সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৫ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
—’ আজকে আপনাকে ভীষন গভীর ভাবে কাছে পেতে ইচ্ছে হচ্ছে, ঈশান আরশাদ দেওয়ান। বু’কটা পুড়ছে বড্ড, কী করলে, কোথায় গেলে পাবো আপনাকে? আপনার স্পর্শকে অনূভব করতে? কে জবাব দেবে আমাকে? ‘
বদ্ধ কামড়ায় মেঝেতে হাঁটু মুড়ে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কথাগুলো আউরিয়ে যাচ্ছে তিতির। দিনের আলো নেভেনি এখনো, ভরা সন্ধ্যা যাকে বলে আরকি। সকালের ঘটনাটার পর তিতির গোটাটা দিন আর ঘর থেকে বের হয়নি। রাহেলা সহ বাড়ির প্রত্যেকেই ডেকে গিয়েছে কয়েকবার, তারও উত্তর করেনি মেয়েটা । একের পর সবার ডাকাডাকি থেমেছে খানিক আগেই। মেয়েটাকে একটু নিজের মতো থাকতে দেওয়াই উচিত। এইটুকু বয়সে আর কত মানসিক চাপ সহ্য করা যায়।
বাইরে নেড়ি কুকুরের দল, গলা চিড়ে ডাকাডাকি করে যাচ্ছে। বাগানের মালি সম্ভবত লাঠি তাড়া করেছে তাদের। দ্বিগুণ হয়েছে ঘেউ ঘেউ আউয়াজ। সারাদিন খাওয়া, গোসল না হাওয়ার হেতু তে মাথায় অসহ্য যন্ত্রনা করছে। আজকাল ওষুধেও যেনো কাজ হতে চায়না। দূর্বল শরীরের ওপর এতটা অনিয়ম, মোটেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। তিতির চোখ মুছে ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ালো। শূন্য ঘরে চোখ বুলালো। আজ সাতটা দিন হলো ঘরের মালিক, ঘরে নেই। তার ব্যবহৃত সবই নিজেদের জায়গাতেই আছে, শুধু নেই মানুষটা। তিতির চোখ বুজে জোরে জোরে শ্বাস টানে। ঈশানের ব্যাবহারের পারফিউমের ঘ্রান সর্বদা গোটা ঘরে ম ম করে। বিছানা, বালিশ, জামাকাপড় যেখানে স্পর্শ করবে, সবেতে ঈশান ঈশান ঘ্রান। বুকটা হু হু করে উঠলো তার। কিছু না বলে এ কেমন বিদায়! এ কেমন দুরত্ব! অবশ্য না বলে তো নয়! তিতিরের মনে পরলো ওইসময় ঈশান প্রায়সই এরকম উল্টোপাল্টা কথা বলতো, ছেড়ে যাওয়া, দুরত্ব তৈরি হওয়ার ভয় পেতো। কত আবেগঘন মূহুর্ত তৈরি হয়েছে তাদের মধ্য এ নিয়ে।
কাল ঢাকা যাবে সে। রাহেলা, নিশি আর তমা যাবে তার সাথে। বাড়ির কর্তারা সবাই ঢাকাতেই। এখনো ঈশানের সাথেও যোগাযোগ হয়নি আর না তো ওই মামলা করা মেয়েটার সাথে। তিতির কেনো যাওয়ার জেদ করছে আর গিয়ে কি-ই বা করবে জানা নেই তার। কিন্তু এতো ক্রোশ ক্রোশ দুরত্ব মোটেই বরদাস্ত হচ্ছে না তার। একই শহরে থাকলে তা-ও আলাদা একটা শান্তনা মিলবে। দেখা না হোক, স্পর্শ না থাকুক– একই শহরে আছে দুজন, এতটুকুই যথেষ্ট। অন্তত বুকের যন্ত্রনা একটু হলেও কমবে।
তিতির দু’হাতে মাথার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে ফেললো। গোসল করা উচিত। চোখজোড়া বুজে আসছে মাইগ্রেনের ব্যাথায়। আলমারি খুলে কাপড় বের করতে গিয়েও নাকে এসে বারি খেলো তীব্র পুরুষালি ঘ্রান! তিতিরের শাড়িগুলোও বেশিরভাগই ঈশানের শার্টের ওপাশে রাখা। গোটা আলমিরা জুড়ে তার জিনিসপত্র গুলোই বেশি। একদম ঠেসে ঠেসে রাখা। হিসেব মতে তার নিজের পারফিউমের ঘ্রান পাওয়ার কথা। তা নয়! হচ্ছে পুরো উল্টো। ঈশান অবশ্য তার মতো একই কথা বলতো। সে তিতিরের ঘ্রান পেতো সবেতে! মলিন হেসে ফেললো তিতির। হাত বাড়িয়ে ঈশানের একখানা শার্ট টেনে চেপে ধরলো নিজের বুকে। নাকের কাছে নিয়ে মুখ ডুবালো সেথায়। নেশা ধরে যায় এই পুরুষটার ঘ্রানে। কতদিন ওই বুকে মুখ ডুবানো হয় না! কতদিন ওই অসভ্য পুরুষটাকে নিজের বুকে পিষে ধরা হয়না শরীর ছটফট করে ওঠে মেয়েটার। ঈশানের স্পর্শ পেতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরন জেগে ওঠে, উত্তাল হয় নারীসত্ত্বা।
আচমকাই শাড়ি পরতে শখ হলো বড্ড, হাত বাড়িয়ে একখানা কালো শাড়ি নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বাথরুমের দিকে।
—’ স্যার, ইায়াজ মির্জা আজ রাতে সিলেটের দিকে রওনা দেবে। আমরা কি করবো? সাজিদ স্যারই বা কি করবে?’
