লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (৪)
লিজা মনি
আরিশ চার ঘন্টা পর রুমে এসে হতভম্ভ! এইদিকে সবাই ডাকছে আর এই মেয়ে বিছানায় বসে ফোন টিপছে। বিছানার এক পাশে গাউনটা এখনও আগের মত পড়ে আছে। আরিশের মেজাজ তিক্ত হয়ে যায়। কপালের শিরা গুলো ফুলে উঠে আচমকা। নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে দরজায় ঘুষি মেরে রুমে দ্রুত পায়ে ডুকে। দরজায় আঘাত করার শব্দে নাজলী কপাল কুচকে তাকায় আরিশের রাগান্বিত মুখের দিকে। আরিশ নাজলীর এমন খামখেয়ালি আচরন দেখে আর ও বিগ্রে যায়। চোয়াল পিষে বলে,
” রেডি না হয়ে এইভাবে বসে আছো কেনো? বিয়ের ইচ্ছে নেই? না থাকলে আগে জানালে না কেনো? রাবিশ!
নাজলী ভ্রুঁ কুচকে তাকায়। ফর্সা মুখটা একদম লাল হয়ে গিয়েছে রাগে। নাজলীকে এমন তাকাতে দেখে আরিশ চোখ বন্ধ করে বড় – বড় নিশ্বাস টানে। কপাল ঘেঁষে বলে,
” তুমি নিজেও জানো না অজান্তে কতটা ব্যাথা দিয়েছো। বিয়ে করার ইচ্ছেটা আমার ছিলো। তাই রিজেক্ট করেছো তাই তো? ফাইন! করতে হবে না তোমাকে বিয়ে। জীবনের আর কোনো পরিস্থিতিতে আমাকে সঙ্গে পাবে না মনে রেখো।
নাজলী একই ভঙ্গিতে ভ্রুঁ নাচালো। সাধারন মেকি হেসে বলে,
” সামান্য এক কারনে সঙ্গ ছেড়ে দিচ্ছেন? আপনার ভালোবাসা এতটা ঠুনকো ছিলো জানা ছিলো না।
আরিশ আচমকা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে নাজলীর দুই বাহু। নাজলী তাল সামলাতে না পেরে দুই কদম পিছিয়ে যায়৷ আরিশ চোখে চোখ রেখে ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলে,
” তুমি আইডিয়া করতে পারছো নাজলী মাইলাহ, ক্রিমিনাল লিডার আরশ ইলহাম কোনো নারীকে বিয়ের প্রপোজাল দিয়েছে। তার জন্য সে অপেক্ষা করছিলো, কখন বউ সেজে ডাক দিবে। আর সে এসে কোলে করে নিচে নামবে। তোমার কি ইচ্ছে ছিলো জোর করব এসে? জোর জবর্দস্তির সম্পর্ক পিছনে ফেলে এসেছি। কি চাও সেই আগের পৈশাচিক সত্তাটাকে নাকি এখনকার সাধারন সত্তা?
আরিশের এমন রাগ দেখে নাজলী চোয়াল শক্ত করে ফেলে। আরিশের বুকে ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে বলে,
” দুটোই! একদম রাগ দেখাতে আসবেন না আমাকে। কথায় – কথায় ধমকাধমকি করলে মামলা ঠুকে দিতেও দশ মিনিট লাগবে না। আপনি সাদা গাউন দিয়েছেন কেনো আমাকে? আমি বলেছিলাম না লাল দেওয়ার জন্য? কেনো আনেন নি এইটা?
আরিশের মস্তিষ্কের টনক নড়ে। নাজলী রাতে ঘুমের মধ্যে বলেছিলো বিয়ের ড্রেস যাতে লাল হয়। নয়ত সে ড্রেস পড়বে না। এতক্ষণে আরিশের রাগটা ধপ করে নিভে যায়। অপরাধী চোখে তাকায় স্ত্রীর দিকে। নাজলী রাগে ফুঁসছে রিতীমত। আরিশ নাজলীর দিকে এগিয়ে যেতে – যেতে বলে,
” আরে বউ, রাগ করছো কেনো? ট্রাস্ট মি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। তুমি আমাকে একবার জানাতে পারতে নাজলী। এতক্ষণে নিয়ে চলে আসত।
নাজলী হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়। আরিশের প্যান্টের পকেটের দিকে ইশারা দিয়ে বলে,
” ফোন বের করুন?
” কেনো?
