Home সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০ (২)

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০ (২)

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০ (২)
jannatul firdaus mithila

“ কল মি ফা*কিং ড্যাডি হানি!”
মেয়েটার কন্ঠরুদ্ধ! শরীরে বইছে অনিয়ন্ত্রিত শিহরণ। বুক কাঁপছে জোরালো আঙ্গিকে। এদিকে রৌদ্রের চোখেমুখে স্পষ্ট ঘোর! অরিনের উম্মুক্ত বক্ষে নাক ঘষে নিশ্বাস টানছে গভীরভাবে। হাতদুটো চেপে রেখেছে মেয়েটার নরম উদরের চামড়া। রৌদ্র এবার মুখ তুললো।গভীর চাহনিতে অরিনের কুঁচকে রাখা চোখমুখের পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হুট করে বলল,

“ আ’ম ক্রেভিং ফর ইউ সো ব্যাডলি হানি!”
অরিন চোখ খুললো না।ঠোঁট ফাঁক করে নিশ্বাস ফেলছে অনবরত। রৌদ্রের তখন কী হলো কে জানে! সে তৎক্ষনাৎ হাত বাড়িয়ে মেয়েটার হাতদুটো উম্মুক্ত করলো রিবনের গাঁট থেকে। ছাড়া পেয়ে অরিন পিটপিট করে চোখ মেলে।আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে রৌদ্রের মুখপানে তাকাতেই রৌদ্র কেমন ভরাট কন্ঠে বলে ওঠে,
“ আই হেভ আ সারপ্রাইজ ফর ইউ হানি!”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

বুঝেনি অরিন।অবুঝের ন্যায় কপালের চামড়ায় ভাজঁ ফেললো গোটাকতক। রৌদ্র ক্রুর হাসলো। একহাতে আলতো করে অরিনকে চেপে ধরে তাকে শোয়াঁ ছেড়ে বসালো। অর্ধ-উম্মুক্ত নারী কায়া তৎক্ষনাৎ ব্যস্ত হলো নিজেকে আড়াল করতে। দু’হাত উঠিয়ে নিজেকে আড়াল করতে চাইলেই বাঁধ সাধলো রৌদ্র! তক্ষুনি চেপে ধরল অরিনের দু’হাতের কব্জি। দৃষ্টি মেয়েটাতে নিবদ্ধ রেখে কেমন হিসহিসিয়ে বলল,
“ খবরদার এই ভুল আর করবেনা! দেখতে দাও আমায়!”

লজ্জায় হাসফাস করছে অরিন। কানদুটো থেকে কেমন ধোঁয়া বেরুচ্ছে এমুহূর্তে। রৌদ্র কিয়তক্ষন ঠায় বসে রইলো।একপল পেরুতেই ভীষণ অধৈর্য্যের সাথে উঠে চলে গেলো কাউচের ধারে।অরিন আড়চোখে চেয়ে আছে। কাউচের ওপর ফেলে রাখা দুটো শপিং ব্যাগ।তবে এগুলো এলো কোত্থেকে তা নিয়েই ভাবনায় বসেছে অরিন। মিলছেনা তেমন কোনো উত্তর। এদিকে তার ভাবনার মাঝেই এগিয়ে আসে রৌদ্র। হাতে ধরে রাখা একখানা শপিং ব্যাগ। অরিন দৃষ্টি সরু করলো এবার।রৌদ্রের হাতের ব্যাগখানার দিকে একপলক তাকিয়ে থেকে পরক্ষণেই জিজ্ঞাসু কন্ঠে জানতে চাইলো,

