Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (৩)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (৩)

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (৩)
লিজা মনি

সময়ের চাকা এক অদৃশ্য নিয়তিতে আবর্তিত হচ্ছে। যার বেগ কোনো বাঁধনে ধরা পড়ে না। জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রহরগুলো এভাবেই অলক্ষ্যে, চোখের পলকে মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সুদূর প্রবাসের গণ্ডি পেরিয়ে, তিনটি যুগল আজ পাঁচদিন হলো ইরানের বুকে পদার্পণ করেছে।
​এতগুলো বছর পর নিজের আপন জন্মভূমিতে ফিরে এসে নাজলী আর এনি অদ্ভুত অবশতায় আচ্ছন্ন। হৃদয়ের গভীরে উদ্বেলিত আবেগের যে ফল্গুধারা বহমান, তাকে ভাষায় রূপান্তর করার মতো কোনো যথোপযুক্ত মাধ্যম তারা খুঁজে পাচ্ছে না। এক স্তব্ধতা তাদের গ্রাস করেছে। এইদিকে তানভী এই প্রথমবার ইরানের ভূমি স্পর্শ করে পরম আহ্লাদে ও কৌতূহলে প্রতিটি মুহূর্তকে নিজের করে নিচ্ছে। নাজলীর গর্ভকাল এখন সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে। মাতৃত্বের এই সময়ে আরও নাজুক হয়ে পড়ছে।
আজ বোধবার! ধরণীর বুকে রজনীর শেষাবশেষ বিরাজমান। কিছুক্ষণ পর পূর্বাকাশে উষার প্রথম আলোকরশ্মি প্রস্ফুটিত হলো। প্রকৃতির নিয়মে চারপাশের তিমিরঘন অন্ধকার ভেদ করে এক অলৌকিক জ্যোতির সঞ্চার ঘটছে।

​একটি নিভৃত ডুপ্লেক্স প্রাসাদের সুসজ্জিত কক্ষের অভ্যন্তরে তখন পরম শান্তিতে নিদ্রামগ্ন হয়ে আছে আন্ডারওয়ার্ল্ড টেরোরিস্টের সমগ্র অস্তিত্ব। তার জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ সম্পদ, তার তিনটি জগৎ। কক্ষের বাতায়নে ঝুলন্ত হালকা পর্দার সুক্ষ্ম বসনগুলো ভোরের স্নিগ্ধ সমীরণের হিল্লোলে অলস ভঙ্গিতে দুলছে। নিক জিম শেষ করে মাত্র শাওয়ার নিয়েছে।শরীরে একটা কালো ট্রাওজার, টি শার্ট! বিছানার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় গ্যাংস্টার বসের । কলিজায় যেন কেউ খামছে দিয়ে ধরে রেখেছে। এই দৃশ্য দেখাটা কি তার প্রাপ্য ছিলো? এত পাপের পরও এত
সুন্দর দৃশ্যের সাক্ষী তাকে কেনো করা হলো? তার মত একজন পাপীষ্ঠের ঘরে এই জান্নাতের ফুল কেনো পাঠালো? ক্রিমিনালের রক্ত এমন নিষ্পাপ কেনো খোদা!
নিক আবার ও তাকালো নিজের অংশদের দিকে। এরিক এক পাশে ঘুমে বুদ হয়ে আছে। অন্যদিকে নীর মায়ের বুকের সাথে মিশে আছে। মা – মেয়ে দুজন এই ঘুম। তবে মেয়েটা ঘুমের মধ্যেই খেয়ে চলছে তা শব্দ শুনলেই বুঝা যাচ্ছে। নিক চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিলো কিছুক্ষণ। গম্ভীর পায়ে এগিয়ে যায় নিজের পৃথিবীর কাছে। এনির ঘাড়টা ঠিক করে দিয়ে সোজা করে শুইয়ে দেয়। চুলগুলো মুখের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলে,

