Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ১২

সাঁঝের মায়া পর্ব ১২

সাঁঝের মায়া পর্ব ১২
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

আজ পয়লা ফাল্গুন,সাথে ভালোবাসা দিবস।
তিতির সকাল সকাল রীতিমতো এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছোটাছুটি করছে।একবার নিশির রুমে তো একবার নূরির রুমে।নিশি,নূরি দুজনেই শাড়ি পরে ফেলেছে এরই মধ্যে। সুমি দেওয়ানই সবাইকে শাড়ি পরিয়ে দেন।এখন রিশা আর রোশনি পরছে।রাফি নিজে লাল পাঞ্জাবি পরে ফিটবাবু হয়ে বিছানায় পা ঝুলিয়ে চুইংগাম চিবুচ্ছে।
সমস্যা হচ্ছে তিতির নিজের হলুদ শাড়ি কিছুতেই খুজে পাচ্ছে না।শাড়িটা কয়েকমাস আগে নয়ন ভাইয়া দিয়েছিলো।ইন্ডিয়া গিয়েছিলো বন্ধুূের সাথে ট্যুরে,সেখান থেকে।শাড়িটা তার খুবই পছন্দ। ঠিক করে রেখেছিলো এ বছর পয়লা ফাল্গুনে পরে বেরোবে।তিতির ছুটে এলো নিশির রুমে।এ ঘরেই সবাই সাজগোছ এ ব্যাস্ত।তাকে হাঁপাতে দেখে সবাই ঘুরে তাকালো।রাহেলা দেওয়ান তাকে খালি হাতে দেখে মাথা নাচালেন।

“তোর শাড়ি কই মা।এখনো আনলি না।সাজবি ককন তাহলে।”
তিতির কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে এসে বসলো রাফির পাশে।
“” পাচ্ছি না তো বড় মামণী।বোধহয় হোস্টেলে রেখে এসেছি। “
“তোর তো শাড়ির অভাব নেই।আলমারি ভর্তি শাড়ি।ভাইয়া যে এতো শাড়ি দেয় কই সব।”
তিতির ঠোঁট উল্টালো।গোমরা মুখ করে বললো,”সব পরা ছোট আপু।ওটা আমার নতুন শাড়ি ছিলো।আমি ওটা পরবো ঠিক করেছিলাম।”
রাহেলা দেওয়ান তিতির এর মাথায় হাত বুলালেন।
“মন খারাপ করে না মা।তোর মামা কে বলছি এনে দিতে।এক্ষুনি এনে দেবে।”
তিতির সজোরে মাথা নাড়লো।“ না বড় মামনী। এখন কষ্ট করো মার্কেট এ যাওয়ার মানে হয় কোনো!আমি আপুদের কোনো একটা পরবো।”
রাহেলা দেওয়ান ডানে বায়ে মাথা নাড়লো।যে মেয়ে কখনো এসব অনুষ্ঠানে শাড়ি রিপিট করে না।আজ তাকে নাকি তারা পুরানো শাড়ি পরতে দেবে।

“তুই দারা।আমি আসছি।”
তিতির কিছু বলার আগেই বেড়িয়ে গেলেন তিনি।নিশি টেনে এনে বসালো ড্রেসিং টেবিল এর সমানে।নূরি ততক্ষণে রেডি হয়ে গেছে।সে এখন রিশা,রোশনি কে বাকি টাচ আপ দেবে।নিশি সাজাতে বসলো তিতির কে।
“মা শাড়ি আনুক।তোকে ততক্ষণে সাজিয়ে ফেলি।”
তিতির মাথা ঝাকালো। ঘড়ির দিকে তাকালো একবার।তমা টা এখনো আসেনি।ওকে সেই কখন বলেছে শাড়ি টা পরেই চলে আসতে।মেয়েটা সবে তে লেট করে।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে চোখ পিটপিট করে তাকালো ইশান।মহা সমস্যা হয়েছে তার বাড়িতে আাসার পর থেকে।একটা দিন যদি শান্তিতে ঘুমাতে পারে সে।সকাল সকাল এসে কেউ না কেউ ডাকাডাকি শুরু করবেই করবে।
মুখটা বালিশে ডললো,উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস তার।তাও আবার উদাম গায়ে।গায়ে জামাকাপড় জড়িয়ে সে ঘুমাতে পারে না।এটা তার একধরনের বদঅভ্যাসই বলা যায়।হীম করা শীতেও রুম হিটার চালু করে হলেও তার খালি গায়েই শোয়া চাই।উঠে বসে পাশ থেকে হাত বাড়িয়ে টি শার্ট টা জড়িয়ে নিলো শরীরে।দ্রুত পায়ে এসে খুললো দরজা।মা দাড়িয়ে আছে।মা তাকে এসময় ডাকার কথা না।অবাক হলে সে।সাইট হয়ে দাড়িয়ে ভেতরে আসার ইশারা করলো মা কে।সুমি দেওয়ান ঢুকলো রুমের ভিতর।বিছানার দিকে তাকিয়েই বুঝলেন ছেলের ঘুমের সময় এসে পরেছেন সে।অপরাধী চেহারা করে বললেন,”আব্বা ঘুমাচ্ছিলে।”
ইশান চোখ ডললো। মায়ের হাত ধরে টেনে বসালো বিছানার কিনারে।”হুম।কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই কোনো দরকারেই এসেছো।বলো।”

