সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ৮
জাবিন ফোরকান
‘ভালোবাসা’ শব্দটা আমার বড্ড অচেনা।
আমার আর জায়দানের বিয়েতে কোনো ভালোবাসা ছিলোনা। সূচনা থেকে সমাপ্তি অবধি আমাদের বন্ধনের মাঝে যে অনুভূতির প্রবাহ ছিলো, সেই অনুভূতির নাম দেয়া আমার পক্ষে দুষ্কর। তবে চেষ্টা করতে পারি।
সেই অনুভূতির নাম দেয়া যাক— মায়া।
বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝে সৃষ্টিকর্তার রহমত আছে। কথাটা সত্য। আগে বুঝতে না পারলেও এখন বুঝি আমি। একটা মানুষের সাথে যখন অনেকখানি সময় একসাথে কাটানো হয়, অনেকগুলো দিন একসাথে অতিক্রান্ত হয় তখন মানুষটার উপর বুঝি আমাদের মায়া পড়ে যায়।
জায়দান মানুষটার প্রতি আমার অগাধ মায়া।
ভীষণ বায়ুর ঝাঁপটায় আমার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে। মাথায় হেলমেটের সুরক্ষা থাকায় বিশেষ সমস্যা হচ্ছেনা। আমি নিষ্পলক চেয়ে আছি আমার ঠিক সামনেই বসমান পুরুষটির দিকে। হেলমেটের উইন্ডোর আড়ালে যার সমস্ত মনোযোগ আবদ্ধ সড়কপথে। ভারসাম্য রক্ষায় আমার বাহুদ্বয় জড়ানো তার শরীরের দুপাশে। শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছি আমি, যেন নিজের কোলবালিশকে।
জায়দানের বাইকে আমি হাতে গোণা বেশ কয়েকবার চড়েছি, বিবাহিত থাকাকালীন। আমার একটা অনন্য পদ্ধতি রয়েছে। বাইকের পিছনে নয়, বরং সামনে বসি। ব্যাপারটার সূত্রপাত ঘটেছিল এক বৃষ্টিমুখর রাতে। একটা ক্লাব থেকে মাতাল আমিকে তুলে আনতে গিয়ে জায়দান বুঝেছিল, আমায় পিছনে বসতে দেয়া হবে চরম ঝুঁকির ব্যাপার, যেকোনো মুহূর্তে দোল খেয়ে পড়ে যেতে পারি। প্রাক্তন স্বামী আমার সেরাতে অভাবনীয় এক কাজ করেছিল। নিজে পিছনে সরে সামনের উঁচু অয়েল ট্যাংকের উপর আমায় বসিয়ে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়েছিল সে। যেন আমি তার চোখের সামনেই থাকি, পড়ে না যাই। তাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা গুঁজে থাকতাম আমি। সেই রেওয়াজ আজও পরিবর্তন হয়নি। আমাদের মাঝে দূরত্বের ব্যবধান অসীম হলেও স্থান ঠিক সেই বুকের মাঝে, যা আমার সবথেকে সুরক্ষার আশ্রয়।
কনকনে হাওয়া অনুভব করতে করতে অজান্তেই দুবাহুর মাঝে জায়দানকে ক্রমশ শক্ত করে চেপে ধরলাম। হেলমেটে আবৃত মাথা তার বুকে ঠেকিয়ে চেয়ে রইলাম শূন্যে। দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে নির্জন ফাঁকা রাস্তার দোকানপাট, গাছপালা, একটা দুটো কুকুরের দল এবং কয়েকজন পথচারী। হেলমেটটাকে হঠাৎ করেই ভীষণ অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। ইচ্ছা হলো সেটি খুলে ওই বুকে মাথা রেখে কান পাতি। হৃদস্পন্দনটুকু শুনি। বিবাহিত থাকাকালীন কি কখনো আমার স্বামীর বুকের হৃদস্পন্দন শোনার ইচ্ছা হয়েছিল? মনে করতে পারলাম না।