“ কী আছে এতে?”
রৌদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো কেবল।হাত থেকে ব্যাগটা বিছানার ওপর নামিয়ে রেখে, পা ঘেঁষে বসলো অরিনের। একহাতে ধীরে ধীরে আলতো করে মেয়েটার ফর্সা কোমল পাদুকা’র ত্বকে পরশ একেঁ দিতে লাগলো সময় নিয়ে। এদিকে তার এহেন স্পর্শে গা জুড়ে শিরশির করছে অরিনের! মেয়েটা জোর করে পাদু’টো রৌদ্রের কোল থেকে সরাতে চেয়েও পারলোনা যেন।রৌদ্রটা কেমন খামচে ধরেছে প্রেয়সীর পদযুগল। অরিন ঠোঁট কামড়ে ধরলো তৎক্ষনাৎ। খানিক মোচড়াতে মোচড়াতে মিনমিনিয়ে বলে ওঠে,
“ সুড়সুড়ি লাগছে আমার! ছেড়ে দিন না।”

রৌদ্র বাঁকা চোখে তাকায় একবার। পরক্ষনে একহাতে মেয়েটার কোমর আঁকড়ে ধরে, চোখের পলকে তাকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দেয় বেপরোয়া যুবক। অরিন হতভম্ব! একমুহুর্তেই এতকিছু ঘটে যাওয়ায় বেভুলার মতো চেয়ে আছে মেয়েটা।এদিকে তার কোমরের দু’পাশে চেপে রাখা রৌদ্রের হাতদুটো ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হচ্ছে। তা বেশ টের পেলো অরিন। নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়েটা চোখ রাখলো রৌদ্রের ঘোলাটে হয়ে আসা চোখ বরাবর। মুহুর্তেই থমকালো তার হৃদয়। কথা জমলো গলার কাছটায়। অধরজোড়ায় খানিক শুষ্কতা দেখা দিতেই জিভ দিয়ে ভেজালো একটুখানি। তা দেখে বুক ফুলে উঠে রৌদ্রের।নিশ্বাস হয়ে গেলো ঘন।ছেলেটা কেমন বেপরোয়া গতিতে তক্ষুনি আকড়েঁ ধরে অরিনের নরম গোলাপি অধরজোড়া। আশ্লেষী টানে মত্ত থেকে একহাতে মেয়েটার পাতলা কোমরখানা কাছে টেনে আনে আরেকটু। অরিনটা এখন কেমন পাল্লা দিয়ে সায় দিচ্ছে ছেলেটার কার্যে! না থামাচ্ছে পাগল ছেলেটাকে।
মিনিট পাঁচেক পেরিয়েছে ত্রিশ সেকেন্ড আগে। অরিনের চিকন আঙুলের ডগা গড়িয়ে যাচ্ছে রৌদ্রের চুলের ভাঁজে। আরেক হাত আলতো করে ছেলেটার বুক ঘষছে ক্রমাগত। ওষ্ঠপুটের বেপরোয়া মিলনে আর ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারলোনা অরিন। হাঁপাতে হাঁপাতে ঠোঁট সরিয়ে আনলো তক্ষুনি। রৌদ্রও হাঁপাচ্ছে। তবে ঠোঁট কামড়ে ধরে। হুট করেই গরম লাগছে তার।রৌদ্র আর সময় নিলো না। ব্যস্ত হাতে তক্ষুনি খুলতে লাগলো গায়ের পাঞ্জাবিটা। অরিনকে কোলে রেখেই একহাতে গা থেকে পাঞ্জাবি খুলে ছুড়ে ফেললো মেঝেতে। অতঃপর মেয়েটার দিকে আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ধীরেসুস্থে অরিনকে দাঁড় করালো মেঝেতে। বিছানার পাশ থেকে শপিং ব্যাগটা ফের হাতে নিয়ে, ব্যাগ থেকে বের কর আনলো পাতলা ফিনফিনে কালো রঙা জরজেটের শাড়িটা। অরিনের চোখ আটকালো চমৎকার শাড়িটার পানে। মেয়েটা কেমন উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলে ওঠে,