“দারা.”
রাহেলা দেওয়ান উঠে গিয়ে দরজা আটকালেন গিয়ে।তারপর আবার এসে বসলেন ছেলের পাশে।এক হাতে ছেলের এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে একপাশে ঠেলে দিলেন।তাকিয়ে রইলো কিয়ৎক্ষন ছেলের মুখের দিকে।আনমনেই একটা শব্দ বেরিয়ে আসলো তার মুখ থেকে,”মাশাল্লাহ. “
আল্লাহ তার ছেলেমেয়ে গুলোকে এত্তো যত্ন করে করে বানিয়েছেন।সবকটা ছেলেমেয়েই তার রুপে গুনে অনন্য।এই যেমন ইশান টা।পুরুষ মানুষের মধ্যে যত ধরনের সৌন্দর্য দেওয়া যায় সৃষ্টিকর্তা বোধহয় সবটা ঢেলে দিয়েছে। পুরুষ মানুষ এর চোখ এতে সুন্দর হয়!মনের পর্দায় এবার ভেসে উঠলো তিতির এর মুখ খানা।আবার বুকচিড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া বেরিয়ে আসলো।তার ওই মেয়ে টা তো সাক্ষাৎ পরী।কল্পনা করলেন ইশান আর তিতির কে একসাথে। অজান্তেই মুখে হাসি ফুটলো।শাশুড়ী তার ঠিকই বলেছেন।এ দুজনকে একসাথে দেখলে গোটা দুনিয়া হা করে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য।কি সুন্দর মানাবে দুজনকে।
কিন্তু যতই হোক,কথা এগেনোর আগে ইশানের মনের কিছুটা হলেও তো তার স্পষ্ট হওয়া দরকার।তিতির কে না হয় সে পরে ভালোবাসবে। কিন্তু আগে যে মেয়েটার কথা জানিয়েছিলো।
সে মেয়ে!সে মেয়ের কি হলো।আর যদি সে মেয়ে ইশানের মনে থেকেই যায়,তারপর জোর করে তিতির এর সাথে বিয়ে দিলে যদি তার ছেলেটা যদি তাদের মেয়েটাকে মেনে না নেয়।তার মেয়েটার জীবনও তো তখন নষ্ট হয়ে যাবে।নাহ্।মা হিসেবে এটা সে কখনো হতে দিতে পারে না।তাই পরে কষ্ট পাওয়ার থেকে তিনি তার ছেলেকে আগেই বোঝাবেন।
হাত বাড়িয়ে ধরলো ইশানের হাতটা।টেনে নিজের কোলপর ওপর রাখলো।ইশান চুপচাপ বসে রইলো।মা কি বলতে চায় শোনার অপেক্ষায়।

“আব্বা।আমাকে তুই বন্ধু ভাবিস?”
“সবসময়। তুুমি ছাড়া কোথাও শান্তি আছে আমার বলো?”
রাহেলা হাসলেন ছেলের কথায়।ছেলেটা তার ছোট্টবেলা থেকে বাধ্য।মা তার বেস্ট ফ্রেন্ড। রাহেলা দেওয়ান নিজেও আজীবন চেষ্টা করেছেন ছেলেমেয়েগুলোর বন্ধু হতে প্রথমে।বন্ধু না হলে ভালো মন্দের সময় তাকে সন্তান রা নিরদ্বিধায় সব খুলে বলবে কেনো।শুধু তার পেটের সন্তান টা নয়।বরং এ বাড়ির সবকটা ছেলেমেয়েই তার ভক্ত।যেকোনো সমস্যায় তাদের বড় মা কে চাই।
“তাহলে আমাকে তো বললি না বাপ ওইযে মেয়ের কথা বললি আমাকে।নিয়ে আসার কথা।ওই মেয়েকে আনলি না কেনেো।”
“মা তোমাকে বললাম না সেদিন… “

ইশান এর কথা শেষ করতে দিলেন না তিনি।এদিক ওদিক মাথা নাড়লেন।
“আমি ওইকথা শুনতে চাচ্ছি না।আমাকে মিথ্যা বলতি না তো তুই আগে।আজ কেনো বলছিস?”
ইশান চুপ করে রইলো কিছুক্ষণ। মায়ের মুখপানে তাকালো।
“আমি মিথ্যা বলিনি মা,তোমার বয়স হয়েছে।এ বয়সে আমি তোমাকে…”
“তোরা সবকটা আমার প্রান।তোদের এদিক সেদিক কেথাও কিচ্ছু হলে আমি টের পাই।তুই যা বলছিস তা
হয়তো মিথ্যা নয়।কিন্তু ওটা আসল কথা না যেটা আমি জানতে চাই।”
ইশান কিছু বলার আগেই হাত টা টেনে নিজের মাথায় ছোয়ালেন।ইশান চমকে হাত সরাতে চাইলেও সুমি দেওয়ান ছাড়লেন না।বরং স্থির ছলছল চোখ নিয়ে তাকালেন ছেলের দিকে।
“আমার কসম বাপ।কি হয়েছে বল।”
ইশান মায়ের হাত টেনে এনে চুমো দিলো একটা।
“তোমাকে চিন্তা দিতে চাইনি আমি মা।”
“তাহলে বল সবটা।”

