শেহেজাদার আদর পর্ব ১৫
সুমাইয়া ইসলাম নূর
পুকুর পাড়ের নরম বাতাসটা তখন আরও ঠান্ডা হয়ে এসেছে…
আকাশের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে পানির ঢেউয়ে…
ইনায়া এখনো ইউভির দিকে তাকিয়ে… তার চোখে প্রশ্ন অপেক্ষা আর একটু কাঁপা কাঁপা অনুভূতি
,ইউভির মুখে তুই শোনার পড় থেকে ইনায়া অবাক হয়ে ইউভি কে দেখছে।
ইউভি এক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল…
তারপর হালকা হেসে চোখ সরিয়ে নিল…
মনে মনে বলল—
বেচারা লিখন চৌধুরীর ভাতিজি কে নিয়ে তো বেশ গর্ব ছিল…
এখন আপনার সেই ভাতিজি দুর্বল হয়ে গেছে আমার উপর
ভালোই তো… আমি কি এত সহজে ধরা দেবো নাকি আহহ কি শান্তি।
ইউভির ঠোঁটে একটা দুষ্টু চাপা হাসি ফুটে উঠল…
ইনায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই—
ইউভি হঠাৎ করে তার হাতটা ধরে ফেলল…
চল।
ইনায়া একটু চমকে উঠল—
কোথায়?
ইউভি একদম স্বাভাবিক গলায় বলল—
“মা ফোন দিয়েছিল… তোকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলছে।
একটু থেমে আবার বলল—
নানুরা সাম্মি রা সবাই চলে আসছে আর সবাই আসছে আজ বাড়িতে সাবধানে থাকিস আদর।
কথাটা এমনভাবে বলল—
যেন একটু আগের সব কথাই গুরুত্বহীন সব কিছু ভুলে গেছে ইউভি।
ইনায়া এক মুহূর্ত থেমে রইল…
তার চোখে এক সেকেন্ডের জন্য হতাশার ছায়া এল বাকি কথা বললেন না ইউভি ভাইয়া
কিন্তু পরের মুহূর্তেই—
সব ভুলে গিয়ে হালকা হাসে বললো সাম্মি বেবি আসছে
তারাতাড়ি চলো ভাইয়া।
ইউভির হাতটা সে নিজেই শক্ত করে ধরে ফেলল এবার…
ইউভি এক ঝলক তাকাল তার দিকে—
চোখে মিশ্র এক অনুভূতি…
কিছু লুকানো ওকিছু না বলা
দুজনেই ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল…
পেছনে পড়ে রইল পুকুরপাড়…
সন্ধ্যার লাল আলো…
আর সেই না বলা কথাগুলো…
বাতাসটা আবার হালকা করে বয়ে গেল
ইউভি আর ইনায়া বাচ্চা দের থেকে বিদাই নিয়ে চলে গেলো চৌধুরী বাড়ির উদ্দেশ্য।
বাড়িতে এসে—
দুজনেই আর কোনো কথা না বলে যে যার রুমে চলে গেল…
ইনায়া নিজের রুমে ঢুকেই একটু থমকে গেল পিয়াসা সাম্মি আর রানি বসে আছে তার বিছানা দখল করে।
ইনায়ার মামাতো বোন সাম্মি
বয়স ১৭… ইন্টার ফার্স্ট ইয়া পড়ে ইনায়া দের সাথে
দেখতে মাশাআল্লাহ সুন্দর উচ্চতা ৫ ফিট। রানি পিয়াসা আর ইউভির মামাতো বোন ক্লাস টেনে পড়ে।
ইনায়া রুমে ঢুকতেই—
রানি, সাম্মি আর পিয়াসা একসাথে চিৎকার করে উঠল—
ইনায়া
তিনজন দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল…
বেবি তুই আসছিস
পিয়াসা সাথে সাথে একটু দূরে সরে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল—
তুই আমাকে না বলে কোথায় গেছিলি?
বুঝি না বেবি তুই মাঝেমাঝে বিকাল হলেই কোথায় হারায় যাস বল তো।
ইনায়া দুষ্টু হাসি দিয়ে পিয়াসার গাল টেনে বলল আমার শান্তি আমার স্বপ্নের খোঁজে পাখি।
পিয়াসা চোখ সরু করে তাকিয়ে বলল—
“ওহহহ… ব্যাপার আছে!”