“ এতো সুন্দর শাড়ি! এটা কার জন্য?”
বিরক্তিতে কপাল কুঁচকায় রৌদ্র। মেয়েটার এহেন বোকা কথায় দাঁত খিঁচে বলল,
“ আমার আরেক বউয়ের জন্য!”
দুষ্টুমির ছলে কথাখানা বলেছে রৌদ্র। অথচ তা যেন গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে অরিনের। লাজুকলতার মুখাবয়ব থেকে হুট করেই গায়েব হলো সকল লাজুক ভাবসাব। সেথায় মুহুর্তেই ভিড় জমালো রাজ্যের সকল রাগ। ফোলা ফোলা নরম গালদুটোর চামড়ায় হঠাৎ লেপ্টে গেলো পাকাঁ টমেটোর রঙ। নাকের পাটা ফুলে কলাগাছ সমান! অরিন কেমন সাপের ন্যায় ফণা তুলে তৎক্ষনাৎ খামচে ধরল রৌদ্রের মাথার তালুর চুলগুলো। বেচারা রৌদ্র শাড়ি খুলতে ব্যস্ত থাকায় বউয়ের দিকে তাকায়নি তখনও।এরইমধ্যে বউয়ের ওমন হুটহাট আক্রমণে খানিকটা ভড়কায় সে। এদিকে অরিন রৌদ্রের চুলগুলো টানতে টানতে গজগজ করে বলল,

“ আরেক বউ মানে? আমি থাকতে তোমার আর কয়টা বউ লাগে শুনি? একটাতে মন ভরেনা? আসুক আগে।দেখবো, কোন বেয়াদবের বাচ্চা আসে আমার ডাক্তার সাহেবের কাছে। ওর চুল ছিড়ে যদি কাক-কে না খাইয়েছি তবে আমার নামও মিসেস ইফতেখার এহসান রৌদ্র নয়।”
চুলের ব্যাথা ছাপিয়েও নিঃশব্দে হাসছে রৌদ্র। মেয়েটার এমন কথাবার্তা তো আগে শুনেনি সে।আজ শুনতে পেয়ে মনটা বড় ধন্য হলো তার। রৌদ্র মেয়েটাকে আরেকটু বাজিয়ে দেখতে শক্ত গলায় বলল,
“ একজন মুসলিম পুরুষ সর্বোচ্চ চারটে বিয়ে করতে পারে অরি!সেক্ষেত্রে আমার এখনো তিনটে বাকি।”
মাথার তালু জ্বলছে অরিনের। চোয়াল কাঁপছে রাগে। মেয়েটা তৎক্ষনাৎ ক্ষুদ্র হাতে রৌদ্রের চৌকস চোয়ালখানা চেপে ধরে একহাতে। সুদর্শন যুবকের মুখটা খানিক উঁচু করে গজগজ করে বলে ওঠে,
“ কলিজায় দম থাকলে করে দেখার আগে আরেকবার বলে দেখেন শুধু, রাতারাতি ঘাড় থেকে মাথা আলাদা হবে অচিরেই। কেননা ইসলামে মেয়েদের জিহাদ করার অনুমতিও আছে কিন্তু! আমি নাহয় ঐসব মেয়েদের দলেই যাবো। দিনশেষে দেশের বিভিন্ন সংবাদ পত্র, মিডিয়ার ডেডলাইনে বড় বড় অক্ষরে লেখা উঠবে,

❝ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন!❞
স্তব্ধ চোখে তাকিয়ে আছে রৌদ্র। কানে ভুল শুনলো কি-না যাচাই করতে হতবিহ্বল কন্ঠে বললো,
“ আমায় মারতে তোর কষ্ট হবে না?”
অরিন ব্যাথাতুর হাসি ঝোলালো ঠোঁটের কোণে। রৌদ্রের চোয়াল ছেড়ে দিয়ে আহত কন্ঠে বলতে লাগলো,
“ আমার অধিকার বাটোয়ারা করতে গিয়ে তুমি যদি আমায় জীবন্ত মেরে ফেলতে পারো,সেক্ষেত্রে তোমায় আমি চিরদিনের জন্য মে’রে ফেলতে পারবোনা কেনো? আমার দেহে শেষ নিশ্বাস থাকা অব্ধি তোমার ভাগ আমি কাউকে দিবোনা। কাউকে বলতে কাউকে না।”
হুট করেই মেয়েটা কেমন বড় হয়ে গেলো মনে হচ্ছে। রৌদ্রের বুক মোচড় দিয়ে উঠে মেয়েটার ওমন আহত কন্ঠ শুনে। সে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে ঝাপটে ধরে অরিনকে।বুক পিঞ্জিরায় মেয়েটার ক্ষুদ্র মস্তক চেপে রেখে ব্যস্ত গলায় বলে ওঠে,

