শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২৪
আয়েশা শেখ
বারিশ ক্ষিপ্ত বাঘের মতো তেড়ে গিয়ে এক সশব্দ ঘুষি বসিয়ে দিল তাহসিনের চোয়ালে!
— ইউ ফা”কিং ইডিয়ট! আমাকে বাধা দেওয়ার সাহস কোথায় পাস তুই!
ধাক্কা সামলে সোজা হয়ে দাঁড়াল তাহসিন। চোয়ালের যন্ত্রণা চেপে রেখে বারিশকে বোঝানোর তীব্র চেষ্টা নিয়ে বলল,
— ও আপনার নিজের ভাইয়ের ছেলে, বারিশ! আর ওকে এখন গু”লি করলে সোজা খু”নের মামলা আসবে আপনার নামে। তাছাড়া আপনারা দুজনই এখন আহত। ঝিলমিলের চিকিৎসা আর ওকে নিয়ে বাড়ি ফেরাটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার!
ঝিলমিল নামটা কানে পৌঁছানোমাত্রই ক্ষণিকের জন্য শান্ত হলো বারিশ। পেছনে তাকাল সে। ঝিলমিল তখনো আ”তঙ্কে হিম হয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে, বুকটা দ্রতগতিতে ওঠা-নামা করছে এখনো। বারিশ রি”ভলবার নামিয়ে চটজলদি তার কাছে এগিয়ে গেল। কাছে আসতেই ও খেয়াল করল ঝিলমিলের মাথা আর ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা র”ক্তের কালচে দাগ। বারিশ ধীরেসুস্থে এগিয়ে গিয়ে নিজের বুড়ো আঙুলের নরম ছোঁয়ায় ঝিলমিলের ঠোঁট বেয়ে পড়া র”ক্তটুকু আলতো করে মুছে দিল। ঝিলমিল নিষ্প্রাণ চোখে বারিশের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎই তার নজর গেল বারিশের কপালের দিকে। সেখান থেকে র”ক্ত গড়িয়ে পড়ছে কানের পাশ দিয়ে। ঝিলমিল যন্ত্রের মতো হাত বাড়িয়ে নিজের ওড়নার ছেঁড়া অংশ দিয়ে বারিশের কপালের ক্ষ”ত স্থানটা শক্ত করে বেঁধে দিল।
তাহসিন ততক্ষণে মেহরাজকে ফোন করে ডেকে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে দ্রুত হাসপাতালে যাচ্ছে তারা।
চলন্ত গাড়িতে মেহরাজ স্টিয়ারিং হুইল শক্ত করে ধরে আছে, তার পাশে সামনের সিটে বসে আছে তাহসিন। আর পেছনের সিটে বারিশ ও ঝিলমিল। ঝিলমিল বারিশের বুকে মাথা রেখে অঘোরে ঘুমাচ্ছে।
গাড়ি চালানোর মাঝেই ক্ষোভে গজগজ করছেন মেহরাজ,
— জারিফকে আমি ছাড়ব না! ওর এত বড় স্পর্ধা হয় কী করে? তুই ওকে মেরে শেষ করে দিলি না কেন বারিশ? নিজের ভাইয়ের ছেলে বলে ছাড় দিলি? ঝিলমিলও তো আমার ভাইয়ের মেয়ে! জারিফের বিরুদ্ধে যত দূর যেতে হয়, আমি যাব।
তখন থেকেই মেহরাজের ক্ষোভ উগরে পড়ছে মুখে। তবে বারিশ বা তাহসিন—কারও মুখেই কোনো জবাব নেই। পেছনের সিটে থাকা বারিশের স্লিভলেস কালো টি-শার্ট আঁকড়ে ঝিলমিল একটু পর পর শিউরে উঠছে। মারাত্মক কোনো দুঃস্বপ্ন যেন তাড়া করে ফিরছে তাকে। বারিশ কেবল এক হাতে ওকে নিজের বুকের সাথে আরও নিবিড় করে আগলে নিচ্ছে, যেন দুনিয়ার কোনো আঁচ তার ওপর না পড়ে।
হঠাৎ করেই আ”তঙ্কে চমকে উঠে মৃদু আওয়াজে চিৎকার করে উঠল ঝিলমিল! ধড়ফড় করে সজাগ হয়ে সে চোখ মেলে তাকাতেই সামনে দেখল বারিশের সেই চিরচেনা রূপ। চোখের হ্যাজেল রঙের মণি দুটো উদ্বেগে সামান্য বড় হয়ে আছে। ঝিলমিলকে সামলে নিয়ে নিচু স্বরে বারিশ শুধাল,
— কী হয়েছে?
