লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৫
লিজা মনি
নিক আচমকায় আরিশের কলার চেপে ধরে। চোখ লাল হয়ে আছে তার। দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
” কিন্তু ওইখানে আমার ভাইয়ের দেহটা ঝলসে যাচ্ছে ফাঁ*কিং বি*চ!
আরিশ করুন চোখে তাকায়। সে কল্পনাও করতে পারবে না অধিরাজের দেহটা আগুনে পড়ছে। নিক তোয়াক্কা করলো না কিছুর। আরিশ শক্তি দিয়েও আটকাতে পারছে না। এরমধ্যেই পূর্ব পরিচিত আহত গলা ভেসে আসে,
” বস আমি এখানে।
নিক, আরিশ দুইজন এই থমকে যায়। অধিরাজের গলা পেয়ে নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। ঘাড় ঘুরিয়ে বাম পাশে তাকায়। সুইমিং পুলের পাশেই অধিরাজ দাড়িয়ে আছে। পুরো শরীর একদম ভিজে আছে। আরিশ স্বস্থির নিশ্বাস ছাড়ে।
” অহহহ গড!
নিক চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। সে আবেগটা কারোর সামনে প্রকাশ করে না। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কেমন অস্বস্তি লাগছে তার। অধিরাজ বত্রিশ পাটি বের করে নিকের সামনে এসে দাঁড়ায়। নিকের কপালে ভাঁজ সৃষ্টি হয়। অধিরাজের চোখে পানি অথচ ঠোঁটে হাসি।
” আপনি আমাকে এতটা ভালোবাসেন সত্যি কল্পনাও করি নি। আজ বোমা হামলার স্বীকার না হলে জানতেই পারতাম না গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান আমাকে বাঁচাতে এমন বেপোরোয়া হয়ে উঠেছিলো।
নিক দাঁত শক্ত করে বলে উঠে,
” রাবিশ!
অধিরাজ হেসে উঠে। নিক আর দাড়ালো না এখানেই। চারপাশে সাংবাদিক আর পুলিশে ভির জমে যাচ্ছে
।গ্যাংস্টার বসকে যারা চিনে তারা ভয়ে সামনে এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছে না।।আর যারা চিনে না তারা আসতে চাইলে গার্ডের কড়া নির্দেশের স্বীকার হয়। চারপাশে এখনও বিদঘুটে হয়ে আছে।
নিক নিজের গাড়িতে উঠে বসে।।অধিরাজের পিঠের এক পাশে সামান্য লাল হয়ে আছে।।আগুনটা ওইভাবে স্পর্শ করতে না পারলে ও তার উত্তাপ শরীর স্পর্শ করে গিয়েছে।
আরিশ অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” তুই বিল্ডিং থেকে সুইমিংপুলে গেলি কিভাবে? তাছাড়া সুইমিংপুল অনেকটা দুরে।।তুই যদি উপর থেকে লাফ ও দিতি এরপরও সেখানে পৌঁছানোর কথা নয়। গিয়েছিস কিভাবে?
অধিরাজ গম্ভীর শ্বাস ফেলে বলে,
” দরজায় পা রাখতেই বোমার শব্দ শুনি। প্রথমে ধরতে না পারলেও পড়ে সেটা বুঝতে পারি।।কম সময়ের ভেতরে আপনাদের কাছে আসা পসিবল ছিলো না। তাই বারান্দার দরজা দিয়ে নেমে সোজা সুইমিংপুলে ঝাঁপ দেয়। আর সাথে সাথে বোমা বিস্ফোরন ঘটে।
আরিশ ঠোঁট বাঁকায়,
” যাক এক উছিলায় আরেকটা শত্রু মরলো।
অধিরাজ অবাক হয়ে বলে,
” মেরে দিয়েছে?
আরিশ হেসে বলে,
” সাথে সাথেই। উনার প্রান-প্রিয় ভাইয়ের উপর আঘাত করেছে বলে কথা।
নিক বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠে,
” চুপ করবি নাকি মুখে কস্টিপ লাগাব?
আরিশ মিটমিট হেসে বলে,
” অনুভুতি প্রকাশ করে লজ্জা পাচ্ছিস নিক? আই মিন তর ও লজ্জা আছে?
নিক রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়। আরিশ শব্দ করে হেসে উঠে। অধিরাজও মুচকি হাসে। নিক গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে।
শুনশান নিরবতা চারদিকে। গভীর নিশুতি এক রাত। চারদিকে সমুদ্রের গর্জন যেন কোনো আত্নার চিৎকার। এক বিশাল রিসোর্ট।রাতের ঘন অন্ধকারে সমুদ্রতটের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সেই রিসোর্টটি যেন নীরবতার গায়ে খোদাই করা এক রহস্যময় স্থাপত্য। চাঁদের অনুপস্থিত আলোয় যার কাচের দেয়ালগুলো অল্প অল্প করে শুষে নেয় ঢেউয়ের রূপালি ফিসফিসানি।আর লবণাক্ত হাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে তার বারান্দা ও করিডর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অব্যক্ত ও শীতল বিষণ্নতা। দূরে অদৃশ্য দিগন্তে সমুদ্রের কালো জলরাশি অবিরাম আছড়ে পড়তে থাকে পাথুরে তটে। সেই শব্দের প্রতিধ্বনি রিসোর্টের স্তব্ধ দেয়াল বেয়ে উঠে এসে রাতকে আরও ভারী করে তোলছে। নরম হলুদ আলোয় ভেজা পথচিহ্ন। দুলতে থাকা পর্দা আর নীরব দাঁড়িয়ে থাকা খেজুরগাছ ম প্রতিটি মুহূর্ত অন্ধকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে ভোরের জন্য। সেই রিসোর্টের কোনো এক রুমে ইগর নিষিদ্ধ খেলায় ব্যস্ত। এক রমনীকে নিয়ে ফুর্তি কারাটা ও বর্তমানে তার কাছে সব থেকে খুশির বিষয়। ভারী নিশ্বাসের শব্দে পুরো রুম কুলষিত হয়ে উঠেছে। রমণী চিৎকার করছে। আবার একটু পর হাসিতে ফেটে পড়ছে। এইভাবেই চলছে এক নিষিদ্ধ খেলা। হুট করেই এক বিকট আওয়াজে সব কিছু কম্পিত হয়ে উঠে। বাহির থেকে আওয়াজ আসছে কে যেন বোম ফিট করে রেখেছে। কিন্তু ইগরের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সেতো বর্তমানে নারী নিয়ে পিপাসা মেটাতে ব্যাস্ত। চারপাশে -চিৎকার চেঁচামিতে রাতের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। নিজ নিজ রুম থেকে ছুঁটে যাচ্ছে নিরাপদ স্থানে। রিসোর্টের সব রুম ফাঁকা হয়ে যায়। দুইজন লোক এসে ইগরের রুমের দরজা ধ্বাক্কাতে থাকে।
” স্যার! ক্যান ইউ হিয়ার মি? আ বম হ্যাজ বিন প্লেসড আউটসাইড। প্লিজ মুভ টু আ সেফ প্লেস ইমিডিয়েটলি। স্যার!
নিজের কাজের বীঘ্নতায় ইগর ভয়ংকর ভাবে ক্ষেপে যায়। দরজার দিকে তাকিয়ে কিছু বিশ্রি গালি ছুঁড়ে দেয়। মেয়েটা ভয়ে বলে,
” বোম রাখা হয়েছে!
ইগরের মস্তিস্কে টনক নড়ে। অবাক হয়ে বলে,
” বোমা মানে?
