শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ২৪
অনামিকা তাহসিন রোজা
হসপিটালের করিডরে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলল শ্রাবণ। মেজাজ টা ঠান্ডা রাখার পূর্ণ চেষ্টায় আছে। এখানে আসার আগে ধারার জ্বলজ্বল করা মুখটার দিকে তাকিয়েছে শ্রাবণ। না জানি মেয়ে টা কেনো এত ভয় পেয়ে আছে! একটুও কি ভরসা নেই? শ্রাবণ শেখ যে কাওকে ঠকাতে পারে না, মিথ্যা বলতে পারে না, তা কি মেয়েটা জানেনা! সে যে এখন এক নারীতে মত্ত হয়ে গেছে, তা কি মেয়েটা বোঝে না? সামিউল শেখের ডাকে হুঁশ ফিরল শ্রাবণের। আবারো বড় করে শ্বাস ফেলে ধপধপ করে পা ফেলে কেবিনের সামনে এসে দাঁড়ালো।
তন্নির স্টোমাক ওয়াশ করার কারনে খুব জোর বেঁচে গিয়েছে মেয়েটা। এখন তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে। জ্ঞান ফিরলেও চোখ বুঁজে বিশ্রাম নিচ্ছে। সামিউল শেখ শ্রাবণকে কেবিনের দরজার কাছে রেখে দেখা করতে গেলেন তন্নির বাবার সাথে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ভদ্রলোক সামিউল শেখের দিকে ফিরেও তাকালেন না। ঘৃণাভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে গটগট করে বেরিয়ে পড়লেন হসপিটাল থেকে। তন্নির মা এখনো শহরে ফিরে আসেনি। নইলে ঘৃণাভরা দৃষ্টির সাথে সাথে বিষধর সাপের মত ছোবল মারতেও ভুলতেন না। তন্নির বাবার এমন অবহেলায় মোটেই বিরক্ত হলেন না, বা কিছু মনে করলেন না সামিউল শেখ। তিনি আবারো কেবিনের কাছে ফিরে এলেন। তবে এসে দেখলেন এখনো শ্রাবণ থম মেরে কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিছু একটা নিয়ে হয়তো গভীর চিন্তা করতে ব্যস্ত। ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন, ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—’ কী হয়েছে শ্রাবণ?”
শ্রাবণের হুঁশ ফিরলে দুদিকে মাথা নাড়ালো। সামিউল শেখ ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলে বললেন,
—” যা বাবা, একবার দেখা করে আয় যা। আসার সময় তোকে যেগুলো বলেছি, তা মনে রাখিস। এটাই যেন শেষবার হয়। এসব ঝামেলা আর না হওয়াটাই মঙ্গল!”
শ্রাবণ বুঝদার ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালো। বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে কেবিনে ঢুকলো। দুটো নার্স তৎক্ষনাৎ বের হয়ে গেলো কেবিন থেকে। সাদা বিছানায় শুয়ে আছে তন্নি। মুখ ফ্যাকাশে, ঠোঁট শুকনো, চোখ দুটো বন্ধ। কিন্তু শ্রাবণ কাছে আসতেই হয়তো শব্দ পেয়ে বা অনুভূতিতে চোখ মেলে তাকালো সে। দুর্বল দৃষ্টিতে একবার তাকিয়েই মুখ ঘুরিয়ে নিলো। শ্রাবণ চেয়ার টেনে বসল। কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ঠান্ডা, স্থির কণ্ঠে বলল,
—” কেমন আছো?”
তন্নি শুকনো ঢোক গিলে বিদ্রুপ করে হাসলো,
—” বেইমানের মুখে এসব মানায় না, শ্রাবণ শেখ!”
ভ্রু উঁচিয়ে শ্রাবণও ঠোঁট বাঁকালো। শ্রাবণ ভাই থেকে শ্রাবণ শেখে ডাক নেমে এসেছে। ভালোই হলো! কাজটা সহজ হবে। শ্রাবণ এবার একটু সময় নিয়ে বলল,
—” জীবনটা সিনেমা নয়৷ আর আমার জানামতে তোমার সাথে কোনো বেইমানি করিনি আমি। হয়তো তোমার নিজের ভাগ্যই তোমায় ঠকিয়েছে। যাক গে, আমি এসব কথা বলে সময় নষ্ট করব না। এখন কোনো সহানুভূতি দেখাতে এখানে আসিনি আমি। তিক্ত হলেও সত্য, আমার নিজের জীবনে যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে এসেছি। তোমার মা খুব একটা ভালো মানুষ না, তোমার খুশির জন্য সে আমারও ক্ষতি করতে পারে। সেটাতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু ভুলেও যেন আমার স্ত্রীকে হাতিয়ার বানানো না হয়!”
