Home সায়রে গর্জন সায়রে গর্জন পর্ব ৯

সায়রে গর্জন পর্ব ৯

সায়রে গর্জন পর্ব ৯
নীতি জাহিদ

দিয়া একপাশে শেহজাকে কোলে নিয়ে বসে আছে গেস্টের মতো। মাঝে মাঝে নিশি,শিফা এসে দেখে যাচ্ছে। শেহজা এতক্ষন চুপচাপ ছিলো। সদ্য নতুন কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। মেয়েটা এখন আর চুপ থাকবেনা। দূর থেকে যা শুনার শুনেছে। এত দূর থেকেও কিভাবে চিনে ফেলে গলাটা। হয়তো রক্তের টান বলেই। দিয়া নিজেও কোমড়ে ব্যাথা নিয়ে সামলাতে পারছেনা, অপর দিকে শেহজাকে নেয়ার জন্য কাউকে ডাকতেও পারছেনা। পারপেল কারচুপি কাজের মসলিন শাড়ি পরেছে। একবার তাকালেই মায়ায় পড়ে যাবে। হাসলে একপাশে টোল পড়ে। মাথায় পারপেল হিজাব। শেহজাকে রাখতে না পেরে দাঁড়িয়ে যায়৷ ব্যাথাটা সাথে সাথে টনটন করে উঠে। লম্বা পা ফেলে দিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়, শেহজা অস্ফুট স্বরে কিছু একটা বলছে বাবাকে দেখে৷ দিয়া তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, শাহাদ আগ বাড়িয়ে মেয়েকে কোলে নেয়। দিয়া দাঁড়াতে পারছিলো না, দূর থেকে ঠিকই খেয়াল করেছে।শাহাদকে দেখে চেয়ারে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শাহাদ আশপাশটা দেখছে প্রচন্ড ভিড়।শেহজাকে কোলে নিয়ে দিয়ার দিকে তাকালো। হাত বাঁড়িয়ে দিলো দিয়ার দিকে।দিয়া বুঝতে পারছেনা শাহাদ কি চাইছে। শাহাদ দিয়ার মনোভাব বুঝতে পেরে বললো,

– ফারাহ… হাতটা ধরো।
দিয়া ঘোরের মধ্যে চলে গেলো। আবারো সেই মনে ঝড় তোলা আর্তনাদ। সেই উচ্চারন, সেই ডাক। সাতপাঁচ না ভেবে মুহুর্তের অপচয় না ঘটিয়ে খপ করে হাতটা ধরে ফেললো। শাহাদ হাতের দিকে তাকিয়ে হাতের মুঠো ঘুরিয়ে আকড়ে ধরলো দিয়ার হাত। ডান পাশে কোলে মেয়ে, বাঁ হাতে স্ত্রীর হাত। দিয়া একহাতে শাড়ির কুচি ধরেছে।অন্য হাত শাহাদের মুঠো বন্ধি। মাঝপথে এগিয়ে আসে এলিন। বানিজ্য মন্ত্রী কিছুক্ষন আগেই তার পরিবার নিয়ে বিয়েতে এসেছে।পারিবারিক সব প্রোগ্রামে শাহাদ নিমন্ত্রণ জানায় মন্ত্রীকে। এলিন এসে শাহাদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়।সালামের উত্তর দিলো শাহাদ। শাহাদের পাশে মেয়েটাকে দেখে কেমন যেন মোহে চলে গেলো। কোলে থাকা পুতুলটা শাহাদের মেয়ে বুঝতে পেরে এলিন হাত বাড়ালো শেহজাকে কোলে নিতে।মেয়েটা এমনিতে মিশুক স্বভাবের।হাত বাড়াতেই চলে গেলো। দিয়ার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো ,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

