়।
আরিশ নিকের মুখের দিকে তাকিয়ে কাধ নাড়ায়। গাড়ি স্ট্রাট দিয়ে বলে,
” যাক বউ ঠিক হয়েছে শুনে গ্যাংস্টার বস আগের স্বভাবে ফিরছে। আমি তো ভেবেছিলো এই শোকে দেবদাস হয়ে যাবে।
নিক চোখ বন্ধ করে ঘন শ্বাস টানে। শান্ত গলায় বলে,
” হসপিটালে চল।
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” শত্রুদের আগে নরক যন্ত্রনা দিয়ে আয়। এরপর না হয় দেখা করিস।
নিক রেগে যায়। আরিশের কলার চেপে ধরে ধমকে উঠে,
” শালা কাল থেকে বউকে ছুঁতে পারছি না। মুখটা দেখতে পারছি না। এই মুহূর্ত আমার এনার্জির প্রয়োজন।
আরিশ উচ্চস্বরে হেসে উঠে। হাসতে হাসতে বলে,
” কলার ছাড় বাল। গাড়ি এক্সিডেন্ট করে ফেলব। বাই দ্যা ওয়ে এনার্জি তুই হসপিটালে গিয়ে পাবি কিভাবে?
নিক আরিশের কলার ছেড়ে দেয়। কুচকে যাওয়া শার্ট ঠিক করে বলে,
” সেটা তুই বুঝবি না।

নিক চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে হসপিটালে প্রবেশ করে। অধিরাজ নিজের বসকে আড়চোখে দেখে। একটু আগের সেই ছন্নছাড়া বস আর এখনকার বসের সাথে কোনো মিল নেই। কয়েক ঘন্টা আগে ছিলো এক উন্মাদ স্বামী। এখন হচ্ছ গ্যাংস্টার বস। নিক কেবিনের সামনে যেতেই অধিরাজ হাস্যময় মুখে বলে,
” ম্যামের জ্ঞান ফিরেছে বস।
নিক কপাল কুচকে বলে,
” তাতে তর এত খুশি লাগছে কেনো?
অধিরাজ থতমত খেয়ে যায়। নিক ভেতরে ডুকার আগে এক পলক অধিরাজের দিকে তাকায়। গম্ভীর গলায় বলে,

” অজান্তেই তুই আমার জীবনের সব থেকে বড় উপকারটা করেছিস।
অধিরাজ সাথে সাথে চোখ তুলে। নিককে ভেতরে ডুকার জন্য ড. অনুমতি দেন। নিক সেসব পরোয়া করলো না। এই মুহূর্ত বউ চাই তার। নিক প্রবেশ করতেই এক -এক করে সব ডাক্তার বেরিয়ে যায়। নিক এক পলক তাকায় ধ্বংসকারী রমণীর দিকে। ঠোঁট দুইটা শুকিয়ে আছে। ঠোঁটের পাশে অনেক দাগ আছে। তবে স্পষ্ট নয়। এইসব কিসের দাগ নিকের বুঝতে বাকি নেই। এই ঠোঁট দুইটা তাকে চুম্বকের মত টানছে। এনির নিস্তেজ শরীরের দিকে তাকায়। নীল চাদরে ঢেকে আছে এই ধ্বংসাত্বক রমনী। নিক অপেক্ষা করলো না। বেডের এক পাশে বসে তৃষ্ণার্তদের মত এনির গলায় মুখ গুঁজে দেয়। কারোর স্পর্শ অনুভব করে এনি পিটপিট করে চোখ মেলে। শরীরে কারোর স্পর্শ অনুভব করে কলিজা শুকিয়ে আসে। মনে পড়ে যায় সেই বিভৎষ্য ঘটনা। কপাল দিয়ে ঘাম ছুটে আসে আতঙ্কে। এনি চিৎকার দিবে এমন সময় তার শুষ্ক ঠোঁট দুইটা আকড়ে ধরে কেউ। এনি চোখ তোলে। ধূসর রাঙ্গা চোখের এই সুদর্শন পুরুষটাকে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। মুহূর্তেই মনে পড়ে যায় তাকে কেউ ছুঁয়েছিলো। এইটা নিশ্চই এতক্ষণে উনি জেনে গিয়েছে। এখন কি করবে আমাকে? আমার শরীর থেকে চামড়া খুলে ফেলবে? নাকি এর থেকে ও কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে আমাকে? এনির শরীর তুলনার থেকেও বেশি শিরশির করে উঠে। ভয় নিয়ে নিকের দুই বাহু চেপে সরানোর চেষ্টা করে। ছটফট ও করতে পারছে না। সেলাইয়ে টান খাচ্ছে। এনি উপাই না পেয়ে নিকের জিহ্বায় কামড়ে ধরে। ব্যাস গ্যাংস্টার বস আর চুমু খেতে পারছে না। বিরক্তি নিয়ে তাকায় এনির দিকে। এনি শুকনো ঢোক গিলে বলে,

” ক.. কি করছেন?
এনি রাগান্বিত চোখ নিয়ে বলে,
” ডিস্ট্রাব করছো কেনো?
” আপনি এমন করছেন কেনো?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। ঘন ঘন শ্বাস ফেলে এনির গালে নাক ঘেষে বলে,
” আই নিড ইউ জান। আই কান্ট কন্ট্রোল মাই সেল্ফ।
এনি চোখ বড় বড় করে ফেলে। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বেডের সাথে ল্যাপ্টে আছে। আর এই লোকে মুডে চলে এসেছে। নিকের হাত অবাধ্য হতে থাকে। এনি হাতে শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” ক..কি করছেন? নিজের অবস্থান ভুলে যাবেন না। লুচ্চামি না করে ভদ্রভাবে বসুন।
নিক কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিশের কন্ঠ ভেসে আসে,
” ভাই হসপিটাল এইটা। আমাদের মত সিঙ্গেলদের সামনে এইভাবে গোসল করে চুল ভিজিয়ে আসলে তো বুকে আগুন ধরে। নিজেকে কন্ট্রোলে রাখ ভাই নাহলে শাওয়ারের কাজে ভুগতে হবে। আব্বে শালা তর বউয়ের পেটে এখন ও ক্ষত। এমনিতেই সাপ্তাহিম অসুস্থ বানিয়ে রাখিস এক চান্সে। এখন কি মারতে চাস নাকি?
নিক রেগে ও যেন রাগলো না। হুট করেই মস্তিষ্ক সচল হয়ে উঠে। এনির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে। তার মুখ দেখে বুঝায় যাচ্ছে ক্ষতের কথা ভুলে গিয়েছে। আরিশ অধিরাজের চোখ হাত দিয়ে ঢেকে বলে,

” এইদিকে আর তাকাস না। এখন এরা যা কাজ করবে এইসব বড়দের কারবার।চল আমরা গিয়ে কার্টুন দেখে আসি।
আরিশ দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে সামান্য হাসে। অধিরাজ কপাল কুচকে বলে,
” আমাদের কার্টুন দেখার বয়স?
” তুই ভার্জিন?
” হ্যা…. খুনী হতে পারি বাট চরিত্র ভালো আছে।
আরিশ মাথায় থাপ্পর দিয়ে বলে,

” সেজন্যই বলেছি বাচ্চা মানুষ।ভার্জিন মানেই তুই বাচ্চা।
আরিশ কথাটা বলে সামনে এগিয়ে যায়। অধিরাজ থমথমে খেয়ে বলে,
” কোথায় যাচ্ছেন স্যার?
আরিশ হাটার মধ্যেই গম্ভীর গলায় বলে,
” যাচ্ছি কোনো একজনের খোঁজে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪২ (২)