Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬
লিজা মনি

ভোরের ভেতরনিহিত এক নীরবতা । যেখানে প্রতিটি শীতল বাতাসের সোঁত যেন পর্দার ফাঁক দিয়ে অগোছালোভাবে শুয়ে থাকা মেয়েটির শরীরের উপর নরম হাতের মতো আছড়ে পড়ছে। সেই ক্ষুদ্রতম নড়াচড়াও রাতের গভীরতার ছায়া এবং মৃদু আলো-মায়ার খণ্ডিত প্রতিফলনের সঙ্গে মিশে এক রহস্যময় ও অচেতন আতঙ্কের আবহ সৃষ্টি করছে। নাজলীর ঘুম অনেক অগুছালো। মৃদু বাতাস আর শরীরের উপর ভারী কিছু অনুভব করে ঘুমটা ছুটে যায়।
নিজের পাশে আরিশকে দেখতে পেয়ে ধরফরিয়ে উঠে। শুয়া থেকে উঠবে এমন সময় কপাল কুচকে ফেলে। আরিশ ঘুমের মধ্যেই নাজলীর কোমরটা শক্ত ভাবে চেপে ধরে রেখেছে। পাশে আরিশ ব্যাপারটা অনুভব করতেই ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে। লোকটা এতটা বেশরম কেনো? ঠাস করে এসে পাশে শুয়ে পড়েছে। এই একটা সপ্তাহ কোথায় গিয়েছিলো? নাজলী এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছে না। সারা রাত এক বিছানায় ছিলো ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে। কতটা খারাপ হলে পাশে এসে শুয়ে পড়েছে! নাজলী দাঁতে দাঁত পিষে আরিশের বুকে হাত রেখে ধ্বাক্কা দেয়। এত শক্তি খরচ করে ধ্বাক্কা দিলো অথচ আরিশের হাত সরাতে পারে নি। নাজলী রাগে বিরক্তিতে হাত সরিয়ে দিতে দিতে বলে,

” সরুন আমার উপর থেকে।
আরিশ আরও শক্ত করে ধরে ধমক দেয়,
” ক্ষেপা জংলীর মত নড়ছো কেনো?
ক্ষেপা জংলী কথাটা মস্তিষ্কে ডুকতেই নাজলী আরও ক্ষেপে উঠে। আরিশের বুকে ঘুষি মেরে বলে,
” আপনার শরীরের মাংস খায় নি এতে শুক্রিয়া করুন।
আরিশ বুকে হাত দিয়ে বলে,
” আমার পুরো মস্তিষ্কটা এইতো খেয়ে নিয়েছো। তুমি কি শরীর খেতে চাচ্ছো? আই মিন আমার শরীর!
নাজলী কপাল কুচকায়। কথার অর্থ বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। কথাটা বুঝতেই চট করে বলে,
” আমি বলেছি কি আর আপনি বুঝেছেন কি? ছিহহ!
আরিশ গলা কেঁশে গম্ভীরতা টেনে বলে,
” চুপচাপ শুয়ে থাকো। বাসরের ফিল আসছে আমার।
নাজলী আরিশের এই রুপ বিশ্বাস করতে পারছে না।। হুট করে এই লোক এতটা চেইঞ্জ হয়ে গেলো কিভাবে? দেশের বাহিরে গিয়েছে পরে জ্বীনে ধরে নিতো আবার! নিজের কথায় নাজলী নিজে বিরক্ত হয়। শয়তানকে আবার শয়তানে খুঁচা দিতে আসবে কেনো? নাজলী আরশকে ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,

” গজব পড়বে এইসব চিন্তা-ভাবনা করলে।
আরিশ নাজলীর পেটের নরম মাংসে খামছে ধরে বলে,
” এইবার যদি বাসর করতে না পারি তবে তর উপর গজব পড়বে দেখে নিস।
নাজলী রেগে আরিশের হাতে কামড় বসায়। এমন ভাবে বসিয়েছে যেন এখনই মাংসের টুকরো খুলে নিয়ে আসবে। আরিশ ভ্রু ভাঁজ করে তাকায়। ব্যাথা পেলেও দাঁত পিষে সহ্য করে নেয় সবটা। নাজলী নিজের সবটা রাগ মিটিয়ে শান্ত হয়। মুখে নোনতা ভাব অনুভব করে ছেড়ে দেয়। আরিশ নিজের কাটা স্থানে তাকিয়ে বলে,
” জংলী কি আর কারন ছাড়া বলি? স্বামীকে এইভাবে কামড় দেয় কেউ? এখন আমি যদি এর বদলা নেয়? আমি নিলে বাজেভাবে নিব। এমন এমন জায়গায় কামড় বসাব যাতে….
আরিশ থেমে যায়। নাজলীর আতঙ্কিত মুখের দিকে তাকায়। নাজলী ঠোঁট ভিজিয়ে আরিশের দিকে তাকায়,
” আপনার কি হয়েছে? এমন অস্বাভাবিক আচরন কেনো করছেন?
আরিশ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,