” আমার ঘুমকাতুর মহারানী দ্রুত উঠে পড়ুন! গেট আপ কুইকলি, ব্লাডরোজ!
এনি কিছুটা নড়েচড়ে উঠে। বিরক্তিমাখা কন্ঠে শুধায়,
” উমম! সরুন।
নিকের কপালে ভাঁজ পড়ে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আবার ও বাচ্চাদের দিকে তাকায়। গম্ভীর শ্বাস ফেলে জানালার পর্দা গুলো সরিয়ে দেয়৷ চোখের উপরে আলো পড়তেই এনি রেগে যায়। ঘুমটা পুরোপুরি ছুঁটে যায় তার। নিকের এমন খামখেয়ালি আচরন দেখে রাগী গলায় বলে,
” সমস্যা কি আপনাদের? অর্ধেক রাত পারি না বাপের জন্য ঘুমাতে আর অর্ধেক রাত পারি না তার প্রোডাক্টদের জন্য ঘুমাতে। কিসের শাস্তি দিচ্ছেন আপনারা আমাকে? উফফ!
এনি কথাগুলো বলতে -বলতে উঠে বসে পড়ে। নিকের কপালে ভাঁজ পড়ে অনেকগুলো। এনি চুলগুলো ঠিক করে সামনে থাকাতেই ঘাবড়ে যায়। নিক একদম তার দিকে ঝুঁকে আছে। ভ্রুঁ নাড়িয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে,

” রাতে ঘুমাতে পারো না?
এনির বিরক্তির রেশ খানিকটা কমে যায়। নিকের এমন অদ্ভুত চাহনি দেখে দাঁতে – দাঁত পিষে,
” ঘুমাতে দেন আমাকে?
” কি করি আমি?
এনি থতমত খেয়ে তাকায় নিকের দিকে৷ কতটা খারাপ এই লোক! এনি, নিককে সরিয়ে দিয়ে বলে,
” আপনি জানেন না আপনি কি করেন?
নিক একদম গম্ভীর ভাব নিয়ে বলে,
” আমি কি করি জান? আমি তো কিছুই করি না। বাচ্চারা ঘুমে আছে। চলো পাশের রুম থেকে সফর করে আসি। ঘাম ঝড়ার মত ক্রিকেট ম্যাচ খেলে আসি কিছুক্ষণ!
এনি রাগী চোখে তাকায়। শরীর ব্যাথা করছে এখনও। নিকের বাহুতে ঘুষি মেরে বলে,
” আপনি এত নির্লজ্জ আর অশ্লীল কেনো?
” অশ্লীলতা কি করলাম? তোমার দিকে তো কখনো বাজে নজরে তাকায় নি। ইভেন আমি কখনো কাউকে রাতে ও টানিনি। কাল রাতেও সিঁড়ির মধ্যে কিছু ঘটে নি।একদম ভার্জিন আমি!
লজ্জায় এনির মুখের রং পাল্টে যায়। রাতের ঘটনা মনে হতেই ভেতরের অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এই লোকের সাথে আর থাকা যাবে না। নিকের এই সাধু ভাবটা শরীরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে৷ এনি লজ্জাটাকে আড়াল করে ঠোঁট চেপে হেসে বলে,

” তিনটা আছে!
নিক ভ্রুঁ কুচকায়,
” কি তিনটা আছে?
এনি কিছুটা ভাব নিয়ে বলে,
” তিনটা সন্তান আছে আমার৷ এরপরও যদি নিজেকে ভার্জিন মনে করেন তবে ভেবে নিব তিনটা আকাশ থেকে টপকে পড়েছে৷ আর নয়ত ভেবে নিব হয়ত কষ্টে -বিরহে একদিন পাগলের মত রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম। কিছুক্ষণ পর গাছের সাথে ধ্বাক্কা খেয়ে তিনটা আমার পেটে চলে এসেছে। ব্যাস হয়ে গেলাম প্রেগন্যান্ট!
নিকের চোখ-মুখ গম্ভীর হয়ে উঠে। এই গম্ভীর মুখটা দেখে এই মুহূর্তে তার পেট ফেটে হাসি পাচ্ছে৷ এনি কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না। মেয়েলী চিকন কন্ঠের কান্নায় পিছনে ফিরে তাকায় দুজনে। নীর পাশে কাউকে না পেয়ে হাত – পা ছুঁড়ে কান্না করছে। এনি দ্রুত মেয়ের মাথায় হাত বুলায়,
” এই তো কলিজা! এইতো মাম্মাম! যায় নি কোথাও, এখানেই আছি।
নীর ফুঁপাতে -ফুঁপাতে শান্ত হয়ে পড়ে। মায়ের বুকের সাথে একদম ল্যাপ্টে যায় ছোট্ট দেহখানা।
নিক একটা কালো ব্যাগ এনির পাশে রাখে। ব্যাগটা অনেক বড়। এনি কিছুটা অবাক হয়ে তাকায়৷ নিক আদেশ করে বলে,