ঠিক কতটা সময় বাইকের দ্রুতির সঙ্গে কেটেছে জানা নেই। জায়দান অতি ধীরে বাইক থামালো সড়কের পাশে। তার বুক থেকে মাথা তুলে হেলমেট খুলে নিলাম। জায়দান ততক্ষণে নিজের হেলমেট খুলে এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুল আঙুল বুলিয়ে ঠিক করে নিচ্ছে। প্যান্টের পকেট থেকে চশমা বের করে চোখে দিয়ে সে আমায় দেখলো। গভীর ওই বাদামী বর্ণে আমার আত্ম ভুলিয়ে শুধালো,
“ আর কান্না পাচ্ছে? ”
কথাটা হয়ত তেমন কিছু নয়। তবে আমার হৃদয় কেন ছুঁয়ে গেলো বোধগম্য হলোনা। শক্ত ঢোক গিলে মলিন হাসলাম, মাথা ঝাঁকিয়ে জানালাম,
“ না। ”
জায়দান খানিকক্ষণ নিঃশব্দে আমায় দেখলো, তারপর স্যুট জ্যাকেটের পকেট থেকে একটি রুমাল বের করলো। আমার চিবুক আলতো করে ছুঁয়ে ধীরে ধীরে আমার মুখে বসে যাওয়া অশ্রুর দাগ মুছতে লাগলো। তার নয়নজুড়ে আমি এক জ্বলজ্বলে স্রোত খেলে যেতে দেখলাম। প্রাক্তনের কন্ঠস্বর স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যন্ত গম্ভীর শোনালো,
“ আমি জানতাম তুমি অনেক স্ট্রং। বোধ হয় আমি ভুল জানতাম এতদিন। ”
জমে গেলাম নিজের জায়গায়। মনে হলো কেউ বুঝি সরাসরি আমার বুকে হাত ভরে হৃদপিন্ড টেনে বের করে নিতে চাইছে। অসহায়ের মতন আশেপাশে তাকালাম। এই কথার উত্তর দেয়ামাত্র আমার অস্তিত্ব গুঁড়িয়ে যাবে জানি, তাই কিছু একটা বাহানা দরকার। নির্জন সড়কে একটি দুটি যানবাহন বাদে কিছুর অস্তিত্ব নেই। শুধু একপাশে দূরে, একটা মুষড়ে পড়া আমগাছের তলে ছোট্ট একটা টিনের তৈরি টং দোকান। স্টোভে কেটলি বসানো। বেঞ্চে দুজন লোক, উভয়ের মনোযোগ দোকানের ভেতর সাদাকালো এক টেলিভিশনের দিকে। দ্বিতীয় চিন্তাভাবনা ছাড়াই গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলাম,
“ চা খাবো। মালাই চা। ”
জায়দানের মনোযোগ সহসাই ঘুরে গেলো টং দোকানের দিকে। ঠান্ডা গলায় সে বলল,
“ ওসব স্বাস্থ্যকর নয়। ”
“ তোমার স্বাস্থ্য নিয়ে তুমি বাইকে বসে বাতাস খাও। আমি চা খেতে গেলাম। ”
পা নামিয়ে লাফিয়ে নামলাম বাইক থেকে। এগোলাম টংয়ের দিকে। দেখলাম জায়দান স্ট্যান্ড ফেলে দ্রুতই আমায় অনুসরণ করছে। সামান্য বাঁকা হাসি ফুটলো আমার ঠোঁটে। দোকানের কাছে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বললাম,
“ মামা, দুই কাপ মালাই চা দিয়েন। এক কাপ চিনি ছাড়া, আরেক কাপ চিনি বেশি। ”
ধপাস করে বেঞ্চে বসে পড়লাম। দোকানের বেঞ্চের অন্য দুজন লোক এত রাতে এক মেয়েকে এভাবে দেখে চমকালো বোধ হয়। সেই চমক দ্বিগুণ হলো যখন তারা জায়দানকে এসে আমার পাশে বসতে দেখলো। নেহায়েত সাধারণ জনজীবনের টং দোকানের চিত্রের মাঝে স্যুট বুট পরিহিত ছ ফুট সাড়ে তিনের অস্তিত্ব বড্ড বেমানান। জায়দানকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার অস্বস্তি হচ্ছে। নিচু বেঞ্চে বসে লম্বা পা দুটো সে কিছুতেই ঠিকঠাকমত রাখতে না পেরে শেষমেষ সামান্য এলিয়ে বসলো। খিলখিল করে হেসে উঠলাম আমি।
“হোয়াট?”
জায়দানের প্রশ্নে আমি সামান্য পিছনে হেলে আপাদমস্তক নজর বুলিয়ে আনলাম।
“ টাওয়ার!”