– উনি কে?
শাহাদ দিয়াকে আরো শক্ত করে ধরে বললো,
-আমার সহধর্মিণী ফারহানা দিয়া।
এলিন চক্ষু ছানা বড়া করে বলে,
– সিরিয়াসলি, উনি আপনার ওয়াইফ। আপু আপনি এইজ ধরে রেখেছেন কিভাবে? আপনাকে একদম টিনেজার লাগছে?
এই প্রথম এভাবে পরিচয় পেয়ে দিয়া আজ আকাশের চাঁদ পেলো। এলিনকে লক্ষ্য করলো। যথেষ্ট মার্জিত,মানানসই, সাবলীল। হঠাৎ করে ভয়ে আঁৎকে উঠলো।বুকটা কেমন হারানোর ব্যাথা জানান দিলো। শাহাদের সাথে এই মেয়েকে মানাবে ভালোই! কি সব ভাবছে। নাহ! একদমই নাহ! শেহজার বাবা শুধুই তার। কাছেই ঘেষতে দিবেনা কাউকে। করুক অপছন্দ তাকে।তবুও তার।
এলিনের কথায় শাহাদ প্রচন্ড বিরক্ত এবং বিচলিত।এই মেয়ে বেশি কথা বলে। কানাকড়ি সময় নষ্ট না করে এলিনকে বললো,

– আপনি কি আমাদের একটু সময় দিবেন মিস।ফারাহ একটু অসুস্থ। ওকে বসিয়ে দি৷ শেহজাকেও খাওয়াতে হবে।
– নাইস নেম।শেহজাকে নাহয় আমি খাইয়ে দিব।
শাহাদ দিয়ার দিকে তাকিয়ে আবার এলিনের দিকে তাকালো।প্রবল বিরক্ত ভাবে ভ্রু কুঞ্চিত, মুখ খিঁচে এলো। দিয়ার ভেতর টা কাঁচুমাঁচু করছে কিছু বলার জন্য।
– এলিন আপনি কিভাবে খাওয়াবেন। আমার বেবির বয়স ন’ মাস। ওকে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে হবে।
শাহাদের এমন জবাবে এলিন মারাত্মক লজ্জা পেয়ে শেহজাকে কোলে দিয়ে দিলো। স্যরি বলে সামনে থেকে সরে গেলো। দিয়া নিজেও মাথা নামিয়ে ফেললো।শাহাদ এবং দিয়াকে দূর থেকে রায়হান সাহেব এবং সুলতানা দেখছে।একে অপরকে ইশারাও করছে।কিন্তু কেউ কোনো হেতু বের করতে পারলোনা। তাই আপাতত মেহমানদের সামলাচ্ছে। শাহাদ দিয়াকে নিয়ে একটা চেঞ্জিং রুমে বসলো। ভেতর থেকে দরজা আটকে নিজেও বসে পড়লো। দিয়া শেহজার মুখটা মুছে দিলো। দিয়ার দিকে তাকিয়ে বলছে,

– বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। এখানেই বসে থাকো।
দিয়া মাথা কাত করে সম্মতি জানালো। শেহজা বাবার সামনেই কাঁদছে। দিয়া সামলাতে না পারাতে শাহাদ কোলে নিতেই কি কি যেন বলছে। এমন তো করে না পুতুল টা। শাহাদ ভ্রু কুঞ্চিত করে দিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– কি বলছে মেয়ে?
দিয়া মাথা নামিয়ে বলে,
– ক্ষুধা পেয়েছে।খাবে বলছে।
শাহাদ শেহজাকে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো। এক মিনিটের মাথায় আবার ফিরে এসে খট দরজা লাগিয়ে দিলো। দিয়া চেয়ে রইলো মুখের দিকে। শাহাদ প্রশ্ন করলো,

– আমি থাকলে আমার সন্তানকে ফিড করাতে কি কোনো অসুবিধা হবে!
কি উত্তর দেয়া উচিত বুঝতে পারছেনা! এতটা কাছে তো এখনো আসেনি যে লজ্জা ভেঙে যাবে। তবুও মানুষটা একটু খানি কথা বলছে এত বছর পর এটাই অনেক। দিয়া ভেবে মাথা নাড়ালো। শাহাদ ফোন বের করে কাজ করছে,দিয়া অন্যপাশে ঘুরে ফিড করাচ্ছে। শাহাদ ভেবেছিলো দিয়াকে এই স্পেসটা দিবে। কিন্তু বাইরে যা অবস্থা দিয়াকে একটু ও সেফ মনে হচ্ছেনা এখানে। এরচেয়ে নিজে বসে থাকাই ভালো। এভাবে তো প্রথম দিকে ও সেভ করেছিলো। শাহাদ মেইল চেক করছে। দিয়া শাহাদের মুখের দিকে তাকাতেই কেমন যেন নিজের মানুষ মনে হলো। তখনই শাহাদ তাকালো দিয়া দিকে। চোখাচোখি হতেই লজ্জ্বা পেয়ে গেলো দিয়া, শাহাদ একদম স্থির দৃষ্টিতে দিয়ার দিকে তাকিয়েছে। দিয়ার হার্ট খুব জোরে বিট করেছে। মনে হচ্ছে এখনই জ্ঞান হারাবে। শাহাদের হ্যাজেল আইয়ের দিকে তাকিয়ে দুবার ঢোক গিললো। মানুষটা নিজের হয়েও এত পর যে তার দিকে তাকাতেই কত বার ভাবতে হয়। শাহাদের মনের অনুভূতি কখনো প্রকাশ করেনি। শাহাদ কখনোই ভালোবাসেনি দিয়াকে। ভালোবাসার প্রশ্ন আসলে শাহাদ বার বার বলেছে,

