Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১০

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১০

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১০
Raiha Zubair Ripti

জীবনটাকে ভীষণ রকমের সুন্দর তখনই মনে হয়, যখন জীবনে ভালো কিছু ঘটে। আর যখন দুঃখ-দুর্দশা চারপাশ ঘিরে ধরে, তখন এই জীবনটাই সবচেয়ে জঘন্য মনে হয়।
মুনতাহার কাছেও এতদিন জীবনটা ঠিক তেমনই ছিল,ভারী, অস্বস্তিকর, নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো জঘন্য । কিন্তু এখন? এখন যেন সবকিছু বদলে গেছে। একই জীবন, অথচ অনুভূতিটা সম্পূর্ণ আলাদা। এতো সুন্দর জীবন সে আগে কখনো পায় নি।
সিকান্দারের আজ অফিসে প্রথম জয়েনিং ডে।
সকালটা শুরু হয়েছিল একদম ভিন্নভাবে। নিজের রুমেই মুনতাহাকে নিয়ে ব্রেকফাস্ট করেছে সে। কালো রঙের ফিটিং স্যুট, ঝকঝকে জুতা পুরোপুরি সাহেবিয়ানা লুক। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাই ঠিক করতে যাওয়ার সময় মুনতাহা এগিয়ে এসে নিজ হাতে টাই বেঁধে দেয়।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে কাজের লোককে ডেকে সিকান্দার পরিষ্কার করে বলে যায়-

“ মুনতাহার খাবার সময়মতো রুমে দিয়ে আসবে। তার কিছু লাগলে সাথে সাথে তা করে দিবে। ওর যেন রান্নাঘরে আসতে না হয়।”
মুনতাহা অস্বস্তি বোধ করেছিল। এতটা খেয়াল এটা তার জন্য নতুন। সে কিছু বলতে চেয়েছিল, কিন্তু সিকান্দার তাকে থামিয়ে দেয়। শান্ত গলায় বলে-
“যেটা বলছি, সেটাই হবে।”
সাইদা মির্জার চোখ মুখে বিরক্তের ছাপ স্পষ্ট। মনে মনে নিশ্চয়ই বলছে যতসব আদিখ্যেতা।
সব বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় সিকান্দার।
অফিস বিল্ডিংটা শহরের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। উঁচু, কাঁচে মোড়া আধুনিক স্থাপনা। গেটে সিকিউরিটি, ভিতরে ঢুকতেই মার্বেলের চকচকে ফ্লোর, দেয়ালে মিনিমাল ডিজাইন, রিসেপশনে পরিপাটি ইউনিফর্ম পরা স্টাফ।
সিকান্দার গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে ঢুকতেই সামনে এসে দাঁড়ান সেলিম মির্জা। পরিপাটি পোশাক, চোখে সেই চেনা কঠোরতা।

“ অবশেষে এসেছো তাহলে?” শুষ্ক স্বরে বললেন কথাটা।
সিকান্দার আশেপাশে তাকাতে তাকাতে উত্তর দেয়-
“ জি। ”
সেলিম মির্জা পাশে দাঁড়ানো স্টাফদের দিকে ঘুরে বলেন-
“ আমার বড় ছেলে, সিকান্দার শাহ্ মির্জা। আজ থেকে এই কোম্পানির সিইও।”
একসাথে সবাই অভিবাদন জানায়। সিকান্দার শুধু হালকা মাথা নাড়ে। এরপর সেলিম মির্জা তাকে নিয়ে পুরো অফিস ঘুরে দেখাতে শুরু করেন। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট,ফাইন্যান্স, মার্কেটিং, সব জায়গায় পরিচয় করিয়ে দেন।
শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার কেবিনে। বড় কাঁচের দেয়াল, ভারী কাঠের ডেস্ক, পেছনে বুকশেলফ, একপাশে সোফা সেট।
সেলিম মির্জার কণ্ঠে গাম্ভীর্য এনে বললেন-
“এটাই তোমার কেবিন।”
সিকান্দার ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে চেয়ারটায় বসে। হাতটা ডেস্কের ওপর রেখে চারপাশটা একবার দেখে নেয়। তারপর বলে-

