সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০
jannatul firdaus mithila
স্টেজ ভর্তি মানুষজন।আশেপাশের কোলাহলও কম নয় কিন্তু। এরমধ্যে সকলের ভিড় ঠেলে মেয়েটাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাওয়াটা একপ্রকার বেয়াদবি বৈকি!তবে অরিনের ডাক্তার সাহেব কী আর ওতোসব বেয়াদবি গায়ে মাখে? ছেলেটা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েই হনহনিয়ে পা বাড়ালো। ওদিকে ভয়ার্ত অরিন আশেপাশে একবার নজর বুলালো খানিক। তারপর কী মনে করে মিনমিনিয়ে বলল,
“ নিচে নামান ডাক্তার সাহেব।”
কে শোনে কার কথা! রৌদ্র মেয়েটার এহেন কথাকে একপ্রকার চুলোয় চড়িয়ে কেমন গটগট পায়ে ঠিকই হাঁটছে সামনের দিকে। অরিনের বুক কাঁপছে এবার।সে তৎক্ষনাৎ নিজের উপস্থিত বুদ্ধিখানা কাজে লাগিয়ে কন্ঠে কেমন নমনীয়তা ঢেলে বলে ওঠে,
“ পুট মি ডাউন রৌদ্র!”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
হঠাৎ পাদুকা থামলো রৌদ্রের। কপালের চামড়ায় বিদ্যমান ভাজঁটুকু আচমকা মিলিয়ে গেলো অজানায়।ঠোঁটের কোণে লেপ্টে গেলো এক নিঃশব্দ বাঁকা হাসির রেশ। সে ধীরেসুস্থে অরিনকে কাঁধ থেকে নামায়। ছাড়া পেয়ে বেচারি অরিন কেমন ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো! এরইমধ্যে রৌদ্র ঘটায় আরেক কান্ড।তৎক্ষনাৎ একহাতে মেয়েটার পাতলা কোমর আঁকড়ে ধরে, দিলো এক হেঁচকা টান।এদিকে ছেলেটার ওমন হুটহাট টানের তাল সামলাতে না পেরে হকচকিয়ে ওঠে অরিন। হেঁচকা টানে একপ্রকার আছড়ে পড়ে রৌদ্রের গায়ে। রৌদ্র মিটমিটিয়ে হাসছে এবার।অরিনকে শক্ত করে দু’হাতের বাঁধনে বেঁধে রেখে মুখ নামিয়ে আনলো অরিনের কান বরাবর। হিসহিসিয়ে দুষ্ট হেসে বলে ওঠে,
“ আজকে শতবার আমাকে থামানোর বিভিন্ন ট্রিকস কাজে লাগালেও আজকে আমি থামছি না হানি! সো বাদ দাও এসব সো কলড ট্রিকস!”
শুষ্ক ঢোক গিললো অরিন।গায়ের পশম তার দাঁড়িয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। রৌদ্র সময় নিয়ে অরিনের কোমর ছাড়লো। সরু দৃষ্টিতে চাইলো মেয়েটার লাল টুকটুকে হয়ে আসা লাজুক মুখ পানে। লজ্জা পেলে মেয়েটাকে যে কী সুন্দর লাগে… এটা যদি অরিন একটিবার জানতো,তবে হয়তো নিজে থেকেই হাজারবার লজ্জায় পড়তে চাইতো! রৌদ্র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে স্মিত হাসলো। ধীরে ধীরে একহাত উঠিয়ে আনলো অরিনের ফোলা ফোলা ডান গালের ওপর। সেথায় আলতো করে স্পর্শ একেঁ দুষ্ট কন্ঠে বলল,
“ কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কিচ্ছু বলবেনা কেমন?”