অমিত চিন্তিত মুখে কথাগুলো বলতেই, চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ঈশান। নিজের এই ব্যাক্তিগত কামড়া থেকে বের হয়ে বললো,
—’ কখন রওনা দেবে? ‘
—’ শেষ রাতে। ‘
—’ হঠাৎ! আমার খোঁজ পেলোই না এখনো, আমার বউয়ের দিকে ছুটছে? ‘
—’ ওর হয়তো সন্দেহ হচ্ছে আপনি সিলেটে? ‘
মাথা নাড়লো ঈশান, গম্ভীর সুরে বললো,
—’ তা হয় না। ও যেভাবে আমাদের গোটা এলাকা স্ক্যান করে রেখেছে, আমি ওখানে গেলে এক ঝটকায় জেনে যেতো। ও যাচ্ছে তিতিরের জন্য। ‘
—’ আমারও তাই মনে হয়। ‘
—’ গতরাতে ও কোথায় ছিলো? ‘
ঠোঁটে ঠোঁট পিষলো অমিত। ইতস্তত করলো যেনো। লোকটা তিতিরের টানে সিলেট যাচ্ছে, কথাটা বলেই ঈশান যেমন কঠিন করেছে মুখটা। এখনকার কথা শুনলে আরেক ধাপ উন্নতি হবে সে রাগের। অমিত ধীর গলায় বললো,
—’ হোটেল কন্টিনেন্টালে। ‘
কথাটা বলেই অমিত খুব করে চাইলো, কি কারণে ছিলো এটা যেনো ঈশান না শুধোয়। তবে সে চিন্তাতেও জল ঢাললো ছেলেটা। অন্যমন্ষ্ক ঈশান তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,
—’ আবার কোন ঘট পাকাচ্ছিলো? জানো কিছু? ‘
—’ স্যার জানি। ‘
—’ কি করছিলো? ‘
—’ রাসলীলা। ‘
—’ হোয়্যাট! ‘ ভ্রু কুঁচকে তাকালো ঈশান।
অমিত ঠোঁট টিপে মিহি হেসে, বিরবির করে বললো,
—’ ফূ র্তি করছিলো, স্যার। মেয়েদের নিয়ে । ‘
—’ মেয়েদের! ‘ শব্দটা খানিকটা জোর দিয়েই বললো ঈশান। মুখে কেমন একটা সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো হয়তো। অমিত বোধহয় খানিকটা হলেও ভরসা পেলো। মাথা ঝাঁকিয়ে বাঁকা গলায় বললো,
—’ চারজন মেয়ে সঙ্গে ছিলো, স্যার। ‘
নাক কুঁচকালো ঈশান। বিতৃষ্ণা মাখা গলায় বললো,
—’ ইশশশ, কম হয়ে গেলো না? ‘
অমিত হতভম্ব। এ লোক বলে কি! চারজন কম হয়ে গেলো? আশ্চর্য গলায় বললো,
—’ চারজন কম লাগে, স্যার? আমি যখন ভাবি একজনকেই কিভাবে সুখে রাখবো, আমার তো চিন্তায় ঘাম ছুটে যায়। ‘
—’ তুমি চিন্তা করছো একজনকে কিভাবে সুখে রাখবে। কিন্তু ইয়াজের কি তাই? ওই মেয়েগুলোকে সুখি করার দায় কি ওর? ইয়াজ মির্জা ওই চারজন কে সুখি করতে গিয়েছিলো কী? ও তো গিয়েছিলো নিজে সুখি হতে। হয়েছে, মিটে গেছে। ‘
যুক্তিসম্মত কথা! অমিত বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে দিয়ে হে হে করে হাসলো। আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
—’ আপনি জানলেন কী করে স্যার? ‘
—’ কমনসেন্স। ‘
—’ আমি বুঝলাম না কেনো তাহলে? ‘
—’ কারণ তোমার ওটা নেই। ‘
অমিত কথা বাড়ায় না, চুপসে দাঁড়িয়ে থাকে। ঈশানও আর অযথা আলাপে যায় না। গম্ভীর হয় মুখটা। শক্ত হয় চোয়াল। শান্ত গলায় আদেশ ছোড়ে,
—’ সাজিদ কে সিলেটের উদ্দেশ্য রওনা হতে বলে দাও। আর আমার বাড়ির চারিদিকে সিভিল ড্রেসে ওর ফোর্সের পাহারা বসিয়ে দিতে বলো, আগের থেকে দ্বিগুণ। নাঈম, নিয়াজ দু’জনকেই একই বিষয়ে সতর্ক করবে। অনিমা কে আমাদের বাড়ি চলে যেতে বলবে। তিতির যেনো কোনোভাবে কালকে ঢাকার দিকে রওনা না দেয়। কেমন? তিতির আমাকে অবিশ্বাস করবে না, সুতরাং ইয়াজ মির্জার এই পরিকল্পনা কাজে লাগবে না। ও ডেস্পারেট হয়ে পরিকল্পনা পরিবর্তন করবেই। ‘
সবেগে মাথা ঝাকালো ছেলেটা।
