Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৬ (২)

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৬ (২)

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৬ (২)
নুসাইবা আরা নুরি

শারমিন খাতুনের কথায় হাসান সাহেব অবাকের সুরে বলে,
-মানে তুমিও জানতে এসব।শুধু আমি জানতাম না।
হাসান সাহেবের কথায় সবাই মাথা নিচু করে নেই।শারমিন খাতুন হাসান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,
-নিলয় এসে আমাকে বলেছিলো সব গুছিয়ে।কিন্তু আমি রাজি ছিলাম না।কিন্তু বাড়ি আর তোমাদের সম্মানের কথা ভেবে আমি রাজি হয়ে গেছি।কিন্তু আমি ওদের সাবধান করেছিলাম।ওরা শোনেনি।এখন বুজুক।
শারমিন খাতুনের কথায় হাসান সাহেব আর কিছু বলেন না।চুপ চাপ ঘরে চলে যান রাগে চোখ মুখ শক্ত হয়ে আছে তার।যখন তখন উলটা পালটা বলতে পারেন ছেলেকে।

ফাহিমকে মেহেরাজ সব খুলে বলে বাড়ির কাহিনী।কারন সেদিন বিয়েতে ফাহিম ও ছিলো।কিন্তু পরের কাহিনী ফাহিম জানেনা।মেহেরাজের কথা শুনে ফাহিমের মাথায় হাত।তারপর মেহেরাজের কাছে যখন ইনফরমেশন চাই তখন মেহেরাজ কিছু বলতে পারে না।মেহেরাজের কথা শুনে ফাহিম আফসোসের সুরে বলে,
-কলেজে মেয়েরা তোর পিছে যখন পড়ে থাকতো তখন তোরে বুজালে তোর কথা ছিলো আমি এক নারীতে আসক্ত হবো বিয়ের পর।আর এখন আসক্ত কি তার ইনফরমেশন ও জানিস না। তাও আবার বউ কে পুরো পুরি মুক্ত করতে।
ফাহিমের কথায় মেহেরাজ শান্ত কন্ঠে বলে,
-মেয়েটার বয়স সম্ভবত কম ছিলো।কিন্তু আম্মু বলেছিলো কাজি দ্বারা আঠারো করে দিবে।এখন হয়তো আঠারো পার হয়ে গেছে অনেক আগেই।তুই আমাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি টা বের কর তাহলে সব ইনফরমেশন চলে আসবে।

-ওয়েট কর।
কথাটা বলে ফাহিম ল্যাপটপ নিয়ে বসে কোনো একটা কাজে।সেদিন মেহেরাজ যখন জিজ্ঞাসা করে মেয়ের বয়স কত তখন বলেছিলো বয়স একটু কম আঠারো হতে বেশিদিন নেই।যেহেতু মেহেরাজের বিয়েতে তেমন ইচ্ছা ছিল না তাই মেহেরাজ আর কিছু শোনেনি।তবে সে দেখেছিলো।বিয়েতে কাজির সাথে একজন উকিল ও ছিলো।মেহেরাজ হাসান সাহেবকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বলেন মেয়ের বয়স অল্প তাই রেজিস্ট্রি করবে কোট থেকে।
আর আজ এটাই তার ইরফরমেশন জোগাড় করার রাস্তা হয়ে দাড়িয়েছে।বেশ খানিক্ষন ল্যাপটপ ঘাটাঘাটির পর ফাহিম বলে,
-তোদের বিয়ে না সেপ্টেম্বর এর এক তারিখ হয়েছিলো?
-হুম।
-পাইছি।তোর পিতা মোঃ নিলয় মির্জা।
-হুম।