ইগরের নিচে নগ্ন হয়ে থাকা নারীটা শরীরে চাদর পেঁচিয়ে বলে,
” সিকিউরিটি গার্ড তো সেটাই বলে গেলো। বাহিরে বোম ফিট করা হয়েছে। দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য।
ইগরের কপাল কুচকে আসে। ভয় পেলেও সেটা প্রকাশ করলো না। সে ভেবে পাচ্ছে না তাদের থেকেও বড় হারামজাদা কে? একটা রিসোর্টের ভেতরে কেনো বোম রাখবে? ইগর রাগে দাঁত কিড়মিড়ায়। বিছানা থেকে উঠে কাপড় গ্যাঞ্জি পড়তে পড়তে বলে,
” শুয়রের বাচ্চাকে হাতের নাগালে পেলে কু*পি*য়ে মারব। আমার কাজে ডিস্ট্রাব করার ফল তো ভোগ করতে হবে।
মেয়েটা ইগরের অপেক্ষা করলো না। কোনোরকম জামা -কাপড় শরীরে লাগিয়ে দৌঁড় দেয়। ইগর শার্টের বোতাম লাগিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
” শালী ব্যাশ্যা। শরীরে একটুও শক্তি কমে নাই।
ইগর দরজার কাছে যাবে তার আগেই দরজাটা বাহির থেকে লেগে যায়। ইগরের ভ্রুঁ দুইটা কুচকে আসে। দরজায় ধ্বাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” কোন কুত্তার বাচ্চা দরজা লাগিয়েছিস? দরজা খুল বলছি।
এইভাবে শত ধ্বাক্কা দিলো। কিন্তু বাহির থেকে কোনো সারা -শব্দ নেই। এইবার ইগরের শরীর কাঁপতে থাকে ভয়ে। যদি সত্যি বোমাটা এখন ফেটে যায় তবে সে তো….
আর ভাবতে পারছে না। দরজায় ধ্বাক্কা দিয়ে চেঁচাতে থাকে। চারদিকের নীরবতাকে আর নীরব মনে করতে পারছে না। ওটা এখন গর্জন হয়ে তার কানে আছড়ে পড়ছে। বাহিরে ফিট করা বোমার অস্তিত্ব যেন অদৃশ্য আগুন হয়ে দেয়ালের ভেতর দিয়েই তার বুকের খাঁচা ঝলসে দিচ্ছে। একজন শক্তিশালী মাফিয়া সে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই পরিচয়ও তাকে বাঁচাতে পারছে না।
তালার ধাতব নিস্তব্ধতা ইগরের মাথার ভেতর ঘন্টার মতো বাজছে। কপাল থেকে ঘাম গড়িয়ে চোখের কোণে এসে জমছে। দৃষ্টিটা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে আতঙ্কের লবণাক্ত জলে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে। ঢোক গিলতে গেলেই মনে হচ্ছে শ্বাসটাই বুঝি আটকে যাবে।
তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা আর তাল মানছে না।ছুটে পালাতে চাইছে নিজের খাঁচা ভেঙে। শ্বাস নিতে গেলেই বাতাস ভারী লাগে। প্রতিটা নিশ্বাসের সঙ্গে সময়টাও সংকুচিত হয়ে আসছে। দেয়ালগুলো কাছে সরে আসছে বলে মনে হয় ছাদটা নেমে আসছে মাথার ওপর।
ইগরের চোখে এখন আর রাগ নেই নেই কোনো দম্ভ। আছে কেবল নগ্ন ভয়। এমন ভয় যা হাড়ের ভেতর ঢুকে মজ্জা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়। সে কিছুতেই বাহির হতে পারছে না। আর এই অসহায় আটকে থাকার অনুভূতিটাই তাকে ধীরে ধীরে ভেঙে দিচ্ছে প্রতিটা সেকেন্ডে নিঃশব্দ।
ইগর ভয়ে পাগলামি করতে থাকে। জানালার কাচ ভাঙ্গার জন্য ফুলদানি তুলে নেয়। আতঙ্কে দিশেহারা অথচ দাম্ভিকতা নিয়ে গর্জে উঠে,
” একবার শুধু বের হয় এখান থেকে। পুরো রিসোর্ট আমি আগুন দিয়ে জ্বালাব। সাথে প্রতিটা ব্যক্তির কলিজা টেনে আনব।
” নিজের কলিজাটা ঠিক থাকবে তো ইগর! ”
দরজা খুলার সামান্য এক শব্দ। এরপর একটা কঠিন বাক্যে ইগর শিনা সোজা হয়ে উঠে। এই কন্ঠস্বর তার খুব পরিচিত। চট করে পিছনে ফিরে তাকায়। সাথে সাথে দুই কদম পিছিয়ে যায়। আরিশ কালো হুডি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর পাশের সোফাতে নিক পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। দুইজনের শরীরে কালো হুডি। নিক ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসে। আরিশ এমন একটা ভাব নিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে যেন এখানে বেড়াতে এসেছে। ইগর চট করে পকেট থেকে বন্ধুক বের করে। পিছিয়ে যেতে যেতে বলে,
” তরা এখানে কি করছিস? আর কিভাবে জানিস এই রাতে আমি এখানে এসেছি? এখনই রুম থেকে বের হ বলছি। নয়ত প্রতিটা বুলেট বুক বরাবর গেঁথে যাবে।
নিক ভ্রুঁ নাচালো। হুট করেই পৈশাচিকভাবে হেসে উঠে। বাজ পাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ রক্তাক্ত দৃষ্টি ইগরের দিকে নিক্ষেপ করে।।ঘাড় কাৎ করে বলে,
” হোয়াই আর ইউ স্কেয়ারিং আস সো মাচ? উই’আর গেটিং স্কেয়ার্ড। ইউ আর আ ফা*কিং বাস্ট্রাড!
ইগর ভয়ে ঢোক গিলে। পিছনে ফিরে তাকায়। পুরোটা কাচ দিয়ে দেয়াল গড়ে উঠেছে। এখান থেকে লাফ দিলে মৃত্যু নিশ্চিত। আরিশ কৌতুক মিশিয়ে বলে,
” একটু আগে যার সাথে ঊনিশ-বিশ করেছিস সেই মেয়েটা কে জানিস?
ইগর ভয়টাকে প্রকাশ করলো না। চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” ক.. কে মেয়েটা?
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” আমাদের প্রস্টিটিউট ক্লাবের মেয়ে।
ইগরের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে উঠে। রাগে গিজগিজ করে চেঁচিয়ে উঠে,
” কুত্তার বাচ্চা, তরা আগে থেকেই প্ল্যান করে এসেছিস? আর এই বোমা রাখাটা সবার কাছে মিথ্যে ছড়িয়েছিস! বাইন**** বাচ্চা!
নিক হিংস্রতা নিয়ে উঠে। কোর্টের এক অংশ ঝেড়ে শক্ত গলায় বলে,
” তকে মারতে প্ল্যান করার প্রয়োজন হয় না। তদের মত কুত্তাকে পথে-ঘাটে মারতে পারি। কিন্তু তকে এমন এক জায়গায় মারব যাতে পুরো দেশ দেখে। আর তর মৃত লাশ দেখে তাদের রুহ অব্দি কেঁপে উঠে।
নিক দুই কদম এগিয়ে আসে। ইগর বন্ধুক তাক করে বলে,
” সামনে এগিয়ে আসলে শুট করব নিক!
আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” শুট হিম!
ইগরের হাত কাঁপছে। শরীর কাপছে অসম্ভবভাবে। বন্ধুকটা ভালোভাবে শক্ত করে ধরে গর্জে উঠে,
” পিছনে সর কুত্তার বাচ্চা। শুট করব।
” শুট হিম!
” সত্যি বলছি।
নিক দুই কদম এগিয়ে যায়। চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” ডো ইট!