ইশান মুচকি হাসলো।তার মা সবটা না শুনে মোটেই হার মানবেন না।এটা সে খুব ভালো করে জানে।ভালোমতো ঘুরে বসলো মায়ের দিকে।মায়ের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়েই খুলে বললো সবটা।সুমি দেওয়ান কপাল কুচকে আগ্রহ নিয়ে শুনলো সবটা।ইশান থামলো।দু’জনেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো।তিনি বুঝলেন ছেলের সবটা।
“বাপ,আমি নারী।নারীর মন তুই চিনিস না।এটা আমি ভালো করে বুঝি।তার থেকেও বড় কথা,মেয়েটাকে তুই ভালোবাসিস না বাপ।এটা জানিস তুই?”
ইশান নিঃশব্দে হাসলো।
“ভালোবাসা কাকে বলে সেটাই বুঝিনা আমি মা।যে কারণে রুষার প্রতি আমার কি ছিলো আমি জানি না।”
“যা ছিলো সেটা কেবলই একজন নারীর প্রতি সম্মান, অনেকটা দায়িত্ব মনে করে সে সম্মান রক্ষা করতে চাওয়া।”
“আমি সেসব জানি না মা।”

“তবে আমি যদি বলি মেয়েটাকে তুই যেমন ভাবছিস মেয়েটা তেমন নয়।অন্য বিষয় আছে এর মধ্যে মানবি?”
ইশান নির্বিকার রইলো।একটু দম নিয়ে বললো,”আমি নিজেও অবাক হয়েছি মা।কেনো ও এমন করলো।আমি কষ্ট পাইনি মা।এটা সত্যি। কিন্তু ও কষ্ট পাবে বলে আমার ধারনা ছিলো।”
রাহেলা দেওয়ান ছেলের কথা শুনলেন।ছেলেটা তার নিজেকেই ঠিকমতো চেনে না।আর রইলো বাকি নারীর মন বোঝা।রুষা নামের মেয়ে টাকে সে অসম্মান করতে চায়নি।সমাজ যেনো তার দিকে আঙুল তুলতে না পারে সে চিন্তা থেকে বিয়ে করবে ভেবেছিলো।মনে মনে খুশি হলেন তিনি।অনেকটা নিশ্চিন্ত হলেন বলা যায়।আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন কথাটা পদে পদে সত্য।এই যেমন মেয়েটা হুট করে সরে না গেলে তার ছেলেটাকে সে কি কখনো তিতির এর বিষয়টা স্বাভাবিক ভাবে বলতে পারতেন?পারতেন না।মাঝখান থেকে সবটা এলোমেলো হয়ে যেতো।তার শাশুড়ী মা মনে প্রাণে চাইতেন তিতিরকে ইশান বিয়ে করুক।অন্য দিকে ইশান নিজে তো রুষা কে কথা দিয়েছে,রুষার জীবনটা নষ্ট হতো।

“আব্বা আমি তোকে আমার পছন্দে বিয়ে দেবো।করবি?”
ইশান হাসলো।”করবো।সময় হোক।”
সুমি মুখ গোমরা করে মাথা নাড়লো,”উহু সময় হোক না।আমি পছন্দ করবো মানে আমি যখন বলবো তখনই।”.
ইশান স্বাভাবিক মুখে বললো,”মা বললেই কি বিয়ে করা যায়।একটু সময় দরকার। যে লাইফ পার্টনার হবে তার সাথে তো মনের মিলটা থাকতে হবে।হুট করে একজনের সাথে কি সারাজীবন থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়?”
মুখ ভাড় করে ফেললেন রাহেলা।ইশান মাকে আগলে ধরলো।”এতটুকু জানার জন্য আমাকে অসময়ে টেনে তুললে মা?এটা ঠিক না কিন্তু। “

সুমি দেওয়ান সোজা হয়ে বসলেন এবার।বিয়ের বিষয় ধীরে সু্স্থে তুললেও চলবে এখন।
“ অন্য কাজেই এসেছি। তুই এখন একটু বেড়োবি।আমকে একটা জিনিস এনে দিতে হবে।”
ইশান স্বীকার করলো।”কি আনতে হবে.”
রাহেলা দেওয়ান আবদার এর গলায় বললো,”একটা লাল টুকটুকে শাড়ি।”
ইশান সাথে সাথে ভ্রু কুচকে ফেললো।”শাড়ি?কার জন্য? “

“তিতির”.
“ মা।আমি যাবো এখন শাড়ি কিনতে?তাও ওর জন্য। ওর শাড়ি নেই?তাছাড়া নিশি,নূরি তো আছেই।”
“শোন না বাপ।মেয়েগুলো সাজগোছ করছে।মার্কেট কি বেশি দূরে.বাইকটা টান দিয়ে যাবি।নিয়ে চলে আসবি।”.
মায়ের যুক্তি ভালো লাগছে না তার একদম।সকাল সকাল ঘুম থেকে তুলে তাকে পাঠানো হচ্ছে ওই বিচ্ছুটর জন্য শাড়ি কিনতে।
“অসম্ভব মা।আমি কখনো মেয়েদের কিছু কিনেছি নাকি।আমি বুঝি নাকি এসব।আর তাছাড়া এ বাড়ির মেয়েদের শাড়ির অভাব মা?”
রাহেলা দেওয়ান এতো সহজে হাল ছারার মানুষ নয়।
“,মেয়েটাকে কখনো কোনো অনুষ্ঠানে এক শাড়ি দু বার পরাইনি আমি।এবারের শাড়িটা ও হোস্টেল এ রেখে এসেছে। আর আমার মেয়ে পুরান শাড়ি কেনো পরবে!টাকার অভাব তোদের?বাড়ির মেয়েকে একটা নতুন শাড়ি এনে দিতে পারছিস না।”