” আপনাকে বের করতে বলেছি আমি।
নাজলীর রাগান্বিত কন্ঠস্বর। আরিশ নাজলীর দিকে এক পলক তাকিয়ে পরে পকেট থেকে ফোন বের করে। নাজলী একইভাবে ইশারা দিয়ে বলে,
” এইবার কল লিস্টে যান দ্রুত।
আরিশ নাজলীর কথামত কল লিস্টে ডুকে। চল্লিশটা মিসডকল ভেসে উঠেছে একটা নাম্বার থেকে। যার নাম সেইভ করা ” রাগিনী ” দিয়ে। আরিশ ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” ট্রাস্ট মি বউ, ফোন সাইলেন্ট থাকার কারনে কোনো আওয়াজ পাচ্ছিলাম না।
” তাহলে এখনে অপরাধটা কার? আমার না আপনার?
আরিশ ভণিতা না করে বলে,
” আমার।
” তবে আমার সাথে এসে এমন রাগ দেখালেন কেনো? কিসের ভিত্তিতে রাগ দেখিয়েছেন? আমার অপরাধ কি ছিলো?
আরিশ ঠোঁট গোল করে শ্বাস টানে। এক নারী যে কত ভয়ানক সেটা সে পদে – পদে টের পাচ্ছে। এই মেয়েকে ছাড়া শ্বাস নিতে পারে না ঠিকভাবে। আবার এই মেয়েকে সামলাতে গিয়ে সে হিমশিম খেয়ে উঠে। আরিশ অপরাধ স্বীকার করে বলে,
” অপরাধ করেছি আমি। একদম উচিত হয় নি রাগ দেখানো। এখন কি করতে হবে আমাকে?
” ক্ষমা চান।
নাজলীর সোজাসাপ্টা উত্তর৷ আরিশ চট করে তাকায় নাজলীর দিকে। নাজলী ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” ইগোতে লাগছে বিবাহিতা স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে?পৌরষে আঘাত লাগছে খুব?
আরিশ নাজলীর কোমড়টা চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসে। গালে – কপালে চুমু খায় অনেকগুলো। নাজলী ভাঙ্গা গলায় বলে,
” ছুঁবেন না আমাকে। আমার থেকে দুরে যান আপনি৷ থাপ্পরটা দরজায় নয় আমার গালে দিয়েছেন।
” অপরাধ যদি তোমার ক্ষেত্রে হয় তবে আমি আরিশ ইলহাম সহস্রবার ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।আই’ম সরি, ওয়াইফি। আই মেড আ হিউজ মিস্টেইক। কুড ইউ প্লিজ ফরগিভ মি? তোমাকে এমন বসে থাকতে দেখে মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলাম। জানো’ইতো রাগ বেশি। তুমি সামলে না নিলে কে সামলাবে?
নাজলীর ঠোঁট ভেঙে আসে। নীরব কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীর বুকে। আরিশ বাঁকা আসলো নাজলীর মাথায় হাত রেখে৷ হুট করে রমণীর চিবুক উঁচু করে তুলে ধরে। নাজলী চোখের পাতা নাড়াতে পারে নি। তার আগেই হামলে পড়ে গোলাপি ওষ্ঠের উপর। পিঠ গলিয়ে পিছন দিকে ঘাড় চেপে ধরে নিজের সাথে আরও মিশিয়ে নেয়। নাজলী একদম ছটফট করে নি আজ। ব্যক্তিগত পুরুষের ছোঁয়া পেতেই মেয়েটা নেতিয়ে পড়ে। প্রথমবারের মত তাল মেলাতে থাকে সেই স্পর্শে। নাজলীর রেসপন্স পেয়ে আরিশ লাগামছাড়া হয়ে পড়ে। জামা ভেদ করে তার অবাধ্য হাতের রক্তাক্ত বিচরণ চলতে থাকে। নাজলী শক্তভাবে খামছে ধরে আরিশের ব্লেজারের এক অংশ। আরিশের স্পর্শ উগ্র হয়ে উঠছে মুহুর্তেই। চুমুতে দন্তের স্পর্শে বসে যাচ্ছে ঠোঁট, গলায় – বুকে। নাজলীর হুশ ফিরে আসে মুহূর্তেই। আরিশ জামা খুলার জন্য টান দিতেই নাজলী শক্ত ভাবে চেপে ধরে। আরিশ রুক্ষতা নিয়ে এক প্রকার খুলে ফেলে উপরের জামাটা। নাজলীর শরীর শিরশির করে উঠে। এই মুহূর্তে আটকানো দরকার এই উন্মাদকে। নাজলী আরিশের পেটে ধ্বাক্কা দিয়ে সরাতে – সরাতে বলে,
” কি করছো তুমি? হুঁশ – জ্ঞান কোথায় তোমার আরিশ? ছাড়ো আমাকে।
আরিশ ছাড়লো না কিছুতেই। নাজলীর কোনো বারন এই কানে ডুকছে না। কেমন যেন অন্য জগতে চলে গিয়েছে। নাজলী এইবার রাগ দেখায় কিছুটা।
” তুমি না ছাড়লো সত্যি বলছি খুন করে ফেলব।
আরিশ বিরক্ত গলায় বলে,
” উমম… ডোন্ট ডিস্ট্রাব!
