Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৪

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৪
লিজা মনি

সমুদ্রের পাশে বসেছে এক বিশাল পৈশাচিক আড্ডাখানা। এই আড্ডাখানা তৈরি করেছেন ইগর আর কায়াত। সতেরো জন কুমারী মেয়ের কলিজা ভুনায় সেজে উঠেছে টেবিলটা। চারপাশে কালো কাপড়ে আবৃত অসংখ্য দেহরক্ষী। চারপাশে অশুভ লাইটের ঝলকানি। অর্ধনগ্ন নারীদের ব্যাশ্যা অঙ্গ ভঙ্গী এই মুহূর্তে তাদের মন রঞ্জনের প্রধান সূত্র। কিছু কিছু মেয়ে অশ্লীলভাবে গায়ে ঢলে পড়ছে। আর তারাও তাল মিলিয়ে সেই অশ্লীলতার সঙ্গ দিচ্ছে। বর্তমানে পুরো জায়গাটা একটা বিকৃত খানা। পাপ আর ক্ষমতার বর্বর দৃশ্য। কায়াত চামচের সাহায্যে কলিজার টুকরো মুখে দিয়ে পৈশাচিকভাবে হেসে উঠে। জিভ দিয়ে ঠোঁটের চারপাশ শুষে নিয়ে বলে,

” কুমারী মেয়েদের কলিজায় কি আছে জানা নেই। এরা এত স্বাদ কেনো? খাটেও আবার জিভেও। এদের কোনো তুলনা হয় না।
ইগর টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে চিন্তিত হয়ে পা নাড়ায় নিজের।
কায়াত সেদিকে লক্ষ্য রেখে বলে,
” হুয়াট হ্যাপেন্ড ইগর? চিন্তিত কেনো?
ইগর মাথা নাড়িয়ে বলে,
” নিক আর আরিশ একবার খুঁজে পেলে জাহান্নামের ন্যায় মৃত্যু দিবে। আরিশের কলিজার টুকরোকে মেরেছি কায়াত, বুঝতে পারছো তুমি?
কায়াত চামচ শব্দ করে রেখে ইগরের দিকে তাকায়। সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,
” তুমি বড্ড বোকা ইগর। আর এই বোকামির জন্য তুমি মরতে যাবে।
ইগর ক্রোধে ফেটে পড়ে। এতবড় অপমান তার শরীর সইছে না। টেবিলে থাপ্পর মেরে শক্ত গলায় বলে,
” অপমান না করে বুদ্ধি দাও কায়াত। ওই শালীকে মারি নি আমি। সে নিজেই নিজের গলায় ছুঁড়ি বসিয়েছে। অনেক তেজ আর সাহস।
কায়াত শান্ত চোখে চারপাশে তাকায়। ঠোঁট কামড়াতে কামড়াতে বলে,

” মেয়েটা ক্রিমিনাল লিডার আরিশের বোন ইগর। কথাটা ভুলে যাও নি নিশ্চই। হতে পারে আরিশ সব সময় খুন, গুলাগুলি রক্তপাত থেকে দুরে রেখেছে। কিন্তু যার ভাই ক্রিমিনাল গ্রুপের লিডার তার বোন কে বোকা ভাবার মত ভুল কিভাবে করলে? রক্তের টান বলেও একটা ব্যাপার আছে।
ইগর হুট করেই কপাল কুচকে বলে,
” মেয়েটা আরিশের নিজের বোন?
কায়াত অবাক হয়ে বলে,
” মানে, নিজের বোন নয়?
” আমি সিউর জানি না। আরিশের নিজের বোন আসবে কোথা থেকে? সে তো পরিবার ছাড়া একা ছিলো।
কায়াত কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
” নিজের বোন না হলেও বুঝার উপাই ছিলো না। শরীরে এত জ্বালা উঠলে আমাকে বলতে। আমি পাঠিয়ে দিতাম দশটা মেয়ে। দেখতাম কয়টাকে সামাল দিতে পারে। কত শক্তি আছে শরীরে।
ইগর পৈশাচিকভাবে হেসে বলে,

” শরীরে তো সেই জ্বালা উঠে নি কায়াত। নিক আর আরিশ নামক দুই মাদার** এর ধ্বংস দেখতে চেয়েছি। অলরেডি আরিশের ধ্বংস শুরু।বোনকে হারিয়ে শালায় নিশ্চই কুত্তা পাগল হয়ে আছে।
কায়াত শব্দ করে হেসে উঠে। এমনভাবে হাসছে যেন ইগর কোনো জোক্স শুনাচ্ছে। ইগর রাগ দেখিয়ে বলে,
” ইউ বাস্ট্রাড! হাসছিস কেনো?
কায়াত হাসি থামায় না। কোনোরকম থামিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
” তুমি এখনও আরিশ আর নিকরে চিনো না ইগর।ভেঙ্গে পড়া তাদের রুলসে নেই। অলরেডি খবর পেয়ে গিয়েছি তারা কানাডায় চলে এসেছে। মেয়েটাকে মেরে আরিশকে ভাঙতে পারলেও নিকের কিছুই করতে পারো নি। আর আরিশ ভেঙ্গে পড়লে তাকে দাড় করানোর একমাত্র খুঁটি হিসেবে নিক আছে।
ইগর চুল এলোমেলো করে বলে,
” ভুল জায়গায় তীর ছুঁড়েছি কায়াত। এই তীরটা নিকের রক্ষিতার দিকে মারা উচিত ছিলো। দেখতাম শালার কত ক্ষমতা আর শক্তি।
কায়াত ওয়াইন গিলে বলে,

