শেহেজাদার আদর পর্ব ৬
সুমাইয়া ইসলাম নূর
রাত অনেক হয়ে গেছে।
চৌধুরী ভিলার চারপাশে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ,
আর মাঝে মাঝে হালকা বাতাসে দুলছে বাগানের গাছগুলো।
পুরো বাড়িটা ধীরে ধীরে ঘুমের দেশে ঢুকে পড়ছে…
এই নীরবতার মাঝেই ইনায়া ধীরে ধীরে নিজের রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।
বিছানায় বসে পড়ল ইনায়া।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফোনটা হাতে নিল।
ডায়াল করল—পিয়াসার নাম্বার।
কয়েকবার রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ—
“হ্যালোও…”
ইনায়া সাথে সাথেই বলে উঠল—
“ওই কুত্তা কবে আসবি তুই?
খচ্চর, শাকচুন্নি,পেত্নী!
নানুর বাড়ি থেকে আসতে মন চায় না, শয়তান!”নানুভাই বেঁচে নাই তাই এটো টান ওই বাড়িতে
বেচে থাকলে বিয়ে করে সুয়ামি বানিয়ে নিতিস তুই সালি
ওপাশ থেকে হেসে উঠল পিয়াসা—
“কুল বেবি কুল! ঠান্ডা হ…
আমি তো সকালে চলে আসব।”
তারপর আদুরে গলায়—
“আর কোনোদিন আসব না প্লিজ, পাখি শান্ত হ…
উম্ম্মাাহ! সোনা প্লিজ…
ইনায়া মুখ ফুলিয়ে বলল—
“রাখি এখন আমি কারো কেউ না… বাই!
পিয়াসা তাড়াতাড়ি চিৎকার করে উঠল—
“এই! আমি সকালে চলে আসব, পাখি—শোন তো…
কিন্তু ইনায়া আর কিছু শোনার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিল।
রুমে আবার নীরবতা নেমে এল।
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল বিছানায়…
ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল—
বালিশের পাশে রাখা একটা ছোট্ট বক্স।
ভ্রু কুঁচকে উঠে বসল সে।
“এটা আবার কী?”
ধীরে ধীরে বক্সটা হাতে তুলে নিল ইনায়া।
হৃদস্পন্দন যেন একটু বেড়ে গেল…
বক্সটা খুলতেই—
ভেতরে ঝলমল করে উঠল একজোড়া কাশ্মীরি চুড়ি।
লাল আর সোনালি রঙে মিশে থাকা চুড়িগুলো ঠিক যেমনটা সে রিলসে দেখেছিল…
তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
“এগুলো তো সেই চুড়ি…!”
হাত বাড়িয়ে আলতো করে ছুঁল চুড়িগুলো।
ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল একটা ছোট্ট নোট।
ধীরে ধীরে সেটা খুলে পড়ল—
নোটটা পড়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল ইনায়া।
তার বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত অনুভূতি…
কেউ একজন—
তার ছোট্ট একটা ইচ্ছাও এভাবে পূরন করলো…
কিন্তু কে?
তার চোখে ধীরে ধীরে প্রশ্নের ছায়া নেমে এল।
চুড়িগুলো হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে রইল সে…
রাতের নীরবতা যেন আরও গভীর হয়ে উঠল—
ইনায়া অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।
হাতে ধরা চুড়িগুলো… আর চোখ বারবার চলে যাচ্ছে সেই নোটটার দিকে।
“আদর…”
শব্দটা ঠোঁটের কোণে এসে থেমে গেল।
এই নামে তো তাকে কেউ ডাকে না…
না, কেউ না—
ভাইয়া দিছে না ভাইয়া দিলে তো বনু লেখা থাকতো
তাহলে কি ইউভি ভাইয়া।
মাথাটা হালকা ঝাঁকিয়ে ভাবনাটা সরিয়ে দিল ইনায়া।
“না… উনি কেন দেবেন?”
নিজেকেই প্রশ্ন করল সে।
তারপর আবার চুড়িগুলোর দিকে তাকাল।
এত সুন্দর… এত যত্ন করে আনা…
“পিয়াসা?”
মনে মনে নামটা ভেসে উঠল।
কিন্তু পরক্ষণেই মাথা নাড়ল—
“না, ও হলে আমাকে আগে বলত…” আর ও তো নানু বাড়ি
একটা অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করতে লাগল তার ভেতরে।
নোটটা আবার হাতে নিল সে।
আঙুল দিয়ে শব্দগুলো ছুঁয়ে দেখল—
“শখের মানুষ…”
তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে উঠল।
কেউ কি সত্যিই তাকে এভাবে…?