” বাবুর ক্ষতি হবে। তাছাড়া বাহিরে সবাই অপেক্ষা করছে।
বাবুর কথা মনে হতেই আরিশ গলা থেকে মুখ তুলে তাকায় নাজলীর দিকে। নাজলীর চোখে পানি চিকচিক করছে। ছিটকে সরে যায় সে। চুলগুলো পাগলের মত খাঁমছে ধরে পর পর কয়েকটা ঢোক গিলে। হাত বাড়িয়ে নাজলীকে বলে,
” পানি দাও।
নাজলী আহাম্মকের দিকে তাকায় আরিশের বাড়ানো হাত দেখে। কতটা অধিকার মিশে আছে এই আদেশে জানা নেই৷ তবে নাজলীর শরীরে এক অদ্ভুত শীতল বাতাস বয়ে যায়। নিজেকে স্বাভাবিক হয়ে গ্লাস ভর্তি পানি এগিয়ে দেয়। আরিশ গ্লাসটা নিয়ে পুরোটা পানি ঢক ঢক করে গিলে ফেলে। বড় – বড় শ্বাস টেনে চোখ -মুখ খিঁচে বিরবিরায়,
” অহহ গড! কি করতে যাচ্ছিলাম।
পর মুহূর্তে চেয়ার থেকে উঠে নাজলীর কাছে যায়। নিজের রুমাল দিয়ে নাজলীর চোখ – ঠোঁট মুছে দিয়ে বলে,
” তোমার উচিত হয় নি রেসপন্স করা। শরীরে কাপড় জড়িয়ে নাও। এমনিতেই নাস্তানাবুদ অবস্থায় আছি। আর কিছুক্ষণ থাকলে মরণ নিশ্চিত করে ফেলবে।
নাজলী লজ্জায় দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলে। শরীরে সাধারন একটা চাঁদর জড়াতে – জড়াতে বিছানায় বসে পড়ে। আরিশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে কাউকে একটা মেসেজ পাঠায়৷ মেসেজ পাঠানোর প্রায় চল্লিশ মিনিট পড় বড় একটা বক্স আসে রুমের মধ্যে। নাজলী কৌতূহল নিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে। আরিশ লক্ষ্য করে বলে,
” কি এক মেয়ে বিয়ে করছি ভাই আমি। বিয়ের কাপড় পছন্দ হয় নি বলে বিয়ের আসরে এই যায় নি।
নাজলী রেগে বাঁলিশ ছুঁরে মেরে বলে,
” দোষ আপনার, আমার নয়। আপনাকে বলার পর ও কেনো লালের পরিবর্তনে সাদা নিয়ে আসলেন? আমি বিধবা? জামাই মরে গিয়েছে আমার? সাদা পড়তে যাব কেনো আমি? সপ্ন ছিলো লাল কালার পড়ব। আর আজ যেহেতু সুযোগ পেয়েছি তাই মরে গেলেও অন্য কালার পড়ব না।
আরিশ চুল ঠিক করে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” একটা লাল ইনার পড়লেই তো ইচ্ছে পূরণ হয়ে যেত। উপরে না হয় সাদা পড়ে নিতে।
নাজলী কটমট চোখে তাকায়। হাতে থাকা আরেকটা বালিশ ছুঁরে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” রুম থেকে বের হন অসভ্য লোক!