নিক যখন একদম ইগরের কাছে চলে আসে। ইগর হুট করে বন্ধুকের ট্রিগারে চাপ দেয়। একটা শব্দ হয় যাস্ট। কিন্তু কোনো বুলেট বের হয়ে আসে। ইগর অবাক হয়ে নিজের বন্ধুকের উপর আঘাত করতে থাকে। নিক বাঁকা হেসে বলে,
” তর রক্ষিতা বহু আগেই বন্ধুক থেকে বুলেট সরিয়ে দিয়েছে বান্দির বাচ্চা। ইভেন ইফ ইউ পুল দ্য ট্রিগার অল ডে, নাথিং উইল হ্যাপেন।
কথাটা বলেই নিক ইগরের গলায় চেপে ধরে দেয়ালের সাথে ধ্বাক্কা দেয়। ইগরের শক্তপোক্ত বডিটা দেয়ালের সাথে ঘর্ষণের ফলে বিকট শব্দ হয়ে উঠে। পালিয়ে যাওয়ার জন্য নিকের নাকে ঘুষি মারে। সাথে সাথে নিক মুখ সরিয়ে ফেলে। নাক ফেটে রক্ত পড়তে থাকে।
ইগর অদ্ভুতভাবে হাসলো। আরিশ উঠে আসে ইগরের কলার চেপে ধরার জন্য। তার আগেই গ্যাংস্টার বস ক্ষেঁপা বাঁঘের মত ইগরের উপর ঝঁপিয়ে পড়ে। একাধারে এলোপাথারি কিল-ঘুষি দিতে থাকে ইগরের চোখে -মুখে। চোখ-মুখ ফেটে রক্ত ছিটকে পড়ে দুরে কোথাও। নিক একটুর জন্যও থামে নি। ইগর সহ্য করতে না পেরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। নিক ইগরের শক্ত বুকের উপর উঠে বসে। দুই হাত মুঠো শক্ত নাক-মুখে ঘুষি বসায়। ইগর গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে। নিক রাগে ফুঁশ ফুঁশ শব্দ করছে। আরিশ নিকের পিঠে হাত রেখে বলে,
” এইবার অন্তত ছাড় ভাই। তিলে তিলে শেষে করব এই শালাকে। এইভাবে ঘুষি দিয়ে মেরে ফেললে তো মজা নেই
নিক লাস্ট আঘাত করে ইগরের বুকে। ইগর দড়ফড়িয়ে উঠে। নাক-মুখ থেকে রক্ত পড়ছে। এই রিসোর্টের প্রতিটা রুম এই সাউন্ড প্রুফ। এইটাও তার ব্যক্তিক্রম নয়।।ইগরের গলা ফাটানো চিৎকার ও কেউ শুনতে পারছে না।
আরিশ ইগরের দুই গাল চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” তুই আমার কলিজার টুকরো বোনটাকে বাঁচতে দিলি না। তুই জানিস ও আমার কি ছিলো? আমার বোন আমার জীবন ছিলো। কেনো তাকে মেরেছিস? আমার বোনটা তর কি ক্ষতি করেছিলো শুয়রের বাচ্চা!
আরিশ সমস্ত শক্তি দিয়ে ইগরের নাক বরাবর আঘাত করে। ইগর যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
” আমি তর বোনকে মারিনি। তর বোন নিজেই নিজের গলায় ছুঁড়ি বসিয়েছে।
আরিশ ইগরের গলায় চেপে ধরে দাঁত পিষে। অতিরিক্ত ক্রোধে মুখের প্রতিটা রগ ভেসে উঠে তার।
” কেনো ছুঁড়ি বসিয়েছে? কি করেছিলি ওর সাথে?
” আ… আমি কিছু করি নি।
আরিশের সহ্য হলো না এই কথা। আরও জোরে গলাটা চাপ দিয়ে ধরে বলে,
” কুত্তার বাচ্চা তুই আমার বোনটাকে নষ্ট করতে চেয়েছিলি। চিলের মত খুবলে খেতে চেয়েছিলি। তর থেকে বাঁচার জন্য ও নিজের গলায় ছুঁড়ি বসিয়েছি। সত্যি ঘটনা পুরোটা বল। নয়ত তকে গলা টিপেই শেষ করে ফেলব। সময় খুব কম আমাদের হাতে।বল!
আরিশের প্রতিটা ভয়ানক গর্জনে দেয়াল গুলো পর্যন্ত কেঁপে উঠছে। ইগরের চোখ মুখ উল্টে আসছে। বাঁচার শেষ ইচ্ছে পোষণ করে বলে,
” ব… বল.. বলছি আমি।
আরিশ ছেড়ে দেয়। কপালে ভাঁজ ফেলে তাকায়। ইগর গলায় হাত দিয়ে কাঁশতে থাকে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
” আমি জানতাম না তর বোন সেদিন রাতে রুম থেকে বের হবে। আমাদের টিমের এক লোক দেখেছে তর বোন রাতের অন্ধকারে হাটছে রাস্তা দিয়ে। সে আমাকে ফোন করলে আমি প্রতিশোধের নেশায় দ্রুত ছুঁটে আসি। তর বোনের লাস্যময়ী রুপ দেখে নিজেকে আটকাতে পারি নি। বিশ্বাস কর একটু মজা নিয়েই ছেড়ে দিতাম। প্রানে মারার কোনো ইচ্ছে ছিলো না। তার আগেই তর বোন গলায় ছুঁড়ি বসায়।
আরিশের চোখে পানি চিকচিক করে উঠে। কে বললো পাথর হৃদয় গলে না। একবার তাদের দুর্লতায় হাত দিয়ে দেখো একটা পাথরও মোমের মত গলে যায়। আরিশের চোখে কাল্পনিকভাবে ভাসতে থাকে সেই বর্বর দৃশ্যগুলো। তার বোনটা ভাইয়া ভাইয়া বলে অবশ্যই ডেকেছে। সাহায্যের জন্য কান্না করে বলেছে,
” ভাইয়া তুমি কোথায়? প্লিজ আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে বাঁচতে দিচ্ছে না।
আরিশ কান চেপে ধরে নিজের। টুপ করে কয়েক ফোটা চোখের পানি পড়ে যায়। মেহেরের সেই কঠিন স্বীকার উক্তি,
” নিক যদি আমার না হয় তবে আমিও বাঁচব না। হয় নিককে আমার করে দাও নয়ত আমার খাটিয়া সাজানোর ব্যবস্থা করো। ওকে ভালোবেসে আমি মেহরিমা মেহের ইতিহাসের সব থেকে কলঙ্কিত নারী হতেও রাজি আছে।
হেরে গেলো মেয়েটা ভালোবাসায়। আর তার সেই সহজ স্বীকার উক্তিও আজ সত্য হলো। নিজ হাতে তার বোনের খাটিয়ে সাজিয়েছে। ভালোবাসায় বাজেভাবে হেরে গিয়ে এক জানোয়ার থেকে বাঁচতে নিজের জীবন ত্যাগ করে ফেললো। আচ্ছা সে কি কলঙ্কিত নারী হয়েছে?