না, না—
এত ভাবার কিছু নেই।
হয়তো কেউ মজা করছে।
নিজেকে বোঝাতে চাইল ইনায়া।
চুড়িগুলো আবার বক্সে রেখে দিল সে।
কিন্তু নোটটা…
ওটা আলাদা করে বালিশের নিচে রেখে দিল।
কেন রাখল—সে নিজেও জানে না।
ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল ইনায়া।
লাইট অফ করে চোখ বন্ধ করল…
কিন্তু ঘুম এলো না।
বারবার সেই কথাগুলো মাথায় ঘুরছে—
“শখের মানুষ কিন্তু একজনই থাকে…”
অজান্তেই তার হাত চলে গেল বালিশের নিচে।
নোটটা বের করে আবার পড়ল।
ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল…
তারপর আবার নিজের ওপরই একটু বিরক্ত হলো—
“উফ! আমি এত ভাবছি কেন?”
হয়তো বাহিরের কেও জানালা দিয়ে দিয়েছে।
নিজেকে বকতে বকতে আবার শুয়ে পড়ল সে।
বাইরে হালকা বাতাস বইছে…
চৌধুরী ভিলা ঘুমিয়ে আছে…
কিন্তু দুইটা মন—
একটা অজানা অনুভূতিতে জেগে উঠছে ধীরে ধীরে।
আর অন্যটা—
নিজের ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে অপেক্ষা করছে…
সঠিক সময়ের জন্য।
সকালটা আজ একটু অন্যরকম লাগছে ইনায়ার কাছে।
জানালার ফাঁক দিয়ে নরম রোদ এসে পড়েছে তার মুখে।
ঘুম ভাঙলেও সে চোখ খুলছে না…
কারণ—
রাতের সেই ঘটনাটা এখনো তার মাথার ভেতর ঘুরছে।
ধীরে ধীরে চোখ খুলল সে।
প্রথমেই হাত বাড়িয়ে বালিশের নিচে খুঁজল—
নোটটা।
ওটা এখনো ঠিক সেখানেই আছে।
একটু হাসল ইনায়া… নিজের অজান্তেই।
হঠাৎই যেন কিছু মনে পড়ল—
তাড়াতাড়ি উঠে বসল সে।
চোখ চলে গেল টেবিলের ওপর রাখা বক্সটার দিকে।
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে রইল…
“পরবো… না পরবো না…?”
নিজেকেই প্রশ্ন করল।
মনে হলো—
পরলে যদি কেউ কিছু বলে?
আবার মনে হলো—
কেউ তো দেখেইনি কে দিয়েছে…
ধীরে ধীরে উঠে গেল সে।
বক্সটা খুলল।
চুড়িগুলো হাতে নিতেই তার চোখে এক অদ্ভুত মুগ্ধতা…
আস্তে করে এক হাতে পরে নিল…
তারপর আরেক হাতে।
ঝুনঝুন শব্দটা হালকা করে বেজে উঠতেই—
তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।
আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল ইনায়া।
নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল…
“খারাপ লাগছে না…”
মৃদু স্বরে বলল সে।
তারপর হঠাৎই চোখে পড়ল—
তার খোলা চুল…
কেমন যেন এক অজানা অনুভূতি…
“উফ! আমি আবার কী ভাবছি!”
তাড়াতাড়ি চুল গুছাতে গেল…
কিন্তু আবার থেমে গেল।
কিছুক্ষণ ভেবে—
খোলা চুলই রেখে দিল। একটা পারপেল কালার চুড়িদার পড়ে নিলো।
আজ নিজেকে একটু আলাদা লাগছে তার।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে—
চুড়ির মৃদু ঝুনঝুন শব্দ ভেসে উঠছে চারপাশে।
প্রতিটা ধাপ যেন আজ একটু বেশি অনুভূত।
মনের ভেতরে ঘুরছে শুধু একটাই প্রশ্ন—
“কে দিয়েছে…?”
কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েও—
সে এড়িয়ে যাচ্ছে একটা নাম।
নিজের মনেই বলল—
নিচে নামতেই সকালের ব্যস্ততা চোখে পড়ল।
ডাইনিং হল জুড়ে সবার ছোটাছুটি।
কেউ অফিসের জন্য রেডি,
কেউ স্কুলের ব্যাগ গুছাচ্ছে…
ইনায়া সরাসরি রান্নাঘরের দিকে গেল।
চুড়িগুলো একটু নাড়িয়ে মায়ের সামনে দাঁড়াল—
“মা… দেখো তো, কেমন হয়েছে?”
