Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭০

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭০

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭০
লিজা মনি

রাত তখন প্রায় দ্বিতীয় প্রহর উত্তীর্ণ সময়টা আসন্ন প্রত্যূষের কাছাকাছি। চতুর্দিক নিশ্ছিদ্র, ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। গগনমণ্ডলে ভাসমান এক ফ্যাকাশে শশধর। এই আসন্ন নরকযজ্ঞের নির্বাক ও আড়ষ্ট সাক্ষী। ঠিক পাশেই আদিম ও গহীন অরণ্য।ঝঞ্ঝাবাতাসের তীব্রতায় তার শাখাপ্রশাখাগুলো আন্দোলিত হচ্ছে। চারপাশে নির্জন। সেই নৈশব্দিক নির্জনতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে জঙ্গলঘেঁষা এক পরিত্যক্ত কারখানার প্রাঙ্গণে আছড়ে পড়ল এক রক্ত হিম করা প্রলয়োল্লাস।

​দুই প্রবল প্রতিপক্ষ আজ মুখোমুখি। একদিকে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের হর্তাকর্তা এক কুখ্যাত মাফিয়া কিংপিন।।আর অন্যদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের
টেররিস্ট অপ্রতিরোধ্য অধিপতি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান। তবে এই দ্বৈরথে শক্তির পাল্লা নিকের দিকেই সমধিক ভারী। তার প্রধান কারন ছিলো আরিশ আর অধিরাজ। শত্রুর কাছে পরাজয় হওয়া গ্যাংস্টার বসের রুলসের বাহিরে। তার মধ্যে এক অলৌকিক ক্ষমতা আছে। অমানুষিক রণকৌশল এবং ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রখরতা সাধারণের থেকে বেশি।
রাতের অন্ধকারে শহরের বাহিরে এক ঘন জঙ্গলে চলছে এক নির্মম হত্যা যজ্ঞ। গুলাগুলি এর বিকট শব্দে হয়ত পশু- পাখি সব আতঙ্কে সিটিয়ে আছে।

​অন্ধকার চিরে অবিরাম ছুটে যাচ্ছে এমফোরএওয়ান (M4A1) ও একে-৪৭-এর তপ্ত সীসা। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যারেল-নিঃসৃত অগ্নিস্ফুলিঙ্গের তীব্র ঝলকানিতে প্রতি মুহূর্তে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে। কিংপিং তার অনুচরদের নিয়ে এক মারাত্মক ‘ক্রসফায়ার ট্র্যাপ’ রচনা করেছিল। সে কৌশলগত কারণে নিজের অগ্রবর্তী বাহিনীকে কিছুটা পশ্চাদপসরণ করিয়ে নিকের দিকে একটি উন্মুক্ত চত্বরে প্রলুব্ধ করে এনেছিল। সাধারণ কেউ হলে এই ফাঁদে পতিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। কিন্তু এই গ্যাংস্টার বস ভিন্ন ধাতুতে গড়া। নিক ক্রুঁড় হেসে তাকায় কিংপিং এর দিকে। কিং হিংস্র আর হেরে যাওয়ার প্রতিহিংসায় চিৎকার করে উঠে,
” হুট করে কেনো আক্রমন করলি তুই? তর সাথে কিসের শত্রুতা আমার?
নিক ঠোঁট কামড়ালো কিছুক্ষণ। একদম শীতল গলায় উচ্চারন করে,
” তর এই ফা’কিং চোখ দিয়ে আমার বউকে দেখেছিস। লালসা দিয়েছিলি। মরতে তো তকে হবেই কিং!
কিং আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করে,

” তর বউ হওয়ার আগে সে নিলামে উঠেছে। ভুলে যাচ্ছিস তুই একজন নিলাম কেন্দ্রে উঠে পতিতাকে কিনেছিলি। এরপর নিজের বউ বানিয়েছিস। নিলামে যখন উঠেছে তখন আমি কিনতে যাব স্বাভাবিক। নারী তো লালসা দেওয়ার এই জিনিস। তাদের কে পাঠিয়েছে পুরুষের ভোগবস্তু হতে। লালসা না দিলে ভোগ করব কিভাবে?
কিং এর কথা শেষ হতে না হতেই নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে। গলার রগগুলো সাপের মতো ফুলে উঠে ক্রোধে। শান্ত তীর্যক অক্ষিজোড়া মুহূর্তের মধ্যে ধারণ করল এক নরকাগ্নির রূপ।চোখ দুটো রক্ত-লাল হয়ে উঠে। যেন এখুনি সেখান থেকে জীবন্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছিটকে বের হবে। আরিশ আর অধিরাজ তাকায় নিকের দিকে। হুডির কারনে মুখের রিয়্যাকশন বুঝতে পারছিলো না তারা। তবে এইটা বুঝেছে শান্ত থাকাটা ঝড়ের পূর্ভাবাস।
নিকের ওষ্ঠাধর কাঁপে নি একটুর জন্যও। গুরুগম্ভীর গর্জনের মতো শান্ত গলায় বলে,
​”নিলামের আসরটা যারা বসিয়েছিল, তাদের বংশের কেউ আজ পৃথিবীতে বেঁচে নেই, কিং। আর তুই যে নারীদেহকে পুরুষের ‘ভোগবস্তু’ বললি… আজ এই অরণ্যের অন্ধকার সাক্ষী রইল, তোর ওই নোংরা লালসাগ্রস্ত চোখ দুটো আমি উপড়ে নেব। তুই তাকে কেনার স্বপ্ন দেখেছিলি না? আজ রাতে তোর নিজের জীবনের নিলাম হবে, আর তার একমাত্র ক্রেতা আমি।
নিক কথাটা শেষ করেই একটা আঙ্গুল নাড়ায়। সাথে সাথে সঁরু সুইয়ের মত কিছু একটা কিং এর গালে গেঁথে যায়। কিং গালে হাত দিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে,