আরিশ আর ভাবতে পারলো না। প্যান্টের পকেট থেকে ছোট নাইফ বের করে ইগরের বুকে এলোপাথারি বসাতে থাকে। কিভাবে মারলে তার বুকের জ্বালা মিটবে জানা নেই।
ইগর ছটফটাচ্ছে। আরিশের হাত চেপে ধরে শক্ত ভাবে। আরিশ রক্তলাল চোখে তাকিয়ে বলে,
” তুই আমার ফুলটাকে ছিঁড়ে খেতে চেয়েছিলি কুত্তার বাচ্চা! তর সাহস কিভাবে হলো আমার বোনের দিকে চোখ তুলে তাকানোর। তুই জানতি না ও কার বোন ছিলো। ও ক্রিমিনাল লিডার আরিশের বোন ছিলো। আমার কলিজাটা কেনো মারলি তুই? ওর গালে থাপ্পরের দাগ পেয়েছি। শরীরে অনেক জায়গায় আচরের দাগ, ঠোঁট কাটা ছিলো। তুই জানিস আমি কোনোদিন সামান্য ফুলের স্পর্শ করে দেখিনি ব্যাথা পাবে বলে। এতটা ভালোবাসতাম যে মাটিতে পা রাখতে দিতাম না নোংরা লাগবে বলে। আর শুয়রের বাচ্চা তুই ওকে এইভাবে মারলি! ভাই, ভাই বলে আমার কলিজাটাকে ঠান্ডা করে দিত। আজ পাঁচটা দিন হতে চললো আমার বোন আমাকে ভাই ডাকে না। মরবি তুই ইগর! তর মৃত্যু জঘন্যভাবে হবে।
আরিশ পাগলের মত আচরন করতে থাকে। ছুঁড়ির ছোট ছোট আঘাতে রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়েছে। ইগর গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে।।আরিশ নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কুত্তাটাকে বেঁধে ফেল। হাত -পা দিয়ে প্রচুর বাঁধা দিচ্ছে।
আরিশ উঠে আসে ইগরের উপর থেকে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে ইগরের সামনে এসে দাঁড়ায়। ইগর উঠে পালাতে যায়। কিন্তু নিক পা দিয়ে পেটে চেপে ধরে। ইগর সেই আগের মতই মেঝেতে কাতরাচ্ছে। নিকের উপস্থিতি কেবল ছায়া নয় বরং একটি নিঃশব্দ আগুনের মতো। যা ধীরগতিতে ইগরের চারপাশের বাতাসকে গরম করছে। তার চোখে রাগের আঁচকে আগুনের শিখায় রূপান্তরিত করে। প্রতিটি পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট এবং প্রতিটি নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রিত। যেন পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম শুধুমাত্র তার হাতে বাঁধা। নিক ইগরের হাত ধরে ছেঁচরে বিছানায় নিয়ে যায়। রক্তে মেঝে লাল হয়ে উঠেছে।
ইগর চিৎকার দিতে দিতে বলে,
” আমাকে মারিস না।।ভুল করেছি আরিশের বোনের দিকে নজর দিয়ে। ক্ষমা করে দে আমাকে। আমি আজীবনের জন্য এই জায়গা থেকে চলে যাব।
নিক হালকা হাসলো। প্রথমে শ্যাকল্স কড়া কড়া শব্দ করে ইগরের কব্জিতে আটকানো হলো। সেই ক্লিকের প্রতিধ্বনি যেন অদৃশ্য দণ্ডের রায় ঘোষণা করছে। তারপর তার পায়ের কব্জি অবিচলভাবে বিছানার লোহা-ফ্রেমে আটকে দেয়। আর কোনো মুক্তি বা কোনো পালানোর স্বপ্ন চোখের সামনে ক্রমেই বিলীন হয়ে গেলো। ইগর ছটফট করেও শিকলের দখল ভাঙতে পারছে না। তার শক্তি বিছানার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। কপাল ভিজে যাচ্ছে ঘামের স্বাদে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে আতঙ্কের আর্দ্রতার ভারে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।প্রতিটি শব্দ চুপ হয়ে যাচ্ছে শ্বাসের সঙ্গে মিলিত নীরবতায়। নিক অবিচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত ক্রোধ যা কোনো বিস্ফোরণ ছাড়াই ঘরে বিরাজ করছে। তার দৃষ্টি ইগরের প্রতিটি ছটফটানো আন্দোলন।বিস্তৃত চোখ এবং ক্রমশ বোঝাপড়ার সঙ্গে ভাঙা আত্মবিশ্বাসকে পর্যবেক্ষণ করছে, ঘরটি ঘন অন্ধকারের মতো ভারী।
আরিশ কিছু একটা এগিয়ে দিয়ে বলে,
” শালাকে দ্রুত জাহান্নামে পাঠা। কিছু সময়ের ভেতরে পুলিশ চলে আসবে। পরে ইচ্ছেমত লাস্ট মারটাও দিতে পারব না।
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” আমি মারব?
” হ্যা।
” তুই মারবি না?
আরিশ চোখ-মুখ শক্ত করে বলে,
” আমি মারলে সেই শাস্তি দিতে পারব না। তুই যত হিংস্রভাবে মারতে পারিস, মেরে ফেল। আমি আর তুই কি আলাদা!
” আমি আর তুই কি আলাদা! ” একটা বাক্যে নিক হাসে। ইগরের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে,
” তৈরি তো? অনেক জ্বালিয়েছিস আমাকে।
ইগর সতর্কতা দিয়ে বলে,
” নিক এক মাফিয়া আরেক মাফিয়াকে মারতে নেই। সেখানে তুই সবার বস। তুই এমন করতে পারিস না।
নিক ছুঁড়ির আগায় ঘষে বলে,
” রুলস আমি হাজারটা তৈরি করতে পারি। গ্যাংস্টার বসের নজরে যে একবার পড়ে সে সহজে বেঁচে ফিরতে পারি না।।যাস্ট পনেরো মিনিটে তর শরীরকে সার্জারি করব। আর পাঁচ মিনিটে এখান থেকে চলে যাব। পুলিশ তর বিকৃত লাশ দেখবে কিন্তু কে মেরেছে সেটা ইহজনমে ও জানতে পারবে না।
ইগর মাথা দিয়ে না করে আতঙ্কিত হয়ে কান্না করে দেয়,
” এমন করিস না। আমি আর জীবনেও তদের সামনে আসব না।
ইগরের কোনো আর্তনাদ শুনা গেলো না। আরিশ একটা লম্বা চিকন শিক দিয়াশলাই এর উপরে রাখে। আগুনে গরম হতে থাকে সেই চিকন লোহাটা। নিক ইগরের মুখে জোর পূর্বক কস্টিপ লাগিয়ে দেয়। ছুড়ি দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে শরীরের পুরোটা জামা। ইগরের নগ্ন দেহটার উপরে এক ধলা থুঁ – থুঁ নিক্ষেপ করে। কাপড় ছিঁড়তে গিয়ে অনেক জায়গায় মাংস তুলে নিয়েছে। ইগর শুধু কাতরাচ্ছে।
আরিশ গরম শিকটাকে ইগরের কাছে এনে বাঁকা হাসে। ইগর মাথা আর চোখ দিয়ে বার বার না করছে। চোখ দুইটা যেন উল্টে আসবে এখন। আরিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে চোখের পলকে ফুটন্ত শিক ইগরের পুর*ষা*ঙ্গে ডুকিয়ে দেয়। ইগরের চোখ দিয়ে যেন রক্ত পড়ছে। চিৎকার করতে পারছে না। মুখে এমন এক কস্টিপ লাগিয়েছে । যেখানে হাজার চিৎকারও শব্দ বাহির হচ্ছে না। গরম শিকটা সেখানে রাখা অবস্থায় ঘুরাতে থাকে। রক্তে সাদা বেড সিট লাল হয়ে উঠে। আরিশ শান্ত চোখে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলে,
” এইটার সাহায্যে অনেক ফুর্তি করেছিস। আমার বোনটাকে ছাড়তে চাস নি। এইবার বুঝ এর পরিনাম ঠিক কতটা ভয়াভহ হয়!
ফুটন্ত শিক ব্যবহার করা জায়গাটা ঝলসে গিয়ে কালো হয়ে যায়। আরিশ বের করে ফেলে শিকটাকে। ইগরের শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। পরবর্তী কোঁপ বসে তার ডান হাতে। একটা কোঁ*পের আঘাতেই পুরোটা হাত কব্দি থেকে ছিটকে আসে। পর পর অপর হাতটাকেও কেঁটে ফেলা হয়। ইগর জ্ঞান হারিয়ে এক পাশে হেলে পড়ে। নিক থেমে যায় নি একটুও। সময় খুব কম। আর তার ভেতরেই সব কিছু করতে হবে। ইগরের জিহ্বা দাঁতে দাঁত লেগে অনেকটা বের হয়ে এসেছে। নিক সেই জিহ্বাবাকে টেনে ধরে। জিহ্বা অনেকটা বের হয়ে আসলে কেটে ফেলে। ইগরের গলা ডেবে আসে। আর চিৎকার দিতে পারছে না। করুন চোখে তাকায় নিকের দিকে। নিক সেই চোখের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। করুনা আর মায়া যদি গ্যাংস্টার বসের মধ্যে তিল পরিমান থাকত তবে এত এত বিকৃত খুন করে কিভাবে? বোকা!