ইশান মহা বিপদে পরে গেছে।এসব কি সে বলেছে নাকি।সে এনে দিতে পারবে না এটা বলেছে শুধু।সে এসব বোঝে নাকি।“মা।রাগ করছো কেনো।আমি বললাম…
“থাকুক।বলতে হবে না তোর।আমি যাচ্ছি কিনতে।নেহাৎ কোমড়ের ব্যাথা্টা বেড়েছে আর তোর বাপ চাচারা কেউ বাসায় নেই।নয়নটাকেও নিয়ে গেছে কি এক কাজে।না হলে তোকে বিরক্ত করতাম না।”.
মা রাগ করে উঠে যেতেই ইশান হাত টেনে বসালো আবার।জড়িয়ে ধরলো মাকে।
“ রাগ করছো কেনো।আমিই যাচ্ছি।তবে তোমাদের পুতুল এর পছন্দ না হলে আমার দোষ নেই কিন্তু। “
রাহেলা দেওয়ান বিজয়ের হাসি হাসলেন। সে জানতো ছেলেটা তার কথা ফেলবে না।ইশান এর হাতের শাড়ির আজকে পরাবে তিতির কে।দুজনের মধ্যে আগে একটু ভাব ভালোবাসা তৈরি করে দিতে হবে।না হলে হুট করে একে অপরকে মানবে না এরা।
“তুমি যাও।আমি ফ্রেশ হয়ে বেরোচ্ছি।ঘন্টাখানেক লাগবে নিয়ে আসতে।চলবে?”
রাহেলা দেওয়ান মাথা হেলালেন।চুমু খেলেন ছেলের কপালে।
মা উঠে চলে যেতেই দু হাতে কপাল ঘসলো ইশান।দ্রুত পায়ে ফ্রেশ হতে গেলো।কি যে সমস্যায় ফেলা হয় তাকে।সে শাড়ির কি বোঝে।ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে বাইকের চাবি হাতে বেরিয়ে গেলো।অনিমা কে কি ডাকবে!নাহ থাক।এরা আরেক ঝামেলার মানুষ। তিল থেকে তাল বানাবে।তারপর সবকটা মিলে তাকে উঠতে বসতে টিজ করবে।দরকার কি।তার থেকে নিজেই কিছু একটা পছন্দ করে আনলেই হবে।না পছন্দ হলে নাই।

তমা একদম রেডি হয়েই এসেছে।মেকআপ এর বাকি টাচ আপ টা নিশি আপু করে দেবে। ড্রয়িং রুমে এসেই এদিক সেদিক দেখলো।কাউকে একটা খুঁজছে দুচোখ।
“তমা এসেছিস মা।”
তমা পিছন ফিরে তাকালো।ছোট বউ রীনা দেওয়ান হাতে থালাবাসন নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়েছেন।
“হ্যা ছোট মা।”
“মাশাল্লাহ কি সুন্দর লাগছে তোকে।যা ওপরে যা। তিতির তোর ওপর খুব রেগে আছে কিন্তু। এতো দেরি করলি কেনো। “
“মা বাজারে গেছিলো।তুষার টা একা ছিলে।মা ফিরলে তারপর আসলাম।”
“ওপরে গিয়ে পুতুলের রাগ ভাঙ্গা গিয়ে।না হলে কিন্তু ঘোরাঘুরি মাঠে মারা যাবে।”
তমা একগাল হেসে সায় দিলো তার কথায়।ওপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আবার ফিরে তাকালো।

“কাউকে খুচ্ছিস তমা?তিতির ওপরে…”
তমা আমতা আমত করলো খানিক।
“ছোট মা..।আর কাউকে ূেখছি না তো।”
“নিশিরা সবাই ওপরে।আর তোর চাচারা অফিসে।”
“ওহ্।আর নয়ন ভাই…
ছোট গিন্নি উত্তর দেওয়ার আগেই সাথে সাথে আবার বললো,
“মানে নয়ন ভাই,রাফি,ইশান ভাই ওরা পাঞ্জাবি পরবে না?”
“রাফি তো রেডি হয়ে বসে আছে দেখ গিয়ে।ইশানটা কি এক দরকার এ বের হলো মাত্র। আর নয়ন অফিসে গেছে।”
তমার মনটা খারাপ হলো।আজকের দিনে আবার কিসের অফিস।কোথায় ভাবলো একটু মানুষ টার সাথে ঘুরতে পারবে আজকে।এতো সুন্দর করে শাড়ি পরলো সে।কাকে দেখাতে!তাকেই তো।তা বলদ লোকটা টের পেলে তো!পাত্তায়ই দেয় না কখনো।এতো সুন্দর করে সেজেগুজে ঘুরঘুর করে এ বাড়িতে,কখনো চোখ তুলে দেখলে তবে তো টের পাবে।মেজাজ টাই খারাপ হয়।তমা মন খারাপ করে উঠে গেলো তিতির এর কাছে।
দরজায় তমাকে দেখেই কুশন ঢেল দিলো তিতির।তেতে উঠলো একপ্রকার। “মহারানীর আসার সময় হয়েছে তাহলে।”

