সায়রে গর্জন পর্ব ৮
নীতি জাহিদ
উষা রাঙিয়ে নিলো নিজেকে আপন রঙে। বেজে উঠলো প্রকৃতির গান। ঘুম থেকে উঠেই কোমড় নাড়াতে পারছেনা। চোখ খুলতেও কষ্ট হচ্ছে। শেহজাকে রাত থেকে কিছু খাওয়ানো হয়নি। আশপাশটা তাকিয়ে দেখতে পেলো বিয়ে বাড়ির সব রকমের মেহমানে ভরা। শুকনো ঢোক গিললো দিয়া। একটু ঘুরতেই ব্যাথা চিলিক দিয়ে উঠে। কোমড়ে হাত দিতেই লক্ষ্য করলো মোটা করে ব্যান্ডেজ করা। কখন যে ঘুমিয়ে গেলো খেয়ালই ছিলোনা। ব্যাথার ঔষধে ঘুম ভালো হয়েছে বলেই বুঝতে পারেনি ব্যান্ডেজ করার সময়টাতে। কে করে দিলো ব্যান্ডেজ! আরো কিছুক্ষন এভাবে শুয়ে থাকার পর ন’ টা বাজে সকলে উঠে গেলো। দিয়াকে শিফা, নিশি সাহায্য করলো উঠতে। শেহজাকে ওর দাদীরা খাইয়ে দিয়েছে।দিয়া জোর করে উঠে সবার সাথে ডাইনিং এ বসলো খেতে। কোমড়ের পাশটা আঁচলে টেনে বসলো। শিফা শেহজাকে এনে কোলে দিলো। এতক্ষন পর শেহজা মাকে দেখে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। মেয়েটা খেতে চাচ্ছে। শিফাকে বললো,
– শিফা একটু হেল্প করো ভাবীকে।শেহজা খেতে চাচ্ছে রুমে দিয়ে আসো আমাকে।
খালা সাবিনা বলে উঠলো,
– বৌমা এখানেই খাওয়াও সমস্যা নেই। পুরুষরা সব বাইরে।
দিয়ার কেমন যেন লজ্জা লাগলো। শাশুড়িও বলে উঠলো,
– হ্যাঁ বৌমা তুমি নিজেও খাও,ওকেও খাওয়াও। তোমার আবার ঔষধ খেতে হবে।দেরি করোনা।
দিয়ার ক্ষুধা ও পেয়েছে।তাই শেহজাকে এখানেই খাইয়ে দিচ্ছে। নিজেও একটু করে খাচ্ছে। মামী, চাচী,ফুফু গল্প জুড়ে দিয়েছে কাল রাতের। ঠিক সেই সময়টায় রুম থেকে শাহাদ বের হয়ে আসলো শার্টের হাতায় কাফলিং লাগাতে লাগাতে। কালো শার্ট উপরে কালো ব্লেইজার। কাফলিং লাগানো শেষে সুলতানাকে ডেকে বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
– আম্মু আমি বের হচ্ছি, আপনারা সবাই সরাসরি চলে যাবেন হলে।আমি সেখানেই জয়েন করবো।
শেহজা বাবার আওয়াজ পেয়ে আঁচল সরিয়ে অস্ফুট স্বরে বাবাকে নিজের উপস্তিতি জানাচ্ছে। শাহাদ উলটো ঘুরে দেখে মেয়ে মায়ের আঁচলের তল থেকে এসব করছে একবার আঁচল সরাচ্ছে আবার মুখ ঢাকছে, দিয়া আঁচল দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে বার বার। দিয়া জোর করে আঁচল টা ধরে রেখেছে। শিফার দিকে তাকিয়ে কিছু বুঝালে শিফা শেহজাকে টেনে বের করে ফেলে। শাহাদ নিজেও লজ্জা পেয়ে ঘুরে গিয়েছে। মেয়েকে আদুরে ধমক দিয়ে বলে,
– বাবা,এমন করে না খেয়ে নাও। দুষ্টুমি করবেনা। বাবা এসে আদর করবো।
মেয়েটা বোধ হয় বাবার কথা বুঝে। ততক্ষণে শিফা শেহজাকে নিয়ে দাঁড়ালো। শাহাদকে ডাকাতে শাহাদ ঘুরে মেয়েকে কোলে নে।
– দুষ্টুমি করছিলে কেনো? তুমি না গুড গার্ল। বাবা এখন আসি।কাজ আছে বাবার। পরে কথা হবে।
পুনরায় শেহজাকে কোলে দিয়ে দিলো। দিয়া লজ্জায় তখন থেকে মাথা নামিয়েই রেখেছে। সুলতানা মুখ টিপে হাসছে। ছেলেকে লজ্জা পেতে দেখে বাকিরাও হাসছে। কিছুদূর এগিয়ে পুনরায় ফিরে এসে দিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– কোমড়ে ব্যাথা কমেছে!