জায়দান ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে চেয়ে রইলো। পরক্ষণে ঝট করে দৃষ্টি ঘুরিয়ে আপনমনে কি যেন বিড়বিড় করলো। কিছু জিজ্ঞেস করতে পারলাম না। এর আগেই দোকানি চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো। দুজনে দুই কাপ হাতে নিয়ে নিঃশব্দে চুমুক দিলাম। জায়দানের মুখজুড়ে এক বিরক্তির ভাঁজ পড়লো। মৃদু হেসে শুধালাম,
“ কি হে টাওয়ার? চিনি লাগবে? ”
“ টু মাচ সুইট, টু মাচ মিল্ক! ”
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে পরক্ষণেই অট্টহাসি হেসে উঠলাম। হাঁটুর উপর চাপড় দিয়ে বললাম,
“ আরে। তোমার চায়ে তো চিনিই দেয়া হয়নি। এতেই এই অবস্থা? আমারটা চেখে দেখবে নাকি? ”
আমার দুধ, মালাই এবং চিনি ভর্তি কাপটা এগিয়ে ধরতেই জায়দান সামান্য দূরে সরে বসলো।
“ নো থ্যাঙ্কস। ”
“ তোমার লস। ”
বলে আয়েশী ভঙ্গিতে নিজের কাপে সুরুৎ সুরুৎ চুমুক দিতেই পাশ থেকে জায়দানের মন্তব্য ভেসে এলো,
“ কাপভর্তি ডায়াবেটিস।”
বেঞ্চের অপর পাশের লোক দুটো হঠাৎ করেই টেলিভিশন দেখা থামিয়ে দিয়ে আমাদের দেখছে। একজন অপরজনের কানে ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর সে মাথা দোলাচ্ছে।
“ এক্সকিউজ মি, আপু, আপনি সাবিন হুসেইন না? ”
চায়ের কাপ হাতে জমে গেলাম আমি। শক্তভাবে চেপে ধরলাম বেঞ্চের প্রান্ত। ভ্রুজোড়া কুঁচকে উঠলো ভীষণ বিরক্তি এবং আতঙ্কের মিশ্র অনুভূতিতে।
“ আমি জানিনা আপনি কার কথা বলছেন। ”
ঠান্ডা গলায় জবাব দিতেই অপরজন হঠাৎ করে নিজের পকেটের ফোন বের করে আমায় দেখালো। তাতে আমারই ছবি, যা ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে।
“ এইযে এইযে, একদম আপনার মতন দেখা যায়। আরে আপু, এইসব কি সত্যি নাকি? আপনি আসলেই মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন? দেখতে শুনতে তো ভদ্র ঘরের মেয়ে বলেই মনে হয়। তাহলে আচরণ এত বাজে কেন? ”
হঠাৎ করেই বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। মাত্র এক রাতে এতবার এত রকমভাবে মানসিক চাপ আর নেয়া যাচ্ছেনা। কেমন হাসফাঁস করে উঠলো ভেতরটা। এতটাই যে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। তাই সটান উঠে দাঁড়ালাম। কাপ রেখে কাঁপা কাঁপা হাত ট্রাউজারের পকেটে ভরতে ভরতে বললাম,
“ মামা, বিল কত? ”
আরেক দফায় চমকিত হতে হলো আমাকে। অনুভব করলাম, বাসায় পরনে থাকা ট্রাউজার পরেই বেরিয়ে গেছি। অতএব, ওয়ালেট সাথে নেই।
“ চল্লিশ টাকা আফা। ”
বোকার মতন দাঁড়িয়ে থাকলাম। মাথায় সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। এই স্থান দ্রুত পরিত্যাগ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অন্তরে। যখন হঠাৎ আতঙ্কে রীতিমত চোখে আঁধার দেখছিলাম, তখনি পিছন থেকে একটি পুরুষালী বাহু এগিয়ে এলো। একশো টাকার নোট, সঙ্গে পুরুষালী কন্ঠস্বর,
“ ভাংতি হবে আশা করি। ”
টং দোকানী মাথা হেলিয়ে তৎক্ষণাৎ ড্রয়ার খুলে ভাংতি গুণে গুণে জায়দানের কাছে ষাট টাকা ফেরত দিলো। আমি কোনোদিকে কোনো নজরপাত না করেই হনহন করে পার্ক করে রাখা বাইকের দিকে এগিয়ে গেলাম। অস্থির অপেক্ষা আমার।
“ সাবিন হুসেইন এতটা ভীতু কল্পনা করাটা হাস্যকর। ”