শ্রাবণ থেমে গেল। চোয়াল শক্ত করে কিছুক্ষণ তন্নির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গলার স্বর নামিয়ে, একেবারে নির্দয় অথচ পরিষ্কার ভাষায় বলল,
—”শোনো, আমি যদি চাইতাম তবে আজ সহানুভূতির খাতিরে তোমার জীবনে এসে হাজার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও সব এলোমেলো করতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করছি না, করবও না। কারণ আমার কাছে ভালোবাসার মানে হলো দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি, সম্মান। আমি একবার যাকে সংসারের মর্যাদা দিয়েছি, তাকে পৃথিবীর সবকিছুর উপরে রাখব।”
তন্নির চোখে তখন হাহাকার। কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে হৃদয়, সে ভাঙা স্বরে বলল,
—”মানে আপনি আর কোনোদিন আমার হবেন না?”
শ্রাবণ চোখ নামালো না। ঠান্ডা সুরে উত্তর দিল,
—” না। প্রশ্নই ওঠে না। আমি বিবাহিত। আর আগেও আমি কোনোদিনই তোমার ছিলাম না। এটা ভুল ভেবেছিলে তুমি। যেটা ছিল, সেটা ছিল হয়তো তোমার ভুল, মুহূর্তের আবেগ। কিন্তু আমি জানি, আমি এখন শুধুই ধারার।”
তন্নি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল। বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরল সে। শ্রাবণ এবার আরেকটু সরে কঠিন গলায় বলল,
—”আমি এখানে এসেছি তোমায় একটা কথাই মনে করিয়ে দিতে। আমার জীবনে, আমার সংসারে ধারার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। কেউ যদি চেষ্টা করে, আমি সেটা মেনে নেব না। তোমার মা যদি একচুলও ওকে আঘাত করে, তবে সেটা আমাকে শত্রু বানানোর শামিল হবে। আর বিশ্বাস করো, শ্রাবণ শেখের শত্রু হয়ে টিকে থাকার মতো শক্তি কারো নেই।”
শ্রাবণের চোখমুখ ভয়ঙ্কর গম্ভীর। তন্নি ভয়ে কেঁপে উঠল। চোখ মুছতে মুছতে দুর্বল কণ্ঠে শুধু বলল,
—”তাহলে আমি কী করব শ্রাবণ ভাই? আমি কাকে নিয়ে বাঁচব?”
শ্রাবণ এবার চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল,
—”নিজেকে নিয়ে বাঁচতে শিখো। জীবনটা তোমার, সেটার মূল্য তুমি নিজেই দেবে। অন্য কাউকে ভরসা করে নয়।”
এটুকু বলেই শ্রাবণ স্বর সরম করল। নিজের বাবার দেয়া পরামর্শে বলল,
—”তন্নি, তুমি কি জানো, আজ তুমি কত বড় একটা ভুল করেছিলে? জীবনটা একবারই পাওয়া যায়। তুমি যদি আজ না বাঁচতে, তবে যারা তোমায় ভালোবাসে, তোমার মা-বাবা, আত্মীয়রা, তারা সারা জীবন ভেঙে পড়ত।”
তন্নির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো, কিছু বললো না।শ্রাবণ এবার আরেকটু ধীরস্বরে বলল,
—”তুমি হয়তো ভেবেছো, আমাকে না পেলে তোমার বাঁচার মানে নেই। কিন্তু তন্নি, শোনো, একজন মানুষ আরেকজনকে ভালোবাসতেই পারে, চাইতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পৃথিবী ওই একজন মানুষকে ঘিরেই শেষ হয়ে যাবে। আমি যদি তোমার স্বপ্ন হয়ে থাকি, তবে ভাঙা স্বপ্ন নিয়েই তোমাকে নতুন স্বপ্ন গড়তে শিখতে হবে। ভালোবাসা মানেই দাবি নয়, ভালোবাসা মানে ছেড়ে দেওয়ার শক্তি।”
তন্নি চোখ তুলে তাকালো। দুর্বল কণ্ঠে বলল,
—” আপনি কি একবারও ভাবেননি, আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না?”