দিয়া হতবাক হয়ে বাক্য ভুলে উপর নিচ মাথা নাড়ালো। শাহাদ পুনরায় বললো,
– ব্যান্ডেজ ভেজানোর প্রয়োজন নেই।ড্রেসিং করা হয়েছে। দুদিন পর চেঞ্জ করে দিব।
দিয়ার পুনরায় ধুকপুক বেড়ে গেলো।ভেবেছিলো ব্যান্ডেজ শিফা বা নিশি করেছে। কিন্তু এটা কি শুনলো! শাশুড়ির দিকে তাকাতেই দেখে শাড়ির একপাশ উলটে উনি ব্যান্ডেজ টা দেখছেন।বাকিরাও দেখছে। সুলতানা কবির বিড়বিড় করে বললেন,
– আঘাত ও দিবে,আবার যত্ন ও করবে।এই ছেলেটাকে বুঝিনা আমি।
ততক্ষণে শাহাদ সামনে এগিয়ে গেলো। ডাইনিং পেরোনোর আগেই একটা সারপ্রাইজ ঘটে গেলো। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক সুদর্শন যুবক শাহাদকে স্যালুট দিচ্ছে। শাহাদ স্যালুটের উত্তর দিলো। দুজনই নিরব। ওই মানুষটার পরনে গাঢ় সবুজের মধ্যে কালো ছোপ ছোপ জংলী পোশাক। সাধারণত এই পোশাক সেনাকর্মকর্তাদের পরনে থাকে। মেজর শাহীন ইমরোজ। ভাইকে পা ছুঁয়ে সালাম করে ফেললো। শাহাদ নির্বাক। বয়সে প্রায় আট বছরের ছোট শাহীন। শাহীন ডাকলো,
– ভাইজান…
শাহাদ মুচকি হাসি দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলো। এভাবে সারপ্রাইজ দিয়ে সবাইকে বিস্মিত করে দিবে কেউ ভাবেনি। গত তিনবছরে খুব কম স্যালুট জানিয়েছে লোকদের। নিজেকে একেবারে গুটিয়ে ফেলেছিলো শাহাদ।
– ভেতরে যাও। ফ্রেশ হও। রাতে কথা হবে।
– জ্বি ভাইজান।
শাহাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর একে একে পরিবারের অন্য লোকদের সাথে ও দেখা করলো। দিয়া ঘোমটা দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। দিয়ার সামনে এসে বড় করে এক সালাম দিলো।শেহজাকে শিফার কোল থেকে নিয়ে বললো,
– ভাবী মা কেমন আছেন?
এতদিন কাজিন দেবরদের কাছ থেকে সম্বোধন পেয়েছে।ওরা প্রত্যেকে শাহাদ,শাহীন থেকে ছোট। এত বয়সের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ওকে ভাবীমা বলছে নিজেরই লজ্জা লাগছে। তবুও ভদ্রতার খাতিরে বললো,
– জ্বি ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি ভালো আছেন?