” মাদার্ফাক!
নিক ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। ​কিং অস্থির হয়ে সবাইকে আদেশ করে নিককে ছিঁড়ে ফেলার জন্য। কিন্তু তার আগেই গ্যাংস্টার বসের সমস্ত গার্ড আটকে দেয়। এই তুমুল কোলাহল ও ডামাডোলের মধ্যেও নিকের তীর্যক অক্ষিজোড়া অন্ধকারের যবনিকা ভেদ করে শত্রুর প্রতিটি গতিবিধি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে স্ক্যান করে নিচ্ছিল। তার রয়েছে বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ শ্রবণেন্দ্রিয়। বোমার গগনবিদারী আওয়াজ আর বুলেটের শাঁইশাঁই শব্দের মধ্যেও সে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে নেয় অরণ্যের দক্ষিণভাগের গুল্মলতার আড়ালে কিং এর স্নাইপারদের নিঃশব্দ অবস্থান পরিবর্তনের মৃদু খসখস ধ্বনি। তার অসাধারণ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ও তীব্র সংবেদনশীলতা তাকে মুহূর্তের মধ্যে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে তুলে। এদিক সেদিক তাকিয়ে বিরবির করে বলে,
” দক্ষিনদিকে স্নাইপার আছে। পিছন দিকে শেষ করে দে।

আরিশ সামনে তাকিয়ে ধীরে ধীরে সরে যায় সে দিক থেকে। নিক রিভলভার হাতে নিয়ে বাঁকা হেসে দক্ষিণ হস্তটি ঊর্ধ্বে উত্তোলন করে। ব্যস, এক নিমেষে স্তব্ধ হয়ে যায় তার অনুগামীদের অগ্রযাত্রা। নিকের অঙ্গুলিহেলনে মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ পাশা উল্টে যায়। নিকের কারিগরি অপারেটররা আকাশে ওড়াল ‘ব্ল্যাক হর্নেট’ ড্রোন। ড্রোন থেকে প্রেরিত থার্মাল ইমেজিং আর নিকের নিজস্ব অন্তর্দৃষ্টির নিখুঁত সমীকরণে এবার পাল্টা চোরাগোপ্তা হামলা বা অ্যামবুশ শুরু হয়ে যায়। কিং হতভাগ হয়ে উপরে তাকায়। সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়ার আগেই গ্যাংস্টার বসের সংরক্ষিত বাহিনী অরণ্যের অন্ধকারকে ঢাল বানিয়ে পেছন থেকে কিং এর সবাইকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। শুরু হয় নিকের প্রকৃত শক্তির আস্ফালন।একেকজন ক্ষীপ্রহস্ত শুটার কংক্রিটের প্রাচীর আর বৃক্ষকাণ্ডের আড়াল নিয়ে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে স্থান পরিবর্তন করে কিং এর লোকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে । একজন – একজন করে মরছে আর তাজা রক্ত ছিটকে পড়ছে গাছে, ডালে, মাটিতে বা শুকনো পাথার উপরে। কারোর মাথা থেকে দেহ আলাদা হয়ে যাচ্ছে আবার কারোর চোখ, বুক সব ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

​বাতাসে এখন শুধুই বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ, তপ্ত বুলেটের শিস আর মাটির বুকে ঝরে পড়া রক্তের ছপছপে শব্দ। তপ্ত বুলেটের খোলগুলো যখন কারখানার কংক্রিটের মেঝেতে পতিত হয়ে ‘টুং টাং’ আবার বিকট শব্দ হচ্ছে । নিক কপাল কুচকে তাকায় সামনে। পকেট থেকে বোমা বের করে আক্রমন করে সামনের দিকে। সাথে সাথে বিস্ফূরণ ঘটে এক বিকট অগ্নি কান্ডে। ধোঁয়ার ঝাঁঝালো গন্ধে কেঁশে উঠে সবাই। কিং রাগে ক্ষীপ্ত হয়ে আচমকা নিকের দিকে বুলেট ছুঁড়ে মারে। নিক সরে যাওয়ার আগেই পর পর দুইটা বুলেট তার বাম হাত ছিদ্র করে বের হয়ে যায়। আরিশ চোয়াল শক্ত করে একদম কিং এর বুক বরাবর শুট করে দেয়। সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আক্রমন হওয়া প্রানীর মত। অধিরাজ কিং এর কলার চেপে ধরে হেঁচড়ে গাড়িতে তুলে।
নিক ডান হাতের সাহায্যে চেপে ধরে রাখে ক্ষতস্থানে। তাজা রক্ত অবিরাম ছুটে চলছে। নাক – মুখ খিঁচে গর্জে উঠে,

” সোজা টর্চার সেলে নিয়ে যা।
আরিশ গার্ডদের ইশারা করে নিকের কাছে আসে। নিক গাড়িতে বসে আরিশের উদ্দেশ্যে বলে,
” মিনারে চল দ্রুত।
আরিশ ক্ষতস্থানের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আগে রক্ত বন্ধ করা প্রয়োজন।
নিক নাক- মুখ কুচকে বলে,
” বন্ধ হয়ে যাবে কিছুক্ষণ পর।
” কে বললো তকে বন্ধ হয়ে যাবে? রক্ত কিভাবে পড়ছে দেখেছিস একবার? রক্ত ক্ষরণে মরে যাবি।
নিক কন্ঠ শক্ত করে গ্রিনাদেশ নাড়ালো,
” পাপীদের শরীর থেকে রক্ত ক্ষরণ হলে কিছু হয় না। আর সে যদি মরেও যায় তবুও কিছু হয় না।
আরিশ নিকের দিকে এক পলক তাকালো। পর পর গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
” সেটাই, তুই মরলে কি আর এমন হবে? তুই মরলে এক কাজ করব। তর বউকে কায়াতের কাছে দিয়ে দিব। আর তর দুই মেয়ে আর ছেলেকে আমি নিয়ে নিব। কি বলিস?
আরিশ বলতে দেরী নিকের আক্রমনের স্বীকার হতে দেরী হয় নি। আরিশের কলার চেপে ধরে গর্জে উঠে গ্যাংস্টার বস,