শ্রাবণ এবার গভীর শ্বাস নিলো, দৃঢ় স্বরে বলল,
—” না ভাবিনি। আমার ভাবনা শুরু হয়েছে ধারাতে, শেষও হবে ধারাতে। তাই আমি তার কথা ভাবছি। আর ভেবেই বলছি, তুমি আমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে। প্রথমে কষ্ট হবে, ভীষণ কষ্ট হবে। কিন্তু সময়ের সাথে তুমি নতুন স্বপ্ন দেখবে। নতুন মানুষকে পাবে, যে তোমায় আমার থেকেও ভালোবাসবে। তখন বুঝবে, আমি না হয় শুধু একটা অধ্যায় ছিলাম তোমার জীবনের।”
তন্নি কাঁদতে লাগলো। সে হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইল শ্রাবণের হাত। কিন্তু শ্রাবণ হাত সরিয়ে নিলো, ঠান্ডা মাথায় বলল,
—”না তন্নি, আমার জায়গা এখানে নয়। আমার জায়গা আমার সংসার, আমার স্ত্রী ধারা। আমি ওর চোখে ভরসা দেখেছি, বিশ্বাস দেখেছি। তাকে কষ্ট দিয়ে আমি কোনোদিন তোমার পাশে দাঁড়াতে পারব না। এটা আমার দুর্বলতা নয়, এটা আমার শক্তি। তুমি চাও বা না চাও, এটাই সত্যি।”
শ্রাবণ দাঁড়িয়ে পড়লো। দরজার কাছে গিয়ে একবার ঘুরে তাকিয়ে নরম স্বরে বলল,
—”তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, তবে আমার সুখটাকে মেনে নাও। আমি শুধু চাই, তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো, জীবনের নতুন মানে খুঁজে নাও। তোমার জীবনটা নষ্ট করার অধিকার তোমার নেই, তন্নি। বাঁচতে শিখো, নিজের জন্য, তোমার পরিবারের জন্য।”
এটুকু বলে শ্রাবণ কোনো কথা না শুনেই বেরিয়ে এলো। পিছুটান খতম হলো! এরপর তন্নি যদি মরেও যায় তবুও কিছু যায় আসবে না তার! শ্রাবণের দায়িত্ব ছিল একটা মানুষকে বোঝানো, তাকে বাস্তবতা বুঝিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখানো। কাজ শেষ তার! আর কিছু করবে না, দেখবে না, বলবেও না।
ধারা শ্রাবণের ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। খুব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে থাকলো ঘরের প্রতিটি কোণা। মনে হলো, বহু প্রতীক্ষিত কোনো অচেনা অথচ আপন জায়গা পেয়ে গেছে সে। দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো, বুকশেলফে গুছিয়ে রাখা বই, টেবিলের ওপর ছড়ানো কাগজপত্র, সবকিছুই তাকে অদ্ভুতভাবে টানতে লাগল। প্রতিটি জিনিসে শ্রাবণের ছোঁয়া, শ্রাবণের গন্ধ লেগে আছে। এরপর আলমারির সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল ধারা। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে। ধীরে ধীরে আলমারির দরজা খুলল। ভেতর থেকে পরিচিত গন্ধ ভেসে এলো। পুরুষালি, তীব্র অথচ অদ্ভুতভাবে আশ্রয়দায়ী গন্ধটা নাকে ঠেকতেই পা সিড়সিড় করে উঠলো মেয়েটার। একেকটা শার্ট স্পর্শ করতে করতে হাত থেমে গেল। কল্পনা করতে লাগল, এগুলো পরে কেমন দেখায় শ্রাবণকে!
একটা নীল শার্ট টেনে নামাল ধারা। হাতের আঙুল বুলিয়ে দিল কলারের ওপর। চোখ বুজে সেই কাপড়টার ঘ্রাণ টেনে নিল। নেশালো ঘ্রানটা তীব্রভাবে পেতেই শুকনো ঢোক গিলে বুকের কাছে চেপে ধরল। মনে হলো শ্রাবণ যেন তার খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছে, গলার কাছ থেকে সেই পরিচিত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে। মুহূর্তেই চোখে পানি জমে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে লাগল। না জানি কোথায় গেলো লোকটা? হসপিটালে এতক্ষন কী করছেন উনি? এখনো ফিরছে না কেনো? ধারা ঘড়িতে তাকিয়ে দেখল রাত আটটার কাছাকাছি কাটা চলে গেছে। এখনো আসছেন না কেনো তবে? হাজারো উৎকন্ঠার মাঝে ধারা হাতে থাকা শার্টটা আলমারিতে রাখতে ভুলে গেলো, সেটা হাতে নিয়ে বুকের কাছে চেপে ধরেই বারান্দায় চলে এলো।
শ্রাবণের ঘরের বারান্দাটা আগে খুব অগোছালো ছিল। তবে আজ বিকেলে ধারা দায়িত্ব সহকারে শ্রাবণের বারান্দা পরিষ্কার করেছে, মুছেছে, পাশের ঘরটা থেকে কিছু ফুলের গাছ এখানে এনে রেখেছে। গ্রিলে উপর থেকে কয়েকটা টব ঝুলিয়েছে। ফাঁকা জায়গাটাতে লতাপাতাও এনে রেখেছে। ছোটখাটো একটা টেবিল আর দুটো চেয়ারও এনে রাখা হয়েছে, যদিও এ কাজটা সালমা বেগমের জোরাজুরিতে করেছে সে। কিন্তু মোটামুটি নতুন এক রঙিন রূপে বিবর্ণ বারান্দাটাকে সাজিয়ে তুলেছে ধারা। এখন আর শ্রাবণ শেখের ঘরের বারান্দা কুৎসিত দেখায় না!
