Home সায়রে গর্জন সায়রে গর্জন পর্ব ৪৩

সায়রে গর্জন পর্ব ৪৩

সায়রে গর্জন পর্ব ৪৩
নীতি জাহিদ

মনোহর পুরের রাস্তা মাটি দিয়ে বাঁধানো। রাগে তখন মজুমদার বাড়ি থেকে বের হলেও এখন আর হাত চলছেনা। বাইক থামিয়ে ধান ক্ষেতের আইলের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরিয়েছে। মাথা ব্যাথা বাড়ছে। এত প্রেশার নিতে ইচ্ছে করছেনা। একটার পর একটা। কখন সব সমস্যা দূর হবে? সাধারণ জীবন যাপন কি তার প্রাপ্য নয়? হাতের সিগারেট টাও আজ বিষ লাগছে। ছুঁড়ে নিচে ফেলে পায়ে পিষে ফেললো। বাইকে চেপে পুনরায় রওয়ানা দিলো।

দিয়া মেয়েকে কোলে নিয়ে বারান্দায় দোলনায় বসে আছে। মেয়েটা একবার খাচ্ছে আবার মায়ের ওড়না তুলে মাকে দেখছে। এই দুধের বাচ্চাটার মুখে এভাবে ঝাল লাগানো একদম অনুচিত হয়েছে। রাগটা সংযত হলো না দিয়ার। ছাড় পেয়ে যাবে শাহাদের চাচা বলে রেদোয়ান? এই জিনিসটা মাথায় আসছেনা। হাম্মাদ ইরান ফিরে গিয়েছে শাহাদের ভরসায় দিয়াকে রেখে। দিয়াকে ফোনে সব জানিয়ে দিয়েছে যেন শাহাদের উপর বিশ্বাস রাখে। সব ব্যাপারে বিশ্বাস রাখলে ও বাবা মায়ের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখতে পারলোনা দিয়া আজ। পরিবারের খেয়াল রাখা মানুষটা কি করে চাচাকে শাস্তি দিবে! হয়তো দুটো কথা শোনাবে নয়তো জেলে দিবে। এতে কি দিয়ার কষ্ট কমবে? নিজেকে প্রশ্ন করলো দিয়া, কি চাস তুই দিয়া? খুন করবি মানুষ টাকে? উত্তর খুঁজে পায়না৷ শেহজা খাওয়া শেষ করে দুষ্টুমি করছে। গায়ের ওড়না ঠিক করে দিয়া উঠে দাঁড়ায় রুমের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তখনই রুমে প্রবেশ করলো কমান্ডার সাহেব। বিনা বাক্য ব্যয়ে জড়িয়ে ধরলো দিয়াকে। মাথার অগ্রভাগে অসংখ্য উষ্ণতা ছুঁয়ে দিলো। এক হাতে মেয়েকে নিজের কোলে নিয়ে দিয়াকে বুকে চেপে বললো,

– যদি আমার রানীকে খুশি করার জন্য রেদোয়ানের লা/শ ফেলতে হয় তবে তাই হবে।
অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো দিয়ার। কি বললো? লা/শ! না দিয়া চায় না হ/ত্যা। শাহাদ যত্নশীল, ঝামেলা এড়িয়ে চলা মানুষ। আইনের সহায়তায় শাস্তি দিয়ে আসছে সকল অপরাধীকে। হিংস্র হতে পারেনি বলে নেভি ছেড়েছে। বন্ধুর অপরাধী কে জেনেও হ*ত্যা করছে না। আইনের সাহায্য নিবে বলেই বসে আছে৷ মাঝে মাঝে উগ্র আচরণের জন্য লোকজন ভয় পায়। সেই মানুষ কি করে নিজের হাতে আইন তুলে নেবে বলে? দিয়া কি তবে ব্যর্থ স্ত্রী? তার জন্য স্বামী অ/স্ত্র হাতে নিতে দ্বিধা বোধ করছেনা আজ। বাঁধন হালকা ঢিল দিতেই দিয়া স্বামীর মুখে চেয়ে বললো,