ইরানের বিস্তৃত দিগন্তে এক অনাস্বাদিত আভিজাত্যের দ্যুতি ছড়িয়ে আয়োজিত হয়েছে অপরাধজগতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অধিপতির শুভ পরিণয় অনুষ্ঠান। ইরানের এক সুবিশাল ও রাজকীয় ডুপ্লেক্স প্রাসাদের সুবিস্তৃত প্রাঙ্গণজুড়ে এই রাজকীয় আয়োজন। গ্যাংস্টারদের চিরচেনা অন্ধকার বা কৃষ্ণবর্ণের কোনো অস্তিত্ব এখানে নেই। সমগ্র প্রাঙ্গণটি যেন পরিণত হয়েছে শুভ্রতায়। যেখানে মাঝে মাঝে শোভা পাচ্ছে এনির প্রিয় নীলের স্নিগ্ধ ছোঁয়া।
বিশাল প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণে বসানো হয়েছে শ্বেত রেশমি প্রচ্ছদে আবৃত রাজকীয় সোফা আর স্বচ্ছ ক্রিস্টালের টেবিল। প্রতিটি টেবিলের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে স্ফটিকের জলধারক পাত্র। যেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে নীল ফুল আর শুভ্র মোমবাতির শান্ত শিখা।কোন অন্ধকার বা কালচে রঙের আসবাবপত্র এখানে স্থান পায়নি। চেয়ারের খুঁটি থেকে শুরু করে পানীয়ের গ্লাস পর্যন্ত সবকিছুতেই রয়েছে শুভ্রতা ও কাচের স্বচ্ছতা।
প্রাঙ্গণের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মূল বিবাহ মঞ্চটি নির্মিত হয়েছে এক উচ্চ মার্বেল পাথরের বেদির ওপর। মঞ্চের চারপাশ থেকে ছাদ পর্যন্ত টাঙানো হয়েছে রেশমি সাদা ছাদ-চাঁদোয়া। এখান থেকে ঝালরের মতো নিচে নেমে এসেছে হাজারো নীলের উইস্টেরিয়া আর সাদা অর্কিডের লতা। মঞ্চের ঠিক ওপরে ঝুলছে সুবিশাল ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি। সমগ্র প্রাঙ্গণে একদিকে যেমন রয়েছে ভূগর্ভস্থ সম্রাটের কঠোর নিরাপত্তার সুদৃঢ় বলয়, অন্যদিকে আবহজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ধ্রুপদী ইরানি সুরের সুকোমল মূর্ছনা।
শুভ্র মার্বেল বেদির ওপর তৈরি মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং অধিপতি আন্ডারগ্রাউন্ড টেরোরিস্ট আর তার এনি। এনিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসা কোনো এক রূপকথার রাজকন্যা। এনির শরীরে জড়ানো ছিল এক অপূর্ব সাদা গাউন, যার প্রতিটা ইঞ্চি নিখুঁত দক্ষতায় সাজানো। গাউনের প্রতিটি রত্নপাথর খাঁটি মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করছিল। আর সেই পাথরের আনাচে-কানাচে লেগে থাকা হিরের টুকরোগুলো আলোর ছোঁয়ায় ঝলমল করছিলো।
এনির সোনালী কেশের বিন্যাস আর সমুদ্রের ন্যায় নীল অক্ষিজোড়া—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সাদা গাউন পরা এনিকে এক ভুবনমোহিনী রূপসীর ন্যায় দেখাচ্ছিল। এনির একদম ইচ্ছে ছিল না এই পোশাকের সাথে কোনো অতিরিক্ত ওড়না পরিধান করার। কিন্তু নিকের চোখ রাঙানিতে পড়তে বাধ্য হয়। স্বামীর হিংসাকে প্রাধান্য দিয়ে গাউনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সূক্ষ্ম ওড়না সে স্বীয় বক্ষের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে নেয়।
নিক দাঁড়িয়ে থেকে ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে নিজের। যার ইশারায় সমগ্র অপরাধজগৎ কম্পিত হয়, সেই গ্যাংস্টার বস নিক আজ সম্পূর্ণ পরাস্ত তার অর্ধাঙ্গিনীর এই অপরূপ সৌন্দর্যের সম্মুখে। নিক কুণ্ঠাবোধ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল এনির দিকে না তাকানোর, কিন্তু তার অবাধ্য আঁখি দুটি বারবার গিয়ে নিপতিত হচ্ছে স্ত্রীর মায়াবী অবয়বে। যতবারই সে এনির দিকে অবলোকন করছে , ততবারই সুষ্ক ঠোঁট দুটিকে জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছে। চারপাশ থেকে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নিকের ললাট বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে পড়তে থাকে। নিজের ভেতরের এই অপ্রত্যাশিত ব্যাকুলতা সামাল দিতে না পেরে পরিশেষে গলদেশের টাইয়ের বাঁধনটি হাত দিয়ে টেনে খানিকটা আলগা করে নেয়।
নিকের এমন নাস্তানাবুদ অবস্থা দেখে এনি ঠোঁট চেপে হাসে। পরম পরাক্রমশালী অধিপতি আজ সজ্ঞানেই বন্দি স্ত্রীর রূপের বন্ধনে। নিককে ইচ্ছে করে খুঁচা মেরে বলে,
” হুট করে এইভাবে ঘামছেন কেনো?