নুসরাত চৌধুরী এক নজর তাকিয়ে মুচকি হেসে উঠলেন।
মেয়ের হাতটা ধরে বললেন—
“আমার মেয়েকে তো সবসময়ই রানীর মতো লাগে।”
ইনায়ার মুখে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।
এদিকে ডাইনিং টেবিলে—
বাড়ির বড়রা সবাই অফিসের জন্য রেডি হয়ে বসে আছে।
কিন্তু খাওয়া শুরু করেনি কেউই…
দু’জনের জন্য অপেক্ষা করছে —
ইউভি আর রেদোয়ান এর জন্য।
সেজো গিন্নি সাবিহা চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে আয়াত আর আতিকাকে খাইয়ে দিচ্ছেন।
“দ্রুত খাও, দেরি হয়ে যাবে কিন্তু!”
মাঝে মাঝে বকাও দিচ্ছেন স্নেহভরে।
হঠাৎই—
চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ ভেসে উঠল চারপাশে।
সবাই একবার তাকিয়ে দেখল—
ইনায়া এসে দাঁড়িয়েছে।
তার হাতে লাল-সোনালি কাশ্মীরি চুড়ি…
মুখে হালকা হাসি, চোখে কৌতূহল।
সে সবার সামনে দাঁড়িয়ে বলল—
“কেমন লাগছে আমাকে? বলো না…”
মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ থেমে গেল।
কারণ—
আজ ইনায়াকে সত্যিই অন্যরকম লাগছে।
ঠিক তখনই…
সিঁড়ি দিয়ে নামছে ইউভি আর রেদোয়ান।
দুজনেই একসাথে নিচে নামছে—
ইউভি
ডিপ ব্ল্যাক শার্ট, গ্রে ব্লেজার, নিখুঁত স্টাইল…
হাতে ঘড়ি, চোখে সিরিয়াস লুক…
রেদোয়ান
হালকা নীল শার্ট, ব্ল্যাক প্যান্ট, চশমা…
শান্ত কিন্তু স্মার্ট উপস্থিতি।
পুরো ঘরে যেন একটা আলাদা প্রভাব…
সবাই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে মনে মনে কেও বলতে ভুললো না মা শা আল্লাহ ।
ঠিক তখনই…
চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ—
ইউভির চোখ থেমে গেল।
ধীরে ধীরে সে তাকাল ইনায়ার দিকে…
আর তার চোখ আটকে গেল—
সেই চুড়িতেএক সেকেন্ড…
সব থেমে গেল।
তার চোখে অবাক হওয়া নেই
বরংএক অদ্ভুত শান্তি।
ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম একটা হাসি দিল।ইউভি
যেটা শুধু রেদোয়ান খেয়াল করল।
ইউভি দ্রুত নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিল…
আবার গম্ভীর মুখ করে খাবার টেবিলের দিকে এগোতে লাগলো ।
কিন্তু তার ভেতরের অনুভূতি—
চুপ করে বলছে—
“পরে ফেলেছিস…”
আর ইনায়া…
সে এখনো জানে না—
কারো এক জোড়া চোখ
তার দিকে তাকিয়ে আছে…
এবং সেই চুড়ির প্রতিটা শব্দ
কারো হৃদয়ে বাজছে…
হঠাৎই বড় গিন্নি—রেসমা চৌধুরী—ইনায়ার দিকে তাকিয়ে একটু ভ্রু কুঁচকে বললেন—
“এই চুড়িগুলো কবে কিনলি রে মা?
তুই তো একটা সুতো কিনলেও আমাকে দেখাস,
এইগুলো তো আগে কখনো চোখে পড়েনি!”
চারপাশের কথাবার্তা থেমে গেল।
সবাই চুপ করে তাকিয়ে আছে ইনায়ার দিকে।
ইনায়া চুপচাপ একবার চুড়িগুলোর দিকে তাকাল,
তারপর স্বাভাবিক গলায় বলল—
“আমি তো কিনিনি, বড় মা…
এটা আমাকে গিফট দেওয়া হয়েছে।”
মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ যেন থমকে গেল।
সবাই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাল।
রেসমা চৌধুরীর চোখেও বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট।
তিনি ধীরে ধীরে একটু নরম গলায় বললেন—
“কে দিয়েছে?
সেটা আমি জানি না বড় মা ।
ডাইনিং টেবিলে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।
কেউ কিছু বলছে না…
কিন্তু সবার মনেই একই প্রশ্ন ঘুরছে—
কে দিয়েছে এই চুড়ি?