” চেইঞ্জ করে আসো কুইক! আমি মেয়েকে সামলাচ্ছি।
এনির মুখটা হা হয়ে যায়। নীরের শরীরে জামা পড়াতে -পড়াতে অবাক গলায় বলে,
” এত বড় ব্যাগ! কি আছে এইটাতে?
নিকের গম্ভীর গলা,
” নিজেই খুলে দেখে নাও।
এনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ব্যাগটার দিকে। নিক অপরিপক্ক হাতে নিজের অংশকে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। নীর পিতৃ শরীরের সাথে ল্যাপ্টে যায়। চোখ পিটপিট করে দেখার চেষ্টা করে পিতার মুখখানা। কিন্তু সে কিছুতেই দেখতে পারছে না৷ নিজের কাজ হাসিল না হওয়াতে হালকা করে কেঁদে উঠে। নিক মেয়ের দিকে তাকিয়ে কপালে চুমু খায়। পিতার ভালোবাসার পরশ পেয়ে মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। নিক ঠোঁট কানের কাছে নিয়ে বলে,
” এইভাবে একটু পর – পর কাঁদলে ইরানের ঘুমন্ত মানুষকে ও তুমি জাগিয়ে ফেলবে মা !
এনিকে এমন ‘থ’ মেরে বসে থাকতে দেখে নিক বিরক্ত হয়। কিছুটা কঠিন গলায় বলে,
” আর ইউ গোয়িং টু চেঞ্জ নাউ, অর ডু আই হ্যাভ টু মেইক ইউ চেঞ্জ মাইসেলফ? আমি গেলে কিন্তু আবার ও শাওয়ার নিতে হবে।

এনি ভাবনার থেকে চট করে তাকায়৷ নিককে বকতে -বকতে ব্যাগটা নিয়ে ট্রায়াল রুমের দিকে দৌঁড়ে যায়।
নিক মেয়েকে নিয়ে বেলকনির মধ্যে যায়। ঠান্ডা বাতাসের সাথে পিতৃ উম পেয়ে নাজুক শরীরটা শক্তপোক্ত দেহটার সাথে মিশে আছে। নিক বাহিরে তাকিয়ে বাঁকা হাসে। বিশাল একটা এড়িয়া নিয়ে সাজানো হয়েছে। সবার শরীরে সাদা কাপড়। ইচ্ছে না থাকা সত্তেও নিক এই বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। সবার সামনে কিভাব নরমাল আচরন করবে এই নিয়ে খুব নার্ভাস লাগছে। দিন – রাত কু*পিয়ে হত্যা করা ব্যাক্তিটাও আজ মানুষের সান্যিধ্যে যেতে অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখলো কিছুক্ষণ! আকস্মিক মেয়ের চোখে চোখ রেখে বলে,