—’ আর আপনি? ‘
—’ কাজল আর মিতু দু’টো মেয়ের প্রতিই আমি কমবেশি কৃতজ্ঞ। ওদের ম’রতে দেখতে পারি না আমি। আজকেই শেষ হবে সবের। ইয়াজ মির্জা বের হওয়া মাত্র আমি ওদের আমার জিম্মায় নিয়ে আসবো। তুমি আর সাজিদ ওদিকটা সামলাতে পারবে তো? আজ রাতেই আমিও সিলেট যাবো। নো টেনশন।
—’ নিঃসন্দেহে পারবো, স্যার । ‘
—’ বেশ, কাল তাহলে ইয়াজ মির্জার বের হওয়ার অপেক্ষা করো।’
মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। মফস্বলের এদিকে রাস্তাঘাটের ভিড়ভাট্টা কমে এসেছে ধীরে ধীরে। কোরবানির হাট লাগে আজকাল প্রায়সই। পনেরো দিন বাদে ঈদ। দিনের বেলা একপ্রকার লোকে লোকারন্য হয়ে থাকে আশপাশটা। বৃষ্টির দেখা নেই বহুদিন হয়ে গেলো। খাঁ খাঁ করা রৌদ্রময় দিনগুলো পেরিয়ে যাচ্ছে এভাবেই। তিতির লম্বা সময় শাওয়ার নিয়ে যখন বের হলো, তখন গোটা ঘরও বেশ অন্ধকার। সন্ধে বাতি জ্বালা হয়নি তখনো। ওইসময় কাঁদতে কাঁদতে কোন ঘোরে শাড়িটা নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছে, তার সাথে আর কিচ্ছু সঙ্গে নেয়নি। অগত্যা শুধু পাতলা শাড়িটাই শরীরে পেচিয়ে বের হয়েছে। দরজা লক করাই ছিলো, সুতরাং কেউ হুট হাট ঘরেও আসবে না।
ঈশান গভীর মন দিয়ে কিছু একটার ফাইল উলটাচ্ছিলো। বাঁ হাতের দু আঙুলের ফাঁকে সিগারেট গোঁজা। কপালে ভাজ পরে আছে ক’খানা। সামনের মনিটরের স্ক্রিন ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাড়ির বাকিদিকের অংশগুলো আপাতত পজ করে রাখা। আচমকাই তার মনোযোগে বিঘ্ন ঘটলো, যখন চোখের সামনের স্ক্রিনটা আলোকিত হয়ে উঠলো। তাদের বেডরুমের আলোটা সবেই জ্বালা হয়েছে । স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ঘাড় বাঁকিয়ে একপলক তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিতেই থমকালো। ফাইলের দিকে নজর রেখেই স্থির হয়ে রইলো কিয়ৎক্ষন। কি দেখলো সেটা মানসপটে আসতেই ঝট করে তাকালো আরেকদফা। হৃদপিন্ড বিট করতে ভুলে গেলো। হৃদ স্পন্দনের হিসেবের গড়মিল হয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ। আনেসথেশিয়ার মতো হাতের ধাক্কায় সরিয়ে ফেললো, টেবিলের ওপরের সব কাগজপত্র গুলো। যেগুলো কি-না দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে তপস্যা করে জোগাড় করা হয়েছিলো, সে-সব। সে-সবে নজর আটকালো না, আর তার।
তিতির ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ানো। কোমড়সম ভেজা চুল গুলো সফেদ তোয়ালেতে মোড়া। আয়নার দিকে ঝুঁকে মুখে কিছু একটা লাগাচ্ছে৷। আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু ঈশানের মরুভূমির ন্যায় খড়া পরে থাকা হৃদয়ে সেটা মোটেই স্বাভাবিক লাগলো না। মেয়েটা একটা কালো জরজেটের পাতলা শাড়ি গায়ে জড়িয়েছে। কিন্তু ওই এক শাড়ি বাদে আর কোনো বস্ত্র বা কিছুই চোখে পরলো না ঈশানের। উ’ ন্মুক্ত পিঠের অংশ দেখা যাচ্ছে কো মড় পর্যন্ত। ঈশান শব্দ করে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো। আঙুলে কপাল ঘড়লো। বাঁ হাতটা কোমড়ে রেখে,কপালে আঙুল চেপে অপলক তাকিয়ে রইলো সেদিকে। এটা কি ধরনের শাড়ি পরার স্টাইল। এভাবে কে শাড়ি পরে। আর সব কাপড় কোথায়!