” কেমন আচরন?
নাজলী রেগে দাঁত কিড়মিড়ায়,
” বুঝতে পারছেন না? স্বামী বললে ক্ষেপে যেতেন। আর এখন নিজেই এইটার বুলি উড়াচ্ছেন? কি নাটক করছেন আবার!
আরিশ চুপ করে রইলো। ঘন নিশ্বাস টেনে আরেকটু কাছে টানতেই নাজলী ধ্বাক্কা দেয়। আরিশ চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়। নাজলী সেদিকে তোয়াক্কা না করে সরে যেতে যেতে বলে,
” পাঠার মত শরীর! এত শক্তি আসে কোথা থেকে আল্লাহ ভালো জানেন।
আরিশ বালিশে মাথা রেখে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,
” শরীর যদি হয় ইদুরের মত, তবে অপরজনকে পাঠা মনে হবেই।
আরিশের ঘুম কাতুর কন্ঠে নাজলী চট করে তাকায়। এত নেশালো কেনো এই কন্ঠস্বর! নিজের মাইন্ডের উপর নাজলী নিজে বিরক্ত হয়। তুই দিন দিন লুচ্চা হয়ে যাচ্ছিস নাজলী! নাজলী রাগ দেখিয়ে বলে,
” আপনি আমাকে ইদুর বললেন কেনো?
” জংলী বলা উচিত ছিলো।
নাজলী রাগে গিজগিজ করতে করতে বিছানা থেকে নামে। শরীরে উড়না পেঁচিয়ে বলে,

” অন্তত আপনার মত ক্ষেঁপা ষাঁড় নয়। নির্লজ্জ, বেহায়া পুরুষ, লজ্জা করলো না একটা মেয়ের সাথে শুয়েছেন।
একটানা তিন রাত ধরে ঘুম নেই। চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে। শেষ রাতে রুমে এসে নিজের বিছানায় নাজলীকে দেখে অবাক হয়েছিলো অনেক। তার বিছানায় এসে শুয়েছে বলে কিছুটা রাগ ও হয়েছিলো। নারী সান্নিধ্যে গেলে একটা পুরুষ দ্রুত বেসামাল হয়ে পড়ে। মানা হোক বা না হোক বাস্তবতা নাজলী তার বৈধ স্ত্রী। যদি ভুল কিছু করে বসে! ঘুমে টাল হয়ে থাকা পুরুষটা বিছানায় শুয়ে থাকা নারীটাকে দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো সেই খেয়াল নেই।
আরিশ শুয়া থেকে উঠে হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসে।নাজলীর দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে বলে,
” স্বামীর রুমে থাকতে শরম করে না আর স্বামীর সাথে শুইতে গেলে শরম করে। বাহহহ নাজলী মাইলাহ! ইন্টারেস্টিং!
নাজলীর যেন জবান বন্ধ হয়ে আসে। স্বামী শব্দটা বার বার প্রতিঘাত করছে কানে। লোকটাকে রাগানোর জন্য নাজলী স্বামী – স্বামী বলে কান পঁচিয়ে ফেলত। আর তার ফাঁদে পা দিয়ে লোকটা ভীষণ ভাবে রেগে যেত। তাহলে আজ কেনো এইসব বলছে? নাজলী ঠোঁট ভিজিয়ে কঠোর দৃষ্টি দিয়ে বলে,
” স্বামী কে? হুয়াট দ্যা ফা*কিং জোক আরিশ ইলহাম! ভুলে যাবেন না আপনার সাথে আমার চুক্তির বিয়ে। আর সেই চুক্তির সময় মাত্র তিন মাস আছে। এরপর আপনি আপনার রাস্তায় আমি আমার রাস্তায়।
আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। হালকা হেসে বিছানা থেকে নেমে যায়। নাজলীর সামনে দাঁড়িয়ে গিয়ে তার দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়ে। নাজলী তাকায় না সেদিকে। এই লোকটার দিকে তাকালে তার নেশা ধরে যায়। আরিশ রহস্যময় গলায় বলে,

” এই তিন মাস কে আমি তিন যুগ বানাব।
পর পর হাস্কি সুরে বলে,
” এক বছরের বেশি হতে চলল বিয়ের অথচ আমি তোমার সাথে একটু ঊনিশ -বিশ করতে পারে নি। সবাই ভাবছে আমার শক্তি নেই। কিন্তু এদের কে বুঝাব আমি একটা জংলীকে বিয়ে করেছি। মাঝে মাঝে জংলীকেও আয়ত্তে আনতে জানি। চলো আজ সেটার প্রমান দেয়। আমি যেভাবে এতদিন ধৈর্য ধরে আছি এইটা যদি কেউ জানত, তবে কবরের নিচে থাকা সব থেকে ধৈর্যবান ব্যক্তিটাও কবর থেকে স্যালুট জানাত।
নাজলী শুকনো ঢোক গিলে। পিছন থেকে সামান্য হেলে গিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
” ক.. কি বলছেন এইসব? মদ খেয়ে এসেছেন নাকি গাঞ্জা?
” হারবাল খেয়ে এসেছি ডার্লিং
আরিশের চোখে -মুখে দুষ্টু হাসি। ঠোঁট কামড়ে ধরে নাজলীর ভয়াতুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। নাজলী ভরকায়। এই লোককে অস্বাভাবিক লাগছে। অন্য সময় হলে সে নাস্তানাবুদ করে মেরে ফেলে। আর আজ তাকে নাস্তানাবুদ বানাচ্ছে। এইখান থেকে পালিয়ে যা নাজলী। নয়ত বলা যায় না বেডা মানুষের মর্জি!
নাজলী চলে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেও আবার থেমে যায়। আরিশের চোখে চোখ রেখে বলে,