” আম্মু, পাপা কি বেশি খারাপ?
নীর কি বুঝলো বুঝা গেলো না। বাচ্চামো শব্দ করে নিকের মুখ খামছে দেয়। মেয়ের কাজে হাসলো গ্যাংস্টার বস। নিজের নাকের সাথে কোমল নাকটার ঘর্ষণ করে ফের বলে,
” পাপা দুনিয়ার কাছে খারাপ হলে তোমাদের কাছে নয়। দুনিয়ার সবাই পাপাকে ঘৃণা করেছে। কারন তোমার পাপা একজন ঘৃণিত। কিন্তু তোমরা কখনো ঘৃণা করো না। সহ্য করতে পারব না।
কিছুক্ষণ থেমে মেয়ের দিকে তাকায়। নীর হাত – পা ছুঁড়ে শব্দ করে উঠে,
” আউউউউউউ….
নিক মেয়ের গালে – গাল ঘেঁষে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। ছোট্ট করে বলে,
” ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হয় জানি না। তবে তোমাদের ছাড়া আমার গতি নেই। আমার পৃথিবী, আমার জীবন, আমার নিশ্বাস!
বাবা – মেয়ের এমন মিষ্টি মুহূর্তের ব্যাঘাত করে এনির ডাকে। নিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় পিছনে। বিয়ের সাঁজ সেঁজে সাদা গাউনটা দু- হাতে চেপে ধরে নিকের দিকে হেঁটে যায়। সামান্য হেসে বলে,
” কেমন লাগছে এরিকের পাপা?

নিক কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। এলোমেলো সোনালী চুল, সদ্য ঘুম থেকে উঠা নীলাভ চোখ, সব কিছু যেন তার মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনকে জাগিয়ে তুলছে। শুকনো ঢোক গিলে বলে,
” নিজের শরীরটাকে সামলে রেখো ওয়াইফি। তুমি বলেছিলে নেশা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সে-ই নেশাক্ত জিনিস দিয়ে এখন লোভ দেখাচ্ছো!
এনির হাসি- খুশি মুখটা চুপসে যায়। মুহূর্তেই লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে যায় রমণী। এনি চোখ তুলে সামনে তাকিয়ে কিছু বলবে তার আগেই তার কন্ঠস্বর থেমে যায়। চোখের সামনে এমন সৌন্দর্য দেখে কথা আটকে যায় গলায়। নিকের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলে,

” এইসব কি?
নিকের খাপছাড়া ভঙ্গি,
” পছন্দ হয় নি?
এনি আরেকটু সামনে এগিয়ে যায়। ভালোভাবে দেখে বলে,
” আমার চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। এত সুন্দর করে কেনো সাজিয়েছেন? আর আমাকে এই গাউন পড়তে বলেছেন কেনো?
নিক এনির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপাল কুচকায়,
” আই থিংক বিয়ের মধ্যে মেয়েরা এইসব পড়ে? তানভী পড়েছিলো তাই সেটা ভেবে এনেছি।
এনির চোখ আশ্চর্যের ঝলকানি দিচ্ছে। একবার বাহিরে তাকাচ্ছে তো আরেকবার নিকের দিকে। নিজের সপ্ন ভেবে আবার বেশি আবেগী হয়ে পড়ছে না তো? এনি বাহিরে তাকিয়ে বলে,
” আপনার মনে আছে সেদিনকার কথাগুলো?
” গ্যাংস্টার বস সহজে কিছু ভুলে না।
এনির চোখে পানি টলমল করছে৷ কিন্ত এখন কাঁদা যাবে না। এই লোক সোজা তুফান চালিয়ে দিবে। চোখের পানি গুলো আটকে বলে,