” কুত্তার বাচ্চা কি বললি তুই? আবার বল, জানের মায়া থাকলে আবার বল।
আরিশ হতভম্ভ হয়ে তাকায় নিকের দিকে। এমনভাবে চেপে ধরেছে যে গাড়ির স্টিয়ারিং ভালোভাবে ধরতে পারছে না। তার উপর হাত ছেড়ে দেওয়ার জন্য ক্ষত থেকে মাত্রাধিক রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আরিশ কিছুটা আতঙ্কিত গলায় বলে,
” গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলবি নাকি? নিজে তো তিনটা পয়দা করে ফেলেছিস, আমি করব না? করার আগে মেরে ফেলার ধান্দা করছিস? ছাড় আমাকে।
নিক দাঁতে দাঁতে পিষে ছেড়ে দেয়। আরিশ ফুঁশ করে নিশ্বাস ছেড়ে সামনের দিকে নজর দেয়। বিরবির করে বলে,
” তর মত হিটলার বন্ধু শত্রুর ও না হোক।
পর পর শব্দ করে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” তর বউ আর বাচ্চাদের তর বুক থেকে কেউ নিতে পারবে না। কিন্তু তর যদি কিছু হয়ে যায় তবে তাদেরকে প্রটেক্ট করার ক্ষমতা কিন্তু আমার নেই। তাই অন্তত ব্যান্ডেজটা করে নেয়।

সেই রুদ্ধদ্বার প্রকোষ্ঠের বাতাস এখন কেবল গুমোট ও ভারীই নয় তা চাবুকের হিংস্র শব্দ ও তপ্ত রক্ত আর তীব্র আতঙ্কে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। স্টিলের অনমনীয় স্তম্ভে নিষ্ঠুরভাবে আবদ্ধ সেই দশজন হতভাগ্যের ওপর চলছে এক সুপরিকল্পিত ও অমানুষিক নির্যাতন।
নিক নিজের হুডি খুলে ফেলে। বের হয়ে আসে সৌন্দর্যের আড়ালে তার হিংস্র আর ধ্বংসাত্বক রুপ।নিকের ডান হাতে শক্ত করে ধরা রয়েছে একসাথে গুচ্ছবদ্ধ করা পঁচিশটি চামড়ার চাবুক। এই চাবুকের একেকটি আঘাত পঁচিশগুণ বেশি তীব্রতায় মাংস উপড়ে নেওয়ার জন্য তৈরি। তার সামনে স্টিলের স্তম্ভে অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় ঝুলতে থাকা সেই দশজন বন্দিকে সে ইতিমধ্যেই এই চাবুকের নিষ্ঠুর প্রহারে পিটিয়ে অর্ধমৃত করে ফেলেছে। তাদের শরীর থেকে ঝরে পড়া তাজা রক্তে ঘরের মেঝে পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে। বাতাসে ভাসছে পোড়া মাংস ও রক্তের তীব্র গন্ধ। দশজনের চোখেই প্রশ্ন,

” কেনো মারা হচ্ছে তাদের?
নিক তাদের দুর্বল চোখে চোখ রেখে শব্দ করে হাসলো। কপালের ঘাম মুছে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” একটা এই অপরাধ আমার নারী দিকে লালসা দিয়েছিলি। নিলাম কেন্দ্রে পণ্য হিসেবে বিক্রি করতে যাচ্ছিলি। ভাগ্যিস ঠিক টাইমে রক্ষিতা হিসেবে ক্রয় করব এই অযুহাতে পৌঁছেছিলাম। নয়ত নিক জেভরানের কলিজাকে কুলষিত করে ফেলতি তরা শুয়রের বাচ্চা। তরা জানিস তো , ওর দিকে কেউ বাজে নজরে তাকালে তাদের বাঁচতে দেয় নি। তদের কেনো বাঁচতে দিব? মৃত্যু ও তদের জন্য কম হবে। তদেরকে নরক যন্ত্রনা দিলে তবেই শান্তি মিলবে।
দশ জন এই একদম অস্থির হয়ে উঠে। কথা বলতে পারছে না কেউ। ঠোঁট আর জিহ্বা কেটে নেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। একদম উলঙ্গ শরীর। একটা সুঁতাও তাদের শরীরে নেই। নিচ দিয়ে তরল রক্ত পড়ছে প্রায় বিশ মিনিট ধরে। খুব হিংস্র ভাবে পুরু*ষাঙ্গ কেটে দিয়েছে সবার। কেটেছে ভুল হবে, একদম ছিন্ন -বিচ্ছন্ন হয়ে শরীরের সাথে ঝুঁলে আছে। নিক হাতে একটা সার্জিক্যাল স্ক্যালপেল তুলে নেয় হাতে। চোখ- মুখ একদম ঠান্ডা আর শীতল।

সাইকোপ্যাথ গুলো খুনের সময় এমন শীতল হয়ে যায় যেন কোনো অপরাধ করছে না সে। আর না কোনো নির্মম ধ্বংসাত্বক কাজ করছে। নিকের ঠোঁটে স্রেফ এক বাঁকা হাসি।লণ্ঠনের মৃদু হলুদ আলোয় তার হাতের সার্জিক্যাল স্ক্যালপেলের রূপালি ফলাটা একবার চকচক করে উঠল। অত্যন্ত পাতলা, সূক্ষ্ম আর অবিশ্বাস্য রকমের ধারালো সেই ধাতব খণ্ডটি সে আলতো করে ধরল নিজের আঙুলের ডগায়।ঠিক যেভাবে একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী তাঁর তুলি ধরেন। নিক ইচ্ছে করে প্রথমে কিং এর কাছে যায়। কিং এর চোখ উল্টে আসছে ভয়ে। বার বার মাথা ঝাঁকিয়ে উন্মাদের মত না করছে। কথা বলতে পারছে না, চিৎকার দিতে পারছে না। কি নরকীয় মুহূর্ত মানবজীবনের জন্য। নিক কিং এর গালে হাত ছুঁয়ে হালকা হেসে পর পর তার কন্ঠনালিতে সার্জিক্যাল স্ক্যালপেল চেপে ধরে। গলা দিয়ে রক্ত ছিটকে পড়ে গ্যাংস্টার বসের চোখে- মুখে। নিক আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটের উপরে পড়া রক্তগুলো মুছে নেয়। কিং গলা কাটা প্রানীর মত কাতরাচ্ছে। হাত মুচড়ানোর ফলে শিকলের আঘাতে হাত দিয়ে তাজা রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। নিক একদম শান্তভাবে গলা থেকে একদম তল পেট পর্যন্ত নেমে আসা। দুই হাতের সাহায্যে চামড়ায় টান দেয়। সাথে সাথে বুকের চামড়া দুই ভাগ হয়ে যায়। চামড়া সরে গিয়ে বেরিয়ে আসে রক্তে রঞ্জিত লাল মাংসের প্রলেপ। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে পৈশাচিকভাবে হাসে। ঘাড় ঘুরিয়ে বাকিদের দিকে তাকায়। যারা আতঙ্কে কাঁপছে। নিক গম্ভীর গলায় বলে,