উত্তরটা আর অজানা থাকল না।
সবার মুখের অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট হয়ে গেল—
কে এই উপহারটার পেছনে আছে, তা বুঝতে কারও বাকি রইল না।
এইদিকে… ইনায়ার ঠিক সামনে টেবিলের আরেক পাশে ইউভি একদম স্থির হয়ে বসে আছে।
ইনায়ার কথাটা শোনার পর
তার চোখ হালকা করে একবার উপরে উঠল…
চুড়ির ঝুনঝুন শব্দটা তার কানে যেন একটু আলাদা করে বাজছে।
তার চেহারায় কোনো পরিবর্তন নেই,
গম্ভীর, শান্ত…
মনে মনে বলে ইউভি
“পরে ফেলেছে…”
হালকা নিঃশ্বাস ফেলল সে—
“ভালোই লাগছে ওর হাতে…”
একটু তাকিয়ে থেকেই নিজের অজান্তেই বলে উঠল—
“উফফ… এত সুন্দর কেন রে তুই, আদর…
আমি তো পুরো শেষ হয়ে যাচ্ছি…”
চোখ সরিয়ে নিল দ্রুত—
“ওই হিটলার বাপটা কিছুই বুঝবে না কোনোদিন
আবার তাকাল একবার—
“তোকেই বা এত সাজতে কে বলছে?
আবার ঢং করে কপালে টিপও পরেছে… ইডিয়ট!”
কথাগুলো মনে মনে বললেও—
তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল।
শেষে খুব আস্তে—
“তুই খুশি থাকলেই হলো আদর।
ডাইনিং টেবিলে তখনও সবাই নাস্তা নিয়ে ব্যস্ত।
ঠিক সেই সময়—
বাইরে হঠাৎ গাড়ির হর্ন শোনা গেল।
আয়াত চামচ নামিয়ে লাফিয়ে উঠল পিহু—
আসছে!”
আতিকা আয়াত আর রিদও দৌড়ে দরজার দিকে গেল।
পরের মুহূর্তেই দরজা খুলেই পিয়াসার চিৎকার শোনা যায়
“পাখি কোথায় আমার?”
চিৎকার করতে করতে ভেতরে ঢুকল পিয়াসা।
আয়াত আর আতিকা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে—
“আপি! তুমি এসেছো!”
রিদও হাসতে হাসতে বলল—
“এত দেরি করলে কেন আপু?”
পিয়াসা একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরে বলল—
“এইতো, আমার পান্ডা গুলো! কেউ আমাকে মিস করলি না যে?”
তারপর হঠাৎই চোখ পড়ল ইনায়ার দিকে।
দুজনের চোখাচোখি হতেই—
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে নিল।
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে গেল—
“ওই! আমার সাথে কথা বলবি না?”
ইনায়া ঠান্ডা গলায়—
“কেন বলবো?”
“আচ্ছা আমি খারাপ হয়ছে ওই যে তুই ফোনে যা যা বল্লি আমাকে আমি ওই গুলো
“তুই তো অনেক ভালো! তাই তো নানু বাড়ি ছেড়ে আসতেই মন চায় না।
আরে ধুর আবার শুরু করলি।
আমি কিছু বলছি না।
বেবি!
“চুপ!”
দুজনের ঝগড়া দেখে চারপাশে হালকা হাসির রোল উঠল।
ঠিক তখনই—
পিয়াসার চোখ হঠাৎ পড়ল খাবার টেবিল এর দিকে
আর পরের মুহূর্তেই—
সে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল—
“ভাইয়া!!! তুমি এই বাড়িতে কবে আসলে? আজ তো শুক্রবারও না।
ইউভি হালকা হেসে মাথায় হাত রাখল—
কুল বোন। শান্ত হও…
আমি এখন থেকে এই বাড়িতেই থাকব
“কি???
পিয়াসা প্রায় চিৎকার করে উঠল—
“ওহহহ কি মজা আমার ভাইয়া এখন থেকে আমার সাথে এই বাড়িতে থাকবে।
উফফস কি যে খুশি লাগছে!”
তার উচ্ছ্বাসে পুরো ঘর আবার জমে উঠল।
তারপর পিয়াসা একে একে বাবা, চাচ্চুদের সাথে কুশল বিনিময় করল।
সবাইকে জড়িয়ে ধরে, হাসিমুখে কথা বলতে লাগল।
হঠাৎই—
তার চোখ পড়ল ইনায়ার হাতে।
চোখ বড় বড় করে বলল—
শেহেজাদার আদর পর্ব ৫
“বেবি! এই চুড়ির পিক না তুই কাল ফেসবুকে আপলোড করলি?
সকালের মধ্যে কোথায় পেলি?”
সবাই আবার তাকাল ইনায়ার দিকে।
ইনায়া একদম স্বাভাবিক গলায় পিয়াসার কানে কানে বলল—
“আমার ড্রিম বয় দিয়েছে…
আমার স্বপ্নের শেহেজাদা।”