তিতির ধীরেসুস্থে চুল খুললো। হেয়ার ড্রায়ারে সময় নিয়ে শুঁকিয়ে নিলো চুলগুলো । কোমড় সম কেশরাশি আলতো হাতে চিরুনি করে, ব্যাস্ত হলো সাজগোছে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বুকটা শান্ত হচ্ছে না কিছু তেই। মোটা করে কাজল পরলো চোখে, কমলার কোয়ার মতো পাতলা ঠোঁ ট রাঙালো রক্তলাল লিপস্টিকে। হালকা-পাতলা অর্নামেন্ট, বাদ রাখলো না কোনো কিছুই। আচমকা বোধহয় খেয়াল হলো নিজের শরীরের দিকে তাকাতে। আলমারির দিকে ব্লা উজের খোঁজে যেতে গিয়েই থমকে বসে রইলো। খুলেই ফেলবে এখনই। কি দরকার এতো আয়োজনের। কে দেখবে আজকে তাকে! সর্বশেষ কপালে একখানা ছোট্ট কালো টিপ আঁটকে থমকে তাকিয়ে রইলো আয়নার দিকে। নিজের মুখপানে তাকাতেই মলিন হাসলো সে। কার জন্য সেজেছে সে! কার জন্য তার এই আয়োজন। যে কি-না একবার কিছু না বলে লুকিয়ে গিয়ে বসে আছে!
বেডসাইড টেবিলের ওপর থেকে ঈশানের ফটো ফ্রেম টা হাতে তুলে নিলো সে। হাত ছোঁয়াল সেটার ওপর। ঝুকে এসে ঠোঁট দাবিয়ে চুমু আঁকলো । সহসাই শব্দ করে কেঁদে ফেলল মেয়েটা। ঈশানের ছবিটা কপালে ঠেকিয়ে কান্নায় জড়িয়ে আসা কন্ঠে ব্যাকুল হয়ে বললো,
—’ কোথায় গেলেন আমাকে ছেড়ে ? আপনাকে ছেড়ে একমুহূর্ত থাকতে পারছি না তো আমি । আপনার ও-ই য ন্ত্রণাময় আ দর গুলোকে কঠিন ভাবে মিস করছি আমি। ভেঙেচুরে চাইছি আপনার স্প র্শ। আপনার সঙ্গ। বুকটা খা খা করছে। ফেটে যাচ্ছে। কোথায় আপনি। ঈশাআন…’
মেয়েটার কর্মকাণ্ড গুলো পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দেখে যাচ্ছে ঈশান। হাতের পুড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়া সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পায়ের কদম এগিয়ে নিয়ে গেলো মনিটরের দিকে। মেয়েটা তখনো কেঁদে যাচ্ছেই। এমন ব্যাকুল আর্তনাদ গুলো অশ্রুসিক্ত চোখে শুনে গেলো ছেলেটা।
তিতির উঠে গিয়ে গা এলিয়ে দিলো বিছানায়। পাশ থেকে হাতে তুলে নিলো ঈশানের সফেদ শার্টখানা। ছবি আর শার্টাখানা বুকে জড়িয়ে ক্রমাগত ঝরঝর করে কেঁদেই যাচ্ছে।
—’ এমনিতে তো কাছে আসতে উতলা হয়ে থাকেন। আজকে আসছেন না কেনো? সাজলাম কার জন্য? কাকে দেখাবো আপনি ছাড়া । ছটফট করছি আজকে। আর পারছি না আপনাকে দূরে সরিয়ে রাখতে। আসবেন না? আসবেন না আপনি? একবারের জন্যও বাঁধা দেবো না কিছুতে। যা চাইবেন, যেভাবে চাইবেন…শুধু আপনি কখনো এভাবে দূরে সরে থাকবেন না। কতদিন হলো আপনার শরীরের ওই ঘ্রানটা নিতে পারি না, স্পর্শ করতে পারি না।
আপনি মিথ্যাবাদি, আপনি বলেছিলেন দুনিয়ার সব কঠিন দিক আপনি সামলে নেবেব। আমাকে সে-সব কিচ্ছুর আঁচ লাগতে দেবেন না। সেরকম কিছু ঘটলে যেনো, আমি মুখ লুকাই আপনার বুকে। কই? কই আপনি? কোথায় রইলো আপনার দেওয়া কথা, আর কোথায় আপনি। কার বুকে মুখ লুকাবো? কার কাধে মাথা রাখবো। কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে, শক্তপোক্ত বুকে মাথাটা চেপে ধরে বলবে–” তিতির আমি আছি তো। “ কোথায় চলে গেলেন ঈশান? ‘