জায়দানের কন্ঠস্বর ভেসে এলো পিছন থেকে। ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস করলাম না। প্রাক্তন নিজে থেকেই ধীরপায়ে হেঁটে এসে আমার পাশে দাঁড়ালো। তার লম্বাটে অবয়বের ছায়া রাত্রির আকাশের মৃদু আভা থেকে আমায় আড়াল করে ফেললো। সড়কে সজোরে ছুটে যেতে থাকা কয়েকটি যানবাহনের দিকে চেয়ে রইলাম দুজনেই। আমার হাত দুটো দুপাশে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে রইলো।
“ তুমি এমন ছিলে না, সাবিন।”
ভীষণ রাগ অনুভব করলাম অন্তরে। খেঁকিয়ে উঠলাম,
“ তো? কেমন ছিলাম? নাকের ডগায় রাগ পুষে রাখতাম, বাসার জিনিসপত্র ভাংচুর করতাম, তোমার আম্মুর সঙ্গে সারাটাদিন ঝগড়া করতাম, তাই বলতে চাইছো তুমি, হ্যাঁ? খোটা দেয়ার এর চেয়ে ভালো সময় আর পাওনি, তাইনা? ”
সুগভীর বাদামী সমুদ্র সদা শান্ত। আমার ক্রোধে তার নির্মলতার মাঝে কোনো প্রভাব পড়লোনা। সুস্থির নয়নে আমার দিকে তাকালো সে। নির্লিপ্ত স্বরে জবাব দিলো,
“ তুমি হার মানতে জানতে না। সে তুমি সঠিক হও, বা বেঠিক। ইউ ওয়্যার স্টাবোর্ন, সেলফিশ! ইউ ডিড নট নো হোয়েন টু ব্যাক ডাউন। ”
স্থির চেয়ে রইলাম আমি। ক্রোধের তাড়নায় আমার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের গতি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকলো। জায়দান আমার দিকে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়ালো এবার। সড়ক বেয়ে ধেয়ে যাওয়া লড়ির হেডলাইটের হলদেটে আভা প্রতিফলিত হলো তার অবয়বে।
“ আই অ্যাম ডিসাপয়েন্টেড। তুমি তোমার ভুলটাকে জান প্রাণ দিয়ে রক্ষা করলেও, সঠিকটাকে ভেসে যেতে দাও, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসলের মতন। ”
কি যেন হয়ে গেলো আমার। নিগূঢ় তাড়নায় আচমকা লাফিয়ে উঠে পায়ের পাতায় ভর দিয়ে নিজেকে উঁচু করলাম, দুহাতে আকড়ে ধরলাম জায়দানের স্যুটের কলার। বান্দা যথারীতি নির্লিপ্ত। যেন এর চাইতে স্বাভাবিক কোনো দৃশ্য আর হয়না। দাঁতে দাঁত পিষে চিবিয়ে চিবিয়ে বললাম,
“ হ্যাঁ। আমি ভুল! আর তুমি সঠিক! আমি স্বার্থপর, বদমেজাজী। আর তুমি শান্ত, ভদ্র। দ্যা এভার পারফেক্ট সন অব ইওর মাদার! ”
একটি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেললো জায়দান। নিজের চশমা ঠিক করে আলতোভাবে আমার হাত দুটো ধরে নিজের কলার থেকে ছাড়াতে চাইলো।
“ সাবিন, প্লীজ। আম্মুকে নিয়ে কথা না বলি। ”
“ কেনো? কেনো বলবো না ওই মহিলাকে নিয়ে কথা? তোমার আম্মু বলে? আমি মানছি আমার ভুল ছিলো। আমি মানছি সবকিছু আমার দোষ। এভরিথিং ইয মাই ফল্ট। বাট জায়দান! একটাবার! শুধু একটাবার তুমি কি পারতে না তোমার আম্মুকে…”
“ আই সেইড স্টপ ইট, রাইট নাউ! ”
ভীষণ শীতল শোনালো জায়দানের কন্ঠস্বর, যেন সতর্কবাণী। চোখজোড়ার মাঝে অব্যক্ত সাবধানতা। হুট করেই তার কলার ছেড়ে দিলাম আমি। কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম। কেন যেন সামনে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে আর তাকাতে পারলাম না। জায়দান আমার মুঠিতে কুঁচকে যাওয়া কলার চেপে ঠিকঠাক করে নিয়ে টাই ঢিলে করলো। অতঃপর আমার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করে বললো,