অরিন বোকার মতো তাকিয়ে রইলো শুধু।হতবিহ্বলতায় শুষ্ক অধরজোড়া ঠোঁট দিয়ে খানিক ভিজিয়ে নিয়ে মাথা কাত করলো আলগোছে।রৌদ্র বাঁকা হাসলো এবার।তৎক্ষনাৎ অরিনের হাতের কব্জি চেপে হাঁটা ধরলো গটগট পায়ে।
উঠোনে দাঁড়িয়ে আছেন কবির সাহেব।গম্ভীর মুখে একটু-আধটু হাসি দিয়ে টুকটাক কথা বলছেন পরিচিতদের সাথে। তৌসিফ মির্জা বহুক্ষণ আগেই কবির সাহেবকে এক ঝলক দেখতে পেয়ে প্রস্থান ঘটিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে। মানুষটা খাবার অব্ধি খায়নি তখন।এ নিয়ে মোখলেস মিয়ার আফসোসের শেষ নেই! বেচারা তো জানেনও না তৌসিফ মির্জার হুটহাট চলে যাওয়ার কারণ। এদিকে অরিনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে রৌদ্র।মেয়েটা কেমন ভয়ের চোটে চুপচাপ হাটঁছে ছেলেটার সাথে। প্রায় কিয়তক্ষন বাদে, রৌদ্র উঠোন পেরিয়ে চলে যেতেই সামনে পড়লেন কবির সাহেব।মাত্রই পরিচিতদের সাথে কথাবার্তার ইতি ঘটিয়ে পা বাড়িয়েছিলেন উল্টো দিকে। ওমনি ছেলেকে দেখে থমকে দাঁড়ালেন তিনি।গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করলেন,
“ কোথায় যাচ্ছো এতো তারাহুরো করে?”
রৌদ্র ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। গলায় কোনরূপ ভনিতা না ঢেলে বলে,
“ জরুরী ফাইল ঘাঁটতে!”
কবির সাহেবের শিথিল ভ্রু-দ্বয়ের মাঝে ভাজঁ পড়লো দুয়েকটা।তার মুখাবয়বে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে বোধগম্যহীনতা।মানুষটা কন্ঠে কেমন সন্দিগ্ধ ভাব টেনে বললেন,
“ জরুরী ফাইল? তাও আবার বিয়ে বাড়িতে এসে? এটা আবার কোন ফাইল?”
রৌদ্র হাত উঠিয়ে ভ্রু কুঁচকায় নিজের। বাবার অলক্ষ্যে বাঁকা হাসলো একটুখানি। পরক্ষণে সে হাসি ঠোঁটের কোণ থেকে মুছে নিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
“ ভীষণ জরুরী ফাইল আব্বু। ও তুমি বুঝবে না!”
ছেলের কথার পরপরই কোমরের পিঠে দু’হাত বাঁধলেন কবির সাহেব। গম্ভীর মুখে ফের সন্দিহান গলায় বলে ওঠেন,
“ জরুরী ফাইল ঘাঁটতে হলে একা যাও।মেয়েটাকে তবে শুধু শুধু সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছো কেনো?”
রৌদ্র এবার গা-ছাড়া ভাব ধরলো। একহাতে অরিনের হাতের কব্জি চেপে রেখেই ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বলতে লাগলো,
“ আমার আবার বউ ছাড়া কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না আব্বু! বুকটা কেমন খা খা করে বউ ছাড়া। তাই বউ নিয়ে যাচ্ছি। কেনো কোনো সমস্যা?”
শুরু হয়ে গেলো ছেলেটার বউ বৃত্তান্ত! কবির সাহেব এপর্যায়ে ফের অতিষ্ঠ হলেন। কটমট দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলের পানে।আশেপাশে না তাকিয়েই তড়িৎ দাঁত খিঁচে নিচু কন্ঠে দিলেন এক ধমক।বললেন,
“ যখন-তখন বউ বউ না করলে তোমার পেটের ভাত হজম হয়না বেয়াদব ছেলে? বউ কী পৃথিবীতে কেবল তোমারই আছে?”
রৌদ্র ভ্রুক্ষেপহীন! বাবার এহেন কথাগুলোকে কোনরূপ তোয়াক্কা না করে দু’ধারে নিঃশব্দে মাথা নাড়ায় সে।পরক্ষণে বলে,
“ না তো! বউতো সবার থাকে। তবে কার কয়টা থাকে, সেটাতো আর আমি জানি নাহ!”