” এইগুলো সত্যি তুমি করেছো নিক?
” হু! করেছি।
” কেনো করলে?
” তোমার জন্য। তুমি চেয়েছিলে তাই।
” আমার চাওয়াটাকে এত প্রাধান্য দেওয়া কবে থেকে শুরু করলে?
গ্রিবাদেশ নাড়ালো গ্যাংস্টার বস,
” যবে থেকে বুঝতে পারলাম তোমাকে ছাড়া আমার কোনো অস্তিত্ব নেই৷
এনি ঠোঁট কামড়ে ধরে। চোখের পানি তো তার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। এত আটকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে সেই বাহিরে বের হয়ে আসছে। নিক মেয়েকে দোলনায় শুইয়ে দিয়ে এনির কাছে আসে।
চোখের পানি জমিনে পড়ার আগেই মুছে ফেলেন আন্ডারগ্রাউন্ড টেরোরিস্ট! এনির গালে হাত রেখে বলে,
” চোখের সামনে থেকে এত বড় কিভাবে হয়ে গেলে জান? যখন এনেছিলাম তখন তো একদম পিচ্চি ছিলে। এতটুকু শরীর নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড টেরোরিস্টকে সামলাতে হিমশিম খাও নি? সব কিছু তুচ্ছ করে দিয়ে আজ তার সন্তানের মা হয়ে গেলে! এত ক্ষমতা তোমার? প্রচন্ড ঘৃনা থেকে এই আমিটাকে ভালোবাসার জার্নিটা কেমন ছিলো বেবিগার্ল?
এনি পিটপিট করে তাকায় স্বামীর দিকে। নিকের চোখে-মুখে দুষ্ট হাসির ঝিলিক। এনি সামান্য ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,

” জার্নিটা কেমন ছিলো সেটা কবুল বলার পর বলব। তবে একটা খারুস লোককে হাসাতে পেরেছি এই অনেক।
সাথে সাথে নিকের মুখ থমথমে খেয়ে যায়। ভ্রুঁ কুচকে ফেলে,
” ফা*ক ইউ বেবিগার্ল! ইউ…
নিকের কথা অসমাপ্ত রয়ে যায়। এনিকে নিজের এত কাছে পেয়ে কথা আটকে যায় গ্যাংস্টার বসের। এনির শরীর থেকে আসা মেয়েলী ঘ্রাণে শুকনো ঢোক গিলে। এনি নিকের কাধ গলিয়ে ঘাড়ে দুই হাত দিয়ে ঝাপ্টে ধরে৷ নিকের নাস্তানাবুদ অবস্থা দেখে এনি ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রাখে৷ এনি নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে আস্তে -ধীরে বলে,
” ফা*ক, ফু*ক কি ধরনের ভাষা? ঘরের বউকে কেউ এইসব সম্মোধন করে? জানেন না এইটা যে অশ্লীল ভাষা? যখন বলেই ফেলেছেন তখন চলুন একটু অশ্লীলতা করি।
নিকের শরীর যেন জমে যাচ্ছে। চোখ আটকে গিয়েছে এনির ফিনফিনে গোলাপি ওষ্ঠে। এনির শরীরের গরম উত্তাপ গ্যাংস্টার বসকে নাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো। হুট করে এনির এমন অবিশ্বাস্য আচরনে প্রচুর অবাক হয়। নিক কোনোরকম উচ্চারন করে,

” ক.. কিসব বলছো?
এনি মিটিমিটি হেসে ঠোঁট নাড়ায়,
” আপনি তোঁতলাচ্ছেন? আন্ডারগ্রাউন্ড টেরোরিস্ট তোঁতলাচ্ছে! চলুন হালাল অশ্লীলতা করা যাক।
নিকের কপাল দিয়ে সূক্ষ্ণ ঘামের রেখা দেখা মিলে৷ এসির মধ্যে থেকেও ঘেমে একাকার অবস্থা। চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিয়ে বলে,
” সব কিছু যদি আমার কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যায় তবে মনে রেখো বেবিগার্ল আজ নতুন করে কবুল বলার পূর্বেই তোমার শরীরের এই সাদা গাউনটার স্থান হবে মেঝেতে। আর তোমার পোশাক হব আমি। আমি কন্ট্রোলল্যাস হলে ঠিক কি হবে ধারনা আছে জান?
সাথে সাথে ছিটকে দুরে সরে যেতে চাইলো রমণী।কিন্তু নিকের শক্ত বাহু বন্ধন থেকে সরে আসার শক্তি হলো না। অপদস্থ করতে এসে নিজেই এমন অপদস্থ হয়ে যাবে কল্পনাও করে নি। এক মুহূর্তের জন্য ভুলে বসেছিলো এই লোক জন্মের নির্লজ্জ আর অশ্লীল! এনি নিচু স্বরে বলে,
” ছঁ.. ছাড়ুন!
নিক এনির ধনুকের মত বাঁকানো কোমরটাকে আরও শক্ত করে ধরে বলে,
” শক্তি সব শেষ বেবিগার্ল? অশ্লীলতা করবে না?
এনি চোখ -মুখ খিঁচে ফেলে শক্ত ভাবে। ইচ্ছে করছে নিজের বোকামির জন্য নিজের এই মাথা ফাটাতে। এনি অসহায় গলায় বলে,