“ হেই পাখি! আই ওয়াজ জাস্ট কিডিং জানবাচ্চা।”
অরিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। রৌদ্র সময় নিয়ে মেয়েটার চিবুকে হাত রাখলো আলতো করে।নুইয়ে রাখা মাথাটা উঁচুতে তুলল একটুখানি। অতঃপর অরিনের ফোলা ফোলা গালদুটোর চামড়ায় আলতো করে দাঁত বসিয়ে মুচকি হেসে বললো,
“ আমার এই ক্ষুদ্র জীবনের জন্য একমাত্র তুমিই যথেষ্ট বউজান! বিশ্বাস নাহলে আমার হৃদয়টা ছিঁড়ে দেখো।”
অরিনের রাগ কি আর থাকে? তবুও বাইরে থেকে মুখে কপট ভাব ধরে রেখে মেয়েটা নাক টানলো সামান্য। রৌদ্র প্রেয়সীর অভিমান ধরে ফেললো অচিরেই।তক্ষুনি তাড়া দেখিয়ে মেয়েটাকে নিজের সম্মুখে দাঁড় করিয়ে, শাড়িটা তুললো হাতে। শাড়ির ভাজঁ খুলে বলতে লাগলো,
“ সোজা হয়ে দাঁড়াও দেখি!”
অরিন ভ্রু গোটায়। দু-হাত দু’দিকে ছড়িয়ে কাকতাড়ুয়ার ন্যায় ভঙ্গিমা ধরে ভাবলেশহীন গলায় অজান্তেই মুখ ফসকে বলে ওঠে,

“ পরিয়েই বা কী লাভ? সে-ই তো খুলেই ফেলবেন।”
নির্লজ্জের ন্যায় মুখ ফসকে কথাটা বলেই জিভে দাঁত কাটলো অরিন। এদিকে রৌদ্র কেমন হা করে তাকিয়ে আছে মেয়েটার পানে।ছেলেটা যে আর কত অবাক হবে কে জানে! সে-তো জানতো তার সানশাইন — ছোট মানুষ। ওতোশত বোঝেনা।তবে এখন তো তার ধারণায় পানি পরেছে এক বালতি! মেয়েটা ইদানিং যা পেকেছে না… রৌদ্রকে ওমন হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুকনো ঢোক গিললো অরিন। কাচুমাচু ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো মাথা নুইয়ে। রৌদ্র সময় নিয়ে সামলালো নিজেকে।মেয়েটা তো আর এমনি এমনি পাকেনি! তার ওমন অকাল পেকে যাওয়ার পেছনে নিসন্দেহে সে রয়েছে। নিজের দোষকে একপ্রকার মাথা পেতে নিলো রৌদ্র। ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে শাড়ির একাংশ টেনে আনলো অরিনের মেদহীন ফর্সা কোমল উদরের অংশে।সেথায় আঙুল ছোঁয়াতেই দেবে গেলো রৌদ্রের আঙুল। রৌদ্রের মাথায় ঘোর জমলো আবার। মন উতলা হলো কাঙ্ক্ষিত প্রেয়সীকে কাছে টানতে। তবে এতো সহজে কেনো? রৌদ্র আজ প্রতিজ্ঞা করেছে — মেয়েটাকে জ্বালাবে খুব। সেই প্রেক্ষিতে রৌদ্র দু’ধারে একদফা মাথা নাড়লো।ঘোর খানিকটা কেটে যেতেই আবারও উদ্যত হলো মেয়েটাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে। রৌদ্রের হাত ব্যস্ত। চোখদুটো আড়চোখে খেয়াল করছে মেয়েটাকে।হুট করেই ছেলেটার মস্তিষ্কে বুঝি জেঁকে বসলো এক ভিন্ন শয়তানি। সে ইচ্ছে করে নখ দিয়ে আঁচড় বসালো মেয়েটার উদরের নরম চামড়ায়।তৎক্ষনাৎ অরিনের ঠোঁট গলিয়ে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে,