ব্যস! এটুকুই যেন যথেষ্ট ছিলো কবির সাহেবের জলন্ত মেজাজে ঘি ঢালতে। মানুষটা দাঁত খিঁচে যেইনা কিছু বলবেন তার আগেই রৌদ্র কেমন বাবাকে পাশ কাটিয়ে বউয়ের হাত ধরে হাঁটা ধরলো বাড়ির বাইরে। এদিকে পেছনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন কবির সাহেব। রাগী মানুষ রাগে কেমন গজগজ করছেন! ভাগ্যিস এটা অন্যের বাড়ি। নাহলে যে কী হতো।
গাড়ি ছুটছে আপন গতিতে। ফ্রন্ট সিটে বসে নখ খুঁটাচ্ছে অরিন।করার মত কিছু না পেয়ে এক-আধবার আড়চোখে দেখছে রৌদ্রকে।ওদিকে রৌদ্রের চোখমুখ বেজায় শক্ত। ছেলেটা কেমন একদৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। অরিনের সাধ্যি হলোনা ছেলেটার সনে যেচে পড়ে কথা বলতে। পাছে না আবার দিয়ে বসে এক-দুটো ধমক!
প্রায় আধঘন্টা পর, গাড়ি এসে থামলো প্যান প্যাসিফিক হোটেলের সামনে। রৌদ্র তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নামলো। ঘুরে এসে অরিনের সিটের দরজা খুলে দিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
“ গাড়ি থেকে নাম!”
অরিন নামছেনা।উল্টো ঠায় বসে রইলো বুকের কাছে হাত বেধেঁ।রৌদ্র ভ্রু কুঁচকায়। মাথাটা সামান্য নামিয়ে এনে গম্ভীর মুখে বলে ওঠে,
“ কী সমস্যা? কথা যাচ্ছে না তোর?”
অরিন ভ্রুক্ষেপহীন। মাথা নুইয়ে বসে আছে এবার। রৌদ্র দাঁত কিড়মিড় করে ফের বলে ওঠে,
“ গাড়ি থেকে নাম সানশাইন!”
“ নামবো না আমি! কী করবেন?”
রৌদ্র এবার সটান হয়ে দাঁড়ায়। দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে কপালে ভাজঁ ফেলে কর্কশ গলায় বলে ওঠে,
“ বেশি কিছু না। জাস্ট কাঁধে তুলে আছাড় মারবো একটা!”
অরিন ভড়কায়।তড়িৎ চোখদুটো ছানাবড়া করে তাকায় রৌদ্রের পানে। ওদিকে রৌদ্রের ভাবখানা দেখো না! বুকের কাছে দু’হাত বেঁধে মহাশয় কেমন দাঁড়িয়ে আছেন নিজ আঙ্গিকে। প্রায় মিনিট খানেক পেরুতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলো ডাক্তার সাহেবের।সে তৎক্ষনাৎ নিচু হয়ে মেয়েটাকে তুলে নিলো পাঁজা কোলে।অরিন মোটেও নড়চড় করেনি এবার।নড়চড় করে থোড়াই ডাক্তার সাহেবের ধমক খাবে সে!