– ভালোবাসা শব্দটা পরিপূর্ণ হতে চারটা অক্ষর লাগে, অথচ ভালোবাসা উৎপন্ন হতে কখনো চার সেকেন্ডই যথেষ্ট আবার কখনো চল্লিশ বছরেও হয়না।
বিয়ের পর শাশুড়ির কথায় বেহায়া হয়েছিলো বার বার। আচমকা দুবছর পর এমন একটা প্রশ্ন মাথায় আসলো কেনো। দিয়া সময় নষ্ট না করে শাহাদকে প্রশ্ন করে বসলো,
– একটা প্রশ্ন করি!
শাহাদ চোখের পলক ফেলে বললো,
– হুম।
– আপনি তো আমাকে কখনোই ভালোবাসেন নি,আমার জানামতে বাসবেন ও না। তাহলে শেহজা কি আপনার-আমার ভালোবাসার অংশ নয়?
শাহাদ নিঃশব্দ,স্তব্ধ। নিজেকেই প্রশ্ন করলো, যে সন্তান তার চোখের মণি,যাকে সে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসে, তার মাকে সে ভালোবাসেনি কখনো! তাদের ভালোবাসার,প্রণয়ের অংশ নয় সন্তান! দিয়া জানে সে উত্তর পাবে না। শাহাদকে বিব্রত দেখতেও ভালো লাগছেনা। তাই নিজেই আগ বাড়িয়ে বললো,

– জানেন শেহজার বাবা, আমার এই দুনিয়াতে খুব কাছের সম্পর্কের মধ্যে আপনি আর শেহজা ছাড়া আর কেউ নেই। আপনি তো আমাকে কোনো ক্যাটেগরিতে বিবেচনা করেন না। শেহজাও কয়েকবছর পর ভুলে যাবে তার জীবনে মা নামে কেউ ছিলো। সেদিন বড় আপা বলছিলো, তোকে তো আমার ভাই রক্ষিতাও রাখবেনা। তুই আমার সংসার নষ্ট করেছিস। এই একটা কথা কেনো আমাকে সবাই বলেন। আমি আপনাকে কতবার বুঝিয়েছিলাম আমি ইচ্ছে করে করিনি।
কথার মাঝে দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে বুঝতে পারলো শাহাদ বেরিয়ে গিয়েছে। দিয়ার কথা শুনতে পছন্দ করছে না।শাহাদ গিয়ে শিফা এবং নিশিকে পাঠিয়ে দিয়েছে।

শেফালী তখন থেকে কার সাথে কথা বলেই যাচ্ছে ফোনে। মা ডাকাতে নিশাদের বউয়ের কাছে চলে এসেছে। নিশাদের বউ মাশাল্লাহ খুবই সুন্দর। আচমকা আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ একজন বলে ধীরে বলে উঠলো,
– যে যাই বলুক আমাদের শাহাদের বউ লাখে একটা।
শেফালী শরীরে জ্বলন ধরে গেলো। এই মেয়ে বাড়ি আসার পর থেকেই সবার কেনো তুলনা করতে হবে। বংশের সব ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর শেফালী। দুইভাইকে প্রেম পত্রের জন্য কত ছেলের বিচার বসাতে হয়েছিলো তার ইয়ত্তা নেই। সেখানে সংসারে একটা নতুন মেয়ে আসতেই তুলনা শুরু করেদিলো সবাই তার সাথে। ওই গেঁয়ো মেয়েটার সাথে তার সবসময় তুলনা করতে হবে কেন! পড়াশোনাটাও তো করেনি ঠিক ভাবে। অথচ শেফালী ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছে এরপর ঘরে বসে আছে। ছোট ভাইয়া বার বার বলেছে জব করতে। এত কষ্ট কে করবে। বাবা ভাইদের আছে অনেক।দিব্যি চলে যাবে আরামে। ভিড়ের মধ্যে সে কথার উত্তর শেফালী দিতে এক মিনিট ও দেরী করলো না।স্টেজে সকলের সামনে বলেই ফেললো,

