Home সায়রে গর্জন সায়রে গর্জন পর্ব ১৪

সায়রে গর্জন পর্ব ১৪

সায়রে গর্জন পর্ব ১৪
নীতি জাহিদ

বন্ধু তালিকায় অনেক আগে থেকেই সুদর্শনা আছে।তবে কখনো বার্তা চালাচালি কিংবা অল্প স্বল্প কথোপকথনও হয়ে উঠেনি। নীল শাড়ি গায়ে জড়িয়ে চিকিৎসকের সাদা পোশাক। কি স্নিগ্ন লাগছে দেখতে। হঠাৎ করে মনে হলো, এই রমনী মন কেড়ে নিয়েছে। বুকের বাঁ পাশটা ধক করে উঠলো। খাটে আধশোয়া হয়ে পায়ের উপর পা তুলেছিলো আরাম করে। মনের কোণে এমন ভাবনা আসতেই হুড়মুড় করে উঠে বসে খাঁ খাঁ করে তেষ্টায় ফেটে যাওয়া গলাটা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিলো। হৃদস্পন্দন কমার নামই নেই। নিজের ডান হাত বুকের বাঁ পাশের ধরতেই বুঝতে পারলো অস্বাভাবিক ক্ষীপ্রতার সাথে বুকে লাব ডাব হচ্ছে। বড় বড় দীর্ঘ শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করে কামরা ছেড়ে বেরিয়ে বারান্দায় এলো। লেবুর তলা টানছে। চুপচাপ গিয়ে গন্ধরাজ লেবুর তলায় বসলো। পরনে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট এবং ছাই রঙা স্লিভলেস টিশার্ট। পিঠে স্পর্শ পেয়ে তাকিয়ে দেখে কাব্য। গাল ভরা হাসি দিতেই কাব্য পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো,

– কিরে ব্যাটা মন খারাপ নাকি,বসে পড়লি যে চুপচাপ?
লিমন সিড়িতেই শুয়ে পড়লো। কাব্যের কথার প্রতিউত্তর না করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। কাব্যের পেছন পেছন নিশাদ ও হাজির হয়েছে তা বুঝতে পারেনি। তিনজনই নিরব। লিমন আচানক বলে উঠলো,
– ভাই অনেকদিন পর মন থেকে শান্তি পেলাম কিন্তু শান্তিটা ক্ষনস্থায়ী। অথচ এই শান্তির পেছনে জীবনের এতগুলো বছর ছুটে বেড়িয়েছি।
কাব্য ঠোঁট উলটে নিশাদকে বুঝালো,
– কিছু বুঝলি?
নিশাদ ও বুঝালো মাথা নেড়ে সে কিছুই বুঝেনি। লিমন পুনরায় বললো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

– এবার আমি একদমই প্রেমে পড়িনি। তবে বিষাদে ডুবেছি। দোয়া করিস যেন বেরিয়ে আসতে পারি।
লিমনকে এসব কাব্যিক কথা বলতে এই প্রথম দেখলো ওরা। শোয়া থেকে উঠে সোজা বাড়ির পথে পা বাড়ালো।বেসুরে কন্ঠে গান ধরলো,
-” বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে
বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে
দেওয়ানা বানাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে”
নিশাদ ও কাব্য ওর যাওয়ার পথে চেয়ে রইলো। কাব্য নিশাদ ভ্রু কুচকে বলে,
– মহাশয় কি মেয়াদোত্তীর্ণ গঞ্জিকা সেবন করিয়াছে? এমন পাগলা পাগলা বিহেভ করতাছে কেন ওয়?
– আমি কেমনে জানি, বড় ভাইজানের ধমক খাওয়ার পর থেকে মাথাটা মনে হয় গেছে। চলো ভিত্রে গিয়া দেখি আবার শোকে পাথ্থর হইয়া কোন আকামটা করে।