ঝিলমিলের বাঁধ ভাঙা কান্না আবার নতুন করে উপচে পড়ল। ঠোঁট ভেঙে ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
— ওরা… ওরা…
বারিশ থামিয়ে দিল তাকে। হাত বাড়িয়ে ঝিলমিলের ভেজা গাল দুটো ছুঁয়ে বলল,
— কিচ্ছু করেনি ওরা। ওইসব নোংরা স্মৃতি মন থেকে ঝেড়ে ফেলো। দেখো, তুমি এখন একদম আমার বুকে আছো।
— আপনি না এলে…
— আমি আসতাম! পৃথিবী উল্টে গেলেও আসতাম। ‘না এলে’ বলতে কোনো শব্দ আমার অভিধানে নেই।
— আপনি এতটা আ”ঘাত পেলেন কীভাবে?
বারিশ একবার সামনে থাকা তাহসিনের দিকে তাকাল। বলল,
— যাবার সময় অ্যা”ক্সিডেন্ট হয়েছিল।
ঝিলমিল কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ চোখে তাকিয়ে থাকল মানুষটার দিকে। এই মুহূর্তে আর কোনো কথা বলতে ইচ্ছা করছে না ওর। স্বামীর টি-শার্টটা ভালোভাবে চেপে ধরে সে আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলল। মেহরাজ এখনো ক্ষোভ ঝাড়তে ব্যস্ত। সেগুলো দাঁত চেপে শুনছে তাহসিন।
গতরাতে হসপিটালে থেকে সকালে বাসায় ফিরে দুজনে। ঝিলমিলকে মেহরাজ চৌধুরী ভিলাতে নিয়ে যেতে কিন্তু বারিশ রাজি হয়নি। ঝিলমিল মানসিক আর শারীরিকভাবে পুরোপুরি ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। বিছানার এক কোণে চুপচাপ জড়সড় হয়ে বসে আছে সে এখন। মন থেকে কিছুতেই মুছতে পারছে না গতরাতের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো। সময়মতো যদি বারিশ না পৌঁছাত? যদি কয়েকটা মিনিট দেরি হয়ে যেত? এই একটা চিন্তা ওর মাথার রগগুলোকে যেন ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে। মেয়েরা দুনিয়ার সমস্ত ঝড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শক্ত থাকতে পারলেও, নিজের আত্মসম্মান আর ইজ্জতের জায়গায় এসে তারা বড্ড অসহায়, বড় ভঙ্গুর।
ঝিলমিল চোখ বুজলেই যেন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে নিজের জামা ছেঁড়ার সেই পৈশাচিক শব্দটা। জারিফের সেই বি”ষাক্ত স্পর্শ, বন্ধুদের বিকৃত হাসি আর শকুনের মতো চোখগুলো ওর পুরো অস্তিত্বকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে। একটু দেরি হলেই যে কী অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারত, সেই কুৎসিত ভাবনাটা ওকে মানসিকভাবে তিলে তিলে পিষে মারছে। সারাটা রাতে এক ফোঁটাও ঘুম হয়নি ঝিলমিলের। বারিশও একপলকের জন্য ঘুমায়নি।
— আমি তোমার সামনে কোন মুখে আসব? আমার ছেলে যে এমন একটা জঘন্য কাজ করতে পারে, তা কল্পনা করতেও আমার ভয় হচ্ছে!
ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে কথাগুলো বললেন শিউলি বেগম। তাঁর দু’চোখ বেয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে। রুমে এখন চঞ্চল শেহরিয়ার, শিউলি বেগম আর বারিশ। বারিশ রুমের এক কোণে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাত দুটো পকেটে গুঁজে তীব্র আক্রোশ চেপে রাখার চেষ্টা করছে।
হাসপাতাল থেকে বাসায় এসেই ঘরদোর তছনছ করে ভাঙচুর শুরু করেছিল বারিশ। আর এর মূল কারণ ছিল ওর মা। সবকিছু জেনেও ঝর্ণা বেগম উল্টো ঝিলমিলকেই সবকিছুর জন্য দোষী সাব্যস্ত করছেন! ঝিলমিল নাকি ইচ্ছে করে তাঁর নিষ্পাপ নাতিকে ফাঁসানোর পাঁয়তারা করছে। অবশ্য তাঁর এই অন্ধ বিশ্বাসের পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল। গতকাল রাতের সেই ঘটনার পর জারিফ সোজা হাসপাতালে ভর্তি হয়েই ভিডিও কল দিয়ে দাদীকে ফোন করে কাঁদো কাঁদো গলায় অভিযোগ জানায়—ঝিলমিল আর বারিশ মিলে নাকি তাকে এই র”ক্তসংক্রান্ত অবস্থায় ফেলেছে! র”ক্তে ভেসে যাওয়া নাতির এমন জখম অবস্থা দেখে দাদীও অন্ধের মতো নাতীর সাজানো মিথ্যাটাই বিশ্বাস করে বসে আছেন।
এমনকি আজ সকালে যখন বারিশ ঝিলমিলকে নিয়ে বাসায় ঢুকছিল, তখন দরজাতেই দাঁতে দাঁত চেপে ঝর্ণা বেগম গর্জে উঠেছিলেন,
— এই মেয়েকে আবার এই বাসায় নিয়ে আসছো কেন তরঙ্গ? আর একটু হলেই তো ও আমার জারিফকে মেরে ফেলত!
মায়ের এমন বি”ষাক্ত কথা শুনে মেজাজ ধরে রাখতে পারেনি বারিশ। সে নিজের বাবা চঞ্চল শেহরিয়ারের দিকে তাকিয়ে চি”ৎকার করে কাল রাতের সবকিছু খুলে বলেছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও ঝর্ণা বেগমের মনের অন্ধবিশ্বাস বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি; তিনি উল্টো ঝিলমিলের চরিত্র নিয়েই আঙুল তুলতে থাকেন।
ব্যাস, বারিশের ভেতরের যে রূপটা চেপে ছিল, তা নিমেষেই বেরিয়ে আসে। চোখের সামনে যা পেয়েছিল… ফুলদানি, কাঁচের শো-পিস, টেবিল—সব সশব্দে ছুড়ে মেরে আছড়ে ভেঙে চুরমার করে দেয় সে।
মায়ের গায়ে তো আর হাত তোলা যায় না। তাই সব রাগ ওসবেই ফলাচ্ছিল।
পুরো ঘরজুড়ে এখন কাঁচের টুকরো আর ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। চঞ্চল শেহরিয়ার আর শিউলি বেগম থামানোর পর এখন সে সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত হয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে বটে, তবে ওর চোখের সেই হিং”স্র আ”গুনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।
জারিফকে নিজ হাতে উপযুক্ত শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত বারিশের ভেতরে জ্বলতে থাকা এই আক্রোশের আ”গুন কিছুতেই নিভবে না।
ফরহাদ সাহেব আর ঝর্ণা বেগম এখন হসপিটালে জারিফের কাছে আছে। ঝর্ণা বেগম ধারণা করতে পেরেছিল জারিফ কোনো অঘটন করবে, তবে সেটা এতটা জঘন্য ভাবে সেটা ভাবতে পারেনি। ফরহাদ সাহেব আপাতত ছেলেকে সুস্থ করে তারপর আইনি ব্যবস্থা নেবে। লাগবে না তার এমন সন্তান।
— আপনার ছেলের সাহস কি করে হয় আমার মেয়েকে কাজের লোক বানিয়ে রাখার? কোন সাহসে আমার মেয়েকে দিয়ে রান্না করায় সে? আপনিই বা এসব কি ভাবে হতে দিলেন? দেখেননি আপনি, আমি আমার মেয়েকে কীভাবে মানুষ করেছি? কোথায় আমার মেয়ে? ঝিলমিল! ঝিলমিল…
খেপা বাগের মতো বাক্য গুলো ছুড়ে দিলেন চঞ্চল সাহেবের উদ্দেশ্যে। ঝিলমিলকে নিয়ে আসা হয়েছে শুনেই চলে এসেছে আলতাফ চৌধুরী। তার সঙ্গে রয়েছে মেহরাজ, দীঘি, নূরজাহান চৌধুরী। তাহসিন আর ইরানও আছে। ইরান ঝিলমিলের খবর শুনে তার বর্তমান অবস্থা জানতে চৌধুরী বাড়িতে এসেছিল। তখন সবার সঙ্গে সে এখানে চলে আসে।
দীঘি আর মেহেরাজও খেপে গিয়েছে। ঝিলমিল তো তাদের আদরের ভাইজি। তাকে দিয়ে বারিশ কোন সাহসে এসব কাজ করাবে? যেখানে বাড়িতে এত গুলো কাজের লোক আছে? আর ঝিলমিলই বা কেন এসব লুকিয়ে যাচ্ছে?