” এদের শক্তি নিয়ে কেউ প্রশংসা করলে আমার শরীরে জ্বালা ধরে। এই সামান্য প্রশংসার জন্য নিজের কত শত গার্ডকে মেরেছি হিসেব নেই। তুমি আমার ফ্রেন্ড তাই তোমার কাছে কিছু সিক্রেট বলি ইগর। নিক হলো আমাদের থেকে বড় সাইকো কিলার ! কথা বলে খুব কম। শিকারীর মত দুইটা চোখ। এই শালায় নিজের বাড়িতে নরখাদক পুষে রাখার ক্ষমতা রাখে। নরখাদক ও কোনো সাধারন নয়। শুয়রের বাচ্চা ১০-১৮ বছরের মেয়েদের ধরে নিয়ে যেত। এরপর ইচ্ছেমত এদের সাথে পুরুষ্যত্ব মিটায় । কাজ শেষে এদের শরীর থেকে কাচা মাংস চিবিয়ে চিবিয়ে খায় । আমরা তো হুট করে পার্টি করি। তাও সিদ্ধ মাংস হতে হয়। কিন্তু এই শালায় শরীর থেকে মাংসের টুকরো খুলে নেয় । টাটকা রক্ত না খেলে বাইন** মাথা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের থেকেও বড় নরখাদক। এই বলদরে নিক রক্ত দিয়ে বাঁচাচ্ছে। একাধিক মেয়ের সাথে মিলতে গিয়ে শরীরে কোন রোগের বাঁধিয়েছে কে জানে? এর থেকেই এর রক্ত দিতে হচ্ছে। প্রস্টিটিউট ক্লাব দেখলে গ্যাংস্টার বস চেতে যায় অথচ বাড়িতে মানুষখেঁকো জানোয়ার পুষণ করছে। এর সাথে নিশ্চই কোনো যোগ আছে। নাহলে যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে মরে গেলেও যে ফিরে তাকায় না সেখানে রক্ত দান করা অনেক বিরাট ব্যাপার। এই জেডের সাথে নিকের অনেক বড় একটা কানেকশন আছে। নাকি জেডের বাপের সূত্র ধরে বাঁচাচ্ছে কে জানে?
ইগর নিজের ঠোঁট ঘেঁষতে ঘেঁষতে বলে,

” এইসব আমি বহু আগেই জানি। নতুন কিছু জানলে বলো। জেডের বাবা মানে?
” নিজের জন্মদাত্রীকে খুন করেছে এই শালায়।
কায়াতের কৌতূক মিশানো কন্ঠে। চারপাশে থমথমে খেয়ে যায়। ইগর অবাক হয়ে কপাল কুচকে ফেলে।। কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
” নিজের জন্মদাত্রীকে মেরেছে?
” ইয়েস।কি কারনে মেরেছে জানি না। তবে প্রচুর নৃশ্যংস ভাবে মেরেছে। পুলিশ খুঁজেছে দুই বছর পর্যন্ত। সেই ছোট বয়সেই তীক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী ছিলো। এত এত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আফ্রিকায় চলে আসে। এখানে এসেই এক ভয়ানক পাচার গ্রুপের ফাঁদে পড়ে। পাচার কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। সেই ভয়ানক কুঠুরিতে সবাই কান্না -ভয় – আতঙ্কে জমে উঠছিলো কিন্তু নিক ছিলো একদম শান্ত। চোখে ছিলো এক ঘূর্নিঝড়। আমিও সেই কেন্দ্রেই পাচার হচ্ছিলাম। সেখানে নিকের সাথে আরিশের বন্ধুত্ব হয়। আরিশকে চাবুক মারতে চাইলে সমস্ত চাবুকের আঘাত সে নিজের পিঠে নিয়েছে। এত এত চাবুক খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলো কিন্তু সামান্য শব্দ পর্যন্ত করে নি। তখন আমি সাধারন এক বালক ছিলাম। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম নিকের দিকে। এই ছেলে কি মানুষ নাকি অন্য কিছু। সেই পাচার গ্যাং এর প্রধান একদিন আমাদের কেন্দ্রে আসে। পাচার হওয়ার আগে সব বাচ্চাদের দেখার জন্য আসে। সবাই কান্না কাটি করতে ব্যস্ত। কিন্তু নিক ছিলো একদম শান্ত। গ্যাং এর মালিক নিকের সামনে আসলে নিক তার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। সবাই অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গ্যাং এর মালিকের নাম ছিলো কিং । সে নিকের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। নিকের হাসি দেখে প্রচুর ক্ষীপ্ত হয়ে পড়ে। রাগান্বিত চোখ দিয়ে তাকায় যেন ভষ্ম করে দিবে। কিন্তু নিক ভয় পেলো না একটুও। বস হাতের ইশারায় একজনকে ইশারা দিয়ে বলে,

” সাতজন বাচ্চা বাদে সব জেটে তুলে ফেল।
পিছন থেকে ভেসে আসে এক নরম গলা,
” সাতজন কে কে বস?
কিং গননা করে পাঁচজনকে বাছাই করে। এরপর আমাকেও বাছাই করা হয়। সর্বশেষ নিকের কাছে এসে গম্ভীর গলায় বলে,
” নাম?
নিক মুচকি হেসে আবার ও চোখে চোখ রাখে। লোকটা চোখ ছোট ছোট করে নিকের চিবুক চেপে ধরে। এমনভাবে ধরেছিলো যে আমি হলে চিৎকার করে উঠতাম। কিন্তু গন্ডারের বাচ্চার কোনো রিয়্যাকশন নেই। নিক ছোট থেকে সুন্দর ছিলো। সব থেকে রহস্যময় ছিলো তার সেই তীক্ষ্ম ধূসর চোখ। ওর সৌন্দর্য দেখে মাঝে মাঝে হিংসে লাগত। লোকটা আমাদের সাতজনকে রেখে সবাইকে বিদায় করে দিতে যাচ্ছিলো। ঠিক সে সময় নিকের হুংকার,
” আমার ভাইকে রেখে যান আমার কাছে।
আরিশ নিকের থেকে দুই – তিন বছরের ছোট হবে। খুব ভিতু ছিলো তখন। গ্যাং এর মালিক শান্ত গলায় বলে,
” যদি রেখে না যায়, তবে?
নিক ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,

” নিজের সাথে সাথে পুরো সম্রাজ্য ধ্বংস করে দিয়ে যাব।
সবাই ক্ষেপে যায় নিকের উপর। প্রচুর খুশি হয়েছিলাম এতে। যে বসের সামনে তারা কখনো মাথা তুলে কথা বলতে পারে না সেখানে এই সামান্য বালক চোখে চোখ রেখে ধ্বংসের কথা বলছে। সবাই ক্ষেপে গেলে কিং সবাইকে শান্ত করে। আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” রেখে যা এই বাচ্চাকে।
টর্চার সেলের সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছে শুধু। এমন ধ্বংসাত্বক জানোয়ার কিভাবে একটা বালকের কথা মেনে নিলো? এই ছেলে কোনো জাদু জানে না তো? নাকি সবাইকে ভ্রমে ফেলছে! কারোর কিছু বলার সাহস হয় নি। কিং এর কথা অনুযায়ী আরিশকে রেখে যায়। লোকটা ছিলো খ্রিষ্টান নিকের চিবুক ধরে বলে,