“ সব ঠিকই আছে,কিন্তু আমার নামাজের ব্যবস্থা কোথায়? ”
সেলিম মির্জা ভ্রু কুঁচকালো একথা শুনে।
“ এটা তোমার কাজের জায়গা সিকান্দার। ”
সিকান্দার দাঁত চেপে বলল-
“ নামাজের চেয়ে বড় নয়। আপনার অফিসে কাজ করা স্টাফ রা নামাজ পড়ে না? যেহেতু সিইও এখন থেকে আমি। সেহেতু সব কিছু চলবে আমার নিয়মে। এই ফ্লোরেই আর নিচ তালার ফ্লোরে দুটি নামাজের জন্য কক্ষ তৈরি করুন। একটা মেয়েদের। আর একটা ছেলেদের। ছেলে সব স্টাফ টাইম টু টাইম নামাজ আদায় করবে আমার সাথে একই কাতারে। ”
সেলিম মির্জা টেবিলে শব্দ করে হাত রেখে বলল-
“ আমার অফিসটাকে কি তুমি ধর্মশালা বানাতে এসেছো নাকি? এখানে কাজের কত প্রেসার তুমি জানো? যেই সময় টুকু নিয়ে নামাজ পড়বে সেই সময়ে কতটা কাজ এগিয়ে যাবে। জানো সেটা? ”
“ তাহলে আমি বরং চলে যাই আপনার অফিস থেকে? ”
“ চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছ আমায়! তুমি শুধু আমাকে রাগানোর পায়তারা খোঁজো তাই না? সময় আমারও একদিন আসবে সিকান্দার। ”

“ আমি চাই আপনার সময়ও আসুক। আমিও দেখতে চাই আপনি আর কতটা নিচে নামতে পারেন। ”
সেলিম মির্জা স্টাফ দিয়ে অফিসের ফাইল, রিপোর্ট, ক্লায়েন্ট ডিটেইলস, চলমান প্রজেক্ট সব একে একে সামনের টেবিলে এনে রাখায়। তারপর চলে যাওয়ার সময় বলল-
“ দক্ষিণ দিকের কক্ষ খালি করে দিচ্ছি নামাজ পড়ার জন্য। তোমার এই নামাজ পড়ানোর চক্করে যদি আমার বিজনেস ডুবেছে তো তার ক্ষতি কেবল তুমিই বহন করবে। সব জায়গায় তার এসব নামাজ কালাম জাহের করতে হবে। আর হ্যাঁ শোনো, তোমার কাজের সুবিধার জন্য একটা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেখেছি। খুবই দক্ষ মেয়ে। তার থেকে সব ইনফো নিবে। ”
সিকান্দারের চোখে সাথে সাথে বিরক্তির ছায়া নেমে আসলো। টেবিলে থাকা ফাইল গুলোয় হাত বুলিয়ে বলল-

“ আই ডোন্ট নিড এনি ফিমেল অ্যাসিস্ট্যান্ট I প্লিজ হায়ার অ্যা মেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর মি। ”
ছেলের এমন কথা শুনে সেলিম মির্জা স্পষ্ট বিরক্ত হন। পেছন ফিরে বলেন-
“এইসব অদ্ভুত শর্ত নিয়ে অফিস চলে না, সিকান্দার।”
“ আমার অফিসে আমার নিয়মে চলবে। ”
শেষে সেলিম মির্জা বিরক্ত হয়ে চলে যান। সিকান্দার ফাইল গুলো সব এক এক করে চেক করলো। কিছুক্ষণ পরেই একটি ছেলেকে সিকান্দারের কেবিনে পাঠানো। দরজায় কড়া নেড়ে অনুমতি চাইলো-
“ মে আই কাম ইন?”
সিকান্দার ফাইল গুলো থেকে চোখ নামিয়ে বলল-
“ ইয়েস কাম ইন। ”
ছেলেটা ঢুকে সিকান্দারের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ হ্যালো স্যার,অ্যাম রবিন। আপনার পার্সোনাল+ অফিসিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। স্যার আপনার জন্য আমাকে হায়ার করেছে। ”
সিকান্দার আপাদমস্তক রবিন কে দেখলো। তারপর বলল-