” এভাবেই তো কুমারী মেয়েদের কাচা মাংস কেটে পার্টি করিস, চিবিয়ে খাস। তার আগে তো আবার নিজের কামনা মিটিয়ে নিস। ভালোভাবে তাকিয়ে দেখ একটা তদের কাছে নেই। নারীদের দেখলে যে অঙ্গ লালসা জাগিয়ে তুলে সেটা কোনোরকম ঝুঁলে আছে। জিহ্বা দিয়ে ওদের শরীর চে* টে খেতি। আজ সেই জিহ্বা টাও নেই। নাকি আছে চোখ, কলিজা আর পুরো শরীর। খুব দ্রুত এগুলোকেও ফুটন্ত তেলে ভাজব। সিইং দেম রিডিউসড টু দিস স্টেট গিভস মি আ কোয়ায়েট সেন্স অব প্লেজার। তেলে ভাজব নাকি এসিডে চুবাব বলত?
নিক পৈশাচিকভাবে হাসছে। আর বাকি নয়জন ছাড়া পাওয়ার জন্য উন্মাদের মত হয়ে পড়েছে। চাবুকের আঘাতে পুরো শরীর রক্তাক্ত।কোনো রকম রুহটা অক্ষত আছে।

নিক দুই হাতে ধারালো ছুঁড়ি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কিং এর উপর। পাগলের মত দুই হাত দিয়ে কু*পিয়ে যাচ্ছে। চোখ দুইটার মধ্যে ধারালো ছুঁরি ডুকিয়ে দেয়। কিং মরন কোলে ঢলে পড়ে অনেক আগেই। তবুও গ্যাংস্টার বস থামেন না। একাধারে কো* পাতে থাকে চামড়া ছাড়া নরম মাংস পিন্ডের উপর। মাংস পিন্ড ছিটকে পড়ছে পুরো টর্চার সেলে। নিকের পুরো শরীর রক্তাক্ত। বুক থেকে নিচ পর্যন্ত একদম দুই ভাগ করে ফেলে। টেনে কলিজা বের করে আনে। কাঙ্খিত জিনিসটা পেয়ে থুথু ফেলে এতে। ঠিক একই অবস্থা বাকি নয়জনের ক্ষেত্রে ও হয়। দীর্ঘ চার ঘন্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক খেলায়। ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন শরীর গুলোকে অধিরাজ আর গার্ডরা ফুটন্ত গরম তেলে ছেড়ে দেয়। ছ্যাৎ ছ্যাৎ করে ভেজে যায় তাদের শরীর। নিক হেসে হান্টার আর শ্যাডোর সামনে রাখা দশটা ভাজা শরীর। নিক হান্টার আর শ্যাডোর মাথায় হাত রেখে হেসে বলে,
” উমম, জানিস এইগুলো কেনো খাওয়াচ্ছি তদের? আমি বাবা হয়েছি সেই উছিলায় দিলাম। দুর্বল জীবন থেকে সঙ্গী তরা আমার। ভুলে যায় কিভাবে?
হিংস্র প্রানী গুলো কি বুঝলো কে জানে? নিকের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে খাবারের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিক বসা থেকে উঠে গার্ডদের উদ্দেশ্যে হুংকার ছাড়ে,
” ইউ হ্যাভ টেন মিনিটস টু ক্লিন দ্য হোল টর্চার সেল। মুভ ফাস্ট।
” জি বস!

টর্চার সেলের সেই তিমিরঘন ও নারকীয় পরিবেশ হতে কোনোক্রমে আত্মমুক্ত করে নিক। বুটের কর্কশ শব্দ আর আর্তনাদের আকুল ধ্বনি পশ্চাতে ফেলে সে পদধ্বনিহীন পায়ে অগ্রসর হয় এক গুপ্ত কক্ষের অভিমুখে। বহির্ভাগ থেকে এর অভ্যন্তরের রূপ অনুধাবন করা অসম্ভব। এই প্রকোষ্ঠেরই অন্তরালে শায়িত আছে কৃষ্ণজগতের এক সুবিশাল সাম্রাজ্য দেশের সিংহভাগ অবৈধ মালামাল, মারণাস্ত্র আর নিষিদ্ধ দস্তাবেজ স্তূপীকৃত হয়ে আছে এখানে।
​নিকের সমগ্র শরীর তখন রক্তাক্ত। ক্ষতবিক্ষত ত্বক বেয়ে চুইয়ে পড়ছে গাঢ় রুধিরধারা। কোথাও যেন আজ শান্তি খুঁজে পাচ্ছে গ্যাংস্টার বস। এত ইজিভাবে সব শত্রুদের মেরে ফেলবে ভাবে নি। এখন বাকি আছে শুধু কায়াত। নিক বিষয়টা অনুভব করে ঠোঁট বাঁকায়। কালবিলম্ব না করে সে অবিলম্ব না করে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।
শাওয়ার ছাড়তেই শীতল জলধারা আছড়ে পড়ে তার পেটানো ফর্সা বক্ষে, পানি আছড়ে পড়ছে তপ্ত ও রক্তাক্ত শরীরে। দীর্ঘ বিশ মিনিট ধরে চলে জল ও রক্তের এক মৌন আখ্যান। স্রোতের তোড়ে ধুয়ে মুছে যেতে থাকে জমাটবদ্ধ রক্ত আর সমস্ত গ্লানি। হাতের ক্ষত আর ও তাজা হয়ে উঠে। পুরো শরীর এই কাটা – ছেড়া অবস্থা। ঠান্ডা পানিতে পুরো শরীরে যেন আগুনের মক্ত জ্বলছে। নিক দাঁত পিষে বড় করে নিশ্বাস টানে। বিশ মিনিট পর যখন ওয়াশরুম থেকে বের হয় তখন যেন এক সম্পূর্ণ রূপান্তরিত মানুষ। টাওয়েল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে কাঙ্খিত রুমে প্রবেশ করে। বিছানার দিকে তাকাতেই কপাল কুচকে আসে তার। এই গভীর রাতে এনিকে জাগ্রত অবস্থায় দেখে কিছুটা অবাক হয়। একজন ঘুমিয়ে আছে আর বাকি দুই জনকে এনি সামলাচ্ছে। এনি খুব ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞাসা করে,