” ইশ্বরের কসম তর মত বাচ্চা আর একটাও দেখিনি। তুই আফ্রিকার?
” না।
” তবে কোথায় তর বাড়ি?
” আপনার জানতে হবে না।
” তর বাপ – মা কে?
নিকের চোখ -মুখ অগ্নী কান্ডে ঝলঝল করে উঠে। চোখের রং পাল্টে যায়। দাঁত পিষে বলে,
” আমার বাপ আমার হৃদয়ে আছে। কিন্তু মা নামক কোনো ব্যাশ্যার চিহ্ন আমার অস্তিত্বে নেই। আমি আমার বাপের ছেলে, বুঝতে পেরেছেন আপনি।
কিং হাসলো সামান্য। নিকের কাধে হাত রেখে বলে,
” তুই জানিস এখানে রাখা প্রতিটা জিনিস আমার কথাতে চলে। শব্দ ও হয় আমার ইশারাতে। শ্বাসটাও নেয় আমার নিয়ন্ত্রনে। সেখানে তুই আমার উপর দাঁত পিষছিস? এখন যদি তকে জবাই করে চিলদের খেতে দেয়?
নিক ভিতু আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” খোদা আপনি নন। যে আপনার ইশারাতে শ্বাস চলবে। ক্ষমতার দাপট থাকতে পারে কিন্তু সৃষ্টি, সময়, শ্বাস আপনার নিয়ন্ত্রনে চলে এইসব মিথ্যাচার ছড়াবে না।

” তুই মুসলিম।
” দেখে কি মনে হয়?
কিং আলতো হেসে বলে,
” তকে ৩৬৫ দিন একটা অন্ধকার কুঠুরিতে বন্ধী করে রাখা হবে। প্রতিদিন একটা করে হিংস্র নেকড়ে তর রুমে পাঠানো হবে। অস্ত্র দেওয়া হবে কিছু সংখ্যক। রুমটা হবে মাটির নিচে এক সুরঙ্গ পথ পেরিয়ে। অন্ধকার হবে চারপাশ। আর তর রুমটায় থাকবে ছমছমে আবছা আলো। দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হবে। প্রতি দিন প্রতিটা নেকড়ের সাথে যুদ্ধ করে টিকতে হবে। যদি ভুলেও হেরে যাস তবে নেকড়েরা তকে ছিড়ে খাবে। আর তুই যদি জিতে যাস তবে নেকড়ের মৃত দেহটাকে টেনে -হিচড়ে বের করে দেওয়া হবে। ৩৬৫ দিনে ৩৬৫ টা নেকড়ের সাথে যুদ্ধ করে জয় হতে পারলে আরও একটা পরীক্ষা আছে। যদি তুই জয় লাভ করতে পারিস তবে তকে বানানো হবে আগামী দিনের গ্যাংস্টার। সিংহাসনএও পেতে পারিস।।
এত কঠিন পরীক্ষা আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার থেকেও ভয়ংকর। একটা হিংস্র নেকড়ের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠা অসম্ভব। সেখানে প্রতিদিন প্রতিটা নেকড়ের সাথে যুদ্ধ করে জয় লাভ করা সপ্ন! মনে মনে খুশি হয়েছিলাম প্রচুর সেদিন । একে আমার তখন থেকেই হিংসে লাগত। জয় লাভ করতে পারবে না আর সিংহাসন ও পাবে না। এক আত্নবিশ্বাস ছিলো আমার মনে। নিক অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। আরিশ জড়িয়ে ধরে রাখে নিককে। নিক কপাল কুচকে বলে।,

” নেকড়ে মানে আদ’ ও বুঝেন তো কিং? আপনার ইশ্বর কি সেটা বুঝার ক্ষমতা দেয় নি? ইশ্বরের কাছে গিয়ে বুদ্ধি নিয়ে আসুন।
কিং গম্ভীর গলায় বলে,
” বেশি কথা বললে মাথা কেটে ফেলব। অনেক বড় অফার করেছি। হয় তকে মানতে হবে নয়ত মরতে হবে।
অনেক কথা কাটাকাটির পরে নিককে পাঠানো হয় সেই ভয়ানক কুঠুরিতে। শরীরে দিয়েছিলো কালো পোশাক। যাতে রক্তের রং ভেসে না উঠে।

ভেবেছিলাম শালা মরে গিয়েছে। কিন্তু শালা মরে নি। এক বছর পর তাকে জিবীত ভাবে কুঠুরি থেকে বের করা হয়। শরীরে এমন কোনো জায়গা ছিলো না যে আক্রমনের দাগ।।ক্ষত -বিক্ষত ভগ্ন শরীর। যার সৌন্দর্যে আমার হিংসে হত তার এই রক্তাক্ত দেহ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এতটা ভয়ানক দেখতে লাগছিলো যেন মনে হচ্ছিলো মর্গ থেকে উঠে আসা কাটা -ছেঁড়া লাশ। অনেক জায়গায় মাংস খুবলে খেয়ে ফেলেছে। সবাই অবাক হয়েছিলো প্রচুর। আমরা এখানে পরিষ্কারের কাজ করতাম। আরিশকে একটা রুমে বন্ধী করে রাখা হয়েছিলো। সবাই ভেবেছিলো হয়ত নিক মরে গিয়েছে। কিন্ত শালায় কিভাবে বাঁচলো কেউ বুঝে উঠে পারছে না। কিং অহংকারে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে সেদিন। নিককে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। জানা যায় নিকের চোখ দুইটা ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে। কিং নিকের সেই তীক্ষ্ণ চোখ দেখেই বিমোহিত হয়েছিলো। যে চোখে ছিলো সৌন্দর্যের আড়ালে ধ্বংস আর উত্তাপ। এই চোখ নষ্ট হওয়াতে সেইম চোখের মনির সন্ধান চালায়। ধূসর চোখের পনির প্রয়োজন ছিলো। অবশেষে কোথা থেকে যেন সংগ্রহ করা হয় হুবহু সেই চোখের মনি। দীর্ঘ আট মাসের চিকিৎসার পর নিক সুস্থ হয়ে উঠে। শরীরে প্লাস্টিক সার্জারি করানো হয়। সার্জারি করিয়ে সেই আগের শরীরে পরিনত করে। আমার ভেতরে হিংসা জ্বলতে থাকে। এইবার বোধ হয় গ্যাংস্টার হয়ে যাবে।