“ কেবিনে ঢোকার পর হাই হ্যালো না বলে সালাম দিবেন। বাকি স্টাফ দেরও বলে দিবেন সেটা। আমি অফিসে ঢোকা মাত্রই সকলে যেন হাই হ্যালো স্যার না বলে সালাম দেয়। আর জোহরের আজান দিচ্ছে সকলকে বলুন ওজু করে নামাজ পড়তে আসার জন্য। আর আপনি নিজেও আসুন। ”
রবিন মাথা নেড়ে চলে গেলো। বাহিরে এসে বাকি স্টাফ দের বললো নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য। সকলে অবাক হলো অনেক। তাদের নামাজ পড়ার জন্য সময় দেওয়া হয় না। শুধু খাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়। চর জোহরের নামাজের রাকাআত অন্যান্য নামাজের চেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে সময়টাও একটু বেশি লাগে। কিন্তু খেতে খেতেই তাদের সময় চলে যায়। নামাজ পড়ার জন্য কাজে দেরি হলে সেলিম মির্জা আবার তাকে ফায়ার করে দিত কাজ থেকে। জীবিকার তাগিদে তারা নামাজ কে বিসর্জন দিয়ে কাজ কে বেছে নিয়েছিল। সেখানে নতুন সিইও প্রথম দিনই এসে তাদের নামাজের ব্যবস্থা করলো!
আগে নামাজ পড়বে,তারপর দুপুরের খাবার খাবে। সকলে ওজু করে নামাজ ঘরে গেলো। পুরো ফ্লোর জুড়ে জায়নামাজ বিছানো হয়েছে। আতরের গন্ধে ভরপুর। সিকান্দার সামনের সারিতে দাঁড়ালো। জোহরের নামাজ টা সে ছেলে স্টাফদের নিয়েই আদায় করলো।

নামাজ শেষে সিকান্দার রবিন কে ডেকে বলল, নামাজ ঘরে এক সাইডে একটা সেল্ফে কিছু ইসলামিক বই হাদিসের বই এনে রাখতে। যাতে অবসর সময়ে এসে সিকান্দার সহ বাকি সকলে পড়তে পারে। সিকান্দার এটাও দেখলো ছেলে মেয়ে মিক্স হয়ে কাজ করে একই ফ্লোরে। তাদের ড্রেসআপ টা কালো প্যান্ট সাদা শার্ট তার উপর কালো ব্লেজার।
সিকান্দার নিজের কেবিনে এসে বসতেই রবিন খাবার নিয়ে আসলো। সিকান্দার ইশারায় টেবিলের উপর রাখতে বলে পাশ থেকে ফোনটা উঠিয়ে নিয়ে মুনতাহাকে কল করলো। এক বার দুবার করে পাঁচ বার কল করলো। বারবার কেটে যাচ্ছে বেজে। সিকান্দার সাইডে রাখলো ফোনটা। রবিন কে জিজ্ঞেস করলো-
“ খেয়েছেন? ”

রবিন দু দিকে মাথা নেড়ে না জানালো। সিকান্দার ইশারায় চেয়ারে বসতে বলল। রবিন বসতেই সিকান্দার তার খাবার টা দু ভাগ করে আলাদা প্লেটে নিয়ে বলল-
“ খেয়ে নিন। ”
“ না না স্যার..আমি খেয়ে নিব ক্যান্টিন থেকে। ”
“ অনেক খাবার এনেছেন আপনি। এত খেতে পারবো না। নষ্ট হবে। খাবার নষ্ট করা একদমই অনুচিত। আপনি খেয়ে নিন। ”
রবিরন প্লেট টা টেনে নিজের কাছে আনতেই টেবিলে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো সিকান্দারের। রবিন তাকালো। দেখলো ওসিয়্যাতুল রাসূল নাম দিয়ে সেভ করা একটা নাম। রবিনের ভ্রু কুঁচকে আসলো। এমন নাম এই প্রথম শুনছে। মানুষের নাম এমনও হয়!

সিকান্দার ফোনটা রিসিভ করে কানে নিয়ে সর্বপ্রথম সালাম দিলো। মুনাতাহা গোসল সেরে নামাজ ঘরে ছিলো নামজে। রুমে এসে ফোনটা ধরতেই দেখলো সিকান্দার ফোন করেছে। মুনতাহা সিকান্দারের নম্বর টা মিস্টার পুকি হাসবেন্ড দিয়ে সেভ করে রেখেছে ইংরেজি তে। মুনতাহা সালামের জবাব দিতেই সিকান্দার প্রশ্ন করলো-
“ নামাজ পড়েছেন? খেয়েছেন দুপুরে? ”
“ নামাজ পড়লাম কেবল। এখনও খাই নি,খাব। আপনি খেয়েছেন?
“ খেতে বসেছি। রেণু কি খাবার দিয়ে যায় নি আপনার?”
“ দিয়ে গেছে একটু আগেই। ”
“ আচ্ছা তাহলে খেয়ে নিন। আমি ৫ টা কি ৬ টার নাগাদ ফিরবো। কিছু লাগবে আপনার? ফেরার পথে তাহলে নিয়ে আসতাম। ”
“ আপনাকে লাগবে। সাবধানে নিয়ে আসবেন কিন্তু আপনাকে। ”
সিকান্দার হেঁসে ফেললো।