” এত রাতে ঘুম থেকে উঠে কোথায় গিয়েছিলেন?
নিক খাপছাড়া ভঙ্গিতে বিছানার দিকে এগিয়ে যায়,
” বাহিরে।
” কেনো?
এনির পর পর শীতল প্রশ্ন। নিক তীর্যক চোখে তাকায় অর্ধাঙ্গীর দিকে। শক্ত গলায় বলে,
” প্রশ্ন করবে না, আমি কারোর প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
এনির চোখে এসে পানি ভীর করে। কপে উঠে কন্ঠস্বর। তবুও জেদী গলায় বলে,
” করব! একশতবার করব, হাজারবার করব, লক্ষবার করব। আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য। আই অ্যাম ইয়োর লফুল ওয়াইফ, দ্য মাদার অব ইয়োর চিলড্রেন।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এনির গালে হাত রেখে ঝুঁকে বলে,
” ইয়েস। আই অ্যাম দ্য ওয়াইফ অব গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান, দ্য মাদার অব হিজ চিলড্রেন।
ইউ ওয়ান্ট টু নো হোয়ার দে ওয়েন্ট, ডোন্ট ইউ? টর্চার সেলে ছিলাম। একসাথে দশজনকে কু*পিয়েছি এরপর গরম তেলে ভেজে দিয়েছি।
এনির শরীর শিরশির করে উঠে। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানে। ভয়াতুর গলায় বলে,

” কখনো স্বাভাবিক জীবন পাব না আমরা। এক নরকে আমি পুড়ে ছাই হচ্ছি এখন বাকি আর ও তিনজনকে নিয়ে আসলাম। সৃষ্টিকর্তা আমার সন্তানদের রক্ষা করুক। আপনার কালো জগৎ ওদের স্পর্শ করলে আমি সইতে পারব না। আমার সন্তানদের রক্ষা করবেন তো আজীবন। প্লিজ ওদের শরীরে কারোর আচর লাগতে দিয়েন না। মরে যাব আমি ওদের ছাড়া।
এনি নিশ্বাস টানছে বড় বড়। আচমকা এনি কেঁদে উঠে শব্দ করে। নিক চোয়াল শক্ত করে ধমকে উঠে,
” স্টপ ক্রাইং ইডিয়েট! বোকার মত কাঁদলে নদীতে ফেলে আসব। কি মনে হয় তোমাকে? আমার শত্রুদের এত সহজে ওদের কাছে আসতে দিব? এই মিনার ভেদ করে ভেতরে ডুকা অসম্ভব বেবিগার্ল। তুমি নিজেও জানো না এর চারপাশে ঠিক কত নিরাপত্তা! তোমার শরীরে লাগতে দিয়েছি কোনো আচর? তবে নিজের সন্তানদের শরীরে কিভাবে লাগতে দেয়?

এনি একাধারে ফুঁপাচ্ছে নিকের বুকে ল্যাপ্টে গিয়ে। নিক বিরক্তির নিশ্বাস ছেড়ে এনিকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়। দুই মেয়েকে আলতো হাতে কোলে তুলে নিয়ে এনির উদ্দেশ্যে বলে,,
” তোমার এমন ফ্যাঁচ- ফ্যাঁচ কান্নার শব্দ শুনার মত ধৈর্য আমাদের বাবা – মেয়ের কারোর নেই। তুমি কাঁদতে থাকো। তবে হ্যা, মনে রেখো কান্নার পরিমান হিসেব করিয়ে তোমাকে আমি চিৎকার করাব। সুস্থ তো হয়ে গিয়েছো। বাচ্চাদের সামলিয়েছো এখন বাচ্চার বাবাকেও সামলাবে।
নিকের এমন কথায় এনির কান্না থেমে যায়। হুট করে কান্নাটা অফ হয়ে যায়। নিক সেসবে পাত্তা না দিয়ে অগ্রসর হয় বেলকনিতে। এনি চোখের পানি মুছে বেলকনির দিকে তাকায়। তার ভেতরের ভয় দিন দিন বেড়ে চলছে। পাপ তো জীবদ্দশায় কিছু শাস্তি দিয়ে যায়। নিকের পুরো জীবনটা এইতো পাপাচারে লিপ্ত। এই পাপের শাস্তি তার সন্তানদের উপরে যাবে না তো কোনোদিন? এনির বুক হাহাকার করে উঠে। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে কিভাবে আজীবন বাঁচিয়ে রাখবে তার সন্তানদের? আজ তার মন এমন ধুমড়ে – মুচড়ে যাচ্ছে কেনো? এই ভয় তো এতদিন লাগে নি। তবে আজ কেনো এত ভয় লাগছে? এনি ঘন নিশ্বাস টেনে পানি পান করে। ছেলের কপালে চুমু খেয়ে হেসে বলে,
” তুমি খাবে না পাপা? অনেক্ষন তো ঘুমিয়েছো। এইবার অন্তত উঠে পরো পাখি।