– আন্টি কিসের সাথে কি তুলনা করেন, কোথায় দিয়া আর কোথায় অন্বেষা। অন্বেষা ফার বেটার দ্যান দিয়া। আপনারা দিয়াকে কি হিসেবে সুন্দর বলেন।সাদা চামড়া যদি সুন্দর হইতো তাহলে তো চায়নিজ গুলাও সুন্দর। আসল কথা চায়না জিনিস আমরা বিশ্বাস সহজে করিনা।
– শেফালী, জাস্ট শাট আপ। আর একটা কথা বাড়ালে আমি ভুলে যাব তুমি কে? তোমাকে এত বয়সে বার বার কেনো শেখাতে হবে বড়দের কিভাবে সম্মান করতে হয়!
শাহাদের বজ্রকন্ঠের ধমকে ভয় পেয়ে গেলো সকলে। শেফালী মাথা নত করে রইলো। শাহাদ গমগমে পায়ে প্রস্থান করলো। এক ডোজই যথেষ্ট ভরা মহলে এই মেয়েকে দমাতে। ফুফু নিজেও ভয় পেয়ে গিয়েছে। এই মেয়েকে কেউ পছন্দ করেনা। যেখানে যাবে সেখানেই ঝামেলা করবে। কে বলেছে শাহাদের বউয়ের সাথে তুলনা করতে। শাহাদের বউয়ের সাথে তুলনা করে আদৌ কোনো লাভ আছে। তাহলে তো বিদেশী মেয়ে বিয়ে করালেই পারতো। শেফালী আজন্ম হিংসুটে। কার মতো হয়েছে। শরীর ভরা অহংকার এই মেয়ের।

বাড়িতে আসার সাথে সাথে মঞ্জিলা জেদ ধরে বসলো সবাইকে নিয়ে আজ রাতেই রওয়ানা দিবে ইন্দ্রপুর। সেখানে বাবা- মায়ের, শ্বশুর-শাশুড়ির কবর আছে।ছেলে নতুন জীবন শুরু করার আগে তাদের কবর জিয়ারত করে আসুক। বৌভাতের অনুষ্ঠান ও সেখানে হবে। মঞ্জিলার কথায় রাজি হয়নি রায়হান সাহেব। ভাইকে রাজি করাতে না পেরে ভাতিজার কাছে চলে যায়। শাহাদকে অনেক বুঝানোর পর রাজি হয়ে যায়। এখন আপাতত পাঁচটা মাইক্রো বাস রওয়ানা হলো ইন্দ্রপুরের উদ্দেশ্যে। শাহাদ যাচ্ছে না আজ রাত। আগামীকাল মিটিং শেষ করে যাবে।
রাতে পুরো বাড়ি নিরব, নিশব্দ, নিঃসঙ্গ। লাইব্রেরির বন্ধ কেবিনেট থেকে একটা ছবি বের করেছে। দুই বন্ধুর দূর্ধর্ষ অর্জনের ছবি। ছবিটার দিকে তাকিয়ে আবেগটাকে কিছুতেই সামলে নিতে পারলো না। আবেগী জল বেয়ে পড়ছে চোখ দিয়ে। বিড় বিড় করে বলছে,