বাবার কন্ঠ পেয়ে বের হয়ে আসে ঝিলমিল। নিচে নিজের পরিবারের সকলকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। মাথায় এখনো ব্যান্ডেজ করা মেয়েটার। বারিশ গিয়েছিল দুপুরের খাবার কিনতে। মাত্রই এলো সে। তার কপালেও ব্যান্ডেজ।
— এই তো বে’’য়াদবটা! এই বে”য়াদব তোর চাকরগিরি করার জন্য আমার মেয়েকে এখানে পাঠিয়েছি? অন্ধ নাকি তুই? দেখিসনি ছোটবেলা থেকে মেয়েটাকে আমরা কত আদর-ভালোবাসায় রাজকন্যার মতো বড় করেছি?
বারিশকে সামনে দেখেই রাগে-ক্ষোভে ছুটে গিয়ে গর্জে উঠলেন আলতাফ চৌধুরী।
দীঘি ঘৃণাভরা চোখে বারিশকে মেপে নিয়ে তীব্র তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল,
— তোমাকে আমি যথেষ্ট ম্যাচিউর আর স্মার্ট একজন পুরুষ মনে করেছিলাম, বারিশ! আর তোমার আচরণ কিনা এমন অশিক্ষিত ছোটলোকের মতো! হাউ ক্যান সামওয়ান বি দিস ক্লুলেস? আই ক্যান্ট বিলিভ ইউ ডিড দ্যাট।
মেহরাজও নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তেড়ে এসে চিৎকার করে উঠল,
— আজ সকালেও আমি তোর উপর ভরসা করে ওকে এখানে রেখে গেছি, আর গিয়েই শুনি তুই ওকে আরও বেশি অত্যা”চার করছিস!
সবার উত্তরে একটা জবাবও দিল না বারিশ। না সে নিজের সাফাই গাইল, আর না চঞ্চল শেহরিয়ার একটা প্রতিবাদ করলেন। চঞ্চল সাহেব বুকভাঙা অপরাধবোধে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর বারিশের স্থির দৃষ্টি নিস্পলকভাবে আটকে রইল এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিলমিলের ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া চেহারায়।
নূরজাহান চৌধুরী ঝিলমিলের হাত ধরে বললেন,
— চলো জাহান, তোমাকে আমরা ভুল মানুষের হাতে তুলে দিয়েছি। নিজের পরিবারের কথা ভেবে এমন একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেললাম! চলো, আর থাকতে হবে না তোমার এখানে।
আলতাফ সাহেবও মেয়ের আরেকটা হাত চেপে ধরলেন,
— চল মা, তোকে আমি এমন কারো হাতে তুলে দেব, যে তোকে রাজরানি করে রাখবে।
দাদীমা আর বাবার কথায় ঝিলমিল চোখ তুলে বারিশের দিকে তাকাল। বারিশ এতক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ঝিলমিল তাকাতেই চট করে দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
সে তো এত বড় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জারিফের ওপর জেদ করে। বারিশকে স্বামী বলে মেনে নেওয়াটাও ছিল সেই জেদেরই ফসল। কিন্তু এখন সে কেন থাকবে? জারিফ কাল রাতে তাকে যে শিক্ষাটা দিয়েছে, সেকথা ভাবতেও গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়! আর জারিফ যদি সুস্থ হয়ে আবারও এই বাড়িতে ফিরে আসে? না, একই বাড়িতে ওর সাথে থাকা অসম্ভব!
