শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ১০
আফীফা আফনান
ইমারজেন্সি ওয়ার্ডের ভেতরে তখন এক অদ্ভুত গম্ভীর নীরবতা।
স্টেথোস্কোপটা গলায় ঝুলিয়ে নিখুঁত পেশাদারিত্বের সাথে স্যালাইন ওয়াটার আর অ্যান্টিসেপ্টিক সল্যুশন দিয়ে কবির নামের সেই আহত লোকটির কপালের ক্ষতস্থানটা পরিষ্কার করছিল মেহুল। কাটাস্থান থেকে রক্ত জমাট বেঁধে গালে শুকিয়ে গিয়েছিল। মেহুল অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তুলা আর গজ দিয়ে ধাপে ধাপে সেগুলো মুছে সাফ করে দিল।
কবির নামের লোকটা বেডে চুপচাপ বসে থাকলেও তার চোখ দুটি তখনও অপরাধীর মতো অপরাধবোধে নোয়ানো। বাইরে থেকে সঙ্গীরা দু-একজন দরজার কাছে কৌতূহল নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল, কিন্তু মেহুলের গাম্ভীর্য দেখে কারোরই একটা বাড়তি কথা বলার সাহস হচ্ছিলো না।
অতঃপর ক্ষতটা পরিষ্কার করতেই মেহুল তীক্ষ্ণ চোখে ভালো করে ব্যান্ডেজ করার স্থানটি পরখ করে নিল। কাটাটা খুব বেশি গভীর নয়, তবে চামড়া সামান্য আলগা হয়ে গেছে।
মেহুল ট্রে থেকে পভিডোন-আয়োডিন অয়েন্টমেন্ট আর জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং গজ তুলে নিল। পরম দক্ষতায় ক্ষতের ওপর মলম লাগিয়ে তার ওপর গজ প্যাড বসিয়ে সার্জিক্যাল টেপ দিয়ে সুন্দরভাবে কপালটা ব্যান্ডেজ করে দিল। একজন ডক্টরের হাত কতটা সোজা আর নিখুঁত হতে পারে, তা মেহুলের কাজ করার ভঙ্গি দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
ব্যান্ডেজ করা শেষ করে মেহুল হাত থেকে গ্লাভস জোড়া খুলে ডাস্টবিনে ফেলল। তারপর ট্রে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক আর পেনকিলারের একটা প্রেসক্রিপশন লিখে কবিরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল—
”ক্ষতটা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি। কোনো সেলাই লাগবে না, তবে ইনফেকশন যেন না হয় সেজন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ড্রেসিং করাতে হবে। এই ওষুধ দুটো ফার্মেসি থেকে নিয়ে এখনি খেয়ে নিবেন। আর হ্যাঁ, দুই দিন মাথায় একদম পানি লাগানো যাবে না।”
মেহুলের এই ঠান্ডা অথচ পেশাদার আচরণ দেখে কবির কেবল বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়ল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই রুমের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রবির মোবাইলের ব্যাক ক্যামেরার হলদেটে আলোটা হালকা করে জ্বলে উঠল—যার ওপার থেকে হাজার মাইল দূরে বসে একটি তৃষ্ণার্ত চোখ অপলক দৃষ্টিতে ডাক্তারের অ্যাপ্রন পরা নিজের ‘অপ্সরা’কে প্রথমবার জীবন্তরূপে দেখে চলেছে!
ইমারজেন্সি রুমের এক কোণে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা রবি নিজের মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত কৌশলে হাতে ধরে রেখেছিল। ফোনের হাই-ডেফিনেশন ভিডিও কলের লাইভ স্ট্রিমিং অন করা। ওপাশে হাজার মাইল দূরে, দুবাইয়ের সেই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বিশাল টিভি স্ক্রিনে তখন ভেসে উঠেছে ইমারজেন্সি ওয়ার্ডের পুরো দৃশ্যপট।
স্ক্রিনের ওপারে থাকা সালমানের কাছে এই মুহূর্তটি যেন পুরো পৃথিবীর সময়কে থমকে দিল!
পাঁচটি বছর! দীর্ঘ ১৮২৫টি দিনের হাহাকার আর বুকে চেপে রাখা তীব্র তৃষ্ণা এক লহমায় অনলে রূপ নিল। সালমান শাহ নেওয়াজের চোখের পলক পর্যন্ত যেন পড়ছে না। তার রক্তে যেন এক উন্মাদ রক্তের স্রোত বইতে শুরু করেছে!