রেলিংয়ে এক হাত রাখলো ধারা। আরেক হাত এখনো শ্রাবণের শার্টটায় ধরা। একটু গলা উঁচিয়ে উঁকি ঝুঁকি মারল বেচারি, দেখার চেষ্টা করল বড় গেটটা৷ শ্রাবণের গাড়ি আসছে কিনা সেটা দেখার একটু প্রয়াস! কিন্তু অন্ধকারে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় খুব একটা দেখতো পেলো না সে। নির্ভার হয়ে মাথা ঠেকিয়ে দিল গ্রিলে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল খুব গোপনে। মনে মনে হাজারো প্রার্থনা করল, তাড়াতাড়ি ফিরে আসুক লোকটা।
অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে হুট করেই ধারার কনিকার কথা মনে পড়লো। না জানি কেমন আছে মেয়েটা? ওইদিন তো গ্রাম থেকে এসে আর যোগাযোগ করা হয়নি ওদের সাথে? ভালো আছে তো? চিন্তায় মগ্ন হয়েই ধারা সিদ্ধান্ত নিল, শ্রাবণ এলে তাকে বলবে একবার সমুদ্র কে কল করে কনিকার কথা জিজ্ঞেস করার!
একটু পরেই নিজের কোঁমড়ের কাছে একজোড়া উষ্ণ হাতের অস্তিত্ব টের পেলো ধারা। খানিক চমকে গেলেও স্থির রইলো। হাতের এই ছোঁয়াটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে যে! সন্ধ্যায় এই হাতের বন্ধনেই তো আবদ্ধ ছিল, উষ্ণছোঁয়াটাও পেয়েছিল। তাই অনড় রইলো মেয়েটা। বুঝে ফেলল শ্রাবণ এসেছে। এর মধ্যেই কোমড়ে রাখা শ্রাবণের হাতটা এগিয়ে গিয়ে ধারার পেট চেপে ধরল, মুখ নামিয়ে এনে থুতনি ঠেকালো ধারার ঘাড়ে। আবারো কেঁপে উঠলো মেয়েটা। সহসা রেলিং এ রাখা নির্ভার মাথাটার সাথে সাথে পুরো শরীর সজাগ হলো, দুহাতই শ্রাবণের হাতের কাছে এলো।
শ্রাবণ এক হাত উঠিয়ে ধারার চুল সরিয়ে দিলো। কানের লতিতে খুব গভীর করে একটা চুমু খেলো। এবারেও আবেশে চোখ খিঁচে বন্ধ করল ধারা। পায়ের পাতা সিড়সিড় করতে থাকলো। নরম পেটে থাকা শ্রাবণের হাতটা সজোরে খাঁমচে ধরল ধারা। তবে অবাধ্য শ্রাবণের কী হলো কে জানে? থামলো না সে! কোনো প্রতিক্রিয়া তেই আটকালো না। কানের থেকে ঠোঁট সরিয়ে ধারার ফর্সা ঘাড়ের উপর ঠোঁট জোড়া চেপে রাখলো। একটু একটু ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকলো ঘাড়, গলা, কানের আশপাশ সব জায়গাতে।
ধারা নিঃশ্বাস আটকে অনুভব করছিল প্রতিটি ছোঁয়া। কোমড়ে জড়িয়ে ধরা হাতের অবিরত ছোঁয়া, ঘাড়ের পাশে ঠোঁটের চাপা উষ্ণতা, সব যেন অবিশ্বাস্য রকম সত্যি! বুকের ভেতরটা ধকধক করছে, হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরেছে শ্রাবণের আঙুলগুলো। শরীর কাঁপছে, তবুও অদ্ভুত এক প্রশান্তি ভর করেছে তাকে।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঠাস করে ভেঙে যাওয়ার শব্দে চমকে উঠল ধারা। তার হাতের ছোঁয়ায় একটা ফুলের টব মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেল। শব্দটা বিদ্যুৎবেগে টেনে তুলল তাকে স্বপ্ন থেকে। ধপ করে চোখ মেলে চারপাশে অবুঝের মত তাকালো ধারা। কোথায় শ্রাবণ? কোথায় কী? আশেপাশে তো কেও নেই। নিজের ঘাড়ে, গলায় হাত রাখলো ধারা। বুঝতে এক মুহূর্তও লাগলো না যে সে পুরো সময়টা হ্যালুসিনেশনে ছিল!