তমা জানতো এমনই হবে।অসহায় মুখ বানিয়ে দু হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলো বান্ধবীর রাগ ভাঙ্গাতে।
তিতির সেজেগুজে বসে আছে।শাড়ি পরেনি এখনো।সুমি দেওয়ান বলে গেছেন শাড়ি আনতে পাঠিয়েছে।কিছুক্ষণ এর মধ্যে চলে আসবে।নিশি,নূরি সবাই প্রায় তৈরি। এখন রিশা,রোশনি আর তমা কে রেডি করলেই তিতির এর শাড়ি চলে আসলে জাস্ট শাড়িটা পরাবে।ব্যাস।
নয়নের কল ভেসে উঠলো নূরির ফোনে।দু মিনিট কথা বলে তাকালো সবার দিকে।
“ভাইয়া একটু অপেক্ষা করতে বলেছে।একা বের হতে নিষেধ করেছে।আসছে।”
তমার মনটা নিমিষেই ভালো হয়ে গেলো।যাক দিনটা মাটি হবে না অন্তত।
প্রতিবছর এই দিনে সবকটা মিলে ঘুরতে বের হয়।নয়ন অবশ্য নিয়ে যায়।শাড়ি পরে এমন পরীর মতো বোনদের সে মোটেই একা ছারতে রাজি নয়।এলাকার বদ কিছু ছেলেপেলের কাজই মেয়েদের পিছনে লাগা।আর যাই হোক দেওয়ান বাড়ির মেয়েদের তারা অসম্মান করবে না।তারপরেও মেয়েগুলো বড় হয়েছে,সাবধান থাকা উচিত। আর ভাই হিসেবে এটা তার দায়িত্ব।

দোকান থেকে বেরিয়ে বাইকের সামনে এসে দাড়ালো ইশান।সানগ্লাস টা চোখে পরলো।তাকালো এক নজর হাতের প্যাকেট তার দিকে।লাল টুকটুকে একটা শাড়ি।সে বোঝে না এসবের। তাদের পরিবার এর মেয়েরা যেখান থেকে কেনাকাটা করে সেখান থেকেই দামি একটা শাড়ি নিয়েছে সে।শাড়ি না চিনলেও খুব বুঝতে পারছে শাড়িটা দারুণ। বাইকে চাবি লাগিয়ে উঠে বসলো।প্যাকেট টা ঝুলালো সামনে।না চাইতেও চোখের সামনে ভেসে উঠলো তিতির এর মুখটা।বাচ্চস বাচ্চা মুখ।শরীরটাও পুরো বাচ্চার মতোই লাগে। সে নাকি পরবে শাড়ি।তাও লাল শাড়ি।কেমন লাগবে তাকে।কল্পনায়ই ভেসে উঠলো অপূর্ব এক রুপ।খারাপ না বোধহয়… হাত ঘড়িতে সময় দেখলো একবার।পোনে এগারোটা বাজে।এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার মায়ের ফোন এসেছে।শাড়ি টা কিনেছে শোনার পরই ক্ষান্ত হয়েছে সে।জোরেসোরে বাইক ছাড়লো সে।শাড়িটস পৌছে না দেওয়া অবধি মা টা তার শান্তি দেবে না।

রাহেলা দেওয়ান শাড়ি টা নিয়ে তিতির এর কাছে আসলেন।সযত্নে পরিয়ে দিলেন।সুবহানাল্লাহ। ছেলেটার রুচি আছে।ঘরের বাদ বাকি সবাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তিতিরের দিকে।জীবন্ত এক পুতুল তাদের চোখের সমানে।সাক্ষাৎ পরী একটা।
রাহেলা দেওয়ান জড়িয়ে নিলেন মেয়েকে।
“ইশশশ কারোর নজর না লাগুক আমার মেয়েগুলোর।”
একগাল হেসে আয়নায় তাকালো তিতির।নিজেকে দেখে নিজেই তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এর আগে লাল শাড়ি তার পরা হয়নি।এতো সুন্দর লাগবে বুঝলে আগেই পরতো।
“কে এনে দিলো বড় মামনী।”.
“ কে আর আমার ছেলে।”.