” আপনাকে দুইটা প্রশ্ন করব। এর বাহিরে আর একটা কথাও বলবেন না। প্রথমত আমাকে নিজের কাছে আটকে রাখার কারন কি? আমার থেকে কি চান?
দুইটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিন প্লিজ!
আরিশ হামি তুলে চোখ ঘুরায়।এমন একটা ভাব দেখায় যেন সে কিছু শুনে নি। নাজলীর লাল কেশে নিজের শাহাদাত আঙ্গুল পেঁচিয়ে বলে,,
” তোমাকে কষ্ট পেতে দেখলে খুব ভালো লাগে। যখন তুমি ছটফট করো তখন মনে প্রশান্তি আসে।
নাজলী থমকায়। তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে! আর সে কত সপ্ন ভেবে ফেলেছিলো। নাজলী চোখের পানি আটকে শক্ত চোখে তাকায়। চোখ দুইটা লাল হয়ে আছে একদম।
” ক.. কিসের শত্রুতা আপনার সাথে আমার?
আরিশ শান্ত গলায় বলে,
” জনম -জনমের শত্রুতা। তোমাকে দেখলেই শত্রু- শত্রু ফিল আসে।
নাজলী তেঁতে উঠে,
” ক্রিমিনালের বাচ্চা! অজাত!
নাজলীর মুখে গালি শুনে আরিশ কপাল ঘেষে। কেনো জানি গালিটা সহ্য হলো না। আচমকায় নাজলীর গাল চেপে ধরে বলে,
” মুখ সেলাই করে দেয়ালের সাথে বেঁধে রাখব। বিয়াদব!
নাজলী অভিমানে চোখ সরিয়ে নেয়। ল্যাপটপে বেজে উঠা উচ্চ আওয়াজটা শুনে নাজলীকে ছেড়ে দেয়। নাজলী রুম থেকে বাহিরে যাবে তার আগেই আরিশ গলা ছেড়ে বলে,
” রাতেও কিছু খায় নি। খাবার নিয়ে আসো আমার জন্য। আর ত্যারামি করলে হাস্তে হস্ত রাখিয়া, জোরপূর্বক বস্ত্র খুলিয়া সঙ্গাটার পূর্ণতা দিব।
নাজলী দাড়ালো না। রাগে সেখান থেকে চলে যায়। আরিশ চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আলতো হাসে। ল্যাপটপের মনিটরে তাকাতেই গম্ভীর হয়ে উঠে মুখ। কানাডার সংবাদ দেখানো হচ্ছে।

কানাডার এক বিলাসবহুল রিসোর্টে উদ্ভূত হয়েছে রহস্য আতঙ্ক ও নীরব সন্ত্রাসে মোড়া এক ভয়াবহ ঘটনা। আজ ভোররাতে রিসোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যক্তির মৃতদেহ, যার অবস্থা ছিল এমনই ভয়ানকভাবে পরিবর্তিত যে প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, ঘটনার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে বোমা রাখা হয়েছে। এমন একটি হুমকিমূলক ফোনকল পায়। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে মুহূর্তের মধ্যেই রিসোর্টে অবস্থানরত অতিথি ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঠিক এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ কিছু দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যা বললে ভুল হবে। পুরো রুম ছিলো রক্তে রাঙ্গানো। পুরো দেহে বিষাক্ত পোকা ডুকে আছে। চোখ, জিহ্বা, কলিজা ভিবিন্ন অঙ্গ -প্রতঙ্গ ছড়ানো-ছিটানো। পুলিশদের ধারনা এতটা বিকৃত লাশ তারা কখনো দেখেনি। এতটা সূক্ষ্ণ খুন কোনো সাইকোপ্যাথ ছাড়া করা অসম্ভব।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। তবে তদন্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ।ক্যামেরায় স্পষ্ট কোনো দৃশ্য ধরা পড়েনি।কেবল অন্ধকার ও অস্পষ্ট ছায়া ছাড়া আর কিছু নয়। ফলে এখনো পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয়, সংখ্যা কিংবা উদ্দেশ্য কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তবে তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে।নিহত ব্যক্তি কোনো সাধারণ নাগরিক নন।তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধজগতের পরিচিত এক নাম।কথিত মাফিয়া সম্রাজ্যের একজন প্রভাবশালী সদস্য। এই তথ্য সামনে আসতেই ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং তদন্তের পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংযোগের দিকেও।
কানাডার ফেডারেল ও প্রাদেশিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে। সন্ত্রাসী হুমকি, সংগঠিত অপরাধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।সব দিক মাথায় রেখেই এগোচ্ছে অনুসন্ধান। কর্তৃপক্ষ বলছে, জননিরাপত্তা এই মুহূর্তে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের পেছনের মুখোশ কবে খুলবে সেই প্রশ্নেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।
নিকের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠে। কান থেকে ইয়ারবাডসটা খুলে রেখে দেয়। আরিশ আর নিক এখনো কলে যুক্ত। ওপাশ থেকে আরিশ কৌতূক মিশানো সুরে বলে,

” পুলিশদের জন্য মায়া হচ্ছে দোস্ত।।আফসোস হচ্ছে এত তদন্তের পরও কিছু বের করতে পারছে না।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে। ভারী আওয়াজে বলে,
” “নো ওয়ান হ্যাজ ফাউন্ড এনিথিং টিল টুডে। সো হাউ আর দে সাপোজড টু ফাইন্ড ইট? অল দিস ইজ জাস্ট ফাকিং ননসেন্স।
আরিশ চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস ফেলে বলে,
” এখনও তিন জন কুত্তার বাচ্চা বাহিরে শ্বাস নিচ্ছে। মেইন কিলারকে মারলেও ইগরের চেলা তিনটা এখনও জমিনে ঘুরছে। এই তিন শালা ওকে সাহায্য করেছিলো সেদিন। আমার বোনটাকে…..
আর বলতে পারে নি আরিশ। এই কথাটা মনে হলেই সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। ভুলে যায় একজন মাফিয়া ভেঙ্গে পড়তে নেই। কারন তারা ভেঙ্গে পড়লে শত্রুপক্ষ দুর্বলতা খুঁজে পায়। আর একজন শক্তিধর মাফিয়ার ও বিনাশ নিশ্চিত হয়ে পড়ে। আরিশ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,
” অধিরাজ জানিয়েছে এরা এখন ইগরের পুরনো কেন্দ্রে আছে। ওইখানে গেলেও ওকে পাওয়া যাবে।
নিক মনিটরে তাকায়। তিন জন ব্যক্তির ছবির দিকে তাকিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,