নিক টিস্যু দিয়ে কপাল মুছে আওড়ায়,
” ফা*ক ইউ বেবিগার্ল ! ইউ’র গোয়িং টু কিল মি। আই’ম সাফোকেটিং।
এনি চোয়াল পিষে বিরবির করে উঠে,
” শালা কন্ট্রোলল্যাস! শান্তি নেই এই জীবনে। আল্লাহ এই চিতাবাঘ থেকে মাঝে মাঝে রক্ষা করে নিও !
বিরবির করতে করতে নিজের অস্তিত দুইজনের দিকে তাকায়। এরিক রিদ্ধিমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। এরিকের শরীরে সাদা ব্লেজার আর সাদা প্যান্ট। তানভীর কোলে থাকা নিভ্রিতা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে সামনে বসে থাকা বাবা – মায়ের দিকে। এনির সাথে ম্যাচিং করে সেইম ড্রেস পড়ানো হয়েছে তাকে। যদিও প্রথমবার রাজি হয় নি নিক। মেয়ে এইসব পড়লে নাজুক শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে৷ পরবর্তীতে নিজেই মত পরিবর্তন করে মেয়ের জন্য বানিয়ে নিয়ে আসে। তানভীর শরীরে
তানভীর আর রিদ্ধিমার শরীরে স্যাটিন আর অরগ্যাঞ্জা ফেব্রিকের হাই-নেক ফুল-হাতা বল গাউন। এনির মনটা খঁচ-খঁচ করে উঠে বাচ্চাদের জন্য। বিশ মিনিট ধরে তার কলিজার টুকরো গুলো অন্য জনের কোলে বসে আছে। নিক ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রিদ্ধিমা আর তানভীকে আসতে বলে এইদিকে। নিকের কথামত বাচ্চাদের নিয়ে যায়। নিক দুই হাতের সাহায্যে কোলে তুলে নেয় নিজের অস্তিত্বদের। জন্মদাতার শরীরের স্পর্শ পেতেই নিভ্রিতা হেসে শব্দ করে উঠে,
” আউউ… ইউউউ!
এরিক ঘুমে এখনও টাল হয়ে আছে। দুইটা দিন ধরে নাক টিপটিপ করছিলো। তাই মেডিসিন খাইয়েছিলো একটু। এতেই নবাব ঘুমে বুদ হয়ে থাকে সারাক্ষণ। নিক ছেলে- মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে এনির দিকে তাকিয়ে বলে,
” ওদের ব্রেস্ট ফিডিং করিয়েছিলে?
এনি ঠোঁট ভেজায় সামান্য। আড়চোখে তাকিয়ে থেমে – থেমে বলে,,
” খাওয়াতে একটুও মনে ছিলো না। আলাদা ফিডার খাইয়েছে।
নিক শীতল চোখে তাকায় অর্ধাঙ্গীনির দিকে। এনি চোখ-মুখ খিঁচে রেখেছিলো এই বুঝি একটা ধমক দিবে। এমন একটা আনন্দদায়ক মুহূর্তে ধমক দিলে সে কেঁদে ফেলবে তার কোনো সন্দেহ নেই।
” ওকে! একটু পরে খাইয়ে দিও। নয়ত তৃষ্ণা মিটবে না।
এনি চট করে তাকায়। ধমক দেওয়ার পরিবর্তে এমন শীতল কন্ঠ শুনে অবাক হয় প্রচুর। নিকের দুই উড়ুর উপর দুইজন বসে আছে। এর থেকে সুন্দর দৃশ্য পৃথিবীতে আর একটাও নেই এনির কাছে। এই জগতের খারাপ মানুষ পাওয়া যাবে কিন্তু খারাপ বাবা নেই। এনি আনমনে বলে,
” আপনি বাবা হিসেবে বেস্ট নিক। কল্পনাও করিনি আপনি কখনো বাচ্চাদের আগলে নিবেন। ভাবিনি এই হিংস্র হৃদয়ে তাদের জন্য মায়া জন্মাবে। আমার জীবনের সব থেকে বড় সারপ্রাইজ সেদিন ছিলো যেদিন আপনার মনে বাচ্চাদের নিয়ে ভালোবাসা দেখেছিলাম। এই জীবনে আর কিছুর চাওয়া নেই।
নিক ভ্রুঁ কুচকে তাকালো অর্ধাঙ্গিনীর দিকে,
” বাচ্চাগুলো মনে হয় রাস্তা থেকে কুঁড়িয়ে এনেছিলে?
” মানে?