তিতির খুশি হলো।সে জানতো নয়ন ভাই শুনলেই এনে দেবে। আর কোনো প্রশ্ন না করে এক এক করে সবাই বের হলো।নূরি জানালো নয়ন ভাই আজ তাদের পার্কের দিকে যেতে বলেছে।সে একটা কাজ সেরে আসছে একে একে সবাই এসে নামলো ড্রয়িং রুমে।ইশান সোফায় বসে সকালের নাস্তা করছে।দৃষ্টিত ফেনের দিকে।সিড়িতে পায়ের শব্দে ঘুরে তাকালো।বোনেরস সব নামছে।রাফি,রিশা,রোশনি দৌড়ে এলো ভাইয়ের কাছে।
“মাশাল্লাহ আমার বোনগুলো তো একেকটাকে পরী ালগছে।”
“ভাইয়া আর আমি?” রাফি গাল ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করলে।ইশান গাল টেনে ধরলো তার।
“তুই ও কি পরী হতে চাস।” হো হো করে হেসে উঠলো বাড়ির সবাই।রাফি লজ্জা পেলো।মুখ লুকালো ভাইয়ের ঘাড়ে।
“বার্বি আস্তে নাম।প্রতিবছর এইদিন তুই একবার হলেও আছাড় পরিস কিন্তু। “
“মোটেই না।এবার পরবো না।”

ইশান গলাও আওয়াজে ঘুরে তাকালো।একটা হার্টবিট মিস হলো যেনো।সবাই নিচে এসে দাড়িয়েছে। সবারই নজর সিড়ি থেকে দ্রুত পায়ে নেমে আসা এক কিশোরীর পানে।ইশানের মনে হলো এ এক রাজপরী।লাল টুকটুকে শাড়ি গায়ে জড়ানো। মোটেই বাচ্চা লাগছে না।বরং নারী শরীরের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে শরীরে।সম্পূর্ণ এক নারী লাগছে একদম।ভুবনমোহিনী রুপ সে নারীর। খোলা আচল এক হাতে তুলে দিলো ঘাড়ের ওপর।দু হাতে শাড়ির কুচি ধরলো উচু করে।একপ্রকার নাচতে নাচতে নামছে যেনো।হাত ভর্তি চুড়ি ঝনঝন করছে।আচল তুলে দেওয়ায় উন্মুক্ত ধবধবে ফর্শা লতানো কোমড় দৃশ্যমান হলো ইশানের চোখের সামনে।হাতে থাকা কফির কাপ কেঁপে উঠলো। ইশান চোখ সরাতে পারলে না।তিতির অস্থির ভঙিতে হাতে থাকা কানের দুল জোড়া বাড়িয়ে ধরলো ছোট মার দিকে।
“লাগিয়ে দাও না ছোট মামনী।তুমি ছাড়া এ কানের দুল কেউ পরাতে পারে না।”
ইশান ঘোর লাগা চোখে দেখলো সামান্য কানের দুল লাগাতে না পারার আফসোসে একটা মানুষ কেমন ছটফট করতে পারে। আর সেই কপাল কুঁচকে থাকা, অস্থির মুখটা ঠিক কতটা সুন্দর দেখানেো সম্ভব।
মুখে হালকা মেকওভার করে।তবে পাতলা ঠোঁট এ ডার্ক রেড কালার লিপস্টিক।চুলগুলে মাজ বরাবর সিথি কেটে খোলা ছেড়ে দেওয়া।রাফি কোলের ওপর নড়েচড়ে বসতেই ধ্যান ভাঙলো ইশানের।চোখ সরিয়ে নিলো তিতির এর ওপর থেকে।

“হ্যা রে বাপ।নয়ন টা অফিসে আটকে গেছে।মেয়েগুলোকে একা ছাড়া… তোদের বাবা রাগ করবেন।তুই সাথে যা।”
মায়ের কথায় অন্যদিন হলে না করতো কি না জানেনা ইশান।আজ না করতে ইচ্ছে হলো না।সাথে সাথেই উঠে দাড়ালো।আড়চোখে দেখলো একবার তিতির কে।তিতির কানের দুল পরে বেসিং এর আয়নার সামনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে।
“ভাইয়া পাঞ্জাবি পরবে না।”
নূরির কথায় মাথা নাড়লো ইশান।”ওসব রং ঢং আমার দ্বারা হয়না।চল, বের হ সবাই।”
ইশান কে আর কেউ ঘাটালো না।সাথে যাচ্ছে এই তো অনেক।নিশি,নূরি দুজনেই তাকালো রাহেলা দেওয়ান এর দিকে।রাহেলা দেওয়ান চোখ টিপলো। বাঁকা হাসলো দু বোন।বড় মা যা বোঝাতে চাইছেন বুঝলো দুজনেই।একটু আগেই তিতির আর ইশানের কথাটা বলেছে তাদের দুজনকে।নিশি প্রথমে ভয়াবহ চমকালেও খুশিতে রীতিমতো পাগলপ্রায় দুজন।তাদের বার্বি বউ হবে,তাও আবার তাদের বড় ভাইয়ের ভাবা যায়!যদিও নূরি গম্ভীর হয়ে আছে শোনার পর থেকেই। নয়ন জানলে কি রিঅ্যাকশন দেবে জানে না সে।বুঝতে পারছে কিছু।তবে যতটুকু বুঝেছে মোটামুটি হাতের বাইরে সবটা।দিদা যখন একবার ভেবেছে আর কারোর কিচ্ছু বলার থাকবে না।দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে।যা হওয়সর সেটা হবেই।
গাড়ি বের করতে এগিয়ে গেলেই চিৎকার করে উঠলো তিতির।