” তর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এদের সাথে আমার পুরনো হিসেব বাকি।
” হুয়াট!
নিক রাগের তাপে কথা বলতে পারছে না। হাত মুষ্টি করে বলে,
” তর মনে আছে ও একবার একটা লোককে খুন করেছিলো। আমি ছিলাম না মেনশনে। তখন এক জারজ আমার আগোচরে ডুকে যায় রাতের অন্ধকারে। কিছু করতে পারে নি। তার আগেই কুত্তার বাচ্চার বুকে ও ছুঁরি চালিয়ে দিয়েছিলো। শালায় নিজেও পাল্টা আক্রমন করে। আর ওকে নিয়ে হসপিটালে ভর্তি করাতে হয়। মুলত সেই মাদার্ফা*ক ছিলো এদের দলের এই সদস্য। ম্যাসিমোর আ্যসিস্টেন্ট হলেও ইগরের বিশ্বাস্ত ছিলো। আর একটা মাদার্ফা*ক ভেতরে ডুকেছিলো আর বাকি তিনজন পাহারা দিয়েছিলো।
আরিশ হেসে বলে,
” সেদিনের কথা কিভাবে ভুলি? সেদিন তো গ্যাংস্টার বসকে প্রথমবারের মত মসজিদে যেতে দেখেছি। তার লোকায়িত চোখের পানি দেখেছিলাম। তার হৃদয়বিধারক ছটফট দেখেছিলাম। কিন্তু এরা ইগরের ও লোক ছিলো জানতাম না।
নিক বিরক্তি নিয়ে ধমকায়,

” বাজে কথা বলবি না।
” রাগছিস কেনো ভাই। বউয়ের জন্য এইতো কেঁদেছিস। এতে লজ্জা পাওয়ার কি আছে? আমরা আমরা’ই -তো।
নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। শক্ত গলায় বলে,
” বেশি বলছিস না?
আরিশ রাগানোর জন্য আরেকটু হেসে বলে,
” শুন ভাই। বেচারীকে প্রতিবার তুই কান্না করিয়ে অজ্ঞান করে ফেলিস। ও না হয় একবার কান্না করিয়েছে। শুধু স্টাইলটা আলাদা। এতে লজ্জা পাওয়ার কি আছে? বউয়ের জন্য কান্না করা মহৎ গুণ। তর এই রুপ যদি শহর দেখত তবে তারা হয়ত স্তব্দ হয়ে তাকিয়ে থাকত। তুই চাইলে শহরকে জানাতে পারি।
” রাস্কেল!

নিক রাগে ফোন কেটে দেয়। সেদিনের ঘটনা মনে হতেই নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে।
এনি এখনও ঘুমে ডুবে আছে। নিক ঘুমকাতুর রমণীর দিকে এক পলক তাকিয়ে শাওয়ারে চলে যায়। শাওয়ার নিয়ে বের হয় প্রায় ত্রিশ মিনিট পর। এখন প্রায় ভোর সকাল। টাওয়েল দিয়ে চুল মুছে এনির দিকে আবার ও তাকায়। তার পার্সোনাল বিছানায় এই মেয়েটা কিভাবে দখল করে শুয়ে আছে! এলোমেলো সোনালী চুলে কেমন যেন একটা লাগছে। নিকের কাছে এই সৌন্দর্যের ব্যখ্যা নেই। গলার কাছে দৃষ্টি আটকে যায় গ্যাংস্টার বসের। এতটা তীব্রভাবে টানছে যে নিয়ন্ত্রন করা মুশকিল হয়ে উঠেছে। নিক চোখ সরিয়ে ঘন ঘন শ্বাস ফেলে। চোখ বন্ধ করতেই একটা গান অনুভব হয়,
তর কারনে ভুললাম আমি
গোত্র-জাতি-কুল
কাটার সাথে করলাম সন্ধি
পায়ে পিষে ফুল
কেমন করে সইব আমি
প্রেম-আগুনের তাপ
তর আমার প্রেমে ছিলোরে বন্ধু
ছিলো পুরোটাই পাপ।
নিক ঘন শ্বাস ফেলে আবার ও সেদিকে তাকায়। এনি পিটপিট করে তাকাচ্ছে নিকের দিকে। এনির ঘুম আচমকা ছুটে যায়। নিকের অর্ধ নগ্ন শরীরটা দেখে লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলে। বাম পেশিবহুল হাতে ড্রাগনের ট্যাটু পানির সাথে চিকচিক করছে। ঘাড় পর্যন্ত চুলগুলো থেকে এখনও চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ছে। পেটানো ফর্সা শরীরে লোমগুলো সব ল্যাপ্টে আছে শরীরের সাথে। এনি শুকনো ঢোক গিলে শিউরে উঠে। নিক কপাল কুচকায়। বিষয়টা ধরতে পেরে গম্ভীর গলায় বলে,