কিন্তু বাস্তবতা অন্য কিছু লিখে রেখেছে। কিং এর বর্বর মনোভাব থেমে যায় নি। নিক কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলো। রুমের সামনে থাকা চারজন গার্ডকে হত্যা করে পিছন দরজা থেকে পালিয়ে যায়। কিং এতটাই রেগে গিয়েছিলো যে তার ধ্বংস স্তুপে পরিনত হয়েছিলো সব। রাগে উন্মাদ হয়ে কিং নিককে খুঁজে বের করে। রাখা হয় বারো বছরের জন্য এক অন্ধকার রুমে। ভালোভাবে দাঁড়ানো যেত না। পা মেলে ঠিকভাবে ঘুমানো যেত না। স্যাঁতস্যাঁতে এক ভেজা স্থান। পোকামাকড়ের বাসা চারদিকে। সেই নরকময় এক রুমে বন্ধী করে রাখা হয়। দিন যায়, মাস যায়। আলো -বাতাস হীন জীবনে শরীরে ভিবিন্ন রোগ দেখা দেয়। পালানোর চেষ্টা করলে চাবুক দিয়ে আঘাত করা হত।সেই আঘাত থেকে ঘাঁ সৃষ্টি হত। পোকামাকড় ধরে যেত সেই শরীরে। বছর যেতে থাকে। সেকেন্ড, মাস, ঘন্টা, দিন, বছর এগিয়ে যেতে থাকে। দেখতে দেখতে নিক এক তাগড়া যুবক হয়ে উঠে। বারো বছর পর তাকে অন্ধকার সেই কুঠুরি থেকে বের করা হয়। শরীরে হাড্ডি ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না।

অসুস্থ দুর্বল শরীর যেন কোনো পাগল। কোথায় গেলো সেই চাকচিক্য সৌন্দর্য! ভেবেছিলাম এই উছিলায় কুত্তাটা মরবে। কিন্তু এরপর শুরু হয়েছে মেইন খেলা। নিকের সাহসিকতা আর বিচক্ষণ বুদ্ধি দেখে আবার ও তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আট মাস সে চিকিৎসার মধ্যে ছিলো। কিং এর উদ্দেশ্য ছিলো নিককে নিজের পার্সোনাল দেহরক্ষী করবে। আর শত্রুপক্ষকে ধ্বংস করার এক মাত্র হাতিয়ার। নিকের শরীর ধীরে ধীরে ঠিক হতে থাকে। আবার ও সেই সৌন্দর্য ফিরে আসে তার শরীরে। যাকে বলে এক দেখাতে পাগল হয়ে যাওয়া রুপ! জিম করে শরীর ঠিক করে। প্রতিটা নারী ওর জন্য দেওয়ানা হয়ে উঠে। আমি প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে কিং এর দেহরক্ষী হয়েছিলাম। অনেক কিছুই জানি ভেতরকার খবর। নিক সুস্থ হওয়ার পর একদম শান্ত। কোনো কথা বলে নি কারোর সাথে। চোখ দুইটা ছিলো অগ্নি কান্ডের উত্তপ্ত শিখা। কতদিনের ক্রোধ এই চোখে ভেসে উঠেছে জানা নেই। নিক শুধু একটা বাক্য উচ্চারন করেছিলো।

” আমার ভাই আরিশ কোথায়?
কিং জানোয়ার হলেও আরিশের কিছু করে নি। তাকেও একটা রুমে বন্ধী রেখেছিলো। তবে সেই রুম ছিলো রাজকীয় রুম। কিং সবার মত নিকের কানেও বিষ ঢালতে থাকে,
” নারীদের ভোগ করতে হয়। এদেরকে বিছানায় পিষ্ট করতে হয়। নারী শুধু মাত্র কামনার বস্তু।
নিকের চোখে -মুখে ছিলো ব্যাপক ঘৃনা। কোনো নারীকে ছুয়ে দেখত না। একবার কিং এর একমাত্র মেয়ের নজরে নিক পড়ে। দেওয়ানা হয়ে উঠে নিকের জন্য। এক রাতের জন্য হলেও জেদ ধরে। কিং মেয়ের কথা মেনে নেয়। যে নিজেই সম্মুখে হাজারটা নারীর সাথে রাত কাটায় সে নিজের মেয়েকে কি নিষেধ করবে? নিকের সুন্দর চেহারা দেখে কিং নিজেও লোভে পড়ে যায়। মেয়ের আবদারে নিককে রাতের অন্ধকারে পাঠানো হয়। ভেতরের খবর জানি না। তবে পরের দিন কিং সহ কিং এর মেয়ের রক্তাক্ত লাশ রুমে খুঁজে পাওয়া যায়। শুধু এখানেই থেমে থাকে নি। বাহিরে থাকা চল্লিশ জন গার্ডের রক্তাক্ত মৃত দেহ উদ্ধার করেন সবাই। গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে নিক বিরোধী দলের সাথে হাত মিলিয়েছে। সেই বিরোধী দলের নেতা আর কেউ নয়। সে হচ্ছে জেড আর ভিকির বাপ আল ক্যাপোন।

সেই অন্ধকার রুম থেকে বের হয়ে নিক এক জানোয়ারে পরিনত হয়। এমন এক পাথর হৃদয় তৈরি হয়েছে ভেতরে যেখানে কেউ চিৎকার করলেও কিছু আসে যায় না। ক্যাপোন এর হাত ধরে কিং এর রাজ্যকে মাত্র বাইশদিনের মধ্যে ব্যবধানে ধ্বংস করে ফেলে। এই হিংস্র ধ্বংসলীলায় আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে সবাই। কিং এর মত এত শক্তিশালী, ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে ধ্বংস করা সবার সপ্ন ছিলো। সেখানে নিক শুধু কিং কে নয় পুরো সম্রাজ্যকে ধ্বংস করে ফেলে। শুরু হয় এক রক্তাক্ত আর ধ্বংসের খেলা। কে বাঁচবে কে মরবে কোনো নিশ্চয়তা নেই। সবাই নিককে ভয় পেত প্রচুর। ধীরে ধীরে নিজের সম্রাজ্য গড়তে শুরু করে। সবাইকে পিছনে ফেলে পাচার কাজে দেশ সেরা হয়ে উঠে। মাদক – ড্রাগস থেকে শুরু করে সব কিছুতেই এগিয়ে যায় অনেক দুর। যাকে ছুঁয়ার সামর্থ্য এখনও কারোর হয় নি। নিজের ভিট শক্ত করে। হয়ে উঠে আজকের মাফিয়া সম্রাজ্যের মালিক। যার ইশারায় পুরোটা সম্রাজ্য থমকে যায়। বড় বড় মাফিয়ারা মুখোমুখি হতে ভয় পায়। আন্ডারগ্রাউন্ডের সব থেকে ক্ষমতাধর গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান!
কায়াত থামে। বাঁকা চোখে তাকায় ইগরের দিকে। ইগরের চোখে -মুখে আতঙ্ক আর ভয়ের ছাঁপ। কায়াত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। হাসতে হাসতে বলে,