ফাহিম ল্যাপটপ এর ফাইল টা ওপেন করে মেহেরাজের দিকে তাকিয়ে এবার বলে,
-আবারো ভেবে দেখ ডিভোর্স দিবি?তোদের কিন্তু এখোনো বিয়ের হালাল সম্পর্ক আছে।ডিভোর্স দিলেই হয়ে গেলো কিন্তু একটা সম্পর্ক নষ্ট করার আগে বারবার ভাবতে হয়।
-নষ্ট সম্পর্ক নিয়ে বার বার ভাবা লাগে না।এই সম্পর্কের ইতি আট মাস আগে টানা হয়েছে।আর মেয়েটাও আমাকে চিনে না দেখেনি হয়তো।তাই আমি চাচ্ছি না নতুন করে সম্পর্ক টা ঠিক করতে।তুই ডিভোর্স এর পেপার রেডি কর।
-ওকে।বাট কিভাবে দিবি কাওকে দিয়ে নাকি নিজ হাতে।
ফাহিমের কথায় মেহেরাজ চুপ করে থাকে বেশ কিছুক্ষন তারপর শান্ত কন্ঠেই বলে,
-যেহেতু ওরা জানতো ওটা আসল ডিভোর্স পেপার।তাই ওদের ভুল ধারনা ভাঙিয়ে আসল টা ওদের হাতে তুলে দিয়ে আসবো।হয়তো বা মেয়েটার এতোদিন অন্য যায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে তুই ওর বাবার নাম টা দেখ তো একবার।
মেহেরাজের কথায় ফাহিম আবারো চেক করে পড়লো,

-পাত্রী শ্রেয়সী শেখ।আর পিতা আলতাফ শেখ।বাসা হালিশহর।খালপাড় রোড চট্রগ্রাম।
-মেয়ের নামটা কী বললি আর একবার বল??
-শ্রেয়সী শেখ।
নামটা শুনে মেহেরাজে কলেজের সেই মেয়েটার কথা মনে পড়ে।সেখানেও সে শুনেছিলো এই নামটা।তবে মেহেরাজ আবার ভাবে ওই বাচ্চা মেয়েটা নিশ্চয় তার বউ হবে না।আর এই শহরে হাজারো এক নামের মানুষ আছে।মেহেরাজ ফাহিম কে ডিভোর্স পেপার রেডি করতে বলার পর বলে,
-তোদের এখানে কি খালি ফ্লাট আছে??
-কেন কি করবি??
-আছে কিনা বল??
ফাহিম মেহেরাজের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-শালা বউকে ডিভোর্স দিয়ে খালি ফ্লাটে ভুতের সাথে হাডুডু খেলবি।
-কিছু বললি?
-কই না তো?
-এখন বল আছে।কিছুদিন থাকবো ধর মাস খানেক।
-তুই?
-হুম।
-তুই থাকবি তো ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কি করবি।আমার ফ্লাট কি করতে আছে।তুই এখানে থাকবি।
-এটা হয় না।

মেহেরাজের কথা শেষ হতে না হতেই ঘরে প্রবেশ করে সাহিদা খাতুন। হাতে চিকেন ফ্রাই আর দুধ চা এর ট্রে।সাহিদা খাতুন মেহেরাজের সামনে এসে বিছানার উপর ট্রে রেখে বলে,
-ছেলে বড় হয়ে গেছে বলে আন্টি কে এখন আর মনে পড়ে না তাই থাকবে না।
সাহিদা খাতুনের কথায় মেহেরাজ একটু লজ্জা পায়।তারপর শান্ত গলায় বলে,
-তেমন আন্টি আসলে,,
মেহেরাজের কথা কেটে সাহিদা খাতুন বললেন,
-যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকবে।আর একটা কথাও না বাবা।আমি কিন্তু রাগ করবো।মনে থাকে যেনো।
মেহেরাজ কে কথা টা বলার পর বলে আমি পাশের রুম টা গুছিয়ে দিচ্ছি তুমি খেয়ে তাই যাও।তারপর তিনি তাড়া দেখিয়ে রান্না ঘরে চলে জান।এই ফ্লাটে শুধু ফাহিম। ফাহিমের বোন মাহি আর তার মা থাকে।ফাহিমের বাবা দুই বছর আগে স্ট্রোক করে প্রান হারিয়েছেন।তাই পুরো পরিবারের হাল এখন ফাহিমের হাতে।সাহিদা খাতুন চলে যেতেই মেহেরাজ ফাহিমকে বলে,