‘ ছাড়ুন না এরিকের পাপা! আমি তো মজা করছিলাম আপনার সাথে। একটু পর কাজি চলে আসবে।
নিকের মাদকাসক্ত কন্ঠস্বর,
” আসুক!
এনি আৎকে উঠে এই আওয়াজে। নিক এনির ঠোঁট দুইটা আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে বিরবির করে,
” তোমার সাজ গুলো নষ্ট করে দেয় ব্লাডরোজ? সেই তো এই সাজ আমি নষ্ট করব। এত অপেক্ষা করে লাভ কি?
এনি ভয়ের সাথে বিরক্ত ও হয় কিছুটা। নিককে সরিয়ে দিতে -দিতে শক্ত গলায় বলে,
” আপনি যদি এমন কিছু করেন একদম খুন করে ফেলব।
নিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এনির পিঠে হাত গলিয় গাউনের চেইনটা ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
” লিখব তোমার হাতে, আমি আমার মরণ!
এনি ভয়ে জমে যায় একদম। এই লোককে সে খুব ভালোভাবে চিনে। এই মুহূর্তে না আটকালে সব কিছু নষ্ট করে দিবে। নিক জামার চেইনে টান দিতেই এনি আচমকা ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। এনি ধাক্কা দেওয়াতে নিক বিরক্তকর চোখে তাকায়। এনি নাক টেনে বলে,
” এমন একটা সারপ্রাইজের লোভ দেখিয়ে যদি সব কিছু পন্ড করে দেন তবে আমি আমার বোন জামাইয়ের বাড়ি চলে যাব।
নিকের রাগান্বিত স্বর,

” পা ভেঙে বিছানায় বসিয়ে রাখতেও আমার দুই সেকেন্ড সময় লাগবে না।
এনি মুচকি হেসে বলে,
” বোনের বাড়ি তো পাশের রুম। তার জন্য পা ভেঙে ফেলবেন? আমার এইতো ভালো। জামাই কোলে নিয়ে বসে থাকবে সারাক্ষণ।
” আদর যে করব সেটা বলো না।
এনি অসহায় চোখে তাকায় নিকের দিকে৷ এমন ঠোঁট কাটা লোক এই কেনো তার কপালে জুটলো! হুট করেই মনের ভেতরে একটা প্রশ্ন আবার ও উঁকি দিয়ে উঠে। নিকের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে,
” আমাকে ভালোবাসেন নিক?
নিক ছোট ছোট চোখ করে তাকায়। বুকে হাত গুঁজে থেমে – থেমে বলে,
” ব্লাডরোজ শব্দটার মধ্যে তুমি লক্ষবার ভালোবাসা খুঁজে পাও না ওয়াইফি?