চায়ের পাতিলের পানি টগবগ করে ফুটছে। আকস্মিক ছিটা এসে হাতে পড়লো। চমকে গিয়ে চুলা বন্ধ করে হাত দিয়ে পাতিল ধরলো। গরম পাতিলের উষ্ণতা পেতেই হাত থেকে ছেড়ে দিলো। পানি পড়লো ছিটকে হাতে পায়ে। চিৎকার না দিয়ে নিশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইলো। ভেতরের আর্তনাদ কেনো দেখানো যায়না। অশ্রু গড়িয়ে পড়লো দু গাল বেয়ে। কারো হাতের স্পর্শ পেলো নরম গালে। চোখ খুলে সামনে তাকাতেই দেখে পরিচিত মানুষ দাঁড়িয়ে। বিনা বাক্য বেয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো বেসিনের কাছে। পানির কল টা ছেড়ে দিয়ে হাত দুটো ধরলো জলধারার তলে। হাত সরাতে চাইলে ধমকে বললো,

– একদম হাত সরাবেন না,চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন।
ফ্রিজ থেকে বরফ নামিয়ে তাহির পায়ের কাছে বসে বাম পা নিজের হাঁটুতে নিয়ে বরফ লাগাতে শুরু করলো। আঁৎকে উঠলো তাহি। সরাতে চাইলেই গর্জে উঠলো লিমন,
– কি সমস্যা আপনার! জাত যাবে আমি পা ধরলে? আপনি ধরেন না আপনার রোগীদের! এখন আপনিও অসুস্থ চিকিৎসা করছি আমি, প্রেম নিবেদন নয়। এমন ছটফট বন্ধ করুন নতুবা তুলে আঁছাড় মা;রবো। অবাধ্য সিনিয়র।
থমকে গেলো তাহি। ছেলেটার কথার পিঠে কথা বলার সাহসই হলোনা।শুকনো ঢোক গিললো। লিমন পায়ের বরফ লাগিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,

– পায়ের টা রাতারাতি সারবে কিন্তু হাতের টা ভোগাবে। অপারেশন করবেন কি করে পোড়া হাতে?
– জানিনা।
– ম্যানেজ করুন। হাতে বার্নল ক্রিম লাগিয়ে দিচ্ছি।সুস্থ হলে তবেই যাবেন এই বাড়ি ছেড়ে।যত্নের ঘাটতি হবেনা। শিফাকে রেখে দিব প্রয়োজনে।
তাহি নাকের পাঠা ফুলিয়ে বলে উঠলো,
– জুনিয়র, জুনিয়রের মতো থাকো।বাড়াবাড়ি করোনা।ফল ভালো হবেনা।
ততক্ষনে লিমন চলে গেলো। তাহি রাগ করে নিজের কামরায় গিয়ে দরজা আটকে বসে রইলো। নিজের কাপড়ের ট্রলি থেকে একটা ছবির ফ্রেম বের করে বুকে জড়িয়ে ধরলো। ঘুমিয়ে পড়লো পোড়া হাত নিয়েই।

মজুমদার বাড়ির সুনশান ছাদে বসে আছে শাহাদ। হাতে এক কাপ চা। মৃদু বাতাস বয়ে যায়। মস্তিষ্কে সব ভাবনারা আঘাত হানে। খুব দরকার নোমানকে। আগামীকালই ওকে নাগালে পাওয়া যাবে। মনে পড়ে গেলো,
বছর পাঁচেক আগের কথা,
প্রাতঃকালীন নাস্তা সেরে ইউনিটের দিকে যাচ্ছে শাহাদ। রাশেদকে কয়েকবার ফোন দেয়ার পর ও ফোন ধরছেনা। এই ছেলেটা বড্ড ঘুম কাতুরে। শাহাদ রাশেদের কোয়ার্টারে ঢুকেই এক মগ পানি এনে ঢেলে দিলো ওর গায়ে। লাফিয়ে উঠে বলে,
– চোর চোর এ্যাই কে কোথায় আছিস ধর…
গলা ছাড়ে শাহাদ,

– ক্যাপ্টেন তানভীরকে চল্লিশ রাউন্ড দিতে বলেছি। দশ মিনিটের মধ্য রেডি না হলে আশি রাউন্ড দেয়াবো তোকে দিয়ে কর্ণেল আনোয়ারের অনুমতি আছে। ইনডিসিপ্লিনদের শাস্তি দেয়ার। জুনিয়রগুলো তখন হাসবে তোকে দেখে।
গজ গজ করতে করতে রাশেদ কান্নাভাব নিয়ে বললো,
– তুই কি আমার বন্ধু? সাক্ষাৎ শত্রু।
শাহাদ সোফায় বসে রাশেদের বিস্কুটের কন্টেইনার থেকে এক পিচ পাইনএপল বিস্কুট নিয়ে খেতে খেতে বলে,
– তুই যা মনে করিস। দেরি করলে তোরই লস। আজ আমার ইউনিটের সেনাদের এক্সাম খেয়াল আছে। একটা ও আনফিট হয় তোকে ছুটি নিতে দিব না।মনে আছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলি না ওদের দায়িত্ব তোর? দায়িত্ব পালনে হেলাফেলা গ্রাহ্য নয়। এনিওয়ে,গুড নিউজ; শিপ ইজ কলিং।
রাশেদ ব্রাশ করতে করতে থমকে গিয়ে চক্ষু ছানাবড়া করে বললো,

– ইজ ইট আ গুড নিউজ!! দোস্ত আমি এবার যামুনা প্লিজ। রোদসীরা আসবে বাড়িতে। আমি না গেলে আম্মা রাগ করবে।
– তাহলে হারি আপ।
রাশেদ তাকিয়ে দেখে ঘড়িতে সাতটা বিশ। তড়িঘড়ি করে তৈরি হয়ে নিলো। দুজন রেডি হয়ে বের হতে হতে রাশেদ ফোন চেক করে থমকে গেলো। নিজের হাত ঘড়িও চেক করলো। শাহাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
– শাহাদ… তোর ঘড়িতে কয়টা বাজে?
– কেনো ছয়টা বত্রিশ।
রাশেদ থতমত খেয়ে বলে,
– তুই আসলে একটা বিরাট বা/টপার কিসিম খিলাড়ি। কেমনে পারোস। রুমে ঢুইকা কি টার্গেটই ছিলো আমার বাসার দেয়াল ঘড়িটা এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়া?

– ওই কাজ না করলে তোকে আজ আর উঠানো যেতোনা।
– আর বিশ্বাস করমুনা তোরে। তুই এমনি কইরা আমারে বলদ বানাস।
শাহাদ মুচকি হেসে এগিয়ে গেলো স্কোয়াডের দিকে। শাহাদকে চুপ থাকতে দেখে বলে,
– শাহাদ তুই নতুন বুদ্ধি আঁটতেছিস মাথায় তাইনা।
শাহাদ হাসে। এই বন্ধুটা তার প্রিয় সঙ্গী।সারাক্ষন মাতিয়ে রাখে আশপাশের পরিবেশ।
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে বিশ্রাম নিয়ে উঠলো দুজন। পরশু শিপে চলে যাবে তার আগেই রাশেদের এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাবে দুজন। কক্সবাজারের সবচেয়ে সুন্দর রোড মেরিন ড্রাইভ রোড,হিমছড়ি। নেভাল একাডেমিতে আসলেই এই দিকটাতে ঘুরা হয়। Sun Dancer রেস্টুরেন্ট।এখানে সবচেয়ে পছন্দের খাবার হলো- ভাত, কাঁকড়া মাসালা,কোরাল বারবিকিউ এবং ডাল। খেলেই তৃপ্তি পাওয়া যায়। রাশেদের পরিচিত একজনের সাথে দেখা করতে এসেছে দুজন। রাশেদ চুপিসারে আড়াল থেকে ফোনে কথা বলে শাহাদের পাশে এসে বসলো। শাহাদ রেস্টুরেন্টের বাইরে গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। পাশে দোলনা মত কি যেন ঝুলছে।ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো একটা চাকার টায়ার দিয়ে দোলনা বানানো। ছোট বাচ্চারা দুলছে।এই দৃশ্য দেখতে ভালো লাগছে। রাশেদের উচ্চবাচ্যে ধ্যান ছুটে যায়,

– বন্ধু রাগ করিস না,তোরে না জিগায় একটা কাজ করছি। বিশ্বাস কর আন্টি আমারে সারাক্ষন বলে তোর কথা। তাই আমার এক কাজিনকে আসতে কইছি। একটু দেখা কর। ও বেড়াতে আসছে কক্সবাজার। সুন্দর। পেশায় আইনজীবী। নাম সামরা। মান সম্মানটা রাখিস দোস্ত।
শাহাদের বৃহৎ অক্ষি গোলক দেখে ভয় পেলে গেলো রাশেদ। বন্ধু তার বিয়ে করবেনা পণ করেছে কি অর্থে তাই বুঝ পায়না। এর মাঝেই চলে এলো সামরা। রাশেদকে দেখেই মিষ্টি হাসি দিলো। হাতের কাজের শাড়িতে মেয়েটিকে বেশ মানিয়েছে। সামরা সালাম দিয়ে বসলো। কানের কাছে গুঁজেছে গোলাপ। মেয়েলী ঘ্রান নাকে লাগছে শাহাদের। কেমন যেন স্নিগ্ধ। সামরার চেহারায় মায়া আছে। অনুমতি চাইতেই শাহাদ ইশারায় বসতে বললো। কটমট করে তাকালো রাশেদের দিকে। রাশেদ ও পাশে চেয়ার টেনে বসলো। খাবারের অর্ডার দিয়েই রাশেদের পক পক শুরু।