” কাম অন ইগর, ভয় কম পাও। আমি কলোনোদিন নিক কে ভয় পায় নি। ও আমার সব থেকে বড় শত্রু। কিং বেঁচে থাকলে আজকের গ্যাংস্টার বস আমি হতাম। শুয়রের বাচ্চা সব শেষ করে দিয়েছে। এত কিছুর পর ও আমার নিশ্চুপ থাকার মানে বুঝতে পারো নি ইগর? নিক আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবুও আমি শান্ত হয়ে আছি। সাপের লেজে পা দিয়ে সাপকে ফনা তুলতে বাধ্য করব না। এই মুহূর্তে ছোবল খেলে লড়তে পারব না। নিক কিন্তু একা নয়। তার সব থেকে বড় শক্তি আরিশ আছে। যারা একজন আরেকজনের জন্য জীবন ও দিতে পারে। দুইটা নেকড়ের সাথে যুদ্ধ করে রক্তাক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারব না। এই নিক নেকড়ের কামড় আর খামছি খেতে খেতে সত্যি নেকড়ে হয়ে উঠেছে। ইচ্ছে করলে এখন আমি পিছন দিকে আ্যটাক করতে পারি ইগর। ইচ্ছে করলে নিকের রক্ষিতাকে টেনে-হিচড়ে ছিঁড়ে খেতে পারি। কিন্তু একটাকে মারলে আরেকটা ফুঁসে উঠবে। যদি মনে করে থাকো একজনকে মারলে ভেঙ্গে পড়বে তবে ভুল তুমি। এরা ভাঙ্গে না বরং আরো হিংস্র হয়ে উঠে। সব কিছুর একটা সঠিক সময় প্রয়োজন। পর পর অনেকবার আক্রমন করেছি আমি। কিন্তু শুয়রের বাচ্চা মরতে গিয়েও বেঁচে যায়। ধ্বংস তো আমি ওকে করবই ইগর। তবে সেটা খুবই বাজেভাবে। এমন ভাবে ধরব যে কুত্তার বাচ্চা আর দাঁড়াতে পারবে না। আমি যখন আক্রমনটা করব তখন একটার ও শক্তি থাকবে না।
ইগর রহস্যময় হেসে বলে,
” আফ্রিকায় মিনারে গার্ড ছাড়া আর কেউ নেই। নিক, অধিরাজ, আরিশ সব কানাডায় এসেছে আমার খোঁজে। এই সুযোগ তার রক্ষিতাকে ছিনিয়ে আনার।
কায়াতের চোখে রহস্য। অদ্ভুত হেসে বলে,
” চেষ্টা করে দেখা যায়।

দুই দিন হয়ে গিয়েছে নিকের কোনো খবর নেই। খবর নেই বলতে সে এনির কাছে যায় নি। সেদিনের রাতের পর জ্ঞান ফিরলে এনি নিজেকে নিজের শক্ত বুকে আবিষ্কার করে।।অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে শক্ত দেখায় সরে আসার জন্য। কিন্তু নিকের জেদের কাছে হার মানতে হয় সব সময়। প্রতি রাতে জোর করে বুকে টেনে নেওয়া নিকের প্রতিদিনের স্বভাব। এমনভাবে তখন আগলে নেয় যেন দিন -রাত রানীর মত ট্রিট করে। এনি প্রথম প্রথম রাগ দেখালেও এখন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। ঘুমাতে গেলে অস্থির লাগছে সব কিছু। কেমন শূন্য মরুভুমি মনে হচ্ছে চারপাশে। নিজের অস্থির মনোভাবে বিরক্ত হয় এনি। মেইড খাবার নিয়ে আসে। এনি সেদিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনি জানেন মেহেরের দাদার কি খবর এখন?
মেইড ট্রলি রেখে বলে,
” না ম্যাম।
এনি মলিন মুখে বলে,
” অহহহ.
” আচ্ছা ম্যাম আপনাকে একটা প্রশ্ন করি
” হ্যা অবশ্যই। ভয়ের কিছু নেই।
মেইড নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” বসের সাথে এক রুমে থাকতে আপনার ভয় করে না?
এনি অনুভুতিহীনভাবে তাকায়। হাসার চেষ্টা করে বলে,

” অন্ধকারের মধ্যে বাস করে অন্ধকারকে ভয় করলে চলবে? আগুনের শিখার মধ্যে বাস করছি আমি। ভয় পায় না কিছু। আর ভয় পেলেই বা কি?
” আপনি কতদিন ধরে এখানে বন্ধী আছেন?
” এক বছর দুই মাস।
মেইডের চোখের পানি চিকচিক করে উঠে।
” আপনার বাহিরে যেতে ইচ্ছে করে না? সারাদিন এইভাবে এক রুমে একা বন্ধী জীবন কিভাবে পালন করেন ম্যাম? খুব কষ্ট হয় আমার আপনাকে দেখে।
এনির মুখ অন্ধকারে ঢেকে যায়। এরপরও মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
” তুমি বড্ড ভালো। নাহলে অন্যের কথা ভেবে কেউ কাঁদে? আমার কথা ভেবেনো। কারন আমার কথা ভাবলেই তার মৃত্যু হয়। আর আগেও একজনের হয়েছে।
মেইড দুঃখ প্রকাশ করে বলে,
” সেসব আমি জানি না। আপনার এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে না?
ইচ্ছে করে না আর পাঁচটা সাধারন নারীর মত জীবন -যাপন করতে? মুক্ত আকাশে ডানা মেলে প্রকৃতি উপভোগ করতে?
এনি গভীর নিশ্বাস ফেলে বলে,

” মুক্তি চাইলেই কি মুক্তি পাওয়া যায়?
মেয়েটা আচমকায় বলে,
” যদি আমি আপনাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে দেয়।
সাথে সাথে এনি তাকায় মেয়েটার দিকে। মেয়েটা বড্ড সরল দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই কথা যদি গ্যাংস্টার বস একবার ও শুনে তবে মৃত্যু নিশ্চিত! এনি ভয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” এইসব কথা আর উচ্চারন করো না। উনি শুনলে তোমাকে বাঁচতে দিবে না। ইয়া আল্লাহ, যদি রুমে স্পিকার সহ সিসি ক্যামারা থাকে তাহলে সব শেষ। এমন ভুল কথা তুমি কিভাবে বলতে পারলে? আমার মুক্তি চাই না বোন। চাই না আমার মুক্তি। আমার মত একটা অভিশাপ চার-দেয়ালের ভেতরে বন্ধী থেকে মরে যাক। এরপরও তোমরা কিছু বলো না। প্লিজ কিছু বলো না।
উনি কথাগুলো বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠে। মেয়েটা ধরতে গিয়ে বলে,
” কিন্তু ম্যাম….
এনি আদেশ করে বলে,