অতঃপর সে সোফা থেকে একঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে হিংস্র ও তড়িৎ গতিতে বিশাল টিভি স্ক্রিনটার ঠিক মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, কপালে আর গলায় স্পষ্ট হয়ে উঠল রগ। চোখের মনি দুটোতে কোনো দুর্বলতার চিহ্নমাত্র নেই; বরং সেখানে জ্বলজ্বল করছে এক অধিকারবোধের ভয়ংকর দাবানল আর চরম আসক্তি!
বর্তমানে সালমানের সামনে চশমা পরা, চুলের দুপাশে দুটো বেণি ঝুলিয়ে রাখা সেই পুরোনো, বোকা-বোকা বাচ্চা মেয়েটি আর নেই। তার জায়গায় আজ সাদা ধবধবে অ্যাপ্রন গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পূর্ণাঙ্গ মানবী, যার রূপের আলো আর ব্যক্তিত্বের তেজ এক লহমায় চারপাশে যেন এক অদ্ভুত সম্মোহন ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তার দুধে-আলতা ত্বকে আলতো গোলাপি আভা যেন ভোরের উদীয়মান সূর্যের ছোঁয়ার মতোই সজীব। ঠিক যেন সদ্য ফোটা কোন পদ্ম—কোথাও কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে শুধু এক অনাবিল স্নিগ্ধতা। তার পাপড়ির মতো নরম, হালকা গোলাপি ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা মৃদু গম্ভীরতা টুকুন মানবীর মাঝে এনে দিয়েছে এক অনন্য মোহনীয়তা। আর সেই ঠোঁটের ঠিক নিচে আটকে থাকা সেই কালো তিলটি—যাকে দেখে একসময় সালমান নিজের সমস্ত দিশা হারিয়ে ফেলেছিল, যে তিলের দিকে তাকালেই সে নিজেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলত—আজও তা একইভাবে অক্ষত, ঠিক ততটাই তীব্র আবেশ ছড়ানো!
পিঠ ছুঁয়ে নিচে নেমে যাওয়া তার ঘন, মেহগনি রঙের দীর্ঘ চুলগুলো আজ একটি শক্ত ব্যান্ডে সুরুচিপূর্ণভাবে বাঁধা। বাঁধনের ভেতর থেকেও দু-এক গুচ্ছ বিদ্রোহী চুল যেন তার চিবুক ছুঁয়ে যাচ্ছে।
তবে সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো তার পরিবর্তন। সেই আগের চঞ্চল, চুপচাপ , দ্বিধাগ্রস্ত মেয়েটার চোখে আজ এক অদম্য তেজ, চেহারায় আত্মবিশ্বাসের প্রখর আলো। পেশাদারিত্বের চরম গাঢ়তা নিয়ে, কতখানি অধিকার আর স্নেহের স্পর্শে সে রোগীর কপালে পরম যত্নে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিচ্ছে—তার প্রতিটি আঙুলের নড়াচড়ায়, প্রতিটি ভঙ্গিমায় আজ এক অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ।
মেহুলের এই অপরূপ রূপ আর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের তেজ যেন সালমানকে আবার নতুন করে আক্রমণ করল। দৃশ্যটি দেখতে দেখতে সালমানের রক্তে, তার শিরায় শিরায় আছড়ে পড়ল এক তীব্র, অনিয়ন্ত্রিত উন্মাদনা। মেহুলকে এভাবে নিজের চোখের সামনে এতোদিন পরে রক্তমাংসের শরীরে কাজ করতে দেখে সালমানের ভেতরের সুপ্ত প্রেমিক পুরুষটা যেন বহুকাল পর আরো একবার মাথাচড়া দিয়ে জেগে উঠল।
অতঃপর সে হাত উঁচিয়ে ধরলো, তার দীর্ঘ, সুগঠিত আঙুলগুলো স্ক্রিনে মেহুলের ঠোঁট আর মুখের ওপর চেপে বসল—যেন বাস্তব জীবনেই সে মেহুলকে নিজের হাতের শক্ত মুঠোয় পিষে ফেলছে!
তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভীষণ দ্রুগতি ও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিপজ্জনক, বাঁকা ও উন্মাদের মতো হাসি।
সে স্ক্রিনের গায়ে মুখটা আরও একটু এগিয়ে এনে, ধীর অথচ এক ভয়ংকর গম্ভীর কণ্ঠে আওড়াল—
”অপ্সরা… আমার অপ্সরা! এতোদিন অনেক দূরে পালিয়েছিলে, তাই না? কিন্তু তুমি ভুলে গিয়েছ, তুমি যেখানেই যাও না কেন, তোমার শেষ ঠিকানা এই সালমানের বুকই হবে! ভাগ্যই আমাদের একে অন্যের কাছাকাছি এনে দাঁড় করাবে। তোমার ওই রূপ, ওই তেজ… সবকিছুর ওপর একমাত্র আমার অধিকার।”
সালমানের ভেতরের এই অনিয়ন্ত্রিত আসক্তি আর পাগলামি রবির কাছেও যেন ফোনের ওপাশ থেকে স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছিল। সে সাবধানে ফিসফিস করে ফোনের স্পিকারের কাছে মুখ নিয়ে বলল—
”ভাই…!
কিন্তু রবির ডাক যেন সালমানের কান পর্যন্ত পৌঁছালো না। তাই সালমান কোনো উত্তর করল না, শুধু মেহুলের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে রবির উদ্দেশে এক ভয়ংকর, বরফশীতল ও অধিকারবোধে ভরা আদেশের সুর ছুড়ল—
”রবি… একটা আঁচড়ও যেন ওর গায়ে না লাগে। ছায়ার মতো ওকে আগলে রাখবি। আমি আসছি… খুব শিঘ্রই নিজের অপ্সরাকে বুক পকেটে পুরতে আসছি!”
এদিকে মেহুল ইমারজেন্সি ওয়ার্ডের কাজ শেষ করে ধীর পায়ে নিজের কেবিনে ফিরে এলো। শরীরের রন্ধে রন্ধে ক্লান্তির ছাপ। সে ধীরেসুস্থে গায়ের সাদা অ্যাপ্রনটা খুলে যত্ন করে চেয়ারের পেছনের হেলান দেওয়া অংশে রাখল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিভলভিং চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিল একটু জিরিয়ে নেওয়ার আশায়।
ওদিকে রবি তখন কবিরকে ইমারজেন্সি রুম থেকে বের করে নিয়ে নিচে নেমে এসেছে। তার কানে তখনো সশব্দে চেপে ধরা আছে ফোনটি।
ঠিক তখনই ওপাশ থেকে সালমানের উন্মাদের মতো গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
”আমি ওকে আরো দেখব, রবি! আমার তাকে দেখার তৃষ্ণা এখনো মেটেনি। ক্যামেরা আবার ওর দিকে ঘোরা!”
শুনেই রবি বেশ অবাক হয়ে বলল, “ভাই! এইমাত্র না দেখলে? পুরো ট্রিটমেন্ট জুড়ে তো লাইভ কল অনই ছিল!”
”উহু, মন ভরেনি! আমি আমার অপ্সরাকে আরো দেখব, ব্যস!” সালমানের গলার সুর এক মুহূর্তে জেদি আর বিপজ্জনক হয়ে উঠল।
রবি অসহায় মুখে বলল, “কিন্তু ভাই… কবিরের ট্রিটমেন্ট তো শেষ! আর ভাবিও উনার ডিউটি শেষ করে কেবিনে ফিরে গেছেন। এখন কীভাবে দেখাব?”
সালমানের ধীর কিন্তু বরফশীতল কণ্ঠ ভেসে এলো ওপাশ থেকে—
”কবিরের ট্রিটমেন্ট শেষ তো কী হয়েছে? এবার তুই অসুস্থ হয়ে যা! নয়তো মাথা ঘুরে মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়! যা খুশি কর, কিন্তু আমি আমার অপ্সরাকে দেখব! আর যদি তা না পারিস, তবে দেশে ফিরে তোদের সবকটাকে পুকুরের পানিতে চুবিয়ে মারব, মনে থাকে যেন!”
কথাটা বলেই সালমান ফোন কেটে দিল। আর এদিকে রবির মাথার ওপর যেন বাজ পড়ল! সলমানের রাগ জেদ সবটা সম্পর্কে সে অবগত কিন্তু আজ যেন সালমানকে অন্যরকম মনে হচ্ছে তার। এক অদ্ভুত বিপদে পড়ল সে! অতঃপর রবি কি করবে ভাবতে ভাবতেই পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখল তার সাঙ্গোপাঙ্গরা হাঁ করে তার দিকেই চেয়ে আছে। হঠাৎই রবির মাথায় চট করে একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে মুখ গম্ভীর করে তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে কড়া গলায় ধমক দিয়ে বলল, “সব কয়টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিস? চল আমার সাথে বাইরে!”