– আমি কখনোই চাই না এসব কমান্ডার সাহেব।
– কিন্তু আমি চাই। তুমি যেই পীড়ায় আছো আমার শেহজা সেই পীড়ায় থাকবে আমি মেনে নিতে পারবোনা। তুমি হয়তো কম সয়েছো, নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিয়েছো বাবা – মা দুনিয়াতে নেই। আজ যদি আমি রেদোয়ানকে শাস্তি না দি আমার মেয়েটা তার বাবা-মা বেঁচে থাকতেই কুঁকড়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে। ওর মা কখনো বাবাকে মাফ করবেনা। আমি এসব মেনে নিতেই পারবোনা।
– কেনো এসব হবে?
– হবেনা কেনো? নিজেকে প্রশ্ন করো। সকালে কেমন আচরণটা করেছো? কি করে বুঝাই যে একটু সময় লাগবে আমার। সুস্থতা প্রয়োজন। ভুল বোঝাবুঝি এবার শেষ করো বউ। আর কত?

শাহাদ চেপে গেলো নিজের করা প্রতিজ্ঞা। মনে পড়ে গেলো সেই প্রতিজ্ঞার কথা, “এমন ভুল করলে বউ যার কলঙ্ক মেটাতে অগ্নি পরীক্ষা তোমার স্বামীকে দিতে হচ্ছে। না পারছি কাছে টানতে,না পারছি দূরে ঠেলতে। একবার, শুধু একবার হাতের নাগালে পাই ওকে। কথা দিলাম তোমাকে করা প্রতিটি আঘাত নিজেকে করবো আর দ্বিগুনের বেশি ফিরিয়ে দিব ওদের। সম্পর্ক ভুলে যাব। ” নিশাদের হলুদ সন্ধ্যায় দিয়ার কোমড়ে ব্যান্ডেজ করতে করতে করেছিলো। সম্পর্কে ভুলে যাবে সেই প্রতিজ্ঞাবাক্য অনেক আগেই উন্মোচিত হয়েছে অন্তরে। অপ্রকাশিত ছিলো এতটা সময়। চক্রটা আজ এখান অবধি থেমেছে। রেদোয়ান-মনি -ফরিদ-খালেদ- শেফালী- নোমান- দিয়ার বাবা-মা, রাশেদ,হামজা, দিয়া এবং সর্বশেষ লিমন। এদের মধ্যে শেফালী এবং নোমান কাঠের পুতুল। বাধ্য হয়ে করেছে। আর ভুক্তভোগী দিয়া, রাশেদ, হামজা এবং লিমন। রাশেদের শাস্তির সকল ব্যবস্থা মেহেরজান আম্মাই করেছে তার সহায়তায়। শাহাদের ক্রোধের থেকে ফরিদকে বাঁচিয়ে মেহেরজান আম্মা নরকতুল্য যন্ত্রণা দিয়েছে। এক নিমেষে মে*রে ফেলতে চেয়েছিলো শাহাদ। পরে মনে হলো একমাত্র মেহেরজান আম্মার ই অধিকার আছে এই পা*পীষ্ঠকে মা*রার।

সামনে সমুদ্রের স্রোতের জোয়ার। সী বিচের পাশেই কটেজ। পরিবেশটা বেশ গুমোট। কপোত-কপোতী কিছুক্ষন আগেই সমুদ্র থেকে দাপিয়ে এসেছে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে শুনছে সমুদ্রের গর্জন।প্রেয়সীর পেট জড়িয়ে কাঁধে থুতনি রেখে পরম উষ্ণতায় আলিঙ্গন করছে। সুখানুভূতি গ্রহন করছে মেজর পত্নী। কিভাবে যেন সময়রা পেরিয়ে গেলো। প্রথম দিকে বেশ রাগ হয়েছিলো এখানে আসার পর ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে। তবে সেসব কাটিয়ে উঠেছে কয়েকদিন। মনে হয় যেন চট করে জাদুর চেরাগে উইশ বলেছে, সে পূর্ণ করছে। ব্যস্ত স্বামীর কাছে সময় পাওয়া আর আকাশের চাঁদটা হাতে পাওয়া একই রকম। বেলকনি থেকে কোলে তুলে নিয়ে শোবার ঘরে রওয়ানা হলো স্বীয়পত্নী নিয়ে। নিজেদের মধ্যে উষ্ণ, আবেগঘন ব্যক্তিগত সময় কা/টালো প্রেমময় যুগল। নওরীনের অধরে অধর ছুঁয়ে বললো,