দু’হাতে নিচের মাথার চুলগুলো একপ্রকার খামচে ধরলো ঈশান। তিতির একপ্রকার চিৎকার করে কেঁদে যাচ্ছে, চোখের সমানে হাত উঁচিয়ে ধরে আছে ঈশানের ছবিখানা। থরথর করে কেঁপে উঠলো ঈশানের ভারি শরীরটা। তিতির পাগলের মতো কেঁদে যাচ্ছে। তার ছবিকে ইঙ্গিত করে, তাকে উদ্দেশ্য করে বলে যাচ্ছে কথাগুলো, অথচ সে মেয়েটার অভিযোগ গুলো মিথ্যা করে দিয়ে, বুকে জড়িয়ে নিতে পারছে না। চু’ মুর তোড়ে মেয়েটাকে ভরিয়ে দিতে পারছে না। ছটফট করে উঠলো ঈশানের বুকটা। র’ক্তক্ষরণ হচ্ছে বেশ করে। ঈশানের মনে হলো এর থেকে অসহায় মূহুর্ত আর হয় না। ভালোবাসার নারীটি তার সামনে, অথচ সে তাকে স্পর্শ করতে পারছে না। ওই যে, একদিনের সেই স্বপ্নের মতো। একই বিষয় ঘটছে তাদের সাথে।
তিতির আর্তনাদ করে গেলো আরও খানিকটা সময়। এতো এতো মানসিক চাপ, দূর্বলতা…বিরবির করতে করতে ঘুমিয়েও পরলো একটা সময়। পুরোটা সময় স্ক্রিনের সামনে পাথরের মতো বসে, অশ্রু ঝড়িয়ে গেলো তিতিরের অসভ্য, কঠিন পুরুষটি।
রাত বাড়ছে, তিতির ঘুমের ঘোরেই জায়গা করে নিয়েছে ভালোমতো শোয়ার। দরজায় একদফা ডেকে গিয়েছেন রাহেলা, নিশি। দু’বারই ঘুম জড়ানো কন্ঠে তাদের চলে যেতে বলেছে মেয়েটা। সেকেন্ড পেরিয়ে মিনিট, মিনিট পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা ঘুরে এসে ঠেকেছে ঘন্টায়। রাতের খাবারের জন্য অমিত ডাকতে আসার আগেই দরজা বন্ধ করে দিয়ে এসে বসেছে। তিতিরের ঘুমানোর অবস্থা বেশ নাজুক। সে কিছুতেই নিজে ব্যাতিত আর কাউকে স্ত্রীর এই মোহনীয় অবস্থা দেখতে দিতে রাজি নয়।
ঈশান একের পর এক সিগারেট পোড়াচ্ছে। সাত পাঁচ হিসেব করতে ব্যাস্ত তার মন। অমিত কে কয়েকবার হেলিকপ্টার খানা রেডি করতে বলেও করা হয়নি। মনকে দাবিয়ে রাখতে মরিয়া সে। একবার গিয়ে ছুঁয়ে কি দিয়ে আসবে তার বউটাকে? বুকটা শান্ত করে, মেয়েটার কপালে একটা ভেজা চুমু খেয়ে আসবে কি? কিন্তু এতো দিনের পরিকল্পনাটা জলে যেতে দিতে পারে না সে। কিন্তু মন মানছে না সে-সব।
খানিকক্ষণ চোখ বুজে রইলো ছেলেটা। কেমন অস্থির লাগছে, ঘন হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাস। উত্তাল সাগরের ঢেউ গুলো আছড়ে পরছে বুকের বাঁ পাশে। পর মূহুর্তেই মরুভূমির মধ্যে পথ হারানো তৃষ্ণার্ত পথিক মনে হচ্ছে নিজেকে। নিজের সাথে যুদ্ধ চললো কিছু সময়। তারপর সরু চোখে তাকাতেই ঘন হলো নিঃশ্বাস।