– ছিলাম না, কিন্তু আপনাকে আর আমার শেহজা আম্মাকে দেখে অনেক ভালো হয়েছি। প্রায় তিনবছর পর দেশে এসেছি। আপনাদের বিয়েতে তো থাকতে পারিনি। এমন একটা প্রফেশনে আছি চাইলেই নিজের মন খুশি মত কিছু করতে পারিনা।
– এবার তো আছেন বেশ কিছুদিন তাই না। সবাইকে নিয়ে আনন্দে কাটান।
– আরেহ আছিনা ভাবিমা, বুড়া হয়ে যাচ্ছি বিয়ে করতে আসছি। আমার ব্যাপারে তো কারো কোনো ধ্যানই নাই। চুল পেকে যাচ্ছে। আমার না হওয়া বউটা বোধ হিয় দিন রাত কেঁদে কেটে ঘরকে প্রশান্ত মহাসাগর বানিয়ে দিয়েছে। অথচ আমার বাপ,মা,ভাইজানের কোনো খেয়াল নেই আমার দিকে।এবার আপনি একটা ব্যবস্থা করুন তো।
সুলতানা ছেলের কান ধরে বলে,
– তবে রে, এসব ভেবে এসেছিস তাহলে।আমাদের জন্য নয়!
ফুফু মঞ্জিলা হেসে বলে,
– নিশাদের বিয়ের পর তোরে বিয়ে দিব অপেক্ষা কর। যা হলে যেতে হবে রেডি হয়ে যা।
– দেখেছো আমার ছোট টার ও বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
সকলে হেসে উঠলো।ভাতিজিকে নিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো যেখানে আস্তানা গেড়েছে শিফা। শিফার রুম টা কেড়ে নিয়েছে শেফালী। ভাই আসাতে আপাতত কোনো রকম গুছিয়ে দিয়েছে।
হামজার অবস্থা আগে থেকে কিছুটা ভালো।আশঙ্কাজনক অবস্থা কে-টেছে। শাহাদ দেখেই বের হয়ে সোজা অফিসে এসেছে। সামনে পাভেল,লাবিব বসে আছে। প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, উত্তপ্ত মেজাজের লোকটাকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এই লোকের র*ক্তে,শিরায় রয়েছে স্পেশাল ট্রেইনিং। উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তা, শাহাদ ইমরোজ বললেই কেঁপে উঠে। তার অবশ্য যথাযথ কারণ আছে। বাবা সাবেক এমপি হওয়ায় রাজনীতির প্রাঙ্গণে বাবার সাপোর্টিভ হ্যান্ড হিসেবে সুপরিচিত শাহাদ ইমরোজ। বেশকিছু নেতাকর্মী গুন্ডা শাহাদ ও নামেও ডাকে। এর যথেষ্ট কারণ আছে। যেহেতু বাবা ইলেকশন করতো অনেক সময় সে উপস্থিত থাকতো, দূর্নীতি অন্যায় দেখলেই সেই নেতার রাজনীতি জীবন তছনছ করে ছাড়তো। ইজ্জতের বেহাল দশা হত। ইলেকশনের সময় দূর্নীতি করে তার বাবার দলের একজন সিনিয়র নেতা ভোট চুরি করতে অন্য কেন্দ্রে গিয়ে দলের ছেলেদের আদেশ দিচ্ছিলো।তখন একজন মধ্যবয়স্ক নারী প্রতিবাদ করলে সেই নারীর গায়ে হাত তোলে। নারীর উনিশ বছরের মেয়েকে তুলে আনার হুমকি দেয় এবং সেই মেয়ের গায়ের ওড়না খুলে জনগনের সামনে অশালীনভাবে মেয়ের শরীরের অঙ্গ ছুঁয়ে দেয়। ঘটনা ঘটার আগেই শাহাদের কানে খবর চলে যায়,সেই নেতা কেন্দ্রে ঝামেলা করছে।আশেপাশে থাকায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়,চোখের সামনে মেয়ের গায়ে হাত দিতে দেখলে এগিয়ে যেতে যেতে পাভেলের কাছে পুরো ঘটনা শুনে পাঞ্জাবির হাতা গুঁটে নিলো। চোখের চশমাটা জায়গামত লাগিয়ে হাত ঘড়ি খুলে পাভেলের হাতে ধরিয়ে দায়িত্বরত পুলিশের কাছ থেকে দেড় ইঞ্চি মোটা লাঠি নিয়ে সকলের সামনে ওই নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।উপস্থিত জনতার মুখে হাসি তো ছিলোই পাশে ওই মা মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শাহাদের সামনে। শাহাদ সেদিন প্রতিটা মা-মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলো,