“ তুমি আমায় পদে পদে হতাশ করো। ”
একটামাত্র বাক্য। আমার গোটা অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। জায়দান আর দাঁড়ালোনা। উল্টো ঘুরে হনহন করে এগিয়ে নিজের বাইকে চেপে বসলো। এবার সে আমাকে নিজের সঙ্গে যেতে আহ্বান জানালোনা। এত গভীর রাতে, একজন একলা মেয়ে কোথায় যাবে, কিভাবে বাড়ি ফিরবে সেই পরোয়াটুকু বোধ হয় আজ আমি নিজ হাতে শেষ করে দিয়েছি। তাই জায়দান পরোয়া করলোনা। হেলমেট মাথায় দিয়ে ইঞ্জিনের গর্জন তুলে সড়ক ধরে এগিয়ে গেলো। ঝাপসা দৃষ্টি মেলে আমি আড়াল হয়ে যেতে দেখলাম জায়দানের বাইক।
হতাশ? প্রাক্তন স্বামী আমার ঠিকই বলেছে। আমি সবাইকেই শুধু হতাশ করে যাই। চরম হতাশ।
আমি যখন বাসায় ফিরলাম তখন রাত দেড়টা প্রায়। উদ্ভ্রান্ত মীরা দরজা খুলেই সর্বপ্রথম আমাকে শক্তভাবে জাপটে ধরলো।
“ কোথায় গিয়েছিলি দোস্ত? মোখলেস চাচা বললো একা একা বেরিয়ে গিয়েছিস। কত চিন্তা হচ্ছিলো জানিস? ”
মীরাকে পাল্টা জড়িয়ে না ধরে আমি শুধু ঠাণ্ডা কন্ঠে বললাম,
“ একশো টাকা হবে মীরা? নিচে সি এন জি ওয়ালা অপেক্ষা করছে, একটু ভাড়াটা দিয়ে আসবি? ”
আমার থমথমে চেহারা দেখে মীরা খুব বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলো না। ড্রয়ার থেকে পার্স নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ছুটলো নিচ তলায়। আমি বাসায় ঢুকে চুপটি করে বিছানার উপর বসলাম। দুহাতে মাথা চেপে ধরে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
মীরা ফিরে এলো মিনিট পাঁচেক পরেই। দরজা আটকে সে আমার জন্য পানি নিয়ে এলো। সুদর্শনা মুখজুড়ে মেয়েটির চিন্তার গাঢ় ছাপ। তার হাত থেকে গ্লাস নিয়ে ঢকঢক করে পানিটুকু গিলে ফেললাম। অতঃপর কর্কশ গলায় বললাম,
“ মীরা? ”
“ হ্যাঁ দোস্ত? ”
আমার হাঁটুর কাছে বসে পড়লো সে। জ্বলজ্বলে উদগ্রীব দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো। গ্লাসটিতে আঁকড়ে বসলো আমার আগুন। ঠোঁটজুড়ে ফুটলো অশুভ এক হাসি।
“ তারা চায় আমি ভাইরাল হই। ”
সামান্য ঝুঁকে এলাম, আমার কন্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো রুমের প্রত্যেকটি দেয়ালজুড়ে।
“ দ্যান লেটস শো দ্যাম, হোয়াট ট্রু ভাইরালিটি মিনস! ”
মীরার চোয়াল ফাঁক হয়ে গেলো। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো মেয়েটা আমার দিকে। যেন তার প্রাণের বান্ধবীকে নয়, দেখছে কোনো আঁধারের পিশাচীনিকে।
বেশ কিছুদিন পর।
ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিক। শীত বেশ ভালো ভাবেই অনুভূত হওয়া আরম্ভ করেছে। পরনের স্যুট জ্যাকেটের ভেতরেও কনকনে বায়ুর স্পর্শ টের পাওয়া যাচ্ছে।
আজ ভার্সিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটা জরুরী মিটিং ছিলো বিধায় অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে। জায়দান সবেমাত্র ব্র্যাকের গেট পেরিয়ে বেরিয়েছে। বাইক সার্ভিসিংয়ে পাঠানো হয়েছে, তাই আজ সঙ্গে আনা হয়নি। বাড়ির গাড়ি পাঠাতে বললে দেরী হবে বিধায় ক্যাব বুক করে নেবে ভেবে সড়কের কাছে এসে দাঁড়ালো জায়দান। এক হাতে ল্যাপটপের ব্যাগ, অপর হাতে ফোন। চোখের চশমায় প্রতিফলিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক স্ক্রীনের আলো।