সাথে সাথে চমকে উঠলো ধারা। এ কি রকমের ভাবনা! কেমন স্বপ্ন? ঘাড়ের কাছে কোনো উষ্ণ ঠোঁট নেই, কোমরে কোনো হাত নেই, কানের পাশে কোনো ফিসফিসানি নেই। শুধু নিজের বুকের দ্রুত ধ্বনি, আর নিঃশ্বাসের ভারী শব্দ। মাটিতে ভাঙা টব পড়ে আছে, সেই ভাঙনের মতোই যেন খানিকটা ভেঙে পড়লো ধারা নিজেও। বুকটা ভরে উঠলো অদ্ভুত অপরাধবোধে, আবার লজ্জায়ও ডুবে গেল সে। অনুভূতি গুলো এত বাস্তব মনে হচ্ছিল যে, সে বিশ্বাসই করতে পারেনি, সবই কেবল তার মনের খেলায়, তার অচেতন ইচ্ছে-আকাঙ্খায় তৈরি এক স্বপ্ন ছিল। ওই সময়ে একটুও মাথায় আসেনি যে শ্রাবণ শেখ মোটেই হুট করে অনুমতি ব্যাতিত এভাবে ছোঁবে না!
ধারা আস্তে মাটিতে বসে ভাঙা টবটা হাতে তুলে নিলো। চোখ দুটো আর্দ্র হয়ে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে ভিজিয়ে দিল। মনের ভেতর থেকেই এক সত্ত্বা ফিসফিস করে জানিয়ে দিল, তুমি মারাত্মক ভাবে ফেঁসে গেছো মেয়ে, এতটাই দুর্বল হয়েছো যে সইচ্ছায় তাকে কাছে পেতে চাইছো! এখন কী হবে? শুধুই সর্বনাশ!
ঠিক সেই মুহূর্তে খট করে দরজা খোলার শব্দে কেঁপে উঠলো ধারা। ভাঙা টবটা আঁকড়ে ধরে থমকে গেল সে। বুকের ধকধকানিটা যেন আরও বেড়ে গেল। আতঙ্কে, লজ্জায়, অপরাধবোধে মিলেমিশে শরীর অবশ হয়ে এলো। ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাতেই চোখ বিস্ফারিত হলো। যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। এতক্ষণ ধারা চাইছিল লোকটা তাড়াতাড়ি ফিরে আসুক, আর এই মুহূর্তে ধারা মনে মনে চাইলো লোকটা আরেকটু দেরি করলে ক্ষতি হতো না! বরং ওই সময়ের মধ্যে ভাঙা টবটা সরিয়ে ফেলতে পারত ধারা। উনি যদি ভাঙা টবটা দেখে কোনো প্রশ্ন করে, যদি বকাবকি করে ভেঙে ফেলার জন্য! এই ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল মেয়েটা।
শ্রাবণ দাঁড়িয়ে আছে দরজার মুখে। সদ্য বাইরে থেকে আসা ছেলেটার কাঁধে আলগোছে ঝুলছে শার্টের বোতাম খোলা গলা, চোখে হালকা ক্লান্তি, তবু দৃষ্টিতে সেই চিরচেনা দৃঢ়তা। ঠান্ডা, স্থির চোখে তাকিয়ে আছে সে ধারার দিকে। ধারা যেন মুহূর্তেই বুঝে গেল, এইমাত্র যা কল্পনা করছিল, তা যদি সত্যিই হতো, শ্রাবণকে নির্দ্বিধায় মেনে নিতো সে! কিন্তু এখন? এখন বুকের ভেতর কেমন এক বিশাল অপরাধবোধ ঘিরে ধরল। হাতের মুঠোয় ভাঙা টবের মাটিটুকু যেন তার সব গোপন চিন্তা ফাঁস করে দিচ্ছে না তো?