” পুরো আমিটার বিপদসীমা সব দেখে এখন অর্ধনগ্ন শরীর দেখে লজ্জা পাচ্ছো? ইজন্‌ট দিস রিজেকশন গেটিং আ বিট টু মাচ, বেবি গার্ল? তুমি চাইলে টাওয়েল ছাড়াও আসতে পারি।
এনি কান চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠে,
” চুপ করুন অসভ্য লোক। এতটা ঠোঁট কাটা লোক আমি জীবনেও দেখিনি।
নিক গম্ভীর গলায় বলে,
” তোমার জীবনে একজন গ্যাংস্টার বসের আগমন ঘটেছে। আর আমার ফটোকপি এই জমিনে আর কারোর নেই। তাই দেখার চান্স ও নেই তোমার।
এনি থ মেরে বসে থাকে। শরীর কাঁপছে কেনো তার? রাতের সেই ভয়ানক কথাগুলো মনে পড়ে আচমকা। মেইডটাকে মেরে ফেলবে না তো? ইয়া আল্লাহ রক্ষা করো।
নিক এনির শরীরে তাকিয়ে বলে,
” দিন দিন তোমার অনেক উন্নতি হয়েছে মাই ফা*কিং ব্লাডরোজ। এইটা কি আমার হাতের মেডিসিনে?
এনি বুঝতে পারলো না কথাটা। নিকের বাজ পাখির ন্যায় দৃষ্টির দিকে তাকাতেই আৎকে উঠে। অবহেলায় পড়ে থাকা উড়নাটাকে দ্রুত নিজের শরীরে পেঁচিয়ে নেয়। রাগে – ক্ষোভে প্রায় কান্না করে দেওয়ার মত অবস্থা হয়।
” অশ্লীল লোক। নজর ঠিক করুন আপনার।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,

‘ আমার নজর বড্ড খারাপ বেবিগার্ল। দে গো টু সাজ প্লেসেস দ্যাট ইভেন হিয়ারিং অ্যাবাউট দেম উড মেক ইউ ফ্লিঞ্চ।
এনি কাঁপা গলায় বলে,
” আপনার কাছে আমি সেইফ না। ইউ লুক অ্যাট মি উইথ দ্য সেইম ফিলথি গেইজ অ্যাজ এভরিওয়ান এলস। আপনিও সবার মত খারাপ নজরে তাকান।
নিকের চেহারার রং পাল্টে যায়। আচমকায় মুখের রিয়্যাকশন পাল্টে যায় গ্যাংস্টার বসের। দাঁত পিষে এনির দিকে এগিয়ে যায়। এনি ভয়ে পিছিয়ে যায় অনেকটা। নিক এনির দুই হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে বলে,

” সবাই তাকায় মানে? কাকে তাকাতে দিয়েছি আমি? স্ত্রী তুই আমার বান্দির বাচ্চা। আমার নজর ঠিক সেই জায়গায় যাবে যে জায়গার কথা কেউ কল্পনা করতে গেলে তার হৃৎপিন্ড টেনে নিয়ে আসব। আমি ছুঁব, স্পর্শ করব, দেখব বিকজ দিস বিলংস টু দ্য গ্যাংস্টার বস। আমার নামের পাশে অন্য শব্দটা সেকেন্ড টাইম মিলালে জবান বন্ধ করে দিব। আই রিপিট আই উইল শাট ইয়োর মাউথ। ইওর বডি অ্যাসাইড—ইওর এনটায়ার সোল ইজ মাইন।অ্যান্ড হোয়াট বিলংস টু মি, আই ডোন্ট শেয়ার উইথ এনিওয়ান। মাই ফা*কিং ব্লাড রোজ।( তোমার দেহ বাদ। তোমার সম্পূর্ণ আত্মা আমার।আর যা আমার অন্তর্ভুক্ত, আমি সেটা কারোর সঙ্গে ভাগ করি না।
এনি চোখ – মুখ খিঁচে রেখেছে। হাতের ব্যাথায় কলিজা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। আঙ্গুলগুলোর হাড্ডি মনে হচ্ছে ভেঙ্গে যাবে এখনই। কান্না মিশ্রিত গলায় বলে,
” ছ.. ছাড়ুন ব্যাথা পাচ্ছি।
নিক মুখের দিকে তাকিয়ে ছেড়ে দেয়। নিশ্বাস ছেড়ে এনির ভেজা চোখের পাতায় শক্ত করে চুমু খায়। ফিসফিস করে বলে,

” আই’ম ফা*কিং এক্সট্রিমলি পজেসিভ অ্যাবাউট ইউ। ইউ আর মাই অ্যাডিকশন, মাই ইনটেন্স অবসেশন, মাই হার্টবিট। কলিজা আমার!
এনি চুপ হয়ে যায়। বুঝতে পারে না এই লোকটাকে। মুহূর্তেই কতটা চেইঞ্জ হয়ে যায়। এইতো রেগে উন্মাদ হয়ে উঠে আবার নিমিষেই কাতর হয়ে যায়। এই পুরুষটাকে সে কিভাবে সামলাবে?
এনি নাক টেনে বলে,
” আপনি ড্রাগস নেওয়া ছেড়ে দিন। আপনি দিন দিন আরও ভয়ানক হয়ে উঠছেন।
নিক কপাল কুচলে বলে,

