সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৭
jannatul firdaus mithila
“ আজকে প্রথম এবং আজকেই শেষবারের মতো বলছি চশমিস, আমাকে ইগনোর করার মত দুঃসাহস কোনোদিনও দেখাতে যেও না কিন্তু! কেননা আ’ম নট আ গুড পার্সন। মেজাজ একবার বিগড়ে গেলে, সামনের মানুষটাকে চড়িয়ে কীভাবে গাল ফাটিয়ে দিতে হয় তা আমি বেশ ভালো জানি! এন্ড আই থিংক, ইতোমধ্যেই তুমি সেটা টের পেয়েছো! বাই দা ওয়ে, ভুলে গিয়ে থাকলে আরেকবার মনে করিয়ে দিতে পারি।সেক্ষেত্রে গালটা একটু এগিয়ে আনো তো!”
ভয়ার্ত ঢোক গিললো মাহি। ভীত-সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে আছে মুগ্ধের কঠিন হয়ে আসা মুখ পানে। ওদিকে মুগ্ধের দৃষ্টি স্থির। মাহির চোয়ালে চেপে রাখা হাতটা কেমন ধীরে ধীরে ঢিলে হয়ে আসছে তার। কিয়তক্ষন পর মাহির চোয়াল ছেড়ে দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়ায় মুগ্ধ। গাঢ় বাদামী চোখদুটো কেমন সরু করে, গম্ভীর মুখে বলে ওঠে,
“ গাড়িতে গিয়ে বসো যাও!”
মাহি ভড়কায়। তৎক্ষনাৎ দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে ভীত কন্ঠে মিনমিনিয়ে বলে,
“ না..আমি যাবো না।”
মেজাজ চটলো মুগ্ধের। মেয়েটা এত্তো অবাধ্য! মুগ্ধ তক্ষুনি একহাতে চেপে ধরে মাহির বাঁহাতের কনুই। দাঁত খিঁচে বলে,
“ তুমি যাবে না মানে? তোমার ঘাড় সহ যাবে! চলো!”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
মুগ্ধের এহেন ধমকে আঁতকে উঠল মাহি।এমুহূর্তে তার বুকটা কেমন ধুকপুক করছে মনে হচ্ছে! এদিকে মুগ্ধ একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে মেয়েটাকে। তার টানাটানিতে মাহি যে বারবার উষ্ঠা খেতে খেতে বেঁচে যাচ্ছে, সেদিকে থোড়াই পাত্তা দিচ্ছে জনাব! তিনি তো ছুটছেন ব্যাতিব্যস্ত পায়ে। মিনিট পাচেঁকের মধ্যেই মুগ্ধ গটগট পায়ে এসে দাঁড়ালো কলেজ গেট থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে দাঁড় করিয়ে রাখা তার কালো গাড়িটার দিকে। মুগ্ধ মাহিকে টেনে নিয়ে গেলো ড্রাইভিং সিটের ওপাশে। সেথায় গিয়েই একহাতে টান বসালো ফ্রন্ট সিটের দরজায়। মাহিকে একপ্রকার জোর করে সিটে বসিয়ে দিয়ে, নিজে ঘুরে গিয়ে বসলো ড্রাইভিং সিটে।
মাহি হতভম্ব মুগ্ধের এহেন উদ্ভট কান্ডে! মেয়েটা বলার মত ভাষা হারিয়েছে এখন। মুগ্ধ আড়চোখে তাকালো মেয়েটার দিকে। পরক্ষণে হাত বাড়িয়ে গাড়ির ব্যাক সিট থেকে বড় বড় দুটো শপিং ব্যাগ নিয়ে এলো সামনে। তারপর ব্যাগ দুটো মাহির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে মুগ্ধ কেমন গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ হেভ দিস!”
ভ্রু কুঁচকায় মাহি। সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ব্যাগ দুটোর দিকে। এদিকে মাহিকে এখনো ব্যাগদুটো নিতে না দেখে মুগ্ধ ফের শক্ত গলায় বলে ওঠে,
“ কী হলো? কথা কানে যায়নি? নিতে বলেছিনা এগুলো?”
তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে বসলো মাহি।হাত বাড়িয়ে বিনাবাক্যে নিয়ে নিলো ব্যাগদুটো। মুগ্ধ গম্ভীর মুখে আবারও বলে,
“ ব্যাগদুটোকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে বলিনি। ভেতরকার খাবারগুলো খেতে বলেছি!”
তড়াক চমকে তাকায় মাহি। মুগ্ধের এহেন কথায় এ-ই বুঝি মাথায় কেমন বাজ পরলো তার! সে তক্ষুনি সন্দিহান গলায় বলে ওঠে,
“ এগুলোতে খাবার আছে?”