এলোমেলো হয়ে আছে তিতির, এলোমেলো তার পরনের শাড়ি, এলোমেলো গোটা বিছানা,গোটা ঘর। ঈশান হা করে শ্বাসকষ্টের রুগীর মতো শ্বাস টানে। ড্রাগ এডিক্টের মতো ড্রয়ার হাতড়ে সিগারেট বের করে আরেকটা। কাঁপা হাতে ধরায় সেটা। ঠোঁটে চেপে ধরে রাখা সি’গারেটে টান দেয় উ’ন্মাদের মতো। তিতির গো ঙাচ্ছে ঘুমের ঘোরে। এতক্ষণের হাসিহাসি মুখের আদল পাল্টে এখব কেমন চিন্তিত দেখাচ্ছে। নড়েচড়ে উঠছে বারবার। যতবার নড়ে উঠছে ততবারই একটু একটু করে এলোমেলো হচ্ছে পরনের কাপড়, এলোমেলো হচ্ছে ঈশান আরশাদ দেওয়ান।
আচমকাই ঘুমের ঘোরে সরে গেলো তার বু’ কের ওপরের আঁচলটুকু। মখমলের মতো ফর্শা ত্ব’ ক দৃশ্যমান হতেই, দীর্ঘ একটা শ্বাস টেনে এক টানে নিজের শার্টের বোতামগুলো খুলে ফেললো ছেলেটা, চোখবুঁজে গা এলিয়ে দিলো রকিং চেয়ারে…
তিতির ঘুমের মনেই ঈশানের ছবি আর শার্টখানা নিজের বু কের ভা’ জে চেপে ধরতেই, এপাশ থেকে অসহায় আর্তনাদ করে উঠলো বেচারা।
—‘ মা’রবি আমাকে, তিতির? মে” রে ফেলতে চাস? এমনিতেই এই তোকে কষ্ট দেওয়ার অপরাধবোধে ম’রছি প্রতিনিয়ত। এই দুরত্ব, এই দহন, তোর চোখের পানি, জ্বা’লিয়ে, পু’ড়িয়ে মা’ রছে আমাকে ।’
তিতির ঘুমের ঘোরেই কেমন ফুঁপিয়ে উঠলো, হাসফাস করলো, সম্ভবত দুঃস্বপ্ন দেখছে। দু’হাতে ঈশানের জিনিসগুলো আঁকড়ে ধরলো, আরও এলোমেলো হলো মেয়েটা। শাড়ি পুরোটা এলোমেলো হয়ে। ঈশান ঘামছে, দরদর করে ঘামছে…
—‘ শাড়ি পরে আমার জন্য শোক মানাতে হবে? আশ্চর্য! আমার কথা মনে পরলো আর ওমনি শাড়ি পরে নিলি? আমার কথা মনে পরলে শাড়ি পরবি কেনো? আমি কি শাড়ি পরাই? খু লি আমি…তাহলে? হয় একেবারে খুলে ফেল, নয়তো ঢেকে ঢুকে ঘুমা । সি ডিউস করে ঘাম ঝড়িয়ে দিলো ‘
এবার বোধহয় স্বপ্নের ভয়াবহতা বেশিই হয়েছে। তিতিরপাশ ঘুরে শুতে গিয়ে বাকি অঘটন টুকুও সযত্নে ঘটিয়ে ফেললো। ঈশান আরেকদফা হা করে শ্বাস টেবে,কোমড়ের বেল্টখানা আলগা করতে করতে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো,
—’ শি’ট ম্যান। ‘
ঘড়ির কাঁটা বোধহয় এসে ঠেকেছে রাত আড়াইটায়। ঈশানের ঘরের দরজায় ঠকঠক করে থমকে দাঁড়িয়ে রইলো অমিত। একটা গুরত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে এতোরাতে এসেছে সে। তবে, বাথরুম থেকে পানির শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, সম্ভবত শাওয়ার নিচ্ছে ঈশান। তাড়াহুড়ো থাকায়, একপ্রকার গলা উঁচিয়েই ডাকলো ছেলেটা। পানির আওয়াজ বন্ধ হলো। ঈশান বের হলো আরও মিনিট দশেকের মাথায়। মনিটর খানা বন্ধ করে ডাকলো অমিতকে ভিতরো আসতে। অমিত ঢুকলো দ্রুত পায়ে। ভ্রু কুঁচকে শুধালো,
—’ এতো রাতে শাওয়ার নিলেন, স্যার? ‘
বিরক্ত হলো ঈশান। শরীর জ্বালাপোড়া করছে। বিছানায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—’ কি বলতে এসেছো সেটা বলো। আমি কখন শাওয়ার নেবো তা দিয়ে তোমার কাজ কি? ‘