” যাও এখন এই মুহূর্তে। আর একটা এদিক-সেদিক কথা উচ্চারন করো না।
মেয়েটা মন খারাপ করে চলে গেলো। এনি ঢকঢক করে পানি গিলে ফেলে।।যদি সত্যি এমন কিছু থাকে যেটা দিয়ে নিক সব শুনতে পাচ্ছে। তবে মেয়েটার মৃত্যু নিশ্চিত এনি এইটা নিয়ে একদম কনফার্ম!
এনির নজর পুনরায় বেড সাইটে নজর যায়। সাদা কাগজে শুধু একটা নম্বর লেখা আছে। রুমে কেউ আসতে পারে না। এই নম্বর কার এনির জানা নেই। তবুও ইচ্ছে করলো একটা ফোন দিয়ে দেখার। যদি নিকের নম্বর হয় তবে অনেক ভালো।কথা বললে বুঝা যাবে সাইকোটা সব শুনেছে কি না। এনির শরীর কাঁপছে। মস্তিষ্ক বলছে কি প্রয়োজন আছে এইসব করার। আর মন বলছে একটা বার ফোন দিলে কি এমন ক্ষতি হবে? এনি কাঁপা হাতে নাম্বারটা হাতে তুলে নেয়। বুক কাঁপছে অন্যরকমভাবে। সবটা সাহস উজার করে দিয়ে ফোন দেয়।
বুলেট প্রুফ গাড়ির ভেতরে নিক, আরিশ আর অধিরাজ। পিছন থেকে একধিক গুলি ছুড়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে বন্ধুক নামিয়ে ফেলা মানে শত্রুপক্ষকে আঘাত করার সুযোগ করে দেওয়া। ফোনের উচ্চ আওয়াজে নিক সামনে তাকায়। গ্লাসের উপরে রাখা ফোনটার উপর ভেসে উঠে,

” ব্লাডরোজ ”
নিকের কপাল কুচকে আসে। সে কোনোদিন কল্পনা ও করে নি এনি এই নম্বরে তাকে সত্যি ফোন দিবে। কৌতূহলবশত এই নম্বরটা সে রেখে এসেছিলো। বন্ধুক নামিয়ে ফেলবে তার আগেই আরিশের অধৈর্য গলা,
” কি করছিস নিক? এই মুহূর্তে ফোন তুলা তর জন্য গুরুত্বপূর্ন নয়। এদিক-সেদিক হলে বাজে কিছু ঘটে যাবে। পুরনো শত্রু রয় ভিমিওর গ্যাং। তুই কি চাচ্ছিস এই মুহূর্তে রয়ের কাছে ইন্না- নিল্লাহ হয়ে যায়?
নিক বিরক্ত চোখে তাকায়। হুট করেই একটা বুলেটে তার হাতের দিকে ছুঁড়ে আসে। গ্লাস নামানোর ফলে অতি সহজে বাম হাতের পেশি ছুঁড়ে যায়। লাল রক্তে ভিজে উঠে শার্ট। নিকের চোখ মুখ শক্ত হয়ে উঠে। অধিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলে,

” দ্রুত গাড়ি চালা। নদীর কাছে এনে গাড়িটাকে থামাবি।
অধিরাজ অবাক হয়ে বলে,
” কিন্তু কেনো বস?
” নদীতে সাঁতার কাটব সেজন্য।
অধিরাজের মুখ থমথমে খেয়ে যায়। তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে ফোনটা আবারও বেজে উঠে। নিক আবার ও তাকায় সেদিকে। বাম হাতে ফোন তুলতে যাবে তার আগেই আরিশ অস্থির গলায় বলে,
” নিক আবার ও একই ভুল করছিস।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে বলে,
” মেয়েটাকে কাঁদিয়ে এসেছি। রাগটাকে কন্ট্রোল করতে পারে নি। সেদিন রাতে অনেকটা হিংস্র হয়ে উঠেছিলাম । ভেতর ছটফট করছে আমার। ওর সাথে কথা বললেই শরীরে হাজার গুণ শক্তি ফিরে পাব। দুনিয়া জাহান্নামে যাক এই মুহূর্তে ওর ফোন রিসিভ করাটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন।
আরিশ হতভম্ভ হয়ে যায়। নিক রিসিভ করে গম্ভীর হয়ে উঠে। ওইপাশ থেকে শুনা যায় এনির ঘন নিশ্বাসের শব্দ। নিক আরও বিব্রত করার জন্য বলে,

” জি বলেন।
এনির হৃদয় কেঁপে উঠে। এই শক্ত কর্কশ কন্ঠ সহ্য করার মত ক্ষমতা কি এনির আছে?কিন্তু কন্ঠ একদম শান্ত শুনালো। তার মানে কিছু শুনেনি। ওইপাশ থেকে শব্দ না পেয়ে নিকের রাগ হয়। পিছন থেকে একাধিক বুলেট নিক্ষেপ করছে। এদিক- সেদিক বুলেট পড়লেই অঘটন ঘটে যাবে। সেসবের তোয়াক্কা না করে ফোন রিসিভ করেছে। আর এই মেয়ে এইভাবে চুপ হয়ে আছে। নিক ধমকে উঠে,
” কি হলো কথা বলছো না কেনো?
ঝাঁঝালো ধমকে এনির ছোট্ট দেহটা আবারও কেঁপে উঠে। কাঁপা গলায় বলে,
” এ.. এইটা আপনার নাম্বার?
নিকের চোয়াল শক্ত করে বলে,
” কেনো? অন্য পুরুষের নাম্বার ভেবেছিলে?
এনি কথা বাড়ালো না। ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” এত শব্দ কোথা থেকে আসছে?
” বাচ্চারা বাজি ফুটাচ্ছে। তাই শব্দ হচ্ছে।
এনি থতমত খেয়ে যায়। নিক গভীর নিশ্বাস ছাড়লো।সামান্য এই কন্ঠ কানে আসতেই নিজেকে এত অস্থির লাগছে কেনো? নিক কপাল ঘষে নিজের।এনি নিরবতা ভেঙ্গে বলে,