– তোমাকে না পেলে আমার কি হতো নিরা?
নওরীন মৃদু হেসে বলে,
– অন্য কেউ থাকতো তোমার বুকে।
– আমার যে শুধু তোমাকেই প্রয়োজন।
– তাই তো আমিই আছি। তবে এখন উঠুন। বেলা গড়ালো। এতদিন ফিরেও তাকায় নি, এখন ঢং করছে। এখানে ও সব কাজ নিয়ে এসেছে মশাই।
– বুঝতে হবে তোমার স্বামী একজন দেশ সেবক। আমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত।
নওরীন শাহীনের ললাটে ওষ্ঠ ছুঁয়ে বললো,
– আমি করি।
বেশ কিছুক্ষন পর ফোন আসাতে শাহীন চলে যায় বেলকনিতে৷ নওরীন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ওয়েটারের আনা নাস্তা সাজাচ্ছে। অন্যদিকে শাহীন ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। নওরীনের ফোন বেজে উঠলো। কল লিস্টে নামটা দেখেই ভীতি জাগলো অন্তরে। মনে মনে দোয়া পড়লো। কেনো ফোন দিয়েছে। রিসিভ করে সালাম দিলো। ও পাশ থেকে গমগমে স্বর,

– কেমন আছো নওরীন?
– জ্বি ভাইজান আলহামদুলিল্লাহ। বাসার সবাই কেমন আছেন? ভাবীজান, শেহজা,আম্মু,আব্বু,আপুরা।
– আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো। শাহীন কোথায়?
– ভাইজান, ও ওয়াশরুমে।
– আচ্ছা। ওকে কোনো প্রয়োজন নেই আমার। কথাটা তোমার সাথে। নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর জন্য পাঠিয়েছি তোমাদের, সময়ের সদ্ব্যবহার কিভাবে করে তা কি বুঝতে পারছোনা তোমরা? ওই গর্দভটা তোমাকে ফেলে কাজ নিয়ে পড়ে থাকে কি করে?
নওরীন কি বলবে বুঝতে পারছেনা। চুপ থাকাটাও অসভ্যতা। আমতা আমতা করে বললো,
– ভাইজান.. আসলে ও বললো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাই।
– দেশে ফিরলেই কোয়ার্টারে চলে যাবে সে। তখন খুঁজলেই পাবেনা। যতটুকু সময় প্রয়োজন বুঝে নাও। নিজেদের মতো এঞ্জয় করো আনন্দক্ষনটাকে।
এর মাঝে শাহীন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পাশে দাঁড়ালো। নওরীন ইশারা দিয়ে বুঝিয়ে দিলো কে। শাহীন স্পিকারে রাখলো ফোন। শাহাদ ও পাশ থেকে বলছে,