— কিরে জাহান, যাবি না?’মেহরাজ বলল।
ঝিলমিল বারিশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে চঞ্চল সাহেবের দিকে তাকাল। চঞ্চল সাহেব নিচু স্বরে বললেন,
— চলে যাও মা, আমি আজ তোমায় আটকাব না। তোমার বাবার জায়গায় আমি হলেও একই কাজ করতাম।
মেয়েটা আবারও বারিশের দিকে তাকাল। বারিশ এবার আর দৃষ্টি ফেরাল না। তাকিয়েই রইল ঝিলমিলের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে রইল। ঝিলমিলের চোখের চাউনি বারিশ বুঝতে পারকেও, ঝিলমিল মানুষটার চোখের ভাষা পড়তে ব্যর্থ হলো বোধহয়। আর কোনো কথা বাড়াল না ঝিলমিল, শুধু নীরবে মাথা নেড়ে নিজের বিদায়ের সম্মতিকালীন সায় জানিয়ে দিল।
শিউলি বেগম, জারিন ঝিলমিলের দিকে এগিয়ে গেল। জারিন কাতর স্বরে বলল,
— মামনি, তুমি সত্যিই চলে যাবে? তাহলে আমায় নাচ কে শেখাবে?
শিউলি বেগম শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— বাবা, ঝিলমিলকে যেতে দিয়েন না। কথা বলে নাহয় সব ঠিক করা যাক। তরঙ্গকে আমি নিজে বুঝিয়ে বলব।
কিন্তু চঞ্চল সাহেব পাথরের মতো অটল, কোনো কিছুই কানে তুললেন না। নিজের ছেলের কৃতকর্মের দায় যেন তাঁকে বাক্যহারা করে রেখেছে। সে নিজেই তো মেয়েটার উপর এমন জুলুমে অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অযথাই মেয়েটাকে দিয়ে বাড়তি কাজ করিয়েছে। সকালে নাস্তা বানিয়ে কলেজে গিয়ে, আবার কলেজ করে এসে দু’বেলা রাধতে হয়েছে। বাকি কাজ তো আছেই! যেখানে এ বাড়িতে প্রতিটা কাজের জন্য একাধিক কাজের লোক রয়েছে।
ঝিলমিলকে নিয়ে পা বাড়াল তার বাবা। বুকের ভেতরটা ঝিলমিলের দুরুদুরু কাঁপছে। চলে যেতে মন চাইছে না, আবার জারিফের বিভীষিকাময় স্মৃতি বি”ষের মতো তাড়িয়ে দিচ্ছে। দু’কদম এগোতেই হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বারিশ ঝিলমিলের হাতটা শক্ত করে টেনে ধরল।
ঝিলমিল চমকে থমকে দাঁড়াল। বারিশের হাতের উত্তপ্ত স্পর্শে ঝিলমিলের শরীরটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। বেড়ে গেল
হৃদস্পন্দন। চোখ তুলে বারিশের তাকাতেই বুকের ওই পাশটায় একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করল মেয়েটা। মানুষটার চোখের ওই গভীরতায় তাকিয়ে নিজেকে অসহায় মনে হলো খুব। তবু ফিসফিস করে বলল,
— সারাক্ষণ তো বলতেন, আপনার কথা মেনে চলতে না পারলে যেন চলে যাই… আশা করি আজ আটকাবেন নাহ…
ঝিলমিল যে বোঝাতে চাচ্ছে সে আর বারিশের কথা মেনে চলতে পারবে না, তা বারিশ বুঝে গিয়েছে। যদিও ঝিলমিলের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি দেখে আগেই বুঝে গিয়েছে তার থাকার ইচ্ছে নেই। তার এই একটা কথাতেই বারিশের অনমনীয় ধরে রাখা মুঠোটা আস্তে করে ঢিলে হয়ে গেল। হাতটা ছেড়ে দিল বারিশ।