“আহঃ!”
নড়েচড়ে দাঁড়াল অরিন। হাত দিয়ে ক্রমশ ডলতে লাগলো উদরের চামড়া। ওদিকে রৌদ্র স্থির। চোখ তুললো ধীরেসুস্থে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে ভ্রু উঁচালো খানিকটা। মেয়েটার ফর্সা কোমল উদরের চামড়ায় ঠায় হাত গুঁজে রেখে আবেশিত কন্ঠে বলে ওঠে,
“ এটুকুতেই লেগেছে হানি? বাট আই থিংক — এখনো তেমন কিছু শুরুই হয়নি!”

চোখের পাতা মৃদু কাঁপছে অরিনের। ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে পাদু’টো। বুকের মাঝে বইছে ঝড়! অর্ধউম্মুক্ত দেহখানায় হুটহাট রৌদ্রের উষ্ণ স্পর্শে জলন্ত আঙ্গারের ন্যায় জ্বলছে মেয়েটা।এদিকে রৌদ্রের চোখদুটি আজ বেসামাল। মেয়েটাকে এতো দেখেও যেন চোখের তিয়াস মিটছে না তার! অরিন কাঁপছে! সেই সাথে কাপছে তার কন্ঠ। রৌদ্র এবারেও ঠোঁট পিষে হাসলো। ভীষণ দক্ষতার সাথে শাড়ির কুঁচি বানিয়ে তাকালো মেয়েটার চোখ বরাবর। নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আলগোছে কুঁচিগুলো গুঁজে দিলো। অরিন চাইলো একবার চোখ নামিয়ে আনতে। কিন্তু রৌদ্রের ঐ চোখ যেন তাকে আদেশ দিয়েছে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে। রৌদ্র হাসলো। একহাতে আলতো করে মেয়েটার কাধেঁ আঁচল উঠিয়ে দিয়ে মুখ নামিয়ে আনলো কান বরাবর। ভীষণ আদুরে কন্ঠে আবদার জুড়ে বলল,

“ ডান্স সে*ক্সি ফর মি হানি!”
নাক লাল হয়ে গেলো অরিনের।বোধহয় লাজুকলতা আবারও লাজে পরেছে। দু’হাত একে-অপরের সাথে ডলতে ডলতে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ। রৌদ্র এবার সরে দাঁড়ায়। মেয়েটার দিকে ঠায় তাকিয়ে থেকে পেছায় কয়েক কদম।অতঃপর গা এলিয়ে বসে কাউচের ওপর। কাউচের গায়ে দু’ধারে হাত ছড়িয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসলো জনাব। কন্ঠ উঁচিয়ে আবারও বলল,
“ ড্যান্স হানি!”
অরিন পড়লো বিপাকে।সে আবার নাচবে কী? সে-তো নাচের ‘ন ‘ ও জানেনা। সে ঘাড় ডলতে ডলতে রৌদ্রের দিকে ঠোঁট উল্টে তাকায়। বলে,