– তোমাকে এসব বলার প্রয়োজন পড়বে কখনো ভাবিনি। শাহীন কাজ পাগল। বয়স তো কম হলো না শাহীনের৷ তবে অতিরিক্ত কিছুই ভালোনা। যাই হোক সংসার সাজাও। শেহজার জন্য ছোট ভাই- বোনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তোমার ভাই হিসেবে ছোট বোনকে বললাম। সুখবর সবাই চায়…
কথা শেষ হলো না শাহাদের, তৎক্ষনাৎ কথার মাঝখানে বেফাঁসের মত শাহীন না বুঝেই বলে ফেললো,
– জ্বি ভাইজান আমরাও চাই শেহজার ভাই বা বোন আসুক। আলহামদুলিল্লাহ। ভাবীমা কি রাজি ভাইজান? তাহলে আরেকজন নিয়ে আসুন।
নওরীনের সাথে সাথে মুখে হাত। ফোনের অপর পাশ নিরব। নওরীন ভয়ে কাঁদো কাঁদো অবস্থা। শাহীন না বুঝেই বড় ভাইকে কি বলে ফেললো। প্রায় মিনিট তিনেক পর শাহাদ একটাই শব্দ উচ্চারণ করলো,

– বেয়াদপ।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো। নওরীন শব্দ করে কেঁদে দিলো। শাহীনকে কি*ল ঘুষি মা*রতে মা*রতে বললো,
– কি করলে তুমি। আমার মান সম্মান শেষ করলে। ভাইজান আমাকে ফোন দিয়েছিলো। তুমি কতটা অসভ্য, ফোন স্পিকারে দিয়েছো ভাইজান কি জানে? এর মাঝে বেহায়া বেলাজার মতো বড় ভাইকে বললে ভাবীমা রাজি? আরেহ মূর্খ ভাইজান আমাদের দুজনকে বলেছে সন্তানের সুসংবাদ দিতে।
পুনরায় নওরীন কেঁদে দিলো। ভাইজান কি ভাবলো? এই মেয়ের কোনো প্রাইভেসি নেই। শাহীন নিজের ভুল বুঝতে পেরে জিহবায় কামড় দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসলো। মালয়েশিয়া আসার পর থেকে শুধু ভুল করছে। ভাইজান কি ভাবলো?ফোন দিতেও ভয় করছে যদি স্টাডি রুমের কথা জিজ্ঞেস করে।

ডিউটি ডাক্তার ড্রেসিং করছে লিমনের আঘাতের স্থান। তাহি পাশে দাঁড়িয়ে আছে পরিবারের সদস্য হিসেবে। লিমন এখন সজ্ঞানে আছে। ব্যাথার জায়গায় এন্টিসেপটিক লাগতেই জ্বলে উঠছে। তাহি একটু দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষন চোখ বুজে থাকলেও এখন চোখ মেললো ছেলেটা। ভাইজান কাজে বের হয়েছে লিমন জানে, মাকে জানানো যাবেনা তাও লিমন জানে। বাকিরাও মায়ের মতই অজানা। আজ কেমন যেন বাবাকে খুব মনে পড়ছে লিমনের৷ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি চাইলেই লিমনের হাত ধরতে পারতো এখন। কিন্তু সে বড্ড কঠিন মানব। মনে পড়ে গেলো এক্সিডেন্টের আগের মুহুর্তের কথা। পেছনের লোক গুলো যখন দেশীয় অস্ত্র সমেত তার পিছু নিলো তখনও ভয় পায়নি। সামনের ট্রাকটা যখন এসে পড়লো তখন মনে হলো এই শেষ। ট্রাকের সাথে বাড়ি খেয়ে ছিটকে পড়ার পর ও মনে হলো যাক বেঁচে তো যাবে। লিমন ভাবতেও পারেনি সেই ধারালো দেশীয় অস্ত্রের কোপটা তার বুকে পড়বে। ভেতর থেকে হাহাকার বেরিয়ে আসছে। মনের ভেতর দমিয়ে রাখা ভালোবাসাটা আজ মনে হলো যেন মিথ্যা প্রচেষ্টা। তাচ্ছিল্যের হাসি আসছে। তাহির মনে এতটুকু পরিমাণ টান ও গত কয়েকমাসে লিমনের জন্য জন্মায়নি লিমনের কাছে স্পষ্ট। লিমনের চোখ তাহিতে নিবদ্ধ। আর তাহির চোখ দেয়ালে। লিমন বুঝতে পেরেছে তার এভাবে তাকানো তাহিকে অস্বস্তিতে ফেলছে। ডাক্তার হঠাৎ লিমনকে বললো,