নাজলী ঘুম থেকে উঠেছে মিনিট বিশেক হলো। ফ্রেশ হয়ে এইমাত্র বেলকনিতে এসে দাঁড়ায়। ভোরের স্নিগ্ধ সমীরণের স্পর্শটুকু শরীরে লাগাবে বলে৷
​উন্মুক্ত চরাচরের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই অকস্মাৎ এক তীব্র জ্যোতিতে তার অক্ষিদ্বয় ধাঁধিয়ে যায়। সামনের পুরোটা জায়গা জুড়ে কি নিঁখুতভাবে সাজানো হয়েছে। প্রকৃতির তাবৎ উপাদান এক পরম ধবল শুভ্রতায় নিমজ্জিত হয়েছে।
​চোখের সামনে দৃশ্যমান এমন বাস্তবিক সৌন্দর্যের অভিঘাতে মুহূর্তকালের জন্য সে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। চারপাশের এই অপরূপ মহিমার আকর্ষণে স্তব্দ হয়ে যায়। কেমন যেন নিথর হয়ে যায় তার সমগ্র চেতনা। নাজলীর এমন ভাবনার মধ্যেই আরিশের রাগী গলা শুনা যায়,
“কার পারমিশনে এসেছো এখানে? ইউ জাস্ট গো হোয়্যারএভার অ্যান্ড হোয়েনএভার ইউ ওয়ান্ট উইদাউট ইভেন আস্কিং ফর পারমিশন।
এমন মুগ্ধকর পরিবেশে আরিশের ধমক শুনতেই নাজলীর চোখে অশ্রু এসে জমা হয়। চোখে পানি নিয়ে দাঁতে – দাঁত পিষে বলে,

” কুত্তার ভেক্সিন দিয়েছিলি ছোট কালে। কুত্তার মত ব্যবহার শুরু করে ফেলিস কিছু না হতেই। ইবলিশ একটা!
আরিশের মুখ থেকে রক্ত সরে যায়। ধমকটা মিথ্যে দিলেও এখন রাগে চোখ- মুখ লাল হয়ে উঠছে। নাজলীর দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আকস্মিক ওর লাল চুলে আঙ্গুল পেঁচিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে। নাজলী ব্যাথায় কিছুটা আর্তনাদ করে উঠে। চুলে টান পড়াতে না চাইতেও আরিশের কাছে আসতে হয়। আরিশ নিজের কাছে নিয়ে এসে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়৷ যদিও নাজলীর উঁচু পেটটা বাঁধা দিচ্ছে অনেক৷ আরিশ সেসবে পাত্তা না দিয়ে নাজলীর চোখের পানি রুমাল দিয়ে মুছে দেয়।
” কিছু বলা যায় না তোমাকে আজকাল! বলার আগেই কেঁদে ফেলো। আর কিসব ভাষায় কথা বলছিলে? রাবিশ! এখন গলাটা টিপে মেরে ফেলি?
নাজলী কোনো উত্তর করলো না৷ তার মাথায় ঘুরছে বাহিরের এত সাজসজ্জা নিয়ে৷ কেনো করলো এতসব? তার জানা মতে নিক এই এড়িয়া পুরোটা কিনে নিয়েছে৷ কারন সে তার বউকে অন্যের বাড়িতে রাখবে না। ভাগাভাগি তার ধাঁচে নেই৷ যা তার পুরোটা-ই তার! সেদিন অবশ্য এনি কিছুটা রাগ দেখিয়েছিলো। কয়েকদিনের জন্য এত জায়গা সহ বাড়িটা কেনার কি প্রয়োজন ছিলো। যদি এইটা নিকের জায়গা হয় তবে তার জায়গায় এইসব সাজালো কে? কারন গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান আর যায় হোক এইসব রং- তামাশা করবে না।
নাজলী আরিশকে প্রশ্ন করতে গিয়েও অভিমানে থেমে গেলো। আরিশ যেন সহজে বুঝে নিলো স্ত্রীর না করা প্রশ্ন। সে নাজলীর চুলগুলো ঠিক করে দিতে – দিতে বলে,