ইনায়া শুধু হালকা হেসে বিছানায় বসে পড়ল…
রুম ভরে উঠল হাসি, গল্প আর খুনসুটিতে রানি বললো জানো আপু তুমি অনেক সুন্দর তোমাকে সাদা টি সার্ট একদম বারবিডল লাগছে
কিন্তু।ইনায়া রানি কে বললো তোকে ও অনেক সুন্দর লাগছে বোনু।
এর পর ওরা কলেজে কে কি করে এই সব নিয়ে আলোচনা করে।তারপর শুরু হয়ে গেল—
হাসি আনন্দ
এইদিকে—
ইউভির রুমে জমে উঠেছে ছেলেদের আড্ডা…
রেদোয়ান বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে আছে
রাজ্জো চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে বই পরছে।
রেসোব জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোন ঘাঁটছে।
রাজ্জ ইউভির মামাতো ভাই বয়স ২৭ পেশায় ডক্টর। রেসব রেদোয়ান এর মামাতো ভাই বয়স ২৫ এখনো পড়াশোনা করছে।
দরজা খুলে ইউভি ঢুকতেই—
রেদোয়ান মুখ টিপে হেসে বলল—
“এই যে ভাই আমার অবশেষে আসার সময় হলো?”
রাজ্জো সাথে সাথে যোগ করলো
কি ব্যাপার ইউভি… বিকেলটা কেমন গেল?
রেসোব ফোন নামিয়ে হালকা হাসল—
“আমরা কিন্তু সব জানি ভাইয়া
ইউভি জ্যাকেট খুলে ছুড়ে দিয়ে বলল—
তোদের কাজকাম কিছু নাই?
আর আমার রুমে কেন চৌধুরী বাড়ি তে কি রুম এর অভাব পরছে।সালা সবগুলা
রেদোয়ান সোজা হয়ে বসে বলল আছে তো রুম ও আছে কাজ ও আছে।
বাট তুমি কোথাও নাই তাই খুজতে এলাম তিয়া আপু কে নামিয়ে দিয়ে আসার পর আর খোজ পাইলামম না।
তোমার ভাইয়া।
রাজ্জো বলবে ওহহহ তিয়া তিয়া তাই না ইউভি।
ইউভি গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
“হুম… তোর আবার কি হলো? ঝুনঝুনিতে লারা লাগলো নাকি?”
রাজ্জো দুই হাত তুলে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
শেষ! আমি শেষ!
এই শালার একটা কথাই এনাফ আমাকে চুপ করানোর জন্য!”
রেসোব হেসে বলল—
ভাই তুমি না ডাক্তার তুমি রোগী দের মতো করো কেন।
ইউভি চোখ রাঙিয়ে বলল
আর একটা কথা বলবি সবাইকে রুম থেকে বের করে দিবো।
আমি বাচি না আমার জালাই
রাজ্জো সাথে সাথে বালিশটা বুকে জড়িয়ে বলল
“না না ভাই… আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ
আমরা আর কিছু বলবো না।
শুধু শুনবো বলো তোমার জালা কোথাই
আর কিসের?
আমি মেডিসিন দিয়ে দিবো বলো।
ইউভি বললো এই মেডিসিন তুই দিতে পারবি না পারবে শুধু আমার।
দিলরুবা।
তিনজন এক সাথে চিৎকার করে বলে দিলরুবা টা আবার কে ব্রো।
ইউভি রেদোয়ানকে বলে আমার একমাত্র চাচীর বেটি।
তোর একমাত্র বোন।
রেদোয়ান প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলে থাক ভাই। অন্য টপিকে যাই।
কাল বাদে পরশু রিমঝিমের বিয়ে।
কাল থেকেই শুরু হবে হলুদ আর মেহেন্দির আয়োজন। সকালে হবে হলুদ আর আবির খেলা, আর রাতে মেহেন্দি। দুপুরে চলবে রঙের খেলা—সব মিলিয়ে অনেক মজা।
ইনায়া তুবার সাথে ফোনে কথা বলছে।
সকাল ৯টার আগে তোকে চৌধুরী বাড়িতে দেখতেই চাই। শয়তানের নানি। আমার ফুপির হলুদের প্রোগ্রাম শুরু হবে সকালে , আর রাতে মেহেন্দি। দুপুরে আমরা রঙ খেলবো—অনেক মজা হবে।
আরও কিছু কথা বলে ইনায়া ফোনটা রেখে দিল।
হঠাৎ তার মনটা কেমন করে উঠল।
ফুপিমনি আমাদের রেখে চলে যাবে… আমি কীভাবে থাকবো ফুপিকে ছাড়া?