পাখি ডাকটা মনে হতেই এনির মস্তিষ্ক সজাগ হয়। নাভিদের কথা স্মরন হয়ে আচমকা। লোকটা তাকে পাগলের মত ভালোবাসত। সে বুঝেও না বুঝার অভিনয় করে থেকেছে সব সময়। কেমন আছেন আপনি নাভিদ ভাই?নিশ্চই বিয়ে করে সংসার সাজিয়ে ফেলেছেন? দোয়া করি আপনার জন্য। আপনার মত এমন ভালো মানুষের জীবনে আমার মত এমন বিষাক্ত আর অভাগা মেয়ে না। আপনার জীবনে এক পবিত্র আর ভালো নারী প্রয়োজন।
এনি এরিককে ব্রেস্ট ফিডিং করিয়ে কোলে নিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসে। উদ্দেশ্যে বারান্দায় যাবে নিকের কাছে। বাকি দুইজনকে খাওয়ানো হয় নি এখনও। নিশ্চই ক্ষুধার্ত হয়ে আছে। মায়ের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে সন্তানদের চিন্তায়। ছেলেকে কোলে নিয়েই এগিয়েই যায় মেয়েদের উদ্দেশ্যে। বারান্দার গ্লাস খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই স্তব্দ হয়ে যায়। পুরো শরীর শিরশির করে উঠে তার। মনে হচ্ছে রক্ত শীতল হয়ে উঠেছে। বাবা তার দুই মেয়েকে বুকে নিয়ে ঘুমাচ্ছে। এনির মনে হচ্ছে এইতো সেই জানোয়ার রুপী হিংস্র পুরুষটা! যার একটা হুংকার মানেই তান্ডব! হৃদয় নেই, মায়া – দয়া বলতে কিছু নেই। যান্ত্রিক হৃদয়টা কারোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে না। অথচ কি সুন্দর নিজের দুই অস্তিত্বকে নিয়ে শুয়ে আছে! এনির চোখে পানি টলমল করে উঠে। এই সুখ তার কপালে সইবে তো? নাকি আবার ও কোনো কালবৈশাখী ঝড় সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাবে? এনি নিজেকে সংযত করে নিকের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। চোখ দুইটা বড় বড় হয়ে যায়। একজন দুই – পায়ের মাঝখানে আরেকজন বুকের উপর শুইয়ে কি শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে। এনি ছেলের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে,

” দেখলে বাবা , তোমার পাপা আমাদের ভুলে গিয়েছে?
এরিক কি বুঝলো বুঝা গেলো না। কোমল হাত দুইটা নাড়িয়ে মুখের উপরে রাখে। এনি হাসে সেদিকে তাকিয়ে। পর পর নিকের হাত ধরে টেনে বিরক্ত নিয়ে বলে,
” ঘুমের কি ছিঁরি! যেমন বাপ – তেমন তার আন্ডাবাচ্চা! একজন দুই হাটুর মাঝখানে দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে আরেকজন বুকে আরাম করে ঘুমাচ্ছে। উঠুন! ওদের খাওয়াতে হবে।
এনির সামান্য ডাকে নিক চোখ খুলে তাকায়। সে ঘুমায় নি। এমনিতে চোখ বন্ধ করে রেখেছিলো। এনি যখন এসেছে তখন এই সে অনুভব করেছে। চোয়াল শক্ত করে ধমকায়,
” ঠাটিয়ে দিব থাপ্পর বিয়াদব! ভাষা সংযত করো। আর কত বলব তোমাকে?
নিকের ধমকে এনি প্রথমে ভয় পেলেও পর পর সামলে নেয় নিজেকে। অসহায় গলায় বলে,,
” একজন ছেলের মাকে আপনি ধমকাচ্ছেন, আপনার সাহস তো কম না?
নিক চোখ রাখে এনির মুখের উপরে। প্রতিবারের মত সেই নীল চোখ আর মায়াবী চেহারায় হারিয়ে যায় গ্যাংস্টার বস। মেয়েদের ঠিকঠাক করে এনির উদ্দেশ্যে বলে,

” ছেলেটা ও আমার এই।
এনি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
” আমি আকাশ থেকে টপকে এসেছে। জন্ম আমি দিয়েছি আর আপনার হয়ে গেলো?
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এনির ধনুকের মত বাঁকানো কোমরটাকে চেপে ধরে নিজের উড়ুর উপরে বসিয়ে দেয়। উন্মুক্ত পিঠে নাক ঘেষে ফিসফিস করে বলে,
” আমি রেখেছি বলে তুমি জন্ম দিতে পেরেছো। আমি না রাখলে জন্ম দিতে কিভাবে?
প্রতিবারের মত লজ্জায় চুপসে যায় রমণী। কাঁপা গলায় বলে,
” ছাড়ুন।
নিক এনিকে এক হাতে ধরে রেখে ঘুমন্ত কন্যা আর ছেলেদের দোলনায় শুইয়ে দিয়ে এনির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসে। এনি আৎকে উঠে এইস হাসিতে। নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে নিতে ছটফট করে বলে,

” আমি অসুস্থ কিন্তু…
নিক এনিকে কাচের উপর শুইয়ে দিয়ে ঝুঁকে পড়ে। গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে বলে,
” অসুস্থ কি চব্বিশ যুগ পর্যন্ত থাকবে? বউয়ের অভাবে যদি পরকীয়া শুরু করে দেয় তখন কি করবে?
এনি রেগে কাঁমড়ে ধরে নিকের গাল। পুরো দাঁত বসিয়ে কলার টেনে ধরে বলে,
” মেরে সোজা কবরে পাঠিয়ে দিব। জান্নাতে যাবেন নাকি জাহান্নামে যাবেন সেটা সৃষ্টিকর্তা দেখবে।
নিক কপাল কুচকায়। এক টানে ছিঁড়ে ফেলে এনির পড়নের কুর্তি। এনি নাক- মুখ খিঁচে ফেলে। নিক এনির উন্মুক্ত পিঠে ওষ্ঠ ছুঁয়ে বিরবির করে উঠে,
” তুমি ঘৃনা করো আমাকে তাই না ব্লাড – রোজ? ক্ষমা করো নি এখনও!
এনির ছটফট করা থেমে যায়। শরীর কেঁপে উঠে তার। নিকের অবাধ্য হাত থেমে যায়। এনি ঘুরে নিকের চোখে চোখ রাখে। নিকের ধূসর চোখ দুইটা কেমন লালচে হয়ে আছে। এনি শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” ক.. কিসব বলছেন? কে বললো ক্ষমা করিনি?
নিক এনির গালে হাত রেখে আঙ্গুল ঘেষে বলে,