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে ধীর পায়ে ভেতরে এলো। চোখ একবার টবের দিকে, তারপর সরাসরি ধারার কাঁপা চেহারার দিকে স্থির হলো। চিন্তিত হয়ে মৃদু স্বরে বলল,
—” কী হয়েছে ধারা? কী করছো?”
ধারার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো আরও জোরে। ঠোঁট শুকিয়ে এলো। কাঁপা হাতে টবটা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
—”আ… আমি… আমি ভুল করে টবটা ফেলে ভেঙে ফেলেছি।”
এ পর্যায়ে শ্রাবণের চোখ মেঝেতে গেলো। এতক্ষণ সে শুধু আতঙ্কিত মুখটাই দেখছিল। কিন্তু মেঝেতে ভাঙা মাটির টবের টুকরো দেখে চমকালো শ্রাবণ। তৎক্ষনাৎ হাঁটুমুড়ে বসে ধারার হাত পা খুটিয়ে দেখতে দেখতে বেসামাল অস্থির হয়ে বলল,
—” এ কি? তোমার কোথাও লেগেছে নাকি ধারা? ব্যাথা পেয়েছো? দেখি হাতটা! পায়েও টবের টুকরো লেগেছে নাকি?’
শ্রাবণ চোখ সরাল না। অস্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইল ধারার সর্বাঙ্গে। মনে হচ্ছিল, যেন তার ভেতরের সব গোপন দ্বন্দ্ব পড়ে ফেলছে। ধারা চোখ নামিয়ে ফেলল তাড়াতাড়ি, কিন্তু শরীর কেঁপেই চলেছে। কারন এই মুহুর্তে শ্রাবণ কে দেখে একটু আগের অবাধ্য চিন্তাগুলো আবারো মনের কিনারায় উঁকি দিল। নিজেকেই ধিক্কার জানালো ধারা! ছিঃ! কিসব চিন্তা করছে সে! তবে শ্রাবণের আচরণে আরও বিহ্বল হয়ে গেল ধারা। এতক্ষণ যেটাকে স্বপ্ন ভেবেছিল, সেই আবেগের রেশ এখনও শরীরজুড়ে কাঁপন ধরাচ্ছে। আর তারই ভেতর হঠাৎ শ্রাবণের এমন উদ্বিগ্ন, কেয়ারফুল চেহারা দেখে বুকের ভেতরটা অদ্ভুত এক আবেগে গলে গেল।
শ্রাবণ টানটান অস্থিরতায় একে একে ধারার হাত, আঙুল, কবজি ধরে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো। কণ্ঠে অস্থিরতা স্পষ্ট,
—” কোথাও কেটেছে না কি? একটু রক্তও দেখছি না… কিন্তু তবুও ঠিক লাগছে না! দেখি জামার হাতাটা ওঠাও!”
ধারা দ্রুত মাথা নাড়লো, ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলল,
—” না… না, কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি তো!”
কিন্তু শ্রাবণ মানলো না। ভ্রু কুঁচকে তার পায়ের পাতার কাছাকাছি হাত বাড়িয়ে দিল, মাটির হলেও টবের ভাঙা টুকরো ঝুঁকিপূর্ণ। ধারা আরও অস্থির হয়ে এক পা পেছনে সরালো। গলায় কাঁপা স্বর,
—” প্লিজ এমন করবেন না। আমি সত্যিই ঠিক আছি।”
শ্রাবণ এবার থেমে তাকাল তার চোখের দিকে। নিঃশ্বাস ভারী, অথচ দৃষ্টিটা কোমল আর গভীর হয়ে উঠলো। বোঝার চেষ্টা করল, ধারার এই ভয় শুধু ভাঙা টবের জন্য, নাকি ভেতরে আরও কোনো অজানা আতঙ্ক লুকিয়ে আছে। মুহূর্তটায় ঘর জুড়ে নীরবতা নেমে এলো। খানিকক্ষণ বাদে শ্রাবণের চোখ গেলো ধারার কোলের দিকে। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল অবাক হয়ে,
—” এটা তো আমার তাই না? আমার শার্ট নিয়ে কী করছিলে?”
এবারে সংবিৎ ফিরে পেলো ধারা। অসহায় চোখে তাকালো শ্রাবণের দিকে। ইশ রে! শার্ট টাও ঠিক জায়গায় রাখতে ভুলে গেছে। কী যে হয়েছে মেয়েটার! এমন এলোমেলো লাগছে কেনো নিজেকে! ছন্নছাড়া হলো কেনো? ধারার চোখ দেখেও কিছু বুঝলো না শ্রাবণ। বিস্ময়াভিভূত হয়ে বলল,
—” আশ্চর্য! তুমি কাঁদছো কেনো?”