অরিনকে কোলে নিয়ে হাঁটছে রৌদ্র। আশেপাশের উৎসুক জনতার কয়েক জোড়া উৎসুক দৃষ্টি আপাতত তাদের ওপরেই নিবদ্ধ। অথচ সেদিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা নেই রৌদ্রের।সে উল্টো মেয়েটাকে কোলে নিয়েই চলে গেলো রিসেপশনে।আগে থেকে বুকিং করা রুমের কোড বলতেই রিসেপশনে বসে থাকা নারী কর্মী মুচকি হেসে রৌদ্রের হাতে রুমের চাবি এগিয়ে দিলেন।চাবি পেয়ে রৌদ্রকে আর পায় কে? সে-তো তক্ষুনি হাঁটা ধরলো লিফটের দিকে।
পরপর চার-চারটে লিফট।রৌদ্রকে গিয়ে দাঁড়ালো একদম শেষেরটায়। মেয়েটাকে কোল থেকে নামিয়ে দাঁড় করায় নিজ পাশে।তারপর হাত বাড়িয়ে ক্লজ বাটন চাপতেই কোত্থেকে যেন ছুটে এলেন এক বৃদ্ধা।এসেই ভেতরে ঢুকলেন লিফট বন্ধ হবার ঠিক আগ মুহূর্তে। তাকে দেখে রৌদ্র যেন বেজায় বিরক্ত। বৃদ্ধা কাঁপা কাঁপা হাত উঁচিয়ে তিন নম্বর বাটন চাপলেন। হাসিমুখে পেছন ফিরে অরিনের পানে চাইলেন। অতঃপর জুড়ে বসলেন নিজের যতসব না-ই কথাবার্তা! অরিনটা কেবল হু,হা তে উত্তর দিচ্ছে।
পাশ থেকে রৌদ্র বিরক্তি নিয়ে তাকালেও পাত্তা দিচ্ছে না মেয়েটা। এরইমধ্যে চার তলা আসতেই লিফটের দুয়ার খুললো।বৃদ্ধা সময় নিয়ে বেরুলেন লিফট থেকে। তিনি চলে যেতেই রৌদ্র এগিয়ে এসে লিফটের টপ বাটনে চাপ দেয়।লিফটের দুয়ার আটকাতেই ছেলেটা কেমন বাঁকা চোখে তাকায় অরিনের পানে। দুষ্ট হেসে হাত বাড়িয়ে তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে লিফটের স্টপ বাটন।মুহুর্তেই লিফট দাঁড়ালো মাঝপথে। এক মৃদু ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে অরিন। রৌদ্র এবার সময় নিলোনা একটুও।তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে অরিনের ঘাড়ের পিঠে আলতো করে হাত রেখে, আলগোছে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো মেয়েটার। নিজের উন্মাদনীয় অধরজোড়ার কর্তৃত্ব চালাতে লাগলো মেয়েটার নরম ওষ্ঠপুটের ওপর। গভীর আশ্লিষ্ট চুমুতে প্রাণ জুড়াচ্ছে তার!
ওদিকে তার ওমন বেপরোয়া অধরজোড়ার মিলনে কাঁপছে অরিন।তালে তাল মেলাতে গিয়ে হারছে বারংবার।এতে রৌদ্রের কিছু যায় আসে না। সে এবং তার ওষ্ঠপুট আপাতত ব্যস্ত তার প্রেয়সীর মাঝে। অধরের আশ্লেষী টান, দাঁতের মৃদু ঘর্ষণে চোখ মুদেছে অরিন।ওদিকে রৌদ্রের হাতদুটোও ব্যস্ত নিজেদের বেপরোয়া পাগলামিতে। তা যেন আর সইতে পারছেনা বেচারি। সে কেমন হুট করেই খামচে ধরল রৌদ্রের মাথার পেছনের চুলগুলো। এহেন কান্ডে আরেকটু উম্মাদ বনে গেলেন প্রেমিক যুবক। প্রায় মিনিট দশেকের বেপরোয়া অধর কর্তৃত্ব চালানোর শেষে, রৌদ্র থামলো কিছুটা। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে হাত বাড়িয়ে লিফটের অন বাটন চাপতেই আবারও চলতে শুরু করে লিফট। এদিকে এখনো চোখ বুঁজে আছে অরিন।এমুহূর্তে বুঝি লজ্জারা ভর করেছে তার চোখের পাতায়।মেয়েটা বুকের ওপর দু’হাত চেপে নিশ্বাস ফেলছে অনবরত। রৌদ্র দেখছে সবটা।