“ হাই। ”
মেয়েলী কন্ঠস্বরটি কর্ণগোচর হতেই জায়দান মাথা তুলে তাকালো। সামনের দৃশ্যটি তাকে খানিকটা বিস্মিত করলো। পার্ক করে রাখা একটি মার্সিডিজ। তার গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরওয়া। রমণীর পরিধানে পা অবধি দৈর্ঘ্যের লম্বা ফ্রক। মেয়েটাকে সবসময় বাঙালি পোশাকেই দেখা হয়েছে এর আগে। জায়দান সুস্থির চেয়ে ফোন পকেটে ভরলো।
“ হাই। আপনি এই সময়ে, এখানে? ”
মিষ্টি হেসে পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো আরওয়া। জায়দানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হাত দুখানা পিছনে বেঁধে জানালো,
“ বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরছিলাম এই পথ দিয়েই। জানলাম, আপনি এখানেই আছেন। তাই ভাবলাম…উই ক্যান হ্যাভ ডিনার টুগেদার। ”
জায়দান নিশ্চুপ চেয়ে রইলো। তাতে আরওয়া খানিকটা বিব্রত হয়ে দ্রুত উচ্চারণ করলো,
“ না মানে, আপনি সারাদিন কাজের শেষে যদি ক্লান্ত হয়ে থাকেন তাহলে ইটস ফাইন। আমি আপনাকে বাসায় ড্রপ করে দিতে পারি। ”
“ না। আমি ঠিক আছি। লেটস হ্যাভ ডিনার। ”
আরওয়ার ঠোঁটের হাসি দ্বিগুণ বিস্তৃত হলো। দুজনেই গাড়ির দিকে এগোলো। জায়দান পিছনের প্যাসেঞ্জার সিটে উঠে বসলো, অনুসরণ করলো আরওয়া। গাড়ির ড্রাইভার নিঃশব্দে গাড়ি চালানো আরম্ভ করলো।
জায়দান অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি গম্ভীর এবং নিশ্চুপ লক্ষ্য করে আরওয়া সামান্য গলা খাঁকারি দিলো।
“ তো। আপনার দিন কেমন কাটলো? ”
“ প্রতিদিনের মতন। ইভেন্টলেস, বিজি। ”
যান্ত্রিক উত্তর জায়দানের। তবে আরওয়াও দমবার পাত্রী নয়।
“ আপনি কি খেতে ভালোবাসেন? কোন রেস্টুরেন্টে গেলে পছন্দ করবেন? ”
“ এনিথিং ইয ফাইন। ”
লোকটির সঙ্গে কথোপকথন অসম্ভব প্রায়। তার প্রত্যেকটা উত্তর বাক্য বিনিময়কে থামিয়ে দেয়ার মতন। আরওয়া সামান্য হতাশাবোধ করলো। কথাবার্তার মতন কোনো বিষয় আর খুঁজে না পেয়ে সে নিজের ফোনটা হাতে নিলো। ডাটা অন করতেই একটা নোটিফিকেশন দেখে চমকে উঠলো।
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে দেশে চলমান ভাইরালের খেলা অজানা নয় আরওয়ার। সাবিন নামে একটা মেয়ে প্রায় অনেকদিন যাবৎ ট্রেন্ডিং হট টপিকে আছে। সত্যি বলতে, মিডিয়ায় দেখানো কাহিনীগুলো কেন যেন বিশ্বাস হতে চায়নি আরওয়ার। হাজারজন ফেসবুক বুদ্ধিজীবীর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ফিরে সাবিনের স্কুটির অ্যাক্সিডেন্ট নিয়ে ওঠা গুঞ্জণ তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কিছুদিন আগে মেয়েটার পেইজ পিৎজা স্টেশন একটিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে ফলো দিয়েছিল। এমনকি পেইজের ইনবক্সে পিৎজার অর্ডারও দিয়েছে, যার রিপ্লাই আজ অবধি পাওয়া যায়নি। তাই সেই পেইজের নোটিফিকেশন দেখার সঙ্গে সঙ্গে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে উঠলো।
“ আরে! সাবিন হুসেইন মেয়েটা দেখি লাইভ করছে! ”