– প্রতিবাদ করবেন, কেউ যদি কোনো ক্ষতি করে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।কার বাপের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে দেখবো যে আমার মা বোনকে অপমান করে। পাভেল এই হারাম** কে হাসপাতালে নিয়ে যা। খবরদার যদি ভোট চুরি হয়েছে তো ব্যালট বক্সে আগুন জ্বালায়ে দিব। আর পুলিশ কি দাঁড়িয়ে আঙ্গুল চু/ষ/তে/ছে। একটা চুষনি এনে দে রে লাবিব। সাথে চুড়ি আর ওড়না এনে দিস। এদের কাছে নাকি সরকার পাওয়ার দিছে। পাওয়ার তো শুধু রাস্তায় বাইকার ধরে ক্ষেপ মারার জন্য আর গাড়ির লাইসেন্স ধরে ঘুষ খাওয়ার জন্য দিছে তাই না! লাইন্সেন্স বিহীন বাস গুলা বাপের জন্মেও ধরছে কিনা সন্দেহ আছে। থানায় যে শত শত অমীমাংশিত কেইস পড়ে আছে তার বেলায় খবর নাই। পরবর্তীতে অন্যায় দেখেও এভাবে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে বুঝায় দিব আমি কত বড় গুন্ডা।
সেদিন সেই কেন্দ্রে খুব ভালো ভোট হয়েছিলো। তবে রায়হান সাহেবের দলের সেই নেতা হেরে গিয়ে বিরোধী দলের একজন হয়েছিলো। শাহাদ জানে বিরোধী দলের সেই প্রার্থী ও মানুষ হিসেবে চমৎকার। যে দলেরই হোক, দেশের উপকার প্রয়োজন।
– লাবিব,কাজটা কার ছিলো।
লাবিব এবং পাভেল বসের দিকে মনোযোগ দিলো ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে। লাবিব একটু ভেবে বললো,
– স্যার আমি নিশ্চিত না তবে নেতা পারভেজের কাজ ও হতে পারে। হামজার বাবা পারভেজের দলে কাজ করতো।উনি তো কিছু বছর আগে মারা গিয়েছে।
পাভেল আচমকা বলে উঠলো,
– বস পারভেজের কাজ না এটা। হোম মিনিষ্টারের কাজ।
শাহাদ শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে। পাভেল ঘটনা পরিষ্কার করতে বললো,
– বস হামজার জায়গায় আজকে সেখানে আপনি থাকতেন।
লাবিব কিছুটা চমকে উঠলো। শাহাদ জানতে চাইলো,
– হেয়ালি না করে ক্লিয়ার করো।
– বস আপনি তো ওইদিন রাতে বাসায় আগে গিয়েছেন।আমাকে আর হামজাকে বলেছিলেন আংকেলের ফাইলটা নিয়ে আসতে। সচরাচর আপনি তো আমার পাশে বসেন এটা সবাই জানে। হামজা আমার পাশেই বসেছিলো সেদিন। হামজা পরেছিলো আপনার দেয়া কালো পাঞ্জাবিটা। ওরা হামজাকে অন্ধকারে বুঝে উঠতে পারেনি। হামজাকে আমি ওর ফ্রেন্ডের বাসায় নামিয়ে দিই। ওরা আমাদের গাড়ি ফলো করছিলো।হামজা নামার পর পরই এই দূর্ঘটনা ঘটে। অন্ধকারে আপনাকে না চিনে যেভাবে পেরেছে ওভাবে কুপিয়েছে।
শাহাদ হাসছে। মনে মনে ভাবছে, হোম মিনিষ্টার তুমি আমাকে মারতে এত মরিয়া হয়ে উঠেছো অথচ সামনে গেলেই বলো রাশেদের কেইসটার যেন একটা সুরাহা করি। অবশ্যই সুরাহা করবো ইনশাআল্লাহ।