অন্য হাতে থাকা খাবার গুলো বিকট শব্দে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে ধীর পায়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। ঝিলমিলও তার পরিবারের সাথে বাড়ির বাহিরের দিকে পা বাড়ায়। শিউলি বেগম এবং চঞ্চল সাহেব এবার ঝিলমিলকে বাঁধা দিতে যেতে চাইল, তবে বারিশের কন্ঠ পেয়ে থেমে যায়।
— কেউ আটকাবে না ওকে। আমি আমার জন্য বাধ্য স্ত্রী চাই, কোনো বাবার বাধ্য মেয়ে নয়।
পেছন দিকে না ঘুরেই বলল বারিশ। বাক্যগুলো কানে আসতেই ঝিলমিলের চলার গতি এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। তবে সেও আর পেছন ফিরে তাকাল না। পূনরায় বাবার হাত ধরে হাটা ধরল। সকলেই চলে গেল।
বারিশ রুমে গিয়ে শব্দ করে দরজাটা আটকে দিল। ঘরের ভেতরে পা রাখতেই ওর চোখের ভেসে উঠতে ঝিলমিলের চাহনি আর কথা গুলো। বুকের ভেতর জমতে থাকা প্রচণ্ড ক্ষোভ সইতে না পেরে বারিশ টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের ফুলদানিটা হাত দিয়ে সজোরে আছাড় মারল দেয়ালে। বিকট শব্দে ঝনঝন করে ভেঙে ছাতু হয়ে গেল সেটা। শ্বাস-প্রশ্বাস প্রচণ্ড দ্রুত আর ভারী। হাতের মুঠি দুটো এত শক্ত করে চেপে ধরল যে হাতের রগগুলো নীল হয়ে ফুলে উঠল।
ঝিলমিলের অস্তিত্ব এই ঘরের প্রতিটি কোণায় ওর চোখে বিঁধছে। ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা ঝিলমিলের ফেলে যাওয়া চিরুনি, লিপস্টিক আর আলমারিভর্তি জামাকাপড়। উন্মত্তের মতো আলমারিটা হ্যাঁচকা টানে খুলে ফেলল বারিশ। ঝিলমিলের সাজিয়ে রাখা কূর্তি, টি-শার্ট বের করে সে মেঝেতে ছুড়ে ফেলতে লাগল। কোনোটার ওপর পা দিয়ে মাড়িয়ে দিল, কোনোটা ছিঁড়ে ফেলল অবলীলায়। কিছুদিন আগে ঝিলমিলকে যে ফোনটা কিনে দিয়েছিল সেটাও ভেঙে ফেলল।
অ্যালার্ম ঘড়ি, বইপত্র, টেবিল ল্যাম্প—সামনে যা পেল সবকিছু হ্যাঁচকা টানে মেঝেতে ফেলে তছনছ করে দিতে লাগল। র”ক্তবর্ণ চোখ দুটো মেলে ঘরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছিল। এত কিছু ভস্ম করার পরও বুকের ভেতরের আ”গুনটা কেন যেন শান্ত হচ্ছিল না।
মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা লণ্ডভণ্ড জামাকাপড়গুলোর মধ্যে হঠাৎ একটা বিশেষ শাড়ি বেরিয়ে এল। গাঢ় মেরুন রঙের একটা শাড়ি।
সেদিন শিউলি বেগম কত শখ করে ঝিলমিলকে এই শাড়িটা পরিয়ে বারিশের সামনে নিয়ে এসেছিলেন। মিষ্টি হেসে বারিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,
— দেখো তো তোমার বাচ্চা বউকে কেমন লাগছে?
বারিশ তখন ল্যাপটপে কাজের মধ্যে ডুবে ছিল। কথা শুনে বিরক্তি নিয়ে চোখ তুললেও, ঝিলমিলকে ওই নতুন রূপে দেখে না চাইতেও কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গিয়েছিল ওর দৃষ্টি। মেহগনি রঙা মেরুন শাড়িতে মেয়েটাকে এক পলক দেখার পর চোখ সরানো আস আসলেই কঠিন ছিল। ওপাশে ঝিলমিলও বারিশের মুখ থেকে দুটো প্রশংসার কথা শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু শিউলি বেগম যখন আবার তাগাদা দিয়ে বললেন,
— কী হলো, কিছু বলো?