“ আচ্ছা নিয়ে আসবো। রাখি তাহলে?”
“ রাখুন। ”
সিকান্দার ফোন কেটে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। রবিন জিজ্ঞেস করলো-
“ ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড স্যার একটা প্রশ্ন করতাম। ”
“ করুন। ”
“ ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তিটা কি ম্যাম ছিলো। শুনেছি আপনি বিবাহিত।”
“ হুমম। ”
“ ম্যামের নাম ওসিয়্যাত রাসূল?”
সিকান্দার সাথে সাথে তাকালো রবিনের দিকে।
“ নাহ্ তো। আপনাদের ম্যামের নাম মুনতাহা মুন। ”
“ তাহলে এমন অদ্ভুত নাম দিয়ে ম্যামের নম্বর সেভ করলেন যে। সবাই তো ওয়াইফ,সুইটহার্ট, জাল, কলিজা,বাবু সোনা এসব রাখে। ”

“ আপনি ওসিয়্যাতুল রাসূল মানে জানেন? ”
“ না। আসলে ইসলাম সম্পর্কে খুব একটা বেশি নলেজ নেই আমার। ”
“ লজ্জার বিষয় না এটা আপনার জন্য? ওসিয়্যাতুল রাসূল অর্থ হলো সেই নারী, যার বাপ্যারে রাসূল (সা:) তার উম্মতকে বারবার ওসিয়্যত করে গেছেন। কয়েকটি হাদিসে বিভিন্ন শব্দে বিভিন্নভাবে এ নির্দেশ দিয়ে গেছেন। আমি ওসিয়্যাতুল রাসূল লিখে রেখেছি, যাতে কখনো এমন যেন না হয় যে আমার স্ত্রী আমাকে কল দিলো আর আমি রেগে আছি। হতে পারে রাগবশত আমি উনার ফোন ওঠালাম না অথবা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কল কেটে দিলাম, ভ্রুক্ষেপও করলাম না। তখন এই নামটা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে যে, স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করতে রাসূল (সা:) নির্দেশ দিয়ে গেছেন। ”
“ আপনি ভীষণ ধার্মিক স্যার। ”

সিকান্দার আর কিছু বললো না। চুপচাপ খাবার খেতে লাগলো।
সন্ধ্যার পর সব কাজকর্ম শেষে করে সিকান্দার বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীর জন্য বেলি ফুলের মালা নিয়ে আসে। স্ত্রীর যে আবার গোলাপে এলার্জি আছে। তা না হলে সফেদ গোলাপ নিয়ে আসতো প্রিয়তমার জন্য।
সিকান্দার রুমে ঢুকে দেখলো মুনতাহা উপর হয়ে শুয়ে বই পড়ছে বিছানায়। সিকান্দার গলা ঝেরে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে লম্বা করে একটা সালাম দিলো।
মুনতাহা তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো। সিকান্দার হাতে ঝুলে থাকা কোট টা সোফার উপর রেখে এগিয়ে আসলো। পকেট থেকে বেলি ফুলের মালাটা বের করে মুনাতহার হাতে পরিয়ে দিয়ে চুমু খেয়ে বলল-
“ ফুলের হাতে ফুল। পারফেক্ট কম্বিনেশন। ”
মুনতাহা নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখলো। তার ভীষণ ভালো লাগে ফুল। কেবল গোলাপ ছাড়া।
“ আই লাভ ফ্লাওয়ার। থ্যাংক ইয়্যু সো মাচ। ”
“ আই লাভ অলসো। ”
মুনতাহা আড় চোখে তাকালো। সিকান্দার তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। মুনতাহা এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল-
“ ফ্রেশ হয়ে আসুন। ”