ভাইয়ের রুমে সেই ছবিটা। শাহাদ, শাহীনের কাঁধ জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শাহাদের হাত ছিলো শাহীনের জন্য ভরসা,আত্মবিশ্বাস। শাহীনের র্যাংক পরিয়ে দেয়া মানুষটা ছিলো শাহাদ। ভাইয়ের রুম টা আজো সেই পরিচয় বহন করে। ছবিতে জ্বলজ্বল করছে অকুতোভয়, দুঃসাহসী, সংগ্রামী সৈনিক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লে.কমান্ডার শাহাদ ইমরোজ। সাদা ইউনিফর্ম, কাঁধে গুরুত্বপূর্ণ র্যাংক। প্রতিটি চিহ্ন প্রকাশ করছে তার দুঃসাহসীকতা,বুদ্ধিদীপ্ততা,ক্ষীপ্রতা। মাথায় সাদা কালো ক্যাপ, চোখে নির্ভয় যেন যেকোনো সময় প্রতিটি আক্রমনের জন্য প্রস্তুত। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ভাই শাহীন ইমরোজ ক্যাপ্টেন র্যাংক পেয়েছে।
কাঁধে শক্ত হাতের ছোঁয়া। পেছনে ঘুরতেই প্রফেশনাল জীবনের অভিভাবককে পেয়ে চোখের কোণে উঁকি দেয়া জলটুকু আঙুলের খোঁচায় অদৃশ্য করে দিলো।
– হোয়াট হ্যাপেন্ড মেজর!
– নাথিং সিরিয়াস স্যার।
– ডোন্ট বি স্যাড, পাস্ট ইজ পাস্ট।ইউ হ্যাভ টু লিভ ইন প্রেজেন্ট এবং থিংক এবাউট ফিউচার। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার।
– আই,আই স্যার।
শাহাদ কিঞ্চিৎ হাসলো। ভাই এখনো তাকে আইডল ভাবে। আই,আই কথাটা শুনে র*ক্ত আবার ঝলসে উঠেছে। মনে হচ্ছে এইতো হাত ছানি দিয়ে ডাকছে সমুদ্র। বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি ছিলো তার ঘাঁটি। সমুদ্র ছিলো তার বাড়ি। অথচ আজ তিন বছর বাড়ি যাওয়া হয়না। বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে।এখনো রাতে মনে হয়, এইতো পানির নিচে সাসপিশাস কিছু আছে। ঝাঁপ দেয়াটা জরুরি। নতুন অফিসারদের স্কুভা সেখানো যেন নেশার মত ছিলো। নেভাল টার্মে (Aye,Aye Captain or Sir) এই তিন শব্দের মানে অনেক সিম্বোলিক। যার অর্থ ( I hear the order, I understand the order and I will obey the order)
– রেডি হতে যাও,শাহীন। কিছুক্ষনের মধ্যে বের হতে হবে আমাদের।
– জ্বি ভাইজান।
‘ শান্তিতে সংগ্রামে, সমুদ্রে দূর্জয়’ এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমেছিলো। সেই পণকে মনে প্রাণে ধারণ করে হয়ে উঠেছিলো সেরাদের একজন। যাকে ঘিরে ছিলো ডিপার্ট্মেন্টের আশা। অনেকগুলো
মিশন,অপারেশন সাকসেসফুল করেছে দেশের জন্য। হাতে ক্ষমতা ছিলো। কিন্তু প্রয়োজনে সেই ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারেনি। সেদিন থেকেই প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলো যেখানে ক্ষমতা সেখানে শাহাদ। স্বেচ্ছায় আড়ালে এলো বাংলাদেশের নৌবাহিনীর চৌকস,অত্যন্ত সাহসী,বিচক্ষন লে.কমান্ডার শাহাদ ইমরোজ। যাকে সাধারণ মানুষের ভাষায় অবসর বলে হয়তো। নেভাল একাডেমি এখনো স্মরণ করে সেই অফিসারকে। যার আন্ডারে থাকা প্রতিটি অফিসার এখনো খোঁজ নিয়ে বলে,
– Your Team Miss you King of the wave.