” ভালোবাসায় প্রশ্ন তুলছো? নিজের রক্তকে ভালোবেসেছি অন্যের রক্তকে নয়।
এনি আহাম্মকের মত তাকিয়ে বলে,
” আমি কখন তুললাম প্রশ্ন? এত দ্রুত অতীত ভুলে গেলেন? অতীত আর বর্তমান আপনির মধ্যে ভীষণ অমিল। আমি সামান্য মিল ও খুঁজে পায় না।
” যেমন?
নিকের শান্ত কন্ঠস্বর। উত্তরের আশায় তাকিয়ে আছে। এনি সামান্য হেসে বলে,
” আজকের দিনটা অনুভব করেন নিক। চারদিকে শতজন মানুষ। আর সেই মানুষের ভীরে আমি বসে আছি। বিগত তিন বছর পর আমি মানুষের ভীরে এসেছি। আপনার জেলাসির পরিমান এত ছিলো যে বাহিরে পর্যন্ত বের হতে দেন নি। আর আজ নিজের হাতে ধরে এই মানুষের ভীরে নিয়ে আসলেন।
” আর?
” আগের মত কঠোর আর হিংস্র চোখ দিয়ে তাকান না। এই চোখে আজকাল কোমলতা থাকে। চাওয়া – পাওয়া থাকে, স্নেহ – আবদার থাকে। যা আগের আপনির মধ্যে ছিলো না। আপনি ভয়ানক নিক, প্রচন্ড ভয়ানক!
” আর?
” আপনাকে দেখলে আগে ভয়ে আত্না শুকিয়ে আসত। আপনার এক- একটা পদক্ষেপ হৃৎপিন্ড শুকিয়ে ফেলত। কিন্তু….
এনি থেমে যায়। নিকের কপালের ভাঁজ শিথিল হয়ে উঠে। ছটফট গলায় বলে,
“থেমে গেলো কেনো? ভয় পাও আমাকে এখনও? সবাই বলে তুমি আমাকে ভয় পাও। আরিশ বলে তুমি শুধুমাত্র ভয় থেকে আমার সাথে সংসার করছো। তোমার বোন বলে আমার জন্য তুমি নাভিদকে পাও নি। নাভিদ বলেছে একমাত্র ভয়ের জন্য তুমি আমার সাথে আছো নয়ত ওর কাছে চলে যেতে। শুধু একবার বলো তুমি আমাকে ভয় পাও না এখন।
এনি চোখে- চোখ রেখে হেসে বলে,
” একটুও ভয় পাই না এখন। ভয় থেকে সংসার করলে আপনার সন্তানের মা আমি আনাস্তাসিয়া এনি কখনো হতাম না নিক জেভরান।ভালোবাসি আপনাকে। আর এই ভালোবাসা কবর অব্দি যাবে।
নিক আটকে রাখা শ্বাসটা ছাড়লো এতক্ষণে। এক হাতের সাহায্যে এনির কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। এনি হতভম্ভের মত চেঁচিয়ে উঠে,
” আরেহ! সবার সামনে কি করছেন এইসব?
নিক এনির চেঁচিয়ে উঠাতে বিরক্ত হয়। শাস্তিস্বরুপ আচমকা চুমু খেয়ে বসে অধরে। এনি বরফের মত জমে যায়। লজ্জায় আর মাথা তুলে তাকানোর সাহস নেই তার। মাকে দেখে ছেলে ছটফট শুরু করে দিয়েছে। এনি মাথা নিচু করেই ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে চোখ-মুখ খিঁচে বসে থাকে।
নিকের এমন কাজে রিদ্ধিমা চোখ দুই হাত দিয়ে বন্ধ করে ফেলে। যদিও ফাঁক দিয়ে সব দেখা যাচ্ছে। অধিরাজ তানভীর কানে – কানে বলে,
” দেখলে আমার বস কত রোমান্টিক?
তানভী হুঁশে এসে বলে,
” তোমার বসকে আমি ভালো ভেবেছিলাম অধিরাজ।
আচমকা কাঁশি উঠে যায় অধিরাজের। স্বামীর এমন করুণ অবস্থা দেখে টেবিল থেকে দ্রুত পানির বোতল এগিয়ে নিয়ে যায়। অধিরাজ পানিটা খেয়ে আহত গলায় বলে,
” কি বললে তুমি? বস কি?
তানভী অবাক হয়ে বলে,
” আমি ভালো বলেছি। আই মিন জেন্টাল! এইভাবে রিয়্যাক্ট করার কি আছে?