“ হ্যা!” — কোনরূপ ভনিতা ছাড়া উত্তর দিলো মুগ্ধ। মাহি তখন ফের জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ আপনি খাবার এনেছেন কেনো? আমার তো কোনো ক্ষুধা নেই!”
বাঁকা হাসলো মুগ্ধ।দু’হাত বুকের কাছে বেঁধে সিটে মাথা এলিয়ে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো মাহির দিকে। তারপর কেমন গম্ভীর অথচ শান্ত কন্ঠে বলে ওঠে,
“ সকাল সকাল না খেয়ে বেরিয়ে এসেছো,ক্যান্টিনেও যাওনি খেতে। তাও বলছো — ক্ষুধা নেই তোমার? সিরিয়াসলি? পেটে কী ইট বাঁধা না-কি তোমার?”
ছেলেটার শেষের কথায় স্পষ্ট ঠেস দেওয়া বাক্য থাকলেও মাহির সকল ধ্যান- জ্ঞান গিয়ে ঠেকলো মুগ্ধের প্রথম কথাগুলোতে। মেয়েটার চোখেমুখে স্পষ্ট আশ্চর্য ভাব! হয়তো ভাবছে সে, লোকটা কীভাবে জানলো সে এখনো না খেয়ে আছে? মনের কোণে জেগে ওঠা এহেন প্রশ্নটা আর দমিয়ে রাখতে পারলোনা মাহি। সে তৎক্ষনাৎ জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ আপনি কীভাবে জানলেন আমি এখনো না খেয়ে আছি?”
মুগ্ধ এবার স্মিত হাসলো। ধীরে ধীরে মেয়েটার দিকে একটু একটু করে ঝুঁকে আসতে লাগলো কেমন! মাহি পরপর শুকনো ঢোক গিলে পেছাঁচ্ছে! তবে খুব একটা পেছাতে পারলোনা মেয়েটা।তার আগেই তার পিঠ গিয়ে ঠেকলো গাড়ির বন্ধ দরজার সাথে। মুগ্ধ থেমে গেলো তক্ষুনি। মেয়েটার ওপর ঝুঁকে থেকেই, হাত বাড়িয়ে পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে আনলো আলগোছে। অতঃপর একবার ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে নম্বর টুকলো একটা। পরক্ষণেই মাহির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই কল দিয়ে বসলো সে-ই নম্বরটায়।প্রথম রিং হতেই মাহির জিন্সের পকেটে পড়ে থাকা ফোনটা কেমন বেজে ওঠে বেপরোয়া শব্দে! মাহি হকচকিয়ে ওঠে তৎক্ষনাৎ। হাত বাড়িয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করে, সম্মুখে আনতেই দেখলো — সকালের সে-ই অপরিচিত নম্বরটা! মাহি তক্ষুনি চোখ তুলে চাইলো মুগ্ধের দিকে। ছেলেটা কেমন ঠোঁট কামড়ে হাসছে নিঃশব্দে! মাহি কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা রিসিভ করতেই মুগ্ধ নিজের ফোনটা কানে ঠেকিয়ে বলল,
“ গুড মর্নিং!”
মাহি থমকায়! বুঝে যায়, সারারাত কলে থাকা মানুষটা তবে আর কেউ নয়,এই পাগল লোকটা নিজেই! মাহি সময় নিয়ে নিজেকে কোনমতে সামলে নিলো। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ আপনিই তাহলে কাল কল দিয়েছিলেন? কিন্তু আমার তো মনে পরছেনা কিছুই!”
মুগ্ধ এবার হাসলোনা একটুও। তার দৃষ্টি আপাতত অন্য কোথাও। বেহায়া চোখদুটো তার গিয়ে আঁটকেছে মাহির আখি ভর্তি লেপ্টে যাওয়া কাজলের দিকে! আশ্চর্য! এমন লেপ্টে যাওয়া কাজলের দিকে ওমন হাবাত্বের নজরে তাকিয়ে থাকার কি’বা আছে কে জানে! ছেলেটার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক বরাবরই এহেন প্রশ্ন তুললেও তার অবচেতন মনটা কেমন উড়িয়ে দিচ্ছে সে বাক্য! কেন যেন মেয়েটার লেপ্টে যাওয়া কাজলদীঘি চোখদুটো এমুহূর্তে বড্ড টানছে তাকে।তার তো ইচ্ছে করছে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকতে সেদিকে! মুগ্ধ অন্তরে অন্তরে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে নিজের বেহায়া দৃষ্টিটা একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে আনতে কিন্তু নাহ! বেহায়া দুটো আজকে মাঠে নেমেছে তার মত ওমন গম্ভীর, দেমাগি পুরুষকে ভরা বাজারে অপমান করতে! মুগ্ধ মাহির দিকে নিজের দৃষ্টি স্থির রেখে সরে এলো মেয়েটার কাছ থেকে। নিজ আসনে বসে আদেশ ছুড়ে বলল,
“ খাওয়া শুরু করো!”