অমিত চুপসে গেলো ধমক খেয়ে, ঈশানের চোখজোড়া অস্বাভাবিক লাল হয়ে আছে। দীর্ঘসময় পানিতে ভেজার ফল আরকি। সে-সব থাকুক, কাজের কথায়ই আসা যাক। অমিত নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
—’ আপনার বন্ধুদের সবটা বুঝিয়ে দিয়েছি আমি। তিতির ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করারও ব্যাবস্থা করে ফেলেছে নাঈম। ‘
ঈশান তাকালো না। তবে মুখ দেখে স্প ষ্ট বোঝা গেলো গভীর মন দিয়েই শুনছে তার কথা। অমিত গলা খুকখুক করে বললো,
—’ আপনার আরেক বোন। তমা…’
ঈশান ভেবেছিলো তমার কথা। তবে ফোন ট্র্যাকের একই ব্যাপার তমার সাথেও হয়েছে কি-না নিশ্চিত ছিলো না সে। গম্ভীর কন্ঠে শুধালো,
—’ ওর ফোন? ‘
—’ সেফ। ‘
তৎক্ষনাৎ উঠে বসলো ঈশান। টেবিলের ওপর থেকে নিজের হাতঘড়িটা নিয়ে সময় দেখলো। পোনে তিনটা বাজে। এতোরাতে মোটেই ফোন করা উচিত নয়। তবুও, সে-সব ভাবলে এখন চলবে কেনো। ঈশান ফোন ঘেটে তমার নাম্বার ডায়াল করতে করতে বললো,
—’ সাজিদ রওনা দিয়ে দিয়েছে? ‘
—’ হ্যা, তবে পৌঁছেছে কি-না আপডেট নেই। জানালেই, আমি আপনাকে জানাচ্ছি। ‘
—’ বেশ। শোনো অমিত, ভুলেও ভুল হওয়া যাবে না এবার। ইয়াজ মির্জা, রুষা আর তাহমিদ কায়েসের ওপর শকুনের দৃষ্টি তাক করে রাখবে। ওদের কর্মকাণ্ডের এক সেকেন্ড যেনো আমাদের জানার বাইরে না থাকে। ‘
—’ অবশ্যই স্যার।’
ঈশান ডায়াল করে ফেললো তমার নাম্বারে। ঘুমিয়েছেই হয়তো মেয়েটা। দু-দুবার ডায়াল হয়ে কেটে গেলো ফোনটা। মেয়েটা ঘুমিয়েছিলোই ঘন্টাখানেক আগে। তিনবারের বেলা বেশ বিরক্ত হয়ে উঠে বসলো। আননোন নাম্বার। রিসিভ করেই একটা ধমক দেওয়ার নিয়ত করে কানে ঠেকাতেই, এপাশ থেকে অতি সাবধানি একটা কন্ঠে ডেকে উঠলো ঈশান।
—’ তামু? ‘
তমা উত্তর করার আগেই থমকায়। শ্বাস আটকে আসে, বড় বড় হয়ে আসে চোখজোড়া। ঝড়ের গতিতে তাকায় স্ক্রিনের দিকে। নাহ, আন-নোনই। তবে ডাকটা অতি পরিচিত। যদিও বছরের পর বছর এ নামে তাকে ডাকে না কেউ। তবুও চিনতে দেরি হলো না। বিরবির করে বলে উঠলো,
—’ বড় ভাইয়া? ‘
—’হু, বিরক্ত করলাম? ‘
তমার কান্না পেয়ে গেলো। লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে ছুটে এসে দাঁড়ালো বারান্দায়। তার রুমের এপাশের বারান্দা থেকে দেওয়ান বাড়ির এপাশের তিতিরের রুমটা দেখতে পাওয়া যায়। ঘরের আলো জ্বেলে রাখা এখনো। তমা কান্নামাখা গলায় ডেকে উঠলো,
—’ বাড়ি এসেছো, ভাইয়া? ‘
—’ নাহ, আসিনি। ‘
—’ কোথায় তুমি? কেনো আসছো না? তিতির টা পা’গল হয়ে যাচ্ছে তো। কি সব হচ্ছে এদিকটায়। জানো তুমি? ‘
বোনের আ র্তনাদে মৃদু হাসলো ঈশান। তাকে একদফা শান্তনা দিয়ে শান্ত গলায় বললো,
—’ আমি সব জানি। ‘
তমা ব্যাকুল হয়ে শুধায়,
—’ জে লে ফোন পেলে কোথায়? ‘
ঈশান বোঝে বাড়ির সবাই এখনো জানে না, সে আদৌ জে লে নেই।
—’ আমি জে লে থাকলে তবে তো। সে-সব বাদ। শোন আমি যা বলি। কাল নাকি তোরা ঢাকা আসছিস?’