-কখন দিবি কাগজ??
-চারটার দিকে।
-তাহলে আজ বিকালেই ওদের হাতে পৌছে দিয়ে আসবো।আর কালকেই অফিসে ফিরে যাবো।
-মানে?
-হুম ভালো লাগছে না যাস্ট বিরক্ত লাগছে এসব এখন আমার।
মেহেরাজ আর দাঁড়ায় না।ফাহিমের ঘর থেকে বেরিয়ে তার জন্য নির্ধারিত পাশের রুমে ঢুকে যায়।দরজা বন্ধ করে দিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।

দুপুরে খাবার টেবিলে বসে আছে সকলে।শ্রেয়সীর পাশে তুশি।তারপাশে তুহিন।তুহিনের পাশে সিয়াম আর অন্য পাশে সায়ন।খাদিজা খাতুন আর তোহা খাবার বেড়ে দিচ্ছে।সিয়াম খেয়ে দোকানে গেলে তাই আলতাফ শেখ বাড়ি আসবেন দুপুরে খাওয়ার জন্য।
তুহিন খেতে খেতে সিয়ামের উদ্দেশ্যে বলে,
-দুলাভাই একটা কথা ছিলো।
তুহিনের কথায় সিয়াম ভাত খেতে খেতেই বলে,
-হুম বলো।
-আসলে দুই দিন পর দাদার মৃত্যু বার্ষিকি।তাই আব্বা পাঠাইছে আপনাদের নিতে।খেয়ে তাহলে রেডি হয়ে নেন।
তুহিনের কথায় সিয়াম।খাওয়া থামিয়ে তোহার দিকে একবার তাকায়।সিয়াম নিজের বয়সের তুলনায় যতেষ্ট গম্ভীর আর রাগী সভাবের।তাই সবাই ওর সামনে একটু শান্ত ভাবেই কথা বলে।সিয়ামের থেকে তিন চার বছরের ছোট তুহিন।
সিয়াম তুহিনের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠেই বলে,

-এখন বাজারে চাপ বেশি।দোকান থেকে বের হওয়ার উপাই নেই।তুমিতো জানো এই মাসের শেষ এ ইদ।এখন দোকান থেকে বের হওয়া যাবে না।সবাইলে নিয়ে যাও তুমি।আব্বাকে তোহা বুজিয়ে বলবেনি।
সিয়াম কথাটা বলে খাওয়াই মনযোগ দেয়।এদিকে সিয়ামের কথা শুনে তুহিন তোহার দিকে তাকায়।খাদিজা বেগম আগেই বলেছেন যাবেনা।কারন সে গেলে বাড়িতে রান্না করবে কে।তাই তোহা শ্রেয়সী আর সাহন কে নিতে চাই।তবে কাজ হয় না শ্রেয়সীর কলেজ কোচিং তাই সায়ন কেই সাথে নেই।
খাওয়া শেষ করে বেশ কিছুক্ষন পর সিয়ামের থেকে বিদায় নিয়ে খাদিজা বেগম কে বলে তোহা সায়ন তুহিন তুশি বেরিয়ে যায়।সিয়াম গিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসে।আর শ্রেয়সীকে ইরুদের বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে দোকানে চলে যায়।
শ্রেয়সী ইরুকে সাথে নিয়ে কোচিং এ চলে যায়।আজ আই সি টি পড়া আছে। ফিজিক্স নেই।শ্রেয়সী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।সে খেয়াল করেছে তুহিনের দৃষ্টি বারং বার তার দিকে পড়েছে।ভাবিকে বললে ভাবি কি মনে করতো।তুহিন কয়েকবার তার সাথে কথাও বলতে গেছে।সেই শুরুর ফিন থেকেই তুহিনের এমন দৃষ্টিকে ঘৃনা করে আসছে শ্রেয়সী।ভিষন রাগ হয় ভাবলে।কেমন বার বার পা থেকে মাথা অব্দি দেখে।শ্রেয়সী ভেবেছিলো রাতে থাকবে কিন্তু চলে গেছে শ্রেয়সী মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলতে ভুলে নি।আপদ বিদায়।