নিক এইবার আঘাত করে ইগরের শরীরে। উপরের শক্ত চামড়া চিকন নাইফের সাহায্য খুলে নিতে থাকে। ইগর -মুচড়াচ্ছে শুধু। নিকের চোখ-মুখ শান্ত। যেন সে ক্যানভাসে কোনো আর্ট করছে। ধীরে ধীরে পুরো শরীরের চামড়া খুলতে থাকে। চামড়া খুলার পরে রক্ত ছিটকে পড়তে থাকে চারপাশে। এক পর্যায়ে উপরের সাদা চামড়া খুলে যায়। বের হয়ে আসে শরীরের এক ভিবৎস্য দৃশ্য। ভেতরের মাংস আর রক্তের মিশ্রনে কেমন ভয়ানক হয়ে উঠে শরীর। সেই রক্তাক্ত মাংসে নিক বিষাক্ত পোকা ছেড়ে দেয়।পোকাগুলোর এক একটা বিষাক্ত কামড়ের যন্ত্রনা যেন হাজারটা ছুঁড়ির আঘাতের থেকেও বেশি যন্ত্রনার। ইগিরের পুরো শরীর নীলাভ হয়ে উঠে। পোকাগুলো পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে কাচা মাংসের খুঁজে। দুই একটা পোকা নরম মাংসের ভেতরে গেঁথে যাচ্ছে। কিছু পোকা নিচ দিয়ে পুড়ে যাওয়া গুপ্তধনের ভেতরে ডুকে যাচ্ছে। যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। চোখে আঘাত করতে হয় নি। অতিরিক্ত যন্ত্রনায় চোখ দুইটা নিজ থেকেই উল্টে আসে। নরকের মত যন্ত্রনা ভোগ করতে করতে ইগরের জবান বন্ধ হয়ে আসে। দাঁতে দাঁত লেগে যায় তার শক্তভাবে।
আরিশ নিকের উদ্দেশ্যে বলে,
” মরে গিয়েছে।এখন কি শরীরটাকে কেটে ফেলবি?
নিক শান্ত চোখে তাকায় ইগরের চামড়া হীন বিকৃত লাশের দিকে। রহস্যময় হেসে বলে,
” কলিজাটা শুধু পেট ছিঁড়ে তুলে নে। বাকি শরীর যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে দে। কারন কালকের নিউজে থাকবে ইগরের বিকৃত লাশের দৃশ্য। শরীর টুকরো করে ফেললে আবার এই খেলায় মজা জমবে না।
আরিশ হেসে নিকের কথামত ইগরের পাঁজরের নিচে ডান দিকে ছুঁড়ে দিয়ে আঘাত করে। চোখে কোনো মায়া নেই। চোখে শুধু বর্বরতা আর হিংস্রতা।
কলিজাটা টেনে বের করে পাশেই রেখে যায়। এরপর এরপর বের হয়ে যায় রুম থেকে। তার আগে যাবতীয় সামগ্রী একটা ব্যাগের ভিতরে নিয়ে যায়। কালো -হুডি মুখ ডেকে যেভাবে এসেছিলো ঠিক সেভাবেই নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। সামনে রাস্তায় না গিয়ে রিসোর্টের পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। দুরেই রাখা কালো দুইটা গাড়ি। একটা গাড়ির মধ্যে বডিগার্ড। আর অন্য গাড়ির মধ্যে অধিরাজ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিক পিছনে ঘুরে তাকায় একবার রিসোর্টের দিকে। ইতিমধ্যে সাংবাদিক -পুলিশ সবাই চলে এসেছে। বোম রাখা হয়েছে এই সংবাদে কেউ ভয়ে এগিয়ে যেতে পারছে না। সময়ের ব্যবধানে সাতজন বম ডাইসপোজাল এক্সপার্ট আসেন। নিক তাদের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুতভাবে হাসলো। গাড়ির কাছে আসতেই হুডিটা খুলে ফেলে। আরিশ গাড়িতে বসে বলে,
” এত বিকৃত খুনের আইডিয়া তর মাথায় আসে কিভাবে নিক?
নিক চুল ঠিক করে বলে,
” তকে যেদিন মারব সেদিন খুলে বলব। এখন আপাযত আমাকে জেটের কাছে নিয়ে চল।
আরিশ অধিরাজ দুইজন অবাক হয়। অধিরাজ অবাক হয়ে বলে,
” স্যার পুরো শরীরে রক্ত আপনার। শাওয়ার না নিয়ে জেটের কাছে গিয়ে কি করবেন?
নিক স্বাভাবিক ভাবে বলে,
” আফ্রিকায় ব্যাক করব। আই ওয়ান্ট টু গো দ্যার রাইট নাউ। শাওয়ার সেখানেই করে নিব। শুয়রের বাচ্চার রক্তের থেকেও দুর্গন্ধ আসছে।
আরিশ ঘাড় সোজা করে বলে
” পুলিশ কি বলে, সব গেইম দেখে এরপর যায়?
নিকের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে উঠে। দাঁত পিষে বলে,
” তিনটা দিন বউ ছাড়া আছি। তর শা* ওয়ার গেইম দেখার ধৈর্য এই মুহূর্তে নেই। যাকে মারার তাকে মেরে আত্না ঠান্ডা করে ফেলেছি।।এইবার দুনিয়া জাহান্নামে যাক।
আরিশ দুষ্টু হেসে বলে,
” তোমার সূর্যমামা বুঝি প্রচুর খুঁচাখুঁচি করছে গ্যাংস্টার বস।
আরিশের কথার অর্থ বুঝে পিছন থেকে থাবা বসায়। দাঁত পিষে বলে,
” তর মত অকেজো নয়। যেহেতু সচল জিনিস সেই হিসেবে খুঁচা দিবেই।
আরিশের ইগোতে লাগলো কথাটা। গলে কেঁশে বলে,
” আমাকে চ্যালেঞ্জ করছিস? হ্যাহহ! যেদিন একসাথে দশ বাচ্চার বপ হয়ে যাব সেদিন বুঝবি অকেজো নাকি সচল।
নিক বিরক্ত চোখে তাকায়। আরিশ চুপ মেরে যায়। বর্তমানে এমন এক ঠান্ডা পরিস্থিতিত যেন কিছুক্ষণ আগে কোনো বর্বর কাহিনী ঘটেনি।
মার্চের সতেরো তারিখ। নিক গিয়েছে আজ পাঁচদিন হতে চললো। এনি এশারের নামাজ পড়ে সেই জায়নামাজেই বসে রইলো। বদ্ধ, অন্ধকার রুমে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। নিজের সব টুকু কষ্ট উজাড় করে দিতে ইচ্ছে করছে সৃষ্টিকর্তার কাছে। এনি সিজদায় পড়ে কেঁদে উঠে,
” সব কিছুর মালিক একমাত্র তুমি।।জন্ম -মৃত্যু -নিয়তি সব তোমার হাতে লেখা। আমার কি নিয়তি আর ভাগ্য লিখে দিয়েছো। কোথায় যাব আমি? আমার গন্তব্য কোনদিকে? এক জীবনে মাকে হারালাম, জন্মদাতা বাবাকে হারালাম। কতটুকু বয়স ছিলো আমার? মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মত কেউ ছিলো না। কতটা যন্ত্রনা আর কষ্টে প্রতিটা মুহূর্ত কাটিয়েছি তুমি তো জানো। সুন্দর জীবনের জন্য নিজের মাতৃভুমি ছেড়ে ইরানে এসেছিলাম। সুন্দর একটা জীবন এইতো চেয়েছি। রুপবতী বানিয়ে দুনিয়ায় পাঠালে। পুরুষের কুৎসিত নজর থেকে নিজেকে বাঁচাতে বাঁচাতে হাঁপিয়ে উঠেছি। আমাকে আরও ধৈর্য দাও। আর ধৈর্য ধরতে পারছি না। এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যত কেনো দেওয়া হলো আমাকে? এমন একজনের নামে কবুল বলেছি যে আমার নয়। স্বামী – স্ত্রীর বন্ধন তো খুব পবিত্র হয়। আগুন আর পানিকে কেনো এক করলে? লোকটা প্রচুর হিংস্র , ছন্নছাড়া! কিভাবে সামলাব এই বেপোরোয়া পুরুষটাকে। আমি মানি না এই লোকটাকে স্বামী হিসেবে। এই কথাটা যেমন চরম সত্য তার থেকেও বড় সত্য এই লোকটাই আমার স্বামী। পৃথিবীর সব থেকে উঁচু পাহাড়ে উঠে যদি আমি চিৎকার দিয়ে বলি, এই লোক আমার স্বামী নন। এই চিৎকার আমার সত্য হয়ে উঠবে না। বাস্তবতা তো তুমি খুব নিষ্ঠুর ভাবে লিখে রেখেছো।