—’ তিতির চাইছে। ‘
—’ আসবি না। ইভেন বাড়ি থেকে বের হবি না, তিতিরকেও আটকাবি। যা করে সম্ভব। ‘
তমা অসহায় হয়। আতঙ্কিত গলায় বলে,
—’ ওর জেদ জানো তুমি। ‘
—’ জানি। তবুও চেষ্টা করবি। তবে যদি একান্তই সম্ভব না হয়। ডাক্তার তো ওর ওপর মানসিক চাপ দিতে মানা করেছে, তাহলে বলবি আমি ভালো আছি। আমি ফিরবো জলদিই। এ কথাটা যেনো পাঁচকান না হয়। ‘
—’ ঠিক আছে, তা বলবো। কিন্তু। ‘
—’ কোনো কিন্তু না। যা বলছি সেটা মানবি। তিতিরকে ভুলেও বাড়ির বাইরে পা দিতে দিবি না মানে না। এটা অর্ডার। কাল গুরত্বপূর্ণ একটা দিন। বাইরে ভীষন বিপদ হবে। দুনিয়া তছনছ হোক, বা আমি ম রে যাই। বের হতে দিবি না, মানে না। মনে থাকবে? ‘
ঈশানের কথার ধরনে আতঙ্কিতই হলো মেয়েটা। তবে তৎক্ষনাৎ সায় মেলালো ভাইয়ের সাথে। ঈশান এসব নিয়ে ছোটখাটো আরও কিছু জানিয়ে রাখলো মেয়েটাকে। কোনোভাবেই কিছু যেনো আর একজন কাকপক্ষীও টের না পায় সবই বোঝালো সংক্ষিপ্ত ভাবে। ফোন কাটার আগে আচমকাই ডেকে উঠলো ভীষন গম্ভীর গলায়,
—’ তমা?
—’ জ্বী ভাইয়া? ‘
—’ আমি ম’রে গেলেও কালকে তিতির বা বাড়ির তোরা আমার কোনো বোন, বের হবি না। এটা কিন্তু আদেশ আমার? ‘
তমা কান্নামাখা গলায় বললো,
—’ এভাবে বলছো কেনো?’
—’ বোঝাতে চাচ্ছি আমার কথার গুরুত্ব। মনে থাকবে? ‘
—’ থাকবে। ‘
ঈশান ততক্ষণে আবার চালু করেছে মনিটর। তিতির ঘুমাচ্ছে একই ভঙ্গিতে। উ ন্মুক্ত বুকটা আড়াল করে আছে ঈশানেরই শার্ট। বাঁকা হাসলো ঈশান। তারপর তমা তে মনোযোগ দিয়ে বললো,
—’ আর একটা কথা। ‘
—’ বলো। ‘
ঈশান খানিকটা ইতস্ততই করলো বোধহয়। তারপর ভারি গলায় বললো,
—’ নয়নকে এতোটা ভালোবাসিস, এটা তো কখনো বুঝতে দিসনি। আমার বোনগুলো এতো বড় কবে থেকে হয়ে গেলো? এতো টা ম্যাচুয়র কথা কবে থেকে বলতে শিখলি। ‘
তমা হত-বিহবল হলো। ঈশান জানলো কি করে! তবে জিজ্ঞেস করার সময় পেলো না। তার আগেই ঈশান বললো,
—’ একটা মেয়ে হয়ে যতটা এগোনো যায়, এগিয়েছিস। আর না কিন্তু। আমি ফিরলে, বাকিটা আমি বুঝে নেবো। কেমন? ভালোবাসলেই মাথা নোয়াতে নেই। অপর পক্ষের মানুষের মনে কি আছে সেটা না জেনে বেহায়াও হতে নেই। ভালোবাসলে, ভালোবাসা টের পাওয়া যায়, তমা। নয়নের চোখেমুখে আমি সেটা দেখিনি। আশা করি তুইও টের পেয়েছিস সেটা। দু’টো মানুষের দিক থেকে সমান অনূভুতি না থাকলে, সম্পর্ক তৈরি করা খুব জটিল। ভালোবাসা মুখের কথা নয়। আর ভালোবাসাহীন একটা সম্পর্ক, একতরফা বয়ে বেড়ানোও মুখের কথা নয়।
সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৫
সময় দে, নিজেকেও, নয়নকেও। যতটা নিচু করেছে তোকে, আমার বিশ্বাস ততটা নিচু ওকেও হতে হবে। আমি করাবো। সেদিন যদি তোর মনে হয়, হ্যা পুনরায় নিজের মনে ঠাঁই দেওয়া যায়, সেদিন না-হয় দ্বিতীয় বার সুযোগ দিস। তবে সেটা যদি না হয়, ও যদি সেই অনুতপ্ত বোধ থেকে না আসে তোর কাছে, তবে কিন্তু নয়। আবার বলছি, ভালোবাসলেই মাথা নোয়াতে নেই, ভুল মানুষের কাছে তো আরও নয়…’