ধারা টলমল করা চোখ নিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
—” বিশ্বাস করুন, আমি কিছু করিনি। সব এই শার্টের দোষ। শার্টটা হাতে নিতেই উল্টোপাল্টা জিনিস ভাবছি আমি। আর ওভাবেই টব টাও ভেঙে গেছে। আমি শার্টটা ভুল করে নিয়ে ফেলেছি সত্যি। আপনি বকবেন না হুম! আমি আর আপনার শার্টে হাত দেব না। আলমারির কাছেও যাব না সত্যি। আমি কিচ্ছু করিনি, কিচ্ছু ভাবিনি, তিন সত্যি!”
শ্রাবণ সত্যি সত্যিই হতবাক হয়ে গেল। চোখের সামনে ধারা যেভাবে অঝোরে কাঁদছে, যেন কোনো বড় অপরাধ করে ফেলেছে। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। গলার স্বর আরও নরম হয়ে গেল তার,
—”আরে ধারা…থামো তো! তুমি এত কাঁদছো কেন? আমি কি তোমায় কিছু বলেছি? শার্ট হাতে নিয়েছো, তাই বলে কান্না করার কী হলো!”
ধারা ভিজে চোখ মুছে আরও অসংলগ্ন হয়ে বলল,
—”আপনি সব বুঝে ফেলবেন…আমি জানি। আপনি খুব বুদ্ধিমান! তাই ভয় পাচ্ছি। আমি শার্টে হাত দিয়েই সব গুলিয়ে ফেলেছি। আমি… আমি এমন কথা ভাবছিলাম যা আমার ভাবা উচিত না। কিন্তু আমি চাইনি, একটুও চাইনি। সব এই শার্টের দোষ!”
শ্রাবণ পুরোপুরি বিভ্রান্ত। ভ্রু কুঁচকে শুধু তাকিয়ে রইল ধারার দিকে। তার ভেতরের অস্থিরতা একেবারেই ধরতে পারল না সে। শুধু একটা শার্ট দেখে কেউ এভাবে কাঁদতে পারে নাকি! কী যে হয়েছে মেয়েটার! একটা কথাও ধরতে পারছেনা শ্রাবণ।
ধারা অসহায় নয়নে আরও বলতে লাগল বোকা বোকা সব কথা,
—” আপনি রাগ করবেন, বলবেন আমি অশালীন। কিন্তু আমি সত্যিই কিছু করিনি। আমি আপনার শার্টটা… শুধু একটু ছুঁয়েছিলাম। আমি কসম করছি… আপনার আলমারির কাছে যাব না আর। আপনার কোনো জিনিস ছোঁব না। শুধু ভুল হয়ে গেছে, প্লিজ আমাকে বকবেন না!”
শ্রাবণ এখন পুরো থ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধারাকে টেনে তুলে দাঁড় করালো, চেয়ারটা টেনে বসিয়ে দিল। ভাবতে থাকলো সে নিজে পাগল হয়েছে, নাকি মেয়েটার মাথা গেছে! হাত দিয়ে নিজেরই মাথা চুলকে বলল,
—” আমি আসলেই কিছুই বুঝতে পারছি না ধারা। তুমি শার্ট নিয়েছো, টব ভাঙলে, তারপর হঠাৎ কান্না শুরু করলে…এসব কেন? আমি কি তোমায় দোষ দিয়েছি? তোমায় তো কিছুই বলিনি!”
ধারা আরও হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। লোকটা গোপনটা যদি বুঝে ফেলে? যদি জেনে যায় আমি উনার কথা ভেবে উল্টোপাল্টা কল্পনা করছিলাম? নাহ! এ হতে দেয়া যাবে না। আবারো ফুঁপিয়ে উঠলো ধারা। কিন্তু শ্রাবণ সত্যিই কিছুই বোঝেনি। তার কাছে এ কান্না নিছক অদ্ভুত এক ধাঁধা ছাড়া কিছু নয়।
শ্রাবণ হালকা ভ্রু কুঁচকে অসহায়ের মতো এক মুহূর্ত তাকিয়েই রইল ধারার ভেজা মুখটার দিকে। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। মেয়েটার কোল থেকে শার্টটা আস্তে করে তুলে নিয়ে নিখুঁতভাবে ভাঁজ করে আলমারিতে রেখে দিল। তারপর ফিরে এসে শান্ত স্বরে বলল,
—”এত ছোট একটা ব্যাপারে এত কান্নাকাটি মানায় না ধারা। তুমি ভেবেছো আমি তোমায় বকব, অথচ আমি তো কিছুই বলিনি। একটা শার্ট ধরলে দোষ হবে কেন? এটা তো কোনো অপরাধ নয়। বোকা মেয়ে! দিনদিন কি ছোট বাচ্চা হয়ে যাচ্ছো?”