মেয়েটার পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে অধরজোড়া কামড়ে হাসলো একটুখানি। এরইমধ্যে লিফট থামলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্লোরে। রৌদ্র আর একমুহূর্তও থামলো না। মেয়েটার কব্জি চেপে হাঁটা ধরলো গটগট পায়ে। সরু করিডরের একদম শেষের রুমটা রৌদ্রের বুক করা। সে অব্ধি আসতে রৌদ্রের সময় লাগলো প্রায় মিনিট তিনেক। রুমের কাছে এসে দরজার নবে আঁটকে রাখা সেন্সরের ওপর কি-কার্ড চেপে ধরতেই খুলে গেলো দরজাটা। রৌদ্র ঢুকলো পরপরই। সাথে ধীর পা ফেলে পিছুপিছু এলো অরিনও। রুমে ঢুকতেই হতবাক বনে গেলো মেয়েটা! বড়সড় হানিমুন সুইট,সাজিয়ে রাখা বেশ সেনসুয়াল ভঙ্গিতে। পুরো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোলাপের লাল টকটকে পাপড়ি। হতবাক অরিন ধীরেসুস্থে হাঁটছে।
পেছন থেকে রৌদ্র যে কখন ঘরের দুয়ার আঁটকেছে সে খবর কী আর আছে তার? অরিন যখন পুরো ঘরের সাজসজ্জা আবিষ্কারে ব্যস্ত,ঠিক তখনি তার পেছন থেকে ধেয়ে আসে রৌদ্র। এক ঝটকায় মেয়েটার কনুই চেপে তাকে ঘুরিয়ে আনে নিজের দিকে। অতঃপর কোনরূপ কথাবার্তা ছাড়া আবারও আঁকড়ে ধরে মেয়েটার নরম গোলাপি অধরজোড়া। সেথায় বসাচ্ছে আশ্লেষী কামড়। তার হাতদুটো এবার ব্যস্ত হলো মেয়েটার সর্বাঙ্গে বিচরণে। মেয়েটার গায়ে ভারী লেহেঙ্গা। তা অরিনকে বিরক্ত না করলেও রৌদ্রকে যেন বড্ড বিরক্ত করছে।ছেলেটার ব্যস্ত হাত এবার উঠলো অরিনের পিঠ বরাবর।সেথায় লেহেঙ্গার লম্বা চেইনটা ব্যস্ত ভঙ্গিতে নামিয়ে দিলো আলগোছে। মুহুর্তেই উম্মুক্ত হলো মেয়েটার ধনুকের ন্যায় মসৃণ পিঠ।রৌদ্র তৎক্ষনাৎ একহাতে অরিনকে পেছনে ঘুরায়।মেয়েটার উম্মুক্ত পিঠে কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে ঠোঁট ছুঁয়ালো সেথায়।মুহুর্তেই আরেকবার কেঁপে ওঠে অরিন। খামচে ধরে লেহেঙ্গার একাংশ।
রৌদ্র থামছেনা।বরং আগাচ্ছে বেপরোয়ার ন্যায়।তার ব্যস্ত হাত মেয়েটার কাঁধ ছুঁইয়ে নামিয়ে দিলো ভারি কাজের লেহেঙ্গাটির উপরাংশ। মুহুর্তেই লজ্জাবতী গাছের ন্যায় গুটিয়ে গেলো অরিন। চোখ কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইলো মাথা নুইয়ে। রৌদ্রের নিশ্বাস জুড়িয়ে আসছে। সে আলতো করে হাত রাখলো মেয়েটার দুগালে। এগিয়ে এসে নাক ঘষে দিলো অরিনের ফোলা গালদুটোয়। হিসহিসিয়ে বলল,
“ আ’ম টার্নিং টু দা পয়েন্ট সানশাইন!”