এমন এক ব্যক্তিকে আমার ভাগ্যে দিয়েছো যে কোনো সাধারন মানুষ এই নয়। রক্তাক্ত খেলা, পৈশাচিক কাজের নীল নকশা যার প্রতিটা কেন্দ্র বিন্দুতে। নিজের অহংকার নিজের সতিত্ব হারিয়েছি এই পুরুষটার হাতে। লোকটাকে আমি চরম ঘৃনা করি। অথচ দেখো প্রতিটা মোনাজাতে এই লোকটা থাকে। তুমি উনার রাগটাকে কমিয়ে দাও। উনি যখন রেগে যায় কেমন অদ্ভত রকমের মনস্টার হয়ে উঠে। আমি সহ্য করতে পারি না তখনকার পরিস্থিতি।ভয় হয় খুব। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে তোমার এই বান্দী। তুমি উনার রাগটাকে কমিয়ে দাও। শরীর যখন বিনিময় হয়ে গিয়েছে যদি কোনোদিন মনের টান চলে আসে! তখন কিভাবে সামাল দিব এই ধ্বংস আর সৃষ্টির খেলা। তুমি কি আদ’ও উনার সাথে আমার পথ চলা লিখে রেখেছো? যদি লিখে রাখো তাহলে এমন পাপী ব্যক্তির সাথেই কেনো লিখলে? কেনো একজন শুদ্ধ পুরুষ হিসেবে উনাকে আমার জীবনে পাঠালে না? খারাপের একটা সীমা -পরিসীমা থাকে। কিন্তু উনি তো দুনিয়ার কিছুই তোয়াক্কা করে না। প্রতিনিয়ত খুন, মাদক, অবৈধ ব্যবসা এমন কোনো অনৈতিক কাজ নেই যে করে না। পাচারের জন্য নাম্বার ওয়ান উনি। নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়। হাজারও ফুলের মত মেয়েদের জীবন নষ্ট করে দেয়।জানা গিয়েছে এখন পাচার করে না। কিন্তু কতটুকু সত্য আমি জানি না। আগুনকে বিশ্বাস করে পানি ভেবে ঝঁপ দিতে যাব না। মায়া -মমতা বলতে কিছু নেই। এমন হার্টল্যাস ব্যক্তির সাথে এক রুমে কিভাবে থাকব? ক্ষমা করো উনাকে। মেয়ে বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠাইলা। মনটাকে দিয়ে রেখেছো ফুলের মত নরম। সময়ের ব্যবাধানে আবার পাথরের থেকেও বেশি শক্ত করে দাও। ইজ্জত আর প্রতিশোধ নিতে কতগুলো খুন করেছি। ক্ষমা করে দিও সব কাজের জন্য। তোমার আদালতে আমি সব থেকে বড় আসামী। উনাকে সেদিন মারতে চাই নি আমি। বার বার নিজের বান্ধুবীর রক্তাক্ত লাশ সামনে ভাসছিলো। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি। খুন করতে চেয়েছিলাম সেই শক্তি তখন তুমি ছিনিয়ে নিয়েছিলে। তুমি তো আমার মনের খবর জানো? এতগুলো চাবুক মেরে আমিও ভালো নেই। যতবার এই ক্ষত-বিক্ষত শরীরটা আমার সামনে দৃশ্যমান হয়ে উঠে আমি নিজেও দিশেহারা হয়ে পড়ি। কি করব? এই বন্ধী জীবন আর নিতে পারছি না। আমার জীবনেই কেনো এত শত্রুর বসবাস? ধৈর্য দাও আমাকে। প্লিজ ধৈর্য দাও!
এনি কথাগুলো বলতে বলতে ফুঁপিয়ে উঠে। কান্নার কারনে আর কিছু বলতে পারছে না। ছোট্ট শরীরটা কাঁপছে তার। পানি পিপাসায় গলা শুকিয়ে আসে। বসা থেকে উঠে বিছানার কাছে যায়। বেড সাইট থেকে পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢক ঢক করে গিলে ফেলে।
এরমধ্যেই মেইড রুমে ডুকে। ধোঁয়া উড়ানো কফি নিয়ে আসে সে। এনি নিজেই বলেছে নিয়ে আসার জন্য। মাথাটা ব্যাথা করছে তার উপর অস্থির লাগছে ভেতরে।।কিসের অস্থিরতা সে জানে না। এনি কফিটা হাতে নিয়ে বিছানায় বসে। মেইডকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,
” কিছু বলবেন?
মেইড আমতা আমতা করে বলে,
“ম্যাম বেলকনির কাচ খুলা?
” হুম। কিন্তু কেনো?
মেইড হেসে বলে,
” তাহলে শেষ রাতের বাতাসটাকে অনুভব করতে করতে কফিটা খান।
এনি মাথা নাড়িয়ে বলে,
” বারান্দা আমার জন্য সেইফ নয় আপা।
মেইড অবাক হয়ে বলে,
” এত এত দেহরক্ষীর ভেতরে কে আসবে ম্যাম?
এনি হেসে বলে,
” আকাশ পথে এসে উপর দিয়ে আ্যটাক করে ফেললো তখন কি করব?
মেইড কপাল কুচকে বলে,
” কিন্তু ছাদেও তো গার্ড আছে। উপর দিয়ে কেউ আসলে প্রথমত তাদের সম্মুখীন হবে।
এনি মেইডের দিকে তাকিয়ে বলে,
” সিউর?
” হ্যা, ম্যাম।
” তুমি জানলে কিভাবে?
” নিচে গিয়ে যদি উপরে তাকায় তবে দেখা যায় সবটা। বিশালদেহী লোকেরা বড় বড় বন্ধুক নিয়ে দাড়িয়ে আছে।
এনির মনে লোভ বাসা বাঁধে। মেইডের দিকে তাকিয়ে বলে,
” তুমি যাও আপা। আমি দেখছি কি করা যায়।
মেইড সম্মতি জানিয়ে হাসি-মুখে চলে যায়। প্রকৃতিকে ছুঁয়ে দেখার এক তীব্র লোভ জন্মে ভেতরে। পাঁচ মিনিটের জন্য গেলে কিছু হবে না। সেটা ভেবেই এনি শরীরে উড়না জড়িয়ে বারান্দায় পা রাখে। খুব সযত্নে কাউচটাকে খুলে ফেলে। সাথে সাথে শুদ্ধ বাতাস এনির পুরো শরীরে এসে আছড়ে পড়ে। এনির বুক কম্পমান হয়ে উঠে। কতদিন পর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেয়েছে সে। বাতাসের মিষ্টি গন্ধ নাকে আসতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে। চারপাশে তাকানোর সুযোগ নেই তার। তবে এইটুকু বুঝেছে জায়গাটা প্রচুর বিলাশবহুল। এনি কফির মগে চুমুক দিয়ে রেলিং ঘেষে দাঁড়ায়। নিচে নীল সুইমিংপুলের দিকে নজর যায়। পাশেই অনেক সুন্দর একটা জায়গা। এনি কাপে চুমুক দিয়ে ভাবে,
” এই জায়গা থেকে কি আমি নামতে পারব? কিভাবে নামব? এই ঠান্ডা পানিতে একটু পা ভেজালে কি বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?