বিকাল হতেই ফাহিম কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিজেদের উদ্দেশ্যে। নেহেরাজ গাড়ি চালসচ্ছে আর ফাহিম আশের সিটে বসে বসে মোবাইলে গেম খেলছে।মেহেরাজ একটু বেশি তাড়াহুড়ো করছে কেন জানেনা সে নিজেও।বার বার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঠিক হচ্ছে না তার সাথে।কিছু এক্টার সমীকরন বদলে যাবে হয়তো তার জীবনের।তবে মেহেরাজ ভেবে নেই হয়তো মেয়েটাকে সে বিয়ে করে নিজের সাথে জড়িয়েছিলো তাকে মুক্তি দিবে বলেই এমন হচ্ছে।
মেহেরাজ কে গম্ভীর মুখে গাড়ি চালাতে দেখে ফাহিম গেম খেলতে খেলতেই বললো,
-আচ্ছা দোস্ত।তোর মুখে কি জীবনেও হাসি আসবে না।আমার মাঝে মাঝে মনে হয় তোর গজ দাতের জন্য তুই হাসিস না।কিন্তু তোকে গজদাতের হাসিতে ভালো মানাবে।
-তাহলে এবার উকালতি ছেড়ে ফ্যাশন শুরু কর।
মেহেরাজের ত্যাড়া কথা শুনে ফাহিম মোবাইল থেকে চোখ সরিয়ে বলল,
-এক্টা ভালো উপদেশ দিলাম তা তোর কানে গেলো না।
-উকিলদের আমার চেনা আছে।ঠিকই আছে তোর সাথে তোর জব পারফেক্ট।

-হুম দোস্ত তুই আজ জানলি।প্রাউড ফিল করছি।
-স্টুপিড।
মেহেরাজের কথায় ফাহিম টেরা চোখে এক পলকে তাকিয়ে থেকে বলল,
-তোর বউ স্টুপিড আমি না।
ফাহিমকে তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আর এমন কথা শুনে মেহেরাজ তপ্ত একটা শ্বাস ফেলে সাভাবিক কন্ঠেই বললো,
-অচেনা মেয়েটাকে যেমন জীবন থেকে বের করে দেওয়ার জন্য যাচ্ছি।তেমন তোকেও গাড়ি থেকে লাত্তি মেরে বের করে দিবো।আর একটা ফাউল কথা বললে মাইন্ড ইট।
এদিকে মেহেরাজের কথা শুনে ফাহিম সোজা হয়ে বসে আবারো গেম চালু করে খেলতে খেলতে বিড়বিড় করে বলে উঠে,
-শালা আমাকে গাড়ি থেকে লাত্তি মেতে বের করা।যা আল্লাহ যেনো ওই মেয়েকে তোর জীবন থেকেই বের না করে।শালা আমার না হওয়া বউকে সামি হারা করতে চাইছিলি না তোর বাসর রাতে তোকে বউ হারা করে ছাড়বো।