আকস্মিক ধমক খেয়ে সবাই একটু নড়ে চড়ে বসলো অতঃপর রবি সবাইকে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল সে।
বের হবার ঠিক মিনিট পনেরো পরেই ইমারজেন্সির সামনে হঠাৎ এক করুণ চিৎকার আর হুলস্থুল কাণ্ড! রবি তার আরেক সাঙ্গোপাঙ্গকে প্রায় চ্যাংদোলা করে ভেতরে টেনে নিয়ে ঢুকছে। ছেলেটার ডান হাত থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে—কবিরের মতোই চামড়া উঠে এক বীভৎস অবস্থা!
রবি উন্মাদের মতো চেঁচাতে লাগল, “ডাক্তার! কোথায় ডাক্তার?! এমারজেন্সি! ভাই আমার মরে গেল রে, তাড়াতাড়ি কেউ ডাক্তার ডাকেন!”
সবেমাত্র কেবিনে বসে একটু চোখ বুজেছিল মেহুল। করিডোর থেকে আবার রবির সেই পরিচিত চিৎকার কানে আসতেই সে চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। অ্যাপ্রনটা আবার গায়ে গলিয়ে দ্রুত পায়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো কি হয়েছে দেখার জন্য।
এদিকে মেহুলকে সামনে আসতে দেখেই রবি নাটকীয়ভাবে ধেয়ে গেল তার দিকে, “ম্যাডাম! দেখেন দেখেন আমার ভাইয়ের হাত কীভাবে কেটে গেছে! প্রচুর রক্ত পড়ছে ম্যাডাম, দয়া করে তাড়াতাড়ি একটু চিকিৎসা করেন!”
মেহুল একটু আগেই এই ছেলেটিকে বেশ সুস্থ-সবল অবস্থায় নিচে নেমে যেতে দেখেছিল। এত অল্প সময়ে হাত কীভাবে এমনভাবে কেটে ছাল চামড়া উঠে গেল—ভেবে সে বেশ অবাক ও সন্দিহান চোখে রবির দিকে তাকাল। কিন্তু রোগীর হাত দিয়ে এভাবে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে আর রবির আকুল অনুনয়-বিনয়ে মেহুল আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পেল না।
একজন ডক্টরের পেশাগত দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সে কালবিলম্ব না করে বলল, “উনাকে দ্রুত ভেতরে নিয়ে আসুন!”
মেহুল সেই হাত কাটা ছেলেটিকে নিয়ে আবারও ইমারজেন্সি রুমের দিকে পা বাড়াল—যার পেছনে ছায়ার মতো পিছু নিল রবি, আর ফোনের আড়ালে থাকা এক আসক্ত জোড়া চোখ!
মেহুল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দ্বিতীয় লোকটির হাতের ক্ষত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিল। কিন্তু আসল নাটক শুরু হলো ঠিক এর পর থেকে!
এক এক করে রবির দলের সাঙ্গোপাঙ্গরা দরজার সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে লাগল। কারো হাত কাটা, কারো পায়ে ছাল উঠে রক্ত ঝরছে, তো কারো আবার নাকে আচড় লেগে রক্ত বের হচ্ছে!
পরপর চার-পাঁচজন একই ধরনের অদ্ভুত সব ইনজুরি নিয়ে লাইনে দাঁড়াতেই মেহুল ভারি আশ্চর্য হলো। সাথে সাথেই তার কপালে গভীর ভাঁজ পড়ে গেল। সে হাতের গ্লাভস জোড়া খুলে তীক্ষ্ণ ও সন্দিহান চোখে রবির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে বসল, “ব্যাপার কী বলুন তো? আপনাদের একসাথে একের পর এক সবার এমন অবস্থা কীভাবে হলো?”