মাহি এবার আর নাকচ করলোনা। ধীরেসুস্থে শপিং ব্যাগ থেকে ব্রেড বের করে এনে কামড় বসালো আলগোছে। এতেও সমস্যা হলো মুগ্ধের! মেয়েটা গালভর্তি খাবার নিয়ে চিবুচ্ছে চোখবুঁজে, তা দেখে বেচারা মুগ্ধের বুকে কেমন চিনচিন করছে কেন যেন! বুকের বামপাশে থাকা অঙ্গটা পারছেনা ম্যারাথনে দৌড়াতে। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ হতবিহ্বলের ন্যায় খামচে ধরল বুকের বাঁপাশ। তাও যদি কমতো অঙ্গটার নাচঁন-কুদন! এদিকে মাহি খাচ্ছে আরামসে! গালের দুপাশে খাবার নেওয়ায় গালদুটো কেমন ফুলে আছে খানিকটা! একদম পটকা মাছের মতো! মুগ্ধ কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে থেকেই ফিক করে হেসে দিলো।মাহি খাওয়া থামিয়ে হা করে তাকায়। মুখে খাবার নিয়েই জিজ্ঞেস করে,
“ কি?”
মুগ্ধ দু’ধারে আলতো করে মাথা নাড়ায়। নিজ উদ্যোগে পানির বোতলের ক্যাপটা খুলে, মেয়েটার দিকে বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ তুমি খুব কিউটলি খাবার খাও চাশমিস! এন্ড আই ডোন্ট নো হোয়াই, বাট আই লাইক ইট!”
হতবুদ্ধিভাব নিয়ে তাকিয়ে রইলো মাহি। বলার মতো কিছু না পেয়ে আপাতত চুপ করে রইলো মেয়েটা।ওদিকে মুগ্ধ ফের তাকে তাড়া দিয়ে বলে ওঠে,
“ খেয়ে নাও চাশমিস!”
খাওয়ার পর্ব শেষ মাহির! মুগ্ধ দু-ব্যাগে খাবার আনলেও মেয়েটা খেয়েছে তিনভাগের একভাগেরও অর্ধেক! তা দেখে মুগ্ধ কেমন গাল বাকিয়ে বলে ওঠে,
“ ব্যস! এটুকুই?”
মাহি মাথায় নাড়ায় ওপর নিচ! মুগ্ধ তখন বাঁকা হেসে বলে,
“ বাহ! তুমি তো দেখছি ভীষণ মিতভোজী! বাই দা ওয়ে, তোমার উডবি কিন্তু ভীষণ আনলাকি হবে তোমায় পেয়ে, কেননা তার ফিউচার ওয়াইফ কেমন গুণে গুণে খাবার খায়!”
কপালে ভাজঁ পড়লো মাহির। সে তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে বলে ওঠে,
“ গুণে গুণে খাবার খেলেও সে আনলাকি হতে যাবে কেনো? সে-তো লাকি হবে এইজন্য যে আমি যেহেতু কম খাই,সেহেতু তার টাকা বাঁচবে!”
মুগ্ধ এবার শ্লেষাত্মক হাসলো। নিজের শার্টের কলারটা খানিক টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিয়ে বলতে লাগলো,
“ আমি ভেবেছিলাম তুমি জাস্ট মিতভোজী, বাট এখন দেখছি তুমি তো কৃপণও! খাবার কম খাও বলে টাকা বাঁচবে? সিরিয়াসলি? এমন কথাও কারো মাথায় আসে না-কি? ঠিক এজন্যই তোমাকে আমার ভাল্লাগেনা!”
“ আপনাকে ভালো লাগাতে বলেছে কে শুনি? সবাইকে সবার ভালো লাগবেনা এটাই তো স্বাভাবিক!”
এহেন কথায় ভ্রু কুঁচকায় মুগ্ধ। মেয়েটার পানে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে। এদিকে তার এহেন দৃষ্টি দেখে থতমত খেয়ে বসলো মাহি। ভাবছে — মুখ ফসকে ভুল কিছু বলে ফেললো কি-না! মাহি সঙ্গে সঙ্গে মাথানিচু করে নেয়।ঠিক তক্ষুনি তার কানে ভেসে আসে মুগ্ধের তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠ!
“ তুমি তো দেখছি কথাও বলতে জানো! আহা! নট ব্যাড!”