নিজের শরীরের উড়নাটার দিকে নজর যায়। কফির কাপটা এক পাশে রেখে বেলকনির মধ্যে ওড়না বেঁধে মাত্র নিচে নামতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে বজ্রের মত এক কঠিন কন্ঠ ভেসে আসে,
” যাওয়ার আগে ভালোভাবে মেক- আপ করে যাও। কেমন পাগলের মত হয়ে আছে চুলগুলো। রাস্তায় নামলে তো দুই মিনিট ও টিকতে পারবে না। তিন মিনিটের মধ্যেই সমাজ সেবকরা বউ আপ্যায়ন করবে। এরপর মরে গেলে তো সেই লাশের ছবি পোস্টাবে। যতই হোক গ্যাংস্টার বসের স্ত্রী বলে কথা। ভালোভাবে মেক-আপ করে না গেলে তো ছবি সুন্দর আসবে না।
কথাগুলো ছিলো শান্ত কিন্তু কন্ঠস্বর আগুনের মত ঝাঁঝালো। থরথর করে কেঁপে উঠে রমণী। ভয়ে শরীর মনে হচ্ছে এক জায়গায় জমে গিয়েছে। শ্বাস নিতে গিয়েও হাঁপিয়ে উঠছে। কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। কানাডা থেকে ফিরে আসলো কেনো এত দ্রুত? এনি আর ভাবতে পারছে না। ভয়ে এমনিতেই তার বুকের ভেতরে ঘূর্ণিঝড় চলছে। এনি আতঙ্কিত শরীরটাকে নাড়াচড়া করায়। দুই হাতে নিজের জামা খাঁমছে ধরে। লম্বা একটা শ্বাস টেনে কাঁপা শরীর নিয়ে পিছনে তাকায়। চোখে চোখ রাখার সাহস নেয় তার।
নিক কপাল ঘেষে ঠোঁট কামড়ালো নিজের। ধূসর চোখ দুইটা অসম্ভব লাল হয়ে আছে। রাগ কন্ট্রোল করে রাখার কারনে পুরো মুখ লাল হয়ে ভিবৎস হয়ে উঠেছে। নিক তীক্ষ্ণ শিকারির ন্যায় চোখে তাকিয়ে আছে। এনির ধনুকের মত বাঁকানো শরীরটা দেখে এই মুহূর্তে আরও রাগ হচ্ছে। অথচ এই মেয়ের দিকে তাকালে সব রাগ পানি হতে চায়। এনি ঠোঁট ভিজিয়ে নিকের দিকে তাকায়। নিকের তীক্ষ্ণ চোখ, রাগান্বিত মুখ দেখে এনির শরীর আরও কাঁপতে থাকে। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কোনো হিংস্র পশু দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি টলমল করে উঠে তার । মাথা নিচে রেখেই কাঁপা গলায় বলে,
” শুধু ন..নিচে যাচ্ছিলাম। আপনি যেমনটা…
” নো মোর ওয়ার্ড’স!
নিকের শক্ত বাক্যে এনি সহসা চোখ তুলে তাকায়।কান্নার কারনে চোখ- মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। নিক চোখ সরিয়ে নেয়। এই চাহনী আর নিষ্পাপ মুখ দিয়েই তাকে আ্যডিক্টেড করছে এই মেয়ে। গ্যাংস্টার বস নিজেকে হারিয়ে ফেলছে। সব কিছু রেখে ছুটে চলে এসেছে আর এই মেয়ে পালানোর রাস্তা খুঁজছে! নিক নিজেকে ধমিয়ে রাখতে না পেরে দেয়ালে ঘুষি মারে। ঘুষির শব্দে এনি দুই কদম পিছিয়ে যায় ভয়ে। নিকের হাতের চামড়া ফেটে রক্ত পড়া শুরু করেছে। এনি আতঙ্কিত হয়ে সেদিকে যায়। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে আঙ্গুল নাড়িয়ে ইশারা করে বলে,
” একদম কাছে আসবে না।
এনি থেমে যায়। অসহায়ের তাকিয়ে কম্পিত গলায় বলে,
” রক্ত পড়ছে।
” পড়ুক। তোমার কি?
এনি নিজেকে আটকাতে পারে নি। ডুকরে কেঁদে উঠে,
” প্লিজ শান্ত হন। আপনি যেটা ভাবছেন তেমন কিছুই নয়। আগে আপনার হাতটা দেখতে দিন। পরে আপনি যা শাস্তি দিবেন মাথা পেতে নিব। আগেরবারের মত চাবুক মারলেও কিছু বলব না। প্লিজ দেখতে দিন।
নিক হাতের রক্তের দিকে তাকায়। চামড়া অনেক জায়গায় এই ফেটে গিয়েছে। আগের তাজা ক্ষত থাকায় রক্তটা আরও বশি পড়ছে।কেমন চুইয়ে চুইয়ে টপ টপ করে মেঝেতে পড়ছে। নিক ঝারা মেরে রক্ত ফেলে দিয়ে বলে,
” আলগা পিরিত দেখাতে আসলে জবান বন্ধ করে ফেলব।
এনি সামনে এগিয়ে যায়। নিকের হাত দিকে তাকিয়ে বলে,
” আলগা পিরিত দেখাচ্ছি না। রুমে চলুন প্লিজ।
নিকের সহ্য হলো না কথাটা। সমস্ত রাগটাকে একত্রিত করে এনির দুইটা বাহু চেপে ধরে। এনি চোখ বন্ধ করে ফেলে সাথে সাথে। নিক এনির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার এত কেনো ইচ্ছে তর? আমি খারাপ, জানোয়ার হওয়ার পর ও তর দিকে তাকানোর সুযোগ দিয়েছি কাউকে? তকে স্পর্শ করার আগে আমার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমার শরীরের যে কাটা- ছেঁড়া দাগ হয়েছে তার অর্ধেকের বেশি আঘাত তর নিরাপত্তা দিতে গিয়ে হয়েছে। তকে ভুলতে প্রচুর চেষ্টা করেছি। প্রতিনিয়ত ড্রাগস, মদ, সিগারেট সব খেয়েছি।শালার জিন্দেগী এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারি নি। আমার স্পর্শ, কাছে আসা তর কাছে ঘৃণিত মনে হয়। কিন্তু টিকতে পারি না আমি। প্রতিনিয়ত ড্রাগস নিচ্ছি যাতে তকে প্রয়োজন না পড়ে। কারন আমি আর দশ সাধারন মানুষের মত ট্রিট করতে পারি না। তখন এক হিংস্র দানবে পরিনত হয়। নিজেকে আটকাতে সমস্ত নেশা করেছি। কিন্তু পারি না। আমার আঠাশ বছরের গড়ে তুলা ধৈর্য ভেঙ্গে চুড়মাড় হয়ে যায় তর সামান্য উপস্থিতিতে। কেনো এলি আমার জীবনে? আমার অন্ধকার জীবনে তুই আলো হয়ে কেনো প্রবেশ করলি? আলো হয়ে ডুকে আগুনের মত আমাকে ক্ষনে ক্ষণে জ্বলিয়ে মারছিস। পুড়ে ছাঁই করে দিচ্ছিস সমস্ত সত্তা। সেদিন আমার সামনে না আসলেও তো পারতি।
এনি চোখ বন্ধ করে চোখের পানি ফেলে। এই হিংস্র লোকটা এত বেপোরোয়া সেটা কি বাহিরের কেউ জানে? নাকি শুধু এনির সামনেই মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মত এমন করে। এনি নিকের চোখে চোখ রেখে কাঁপা গলায় বলে,
” আপনাকে প্রচুর ভয় পায় আমি। এত আতঙ্ক আমার ভেতরে ডুকিয়েছেন যে আপনার অস্তিত্ব সন্নিকটে আসলে আমার প্রতিটা কোষ পর্যন্ত ভয়ে কম্পমান হয়ে উঠে। আপনার অতিরিক্ত রাগ আর হিংস্রতা আমি প্রচন্ড ভয় পায়। আপনি যখন রেগে যান তখন নিজের মধ্যে থাকেন না। সেই পরিস্থিতে আমি কিভাবে দাঁড়িয়ে থাকি সেটা একবার শুধু অনুমান করেন। ভয় পায় আপনাকে প্রচন্ড। আপনি শুধু ধ্বংস করতে জানেন।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরলো। এনির ধনুকের মত বাকানো শরীরটাকে নিজের কব্জায় নিয়ে আসলো। কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,
” তুমি ভয় পাবে না বেবিগার্ল। সামনে যদি বিশাল খাদ আর তুমি থাকো। যদি বলা হয় তোমাকে রক্ষা করতে হলে সেই গভীর খাদে ঝঁপ দিতে। তবে নিশ্বঃন্দেহে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান সেই গভীর খাদটাকেই বেছে নিবে। তাহলে ভয় পাচ্ছো কাকে?