“গাড়িতে যাবো না আমরা। “
তিতিরের চিৎকার এ মুখ গম্ভীর করে তাকালো ইশান।”গাড়িতে যাবি না, যাবি কিসে?এই রোদে রাস্তায় রাস্তায় হাটবি?”
তিতির মুখ বাকালো।,”কিচ্ছু জানেন না আপনি ইশান ভাই।আজকে রিকশায় ঘুরে মজা,বাইকও চলে।নয়ন ভাই থাকলে এসব ভাবতেই হতো না।”
কথাটা বলেই ঘুরলো নূরির দিকে।,”আপু নয়ন ভাইয়াাকে কল দাও তো।আসতে বলো জলদি।”
ইশানের মেজাজ খারাপ হলো।সব কাজ বাদ দিয়ে এদের রংঢং এ সায় দিয়ে সাথে বেড়িয়েছে অথচ এখন অন্য জনের নামে জপ করা হচ্ছে।
ধমকে উঠলো তিতির এর দিকে তাকিয়ে। “তোদের না হয় কাজ কারবার নেই,কেউ করলে সেটাও সহ্য হয়না দেখছি। “

তিতির মুখ ভেংচি দিয়ে সরে দাড়ালো।এগিয়ে গেলো রাস্তার দিকে।হাত বাড়িয়ে রিকশা দারা করালো।
একটাতে নিশি,রিশা আর রোশনি কে তুলে দিলো।অন্য টাতে নূরি,তমা আর রাফি।তিতির মুখ গোমরা করে অন্য দিকে ঘুরে দাড়িয়ে আছে।এগিয়ে গিয়ে রিকশায় উঠতেই বুঝতে পারলো বাদ আছে সে আর ইশান।মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো।
,”আমি তমার সাথে যাবো।”
তবে ততক্ষণে বাকি রিকশা দুটো অনেকটা পার হয়ে গেছে।তিতির কাঁদো কাঁদো চোখে তাকিয়ে রইলো ইশান এর দিকে।আজকে মজাটাই গেলো জলে।এ লোকটার সাথে এক রিকশায়।ধুর,স্ট্যাচু হয়ে সারা রাস্তা বসে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ থাকবে না নিশ্চিত।
তিতির গাল ফুলিয়ে বসে রইলো।ইশান উঠে বসলো রিকশায়।শরীরে ছোয়া লাগতেই ছিটকে সরে বসতে চাইলো তিতির।সাথে সাথে রিকশা চলতে শুরু করায় কাত হয়ে গেলো অনেকটা।ইশান দ্রুত হাতে জড়িয়ে ধরলো কোমড়।
উন্মুক্ত কোমড়ে পুরুষালি ঠান্ডা হাতের ছোঁয়ায় শিরশির করে উঠলো পুরো শরীর।কেঁপে উঠলো পুরো।
“এতো নড়াচড়া না করে চুপচাপ বসে থাকা যায়না?”

তিতির ইশানের ধমকে কিছু বললো না।বলতে পারলো না আরকি।সে তো শ্বাস আটকে বসে আছে।ইশান এখনো হাত সরায় নি কোমড় থেকে।বরং আরও টেনে কাছে এনে বসালো।ছোট্ট সিটে স্বাস্থ্যসম্মত শরীরের ইশানের সাথে বসতে তিতিরকে মোটামুটি গায়ে গা লাগিয়েই বসতে হলো।একবিন্দু দুরত্ব নেই।তিতির রোবটের মতো সোজা হয়ে আছে।শরীর শক্ত করে।
“ই..ই..ইশান ভাই।”
ইশান কপাল কুচকে তাকালো তিতির এর দিকে।
“তোতলাচ্ছিস কেনো।”
“আ..আপনার হাতটা।”
ইশান বুঝতে পারলো এতক্ষণ এ।ঝট করে সরিয়ে নিলো হাতটা।সাথে সাথে তিতির আবার ভারসাম্য হারালো খানিকটা।তবে এবার তিতির নিজেই খামচে ধরলো ইশানের উরু।ইশান বুঝলো মেয়েটার অসুবিধা।
“চেপে বস।হাত টা ধরে রাখ।পরে যাবি।”
তিতির নিজেও বুঝলো সেটা।খানিকসময় দ্বিধা করলে।কাঁপা হাতে জড়িয়ে ধরলো ইশানের বা হাতটা।

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত। কথাটার সাথে আশেপাশের পরিবেশ একদম মিলে যাচ্ছে।গোটা রাস্তায় লাল,হলুদ শাড়ি পাঞ্জাবি পরে জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন প্রেমিক প্রেমিকা রা হেটে যাচ্ছে।রাস্তায় সারি সারি ফুলের দোকান।উপচে পরা ভিড় সে সব দোকানে।আবহওয়া সয়ং আজ এ সবে সাধ দিচ্ছে।মেঘলা আকাশ,ঠন্ডা বাতাস বইছে।আশেপাশে ফুলের ঘ্রানে ম ম করছে পুরো।
এ সবের সাথে পাল্লা দিয়ে দোলা দিচ্ছে দুটো মানব মনে।শিহরণ বয়ে যাচ্ছে পুরো শরীর জুড়ে।এ স্পর্শ, ধরন,মানুষ সবটা নতুন। তিতির এক হাতে আষ্টেপৃষ্টে ধরে আছে ইশানের হাত খানা।প্রথমে খেয়াল না হলেও একটু পর ইশান টের পেলো কারোর একজনের হৃদ স্পন্দনের ধুকধুকানি। বোধগম্য হতে খানিক সময় লাগলো।বিষয়টা মাথায় খেলতেই নিজের মাথার ভিতর খানিক ফাঁকা হয়ে গেলো বোধহয়।সাথে জোড়ালো হলো এবার নিজের হৃদয়ের ঝড়।
তিতির হাত জড়িয়ে থাকায় ইশানের বাহুর সম্পূর্ণ আছে তিতির এর বক্ষজোরের বা পাশের ওপর।যেখানটায় নরম অংশের নিচে ঝড় তুলেছে হৃদয়খানা।ইশান চাইলেও পারছে না হাতটা সরিয়ে নিতে। মেয়েটা কি বুঝতে পারছে না ইশানের হাতের অংশ তার শরীরের কোন অংশের ওপর।