মাহি এবার বেজায় বিরক্ত। সে তৎক্ষনাৎ হাত বাড়িয়ে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। কলেজের দিকে পা বাড়াতেই আবারও থমকে গিয়ে পেছনে তাকায় সে।গাড়ির জানালার কাছে একটুখানি ঝুঁকে এসে মুগ্ধকে কিছু বলতেই যাবে ওমনি দেখলো মুগ্ধ গাড়িতে নেই! কী ব্যাপার? এতক্ষণ তো এখানেই বসেছিল লোকটা!তবে এখন কোথায় গেলো।এসব ভাবতে ভাবতেই ভ্রু গোটায় মাহি। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে যেইনা সে পিছনে ফিরলো ওমনি মুগ্ধের শক্তপোক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খেলো মেয়েটা! ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে গেলো দু-কদম। ইশশ্ নাকটাতেও বেজায় ব্যাথা লেগেছে তার! মাহি একহাতে নাক ডলছে। মুগ্ধ তা দেখেও দেখলোনা যেন।সে কেমন গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ আমাকে খুঁজছিলে না-কি?”
মাহি ওপর নিচ মাথা নাড়াতে গিয়েও থেমে গেলো। আমতাআমতা সুর তুলে বলল,
“ না মানে… ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছিলাম আপনাকে।”
“ কোন দুঃক্ষে?”
“ এ-ই যে খাবার খাওয়ালেন, সেজন্য!”
“ ওহ আচ্ছা! বাট আমিতো খাবার খাওয়ানোর বদলে ধন্যবাদ চাচ্ছিনা,আমার দরকার অন্যকিছু!”
এপর্যায়ে চুপ করে গেলো মাহি। সন্দিহান চোখে তাকায় মুগ্ধের দিকে। সময় নিয়ে জানতে চায়,
“ কী দরকার?”
মুগ্ধ কেমন ঠোঁট পিষে হাসলো। একটু একটু করে মেয়েটার দিকে পা বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো।এদিকে মাহিও পিছিয়ে যাচ্ছে রীতিমতো। পেছানোর একপর্যায়ে তার পিঠ ঘেঁষলো গাড়ির সাথে। মুগ্ধ বাঁকা চোখে তাকিয়ে থেকে মেয়েটার একপাশ দিয়ে হাত রাখলো গাড়ির ওপর। অতঃপর শান্ত অথচ নিরেট কন্ঠে বললো,
“ সময় হলে ঠিক আদায় করে নিবো! ওসব চাওয়াচাওয়ির মধ্যে আমি নেই!”
বুকে ফের কাঁপন ছড়িয়ে গেলো মাহির।মেয়েটা নিজের চোখদুটোও তুলতে পারছেনা এখন।মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ হাত নামিয়ে সরে দাঁড়ায়। প্যান্টের পকেটে দু’হাত গুঁজে বলে,
“ কলেজে যাও মেয়ে!”
এ কথারই যেন অপেক্ষায় ছিলো মাহি।মেয়েটা কেমন হন্তদন্ত হয়ে পা বাড়ালো সামনের দিকে। তবে কদমখানা বাড়াতেই পেছন থেকে ফের কব্জি টেনে ধরলো মুগ্ধ। মাহি আবারও বিরক্ত! সে দাঁতে দাঁত চেপে কিছু বলতেই যাবে ওমনি তার কানে ভেসে আসে মুগ্ধের অদ্ভুত শীতল কন্ঠ!
“ তোমার নাম কী মেয়ে?”
হতভম্ব বনে গেলো মাহি।তড়িৎ ঘাড় বাকিয়ে পেছনে ফিরলো মেয়েটা।অবাক কন্ঠে বললো,
“ আপনি আমার নাম জানেন না?”
মুগ্ধ আলতো হাসলো। সামান্য কাঁধ ঝাঁকিয়ে বেশ ভাব নিয়ে বলল,
“ যার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই তার নাম মনে রেখে আমি কী করব? তাছাড়া, আমি কারো নাম মনে রাখি না।বিশেষ করে মেয়েদের! তোমারটাও মনে নেই। আচ্ছা শোনো মেয়ে… আমি নাহয় তোমাকে চাশমিস বলেই ডাকবো কেমন? তোমার কোনো আপত্তি আছে?”
মাহি নাক ফুলিয়ে নিশ্বাস ফেলে মুখ খুলবে তার আগেই মুগ্ধ কেমন কাঠকাঠ কন্ঠে বলে ওঠে,
“ তোমার হাজার খানেক আপত্তি থাকলেও রিমেম্বার,আই ডোন্ট কেয়ার! লিট্রেলি আই ডোন্ট কেয়ার!”