বারিশ তখন খুব স্বাভাবিক গলায় নিজের মুগ্ধতা লুকিয়ে বলেছিল,
— ওর চোখে কাজল মানাচ্ছে না।
কথাটা শোনামাত্রই ঝিলমিলের মুখটা কালো হয়ে গিয়েছিল। অভিমান আর রাগে এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে রুম ছেড়ে চলে গিয়েছিল সে।
মেঝেতে পড়ে থাকা সেই মেরুন শাড়িটার দিকে তাকিয়ে বারিশের রেগে যাওয়া চোখ দুটো যেন কিছুক্ষণের জন্য ঝাপসা হয়ে এল। সজোরে এক লাথি মেরে শাড়িটা দূরে সরিয়ে দিল। ঘরের তছনছ হওয়া ধ্বংসস্তূপের দিকে আর একবারও না তাকিয়ে, রুমের দরজাটা খোলা রেখেই ঝড়ের বেগে বাসা থেকে বের হয়ে গেল বারিশ। সারাদিনে আর একবারও বাড়ি ফেরেনি সে।
— জানিস ঝিলমিল, তাহসিন বিবাহিত! ওর একটা বাচ্চাও আছে।
রাতের খাবার খেতে ডাইনিং টেবিলে বসতেই কথাটি বলে উঠল দীঘি। টেবিলে তখন তাহসিন আর মেহরাজও খাচ্ছিল। কথাটা শুনে ঝিলমিল যেন আকাশ থেকে পড়ল। অবাক হয়ে বলল,
— মজা করো না তো ফুপি! এখন একদম ভালো লাগছে না এসব।
— বিশ্বাস না হলে ওকেই জিজ্ঞেস কর।
তাহসিনের দিকে ইশারা করে বলল দীঘি।
ঝিলমিল তাহসিনের দিকে তাকিয়ে সোজাসুজি শুধাল,
— আঙ্কেল, সত্যি?
তাহসিন তার খাওয়া থামাল। ধীরেসুস্থে মাথা তুলে শান্ত গলায় বলল,
— হ্যাঁ।
এবার ঝিলমিলের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
— এটা কীভাবে সম্ভব! ফুপি তো…
দীঘি তড়িঘড়ি করে ঝিলমিলের হাত চেপে ধরল। চোখের ইশারায় মেহরাজের দিকে দেখিয়ে ওকে থামিয়ে দিল। ঝিলমিল তৎক্ষণাৎ চুপ হয়ে গেল। তারপর কিছুটা সামলে নিয়ে গলার স্বর বদলে বলল,
— আচ্ছা, তা আগে কেন বলেননি? আর আপনার ছেলের বয়স কত? আপনার ওয়াইফই বা কোথায়? দেখতে কেমন সে?
একাধারে এতগুলো প্রশ্ন ছুড়ে দিলেও তাহসিন কেবল একটা শব্দেই পুরো পরিবেশের হাওয়া বদলে দিল।
— অবৈধ।
— কে?
— আমার বাচ্চা।
মেহরাজ আর ঝিলমিল প্রায় একই সাথে চিৎকার করে উঠল,
— হোয়াট?!
দীঘির শরীর যেন নিমেষেই জমে বরফ হয়ে গেল। তাহসিন এতটা জ”ঘন্য? এতটা নিচ! নড়ার মতো শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলল সে। মেহরাজ এই জ”ঘন্য সত্যটা শুনে তাহসিনকে দুটো কড়া কথা শোনাতে যাবে, ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত হলেন আলতাফ চৌধুরী আর নূরজাহান চৌধুরী।
— কী নিয়ে এত কথা হচ্ছে, হ্যাঁ? আজ আমার ঝিলমিলকে আমি নিজে হাতে খাইয়ে দেব। কত শুকিয়ে গেছে রে আমার মেয়েটা!
আলতাফ সাহেব ঝিলমিলের পাশে বসতে বসতে বললেন। তারপর মেহরাজের দিকে ফিরে তাগিদ দিলেন,
— ওই জারিফটা যেন কোনোভাবেই পার না পায়! হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বের হলেই ওকে সোজা লকআপে ঢোকানোর ব্যবস্থা করবি।
— হ্যাঁ, তুমি এসব নিয়ে একদম ভেবো না।
আলতাফ সাহেব প্লেটে ভাত মাখিয়ে যত্নে এক লোকমা ঝিলমিলের দিকে তুলে ধরলেন। ঝিলমিলও আলতো করে মুখ খুলল, কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা হঠাৎ মুচড়ে উঠল তার।
এখন তো রাত। দুপুরে শেহরিয়ার বাড়ি থেকে চলে এসেছে সে। সারাদিন নানা ঝামেলার মাঝে সেই লোকটার কথা খুব একটা মনে পড়েনি। কিন্তু রাত হতেই যেন অতীতগুলো ঘিরে ধরল। প্রতিদিন রাতে সে-ই তো লোকটাকে খাইয়ে দিত। ঝিলমিল হাত দিয়ে না খাইয়ে দিলে লোকটা তো জেদ করে খেতই না! আজ রাতে কী করছে মানুষটা? অবচেতনেই ভাবছে, লোকটা কি আদতেও রাতে কিছু খেয়েছে? নাকি না খেয়েই আছে?
— কী হলো মা? খাবার মুখে নিচ্ছ না কেন?