পারছে না কি?তিতির রীতিমতো ঘামছে।ছেড়ে দিলেই পরে যাবে সে।এর আগে কখনো রিকশায় উঠে এমন অবস্থায় পড়তে হয়েছে বলে মনে তো পরে না।দু একবার নয়ন ভাইয়ের সাথে উঠেছে।নয়ন ভাই এতোটা স্বাস্থ্যবান না হওয়ায় স্বাভাবিক দুরত্বেই বসতে পেরেছে দুজন।তাছাড়া কই কখনো তো নয়ন ভাইয়কে ছুলে এমন অনূভুতি হয়নি।ভাইয়ের হাত ধরতে আনইজি হওয়ার কথা তো নয়।ইশান ও তো ভাই।তাহলে আজ এমন হচ্ছে কেনো তার সাথে। রাস্তার ঝাঁকিতে একপ্রকার যা তা অবস্থা দুজনের।
রিকশা এসে গন্তব্যে থামতেই হাফ ছাড়লো দুজনেই।ইশান নামলো। ভারা মিটিয়ে খেয়াল করলো তিতির কে।তিতির তকন শাড়ি ঠিক করে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।ইশান হাত বাড়াতেই চমকে তাকালো তিতির।ইশান ভাই তাকে ধরে নামাবে!

“হা করে তাকিয়ে না থেকে হাত টা ধর।”
“আমি একাই পারবো।”
“অযথা কথা না বাড়িয়ে যা বলছি কর।শাড়ি পেচিয়ে পরে গেলে কোলে করে ঘুরবো তোকে নিয়ে?”
ইশানের ধমকে আর কথা বাড়ালো না তিতির।কাঁপা হাত টা বাড়িয়ে দিলো ইশানের দিকে।সযত্নে নামালো তাকে।নিশি,নূরিরাও নেমে দাড়িয়ে আছে একটু দূরে।নিশি তাগাাদা দিয়ে সবকটাকে নিয়ে ঢুকে গেলো পার্কে।তিতির আহত চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। আজকে এই লোকের পাল্লায় পরে সব মজাই নষ্ট। এর সাথে সাথে চলা মানে… তিতির এর আরও একট াকারণে মনটা খারাপ।তার হাতে পায়ে কোথাও ফুল নেই।মানা যায়!ইশানকে বলবে সে।কিন্তু সাহস পাচ্ছে না।
হঠাৎ হাতটা চেপে ধরলো ইশান।হাটা ধরলো তিতির কে নিয়ে।তিতির চমকে তাকিয়ে আছে,একবার ইশান এর মুখের দিকে একবার হাতটায়।

“ইশান ভাই।”
“বল”
“একটা জিনিস লাগতো.”
“কি”
“ফুল”.
“ ফুল দিয়ে কি কাজ।”
“ওই দেখুন না সব্বাই মাথায়, হাতে পরেছে।”
“সবাই পরেছে বলে তোকেও পরতে হবে?”
“” দিন না প্লিজ।”
“আমি ফুলটুল কিনতে পারবো না।চুপচাপ সাথে হাট।”
তিতিরের মন খারাপ হলো।হাত ছারিয়ে নিলো ইশানের থেকে।ইশান বিরক্ত চোখে তাকালো।
“কি সমস্যা তিতির!বললাম তো ঝামেলা না করে রাস্তা পার হবো চল।”
তিতির ফুঁসে উঠলো।”আমি নয়ন ভাইয়া কে কল করবো।ভাইয়া থাকলে আমাকে মুখ ফুটে বলতেই হতো না।কখনো বলতে হয়নি।”

সাঁঝের মায়া পর্ব ১১

ইশান এর ইচ্ছে হলো থাপ্পড় মারতে মেয়েটার গালে।সারাক্ষণ তার সামনে অন্যের নামে তসবি পরে।াসহ্যকর একটা মেয়ে।কিছু বলতেও পারছে না নেহাৎ বাইরে এসেছে তাই।তাছাড়া পরে এসেছে শাড়ি,তাকানো যাচ্ছে না।পারছে না তাকাতে সে।তাকালেই ভুলে যাচ্ছে আসেপাশের সব।সব কেমন ঘোলা হয়ে আসছে,সামনের ওই লাল শাড়ির নারীটা ছাড়া।এ বড় কঠিন অত্যাচার।

সাঁঝের মায়া পর্ব ১৩