সিকান্দার উঠে ফ্রেশ হয়ে মুনতাহা কে নিয়ে নিচে আসলো ডিনার করার জন্য।
খাবার টেবিলে সবাই বসে আছে। সাইদা মির্জা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো-
“ প্রথম দিন কেমন ছিলো তোমার অফিসে?”
সিকান্দার এক বাক্যে জবাব দিলো-
“ ভালো। ”
“ শুনলাম প্রথম দিনই গিয়ে অফিসের মুখ বদলে দিয়েছো। আমাদের পুরোনো নিয়ম গুলো বাদ দিয়ে নতুন নিয়ম বানিয়েছো। ”
“ পুরোপুরি করতে পারি নি। আরো কিছুটা বাকি আছে। আশা করি কালকের ভেতর সবই বদলে যাবে। ”
সাইদা মির্জা শক্ত চোখে তাকালো।
“ আর কি করতে চাইছো তুমি?”
সিকান্দার সেলিম মির্জার দিকে তাকালো।
“ অফিসের ফিমেল কর্মচারীদের ড্রেস কোড চেঞ্জ করে শালিন পোশাকের ব্যবস্থা করুন। আদারওয়্যাইজ আমি আর যাব না অফিসে। ”
সেলিম মির্জা খাওয়া থামিয়ে দিলো।
“ ড্রেস কোড চেঞ্জ করবো মানে? ড্রেস কোডে আবার কি চেঞ্জ করবো? ”
“ শার্ট প্যান্ট ব্লেজার চেঞ্জ করে শালিন পোশাক বাধ্যতামূলক করুন। যাতে নামাজ পড়তে গেলে ড্রেস কোডের জন্য বাঁধা না আসে। ”

“ উফ তুমি কি শুরু করেছো কি! তুমি জানো দেশের এক নম্বর অফিস টা আমার। সব দিক থেকে সবার চেয়ে এগিয়ে। আর এখনকার যুগে এসে তুমি ড্রেসকোড ঠিক করবে? প্রফেশনাল ওয়ার্ল্ডে ড্রেস কোড কাজের অংশ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফলো করতে হয়। তুমি এখন ধর্ম আর ব্যবসা একসাথে মিশিয়ে ফেলছো। অফিস চালাতে হলে প্রফিট, প্রডাক্টিভিটি, ড্রেসিং সেন্স এসব দেখতে হয়। তুমি যদি এভাবে চিন্তা করো, তাহলে তুমি মার্কেট থেকে পিছিয়ে পড়বে।”
“প্রফিট তখনই স্থায়ী হয়, যখন পরিবেশ স্থির থাকে। আর স্থির পরিবেশ তখনই আসে, যখন শালীনতা থাকে। আপনি যেটাকে পিছিয়ে থাকা ভাবছেন, আমি সেটাকেই ভিত্তি ভাবছি।”
সেলিম মির্জা টেবিলে আঙুল ঠুকে বললেন—
“তুমি খুব সহজে কথাগুলো বলছো, কারণ তুমি এখনো বাস্তব বিজনেস ওয়ার্ল্ড বোঝো না। এখানে ইমেজ ম্যাটার করে, ক্লায়েন্ট ম্যাটার করে, কম্পিটিশন ম্যাটার করে।”
সিকান্দার এবার ধীরে ধীরে খাবার চিবাতে চিবাতে বলল –
“ আর আপনি বাস্তবতার নামে অনেকদিন ধরে একটা বাজে অভ্যাসকে নরমাল বানিয়ে ফেলেছেন। যেটা চোখে পড়ে, সেটাকেই আপনি স্ট্যান্ডার্ড বানিয়ে ফেলেছেন।”
সাইদা মির্জা এবার কথা জুড়ে দিলেন—

“সিকান্দার, তুমি বুঝতে চাইছো না। এত বড় অফিস, হাজারো স্টাফ সবকিছু হঠাৎ করে বদলানো যায় না। এটা ধীরে ধীরে ম্যানেজ করতে হয়।”
“ আমি এত কথা শুনতে চাই না। ”
“ বেশ তোমার যা ইচ্ছে হয় তাই করো। আমিও মাস শেষে দেখবো তোমার ঠিক করা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। আর তুমি ভীষণ রকমের বেয়াদব, অবাধ্য, অসভ্য, জেদি আর ঠেঁটা প্রকৃতির একটা ছেলে সিকান্দার, নো ওয়ান ক্যান হ্যান্ডেল ইউ। ”
সিকান্দার পাশ ফিরে মুনতাহা কে দেখিয়ে বলল-
“ শ্যি ক্যান..”
সেলিম মির্জা দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে বলল-
“ নাহ্! তুমি একজন আদর্শ সন্তান হতে পারলে না আমার সিকান্দার। আমি খুবই হতাশ তোমার মতো এক ছেলে জন্ম দিয়ে। আমার বাকি ছেলেমেয়ে কে দেখেছো? তারা বাপ বলতে পাগল। আমার কথার অবাধ্য হয় না। আর তোমাকে আমি বশেই আনতে পারি না! আগে যদি জানতাম তুমি এমন হবে,তাহলে কখনোই তোমাকে জন্ম দেওয়ার জন্য আমি হুমায়রা কে বিয়ে করতাম না। ”
সিকান্দার শাহ্ প্লেটে হাত ধুয়ে বলল-