” ক… কোথায় আছেন আপনি?
এনির এমন ভয়ানক প্রশ্ন নিকের কপালের ভাঁজ সোজা হয়ে আসে। এমন প্রশ্ন সে কোনোদিন আশা করে না। এই প্রশ্নগুলোর পিছনেও অনেক বড় ঘাপলা আছে। আবার কোন বদমাইশি করছে কে জানে? অহহ গড! এই ত্যারা মেয়েই কেনো আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে? নিক ঠোঁট কামড়ে ধরলো নিজের,
‘ বেডিদের সাথে রঙ্গলীলা করি।
ত্যারা উত্তরে এনি রেগে যায়,
” গজব পড়ুক আপনার উপর।
নিক সামান্য হাসলো। গম্ভীরতা নিয়ে বলে,
” নিজের বাড়িতে, নিজের রুমে, এমনকি নিজের বিছানায় আস্ত একটা গজব নিয়ে ঘুরছি। তোমার থেকে বড় গজব আর কি হতে পারে।
এনি বসা থেকে উঠে যায়। রাগ দেখিয়ে বলে,

” আপনি আমাকে গজব বললেন?
নিকের হাত থেকে রক্ত পড়ছে। রক্ত সামান্য আঙ্গুলে নিয়ে বলে,
” যে আগুন আমাকে পুড়িয়ে ছাঁই করেছে শেষ মুহূর্তেও আমি সেই আগুনের উষ্ণতা চাইব।
সাথে সাথে ওপাশ থেকে ফোন কেটে যায়। নিকের রাগ হলো প্রচুর। হুট করে ফোন কেটে দেওয়া তার পছন্দ নয়।আরিশ অসহায় হয়ে বলে,
” তুই কোন জন্মের প্রতিশোধ নিচ্ছিস নিক? পিছনে বুলেট ছুঁড়ছে আর তুই গাড়ির ভেতরে বসে বউয়ের সাথে প্রেম -আলাপ করছিস। সরি এইটাকে প্রেম – আলাপ করলেও ভুল হবে। রীতিমত ধমকাচ্ছিস! বুলেট প্রুফ গাড়ি না হলে এতক্ষনে টপকে যেতি। শালা!
নিক রহস্যময় ভাবে হাসলো। অধিরাজকে ইশারা দিয়ে বলে,
” বামের রাস্তা দিয়ে চল। ওইখানে হবে আসল খেলা।
অধিরাজ নিকের কথা অনুযায়ী বামের রাস্তার দিকে এগিয়ে যায়। কালো অ্যাসফল্টের সরু রাস্তা জুড়ে বজ্রগতিতে ছুটে চলেছে কালো সাঁজোয়া গাড়ি। রাতের নিস্তব্ধতা ছিন্নভিন্ন করে চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে অসংখ্য গুলির শব্দ। স্টিয়ারিংয়ের পেছনে বসে থাকা নিকের চোখে জ্বলে উঠেছে অগ্নিদীপ্ত কঠোরতা। আর তার পাশেই আরিশ জানালার ফাঁক গলিয়ে আগুন ঝরানো বুলেট ছুঁড়ে দিচ্ছে শত্রুদের দিকে।

গাড়ির ধাতব গায়ে টুপটাপ শব্দ তুলে বুলেট আছড়ে পড়ছে। যেন মৃত্যুর অদৃশ্য বৃষ্টি নেমেছে। তবুও নিকের ঠোঁটে একরকম ঠাণ্ডা হয়ে আছে। অদ্ভুত এক অবজ্ঞামিশ্রিত হাসি। যেন এই মৃত্যুর খেলাই তার চিরপরিচিত মঞ্চ। আরিশ দাঁত চেপে ট্রিগার টানতেই অন্ধকার ভেদ করে আগুনের রেখা ছুটে যায়। দূরের গাড়িগুলোর কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার বুকে। রাতের অন্ধকারে চলছে তীব্র সংঘর্ষ।
শত্রুদের উদ্দেশ্য একটাই নিক যেন থেমে তাদের সামনে দাঁড়ায়। যাতে তারা সামনে রেখে তাকে শেষ করে দিতে পারে। আর সব থেকে বড় এক গুপ্তধন নিকের কাছে লুকায়িত আছে। কিন্তু নিক সেটা দিতে নারাজ।
একইভাবে চলছে বুলেটের লড়াই। নিক থামার মানুষ নয়। তার চোখে ঝলসে ওঠে হিংস্র দৃঢ়তা। অধিরাজ স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে সে গাড়িটাকে এমনভাবে মোড় নেয় যে পেছনের তাড়া করা গাড়িগুলো মুহূর্তে বিশৃঙ্খলায় পড়ে যায়। আরিশ তখন জানালার বাইরে ঝুঁকে আরও দ্রুত গতিতে বুলেট বর্ষণ করছে প্রতিটি ট্রিগারের চাপ যেন যুদ্ধের একেকটি ঘোষণা।

চারদিক ধোঁয়া, আগুন আর গুলির বিকট শব্দে ভরে উঠেছে। সেই উত্তপ্ত সংঘর্ষের মাঝখানে নিক আর আরিশ দাঁড়িয়ে আছে যেন ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। সামনে ড্রাইভ করে যাচ্ছে অধিরাজ।
রাতের অন্ধকারে গাড়িটি ছুটে চলে সামনে। আর পেছনে পড়ে থাকে ধ্বংস ভাঙা কাচ আর পরাজিত শত্রুদের ছড়িয়ে থাকা নিঃশব্দ ছায়া। মাফিয়া যুদ্ধের নির্মম সাক্ষী হয়ে। কিন্ত এখানেই থেমে যায় নি। আরও কিছু গাড়ি আসে তাদের পিছনে। আচমকায় একটা পুরাতন বিল্ডিং এর সামনে গাড়িটা এসে থেমে যায়। নিক রহস্যময় ভাবে হাসলো। এক এক করে পিছনের গাড়িগুলোও থেমে যায়। শরীরে থাকা ট্রেঞ্চ কোর্টটাকে ফিট করে করে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। হাতে বেঁধে রেখেছে একটা বড় রুমাল। রয় ও চোখের গ্লাস নামিয়ে নেমে আসে গাড়ি থেকে। সামনা সামনি দাঁড়িয়ে আছে দুইটা পক্ষ। নিকের কপাক কুচকানো। রয় হাসি দিয়ে বলে,
” অনেক দিন পর আপনাকে দেখলাম গ্যাংস্টার বস।
নিক বাজ পাখির মত দৃষ্টি ফেলে বাজপাখির মত তাকায়,,
” এই কারনেই মাঝ রাস্তায় এইভাবে কুত্তার মত লেলিয়ে দিয়েছো রয়? উফস সরি, যে নিজে একটা কুত্তা সে তো কুত্তাদের এই লেলাবে?
রয়ের চোখ -মুখ ক্ষোভে লাল হয়ে উঠে। দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,