মেহুলের হুট করে করা প্রশ্নে রবি এক মুহূর্তের জন্য আমতা আমতা করে একদম চুপ মেরে গেল। উত্তর কী দেবে ভেবে পাচ্ছিল না।
ঠিক তখনই পাশ থেকে মাথা ব্যান্ডেজ করা কবির নিজের মাথা চুলকে বান বানিয়ে বলে উঠল, “ম্যাডাম… আসলে ওরা নিজেগো মধ্যেই মারামারি করেছে।”
শুনেই মেহুল আরও কৌতুহলী হয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলল, “মারামারি করেছে?! কেন? কী নিয়ে ঝামেলা?”
তখনি কবির গম্ভীর মুখে গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিল, “ওদের মধ্যে কে বেশি হ্যান্ডসাম—এই নিয়ে তর্ক লাগছিল ম্যাডাম! তর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু কইরা এই অবস্থা করছে পাডা ডি!”
কবির নামক ছেলেটির কথাটা শুনে মেহুল স্বস্থানেই দাঁড়িয়ে যেন বিষম খেল! সামান্য হ্যান্ডসাম হওয়া নিয়ে গভীর রাতে মারামারি করে হাসপাতাল তোলপাড় করে ফেলা—এমন অদ্ভুুুত আর আজগুবি গল্প সে এই জীবনে মনে হয় কখনো শোনেনি!
নিজের স্তম্ভিত ভাবটা একটু কাটিয়ে মেহুল এবার সরাসরি রবির দিকে তাকাল। রবির চোয়াল আর হাবভাব লক্ষ্য করে মেহুল শান্ত কিন্তু সুদৃঢ় কণ্ঠে বলল, “আপনাদের মুখের ভাষা আর কথাবার্তা শুনেই বোঝা যাচ্ছে আপনারা এখানকার স্থানীয় নন। তাছাড়া আপনিও এতক্ষণ একদম চুপ করে আছেন। আমি কি জানতে পারি আপনারা মূলত এই হাসপাতালে এত গভীর রাতে কেন এসেছিলেন?”
রবি নিজের গলাটা একটু খাঁকারি দিয়ে বলল, “একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম, ম্যাডাম।”
মেহুল ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “কাকে? আপনাদের কোনো আত্মীয় কি এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন?”
রবি ঠোঁট কামড়ে উত্তর দিল, “হ্যাঁ, ভর্তি ছিল। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম… সে আর এখানে নেই।”
মেহুল স্বভাবতই ভাবল রোগী হয়তো ভালো হয়ে ডিসচার্জ নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। সে মাথা নেড়ে বলল, “ওহ, ডিসচার্জ নিয়ে চলে গেছে হয়তো। কিন্তু তাহলে তখন নিচে এত চিৎকার-চেঁচামেচি আর তাণ্ডব করছিলেন কেন?”
রবি অতি বাধ্য ছেলের মতো বলল, “কী করব ম্যাডাম, সিকিউরিটি গার্ড তো আমাদের ভেতরেই আসতে দিচ্ছিল না।”
মেহুল মৃদু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গম্ভীর কণ্ঠে বোঝাল, “সিকিউরিটি গার্ড তার কাজই করছিল। এটাই স্বাভাবিক! আপনারা এসেছেন ভিজিটিং আওয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক পরে। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী এই সময়ে এতগুলো মানুষ একসাথে কোনো রোগীর সাথে দেখা করতে আসতে পারে না। হাসপাতাল তো আর যে যা খুশি করবে এমন জায়গা নয়!”
মেহুলের কড়া ধমক রবি ও তার দলের লোকগুলো একদম মাথা নিচু করে নীরবে শুনে নিল। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন মেহুলের খুব বাধ্য ও অনুগত অনুসারী। অথচ মেহুল ঘুণাক্ষরেও জানতে পারল না—আজ তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে, রবি আর তার দল তাকে বহু আগেই ‘ওয়ান-টু-কা-ফোর’ করে হাওয়ায় মিলিয়ে দিত!
অবশেষে একের পর এক সব রোগীর ড্রেসিং আর কাজ শেষ করে মেহুল একসময় নিজের কেবিনে ফিরে এলো। টেবিলের ওপর থেকে নিজের মোবাইলটা হাতে নিয়ে সে ঘড়ির দিকে তাকাল। সময়টা দেখে সে নিজেও চমকে উঠল—এসব হুলস্থুল সামলাতে সামলাতে রাতের আঁধার কেটে প্রায় ভোর হয়ে এসেছে!