– তুই চলে গেলি, আমার জীবনের অনেক বড় একটা অংশ ছিনিয়ে নিয়ে গেলি। চাইলেই আর কাম বেক করতে পারবোনা। কথা দিয়েছিলি একসাথে রিটায়ার্ড করবো। অথচ আমার আগেই রিটায়ার্ড নিলি।
চোখ বুঁজে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসলো। চোখের সামনে ভেসে উঠলো প্রথম কমিশন্ড পাওয়ার দিনের কথা। শিপে ট্রেইনিং চলছিলো। সমুদ্রকে করে নিতে হয় বাড়ি। প্রথম দিকে শাহাদ মন খারাপ করে ফেলতো, রাশেদ সাহস দিত। কমান্ডিং এ ভুল করে ফেলতো। শরীর খারাপ হয়ে যেত। যেদিন প্রথম কমিশন্ড পেলো মনে হলো সাগরটাকে নিজের নামে করে নিলো। BNS Samudra Joy ছিলো ঠিকানা। সমুদ্রে প্রতিটি দিন ছিলো আতঙ্কের। যেদিন লে.কমান্ডার কমিশন্ড পেলো সেদিনই রাশেদ শাহাদকে বলেছিলো Congratulations, king of the wave Lt. Commander Shahad Imroz’। রুমের গ্লাস কেবিনেটে প্রতিটি অর্জনের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেই বাঁধানো ফ্রেমটি। শাহাদের জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলো রাশেদ। যেখানে লিখা আছে ব্লক লেটারে এই কমপ্লিমেন্ট। আঠারো বছর আগের ভীতু শাহাদকে পরিবর্তন হতে দেখেছে ডিপার্টমেন্টের প্রতিটি অফিসার। শাহাদ ছিলো অন্যায়ের জন্য ভয়ের অপর নাম। গতবছর কক্সবাজার গিয়েছিলো একটি কাজে। নেভাল একাডেমির সামনে দিয়ে আসার সময় মনে হলো সেখানে নেমে অবস্থা দেখে আসা যাক। ভেতরে ঢুকতেই আগের মত সম্মান। এগিয়ে এলো কমান্ডার আবদুল গফফার, জুনিয়ররা সবাই, শাহাদকে দেখে তাদের মধ্যে অন্যরকম তেজ লক্ষ্য করা গেলো। সাব লেফটেন্যান্ট তানভির তো বলেই ফেললো,

– স্যার সেদিন অসুস্থ না হলে জানতামই না আপনি শাস্তি হিসেবে টেন পুষ আপ ফিনিশ করতে বলেন।
লেফটেন্যান্ট আশিক বললো,
– স্যার আমাকে তো গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে তিন মিনিট বেশি কথা বলার অপরাধে ত্রিশ রাউন্ড রেস শেষ করতে বলেছিলেন শাস্তি হিসেবে।
কমান্ডার গাফফার হেসে বললেন,
– এতে তোমাদের লস কি কি হলো শুনি?
তানভীর মুচকি হেসে বললেন,
– অনেক বড় লস হয়েছে। ওইসব শাস্তিতে এতটাই অভ্যস্ত হয়েছিলাম যে স্যার যখন সোয়াডস এ যান মারাত্নকভাবে আপনার শাস্তি গুলো মিস করতে থাকি। এরপর তো আপনাকেই হারালো বাংলাদেশ নেভি।
শাহাদ ইষৎ হেসে বলেছিলো,
– আমার চেয়ে বেটার অপশন আছে তোমাদের।
কমান্ডার গাফফার বলে উঠলেন,
– কমান্ডার তোমার থেকে বেটার অপশন হয়তো আছে কিন্তু তুমি নেই এখন।

সায়রে গর্জন পর্ব ৮

শাহাদ স্মৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সেসব ভুলতে উঠে গেলো চেয়ার থেকে। বেরিয়ে আসে লাইব্রেরি থেকে। ঘুম আসবে না আজ রাতে। ভাবছে ধানমন্ডিতে লেকের সাইডটাতে একটা রেস লাগানো যাক। রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলো রাত দেড়টায় রেস লাগাতে। অভ্যাস পরিবর্তন হয় না এত সহজে।
ফুরফুরে বাতাসের শীতল ঝাপটা মুখে নাকে,সর্বাঙ্গে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। যান্ত্রিক শহরটা ভুলেই যায় তার সুখের কথা।নিজেকে বিলিয়ে দেয় শহরের মানুষগুলোর নির্মম অত্যাচারে। রাত্রি নামতেই আবার ফিরে আসে নিজের রূপে। নিশাচর প্রাণী হয়ে শহরের প্রিয় জায়গায় বিচরনের সুযোগটা আজ হারাতে চায়না। এই রাস্তায় কত শত রেস লাগিয়েছে রাশেদকে সাথে নিয়ে। বট গাছটার নিচে এসে থমকে গেলো। পকেট থেকে ফোন বের করে ছোট্ট ক্ষুদে বার্তার উত্তর চেক করলো,
– Vaijan safely reached. Little fairy and Bhabi ma both are safe.
ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে পুনরায় এগিয়ে গেলো জীবনের রেসে।

সায়রে গর্জন পর্ব ১০