“ আমার দরকার নেই আপনার আদর্শ সন্তান হওয়ার। আমি যে আপনার র’ক্ত, আপনার সন্তান এই চিরন্তন সত্য টাই তো আমার জন্য লজ্জার বিষয়। আমি অস্বীকার করতে চাই এই সত্য টা। আমি চাই না কেউ আমাকে সেলিম মির্জার সন্তান হিসেবে চিনুক। আমি সিকান্দার শাহ্ আপনার আদর্শ ছেলে কখনোই হতে চাই নি। আমি সিকান্দার শাহ্ কেবল একজন আদর্শ মানুষ,একজন আদর্শ স্বামী আর একজন আদর্শ পিতা হতে চাই একজীবনে.. ব্যাস..!! ”
“ যে আদর্শ সন্তান হতে পারে না সে কি করে আদর্শ মানুষ,আদর্শ স্বামী আর আদর্শ পিতা হবে!”
“ আমি সিকান্দার শাহ্ হয়ে দেখিয়ে দিব আপনাকে। ”
সিকান্দার আর মুনতাহা খাবার খেয়ে চলে গেলো। অর্নব বিরক্ত হয়ে উঠে চলে যেতে যেতে বলল-
“ রোজ রোজ খাবার টেবিলে এই এক নাটক ভালো লাগে না। খাবার খাব নাকি ঝগড়াই দেখবো? ”
সুনেহরাও বেশ বিরক্ত। আর থাকবে না বাড়িতে। কালই রাজশাহী চলে যাবে। মনোয়ারা মির্জা সাইদা মির্জা আর সেলিম মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল-

“ একটু চুপ থাকা যায় না? কেনো সিকান্দারের পেছনে লাগো তোমরা? ভালো লাগে তাকে জ্বালিয়ে? ভুলে যেও না ও কেবল এ বাড়িতে আছে আমার কথায়। তোমরা এভাবে জ্বালালে আমার সিকান্দার কে বলতে হবে বউ নিয়ে আলাদা থাকতে। চাও সেটা?”
মনোয়ারা বেগম আর সিমরান চলে গেলো। সেলিম মির্জা বললেন-
“ কি হলো? তুমি কি বলেছিলে? বলেছিলে তো মুনতাহার উপর মানসিক আর শারিরীক টর্চার করবে। ”
“ তোমার ছেলে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয় না। রেণু কে বলে দিয়েছে খাবার টা অব্দি ঘরে দিয়ে আসতে। আর মহারানীও স্বামীর কথা শুনে রুমে থাকে। একটা কাজও করে না। ”
“ তাহলে কি কালো যাদু করা শুরু করবো? কন্ট্রোলে তো রাখতে হবে ওকে। ”
“ শুরু করে দাও। সিকান্দার কে বসে রাখলে মুনতাহাকে এমনিতেই কাবু করা যাবে। ”
“ বেশ তাহলে তান্ত্রিক খোঁজা শুরু করছি। ”
“ খুঁজো। এখন চলো রুমে। ”
সিকান্দার আর মুনতাহা রুমে আসার পর দুজনেই কিছুক্ষণ নীরব থাকলো। মুনতাহা মুগ্ধ চোখে দেখে যাচ্ছে সিকান্দার কে। সিকান্দার মুনতাহা কে পলকবিহীন এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ এদিক ওদিক ফিরিয়ে বলল-
“ এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? হু? ”
মুনতাহার কোনো পরিবর্তন হলো না। আগের মতো থেকেই বলল-
“ দেখছি। ”
সিকান্দার ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি দেখছেন? ”
মুনতাহা বিছানায় আয়েশ করে বসে বলল-
“ আপনাকে। নিশ্চয়ই কোনো ভালো কাজ করেছিলাম জীবনে। সেজন্য খোদা আপনার মতো এতো অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন পুরুষকে পাঠিয়েছেন আমার জীবনে। জন্ম বিয়ে মৃত্যু সব তো আগে থেকেই ঠিক করা থাকে তাই না? তাহলে কেনো আমি ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম বলুন তো? আপনি তো আমার জন্য ফিক্সড ছিলেন। আমার তাকদীরে আপনিই ছিলেন।আপনার সাথেই আমার বিয়ে হওয়ার ছিলো, তাহলে কেনো খোদা আমাকে গোবরে মুখ দেওয়া থেকে আটকালো না? হু? আমি তো ভেবেছিলাম ঐ খবিশটাকেই আমার কপালে লিখে রেখেছিল খোদা। এখন মাঝেমধ্যে মনে হয়… আপনার ঐ খবিশ ভাই যদি আমাকে না ঠকাতো, তাহলে তো আমার বিয়েটা ঐ খবিশটার সাথেই হয়ে যেত, তাই না? তখন আমি আর আপনি কি আর এক হতে পারতাম? পারতাম না। আমার পুরো জীবনটাই নষ্ট হয়ে যেত। ”