” প্রশ্ন জাগছে?
নাজলী চট করে তাকায়। অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
” তবুও আপনার থেকে উত্তর জানতে চাইব না।
” তোমার কাছে আমি ছাড়া সেকেন্ড অপশন নেই। আগেও ছিলো না, এখন ও নেই আর ভবিষ্যতে ও থাকবে না৷ তোমাকে ধমক দেওয়ার কারন ছিলো। ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দিব অথচ তুমি পাকামো করে আগেই দেখে ফেললে।
নাজলী অবাক গলায় বলে,
” সারপ্রাইজ! কিসের সারপ্রাইজ?
আরিশ নাজলীর সাত মাসের উঁচু পেটে হাত রাখে। সেখানে হাত বুলিয়ে বলে,
” তোমার আর আমার বিয়ে ওয়াইফি!
নাজলীর চোখ দুইটা কুচকে আসে৷ আরিশের কথাটা মজা ভেবে উড়িয়ে দেয়। সে ঠিকভাবে হাটতে পারে না সেখানে বিয়ে করতে যাবে কে! নাজলী কপাল গুঁটিয়ে বলে,
” মজা করছেন আমার সাথে আরিশ?
আরিশ মুচকি হেসে নাজলীর ঠোঁটে চুমু খায়। গালে হাত রেখে বলে,
” সিরিয়াস মুহূর্তে আমি মজা করি না খুব ভালো করেই জানো। বিয়েটা শুধু আমার আর তোমার নয়। নিক আর এনির ও হচ্ছে।
আচমকা নাজলী চেঁচিয়ে উঠে,

” হুয়াট!!!!!! নিক বিয়ে করবে? তাও এই জনসম্মুখে? এইসব বিশ্বাস করতে বলছেন আমাকে?
আরিশ বাঁকা হেসে প্রেয়সীর দুই কাঁধের উপর হাত রেখে বলে,
” নিক ঠিক কতটা পরিবর্তন হয়েছে তার বিন্দুমাত্র ধারনা নেই তোমার। এনির জন্য এমন অনেক আশ্চর্যজনক কাজ করেছে যা গ্যাংস্টার বসের রুলসের বাহিরে। ধরে নাও এই আয়োজনটাও এনির ইচ্ছে বা খুশির জন্য।
নাজলী এতক্ষণে কিছুটা হাসে৷ পর মুহূর্তে কিছু একটা ভেবে বলে,
” তাহলে আমাদের বিয়ে টানছে কেনো?
” আমার ইচ্ছে। সবার ওয়াইফ সুন্দরভাবে বউ সাজবে কিন্ত আমার বউ কেনো এই সাজ থেকে বঞ্চিত হবে ? বউ সজ্জিত লজ্জামাখা মুখটা দেখতে চাই আমি৷ যা অপূর্ণ রয়ে গেছে।
নাজলীর গাল রক্তিম হয়ে উঠে। নিজের শারিরীক অবস্থান চিন্তা করে অধৈর্য হয়ে বলে,
” সাত মাসের পেট নিয়ে বউ সেঁজে বিয়ের আসরে বসে কোন পাগলে?
” কেউ বসে নি। তবে তুমি বসবে আজ। ক্রিমিনাল লিডার আরিশ ইলহামের একমাত্র বউ হয়ে।
নাজলী অবাকের পর – অবাক হচ্ছে। হাঁশ- ফাঁশ করে উঠে,

” আমি হেটে যেতে পারব না, ওখানে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার মত শক্তি নেই।
” আমি কোলে তুলে নিব। আমার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে৷ বাকিটা আমি দেখে নিব।
” এমন ফুলো পেট নিয়ে গেলে সবাই তাকিয়ে থাকবে। লজ্জা লাগবে আমার অনেক।
আরিশ কপালে চুমু খেয়ে বলে,
” সবটা দুই হাত দিয়ে সামলে নিব। একটু তিল পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে দিব না।
নাজলী আচমকা ঝাঁপ্টে ধরে আরিশকে। বুকের মধ্যে নাক ঘঁষে ফুঁপিয়ে উঠে। আরিশ আতঙ্কিত গলায় বলে,
” ত.. তুমি খুশি হও নি?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৬ (২)

নাজলী বুক থেকে মাথা তুলে তাকায় আরিশের দিকে। ঠোঁট ভেঙ্গে বলে,
” আমার খুশির পরিমাপ দেখানো সম্ভব নয় আরিশ। এতটা খুশি লাগছে যে বলে বুঝাতে পারব না আপনাকে৷ অনল প্রেমের এক গুপ্ত কারাগার আপনি। আমার এই শক্তপোক্ত মনটাকে ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে বন্ধী করে ফেললেন। আমি আজ পরিপূর্ণ! কি সাঙ্ঘাতিক পুরুষ আপনি!

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here