” এরপরও তকে মারতে পারলাম না জানোয়ার!
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। অধর বাঁকিয়ে বলে,
” ছা- পোষা কুকুরের কামড়ে গ্যাংস্টার বসের একটা বাল ও ছেড়ার ক্ষমতা নেই। নিজের এত ক্ষমতা থাকতে তুই পিছন থেকে আক্রমন করলি? ছেহহহ! রয় তকে আমি অনেক শক্তিশালী ভাবতাম। কিন্তু শালা মাদার্ফাক তো ভেজা বেড়াল।
রয় ক্ষেপে উঠে। সামনে পিছনে পায়চারী করে বলে,
” তুই আমার অনুমতি ছাড়া সেই পেপারে সিগ্নেচার করেছিস কেনো? বিশ কোটি টাকার ভাগ আছে আমার। সব মেরে বসে আছি জানোয়ার!
নিক দাঁত পিষে নিজের,
” গলার আওয়াজ নিচে নামা শুয়রের বাচ্চা। নাহলে এমন মার দিব যে তর অন্ডকোষটাও কেউ খুঁজে পাবে না।
নিকের কথায় আরিশ হাসিটাকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। অধিরাজ অবাক হয়ে তাকায়। এইটাই হলো তার বস। সবাই যেভাবে ডায়লগ দিবে তার বিপরীতে দিবে সে। সবাই বলে হাড্ডি খুঁজে পাবে না আর উনি বলে অন্ডকোষ!
রয় শ্বাস নিয়ে বলে,
” তুই আমার টাকা দিয়ে দে। পুরনো শত্রুতা ভুলে যাব সব।
নিক অধর বাঁকায়। গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,

” শত্রুদের সাথে খেলতে গ্যাংস্টার বস ব্যাকুল হয়ে থাকে। আলাদা এক মজা পাওয়া যায় এতে। শত্রুতা ভুলতে চাই না।
রয় দুই কদম এগিয়ে এসে চেঁচিয়ে উঠে,
” অন্যের হক মারছিস তুই নিক?
নিক উচ্চশব্দে হেসে উঠে। হাসির শব্দে কেঁপে উঠে চারপাশ। নিক অধিরাজের দিকে ইশারা করে বলে,
” অধিরাজ রুম থেকে ফোনটা নিয়ে আয়। এই জারজকে কিছু সিনারি দেখায়।
অধিরাজ সম্মতি জানিয়ে ভেতরে যায়। রয় অধিরাজের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কেমন সেই অদ্ভুত দৃষ্টি। নিক তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে বিল্ডিং অনেকটা দুরে। তাই অধিরাজের যেতে কিছুটা সময় লাগছে। নিক ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক অধিরাজের দিকে তাকায়। প্রায় চলে গিয়েছে ভেতরে। আরিশ নিকের কাছে গিয়ে অবাক হয়ে বলে,
” কিসের টাকা নিক?কিসের সাইন করেছিস তুই? তুই না বললি পাচার সংক্রান্ত সব ত্যাগ করেছিস। তাহলে এইসব কি?
নিকের চোখ- মুখ গম্ভীর হয়ে উঠে। এক বিকট শব্দ চারপাশ ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের হিট এসে নিক আর আরিশের পিছনে লাগে। নিকের শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। কপালের ভাঁজ সোজা হয়ে পড়ে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দুই কদম পিছিয়ে যায়। বিল্ডিং এ দাঁউ দাঁউ করে আগুন জ্বলছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বোমা বিস্ফোরন ঘটেছে। আরিশ চিৎকার দিয়ে উঠে,

” ভেতরে অধিরাজ!
নিকের চোখ- মুখ আক্রোশে জ্বলে উঠে। লাল অগ্নিশিখার লেলিহান অংশটুকু যেন তার চোখে এসে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। রয় হাসতে হাসতে গাড়ির সাথে হেলান দেয়। নিক ক্ষেপা বাঘের মত কোর্টের ভেতর থেকে বোমা বের করে। রয় আক্রমন করার আগেই নিক তাদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয়।
” শুয়রের বাচ্চা তুই আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস।
হুংকার মিশে যায় শাঁ শাঁ শব্দে। পালানোর সুযোগ নেয় কারোর।শত্রুদের অগ্রযাত্রা থামাতে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নিক্ষিপ্ত বোমাটি আকাশে ক্ষণিক ঘূর্ণি তুলে ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তেই বিকট বিস্ফোরণের অভিঘাতে চারদিক কেঁপে ওঠে। দাউদাউ করে উঠা আগুনের জিহ্বা আর কালো ধোঁয়ার ঘন স্তম্ভ মুহূর্তে যুদ্ধক্ষেত্রকে গ্রাস করে ফেলে। বিস্ফোরণের তীব্র চাপ তরঙ্গ চারপাশের বাতাসকে বিদীর্ণ করে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে দেয় ধ্বংসস্তূপের খণ্ডবিখণ্ড অংশ।
শত্রুদের সারিবদ্ধ অবস্থান মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল ভাঙনে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে মাটি কেঁপে উঠে। ক্রুদ্ধ পৃথিবী নিজেই প্রতিবাদ জানাচ্ছে। চারদিকে ধুলিকণার ঘূর্ণাবর্ত ঘন হয়ে উঠে আকাশকে ধূসর অন্ধকারে ঢেকে দেয়।চারপাশে পোড়া বারুদের গন্ধ বাতাসে ভারী হয়ে ঝুলে থাকে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৩

এই দগ্ধ পরিবেশের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের ওপর ছড়িয়ে আছে ভাঙা ইট, কংক্রিটের টুকরো আর ছিন্নভিন্ন ধাতব খণ্ড। তারা এই মুহূর্ত আগের সংঘর্ষের ভয়ংকর সাক্ষ্য। দুই পাশের আগুনের তীব্র হিটে শরীর যেন পুড়ে যাচ্ছে। দুরত্ব অনেক এরপর ও চারপাশ। নিক আগুনের দিকেই দৌঁড় দেয়। আরিশ পিছন থেকে হাত চেপে ধরে শক্ত ভাবে।
” নিক স্টপ। তুই গেলে তুই ও আগুনে ঝলসে যাবি।
নিক আচমকায় আরিশের কলার চেপে ধরে। চোখ লাল হয়ে আছে তার। দাঁত পিষে বলে,
” কিন্তু ওইখানে আমার ভাইয়ের দেহটা ঝলসে যাচ্ছে ফাঁকিং বিচ!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৫