ধারা হাতের আঙুল জড়িয়ে শক্ত করে ধরল, ঠোঁট কাঁপছে এখনও। চোখ নিচু করে বিড়বিড় করে বলল,
—”আপনি বুঝবেন না…আমারই ভুল হয়েছে। আমি… আমি অদ্ভুত সব ভেবেছি। আস্তাগফিরুল্লাহ! মাফ করো আমায় খোদা! এ কোন বিপদ!”
শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার সামনে চুপ করে বসে পড়ল। একটু সময় তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে বলল,
—”ধারা, তুমি এখনো শিশু মনের মানুষ। বুঝলে? ছোট ছোট ব্যাপারে ভয় পাও, কেঁদে ফেলো। কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমার এমন কিছু দেখিনি যার জন্য তোমাকে লজ্জা পেতে হবে।”
এক মুহূর্ত থেমে ধারার চোখের পানি পুরোপুরি মুছে দিল, গলার স্বর আরও কোমল করল সে,
—” তুমি যতই কান্নাকাটি করো না কেনো, আমি এখনো কিছুই বুঝিনি। আর বুঝতেও চাই না। শুধু চাই, তুমি যেন এতটা ভয় না পাও। হয়েছে? এসো এবার! ঘরে চলো!”
শ্রাবণের স্থির কণ্ঠস্বর শুনে ধারা এক মুহূর্তের জন্য মুখ তুলে তাকালো। সেই চোখে আশ্চর্য মমতা সত্যিই কোনো প্রশ্ন নেই, কেবল নির্ভরতার আমন্ত্রণ। ধারা আবার তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু বুকের গভীরে একটুখানি স্বস্তি নেমে এলো। তাই শ্রাবণের কথা মত ঘরে চলে এলো। শ্রাবণ এবার ধারাকে বিছানায় বসিয়ে দিল। মাথায় আর গালে আদুরে ভঙ্গিতে হাত বুলিয়ে বলল,
—” তোমার মত বোকা আমি দুটো দেখিনি! এভাবে কাঁদবে না হুম!”
ধারা মাথা নাড়লো ধীরে। হুট করে কিছু একটা মনে পড়তেই কাতর কন্ঠে বলে উঠলো,
—” আমি যে ফুলের টব ভেঙেছি, এটা মা কে বলবেন না প্লিজ। কষ্ট পাবেন খুব!”
মিষ্টি হাসলো শ্রাবণ,
—” ঠিক আছে, বলবনা। তবে একটা শর্ত আছে!”
নড়েচড়ে বসলো ধারা। বড় বড় চোখে তাকিয়ে শুধালো,
—” কী শর্ত?”
শ্রাবণ একটু এগিয়ে এলো ধারার দিকে। চোখে চোখ রেখে বলল,
—” একটা সিক্রেট বলব তোমায়! তুমিও কাওকে বলবে না!”
ধারা আগ্রহ দেখালো। কৌতূহলী হয়ে বলল,
—” হুম বলুন!”
—” জেগে জেগে মানুষ স্বপ্ন দেখে না ম্যাডাম! তাই, তুমি মোটেই হ্যালুসিনেশানে ছিলে না। স্বপ্ন ছিল না মিসেস শেখ! ”
বাঁকা হাসলো শ্রাবণ। ধারার কপালে টুুক করে একটা টোকা দিয়ে কোনো কথা না বলে বাথরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। যাওয়ার আগে দরজায় দাঁড়িয়ে হতবাক হয়ে স্তব্ধ হয়ে থাকা ধারার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলে উঠলো,
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ২৩
—” সব স্বপ্ন সত্যি হয়না, আবার সব সত্যি স্বপ্ন হয়না!”
বলেই মিষ্টি হেসে দরজা লাগালো শ্রাবণ। থমকে যাওয়া ধারা ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। এসব কী বলে গেলো লোকটা? মানে কী এসবের? ওটা স্বপ্ন ছিল না? আসলেই স্বপ্ন ছিল না? তবে কি সত্যিই? হায় খোদা! এসব কী? কেনো? কীভাবে? হতবিহ্বল ধারা এবার আবিষ্কার করল, ঘাড়ের ছোঁয়াটা মোটেই অবাস্তব ছিল না! কিন্তু কীভাবে?