ফাহিমের কথা মেহেরাজের কানে গেলেও৷ মেহেরাজ পাত্তা দেই না।ফাহিম বরাবরই বেশি কথা বলে আর একটু বেশি রশিক।এতে মেহেরাজের সমস্যা হয়না কারন সে যতটুকু পারে সহ্য করে নেই নয়তো কানে ব্লুতুথ লাগিয়ে দেয়।ফাহিমের সাথে তার কখোনো ঝগড়া ঝামেলা হয়নি।আর হলেও পাচ মিনিটের বেশি সেই ঝামেলা স্থায়ী হয়নি।
ফাহিমের কথা মতো খাকপাড় এলাকায় এসে রোড নাম্বার ৬ এ গিয়ে দেখতে পায় পর পর অনেক গুলো বাড়ি।বাড়ি গুলো বেশ গ্রামের মতোই।বাড়ির সামনেও জায়গা আছে।দোতলা এক তলা বাড়ি।মেহেরাজ গাড়ি একটু এগিয়ে নিতেই দেখতে পায়।এক বাড়ির সামনে ঝালমুড়ির ঠেলার সামনে দুটো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কাধে স্কুল ব্যাগ তবে পরনে বোরকা।আর অন্য জনের থ্রি পিচ।
মেহেরাজ সেদিকে খেয়াল করে তাদের সামনে গিয়ে গাড়ি থামায়।জানালার কাচ নামিয়ে একটা কাশি দিতেই ইরু তাকায় মেহেরাজের দিকে।সাথে সাথে চিনতে পারে মেহেরাজকে।কলেজের বিশেষ নামকরা অতিথি।তাকে তো চেনা সহজ।মেহেরাজ পাশে থাকা বোরকা পরা মেয়েটাকে খেয়াল না করেই ইরু জিজ্ঞাসা করে,

-আচ্ছা এখানে আলতাফ শেখ এর বাড়িটা কোথায় বলতে পারেন?
-কোন আলতাফ শেখ?
-বাজারের বড় মুদি ব্যাবসায়ী
নিজের বাবার নাম শুনে শ্রেয়সী মেহেরাজের গাড়ির দিকে ফিরলো।এতক্ষন সে এদিকে কান দেই ঝালমুড়ি তেই মেতে ছিলো।তার পছন্দের একটা খাবার। শ্রেয়সী ইরুর পিছন থেকে সামনে সরে এসে ইরু কিছু বলার আগেই সে গাড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,
-এটাই তার বাড়ি।আর আমার বাবার নামই আলতাফ শেখ।কোনো কোনো দরকার ভাইয়া?
শ্রেয়সীর কন্ঠে মেহেরাজ তাকায় শ্রেয়সীর পানে।চোখাচোখি হয়ে যায় দুজনের।এক মুহুর্তের জন্য হৃদস্পন্দের গতি হারায় দুজনে সাথে দুজনেই বেশ অবাক হয়।শ্রেয়সী আর মেহেরাজকে একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইরু বলে উঠে,

-কিছু বলবেন ভাইয়া?
ইরুর কথায় ধ্যান ভাঙে দুজনের।শ্রেয়সী নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে মাথা নিচু করে নেয়।আর মেহেরাজ সাভাবিক কন্ঠেই বলে,
-হ্যাঁ ওনার মেয়ে শ্রেয়সী শেখ কে একটু দরকার।
মেহেরাজ কথাটা বলা মাত্রই জিভে কামড় দেয়।যে মেয়েটা বলতো আলতাফ শেখ তার বাবা সেই মেয়েটার নামই তো শ্রেয়সী তাহলে সে কি শ্রেয়সী শেখ।মেহেরাজের ভাবনার মাঝেই শ্রেয়সী বলে,
-আমিই শ্রেয়সী শেখ।
-শ্রেয়সী..?
-জ্বী বলুন।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৬

শ্রেয়সীর কথা শুনে মেহেরাজের হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়।গাড়ি এসি চালু থাকা সত্তেও ঘামতে শুরু করে।সেদিন কলেজে যখন মেয়েটার নুপুর পেয়েছিলো মেয়েটার চোখে চোখ রেখেছিলো সেদিনও মেহেরাজের একই অনুভূতি হয়েছিলো।সেদিন সারা রাত ওর দুই চোখের পাতা এক হয়নি।মেহেরাজ তখনও বুজতে পারেনি এটাই তার স্ত্রী তার তিন কবুল বলে বিয়ে করা বৈধ স্ত্রী।মেহেরাজের কেমন অসস্তি হতে শুরু করে।বাইরে না তাকিয়ে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে ডিভোর্স পেপার টা চাই।ফাহিম গেম খেলা অবস্থাতেই মোবাইলে চোখ রেখে ফাইল টা এগিয়ে দিতেই।মেহেরাজ আর দ্বিতীয় কোনোকিছু না ভেবেই।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here