মেহুল আর বিন্দুমাত্র দেরি না করে ফোন থেকে ‘মিনার’ নামটিতে ডায়াল করল।
ওপাশে ঘুমঘুম ও ভারী কণ্ঠে ফোন রিসিভ হতেই মেহুল এক বাক্যে বলল, “মিনার, আমাকে এসে নিয়ে যা।”
হঠাৎ মেহুলের এমন কথাতে মিনার ওপাশ থেকে একটু চোখ ডলে ফোনের পর্দায় সময়টা দেখে নিল। অন্য সময় হলে মিনার মেহুলকে জ্বালাতন করতো তার সাথে মজা নিত কিন্তু এই ভোরের সময়টা দেখে সে বাড়তি কিছুই বলল না শুধু ঘুমজড়ানো গলায় দ্রুত বলল, “আচ্ছা, তুই রেডি হ। আমি এখনই আসছি।”
কলটা কেটে দিয়ে মেহুল হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে নিজের ব্যাগ গোছাতে আর তৈরি হতে লাগল। তবে তার জানা ছিল না, হাসপাতালের করিডোরের ওপাশ থেকে এখনো একজোড়া অদৃশ্য চোখ তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে!
মেহুলের কল পাওয়ার ঠিক বিশ মিনিটের মধ্যেই মিনার হাসপাতালের গেটের সামনে এসে হাজির হলো। তার চোখের কোণ দুটো টকটকে লাল, চোখ-মুখের অভিব্যক্তি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কেবল মাত্র ঘুম থেকে উঠেই সে বাইক নিয়ে ছুটে এসেছে।
অতঃপর হাসপাতালের সামনে বাইকটা ব্রেক কষে থামিয়েই মিনার মেহুলকে ফোন দিল। ফোন পেতেই মেহুল কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ধীর পায়ে হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।
মিনারের লাল হয়ে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে মেহুল এক চিলতে হেসে বলল, “তোর ঘুমটা আজ ভাঙিয়ে দিলাম, তাই না?”
মিনার ঘুমের আমেজে হালকা মুখ বাকিয়ে বলল, “হয়েছে, আর জ্ঞান দিতে হবে না। চুপচাপ বাইকে ওঠ।”
মেহুল আর কথা না বাড়িয়ে মিনারের বাইকের পেছনে গিয়ে বসল। সাথে সাথেই মিনারের স্পোর্টস বাইকটা বিকট শব্দে গর্জে উঠে রাস্তার বুকে দ্রুত গতিতে ছুটে চলল।
তারা বাইক নিয়ে রওনা হতেই হাসপাতালের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা রবি তীক্ষ্ণ চোখে তা লক্ষ্য করল। এক মুহূর্ত দেরি না করে সে নিজের বাইক স্টার্ট দিয়ে বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে তাদের পিছু নিল।
ভোরের ফাঁকা রাস্তা ধরে মিনার আর মেহুল দ্রুতই মেহুলদের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছাল। মেহুল বাইক থেকে নেমে মিনারকে বাইক পার্ক করে তারাতারি বাড়িতে আসতে বলে নিজে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল।
এদিকে কিছুটা দূরে বাইক থামিয়ে রবি মেহুলের বাড়ির মূল ফটক আর পুরো বিল্ডিংয়ের ছবিটা নিজের ফোনে স্পষ্ট করে বন্দি করে নিল। ছবিটা তুলেই সে কালবিলম্ব না করে সালমানের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে সেন্ড করে দিল। সাথে লোকেশনটাও ট্যাগ করে দিল।
এদিকে অপরপ্রান্তে হাজার মাইল দূরে বসে থাকা সালমানের ফোনে ছবিটা পৌঁছাতেই সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছবিটি ওপেন করল। মেহুলের বাসস্থানের ছবিটা স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই তার ঠোঁটের কোণে এক মারাত্মক, তৃপ্তির ও হিংস্র হাসি ফুটে উঠল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের হাহাকারের পর আজ তার অপ্সরার প্রতিটি পদক্ষেপের ছাপ, তার বাসস্থানের প্রতিটি ইটের হিসাব সালমানের হাতের মুঠোয়!