– সামরা জানিস শাহাদ এই রেস্টুরেন্টের খাবার অনেক পছন্দ করে। এদের সব খাবারের মান অত্যন্ত ভালো।
সামরা মিষ্টি হেসে আড়চোখে শাহাদকে দেখলো। শাহাদ হাতের ফোন স্ক্রল করতে করতে বলে উঠলো,
– এতটা বিচলিত হবেন না মিস সামরা। আমি দুঃখিত।রাশেদ আপনাকে এভাবে নিয়ে এসে দুজনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিলো।
– না না ঠিক আছে।
নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথোপকথন হচ্ছে। শাহাদ সেই পারফিউমের গন্ধটা আরো কাছ থেকে অনুভব করছে। মনে হলো যেন ভেসে যাচ্ছে এক সুমিষ্ট ঘ্রানের জগতে যেখানে একটা আবছা মুখ তার দিকে এগিয়ে আসছে। জোরে শ্বাস টানলো শাহাদ। ফুলের ঘ্রান। শাহাদ বন্ধ হওয়া নেত্র খুলে সামরাকে প্রশ্ন ছুড়ে আপনি কোন ব্রান্ডের পারফিউম লাগান। সামরা অপ্রস্তুত হয়ে বললো,

– গুড গার্ল।
– এটা কি কোনো ফুলের?
– হ্যাঁ জেসমিন।
– উঁহু, আমার নাকে অন্য কোনো পারফিউম লাগছে।
রাশেদ বলে উঠলো,
– আমারো লাগছে তবে ওটা মনে হলো কাঁচা ফুল। একটু বেশি স্নিগ্ধ। রজনীগন্ধার মতো।
সামরা বললো,
– এটা পারফিউম না। কোনো ন্যাচরাল স্মেল। হয়তো কেউ ফুল লাগিয়েছে নতুবা কোনো হোম মেড পারফিউম লাগিয়েছে।
– হ্যাঁ হতে পারে।
ব্রিপ ব্রিপ ভাইব্রেশনে ধ্যান ভাঙলো। শাহাদ ফোন হাতে নিয়ে দেখলো তার ব্যক্তিগত খেঁচরের ফোন। যাকে শাহাদ সকলের আড়ালে রেখেছে। পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো প্রানী তার খোঁজ জানেনা। ফোন রিসিভ হতেই জানতে পারলো রগচটা খবর। ফোনটা কেটেই চুপিসারে নেমে আসে মজুমদার বাড়ির ছাদ থেকে। বাড়ির দোরগোড়ায় দেখা হয় চাচা শ্বশুর মঈনের সাথে।

– জামাই, কোথায় যাও?
– চাচাজান আমি একটু আসছি। একটা কাজ পড়েছে।
– আমিও কি যাবো?
– না না আপনি ভেতরে যান, আপনার ভাইঝি বসে আছে সকলের সাথে দেখা করার জন্য।
বুঝ দিয়েই বেরিয়ে পড়ে রাস্তার উদ্দেশ্যে। পাভেল অনবরত ফোন দিয়ে যাচ্ছে। শাহাদ রিসিভ করছেনা। এক পর্যায়ে ফোন কে*টে বন্ধ করে দিলো। মেইন রোড ঘেঁষে ডান দিকে হাঁটলেই রাবার বাগান। তিনটা ছেলে বাইক থেকে নেমে এলো। ওদের অনুসরণ করার ইশারা দিলো শাহাদকে। বাগানে ঢুকতেই মিলিয়ে গেলো। চারজনের ছায়া।