– আপনি জানেন আপনার বুকে কয়টা স্টিচ?
লিমন হালকা মাথা নাড়ালো ‘জানেনা’,
– বারোটা স্টিচ। আড়া আড়ি ভাবে টান দিয়েছে বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে।
লিমন ধীরে বললো,
– ডাক্তার সাহেব বেঁচে আছি এটাই অনেক। আল্লাহর অশেষ রহমত। আমি কালিমা পড়েই নিয়েছিলাম যখন ওরা বুকে কোপ দিয়েছিলো।
ডাক্তার সালিফ, তাহি এবং নার্স তিনজনই তাকিয়ে লিমনকে দেখছে। ড্রেসিং শেষে তাহি ছাড়া বাকিরা বের হয়ে যায়। তাহি টুল টেনে বসে। লিমনের হাত ধরে বললো,

– রাগ অভিমান হওয়াটা স্বাভাবিক লিমন। আমি নিজের হয়ে সাফাই গাইবোনা৷ কিন্তু তুমি যেটা চাইছো…
– আমি কিছুই চাইছি না আর আপনার কাছে। আমার সব পাওয়া হয়েছে।
লিমন নিজ থেকেই হাতটা সরিয়ে নিলো। লিমনের আজ ভেতরটা জ্বলছে। ঠোঁট চেপে কান্না পাচ্ছে। পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই। সব রকমের চেষ্টা করেছে। আজ তাহির সাথে কথা বলতে ভালো লাগছেনা। চোখ বুঁজে ফেললো। মনে হলো যেন চোখের সামনে ভাসছে তাহিকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন। তাহির হাত ধরে হাঁটা,ওর কোলে মাথা রাখা এসব তার জন্য দুঃস্বপ্ন। ভাইজান শুনলেও রাগ করবে। লিমনের বুক জুড়ে ব্যান্ডেজে মোড়ানো। লিমন অনেকক্ষন পর বললো,
– আমি কি হাঁটতে পারবো ডাক্তার তাহি?
তাহি ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো। পা ভেঙ্গেছে হাঁটতে না পারার তো কথা নয়। হঠাৎ তাহি প্রশ্ন করলো,

– এ কথা কেনো বলছো? ডাক্তার কি কিছু বলেছে?
– জানিনা৷ মনে হলো। ওরা খুব জোরে ধারালো কিছু দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে।
তাহি বেরিয়ে যাবে রুম থেকে তখন লিমন বললো,
– আমি দুঃখিত আপনাকে এতদিন বিরক্ত করেছি তাই। যদি পারেন ক্ষমা করে দিবেন। আপনার জীবনে আর কোনো ঝামেলার কারণ হতে চাইছিনা। আপনার মনের ধারণা ছিলো, আমি নিজেকে হয়তো রাশেদ ভাইয়ের সমতুল্য ভাববো। সোজা কথা আমি উনার নখের যোগ্য ও নই। আপনি যেতে পারেন।
তাহি কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো। লিমন নিজেকে আশ্বস্ত করে সান্ত্বনা দিলো, যা পাগলামি করেছিস, আগে করেছিস। তোর শরীরের যা কন্ডিশন সুস্থভাবে বাঁচবি কিনা তারই তো নিশ্চয়তা নেই আবার আরেকজনই জুড়াবি জীবনে। কোনো মেয়েই এমন মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসেবে চাইবেনা।

গোমট পরিবেশ৷ শেহজার উ আ ছাড়া অন্য শব্দ আসা আপাতত গর্হিত অপরাধ। ফোনের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে শাহাদ। এই মানুষ টা চুপ করে আছে এর মানে মনে মনে শাহীনের ঠিকুজি গুষ্টি উদ্ধারসহ আত্নশুদ্ধি চলছে। দিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– কি যেন বলেছিলেন ম্যাডাম? আপনার জা কে ফোনে বুঝিয়ে বলতে শাহীনের উদাসীনতার ব্যাপারটা তাই না?
দিয়া শুকনো ঢোক গিলছে। দিয়া নিজ থেকে বলেছিলো নওরীনকে জানাতে। কিছুক্ষন আগে ফোন নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দুজনই অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। দিয়া আমতা আমতা করে বললো,