অতঃপর ছবিটার দিকে কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে রইল সালমান। তারপর ফোন বের করে ডায়াল করল তার ব্যক্তিগত অ্যাসিস্ট্যান্ট ধ্রুবর নম্বরে। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হতেই সালমান তার স্বভাবসুলভ গমগমে গলায় বলে উঠল, “আমাদের আগামীকালের বাংলাদেশের টিকিটের ব্যবস্থা কর ধ্রুব। আমরা কাল সকালেই দেশে ফিরছি।”
কথাটা বলেই সে একতরফা কল কেটে দিল। তারপর ঠোঁটে একচিলতে অদ্ভুত মুচকি হাসি ফুটিয়ে আবার তাকাল ছবিটার দিকে। হাবভাব এমন যেন ছবিটির প্রতিটি ইটকে সে মেপে দেখছে।
এদিকে বাড়ির ভেতরে নিজের রুমে ঢুকতেই মেহুলের পুরো শরীরের সমস্ত ক্লান্তি যেন একযোগে পেয়ে বসল। সারারাত হাসপাতালের মানসিক ও শারীরিক ঝড় সামলানোর পর আর জামাকাপড় পাল্টানোর সামর্থ্যও তার অবশিষ্ট ছিল না। সে কাঁধ থেকে ব্যাগটা টেবিলের ওপর ফেলে দিয়েই সোজা বিছানায় নিজের ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দিল।
চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে আসছিল তার। তাই তো বিছানায় পিঠ ঠেকাতেই মেহুল গভীর ও শান্ত এক ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল—সম্পূর্ণ অনবগত থেকে যে, তার এই শান্ত জীবনের ওপর খুব শীঘ্রই এক বিশাল ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে!
সময়টা তখন দ্বিপ্রহর। আকাশের বুকে যেন হালকা মেঘের অলস আনাগোনা, নীল আর সাদার এক নিপুণ লুকোচুরি খেলা। মাঝে মাঝে একচিলতে বাতাস এসে পথচারিদের চুলে বিলি কেটে দিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতির মেজাজে তাতে বিন্দুমাত্র শিথিলতা নেই। বাতাসটুকু যেন শুধু এক বিভ্রান্তি—গরমের দহন কমেনি একবিন্দুও।
আকাশে মেঘের চাদর আর ক্ষণিক হাওয়ার দোলা সত্ত্বেও চারপাশের আবহাওয়া যেন এক অদৃশ্য উনুনের আঁচে সিদ্ধ হচ্ছে। সেই আগের মতোই চিটচিটে, ধোঁয়াটে এক গুমোট উত্তাপ স্তব্ধ করে রেখেছে চারপাশকে; যেন এক দগ্ধ প্রকৃতির ছদ্মবেশী নীরবতা।
ঠিক এমনই এক থমথমে দুপুরে, মেহুলের ঘুম ভাঙল বেশ দেরিতে। মিনারা বেগম তখন রান্না ঘরে ব্যস্ত, এদিকে তিনি আগেই মিনারের কাছ থেকে মেহুলের রাতের নাইট ডিউটি আর ধকলের কথা জেনে নিয়েছিলেন। তাই মেয়েকে একটু শান্তিতে ঘুমাতে দেওয়ার জন্য তিনিও আর সকাল সকাল মেহুলকে ডেকে তুলে বিরক্ত করেননি।
অবশেষে মেহুল যখন ঘুম থেকে উঠল, তখন দুপুরের কাছাকাছি। ঘুম থেকে উঠে সে ফ্রেশ হয়ে মেহুল সিদ্ধান্ত নিল আজ দুপুরের শিফটেই ডিউটি করবে। তাই নিজের মনি-কে জানিয়ে, হালকা কিছু খেয়ে নিয়ে সে দ্রুত তৈরি হয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। আজ আর বাড়ির গাড়ি বা মিনারের সাথে আসে নি সে। বাড়ির সামনে থেকেই রিকসায় করে এসেছে।
ঠিক সময় অনুযায়ী দুপুরে হাসপাতালের সামনে এসে পৌঁছাল মেহুল। ধীর পায়ে প্রধান ফটকের দিকে এগোতেই হঠাৎ হাসপাতালের উল্টো পাশের সেই চায়ের দোকানের দিকে চোখ যেতেই মেহুল থমকে গেল!
চা দোকানের সামনে একটি গাড়ির সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরমান!
আরমানকে দেখেই মেহুলের চোখ-মুখ কঠিন হয়ে উঠল। সে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে লোকটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সোজা হাসপাতালের গেটের দিকে হেঁটে যেতে চাইল। কিন্তু ততক্ষণে আরমান তাকে দেখে নিয়েছে।
তাইতো মেহুলের এই এড়িয়ে যাওয়াকে পাত্তা না দিয়ে। সে তড়িঘড়ি করে এসে একদম সোজা মেহুলের পথ আটকে সামনে এসে দাঁড়াল!