এই ভাবনা নিয়েই ইনায়া রিমঝিমের রুমের দিকে হাঁটা শুরু করল।
গিয়ে দেখে রিমঝিম মনমরা হয়ে বিছানার এক পাশে বসে আছে।
ইনায়া গিয়ে রিমঝিমের কোলের উপর মাথা রাখল।
ইনায়া বলল—“ফুপি…”
রিমঝিম শুধু হালকা করে বলল—“হুম…”
ইনায়া বলল ওই বাড়িতে কীভাবে থাকবা?
রিমঝিম হালকা হাসে বললো
আমি এই বাড়ি তেই থাকবো পাগলি তোর ফুপার মা-বাবা নেই, একমাত্র বোন জাপানে থাকে।তাই আমাকে এই বাড়িতেই বেশি থাকতে হবে তোদের সাথে। মন খারাপ করিস না।”
ইনায়া চোখ বন্ধ করে রিমঝিমের কোলেই মাথা রেখে বললো ফুপি আমার না কিছু ভালো লাগছে না।
ঠিক তখনই ইউভি রুমে ঢুকল।
ইউভি রিমঝিমকে দেখে বলল পি
রিমঝিম এর কোলে ইনায়া কে সুয়ে থাকতে দেখে ইউভি বললো।
“বাহ… পি, সব ভালোবাসা শুধু আমার চাচীর বেটিই পাবে?
রিমঝিম বললো না তোর ভাগের টা তোরি আছে তুই ও এক পাশে এসে সুয়ে পর।
ইনায়া চমকে উঠে বলল—
আমি আসছি ফুপিমনি
রিমঝিম হেসে বলল—
না থাক ভালো লাগছে আমার।
রিমঝিম বললো আই দুজন কেই আদর করে দিবো।
ইনায়া তখনো চোখ বন্ধ করেই রিমঝিমের কোলেই শুয়ে আছে।
চোখ খুলছে না, খুলবেও না যেন এমন এক অবস্থা।
ইউভি এসে রিমঝিমের পাশে শুয়ে পড়ল—একদম ইনায়ার সামনে।
ইনায়া চোখ বন্ধ করেই আছে, খুলছে না।
ইনায়া বললো।ফুপিমণি আমাকে ও কি বিয়ে করে এই বাড়ি ছেরে চলে যেতে হবে।
রিমঝিম কিছু বলার আগেই ইউভি বললো একদম না তোকে আমি কোথাও যেতে দেবো না। আই রিপিট কোথাও না।
ইনায়া বললো যদি বাবা চাচ্চুরা বিয়ে দিতে চাই তাহলে কি করবেন।
কারো সাহস নাই আদর তোকে বিয়ে দিতে চাইবে।
ইনায়া বললো যদি আমি চাই ইউভি ভাইয়া।
তোকে আমি সেই অধিকার দেবোইনা আদর।
ইনায়া মনে মনে বললো আমি যে বড্ড বেসামাল হয়ে পরছি এমনোন লাগছে কেন ইউভি ভাইয়া।
রিমঝিম ইউভির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল—
“এত দায়িত্ব নিতে যাস না বাবা আবার বতুন ব্রান্ড তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিস শুনলাম।
মাঝে মাঝে নিজের স্বপ্নগুলার কথা মনে রাখিস বাবা এই টুকু বয়সে অনেক বড় দায়িত্ব নিয়ে ফেলছিস।
ইউভি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল… তারপর হালকা হাসে বললো এতো কিছু করার পরে ও তোমার ভাই য়ের মন পাইলাম না।
আমাকে পূরানোর জন্য নতুন প্ল্যান করছে জানো।
রিমঝিম বললো কেন ইউভি কি হয়ছে।
আমার দিলরুবা কে আমার থেকে আলাদা করতে চাচ্ছে এই টা ঠিক যে আমরা এখনো এক হতে পারি নি। কিন্তু তাও আলাদা করতে চাই সালা বাপ না হিটলার বুঝি না।
আর এইসব বলদ দিয়ে কী হাল চাষ হয় পি।
ইনায়া রিমঝিম কে বললো হাল চাষ টা আবার কি ফুপিমণি।
ইউভি বললো তোকে বুঝতে হবে না।
যেই টা বুঝার দরকার সেইটা বুঝিস না আবার ওইসব নিয়ে পরে আছিস।
ইনায়া বললো কি বুঝবো আমি।
ইউভি বললো আমাকে।
ইনায়া বললো আপনাকে কেন।
ইউভি বললো আমাকে বোঝার মতো কেও নাই তাই।
ইনায়া বললো কেন তিয়া আপু তো আছে সবসময় চিপকাই থাকেন আবার ম্যাচিং ম্যাচিং ড্রেস ও পরেন।
ইউভি ইনায়ার নরম তুলতুলে হাত টা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে।