– আমি কি জানতাম…
কথা পুরো শেষ করেনি শাহাদের অভিব্যক্তি দেখে। ওখানেই ফুল স্টপ। জেদে ফোঁস ফোঁস করছে মানুষটা। কেমন একটা কথা বলে ফেললো শাহীন! আচমকা কামরা কাঁপিয়ে দিয়া হা হা করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে খাট থেকে মেঝেতে বসে পড়লো। আচমকা হাসিতে মাত্রাতিরিক্ত লজ্জ্বা পেয়ে গেলো শাহাদ। মেয়েটা পেট ধরে হাসছে। শাহাদ মুখ ঘুরিয়ে ঠোঁট চেপে নিজেও হেসে দিলো। তবুও হাসি নিয়ন্ত্রণ করে বললো,
– হাসবেনা মেয়ে। ভাইবোন গুলো বড় অসভ্য হচ্ছে। কখন কি বলবে কোনো ধারনা নেই। কি জবাবটা দিলো আমাকে? ভাবীমা কি রাজি? কত্ত বড় বেয়াদপ ভাবা যায়। আমি কি ওর বন্ধু লাগি?
দিয়া হাসি থামিয়ে বলে,

– দোষ আপনার,আপনি কি বলেছেন একবারো উনাদের বেবি নেয়ার কথা। যেভাবে আধ খানা কথা মুখ দিয়ে বের করেন মানুষ তো ভুল বুঝবেই। এত রয়ে সয়ে কথা বলেন কেনো? কথা বলতে কি ট্যাক্স লাগে?
– আশ্চর্য মেয়ে তো তুমি। কোথায় আধ খানা কথা বললাম। পুরো বাক্য শুদ্ধ উচ্চারণ করে ভেঙ্গে বললাম। উলটো মনে হয়েছে বেশি বলেছি।
– ইশ রে! অন্নেক কথা বলেছেন তাই তো পুনরায় বাপ হওয়ার পরামর্শ দিলো ছোট ভাই।
গাল ফুলিয়ে রাখা শাহাদকে দেখে দিয়ার নিয়ন্ত্রণহীন হাসি ফুটতে চাইলো ঠোঁটের কোণে পুনরায়। তবে এবার হাসলে আ/ছাড় খেতে পারে সেই ভয়ে গিলে নিলো। আকস্মিক ভাবে শাহাদ খাট থেকে নেমে টি-শার্টের সামনের দুটো বোতাম খুলতে খুলতে দিয়ার পাশে বসে গেলো মেঝেতে। দিয়ার থুতনিতে হাত দিয়ে মুখ তুলে বলে,

সায়রে গর্জন পর্ব ৪২

– নট আ ব্যাড আইডিয়া। লেটস মেক এনাদার প্ল্যান ফর শেহজা’স বেবি ব্রাদার। আমার আপত্তি নেই।
দূরে ছিটকে হাত ঝামটা মে*রে এই প্রথম দিয়া ফেলে দিলো। আঙুল দেখিয়ে বলে,
– দূরে যান। দুষ্টু লোক।
মেঝেতে বসে খাটের পেছনে দু হাত মেলে হেলান দিয়ে ঠোঁটের কোণে একপেশে দুষ্টু হাসি দিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললো,
– ইশ! ফারাহ্; যদি নেভির অফিসাররা জানতে পারতো গোমরা মুখো, জটিল ভাষ্য, কাঠখোট্টা লে. কমান্ডার শাহাদ ইমরোজ কতটা বেহায়া, নির্লজ্জ, বেপরোয়া, বেসামাল তার রমনীর নিকট ; ভাবতে পারো কি হত?

সায়রে গর্জন পর্ব ৪৪