“ আমিতো নাচতে জানিনা!”
বাঁকা হাসলো রৌদ্র। চটপট কাউচের ওপর পড়ে থাকা ফোনটায় গান চালালো — ভিগে হোঠ তেরে….
গান শুনেই গা-পিত্তি জ্বলে ওঠে অরিনের।মেয়েটা কেমন নাক কুঁচকে তাকায়। এদিকে তার পানে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
“ সারাদিন আমাকে এক আঙুলে নাচাতে পারা মানুষটাও না-কি নাচতে জানেনা।”
ঠোঁট ফুলালো অরিন।অভিমান করে দৃষ্টি সরায় অন্যত্র।রৌদ্র এসে দাঁড়ালো মুখোমুখি। নিজ উদ্যোগে মেয়েটার একহাত উঠিয়ে আনলো নিজ কাঁধে। নিজেও দু-হাত রাখলো মেয়েটার কোমরে। গানের তালে তালে টুকটাক পা ফেললো এদিক ওদিক। অরিন স্রেফ তালে তাল মেলাচ্ছে রৌদ্রের। অথচ রৌদ্র নাচের ফাঁকে ফাঁকে বেশ কয়েকবার বেপরোয়া স্পর্শ বুলাচ্ছে মেয়েটার সর্বাঙ্গে। অবশেষে অতিষ্ঠ হলো অরিন।নাচ থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো এক জায়গায়। কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,

“ আমি আর নাচবো না!”
ভ্রু উঁচায় রৌদ্র। দুষ্ট হেসে অরিনের উদরে গুঁজে রাখা শাড়ির কুঁচিগুলো একটা একটা করে টানতে টানতে আচমকা বলল,
“ চকলেট খাবে হানি?”
তড়িৎ ভ্রু কুঁচকে তাকায় অরিন। হতবুদ্ধির ন্যায় মাথা নাড়ায় দু’ধারে। রৌদ্র স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মিনিট খানেক। অতঃপর অরিন ঠোঁট দুটো ফাঁক করে যেইনা কিছু বলবে তার আগেই রৌদ্র একহাতে আলতো করে চেপে ধরে মেয়েটার গ্রীবা। ছোট্ট মুখটা সামান্য উঁচুতে তুলে, চোখ রাখলো অরিনের চোখ বরাবর। হিসহিসিয়ে হাস্কিটোনে বলল,
“ কিন্তু আমি খাবো হানি! তাও আবার ভীষণ ব্যাড ওয়েতে!”

শুকনো ঢোক গিললো অরিন। তিরতির করে কাঁপছে তার ওষ্ঠপুট। রৌদ্র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। পরমুহূর্তেই উম্মাদের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়লো মেয়েটার নরম ওষ্ঠপুটের মাঝে। একহাতে তৎক্ষনাৎ টেনে খুলে ফেলে মেয়েটার শাড়ির কুঁচিগুলো। ঠোটেঁর কাজে মত্ত থেকে অরিনকে নিয়েই পেছালো দু-কদম। বিছানার ধারে আসতেই হুট করে ছেলেটার কে জানে কী হলো! সে ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দিয়ে অরিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বিছানার নরম গদিতে। অরিন হকচকায়! হতবাক চোখে তাকায় রৌদ্রের উম্মুক্ত গায়ে। রৌদ্রের দৃষ্টি স্থির। সে তক্ষুনি ছুটে গেলো বিছানার ওপাশে। বালিশের নিচে আগে থেকে লুকিয়ে রাখা নাটেলা ক্রিম-চকলেট বক্সটা হাতে নিয়ে আবারও চলে আসে অরিনের দিকে। অরিন এখনো স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রৌদ্র এক আঙুলে একটুখানি চকলেট উঠিয়ে মুখে পুরলো। আড়চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ইশারায় বললো,