বাবাহ এতো কিছু ফলো করিস কবে থেকে হুম।
ইনায়া বললো আমি কেন আপনাকে ফলো করবো এমনি দেখেছিলাম তাই বললাম।
রিমঝিম বললো তোদের কে ঝগড়া করলে অনেক মিষ্টি লাগে।
ইনায়া বললো আমি কই ঝগড়া করলাম ফুপিমণি তোমার ভাতিজাই তো কথা বলতে বলতে ঠাস করে ঝগড়া লাগিয়ে দিলো।
ইউভি বললো দোয়া করো পি সারাজীবন এই ভাবেই যেন ঝগড়া করে কাটিয়ে দিতে পারি।
ইনায়া একটু দুষ্টমি করে বলে আমি কেন আপনার সাথে সারাজীবন ঝগড়া করবো আমার শেহেজাদা আছে তো ঝগড়া করার জন্য।
আপনি বরং আপনার দিলরুবার সাথে ঝগড়া করেন।
ইউভি ইনায়ার হাত আরো সক্ত করে ধরলো।
কে তোর শেহেজাদা ইনায়া মৃদু চিৎকার করে বললো বলবো না।
ইউভি বললো জানো তো পি খুব দ্রুত আমি আমার দিলরুবা কে আমার করে নেব।
ইনায়া বললো কে এই দিলরুবা ইউভি ভাইয়া।
ইউভি বললো যে আমার মন চুরি করেছে।
ইনায়া বললো কে সে?
ইউভি বললো আমার দিলরুবা।
ইনায়া মনে মনে ইউভি কে হাজার টা গালি দিলো।
সালার লুচ্চা সালা মনে একজন কে নিয়ে আবার আমার হাত ধরে রাখছে
এতো কারেন্ট কেন শরীরে বালের শেহেজাদা।
ওই পেকাটির নানি কে তোমার আশে পাশে ও আসতে দেবো না।
আই রিপিট কখোনও না।
আমার শেহেজাদা শুধু আমার।
ইনায়া চোখ বন্ধ করেই কথা গুলো বলছিল।
ইউভি এক ধ্যানে ইনায়া কে দেখছে।
কেমন যেন মাতাল মাতাল লাগছে ইউভির নিজেকে।
বড্ড বেসামাল হয়ে পরছি রে আদর বুক টা পূরো শূন্য শূন্য লাগে।
তুই কবে এই শূন্যইস্থান পূরন করবি।
ইউভি বললো ফুপি আমার দিলরুবা কে আমার করে দাও ফুপি। ওকে ছারা থাকতে বড্ড কষ্ট হয় আমার।
জানো ফুপি ওকে ছাড়া আমার শ্বাসটাই যেন ঠিকমতো চলে না
ও পাশে থাকলে সবকিছু এত সহজ লাগে তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না কথা গুলে ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলছে ইউভি।
ওর হাসিটা… আমার সবচেয়ে প্রিয়
সারাদিনের ক্লান্তি এক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায়…
আমি ওকে শুধু ভালোবাসি না
আমি ওর ভেতরেই বাঁচতে চাই পি।
ও আমার অভ্যাস না ফুপি ও আমার প্রয়োজন
ভিষণ প্রয়োজন
ও যদি আমার না হয়
তাহলে এই ইউভি আর আগের মতো থাকবে না
আমি ওকে আমার করে চাই পুরোটা
শুধু আমার।
ইউভির কণ্ঠটা ঠান্ডা হয়ে গেল চোখে অদ্ভুত জেদ—
ফুপি ও আমার
এইটা আমি ঠিক করে ফেলেছি
ও চাইলে ও আমার না চাইলে ও আমার
ও ভালোবাসলেও আমার না বাসলে ও আমরা
কারণ… ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না…
শেহেজাদার আদর পর্ব ১৪ (২)
আর যাকে ছাড়া বাঁচা যায় না—
তাকে হারানোও যায় না
আমি যে জিনিস কে ভালোবাসি এমনভাবেই ভালোবাসি ফুপি…
ছাড়ার জন্য না… নিজের করে রাখার জন্য
বেচেরা ইনায়া নিজের শেহেজাদার মুখে অন্য কারোর প্রতি এতো টা ভালোবাসা দেখে না চাইতে ও চোখ দিয়ে দু পোটা পানি পরে গেল
বিষয় টা ইউভির চোখের আরাল হলো না।
আর হবেই বা কি করে এক সেকেন্ড এর জন্য ও সে ইনায়ার উপর থেকে চোখ সরাই নি।
বেচারা ইনায়া নিজেও জানে না তার শেহেজাদার তাকে ঠিক কতো টা ভালোবাসে।