অরিন ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেললো।রৌদ্রের বেপরোয়া হাত মেয়েটার স্পর্শকাতর অঙ্গে পৌঁছাতেই তৎক্ষনাৎ রৌদ্রকে জড়িয়ে ধরে অরিন। তার উষ্ণ নিশ্বাসের তীব্র শব্দ কানে যাচ্ছে রৌদ্রের।রৌদ্রের দশাও তো তাই। সে আর কোনরূপ দেরি না করে এক ঝটকায় কোলে তুললো মেয়েটাকে।মুখ নামিয়ে ঠোঁট ডুবালো আবার। অধরের কার্য বহাল রেখে আগায় বিছানার দিকে। নরম মখমলের চাদরের বিছানা। সেথায় ধীরেসুস্থে শুইয়ে দেয় মেয়েটাকে।কিয়তক্ষন একই ভঙ্গিমায় ঠোঁটের কার্য চালিয়ে শব্দ করে ঠোঁট সরায় রৌদ্র। অরিনের দিকে আচ্ছন্ন দৃষ্টি কায়েম রেখে কামুক হাসলো ছেলেটা। অরিনকে ছেড়ে দিয়ে উঠে গেলো বিছানার পাশে ড্রয়ারের নিকট। সেখান থেকে কিছু একটা হাতড়ে বের করে এনে আবারও বসলো মেয়েটার পাশে। অরিনের দৃষ্টি নিবুনিবু! রৌদ্র ঠোঁটের কোণে রহস্যময় বাঁকা হাসির রেশ টেনে মুখ নামিয়ে আনলো অরিনের কান বরাবর। হাতের প্যাকেট থেকে কিছু একটা বের করতে করতে ফিসফিস করে বলল,
“ বেবি নিতে চেয়েছো না হানি? ওকে দ্যান।আগে দেখে নাও তো,আমার এমন ওয়াইল্ডনেস সহ্য হয় কি-না তোমার।”
ভড়কায় অরিন। অবিশ্বাস্য চোখে তাকায় রৌদ্রের দিকে। রৌদ্র বাঁকা হেসে তৎক্ষনাৎ চোখ টিপলো।মুহুর্তেই মেয়েটার হাতদুটোকে একত্রে করে উঠিয়ে আনলো মাথার ওপর। অতঃপর হাতের কালো রিবনটির সাহায্যে মেয়েটার হাতদুটোকে আঁটকে দিলো একত্রে। দুষ্ট হেসে
অরিন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শুধু। তার ছোট মাথায় কী আর এতোশত উদ্ভট কর্মকান্ডের উত্তর আদৌও মিলছে? রৌদ্র মেয়েটার হাত বাঁধল। অসহায় অরিন কিছু বলবে তার আগেই রৌদ্র কেমন ঠোঁটের ওপর আঙুল চেপে চুপ থাকতে বলল তাকে।অরিনের কী হলো কে জানে! সে-ও কেমন চুপ করে গেলো তৎক্ষনাৎ। রৌদ্র মুচকি হেসে আবারও প্যাকেটে হাত রাখলো।একটি লাল টকটকে গোলাপ বের করে আনলো পরক্ষণে। গোলাপের নরম স্পর্শ ধীরে ধীরে ছোঁয়ালো মেয়েটার উম্মুক্ত বক্ষে। তার হাতও লেপ্টে আছে অরিনের পায়ে।সেথায় ম্যাসাজ করছে আবেদনময় ভঙ্গিতে। অরিন কাপঁছে এবার। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে শুষ্ক অধরজোড়া জিভ দিয়ে খানিক ভিজিয়ে নিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
“ থামুন রৌদ্র!”
রৌদ্র থামেনি।উল্টো কাজ বাড়িয়েছে হাতের। নিচু হয়ে মেয়েটার উম্মুক্ত উদরে নাক ঘষে আচ্ছন্ন কন্ঠে বলে,
“ স্ক্রিম উইথ মাই নেম মমি”
অরিনের নিশ্বাস জুড়িয়ে আসছে এবার। বুকে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত প্রলয়। শরীরে বইছে মৃদু ঝংকার। কন্ঠায় বসেছে হালকা কম্পন। সে আবারও বলে ওঠে ,
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৯
“ রৌদ্র!থামো বলছি..! ”
একটুখানি থামলো রৌদ্র। ধীরে ধীরে নাক ঘষে উঠে এলো মেয়েটার কন্ঠায়।মুখ দাবিয়ে বলল,
“ এভাবে না হানি!”
অরিন এপর্যায়ে অতিষ্ঠ।কাঁপা গলায় যেইনা কিছু বলবে তার আগেই মেয়েটার কন্ঠায় দাঁত বসিয়ে রৌদ্র আবারও বলে ওঠে,
“ কল মি ফা*কিং ড্যাডি হানি!”