“ খাবে?”
অরিন দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে না জানায়।তাতে কি’বা আসে যায় রৌদ্রের? সে কেমন ধীরেসুস্থে ঝুঁকে আসে মেয়েটার ওপর। সুদর্শন যুবকের দৃঢ় চোয়ালখানা কেমন তীক্ষ্ণভাবে ফুটে আছে! সময় নিয়ে তার ঠোঁটে ঝুললো দুষ্ট হাসির রেশ। বক্স থেকে আরেকটু চকলেট উঠিয়ে আলতো করে ঘষে দিলো মেয়েটার কন্ঠায়। অরিনের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম এবার। রৌদ্র আর সময় নিলো না।তক্ষুনি জিভ ছোঁয়ালো মেয়েটার কন্ঠায়। নরম উষ্ণ স্পর্শে কুপোকাত অরিন।তড়িঘড়ি করে খামচে ধরল রৌদ্রের উম্মুক্ত পিঠ। ছেলেটা কেমন নিজ কাজে মত্ত! একবার জিভ ছুঁইয়ে তো আরেকবার দাঁতের মৃদু পরশে জুড়িয়ে দিচ্ছে মেয়েটাকে। অরিনের ঠোঁট গলিয়ে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে মৃদু শীৎকার। রৌদ্র শুনলো।বেশ মনোযোগী হয়ে শুনলো সবটা। অরিনের মেদহীন উম্মুক্ত উদরে আঙুল দিয়ে আজগুবি আঁকিবুঁকি চালিয়ে মুখ উঠিয়ে আনলো অরিনের কান বরাবর। কানের পিঠে নাক ঘষে আবেশিত কন্ঠে বলতে লাগলো,

“ ইউ আর সো ডেলিশিয়াস মমি! জাস্ট লাইক মাই পার্সোনাল চকলেট! আই ওয়ান্না টেস্ট ইউ রাফলি! মে আই?”
কন্ঠ কাঁপছে অরিনের। শরীরও কাপছে মৃদুমন্দ। রৌদ্র উত্তরের আশায় বসে নেই। নিজে থেকেই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে পাগল ছেলেটা।অরিন থামায়নি তাকে। থামালেও শুনবে এই লোক?
সময় পেরুলো বেশ। চকলেট চিরতরে অপছন্দ থাকা স্বত্বেও আজ নিজের সানশাইনের ওপর এপ্লাই করে রৌদ্র সাহেব গোটা চকলেটের বক্স খালি করেছে নিমিষেই। এ যেন আরেক আশ্চর্যজনক বিষয়! ওদিকে অরিনের হাল বেহাল। মেয়েটার মুখ হতে শুরু করে সর্বাঙ্গে বসেছে ছোপ ছোপ কামড়ের দাগ! নির্দয় ডাক্তার সাহেব এইটুকু শান্তিও দিলোনা মেয়েটাকে। বিছানার একপাশে পড়ে আছে বস্ত্র। অরিন চুপচাপ চোখবুঁজে নিশ্বাস ফেলছে ঘনঘন। রৌদ্র আবারও ঝুঁকে এলো খানিকটা। মেয়েটার থুতনিতে আলতো করে দাঁত বসিয়ে বলল,

“ রেডি হানি?”
তড়িৎ চোখ মললো অরিন। আতঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ আরও বাকি আছে?”
রৌদ্র প্রতিত্তোরে ওপর নিচ মাথা নাড়ায়। অরিন কেমন আঁতকে ওঠে বলল,
“ না না! এখন আর কিচ্ছু না।”
রৌদ্র নাখোশ হলো। প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে বলল,
“ শুরুই তো হলোনা! সেখানে আর কিছু না বলতে কী বোঝাচ্ছো হানি?”
ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে অরিন।বিছানা ছেড়ে উঠতে নিলে বাঁধ সাধলো রৌদ্র। প্যান্টের পকেট থেকে একটা ছোট প্যাকেট বের করে আনলো পরক্ষণে। অরিন সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রৌদ্র প্যাকেট থেকে একজোড়া নুপুর বের করে আনতেই অরিন জিজ্ঞেস করে ওঠে,

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০

“ এগুলো কেনো?”
রৌদ্র বাঁকা হাসলো। মেয়েটার পাদু’টো আলতো করে টেনে এনে, নুপুর দুটো পরিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ নুপুরের ছন্দে নাচবে আনন্দে..!”

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১১