অধিরাজ স্ত্রীর কথায় শ্বাস ফেলে বলে,
” জেন্টাল! তাও আবার গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান! এই কথা শুনার পর তোমার স্বামী যে শ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যায় নি শুক্রিয়া করো তানভী। তুমি বসের কাহিনী জানলে এই মুহূর্তে দশ লিটার পানি খাবে। এই ব্যক্তি প্রথম রাতে বউ অজ্ঞান করার রেকর্ড করেছে। এমনকি সে জানত তার বউ অজ্ঞান হয়ে যাবে। তাই আমাকে আর আরিশ স্যারকে সারা রাত সজাগ রেখেছে। আরও শুনলে অবাক হবে যে মিনারের নিচে সারারাত ডাক্তার বসে ছিলো। যাতে সাথে- সাথে চিকিৎসা দিতে পারে। জেন্টাল! হুহহহহহ! বনের চিতাবাঘকেও হার মানাবে।
তানভীর কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। হা করে তাকায় নিকের দিকে। এমন গম্ভীর – হিংস্র লোক ও এমন হয়! অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” অ.. অজ্ঞান করে ফেলেছিলো? কি বলো এইসব?
অধিরাজ হেসে বলে,
” বনের চিতাবাঘকে হার মানাবে বুঝো নি?
তানভী মাথায় হাত দিয়ে হতাশ গলায় বলে,
” আর তোমার বসকে নিয়ে এত দিন যে প্রশংসা করেছি সব জলে গেলো তাহলে? তাই তো বলি তুমি এত নির্লজ্জ আর বেলাজ কেনো!
” অবশ্যই! তুমি বার – বার বলতে বসের থেকে যাতে লজ্জা শিখে যায়। কিন্তু লজ্জা শিখতে এসে নির্লজ্জতা ছাড়া কিছুই পায় নি।
তানভী ভোঁতা মুখে বলে,
” আমি জানলে কখনো বলতাম না। ছিহহহ! যেমন গুরু তেমন শীর্ষ!
অধিরাজ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। চারপাশে ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছে সবাই। আরিশ, নাজলীকে কোলে নিয়ে এগিয়ে আসে গন্তব্যে। নাজলী লজ্জায় আরিশের বুকে ল্যাপ্টে আছে। তানভী – রিদ্ধিমা ফুলের ছিঁটা দিচ্ছে আর হাসছে। নাজলীকে স্থানে বসিয়ে কানে – কানে বলে,
” আমার বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরে আমাকেই লজ্জা পাচ্ছো? তোমার লজ্জাটা বাজেটের বাহিরে হয়ে গেলো না?
নাজলী দুপট্টা টেনে চোখ রাঙ্গিয়ে শাষায় আরিশকে। এনি আর নাজলী একে – অপরের দিকে তাকায়। এনি চোখ দিয়ে ইশারা করে,
” অনেক সুন্দর লাগছে।
নাজলী মুচকি হেসে ফিরিয়ে দেয় সেই কথা। দুই বোনের ইশারায় কথা চলে কতক্ষণ! এনিকে দেখে এমন মনে হচ্ছিলো যেন খাঁচায় বন্দী পাখি এই মাত্র মুক্তি পেয়েছে।
কাজি এসে হাজির হয়। কাজি নিককে দেখে শুকনো ঢোক গিলে। এইটা সেই কাজি যাকে আরিশ আর অধিরাজ মিলে কিডন্যাপ করে এনেছিলো। প্রথমবারের মত নিক আর এনির বিয়ে পড়িয়েছিলো। ওইদিনের পর থেকে ভদ্র লোক আর ওদের সামনে পড়ে নি। আজ আবার অধিরাজ খুঁজে ধরে নিয়ে এসেছে। কাজি আড়চোখে তাকায় এনির দিকে৷ এই বিয়ে যে টিকে আছে এইটা ভেবে অবাক হয়। কতটা কষ্ট দিয়ে মেয়েটাকে বিয়ে করেছিলো। অপরিচিত হয়েও তাকে কাঁদিয়েছিলো সেই মর্মান্তিক দৃশ্যে। আরিশ ঠিকভাবে বসে কাজির উদ্দেশ্যে বলে,
” আজ শাওয়ার নিয়ে এসেছেন তো?
কাজি লজ্জায় থতমত খেয়ে যায়। গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
” বউ টিকে নি। চলে গিয়েছে দেড় বছর চলে।
আরিশ চোখ ছোট – ছোট করে তাকিয়ে বলে,
” বউ কি খুশি ছিলো না? নাকি খুশি করতে পারতেন না?
আরিশের কথার অর্থ বুঝে কাজি কাঁদো- কাঁদো চোখে তাকিয়ে থাকে নিচের দিকে। নাজলী হাত দিয়ে উড়ুর উপর থাপ্পর মেরে বলে,
” নির্লজ্জ! গুরুজন উনি অনেক। কিসব কথা বলছেন?