সিকান্দার কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর পাশে বসে নরম স্বরে বলল-
“ বিয়ে জিনিস টা হলো তাকদীরে মুবরাম আর কার সাথে আপনার বিয়ে হবে এটা হচ্ছে তাকদীরে মুআল্লাক। তাকদীরে মুবরাম ফিক্সড। আর তাকদীরে মুআল্লাক ঝুলন্ত। এটা পরিবর্তনশীল। কারো বিয়ে হবে নাকি হবে না এটা সুনির্ধারিত কিন্তু জীবনসঙ্গী কে হবে তা সুনির্ধারিত নয় বরং এটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ঝুলন্ত সিদ্ধান্ত। এখানে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার জন্য সুযোগ দিয়েছে। আপনি কাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে চুজ করবেন আর কাকে করবেন না সেটা পুরোপুরি আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। তাকদীরে মুআল্লাক পরিবর্তনযোগ্য। আর এটা দোয়া ও চেষ্টার উপর নির্ভরশীল। ”
মুনতাহা এগিয়ে আসলো। সিকান্দারের গলা জড়িয়ে ধরে বলল-
“ তাহলে তো আমি আপনাকে বিনা সাধনায় পেয়ে গেছি। ”
সিকান্দার মুচকি হেসে কোমর চেপে ধরলো মুনতাহার। নিজের নাকের সাথে মুনতাহার নাক মিলিয়ে বলল-
“ আপনি যেটাকে বিনা সাধনায় পাওয়া ভাবছেন, তার পেছনে লুকিয়ে আছে সিকান্দার শাহ্-এর ১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরলস প্রচেষ্টা আর রবের দরবারে আপনাকে পাওয়ার জন্য অবিরাম দোয়া।”
বাহিরে চাঁদের আলো উজ্বল হচ্ছে। মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। সিকান্দার মুনতাহা কে ছেড়ে দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে বাইকের চাবি টা নিয়ে বলল-

“ মন রেডি হন। বের হবো। ”
মুনতাহা চমকালো এই কথা শুনে।
“ এত রাতে কোথায় যাব আমরা?”
সিকান্দার আলমারি থেকে নতুন শ্যু আর বোরকা নিকাব বের করে বলল-
“ আগে রেডি তো হন। তারপর বলছি। ”
মুনতাহা বোরকাটা পড়ে নিকাব বেঁধে বিছানায় বসে শ্যু টা পড়তে যাচ্ছিলো এমন সময় সিকান্দার হাঁটু গেঁড়ে বসে নিজেই পড়িয়ে দিতে শুরু করলো। মুনতাহা তড়িঘড়ি করে বলল-
“ এ্যাই কি করছেন কি। ছাড়ুন,পা ছাড়ুন, আই ক্যান ডু ইট। ”
সিকান্দার ডান পায়ের ফিতা বেঁধে দিয়ে ডান পায়ে জুতা ঢুকিয়ে বলল-
“ আই নো ইউ ক্যান বাট লেট মি ডু ইট। ”
জুতার ফিতাটা বেঁধে দিয়ে সিকান্দার নিজেও রাইডিং জ্যাকেট,গ্লাভস,বুট পড়ে রেডি হয়ে মুনতাহার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল-