‘কিং অফ দ্য ওয়েভ’, এই নাম রাশেদের দেয়া। এরপর থেকে নেভাল একাডেমিতে কিং অফ ওয়েভ বললে এক নামে চেনে। শাহাদের অসাধারণ ক্ষমতা ছিলো স্রোতের সাথে সখ্যতার।#সায়রে_গর্জন তোলার। বিশাল উত্তাল ভরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে কত মিশনের ঝুঁকি নিয়েছে, কত অপরাধ দমন করেছে, কত অসহায়ের প্রাণ বাচিঁয়েছে।মহান রব সবসময় পাশে ছিলেন। সর্বোচ্চ ভয়ানক মিশন ছিলো নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনশ বিশ জন নাবিকদের উদ্ধার করা, তিনটে নেভি শিপ জ্বালিয়ে দেয়া। যেখানে দেশের হাজার কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ছিলো। নাবিকরা তার নাম দিয়েছে ‘ আলবাট্রস’। সেদিন উড়ে এসে ‘আলবাট্রসের’ মতো বাঁচিয়েছিলো তাদের।দস্যুদের জন্য আতঙ্ক ছিলো এই নেভি অফিসার। মনের সাথে সেবার যুদ্ধ করে খুব অল্প বয়সে এই ‘স্রোতের রাজা’ অবসরে চলে আসে। এই নিয়ে কত বাকবিতন্ডা,তর্ক-বিতর্ক উচ্চ পদস্থ অফিসারদের সাথে,নেভাল একাডেমি তাকে ছাড়তেই চায়নি। বাবার সাথে তো রীতিমতো নিরব স্নায়ুযুদ্ধ চলেছে কয়েকমাস। শেষে রায়হান সাহেব হাল ছেড়ে বলেন,
সায়রে গর্জন পর্ব ৭
– ইউর লাইফ, ইউর উইশ। ক্যান ডু এনিথিং।
শাহাদ হেসে মনে মনে বলে উঠে,
-ফাইনালি দ্য ডিসিশন হেজ বিন লকড। শাহাদ উইল এচিভ হিজ গোল।
নতুন লড়াইয়ের জন্য মাঠে নেমে পড়তে হবে। এখন সে অনেকের কাছে বেকার, গুন্ডা শাহাদ ইমরোজ, আবার অনেকের কাছে জনগনের নেতা, সৌভাগ্য করে পাওয়া অভিভাবক, তাদের ভবিষ্যৎ। রায়হান সাহেবের কাছে বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীরা সিনিয়র হিসেবে পরামর্শের জন্য আসে। এক্সটার্নাল অনেক ব্যাপারই শাহাদ সমাধান করে দেয়। সহজেই নিজেকে জড়ায় না যদি না সমস্যা জটিল আকার ধারণ না করে। কিছু সমস্যা বড় বড় নেতা রা যদি সমাধান দিতে না পারে কিভাবে যেন শাহাদ ইমরোজ চুটকিতে সমাধান করে দেয়। সবচেয়ে বেশি ভীত থাকে বিপথে যাওয়া নেতারা। ছেড়ে এসেছে তার সমুদ্র বাড়ি। সময়ের অপেক্ষা, পুনরায় জলোচ্ছ্বাস হয়ে আঁছড়ে পড়ার। আবার তুলবে #সায়রে_গর্জন। এবার প্রস্তুতি অসীম। মানচিত্র বদলে দেবে সেইসব মানবরূপী নামধারী পশুদের, তার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটাকে কেড়ে নেয়ার অপরাধে।