” অর্ডার করছো?
” করছি।
নিক হেসে বলে,
” আমার জীবনে আমি হলাম রাজা। আর রাজার রাজ্যে তার উপস্থিতিতে কেউ আদেশ করতে পারে না।
এনি খুব সাহস নিয়ে একটা কথা বলে। নিকের তীক্ষ্ণ চোখে চোখ রেখে বলে,
” আপনি যদি রাজ্যের রাজা হন তবে আমি হলাম সেই রাজ্যের রানী। পুরো দেশ রাজা পরিচালনা করলেও একজন রাজাকে রানী পরিচালনা করে। আর রানী ছাড়া সম্রাজ্য নিজের সৌন্দর্য হারায়।
নিক ভ্রু নাচালো। এনির পুরো মুখের দিকে তাকিয়ে হুট করেই গলায় মুখ গুঁজে দেয়। সকালের ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে নিকের উত্তপ্ত নিশ্বাসে এনি দিশেহারা হয়ে উঠে।নিক ফিসফিস করে বলে,
” তুমি রানী হও তাতে আই ডোন্ট কেয়ার। তুমি সবার আগে আমার। তবে আমাকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করছো?
এনি চোখে চোখ রেখে বলে,
” এই জনমে না।
নিক এনির চুল নিজের আঙ্গুলে পেঁচিয়ে নেয়।

” এই জনমেই স্বীকার করবে বেবিগার্ল! আমার জীবনে তো না আসলেও পারতি। তকে আঘাত দিতে ভালো লাগে। প্রশান্তি অনুভব করি আমি। কিন্তু চোখের পানি দেখলে কলিজায় ব্যাথা করে। ওয়াই ডাজ অল দিস হ্যাপেন? ইট ডিডন’ট ইউজড টু বি লাইক দিস বিফোর। কেনো এলি আমার ধ্বংসাত্বক জীবনে? শান্তিতে ছিলাম যখন একা ছিলাম। ছিলো না কোনো হারানোর ভয়। আর না ছিলো কাউকে কাছে পাওয়ার তীব্র বাসনা। ছাড়খাড় করে দিচ্ছিস সব।আমার এই আসক্তি তর জন্য কোনো কোনো প্রার্থনা নয়। বরং একটি অভিশাপ। আর এই অভিশাপে আজীবন জ্বলবি। সাথে আমাকেও জ্বালিয়ে মারবি।
” আ.. আমি তো ইচ্ছে করে আসি নি।আমার কি অপরাধ?
নিক কামড় বসায় নরম মাংসে। শক্ত গলায় বলে,
” তর অপরাধ তুই আমার সামনে পড়েছিস। তর সব থেকে বড় অন্যায় আমাকে অতিষ্ট করে তুলেছিস। একজন গ্যাংস্টার বসকে উন্মাদ করেছিস তুই। আর এর ফল তো ভোগ করতেই হবে বেবিগার্ল। ফুলের স্পর্শ পাবে ভেবে থাকলে তুমি ভুল। কারন তুমি পাবে কাটা আর উত্তপ্ত স্পর্শ। যেটা তোমাকে সইতে হবে। তুমি চাইলেও, আর না চাইলেও।
নিক কথার মধ্যেই বেসামাল হয়ে পড়ে। মুখ নিচে যেতেই এনি বাঁধা দেয়। কাঁপা গলায় বলে,

” আ.. আপনি কি মেইডটাকে মেরে ফেলেছেন?
” আজ রাতেই ওর জীবনের ইতি টানব।
এনি আৎকে উঠে। ভাঙ্গা গলায় বলে,
” ওর কিছু হলে আপনাকে জীবনেও ক্ষমা করব না। পস্তাবেন প্রচুর।
নিক এনির চুল চেপে ধরে বলে,
” আই ডোন্ট কেয়ার।
এনি ভয়ে আর আতঙ্কে অস্থির হয়ে পড়ে। কিভাবে বাঁচাবে নির্দোষ মেয়েটাকে? নিক থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য বলে,
” উঠুন আমি ওয়াশরুমে যাব।
নিক বাঁধা মানলো না। রেগে হাত সরিয়ে বলে,
” যেতে হবে না।
এনি অবাক হয়। দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
” আশ্চর্য! আমি কি ওয়াশরুমে যাব না?
নিক ধমকে বলে,
” বললাম তো যেতে হবে না।
এনি নিজেও হাঁপিয়ে উঠেছে। কিছু উপায় না পেয়ে নিকের টাওয়েলের গিঁটে শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” খুলে ফেলব কিন্তু।
নিক একদম শান্ত সুরে বলে,

” খুলে ফেলো। একটু পর এমনিতেও এইটা খুলে যাবে।
এনি অসহায় ভাবে তাকায়। মানুষ এত নির্লজ্জ কিভাবে হয়? লজ্জা -শরমের ছিঁটে ফুটা ও নেই। রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। নিকের মাথার চুল খামছে ধরে সরিয়ে দেয়। বিছানা থেকে উঠে বলে,
” উত্তেজিত লোক!
নিক ক্ষেঁপা বাঘের মত তেরে যেতেই এনি ওয়াশরুমের দিকে ভোঁ দৌঁড়। নিক রাগ করতে গিয়েও কপাল কুচকে ফেলে। যার সামান্য রিজেকশনে মস্তিষ্ক ফুটতে থাকে আজ রাগ হলো না কেনো?
নিক বিছানা থেকে উঠে ঠোঁট কামড়ায় নিজের। ফর্মাল ড্রেস পড়ে খাওয়ার জন্য নিচে নামে। গম্ভীরতা টেনে ডিভানে বসতেই কপালে ভাঁজ পড়ে। দরজার কাছে দুইজন ব্যক্তিকে দেখে নিক চোখ ছোট ছোট করে ফেলে। দরজায় আরিশ আর নাজলী দাঁড়িয়ে আছে। নিক আরিশের দিকে রেগে তাকাতেই আরিশ ঠোঁট ভিজায়। আরিশ চোখ দিয়ে ইশারা দেয় বাহিরে যাওয়ার জন্য। নিক সেসবে পাত্তা না দিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবারও আরিশের ইশারায় থেমে যায়। নিক কিছু না বলে হনহন করে বের হয়ে যায় বাহিরে। রাগে মাথার রগ ছিঁড়ে যাচ্ছে তার। আরিশ নাজলীকে রেখেই নিকের কাছে দৌঁড়ে যায়। আরিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরেই আরিশের উপর আ্যটাক করে বসে। শার্টের কলার শক্তভাবে চেপে ধরে বলে,