বাবার ডাকে চমকে উঠে তার দিকে তাকাল ঝিলমিল। জোর করে খাবারটা মুখে নিল। কিন্তু একবার-দু’বার চিবিয়ে গিলে ফেলেই বলল,
— আর খাব না বাবা। একদম খিদে নেই।
কথাটা বলেই সে টেবিল ছেড়ে উঠে নিজের রুমে চলে গেল। নূরজাহান চৌধুরী একবার ঝিলমিলের যাওয়ার দিকে তাকালেন। ঠোঁটের কোণে হালকা কেমন এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল তার। পরিবারের সবাই ঝিলমিলের আচরণে অবাক হলেও দীঘি তখনো নিস্প্রাণ হয়ে বসে আছে। চামচটা খাবারের মধ্যে গেঁথে দিয়ে সে থম মেরে রইল। কিছুক্ষণ পর সে-ও টেবিল ছেড়ে নীরবে উঠে চলে গেল।
রুমে এসেই দীঘি উন্মত্তের মতো পেন্সিলে আঁকা স্কেচগুলো ছিঁড়তে শুরু করল। এগুলো সব তাহসিনের ছবি! কোনোটায় তাহসিনের নিখুঁত দুটো চোখ, কোনোটায় ঠোঁট, আবার কোনোটায় ওর পুরো অবয়ব। কত রাত জেগে আবেগ দিয়ে ছবিগুলো এঁকেছিল সে! কিন্তু আজকের পর এই কোনো স্মৃতি রেখে দেওয়ার আর কোনো মানেই হয় না। সে তাহসিনের প্রেমে পড়েছিল তার ইনোসেন্ট চেহারা দেখে। কিন্তু সে তো তার কল্পনার চেয়েও জঘন্য! সে এই রাতেই বাসা থেকে বের হয়ে গেল।
অন্যদিকে, ঝিলমিল তার রুমের জানালায় দাঁড়িয়ে। দৃষ্টি তার ঠিক পাশের বাড়ির রুমের জানালার দিকে। বারিশের রুম সেটা। পুরো রুমটা অন্ধকারে ডুবে আছে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না সেখানে। ঝিলমিলের বুকের ভেতরটা অজানা এক অস্থিরতায় মোচড় দিয়ে উঠল। রাত যত বাড়ছে, সেই অন্ধকার জানালার দিকে তাকিয়ে ওর নিঃশ্বাস যেন ততই ভারী হয়ে আসছে।
গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে শহরের এক নির্জন, আলো-আঁধারিতে ঘেরা ফ্লাইওভার ওপর। গাড়ির সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বারিশ। র”ক্তবর্ণ চোখে তাকিয়ে আছে দূরের নিঝুম শহরটার দিকে। পরনের শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটানো। বুনো বাতাসের সাথে সাথে ওর এলোমেলো চুলগুলো কপালে এসে পড়ছে। ড্রাইভিং সিটের দরজা খোলা, আর ভেতর থেকে খুব ধীরলয়ে বেজে চলেছে একটা হিন্দি গান।
হাতে অর্ধেক জ্বলে যাওয়া সিগারেট। ধূসর ধোঁয়াগুলো বাতাসের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ওভাবেই পড়ে আছে ওর সাইলেন্ট হয়ে থাকা ফোনটা। স্ক্রিনে বারবার শিউলি বেগমের কল ভেসে উঠে আবার নিভে যাচ্ছে, কিন্তু বারিশের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
সিগারেটে শেষ একটা টান মেরে সেটাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলল বারিশ। ওর মস্তিষ্কে বার বার কাঁচের মতো বিঁধছে ঝিলমিলের সেই শীতল কণ্ঠ,
“আশা করছি আজ আর আটকাবেন না।”
বারিশের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে কঠিন, বরফের মতো ঠান্ডা ও বি”ষাক্ত হাসি ফুটে উঠল। অন্ধকারে চোখ দুটো ছোট করে নিজের আনমনেই বলে উঠল,
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২৩
— I was alone, I am alone, and I am enough for myself. No one can handle me… No one.
নতুন পেইজে তো দিলাম, সবাই পড়ছেন তো? আজ বেশি বলব না, সবাই ৭ হাজার রিয়েক্ট করে দিয়েন হু? বড় পর্ব তাই বড় করে মন্তব্য করিয়েন।