আরিশ শব্দ করে হেসে বলে,
” তুমি বুঝবে না প্রিয়তমা! বিয়ে পড়ানো শুরু করুন।
কাজি বগলের নিচ থেকে একটা ফাইল বের করে সামনে রাখে। সমস্ত নিয়ম – কানুন মেনে নিকের উদ্দেশ্যে বলে কবুল বলার জন্য। এনির শরীর কাঁপছে। সে অনুভব করছে লোকটা তার দিকেই তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে। হাঁশ- ফাঁশ করে তাকায় নিকের দিকে। নিক যেন এই তাকানোটাই অপেক্ষা করছিলো। এক মুহূর্তে দেরী না করে বলে,
” কবুল , কবুল, মৃত্যুর পর পর্যন্ত ও কবুল!”
চারপাশ এতক্ষন থমকে ছিলো। নিকের কবুল বলার পর চারদিকে গুঞ্জন শুরু হয়। অত:পর আরও একবার, নারী জাতিকে ঘৃণা করা এক আন্ডারগ্রাউন্ড টেরোরিস্ট পবিত্র তিন শব্দে আবদ্ব হয়ে গেলেন।
এনির শরীর শিরশির করে উঠলো আবার ও। বিয়ের অনুভুতি কেমন হয় সেটা সে জানত না। মনে হচ্ছে কোনো এক নববধূ প্রথমবারের মত বিয়ের স্বাদ গ্রহন করছে। এনিকে চুপ থাকতে দেখে নিক তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়। ধূসর বাদামী চোখ আর সমুদ্রের ন্যায় নীল চোখের মিলন ঘটে মুহূর্তেই। এনির চোখে পানি টলমল করছে। এই সুখ তার কপালে সইবে তো! এনি ভয়টাকে দুরে সরিয়ে চোখে – চোখ রেখে মুচকি হেসে বলে,
” একজন ভিলেনকে কবুল, তার সব ধরনের পাগলামিকে কবুল, তার ভেতরের ভয়ানক সত্তাটাকে কবুল!
পর মুহুর্তে ভেসে আসলো আরিশের কন্ঠস্বর ,
” কবুল করে নিচ্ছি আমার ঘরের জঙলীকে। কবুল আমার অনাগত সন্তানের মাকে। কবুল আমার হৃদয়হরণীকে।
নাজলী লাজুক হেসে চোখে – চোখ রাখে,
” কবুল আমার ঘরের দুশমনকে। কবুল আমার অনাগত সন্তানের বাবাকে। কবুল আমার ঝগড়ার সঙ্গীকে!
আলহামদুলিল্লাহ বলে চারজনের হাত একে – অপরের সাথে আজীবনের জন্য আবদ্ধ হয়ে যায়।চারপাশ থেকে হাততালির শব্দে মুখরিত। আরিশ বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে।
এনি আরিশদের দিকে তাকিয়ে আড়চোখে নিকের দিকে তাকায়। তাদের জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে দেখে মনের ভেতরটা লাফাচ্ছে। এই লোক কেনো তাকে আগলে নিচ্ছে না? অভিমানে ছেলের মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে সামনে তাকায়। আর কোনোদিন জড়িয়ে ধরতে আসুক সোজা ছুঁরি ডুকিয়ে দিবে পেটে! এমন একটা মোমেন্টে কেমন ভাব নিয়ে বসে আছে। নিক ফোনে কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে ঘাটাঘাটি করলো। আচমকা দাড়িয়ে যায় বসা থেকে। সবার নজর পড়ে গ্যাংস্টার বসের উপরে। রিদ্ধিমা আর তানভীর কাছে বাচ্চাদের দিয়ে হুট করে এনিকে পাজা কোলে তুলে নেয়। এরিক আর নিভ্রিতা তাকিয়ে আছে বাবা – মায়ের দিকে। পেটে ক্ষুধা না থাকার কারনে কান্নার রেশ মাত্র ও নেই। সবার সামনে কোলে নেওয়াতে এনি কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে।
কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে নিক গম্ভীর গলায় বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (৩)
” বাচ্চাদের সামলে রেখো। বাচ্চার বাবা- মায়ের প্রাইভেসির প্রয়োজন।
কথাটা বলে নিক আর এক মুহূর্তেও দাঁড়ায় নি। সবার সামনে দিয়ে বড় – বড় পা ফেলে গাড়ির দিকে চলে যায়। এনি প্রথমে লজ্জা পেলেও এখন মিশে থাকে এই শক্ত বক্ষে। আরিশ নিকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” শালা! যখন নিজেই লুতুপুতু করবি তখন বাপ হতে গিয়েছিলি কেন?