” ওকে নিয়ে এসেছিস কেনো এখানে? শালা তর বউকে আমার বউয়ের কাছে এনেছিস কেনো? তর বউয়ের কারনে আমার সংসারে কোনো আগুন জ্বললে খুন করব তকে।
আরিশ অসহায় গলায় বলে,
” রাগ করিস না। শান্ত হ ভাই একটু। আগে আমার কথাটা শুন।
নিক তীব্র রাগে আরিশের কলার ছেড়ে দেয়। দেয়ালে ঘুষি মেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” আমার স্ত্রীর ভাগ আমি কাউকে দিতে পারি না। যখন ও আমাকে রেখে অন্য কারোর সাথে কথা বলে তখন উন্মাদ হয়ে পড়ি । তর কি মনে হয় ওকে রুমে বন্ধী করে রাখাটা শুধু শত্রুদের থেকে নিরাপত্তার জন্য?
আরিশ অবাক হয়ে বলে,
” তাহলে কিসের জন্য?
নিক চুল খামছে ধরে নিজের। রাগটাকে কন্ট্রোল করে শ্বাস টেনে বলে,

” শত্রুদের থেকে নিরাপত্তা করতে দিতে গেলে আমার রুম বন্ধীর প্রয়োজন নেই। ওকে সাথে নিয়ে পুরো শরীর ঘুরলেও কারোর ক্ষমতা নেই তাকে আঘাত করার। শত্রু আঘাত করলে আমাকে মেরে ওর কাছে যেতে হবে। তাই তাকে আঘাত করা এত সহজ নয়। ওকে রুম বন্ধী রাখার মেইন রিজন যাতে ও কারোর সাথে কথা বলতে না পারে। দুনিয়া ভুলে গিয়ে আমাকে নিয়ে সারাক্ষণ ভাবে। পৃথিবীর কোনো সৃষ্টি যাতে ওকে ছুঁতে না পারে। আমাকে রেখে অন্য কারোর সাথে কথা বললে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। সে জায়গায় যদি ওর বোন থাকে তবুও না। হোক সেটা ছেলে অথবা মেয়ে। ওর জীবনটা থাকবে আমাকে ঘিরে। দুনিয়ার কোনো সৃষ্টি ওকে স্পর্শ করতে গেলে আমার হিংসে হয়। আঘাত করে বসি। নিজেকে সামলাতে পারি না। কেনো নিয়ে আসলি তুই আরিশ!
আরিশ কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। আশ্চর্য গলায় বলে,
” তুই যেসব বলছিস এইসব কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কথা নয় নিক। তুই এনিকে নিয়ে কতটা পজেসিভ সেটা আমার থেকে ভালো আর কেউ জানে না। কিন্তু সেটা তো একটা পুরুষের ক্ষেত্রে। নাজলী এনির বোন। ওকে নিয়ে কেনো হিংসে করতে যাবি? এনি যদি এইসব শুনে তবে তর কি মনে হয় সহজভাবে নিবে এইসব? আজীবন একটা মানুষ এক রুমে বন্ধী থাকা ইম্পসিবল। তুই নিজে পারবি?
নিক শ্বাস নিয়ে বলে,

” ওকে আগলে নিয়ে পুরো একটা জীবনে কাটিয়ে দিতে পারব। যদি এই মেয়ে আমার বুকে থাকে তবে পুরো দুনিয়াকে ঠেলে দিয়ে একটা রুমকে আমি পৃথিবী বানিয়ে নিতে পারব।
আরিশ থতমত খেয়ে বলে,
” তুই বড্ড উন্মাদ নিক। তুই যেভাবে ভাবছিস এনির জন্য এই জীবন সহজ নই।
” মেনে নিতে পারলে সব সহজ। ও জানে ওকে শত্রুদের থেকে বাঁচাতে এই আইল্যান্ডে এনে রেখেছি। আর এইটা আমি তাকে বিশ্বাস করিয়েছি। এখন নাজলীর কারনে যদি এর দিকে -সেদিক হয় তবে প্রচুর খারাপ হবে আরিশ!
” আমি নিজেও ভেবেছিলাম শত্রুদের থেকে রক্ষা করতে ওকে বাহিরে নিয়ে বের হস না। এতটা সাইকো কেন তুই? ও সারাজীবন একা থাকবে কিভাবে?
” একা কেনো থাকবে? ওর জন্য আমি থাকব। সেজন্য এই বাচ্চা চেয়েছিলাম। যাতে একা ফিল না করে।
” বাচ্চা!
” ইয়েস।
আরিশ হেসে বলে,