বলেই সে ছেড়ে দিলো মাহির হাত।প্যান্টের পকেটে দু’হাত গুঁজে দাঁড়াতেই কিছু একটা মনে পড়ে যাওয়ায় সে তক্ষুনি সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ এই চাশমিস! তোমার বাবা যেন কী করে?”
মাহি কব্জি ডলছে বারবার। লোকটা যেভাবে ধরে না… মনে হয় কব্জিটা যেন এক্ষুণি হাত থেকে খুলে পড়বে! মেয়েটা নাক-মুখ কুঁচকে প্রতিত্তোরে বললো,
“ ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত ডিসি!”
কথাটা শোনামাত্রই এক অদ্ভুত বাঁকা হাসির দেখা মিললো মুগ্ধের ঠোঁটের কোণে।ছেলেটা একহাতে নিজের রঙিন চুলগুলোয় আঙুল চালিয়ে ভরাট কন্ঠে বিরবির করে বলল,
“ তাহলে তো ব্যাপক খেলা হবে!”
মাহি শুনলোনা কথাটা।সে জানতে চেয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ কি বললেন?”
মুগ্ধের বাঁকা হাসিটা ধপ করে নিভে গেলো তক্ষুনি। মুখাবয়বে পরিবর্তন ঘটলো নিমিষেই। সে কেমন শক্ত গলায় মেয়েটাকে বলে ওঠে,
“ ছোট মানুষের এতো কিসের কিউরিওসিটি? সময় হলে ঠিক জানতে পারবে।এখন যাও কলেজে! যাও…”
শেষ কথাটা কেমন জোর দিয়ে বলল মুগ্ধ। মাহিও বনে গেলো বেকুব। লোকটা কেমন গিরগিটির মতো রঙ পাল্টায়।এই হাসে,তো এই ধমকায়! ধূর… মাহি আর কিছু না ভেবে চলে গেলো সেখান থেকে। এদিকে তার চলে যাওয়ার পথে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বাঁকা হাসলো মুগ্ধ। আপনমনে নিজেকে শাসিয়ে বিড়বিড় করে ফের বলল,
“ও তোর এক যুগেরও ছোট মেয়ে সায়ান! নিজেকে সামলা!”
পরপর দু- জিপ ভর্তি পুলিশ নিয়ে মাত্রই কলেজ গেটের সামনে এসে উপস্থিত হলেন তায়েফ সাহেব। গাড়ি থামতেই ব্যস্ত মানুষ শক্ত মুখাবয়বে ছুটলেন কলেজের ভেতর। কলেজ ক্যাম্পাসের চারিদিকে থাকা স্টুডেন্ট, শিক্ষক প্রত্যেকেই কেমন হা করে তাকিয়ে আছে মানুষটার দিকে! অথচ তায়েফ সাহেব রীতিমতো আগুন চোখে ছুটছেন মেয়েদের ক্লাসরুমের দিকে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তিনি ছুটে এলেন মেয়েদের ক্লাসরুমে। এসেই পুরো ক্লাসরুম জুড়ে নজর বুলালেন একবার। নাহ! মেয়ে দু’টো ক্লাসের কোথাও নেই। তায়েফ সাহেবের চোয়াল শক্ত হলো এপর্যায়ে। তিনি দাঁত কিড়মিড় করে বেরোলেন ক্লাসরুম থেকে। করিডর দিয়ে হাঁটতেই সামনে পড়লো আহিরা। বাবাকে হঠাৎ অসময়ে কলেজে দেখে চমকে উঠে মেয়েটা। সে তক্ষুনি এগিয়ে এসে বাবাকে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কী হয়েছে আব্বু? তুমি হঠাৎ এখানে!”
তায়েফ সাহেব কিছুটা স্থির হলেন মেয়েকে দেখে। খানিক সময় নিয়ে বললেন,
“ এমনিতেই আসলাম! তা মাহি কোথায়?”
আহি একবার আশপাশ তাকায়। পরক্ষণে ঠোঁট উল্টে বলে,
“ ওকে তো অনেক্ক্ষণ যাবত দেখছিনা আব্বু। আমি এতক্ষণ গ্রুপ এসাইনমেন্টে ব্যস্ত ছিলাম। ওকে অবশ্য ক্লাসরুমেই দেখে গিয়েছিলাম কিন্তু এখন কোথায় আছে সেটা ঠিক বলতে পারছিনা।”
এহেন কথায় মাথার তালু জ্বলে ওঠে তায়েফ সাহেবের। তার মাহির মতো শান্ত শিষ্ট মেয়েটা কি-না… না না,আগে ভাগেই মেয়েকে দোষারোপ করার মতো আহাম্মক নন তিনি। আগে সবটা যাচাই-বাছাই করবেন, তারপরই নাহয় যা বলার বলবেন। তায়েফ বাইরে থেকে নিজেকে সামলে নিলেন বেশ দক্ষতার সাথে। আহির গালে আলতো করে হাত রেখে আদুরে কন্ঠে বললেন,
“ আচ্ছা আম্মু! তুমি ক্লাসে গিয়ে বসো।আমি দেখে আসি মাহি কোথায়। যাও!”