পাভেল বাইক ছুটিয়ে আসছে। একটা মেসেজ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে পুনরায় সেই কান্ড। খুঁজে বেড়াচ্ছে সেই ফাইলটা যাতে প্রমাণ ছিলো বি এন এস সমুদ্রজয়ে ঘটে যাওয়া রেইপের সাথে রাশেদ আবেদীন কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয়। অথচ সেদিন কোনোভাবেই রাশেদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি শাহাদ। এখনী দেহে রক্ত টগবগিয়ে ফুটে উঠে। রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়ায় শাহাদ। পাভেলের বাইক শাহাদের সামনে এসে থামে। শাহাদ শান্ত স্বরে বলে,
– ক্যাপ্টেন আলতাফকে খুঁজে বের করো।
– স্যার বাগানের ভেতরে…
– ওদিকে যেতে হবেনা। প্রবলেম সলভড। কালকে সকালে যেন পত্রিকায় হেড লাইন হয়, তিন ধর্ষনকারীকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছে ধর্ষিতার ভাই।

পাভেল মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করলো। শাহাদ জমিনে নেমে পড়লো।সেচের পানিতে হাতে লেগে থাকা র*ক্ত ধুয়ে নিলো। পাভেলের সাহায্যে গোসল করে নিলো। ভেজা কাপড়ে রওয়ানা দিলো মজুমদার বাড়ির উদ্দেশ্যে। পাভেল রাশেদকে দেখেছে ওদের বিয়ের সময়। খুব সাদামাটা একজন মানুষ। এই মানুষটার ও যে শত্রু থাকতে পারে ভাবাই যায়না। বাড়ির আঙিনায় এসে বাগানের সুপরিচিত গুল্ম উদ্ভিদগুলোর পাশে দাঁড়ালো। ঝোপের মতো হয়ে আছে। তার মাঝে ফুটে আছে সাদা সাদা ফুল। একটা ফুলের দন্ড ছিড়ে নিলো। পাভেল দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে যাচ্ছে শাহাদের কাজ। মাঝে মাঝে ওর মনে হয় এই মানুষটা রহস্যে ঘেরা। যার হাসিতেও লুকিয়ে থাকে ভয়। শাহাদ পাভেলকে কাজ বুঝিয়ে চলে যেতে বলে গন্তব্যে। নিজেও ঢুকে পড়ে অন্দরমহলে।

ধীরে ধীরে দরজা খুলে পা টিপে ভেতরে প্রবেশ করলো। আশপাশে দেখলো সবাই শুয়ে পড়েছে। ক্লান্তি সবার শরীরে। পকেট থেকে বার্নল ক্রিমটা বের করে আলতো করে দুটো হাতে লাগিয়ে দিলো। বার বার ঢোক গিলছে। লাগিয়েই দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো। তাহি চোখ খুলে ওর যাওয়া দেখলো। আত্মসংবরণ করে বললো,
– বড্ড ভুল করছো। পস্তাতে হবে তোমায়। নিষিদ্ধ জিনিসে হাত বাড়িয়েছো।ডানা গজানো ভালো। উড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ তাও ভালো,কার আকাশে উড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ তা না ভেবেই উড়তে গেলে যে ডানা হারিয়ে ছটফট করতে করতে নিঃশেষ হিয়ে যাবে।
-তবে তাই হোক।
তাহি চমকে উঠলো। এখানেই ছিলো তাহলে। নিশব্দে কথা শুনছিলো।চমকে যাওয়ার ব্যাপার বুঝতে না দিয়েই নিজেকে সামলে বললো,

সায়রে গর্জন পর্ব ১৩

– এত রাতে কোনো মেয়ের ঘরে ঢোকা ঠিক নয়,বিধবা মেয়ের ঘরে তো নয়ই।লোকে আমায় বলবে শরীরের জ্বালা বেশি বলে এবার জুনিয়রের দিকে হাত বাড়িয়েছি…
ঠাস করে দরজা আটকানোর শব্দে কেঁপে উঠলো কামরা। তাহি ঠোঁটের কোণে হাসি দিয়ে ভাবে,
– ঠিক মতো লেগেছে। ইমোশনালি আঘাত করতে হবে তোমায়।নতুবা তোমার মত উগ্রচণ্ডীকে দমানো কঠিনই নয়,অসম্ভব হবে। আমার রাশেদ ও তোমার মতো ছিলো।

সায়রে গর্জন পর্ব ১৫