” বাচ্চাটা ভেবে চেয়েছিস তো?আই মিন তর বউ যখন বাচ্চাকে চুমু খাবে তখন কি করবি? নিজের বাচ্চার সাথে হিংসা করবি না? আর সব থেকে বড় কথা ওর প্রসব ব্যাথা সহ্য করতে পারবি?
নিক তাকায় আরিশের দিকে। কপাল কুচকে বলে,
” প্রসব ব্যথা মানে?
আরিশ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
” বাচ্চা হওয়ার সময় যে পেইন হয়।
নিকের কপালের ভাঁজ সোজা হয়।।ছন্নছাড়া হয়ে আশে -পাশে তাকায়। বিরবির করে বলে,

” বাচ্চা লাগবে না। বাচ্চা চাই না আমার। তাছাড়া ওর পাশে আমি কাউকে সহ্য করব না।
আরিশ নিকের কাধে হাত রেখে বলে,
” পৃথিবীর মধ্যে তুই হয়ত প্রথম বাপ যে নিজের বাচ্চাকে হিংসে করছিস। আর যদি ভুলে একটা চলে আসে তবে আমাকে দিয়ে দিস।
নিক বিরক্তিকর গলায় বলে,
” চান্স নেই।
” চান্স অবশ্যই আছে। তুই যেভাবে অজ্ঞান করিস এইভাবে কেউ করে না ভাই। এর উছিলায় একটা হয়ে গেলে ফেলে দিস না। আমাকে দিয়ে দিস।
বাচ্চার জন্য একটুর অনুভুতি প্রকাশ হলো না গ্যাংস্টার বসের শক্তপোক্ত হৃদয়ে। ফেলে দিবে বিষয়টা ভাবতে গিয়েও হিংস্র হৃদয়ে আঘাত আসে নি। আরিশের হাত কাঁধ থেকে সরিয়ে বলে,

” তর বউ নিয়ে যা।
আরিশ এইবার সিরিয়াস গলায় বলে,
” তানভী ফোন দিয়েছিলো সকালে।দাদামশাইয়ের অবস্থা প্রচুর খারাপ। উনাকে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা দিতে হবে। তার উপর এর মধ্যে কয়েকটা মিটিং আছে। আমার বাড়ির চারপাশে শত্রুরা কিলবিল করছে। ওকে একা বাড়িতে রেখে গেলে যেকোনো সময় আ্যটাক আসবে। গার্ড টপকে দিতে ওদের দুই মিনিট ও সময় লাগবে না।
নিক রেগে বলে,
” কলিজায় ডুকিয়ে নিয়ে যা।
আরিশ অসহায় গলায় বলে,
” সেটা পারলে তো অবশ্যই নিয়ে যেতাম ভাই। এই মিনারে কেউ ডুকতে পারবে না। আর আ্যটাক হওয়ার ও কোনো কারন নেই।
নিক বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে বলে,

” তর বউকে বলে দিস আমার বউয়ের কাছে যাতে না যায়। অতিরিক্ত ভালোবাসা আমার সহ্য হবে না।
আরিশ আপাযত শান্ত করার জন্য হতাশ গলায় বলে,
” বোন হয়ে বোনকে ভালোবাসবে এইটা স্বাভাবিক।
তুই আমাকে ভালোবাসিস না? এখন এনি যদি বলে আপনি আরিশের সাথে কোনোদিন কথা বলবেন না। তাহলে হয়ত তুই আমাকে ও ছেড়ে দিবি? রাইট?
আরিশ এমনভাবে ড্রামাটা করেছে যে তীরটা একদম নিশানা মত লেগেছে। এই কিছু ক্ষেত্রে দুই একটা ইমোশনাল কথা দিয়ে নিককে কাবু করা যায়। নয়ত সারাদিন গড়িয়ে কাঁঁদলেও পাত্তা দিবে না
নিক গম্ভীর গলায় বলে,
” কথা বলুক কিন্তু অতিরিক্ত ঢলাঢলি করতে না বলবি।
” আশ্চর্য! ও ছেলে নাকি? ঢ্লাঢলি করবে কেনো?
নিক রাগী চোখে তাকায়। আরিশ হেসে বলে,
” এইবার অন্তত চুপ কর। এখন আমার কথা শুন। নাভিদকে তুই কি বলেছিস? ও এমন বেপোরোয়া হয়ে গিয়েছে কেনো?
নিক গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,

” বলেছি ওকে চাইতে আসলে তার সব অতীত ওকে জানিয়ে দিব। সেই ভয়েই আসে না।
” নাভিদ কি জানে, জেডকে এনি মেরে ফেলেছে?
” নাহহ! ও না আসুক। কারন আমার বউয়ের একটা চুলেও যদি কেউ স্পর্শ করতে আসে তবে সে অনুশুচনার জন্যও সময় পাবে না।
আরিশ চিন্তিত হয়ে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৫

” সাইকো তুই! যায় হোক কোনো ছক মিলছে না নিক। নাভিদ এত সহজে হার মানার পাত্র নয়। ওকে আমি সেদিন রাস্তায় দেখেছি। একটা ব্রিজের উপরে বসে আছে। একদম এলোমেলো চেহারা। মনে হয়েছে কোনো পাগলের বেশ! অতিরিক্ত ডেঞ্জারাস দেখাচ্ছিলো। বিশ্বাস হচ্ছিলো না এইটা নাভিদ। রাতে তিন শুয়রকে মেরে নাভিদের কাছে যাবি?
নিক কপাল কুচকে তাকায়। আরিশ থমথমে খেয়ে বলে,
” সত্যি বলছি ভাই। একদম পাগলের বেশ।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৫৬ (২)