আহি ভদ্র মেয়ের মত মাথা কাত করে পা বাড়ালো ক্লাসরুমের দিকে। সে চলে যেতেই তায়েফ সাহেব ছুটলেন কলেজের চারিদিকে। মেয়েকে একপ্রকার হন্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলেন লাইব্রেরীর দিকে।লাইব্রেরীর জানালার কাছে এসে ভেতরে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলতেই তার চোখ গিয়ে আটকালো লাইব্রেরীর এক কোণার টেবিলে চুপচাপ বই নিয়ে বসে থাকা মাহির দিকে। চিন্তিত তায়েফ সাহেবের কলিজাটা বুঝি এতক্ষণে ঠান্ডা হলো মেয়েকে দেখে। তিনি ফোঁস করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পা বাড়ালেন লাইব্রেরীর দরজায়। ধীর পা ফেলে নিঃশব্দে এগিয়ে এলেন মেয়ের কাছে। পড়তে থাকা মেয়ের মাথায় নরম হাত বুলিয়ে দিতেই চমকে উঠে মাহি। ঘাড় বাকিয়ে পাশে তাকাতেই দেখলো — হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে। মাহি বেশ অবাক হলো! বাবাকে কেমন নিচু কন্ঠে বললো,
“ তুমি এখানে?”
তায়েফ সাহেব হাসলেন শুধু। মাথা নাড়িয়ে নিজেও নিচু কন্ঠে বললেন,
“ হুম, তোমাদের মনে পড়ছিলো তাই এলাম।তুমি পড়ো মা! আমি চলে যাচ্ছি!”
মাহি হতবাক হয়ে মাথা কাত করলো একটুখানি। তায়েফ সাহেব গম্ভীর মুখে প্রস্থান ঘটালেন।
কলেজ থেকে বের হচ্ছেন তায়েফ সাহেব। তবে কেঁচি গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই থমকে গেলেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মরত দারোয়ানকে দেখে পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে আনলেন। অতঃপর মেয়ে দু’টোর ছবি বের করে দারোয়ানের দিকে বাড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“ আমার মেয়েরা কী আজ ক্লাস চলাকালীন সময়ে কলেজ থেকে বের হয়ে ছিলো?”
জমজ মেয়ে দু’টোকে দেখতেই সকালের ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো দারোয়ানের।কিন্তু সে-তো আবার টাকার প্রতি লয়াল।যেহেতু টাকা পেয়েছে তাই একপ্রকার মুখ মুছে বলল,
“ না তো স্যার! ওরা তো একবারও বের হয়নি!”
তায়েফ সাহেব বিশ্বাস করলেন কি-না কে জানে! শুধু গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ালেন তিনি!
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে অরিন। উদ্দেশ্য, একযুগ পর ভার্সিটি যাবে! রৌদ্রের কথামতো গায়ে জড়িয়েছে ব্রাউন রঙা বোরকা, মাথায় চেপেছে একই রঙের হিজাব। হিজাব বাঁধতে বাঁধতেই এপর্যন্ত তিন-চারবার হাঁচি দিয়ে বসেছে মেয়েটা। ওদিকে রৌদ্র আবারও স্নানে ব্যস্ত। সে-ই আধঘন্টা আগে ঢুকেছে ওয়াশরুমে,তবে মহাশয়ের স্নান কী আর ওতো সহজে শেষ হয়? অরিন আয়নায় তাকিয়ে থেকে গুনগুন করছে, আর হিজাব বাঁধছে।এমন সময় ওয়াশরুমের দরজায় আওয়াজ পড়লো।অরিন পেছনে না তাকিয়েই আয়নায় চোখ রেখে দেখলো,তার ডাক্তার সাহেব কোমরে তোয়ালে পেচিয়ে বের হচ্ছে! অরিন তৎক্ষনাৎ ব্যস্ত হাতে নিজের হিজাবখানা কোনোমতে বাঁধলো। তারপর একদৌড়ে ছুটে গেলো রৌদ্রের কাছে।হুট করেই মেয়েটাকে ওমন সামনে এসে দাঁড়াতে দেখে হেসে দিলো রৌদ্র। হাত বাড়িয়ে অরিনের গালদুটো আলতো করে টেনে দিয়ে বলল,
“ কী হয়েছে হানি? কি লাগবে?”