আরমানের এহেন কান্ডে মেহুল বেশ বিরক্ত হলো। কিন্তু আশে পাশে অসংখ্য মানুষ থাকায় সে নিজের বিরক্তি আর রাগ চেপে এক পাশে দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল। কিন্তু আরমান ছোবল মারার মতো আবার তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল এবং সব লাজ-লজ্জা, লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে একঝটকায় মেহুলের ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল!
হঠাৎ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে মেহুল যেন জ্বলে উঠল! সে এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বরফশীতল ও কড়া কণ্ঠে গর্জাল—
”হাত ছাড়ুন! আগের থাপ্পড়ের কথা হয়তো ভুলে গেছেন, তাই না? নাকি আবার মনে করিয়ে দিতে হবে?!”
মেহুলের এই তীব্র রাগ আর থাপ্পড়ের হুমকিতে আরমানের মুখে কোনো অনুশোচনা বা ভয়ের রেখামাত্র ফুটল না। সে হাত না ছেড়ে, মেহুলের চোখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে পরম নির্লজ্জতায় শান্ত কিন্তু নিবিড় গলায় বলে উঠল—
তুই যতোই যা বলিস, যতোই অপমান করিস, তাও আমি এখনো তোকে ভালোবাসি মেহুল…..
আরমানের মুখে হঠাৎ এমন কথা শুনে মেহুল থমকে গেল। মুহূর্তের জন্য তার চোখেমুখে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত, অবর্ণনীয় অভিব্যক্তি। তা দেখেই আরমান মনে মনে বেশ খুশিই হলো—ভাবল, এই বুঝি মেহুলের হৃদয়ের কঠিন বরফ গলল, এই বুঝি সে গলে গেল তার ভালোবাসায়!
কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে পরক্ষণেই মেহুলের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল একগাল তীব্র তাচ্ছিল্যের হাসি। চোখে জমাট বাঁধল বরফশীতল চাহনি। সে আরমানের দিকে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে শান্ত অথচ ধারালো গলায় বলল, “ভালোবাসা? ওহ্…”তার মানে টাকা-পয়সা মনে হয় শেষ! বস্তিতে থাকতে খুব অসুবিধা হচ্ছে, তাই না?
আরো একটু এগিয়ে এসে, গলা আরও তীক্ষ্ণ করে,
ফ্রিতে খাওয়া, আরাম আয়েশ আর ফুটানিগুলো মনে হয় আবার মাথা চড়া দিচ্ছে তাইতো। তাহলে একটা ফ্রিতে উপদেশ দেয়, আমাদের বাড়ির আশেপাশে সবাই তো খুব বড়লোক্স আশা করি জানাই আছে। তো একটা ভাঙা থালা নিয়ে রাস্তার মোড়ে বসবেন তাহলে দেখবেন দিন শেষে ভালোই ইনকাম হচ্ছে। শুধু শুধু এমন নোংরা গেইম গুলো খেলতে হবে না।”
কথাটা শেষ করেই মেহুল নিজের ব্যাগ থেকে একটা একশো টাকার নোট বের করল। তারপর কোনো রকম ভ্রুক্ষেপ না করে সেটা আরমানের হাতে গুঁজে দিয়ে চরম তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “পুরোনো প্লেট খুঁজে না পেলে এটা দিয়ে নতুন একটা কিনে নেবেন। কারন আমি চাই না, সামান্য একটা প্লেটের জন্য আপনাকে কারও কাছে মাথা নত করতে হোক। অবশ্য পুরোনো প্লেট থাকলে ভিক্ষুক ভিক্ষুক ফিলটা বেশি হতো, তবে ব্যাপার না। নতুন দিয়েও আপনাদের কাজ হয়ে যাবে।”
শ্রাবণ শেষের রোদ্দুর পর্ব ৯ (২)
এটুকু বলেই সে আর একমুহূর্তও দাঁড়াল না, উল্টো ঘুরে হনহন করে সেখান থেকে চলে গেল। আর তার পেছনে, অপমান আর বিস্ময়ে চরম হতভম্ব হয়ে কাঠপুতুলের মতো দাঁড়িয়ে রইল আরমান।