আনমনে খানিকটা জোরেই বিস্ময় নিয়ে বলে উঠলো আরওয়া। জায়দান নিজের ওয়াটার বটল থেকে খানিকটা পানি পান করছিলো, আরওয়ার মুখে কথাটা শোনার সাথে সাথে সে সামান্য কেশে উঠলো। একটুর জন্য মুখ থেকে ছিটকে পানিটুকু বেরোলনা। দ্রুত রুমাল বের করে মুখ মুছতে মুছতে কাশি দমন করে আরওয়ার দিকে তাকালো সে। রমণী বেশ মনোযোগী ভঙ্গিতে হাতের ফোনের দিকে চেয়ে আছে। জায়দান পাশ থেকে মুখ বাড়িয়ে খানিক ঝুঁকে স্ক্রীনের দিকে তাকালো। নির্বিকার ভঙ্গিতে সামান্যতম বিস্ময়ের কারণে ভ্রুজোড়া উঁচু হলো তার। সে তাকিয়ে দেখছে লক্ষ্য করে আরওয়া মোবাইল ফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দিলো।
সাবিন তার পেইজ থেকে লাইভে এসেছে। হাজার হাজার রিয়্যাক্ট কমেন্টের ভেতর তাকে দেখা যাচ্ছে দূর্বোধ্য ভঙ্গিতে একটা ইজি চেয়ারে বসে দুলছে। মুখজুড়ে প্রফুল্লতা, ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি এবং অসম্ভব ধরণের আত্মবিশ্বাস। এটা সাবিনের আগের বাসা নয়, রুমটা দেখে অচেনা লাগলো জায়দানের কাছে। বুঝতে সময় লাগলো না যে সাবিন ইতোমধ্যে নিজের বাড়ি বদল করেছে।
ক্যামেরার সন্নিকটে ঝুঁকে এলো সাবিন। নিগূঢ় নয়নে তাকালো, যেন বরাবর দর্শকের চোখ পেরিয়ে আত্মায় প্রবেশ করছে ওই দৃষ্টি। গালের দিকটায় এখনো একদম হালকা ক্ষতের দাগ আছে, তবে তা অভাবনীয় এক কারণে তার মুখভঙ্গির সঙ্গে দারুণ মানানসই লাগলো।
“ যারা আমি কেঁদেকেটে ক্ষমা চাইতে এসেছি ভেবে লাইভে অংশ নিয়েছেন তাদের আম্মুদেরকে আসসালামু আলাইকুম। ”
স্যালুট ঠুকে তীর্যক হাসলো সাবিন। লাইভ ভিউ প্রায় লাখের ঘরে গিয়ে ঠেকেছে। কমেন্টজুড়ে অজস্র হাসাহাসি, গালাগাল এবং বিস্ময়কর মন্তব্য। তবে সাবিনের কোনকিছুতেই বিশেষ পরোয়া আছে বলে মনে হচ্ছেনা।
“ দেখেছেন আন্টিগণ? আপনাদের ছেলেমেয়েরা আপনাদের চাইতেও মহা বোকা। আপনারা তো তাও ইউটিউবের হাস্যকর থাম্বনেইল দেখে বিভ্রান্ত হন, কিন্তু তারা তো বলদগিরিতে আরো উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে ফেলেছে। স্যোশাল মিডিয়ায় যাহা ভাইরাল, তাহাই তারা এমনভাবে বিশ্বাস করে, যেমনভাবে করে নিজেদের আব্বুদের। ”
আরওয়ার চোয়াল সামান্য ফাঁক হয়ে গেলো। এই মেয়ের কথা এবং কাজ অনন্য ধাঁচের। অপরদিকে জায়দান আনমনে একটি ঢোক গিললো, সমস্ত মনোযোগ তার আবদ্ধ স্ক্রীনে যেখানে এখন টি শার্ট আর ট্রাউজার পরনে সাবিন ইজি চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছে রাণীর ভঙ্গিতে। উঁহু, রাণী নয়, রাজা। ক্ষমতাধর রাজ্যের রাজা, যার হুকুম অমান্যের দ্বিতীয় ক্ষমতা নেই।
“ বলছিলাম কি, একে অন্যের পিছনে বাঁশ দেয়ায় খানিক বিরতি দিয়ে আসুন, আমরা সবাই মিলে পিৎজা খাই। আমার বিজনেসের রি ওপেনিং উপলক্ষ্যে আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি একটা স্পেশাল ট্রিট, “বেয়াদব বেয়াল্লিশ কম্বো”! পিৎজা স্টেশনের এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ অফার। বেয়াল্লিশ ইনগ্রিডিয়েন্টে তৈরী চার লার্জ সাইজের পিৎজার সঙ্গে পাচ্ছেন কিউট কিউট এক পাউন্ড হোমমেড কেইক ফ্রী। শাউট আউট টু ‘কেক হেভেন বায় মীরা!’ কম্বো প্রাইজ মাত্র ৩০০০ টাকা, অর্ডার করুন এক্ষুণি আর হয়ে যান সাবিনের মতন বেয়াদব বেয়াল্লিশ। ”
“ ওহ হো, দোস্ত অলরেডি ১০ টা অর্ডার পরে গিয়েছে পেইজে!”