অরিন মুচকি হাসলো। রৌদ্রের হাতদুটো টেনে ধরে বলল,
“ তোমাকে!”
এহেন কথায় রৌদ্র তখন ঠোঁট কামড়ে হাসলো। অরিন তাকে টেনেটুনে বসালো বিছানার ওপর। রৌদ্রও কেমন বাধ্য ছেলের মত চুপটি করে বসলো বউয়ের কথামতো। অরিন তক্ষুনি বেড-স্ট্যান্ড থেকে একটা শুকনো তোয়ালপ নিয়ে এসে দাঁড়ালো রৌদ্রের মুখোমুখি। নিজে থেকে আলতো করে মুছিয়ে দিতে লাগলো রৌদ্রের ভেজা চুলগুলো। রৌদ্র কেমন মুগ্ধ হাসছে।দু’হাতে আলতো করে টেনে ধরে মেয়েটার কোমর। অতঃপর যত্নের সাথে একটানে তাকে বসিয়ে দিলো নিজের পায়ের ওপর। মুখ গুঁজল মেয়েটার বুকের মাঝে। ওদিকে অরিনটার এখন বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে রৌদ্রের চুলগুলো মুছতে। দাঁড়িয়ে থেকেই নাগাল পাওয়া যায় না এই লম্বু মানুষটার সেখানে কোলে বসে নাগাল পাওয়া তো দূরের বিষয়! অরিন বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো চুল মুছতে। ওদিকে রৌদ্র কেমন গভীরভাবে ছুয়ে দিচ্ছে মেয়েটাকে। অরিন শুকনো ঢোক গিললো পরপর। জিভ দিয়ে নিজের শুষ্ক অধরজোড়া খানিক ভিজিয়ে নিয়ে হঠাৎ বলে ওঠে,
“ একটা কথা বলবো?”
রৌদ্র নিজ কাজে মগ্ন থেকেই হাস্কিটোনে বলল,
“ হাজারটা বলো! কিন্তু তুমিতে!”
অরিন সময় নিলো বেশ। রৌদ্রের ছোঁয়া ক্রমশ গাঢ় হতেই সে বলে ওঠে,
“ আমার বাবু চাই!”
থামলো রৌদ্র।সদা উত্তেজিত ডাক্তার সাহেব বরাবরের ন্যায় উত্তেজনার চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন এতক্ষণে। যার দরুন কোমরে জড়িয়ে রাখা একমাত্র বস্ত্র স্বরুপ তোয়ালেটা মাত্রই খুলতে যাচ্ছিলেন ভদ্রলোক, ওমনি তার হাতদুটো হুট করে থেমে গেলো অরিনের এহেন কথায়। সে তৎক্ষনাৎ ভ্রু কুঁচকায়। আলতো করে ছেড়ে দেয় অরিনের চেপে রাখা কোমর।চোখ তুলে মেয়েটার মুখপানে তাকিয়ে রইলো কিয়তক্ষন। সুদর্শন যুবকের উম্মুক্ত বক্ষে বোধহয় এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানির কণা স্পষ্ট বিদ্যমান। কপাল বরাবর লেপ্টে আছে ভেজা চুলগুলো। ভেজা চুলগুলো থেকে ঘাড় বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে চুলের পানি। ওদিকে অরিন একদম স্থির। অটল হয়ে আছে নিজ অভিব্যাক্তিতে। রৌদ্র সময় নিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
“ এক কথা বারবার বলবিনা বলে দিলাম! এখনো গা থেকে বাচ্চা বাচ্চা ঘ্রাণ সরেনি যার,সে না-কি নিজে বাচ্চার মা হবে! এই তোর বয়স হইছে বাচ্চার মা হওয়ার?”
এরুপ কথায় দিলে ভীষণ চোট লাগলো অরিনের।মেয়েটা কেমন ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো রৌদ্রের পানে। রৌদ্র তৎক্ষনাৎ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয় অন্যদিকে।মনে মনে পণ করে নিলো, মেয়েটার এহেন মিঠা কথায় আজ আর ভুলবে না সে। ওদিকে অরিনটা এবার নাক টানছে।তা টের পেতেই তৎক্ষনাৎ মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায় রৌদ্র। অরিনকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় কাবার্ডের কাছে। হুট করে রৌদ্রকে এভাবে চলে যেতে দেখে মন ভেঙে কান্না আসছে অরিনের।সে তৎক্ষনাৎ পা টিপে টিপে বেশ কিছুটা কাছে এসে দাঁড়ায় রৌদ্রের। রৌদ্র তাকে দেখেও না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে অরিন দু’হাত দুদিকে মেলে পথ আগলে দাঁড়ালো। গলায় কেমন অদ্ভুত নমনীয়তা ঢেলে বলল,
“ এমন করছো কেনো? একটা বাবুই তো চেয়েছি,তোমার ধন-সম্পদ তো আর না!”
তড়িৎ চোখ তুলে তাকায় রৌদ্র। মেয়েটার মুখে এহেন কথা শুনে কপালটা কেমন কুঁচকে এসেছে তার।এমুহূর্তে কেন যেন মেয়েটাকে ইচ্ছেমত ঝাঁঝ দেখিয়ে দুয়েকটা কথা শোনাতে ইচ্ছে করলেও নিজেকে বেশ দক্ষতার সাথে সামলে নিলো রৌদ্র। কুচঁকে রাখা কপালখানা শিথীল করে, আলতো করে দু’হাত উঠিয়ে আনলো অরিনের ফোলা ফোলা গালদুটোর চামড়ায়।তারপর খানিক নিচু হয়ে বেশ যত্নের সাথে চুমু খেলো মেয়েটার গালদুটোয়। অরিন আবেশে চোখ বুঁজে দাঁড়িয়েছে। খপ করে রৌদ্রের হাতদুটো চেপে ধরে, সেথায় আঙুল দাবিয়েছে ইতোমধ্যে। রৌদ্র কিয়তক্ষন নিরব চোখে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার মুখপানে। সময় নিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“ আমার সবচেয়ে দামী সম্পদ বলতে আমি কেবল তোকেই বুঝি সানশাইন! তুই আমার এ সম্পদের বদলে নাহয় আমার প্রাণটা চেয়ে নে। বিশ্বাস কর বউজান, আমি তোর এককথায় হাসতে হাসতে নিজের প্রাণটা উৎসর্গ করে দিবো তবুও তুই আমার ব্যাক্তিগত সম্পদের ক্ষতি করতে চাস না।আমার এসব সহ্য হবে না।এই যে দেখ,আমার ব্যাক্তিগত সম্পদকে ছুঁইয়ে বলছি…এসব আমার মোটেও সহ্য হবে না।”
ভড়কে তাকায় অরিন। গলার স্বর কাঁপছে তার। সর্বাঙ্গও বোধহয় কাঁপছে মৃদুমন্দ। রৌদ্র বেশ খেয়াল করলো তা। সে একহাতে আলগোছে মেয়েটাকে টেনে নিলো নিজ বুক পিঞ্জরে। বেশ লম্বা একটা নিশ্বাস ফেলে মোটা কন্ঠে বলে ওঠে,
“ আমার ভয় লাগে সানশাইন! সত্যি বলছি,ডাক্তার হয়েও আমার ভয় লাগে এসবে। যখন তুই কনসিভ করবি তখনকার টুকটাক ব্যাথাগুলো নাহয় তুই মুখ বুঁজে সহ্য করে নিলি কিন্তু…. ”
থামলো রৌদ্র।এপর্যায়ে কন্ঠ কেমন কাঁপছে তার। ছেলেটা বারকয়েক শুকনো ঢোক গিলে ফের বললো,
“ বেবি হওয়ার সময় অনেক ব্যাথা হয় জানবাচ্চা। খুব বলতে খুব হয়। সেই সময়ের তোর ওতো কষ্ট আমি সহ্য করতে পারবোনা সানশাইন। আমি হয়তো.. আমি হয়তো তোর কান্না দেখলে মরেই যাবো জানবাচ্চা। আল্লাহ না করুক, ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে তোর যদি কিছু হয়ে যায়? তখন..তখন আমি কীভাবে বাঁচবো সানশাইন? আমি কীভাবে থাকবো? না না…আমার বাচ্চা লাগবেনা।দরকার হয় আমরা বেবি এডপ্ট করে নিবো সানশাইন।অনেকগুলো বেবি এডপ্ট করবো।তোর যেমন ভাল্লাগবে তেমনটাই।তবুও আল্লাহর দোহাই লাগে বউজান, তোর হেলথ নিয়ে এতোবড় ক্ষতি করার কথা বলিসনা আমায়।”
সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৬
হতভম্ব বনে গেলো অরিন। এমুহূর্তে রৌদ্রের কথাগুলো কেমন বাচ্চাদের মতো শোনাচ্ছে তার নিকট। ওদিকে রৌদ্র কেমন আঁকড়ে ধরে রেখেছে মেয়েটাকে।ভাব এমন, ছেড়ে দিলেই বুঝি হারিয়ে যাবে মেয়েটা! কথায় আছে, অবুঝকে বোঝানো যায় বুঝদারদের দ্বারা তবে বুঝদারদের বোঝানো যায় না কিছুরও দ্বারা! এমুহূর্তে অরিনের ডাক্তার সাহেবের কাহিনী ঘটেছে ঠিক তেমন!