এনি অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় নিকের দিকে। নিক থেমে নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” কিন্তু….
এনি ঠান্ডা গলায় বলে,
” কিন্তু কি?
নিক ঠোঁট কামড়ালো নিজের। হাতের স্পর্শ গভীর করে বলে,
” কিন্তু সেই খাদে তোমাকে নিয়ে পড়ব। একা পড়ে তোমাকে রেখে যাব ভাবলে ভুল। এই পাপাচারে লিপ্ত দুনিয়ায় কার ভরসায় রেখে যাব তকে? আমি জীবিত থাকতেই তর নিরাপত্তায় বার বার আঘাত করছে। আমি মরে গেলে কে আগলে রাখবে?
এনি কথা বলতে পারছে না। এতটা নরম তো সামনে থাকা ব্যক্তিট নন। অতীত মনে হতেই বুক কেঁপে উঠে। এনি ভুলে যায় নি সেই ভয়াভহ রাতটার কথা। যেদিন সে পালিয়েছিলো সেই নরক থেকে। এরপর তাকে জ্যাঁন্ত কবর, দুইটা হিংস্র পশুর সামনে রেখে দিয়েছিলো। চাবুক দিয়ে রক্তাক্ত করেছিলো তার শরীরটাকে। সেই ভয়ানক রাতটার কথা মনে হলে আজ ও শরীরের রক্ত বিন্দুগুলো ঠান্ডায় জমে যায়। তাহলে আজ কেনো এত শান্ত? এনি ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর বৃথা চেষ্টা চালায়। নিকের পিঠে হাত চলে যায় অজান্তেই।
” ভালোবাসেন আমাকে?
সাথে সাথে তার কোমরে রাখা হাতটা নরম মাংসে খামছে ধরে। এনি নাক-মুখ খিঁচে নিকের জেকেট চেপে ধরে। নিক ভারী আওয়াজে বলে,
” আ্যডিক্টেড! আই’ম অ্যাডিক্টেড টু ইউ ইন ওয়েজ আই ক্যান’ট কন্ট্রোল। অল দিস ফাঁকিং লাভ ইজন’ট ইন মাই রুলস। তবে…..
নিক থেমে নিশ্বাস টেনে এনির কোমল মুখশ্রির দিকে তাকায়,
” আমি অন্ধকারকে ভয় পাই না… আমি ভয় পাই এমন পৃথিবীকে যেখানে তোমার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি নেই। যে রুমে আনাস্তাসিয়া এনি নামক সোনালী কেশ ওয়ালা মেয়েটি নেই।
ঘরটি নিস্তব্ধতায় ভারী হয়ে উঠে। সেই নিস্তব্দতা ভাঙল শুধুমাত্র এনির কণ্ঠের হালকা কম্পনের মাধ্যমে। যখন নিক নিজের দুর্বলতা স্বীকার করছে। এনি চোখ মেলিনি। কালো মুখোশের আড়ালে থাকা একটা অদ্ভুত মানুষটি দেখতে পাচ্ছে সে। ধীরে ধীরে এনি আরেকটা হাত হাত নিকের বুকের দিকে বাড়ায়। নিশ্বব্দে এনির হাতের সঙ্গে নিকের বুকে স্পর্শ মিলে। এনির পুরো নারী অবয়ব কেঁপে উঠে । ঘরের ছায়াগুলো তাদের চারপাশে ঝুঁকে পড়ে তাদের দিকে। এনি চোখের পানি নিয়ন্ত্রন করে বলে,,
” অতিরিক্ত বেপোরোয়া, হিংস্র, ছন্নছাড়া আপনি । এত উন্মাদনা আমি কিভাবে সহ্য করব?
নিকের উত্তপ্ত নিশ্বাস এনির মুখে আছড়ে পড়ে।
এনির চোখে চোখ রেখে চোখের পাতায় চুমু খায়,
” এই বেপোরোয়া হার্টল্যাস পুরুষটাকে তর সামলাতে হবে। আমি তো তকে সামলাচ্ছি।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” আপনি আমাকে সামলাচ্ছেন? কতটুকু চিনেন আমাকে?
নিক শব্দ করে হাসলো। ঠোঁট কামড়ে বলে,
” আমার চেয়ে তোমাকে কেউ ভালোভাবে চেনে না। এমনকি তুমি নিজেও না। আমি দেখেছি তোমার প্রতিটি লুকানো ছায়া। তোমার ভিতরে থাকা প্রতিটি আগুন। আর আমি হেঁটেছি তোমার অন্ধকারের মধ্য দিয়ে। হাতে ধরে রেখেছি তোমার ভয়ানক জীবনে। তুমি ভাবছ তোমার নিজের কথা নিজে সব জানো ? অথচ আমি জানি তোমার ভয়গুলো।
নিক থামে,,,
এনির বুকে থাকা তিলটার দিকে তাকিয়ে বলে,
” তোমার শরীরে মোট পনেরোটা তিল আছে যা তুমি নিজেও জানো না। সেটা আমি জানি। তোমার প্রতিটা ভয়, আতঙ্ক কতটুকু গ্যাংস্টার বসের থেকে বেশি তুমি নিজেও জানো না মাই ফা*কিং ব্লাডরোজ!
নিক কপালে চুমু খেয়ে বলে,
” কলিজা আমার! আই ক্যান’ট লিভ উইদ আউট ইউ।
এনি চট করে নিকের দিকে তাকায়,
” ক… কলিজা!
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো,
” ইয়েস বেবিগার্ল।
” আপনি ড্রাগস নিয়েছেন?
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” সামান্য!
এনির মুখে কালো অন্ধকার নেমে আসে।।বিরবির করে উঠে,
” এই কারনেই এত সুন্দর ব্যবহার। আমিও তো ভাবি জানোয়ার এত ভালো হলো কবে?
নিক সেসব কথা পাত্তা দিলো না। এনির কোমরে আঙ্গুলের স্লাইড করে বলে,
” তোমাকে এখান থেকে নামতে সাহায্য করেছে কে?
এনি ভয়ে তাকায়,
” ক… কেউ নয়। বিশ্বাস করুন আমি নামার জন্য বাঁধি নি। এমনিতেই যাস্ট মজা করছিলাম।
” মেইড!
নিকের কঠিন গলায়। এনি কেঁপে উঠে। এ মাত্র এইতো লোকটা শান্ত ছিলো।
” মেইড কিছু করে নি।
নিক এনির কাঁপা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
” কাঁপছো কেনো? তোমাকে কিছু করেছি? এতদিন পর বিদেশ থেকে দেশে এসে দেখি বউ পালাচ্ছে।।তাও দুইদিনের মেইডের কথায়। আচ্ছা বেবিগার্ল এই কাজের জন্য মেইডকে কি পুরষ্কার দেওয়া যায়?
এনির চোখ-মুখে আতঙ্কে বাঁসা বাঁধে। কাঁপা গলায় বলে,
” ম… মেইডের কোনো দোষ নেই। প্লিজ মারবেন না। দয়া করুন।
নিক এনির গলায় চুমু খায়,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৪
” ওকে তোমার কথা ভেবে হালকাভাবে মারব।।এই ধরো পেট কাটার কথা ছিলো। আমি সেই জায়গায় হালকাভাবে কাটব। এতে যদি মরে যায় তবে আমার কোনো দোষ নেই।
এনি কান্না করে উঠে। নিকের দুই হাত ধরে কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিকের চোখ-মুখ দেখে থেমে যায়।