” কি সাহস তর জান, আমার চোখে চোখ রেখে মিথ্যে বলাও শুরু করে দিয়েছিস?
এনির মাথা ভঁনভঁন করছে। এই কথা নাজলী ছাড়া এক কাক পক্ষীও জনে না। ক্ষমাটা রুহ থেকে আসতে হয়। এনি চাই নিককে ক্ষমা করে দিতে। কিন্তু যতবার ক্ষমা করতে চাই ততবার অতীত বাঁধা দেয়। ভালোবাসি এইটা তো মিথ্যে নয়। এনি শান্ত গলায় বলে,
” স্টক করছেন আমাকে? এই কালো – লাল পাথরে কিছু একটা আছে। নয়ত আমার বলা কথা আপনি কিভাবে জানলেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের। দাঁতের ঘর্ষণে রক্ত বের হয়ে যায়। এনি নিককে শান্ত করার জন্য হাসার চেষ্টা করে বলে,
” কাছে টানতে চাইছিলেন।হুট করে এইসব কথা কেনো বলছেন?
নিক দাঁতে দাঁত কটমট করে। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে শুধায়,
” কাছে টানাটা ছিলো ভুল। দেখো , এক বিষাক্ত কথা মনে পড়ে গেলো আমার। ঘৃনা করো, ক্ষমা করোনি? অথচ ভালোবাসো? কোনটা সত্য?

এনি কাঁপা গলায় উত্তর দেয়,
” ভালোবাসি! বাকি সব মিথ্যে।
এনির কথে শেষ হতেই নিক চেপে ধরে নরম গলা। ছটফটিয়ে উঠে এনির নারী দেহ। নিকের কপালের রগ গুলো ফুলে নীল হয়ে উঠেছে। রাগের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে চিবিয়ে বলে,
” শাট ইয়োর ফাকিং মাউথ।ভালোবাসো আবার ঘৃনা করো? কোনটা বিশ্বাস করব আমি? জেনে গিয়েছো নিক জেভরানের দুর্বলতা? তাই মেইন অস্ত্র কাজে লাগিয়ে ধ্বংসের পায়তারা করছো? কারো চোখে কৃত্রিম ভালোবাসা দেখার চেয়ে তার অবহেলা মেনে নেওয়া অনেক সহজ। মিথ্যে আমার ধৈর্য সীমার বাহিরে। আঘাত দিলেও মেনে নিব কিন্তু ভালোবাসার এই কৃত্রিম অভিনয় করা প্রতারণা মেনে নেওয়া কঠিন। আমি স্পষ্ট শত্রুতা সইতে পারি, হাজার বার ঘৃনা ও দেখতে পারি। কিন্তু লোক দেখানো এই মিথ্যে নাটক আমার সহ্য সীমার বাইরে। যদি কখনো আমার শান্ত আর ভালো থাকার সুযোগ নিয়েছো সেদিন আমার থেকে খারাপ তোমার জীবনে আর দ্বিতীয় কেউ হবে না।
নিক উঠে আসে পুরো হিংস্রতা নিয়ে। এনি গলায় হাত দিয়ে ছলছল চোখে তাকায়। নিকের হাত ধরতে গেলে নিক ছিটকে সরিয়ে দেয়। এনি আহত দৃষ্টিতে তাকায় নিকের দিকে। নিক পা বাড়ায় সেই গুপ্ত বারে যাওয়ার জন্য। এনি দ্রুত উঠে নিকের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিক কপাল কুচকায় সামান্য। এনি নাক টেনে বলে,

” ড্রাকস নিতে যাচ্ছেন তাই না? নয়ত মদে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতে? বিশ্বাস করুন ঘৃনা করি না আপনাকে। আপনাকে ছাড়া এক মিনিট শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আপনাকে যদি ঠকানোর ইচ্ছে থাকত তবে আপনার সন্তান কি কখনো নিজের গর্ভে রাখতাম। আমি আগের এনি হলে বাচ্চা সাথে সাথে নষ্ট করে দিতাম, ঠিক এতটা ঘৃনা করেছি আপনাকে। আগের সেই আমি নয় নিক। ভালোবাসি আপনাকে।
নিক এনিকে এড়িয়ে যেতে চাইলে এনি শক্ত করে চেপে ধরে নিকের শার্ট। গ্যাংস্টার বস বুঝে উঠার আগেই তার দুই পায়ের উপর পা রেখে ওষ্ঠে ওষ্ঠ ডুবিয়ে দেয়। নিকের পৈশাচিক শরীরটা কিছুক্ষণের জন্য কম্পিত হয়ে উঠে। এই প্রথম বার এনি নিজ থেকে নিকের কাছে এসেছে। এনি পড়ে যেতে নিলে নিক হাত দিয়ে চেপে ধরে নিজের বুকের সাথে। পাঁচ মিনিট পর এনি ছেড়ে দিয়ে নিশ্বাস টানে। এরপর নিকের শার্টের বোতাম খুলার চেষ্টা করে। নিক হাত চেপে ধরে বলে,

” ব্যাথা পাবে অনেক , সহ্য করতে পারবে না। রাগের মাথায় আছি। আমার ছুঁয়া এমনিতেই রক্তাক্ত।
এনি শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে হেসে বলে,
” একদিন বলেছিলাম আপনাকে, আপনি রেগে গেলে নিজ দায়িত্বে সবটা সামলে নিব। এখন ব্যাথা পায় নাকি অন্য কিছু সেটা আমার ব্যাপার।
এনি বোতাম খুলে নিকের উন্মুক্ত বুকে চুমু খায়। ব্যাস, গ্যাংস্টার বসের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ধ্বাক্কা মেরে ফেলে দেয় ডিভানের উপরে। অর্ধেক খুলে রাখা শার্টটা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে। পর পর এনির দিকে ঝুঁকে এসে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় উন্মাদের মত। প্রথম নরম ছিলো সেই স্পর্শ। এরপর ধীরে ধীরে রুপ নেয় হিংস্রতা আর অবাধ্যতা। এনি সবটা দিয়ে সামলে নিতেও হিমশিম খেয়ে উঠে। গভীর, মায়াবী আর তীব্র এক ভালোবাসার চুম্বনে মেতে উঠলেন তারা। বাইরের সব কোলাহল, ক্ষমতা আর রক্তের খেলা থেকে দূরে। এই দূরত্বের নীরবতায় দুটো মন তখন একে অপরের মাঝে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। সামান্য দুরে দোলনায় শুয়ে আছেন তিনটা প্রান।