পাশ থেকে ভেসে এলো মীরার কন্ঠস্বর। সাবিন খিলখিল করে হেসে পরক্ষণে আবার ক্যামেরায় চেয়ে বললো,
“ তাহলে আর দেরী কিসের? এখনি অর্ডার করুন স্পেশাল কম্বো। আর হ্যাঁ….”
নাটকীয় ভঙ্গিতে ক্যামেরার কাছে ঝুঁকে সাবিন ভ্রু নাচিয়ে জানালো,
“ পিৎজা স্টেশন এখন থেকে দ্যা ভাইরাল পিৎজা স্টেশন! সি ইউ সুন অন ডেলিভারি, স্যাভেজ পিপল!”
লাইভের ভিউ ঠেকেছে ৪ লাখে। কমেন্ট, রিয়্যাকশন, শেয়ার অজস্র। জায়দান সুস্থির চেয়ে থাকলো। পেইজের বর্তমান নাম জ্বলজ্বল করছে।
দ্যা ভাইরাল পিৎজা স্টেশন— স্যাভেজ সাবিন।
ফলোয়ার সংখ্যা ২০৭ হাজার।
“ গডড্যাম ইট! ফাকিং শিট!”
রাজধানীর অন্য প্রান্তে একই সময়ে লাইভ দেখতে দেখতে চেঁচিয়ে উঠলো আয়দান। নিজের ফোনটা সে আছাড় দিয়ে ফেললো মেঝেতে। ছোট ছেলের হঠাৎ ধারণ করা রুদ্রমূর্তি দেখে জেসমিন হতভম্ব হয়ে গেলেন।
“ কি হলো? এত রাগ করছিস কেনো? ”
জেসমিন ছেলের জন্য নিজ হাতে আপেল কাটছিলেন। সেই আপেল আধকাটা রইলো। আয়দান রাগে আপনমনে গজগজ করতে লাগলো,
“ একটা আস্ত বোয়াল মাছ। বারবার হাত থেকে পিছলে যায়। ওই শুভর বাচ্চা আমার বালটা করেছে! কত্ত গৌরব শালার, ও নাকি সব পারবে, মেয়েটাকে ভাইরাল করে ছেড়ে দেবে। শালার ঘরের শালা একটা, ধান্দাবাজ, ইচ্ছা করছে ধরে ওটাকে….”
“ আয়দান। মাথা গরম করা বাদ দিয়ে এখানে আয়। এই নে, তোর জন্য আপেল কেটেছি। খেয়ে দেখ। ”
“ আপেল? ”
জেসমিনের দিকে ঘুরল আয়দান। নাকের পাটা ফুলে উঠলো তার ক্রোধে। এক ঝটকায় জননীর হাত থেকে আপেলের প্লেট ফেলে দিলো সে। কাচের প্লেট মেঝেতে পড়ে ভেঙেচুরে ছড়িয়ে পড়লো, আপেলের টুকরোগুলো গড়াগড়ি খেলো। রান্নাঘর থেকে দৌঁড়ে এলো রোজিনা। ভাংচুর দেখে চেঁচিয়ে উঠলো,
“ আম্মা, আফনে ঠিক আছেন? ”
জেসমিন কোনো কথা বলতে পারলেন না। শুধু একটি নিঃশ্বাস ফেলে নিজের কপাল ঘষে বললেন,
“ সব ঠিক আছে। মেঝেটা পরিষ্কার করে ফেল। ”
আয়দান কান্ড দেখার জন্য দাঁড়িয়ে নেই। সে ধপধপ করে পা ফেলে উঠে গেলো সিঁড়ি বেয়ে, নিজের রুমের দিকে। ফোনটা তখনো হাতে পাকড়াও করা, মুষ্টি সেথায় চেপে বসেছে সজোরে। নিজের রুমে ঢুকেই বিছানায় ধপাস করে লাফিয়ে পড়ল সে। অতঃপর ফোনটা খুলে ইন্সটাগ্রামে ঢুকলো।
সমাপ্তির ওপাড়ে পর্ব ৭
॥ চলো দেখা করি। তোমার কখন সময় হবে, লি’ল কিটেন?॥
টেক্সটটা পাঠিয়ে আইডির নামের দিকে তাকালো আয়দান। রমনার বটমূলে কোনো এক বৈশাখে পড়া লাল সাদা শাড়ি জড়ানো লাস্যময়ী সুদর্শনা এক রমণীর ছবি। পাশে নাম লিখিত।
— মারজান হাওলাদার মীরা।
বাঁকা হাসি ফুটলো আয়দানের পাতলা ঠোঁটজুড়ে।