“ লেট’স গো। ”
মুনতাহা হাতটা সিকান্দারের হাতের উপর রেখে বলল-
“ কোথায়?”
“ আই ওয়ান্ট টু গো ফর অ্যা বাইক রাইড উইথ ইউ। ”
“ সিরিয়াসলি! এই রাতে! ”
“ ইয়েস ম্যাডাম। ”
সিকান্দার ধীরে ধীরে মুনতাহার হাতটা ধরে তাকে নিয়ে বাড়ির দরজা পেরিয়ে বাইরে এলো। বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে সিকান্দার নিজের হেলমেটটা পরে নিল, তারপর খুব যত্ন করে আরেকটা হেলমেট তুলে মুনতাহার মাথায় পরিয়ে দিল। তারপর সে বাইকে উঠে বসে পিছন ফিরে তাকিয়ে বলল-
“উঠুন।”
মুনতাহা একটু দ্বিধা নিয়ে উঠে বসল। ঠিক তখনই সিকান্দার ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। বাইকের শব্দ নিস্তব্ধতা ভেঙে দিল। সিকান্দার বলল-
“শক্ত করে জড়িয়ে ধরবেন, মন। একদম শক্ত করে…যেন কালবৈশাখী ঝড় এলেও সিকান্দারের মনকে তার সিকান্দারের থেকে আলাদা করতে না পারে।”
মুনতাহা ধীরে ধীরে সিকান্দারের বুক জড়িয়ে ধরল, নিজের থুতনিটা তার কাঁধে ঠেকিয়ে দিলো।
বাইকটা ধীরে ধীরে মির্জা বাড়ির গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেল। উপরে দোতালার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্নব সবটা দেখছিলো। তার দৃষ্টি কঠিন হয়ে উঠলো, ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল। ভেতরের ঝড়টা বাইরে প্রকাশ পেল না, কিন্তু থামলও না।

রাস্তাটা প্রায় ফাঁকা। দুপাশে সারি সারি গাছ, তাদের ছায়া ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় লম্বা হয়ে পড়েছে ডামারের ওপর। কোথাও দোকান বন্ধ হচ্ছে, কোথাও চায়ের স্টলে শেষ কাপে চুমুক দিচ্ছে দু-একজন মানুষ। দূরে কোনো রিকশার ঘণ্টা টুং করে বেজে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে।
বাইকটা যত এগোচ্ছে, বাতাস তত জোরে এসে আঘাত করছে। ভাগ্যিস মুনতাহা বোরকা নিকাব পড়ে বের হয়েছিল তা না হলে বাতাসে চুলের যা তা অবস্থা হয়ে যেত। তারা একটা চায়ের স্টলের সামনে দাঁড়ালো। যদিও সিকান্দার চা খায় না। কফিতে অভ্যস্ত। তারপরও আজ স্ত্রীর সাথে রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে চা খেলো। তারপর আবার বাইক নিয়ে ছুটলো। একসময় শহরের ভিড় পেছনে পড়ে গেল। রাস্তা আরও ফাঁকা, আরও দীর্ঘ। দুপাশে অন্ধকার মাঠ, মাঝেমধ্যে এক-দুটো ঘরের আলো জ্বলছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো একটার পর একটা পিছিয়ে যাচ্ছে।
সিকান্দার জিজ্ঞেস করলো-

“ভালো লাগছে?”
মুনতাহা তার কাঁধে মাথা রেখেই হালকা করে মাথা নাড়িয়ে বলল-
“ভালো লাগছে। তবে..”
“ তবে কী? ”
“ আই ওয়ান্ট টু রেস হর্সেস উইথ ইউ। ”
“ অবশ্যই কেন নয়? একদিন অবশ্যই আপনার আর আমার একটা ঘোড়ার রেস হবে।”
কথাটা শুনে মুনতাহা আরেকটু শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরল। সিকান্দার বাইকের স্পিড আরেকটু বাড়িয়ে দিল। চারপাশের আলো, রাস্তা, বাতাস সব যেন ছুটে চললো তাদের সাথে। আর সেই ছুটে চলার মাঝেই সিকান্দার খুব আস্তে, প্রায় ফিসফিস করে গাইতে শুরু করল-

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৯

~ ও মন, হারিয়ে বসে আছি দেখ
প্রথমবারেরই দেখায়,
কত না হলো তোলপাড়…
দু চোখ, দেখেছে তোকে আজ যেই,
হারিয়ে ফেলেছি খেই,
আমিও আমার কথা…
খেয়ালী দিন, মায়াবী রাত, এক নিমেষে,
তাকালি তুই, আমি হঠাৎ অন্য দেশে…
ওরে মনওয়া রে, ওরে মনওয়া রে
ক্যায়সা হ্যায় তু বাতা…

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১১