ভোরের আলোটা তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। আকাশের এক কোণে কেবল একটা হালকা রুপালি আর আবছা নীলের মিশ্রণ যা জানান দিচ্ছে রাত শেষ। জানালার বাইরে গাছপালাগুলো কুয়াশার চাদরে আধো-অন্ধকারে ঢাকা। চারপাশটা একদম নিঝুম। শুধু ভোরের পাখিদের প্রথম কিচিরমিচির শুরু হয়েছে মাত্র।
​ড্রয়িংরুমের মেঝেতে একটা নরম কুশন টেনে নিয়ে বসেছিল নাজলী। কোলের ওপর ল্যাপটপ আর হাতে মোবাইল। খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা কাজ করছিল সে। ভোরের এই শান্ত সময়টা সে নিজের কাজের জন্যই বেছে নেয়, কারণ তখন কোনো হুটোপুটি থাকে না।
​ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে ঘরের ভেতর একটা ভারী পায়ের শব্দ হয়। ​নাজলী মুখ তুলে তাকানোর আগেই, আচমকা ধপ করে একটা শব্দ করে ঠিক তার গা ঘেঁষে বসে পড়ল আরিশ। আকস্মিক ধাক্কায় নাজলীর হাত থেকে মোবাইলটা প্রায় পড়েই যাচ্ছিল।নাজলী রেগে তাকায় সেদিকে। ​আরিশের চুলগুলো তখনো উস্কোখুস্কো, চোখে ঘুমের ঘোর মাখা, কিন্তু তার চওড়া অবয়বটা দেখেই নাজলী চোখ সরিয়ে নেয়। এই লোক তাকে খুন করতে এসেছে। আরিশ নাজলীর রাগী চোখ উপেক্ষা করে কিছুটা অধিকার খাটানোর ভঙ্গিতে নিজের ভারী মাথাটা রেখে দিল নাজলীর কাঁধে।

​”এত সকালে কিসের এত কাজ?”
আরিশের গলাটা ঘুম-জড়ানো, কিছুটা গম্ভীর আর ভারী শোনাল। নাজলীর ইচ্ছে করছিলো এই মুখে কয়েক মিনিট ধরে চুমু খেতে। পুরুষ মানুষ এত সুন্দর হতে যাবে কেনো? নাজলী নিজের ইচ্ছেটাকে আটকে রেখে বলে,
” কাঁধ থেকে মাথা সরান।
” নিজের বউয়ের কাঁধে রেখেছি। তুমি নিজের কাজ করো।
নাজলী বিরক্ত হয়ে বলে,
” আপনি আমার কাছে থাকলে কাজ করতে পারব আমি? দুরে সরুন! নয়ত আগুনের ছ্যাঁকা দিব।
আরিশ মাথা তুলে কপাল কুচলায়। নিশ্বাস টেনে দাঁত পিষে বলে,
” ইডিয়েট! কখনো ভবিষ্যত অন্ধকার করতে চাও আবার কখনো আগুনের ছ্যাঁকা। দয়া – মায়া নেই?
” আপনার আছে?
” অবশ্যই।
নাজলী ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,

” এত দয়া – মায়া নিয়ে শত্রুদের এইভাবে পাশবিক নির্যাতন করেন। ইশ, আপনাদের চোখের পানিতে আরেকটা সমুদ্র তৈরি হয়ে যাচ্ছে। সরুন, হৃদয়হীন পুরুষ!
আরিশ গম্ভীর হয়ে উঠে। চুল ঠিক করে নিকের উদ্দেশ্যে বলে,
” আজ নিক এখনও উঠে নি। কাহিনী বুঝলাম না।
নাজলী উপরে একবার তাকিয়ে আরিশের দিকে তাকায়। একটা কথা বলার জন্য সে ছটফট করছে। কিন্তু লজ্জায় কিছুতেই বলতে পারছে না। হুট করে আরিশকে এত লজ্জা লাগছে কেনো নাজলী জানে না। তবুও গলা কেঁশে বলে,
” আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো?
আরিশ গম্ভীর গলায় বলে,
” অনৈতিক কিছু বলবে না রেগে যাব। কথা যদি হয় ইরান যাওয়া নিয়ে তবে নাজলী এখানেই থেমে যাও। আগের আরিশকে ভুলে যাও নি নিশ্চই। আমি খুব খারাপ। প্লিজ রাগিয়ে দিও না। বলো কি বলবে?
নাজলী ঠোঁট ভিজিয়ে শক্ত গলায় বলে,

” এখন আমরা দুইজন আছি আমাদের তিনজন হওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।
আরিশ ঠান্ডা গলায় বলে,
” ঠিক আছে। কাল বিয়ে করে আরেকটা বউ নিয়ে আসব।
নাজলীর লজ্জা ছুঁটে যায়। মস্তিষ্কে আগুন জ্বলে উঠে ধপ করে। ক্রোধে চেঁচিয়ে উঠে,
” কি বললেন আপনি? আরেকটা বউ নিয়ে আসবেন মানে?
আরিশ নাজলীর হাত চেপে ধরে বলে,
” তুমি নিজে এইতো বললে দুইজন থেকে তিনজন হওয়ার সময় হয়েছে।
নাজলীর ইচ্ছে করছিলো আরিশের গলা চেপে ধরতে। রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে,

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৬৯

” আর কোনোদিন যদি বাচ্চার কথা বলেছেন তবে সেদিন সত্যি সত্যি আপনার ভবিষ্যত কেটে হাতে ঝুলিয়ে দিব।
নাজলী রেগে ডিভান থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। আরিশ নাজলীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে। প্রেয়সীর পিছন – পিছন যাবে তার আগেই থেমে যায় অধিরাজের কথায়।
” স্যার নাভিদ এসেছে। আসতে দিব কি ভেতরে?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭০ (২)