Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১১

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১১

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১১
Raiha Zubair Ripti

মুনতাহা আর সিকান্দারের বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বেজে গেলো। বাগানে বাইক টা থামিয়ে যেভাবে বউয়ের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ঠিক সেভাবেই বউয়ের হাত ধরে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। বাড়ির সবাই হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। সিকান্দার মুনতাহা কে নিয়ে সোজা রুমে এসে দরজা আঁটকে দিলো। মুনতাহা সোফায় বসে পড়লো। তার মন মেজাজ এখন ফুরফুরে হয়ে আছে। রাতে বাইকে উঠে স্বামী নামক মানুষটার সাথে শহর ছেড়ে নিরিবিলি ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে আসার অনুভূতি টাই আলাদা। মাথার হিজাব নিকাব,বোরকাটা খুলে পায়ের জুতাটা খুলে সাইডে রাখলো। সিকান্দার জ্যাকেট,গ্লাভস খুলে হাতের ঘড়িটাও খুলে টেবিলের উপর রাখলো। তারপর মুনতাহার দিকে তাকিয়ে বলল-

“ যান ফ্রেশ হয়ে আসুন। ঘুমাবেন না?”
মুনতাহা উপর নিচ মাথা ঝাকিয়ে ওয়াশরুমে গেলো ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে বের হলে সিকান্দার ও ফ্রেশ হয়ে নরমাল পোশাক পরে রাতের। মুনতাহা বিছানা ঠিক করে শুয়ে পড়লো। সিকান্দার লাইট নিভিয়ে দিয়ে মুনতাহার একদম ঘা ঘেঁষে শুতেই মুনতাহা কেঁপে উঠলো কিঞ্চিৎ। এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠে নি সে এই ছোঁয়ায়। কেপে উঠে শরীর টা। প্রথম পুরুষালী ছোঁয়া যে।
অর্নবের সাথে মুনতাহার প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তারা কখনো একে ওপরের হাত ধরে নি। তাদের কথা হতো ফোনে আর মেসেজে। দেখা হতো কেবল বাড়িতে অর্নব আসলে তখনই। তাছাড়া তাদের মধ্যে কখনো ওমন গাঢ় সম্পর্ক ছিলো না যেখানে শরীর স্পর্শ হতো। মুনতাহা সেটা ভেবেই একটু হলেও প্রশান্তি পায়। সিকান্দারের এক হাত মুনতাহার পুরো শরীর টাকে তার বুকের সাথে চেপে নিয়েছে। তার পিঠ ঠেকে আছে সিকান্দারের বুকের সাথে। তপ্ত গরম শ্বাস এসে আছড়ে পরছে মুনতাহার পিঠে। চুল গুলো হাত খোঁপা করা বিধায় মুনতাহা টের পেলো।
লোকটা ঘুমিয়ে গেছে নাকি জেগে আছে কে জানে? মুনতাহা ঘুরে সিকান্দারের দিকে ফিরলো। সাথে সাথে চোখে চোখ পরলো দু’জনের। মুনতাহার বুকের ভেতরটা শক্ত হয়ে জমে গেলো। ড্রিম লাইটের আলোতে সিকান্দার কে কি যে সুন্দর লাগছে! লোকটা অনেক সুন্দর। মুনতাহার থেকেও ফর্সা। শরীরে হয়তো একটা কালো দাগও নেই। নাকি আছে? মুনতাহা কখনো সেভাবে খুঁটিয়ে দেখেনি তাকে।
সিকান্দার মুনতাহা কে পলকবিহীন তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“ কি দেখছেন?”
মুনতাহা সিকান্দারের গালে চাপ দাড়ির উপর হাত রেখে বলল-
“ আপনাকে। ”
সিকান্দার মুচকি হাসলো। প্রিয়তমার মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে বলল-
“ ঘুমান মন। ”
মুনতাহা সিকান্দারের বুকে আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি করতে করতে বলল-
“ আমার নাম মুনতাহা মুন। আপনি মন কেনো ডাকেন? এটা কেমন ডাকনাম হু? এর কারন কি?”
“ যার বসবাসই আমার মনে তাকে আর কোন নামেই বা ডাকবো আমি? আপনি ইউনিক,তাই আপনার ডাক নাম টাও ইউনিক হওয়া চাই। একদম মনের মতো। ”
“ আপনি কিন্তু কথার জালে মানুষকে বশ করার ক্ষমতা রাখেন। ”
“ আপনি হয়েছেন বশ?”
“ হয়তো। ”
“ আমার তাতেই চলবে। ”

মুনতাহা আয়েশ করে আরো চেপে জড়িয়ে ধরলো সিকান্দার কে। এক ঘুমে তাদের রাত পোহালো। ভোরে উঠে দুজনে ফজরের নামাজ টা একসাথে পড়ে রুম থেকে বের হয়ে একসাথে ব্রেকফাস্ট করলো। ব্রেকফাস্ট শেষে সেলিম মির্জা ডাকলেন সিকান্দার কে। সিকান্দার মুনতাহর দিকে তাকিয়ে বলল- “ রেডি হয়ে আসুন। ”
মুনতাহা চলে গেলো। করিডর পেরিয়ে রুমে ঢোকার পথে অর্নবের সাথে দেখা হলো। অর্নব তাকে দেখেই পায়ের গতি বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে আসলো।
“ কোথায় গিয়েছিলে গতকাল রাতে? ”
মুনতাহা জবাব না দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে অর্নব আবার পথ আঁটকে দাঁড়ায়। আগের চেয়েও শক্ত গলায় বলে-
“ জবাব দাও। ”
মুনতাহার ভারী রাগ হচ্ছে। এই ছেলের কি কাজকর্ম নেই নাকি!

“ যেখানেই যাই,সেটা আপনাকে কেনো বলবো?”
“ আমি তোমাকে আজও ভালোবাসি মুনতাহা। ভাইয়ার সাথে আমি তোমাকে জাস্ট মেনে নিতে পারি না। ”
“ আপনার মেনে নেওয়া না নেওয়ায় আমার কি যায় আসে? সরুন তো সামনে থেকে। আমার স্বামী অপেক্ষা করছে নিচে আমার জন্য। আপনার সাথে ফালতু কথাবার্তা আগানোর ইচ্ছে নেই। ”
মুনতাহা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো অর্নব কে রাস্তা থেকে। রুমে ঢুকে রেডি হয়ে তারপর নিচে আসলো।
সোফায় বসে কথা বলছিলো সিকান্দার সেলিম মির্জার সাথে। বলা চলে সিকান্দার চুপচাপ বসে আছে আর সেলিম মির্জা একাই কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো সিকান্দার কানে নিচ্ছে কি না এ নিয়ে বেশ সন্দেহের একটা জায়গা তৈরি হয়। সে মুখ গুঁজে আছে ফোনে। মুনতাহা এসে সামনে দাঁড়াতেই সিকান্দার ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। তারপর সেলিম মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল-

“ আমি সামলে নিব। আপনি কখন অফিসে আসবেন না আসবেন সেটা পুরোটাই আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছে। আমি মালিক নই যে আমাকে বলতে হবে। মন চলুন। ”
সেলিম মির্জা চলুন শুনে বলল-
“ চলুন মানে? কোথায় যাচ্ছ? অফিসে যাবে না?”
“ হ্যাঁ। মুনতাহা কে ভার্সিটি তে নামিয়ে দিয়ে তারপর যাব। ”
“ তোমার কেনো নিয়ে যেতে হবে? বাড়িতে তো ড্রাইভার আর গাড়ি আছেই। তাদের বললেই তো দিয়ে আসে। ”
“ নিজের জিনিস পরের হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজের জিনিস নিজেরই দেখেশুনে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ। ”
“ এই কাজ কি প্রতিদিনের জন্য নাকি? ”
“ হ্যাঁ প্রতিদিন। দিয়ে আসবো। আবার নিয়েও আসবো। ”
“ তোমার বউ কোনো ১০ বছরের বাচ্চা মেয়ে না সিকান্দার যে তাকে তোমার বডিগার্ডের মতো সর্বদা ভার্সিটিতে দিয়ে আসতে হবে আবার নিয়েও আসতে হবে। ”

“ নারী হচ্ছে প্রেসিডেন্টের মতো। সে যেখানেই যাবে তার বডিগার্ড লাগবেই। আর নারীর বডিগার্ড হলো তার মাহরাম। সবচেয়ে সেরা বডিগার্ড হচ্ছে তার বাবা, ভাই এবং স্বামী। আর আমি সিকান্দার শাহ্ তার মাহরাম,তার বডিগার্ড, তার স্বামী। সেই হিসেবে আমি তো তাকে প্রেসিডেন্টের মতোই ট্রিট করবো তাই না? ”
“ বউ কি শুধু তোমার একারই আছে? আমাদের নেই? আমরা তো এত ঢং করি না বউ নিয়ে। তাদের অবাধ স্বাধীনতা দেই আমরা। ”
“ আপনার ভাষায় এটা ঢং হলে ঢং। আর আপনি তো এই ঢং টাও করতে জানেন না। জানলে অবশ্যই করতেন। আর আমি আমার বউকে বন্দী করে রাখি নি। আমি আমার বউকে মুক্ত ভাবে উড়ার স্বাধীনতা অবশ্যই দিয়েছি। তার যেভাবে খুশি সেভাবে উড়বে। তার ডানে বামে সামনে পেছনে কেবল আমি থাকবো। অন্য কেউ নয়। ”
“ বিয়ে হতে না হতেই বউ পাগল হয়ে গেছ। বউ পাগল লোকদের কাপুরুষের মতো লাগে। ”
“ ফর ইয়্যুর কাইন্ড ইনফরমেশন, স্ত্রীর জন্য পাগল হওয়া কাপুরুষত্ব নয় বরং সর্বোত্তম স্বামীর পরিচয়। এসব অবশ্য আপনার মোটা মাথায় ঢুকবে না। তাই কথা বাড়াচ্ছি না। কথা বাড়ালে অনেকদূর গড়াবে। আমি স্বল্পভাষী মানুষ। যেখানে সেখানে নিজের মূল্যবান কথা খরচ করি না। মন চলুন। ”

সিকান্দার চলে গেলো মুনতাহাকে নিয়ে। সাইদা মির্জা চুপচাপ বসে বসে দেখছিলো বাপ ছেলের কাহিনী। এই তো আজই যাবে সেলিম মির্জা তান্ত্রিকের কাছে। তারপর এমন বশ করবে না যে এই অবাধ্য ছেলে তাদের বাধ্য হয়ে মুনতাহাকে ছেড়ে দিবে। সিকান্দার শাহ্ ও বেরিয়ে পরলেন তান্ত্রিকের ঠিকানায় যাওয়ার জন্য।
গাড়িতে মুনতাহাকে উঠিয়ে নিজেও উঠে বসলো। মুনতাহা দু’দিনে বুঝে গেছে সিকান্দারের সাথে তার বাবা মায়ের সম্পর্ক ভালো না। কিন্তু এতটা খারাপ কেনো? সেলিম মির্জা সাইদা মির্জা সব সময়সেধে সেধে নিজ থেকে এগিয়ে এসে সিকান্দার রেগে যাবে এমন কথাবার্তা বলেন। আর তাদের সেই শক্ত কথাগুলো মাঝেমধ্যে সিকান্দার না শোনার ভান করে হজম করে আর যখন একেবারেই না পরে তখন নিজের ভাষাতে বুঝিয়েও দেয়। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে? বাবা ছেলের সম্পর্ক কি আজীবন এমনই থাকবে?
মুনতাহা সামনের দিকে তাকিয়ে বলল-

“ আমাকে বিয়ে করেছেন সেজন্যই কি আপনার বাবা আপনার সাথে এভাবে কথা বলে? ”
সিকান্দার গাড়ি চালাতে চালাতে বলল-
“ উনার স্বভাবই এটা। ”
“ বাকি ছেলেমেয়ের সাথে তো এমনটা করে না। ”
“ কারন তারা সিকান্দার শাহ্ না সেজন্য। তারা তার বাধ্য ছেলে মেয়ে। ”
“ আপনি তাদের কথা শুনলেও পারতেন। তাহলে তারা আর আপনার সাথে এমন ব্যবহার করতো না। ”
“ আমি এসবে অভ্যস্ত মন। আমার অসুবিধা হয় না। ”
“ আমার খারাপ লাগে। আমার জন্য আপনাকে তারা কথা শোনায়। ”
“ ভুল ভাবনা ভেবে কষ্ট কেনো পান বলুন তো? তাদের আমি শুরু থেকেই পছন্দ না। আমি যা পছন্দ করি,আমার যা ভালো লাগে,তাদের তা সর্বদাই অপছন্দের হয়ে থাকে। এখন মন মেজাজ ফ্রেশ করুন। ভার্সিটি তে কিন্তু এসে গেছি। ”
মুনতাহা তাকিয়ে দেখলো। খেয়ালই করে নি। গাড়ি থেকে নামতেই সিকান্দার বললো-
“ আমি নিতে আসবো আবার। ক্লাস শেষে আমাকে একটা টেক্সট করবেন। মনে থাকবে?”
“ হুমম। ” মুনতাহা হাত নাড়িয়ে বলল- “ আল্লাহ হাফেজ। ”
সিকান্দার মৃদু হেঁসে অফিসের দিকে চলে গেলো। মুনতাহা ক্লাসে আসতেই ইলার পাশে গিয়ে বসতেই ইলা চমকে উঠলো। পাশ ফিরে মুনতাহা কে দেখলো।

“ আমি তো ভেবেছি তুমি এক সপ্তাহ আসবে না ভার্সিটিতে। ”
মুনতাহা কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে রেখে বলল-
“ ক্লাস মিস দিয়ে কি করবো বলো? ”
“ কি করবে মানে? তোমরা হানিমুনে যাবে না?”
কথাটা এত জোরে বললো যে পেছনের দু বেঞ্চ অব্দি চলে গেলো। তারা অদ্ভুত ভাবে তাকালো। একজন জিজ্ঞেস করলো-
“ বিয়ে হয়ে গেছে তোমার! সেজন্য আসো নি ক্লাসে?”
বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরলো মুনতাহা। ইলা নিজের ভুলটা বুঝতে পারলো। সেজন্য আস্তে করে বলল -“ সরি। এক্সাইটমেন্টে হয়ে গেছে। ”
তারপর ফিসফিস করে বলল-

“ হানিমুনে যাবা না তোমরা?”
“ ঘুরতে যাব তো। উনি বলছেন উনার নানু বাড়ি নিয়ে যাবে ক’দিনের জন্য। ”
“ ধূর আমি সেটা বলি নি। আমি হানিমুনের কথা বলছি। বুঝছো না তুমি? ঐ ইয়ে টিয়েএএএ আরকি। ”
মুনতাহা চিমটি কাটলো ইলার হাতে।
“ তোমার মুখে কিছু আটকায় না? কিসব জিজ্ঞেস বলছো এসব! ”
“ শরম পাচ্ছ তুমি মুনতাহা? ”
“ অস্বাভাবিক পাওয়াটা? ”
“ কিছু হয় নি তেমাদের মাঝে এখনো? ”
“ ইলাআ চুপ করো, এসব আর বলো না। আমি অকওয়ার্ড ফিল করছি। পার্সোনাল জিনিস এগুলো। পার্সোনাল থাকতে দাও। ”
“ ওকে বাবা ওকে। ”
স্যার আসতেই তারা ক্লাসে মনোযোগী হলো। দুপুরের পরপর তাদের ছুটি হলো। ছুটি শেষে মুনতাহা সিকান্দার কে টেক্সট করে জানিয়ে দিলো তার ছুটির বিষয় টা। তারপর ওয়াশরুমে গেলো মুখটা ধুতে। নিকাব টা খুলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ট্যিসু দিয়ে মুখ মোছার সময় ইলা বলল-

“ কিরে ভাই বিয়ের পানি গায়ে লাগলে সবারই কি চেহারা গ্লো করতে শুরু করে নাকি? ”
মুনতাহা হাসলো।
“ মেয়ে মানুষ মানসিক শান্তিতে থাকলে চেহারা এমনিতেই গ্লো করে। তার জন্য বিয়ের পানি গায়ে লাগা আবশ্যক না। তবে আমার ক্ষেত্রে আলাদা। আমার অবশ্য বিয়ের পানি গায়ে লাগার পরই এই পরিবর্তন টা এসেছে। তোমার ভাইয়া সব চিন্তা নিজের ঘাড়ে নিয়ে আমাকে নিশ্চিন্ত রেখেছে। সে বলেছে-“ আপনি উড়ুন। যতটা পারুন যেভাবে পারুন পাখির মতো ডানা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ুন। আমি আছি আপনার সামনে পেছনে ডানে বামে আপনার ছায়া হয়ে। ”

“ লোভ লাগিয়ে দিচ্ছ বিয়ে করার জন্য। এমন বেডা পাবো কই এখন? ”
“ সময় হলেই পাবে। এখন চলো,উনি বোধহয় এসে পরলেন। ”
দুজনে নিচে নামতেই দেখলো সিকান্দার এসে দাঁড়িয়ে আছে। দু’জনে এগিয়ে গেলো। মুনতাহা সালাম দেওয়ার পরপর ইলাও সালাম দিলো। সিকান্দার মাথা নত রেখেই জবাব দিলে সালামের। ইলা আজও হতাশ হলো। কিরে ভাই তাকালে কি হয়?
ইলা ফ্যাকাল্টির গেটের কাছে নিজের বাবাকে দেখতে পেয়ে সেদিকে চলে গেলো বিদায় নিয়ে। সিকান্দার গাড়ির দরজা খুলে মুনতাহাকে ভেতরে বসিয়ে নিজেও উঠে বসলো। তারপর সামনের ডেস্ক থেকে একটা ছোট খাম বের করলো। মুনতাহা কৌতূহল হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি এটায়? ”

সিকান্দার খামটা খুলে মুনতাহার পাসপোর্ট সাইজের একটা ছবি বের করলো। মুনতাহা তাকিয়ে দেখলো এটা তার নিজের ছবি। সিকান্দার সেই ছবিটা তার মানিব্যাগ খুলে সামনের দিক টায় ঢুকিয়ে রেখে বলল-
“ এই মানিব্যাগের মালিক অনেকগুলো বছর ধরে তার মিসেসের এই ছবিটার শূন্যতায় শূন্য ছিলো। আজ অবশেষে পূর্ণতা পেলো। ”
মুনতাহা মানিব্যাগ টা কেঁড়ে নিয়ে দেখলো এটা তার রিসেন্ট তোলা বিয়ের ছবি।
“ আপনি তো বেশ রোমান্টিক। ”
সিকান্দার শব্দ করে হাসলো।
“ ঐ আরকি একটু আধটু। একেবারে নিরামিষ হলে তো তখন বউ থাকবে না। চলে যাবে। ”
“ আমি মোটেও চলে যাব না। আপনি আমাকে আগে থেকেই ভালোবাসেন রাইট?”
“ সন্দেহ আছে এতে কোনো?”
“ উঁহু। আপনি তে বিদেশে ছিলেন। তখন তো অনেক ধরনের মেয়ে আপনার আশেপাশে ছিলো। আপনার চোখ তাদের উপর পরেছিল তাই না? ”
“ আমার লয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন করছেন?”
“ না। শুধু জানার ইচ্ছে আমার স্বামী কে। ”
সিকান্দার গাড়ি চালাতে চালাতে বলল-

“ মহব্বতের প্রথম শর্ত হচ্ছে লয়ালিটি,আর লয়ালিটির প্রথম শর্ত হলো নজরের হেফাজত। আর আমার রাসূল (সা.) বলে গিয়েছেন- আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য,নারীদের চেয়ে বড় কোনো ফিতনা রেখে যাচ্ছি না। আর আমি সিকান্দার শাহ্ এই কথাটা আমার মাথায় ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম শুরু থেকেই। আমার চারিপাশে হাজারো রমণী হেঁটে ঘুরে গেলেও আমার দৃষ্টি থাকতো সর্বদা মাটিতে। ”
“ আমাকে দেখতেন তখন? ”
“ আপনাকে আমি কেবল দেখেছিলাম ১৫ বছর বয়সে। তারপর আর দেখি নি আপনাকে দীর্ঘ ১২ টি বছর। না আপনার কোনো ছবি আমি দেখেছি আর না নিজের কাছে রেখেছি। আপনাকে আমি না দেখেই ভালোবেসেছি,না দেখেই চেয়ে এসেছি। আপনাকে ২য় বার দেখলাম সেদিন যেদিন আপনি বিয়ে নিয়ে আপত্তি জানালেন। আর বললেন আমাকে বিয়ে করতে পারবেন না। ব্যাস এই আপনাকে আমার দেখা। তারপর তো আপনাকে নিজের করেই নিলাম। আমার ফোন টা অবশ্য বিয়ের পর এখন আপনার ছবি দিয়ে ভরা। আপনাকে তো আর সারাক্ষণ সামনে পাই না। দেখতে ইচ্ছে করে এখন। সেজন্য আপনার ছবি দেখি। আপনাকে ফোন দিয়ে আপনার ভয়েস শুনি। ”

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১০

“ আপনার বাবা ভুল কিছু বলে নি। আপনি আসলেই বউ পাগল। ”
“ কখনো অস্বীকার করবো না এটা। আপনি আরেকটু ছোট হতেন মন। ”
মুনতাহা নিজের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ এমনিতেই তো ছোট আমি সাইজে। আপনার বুকে গিয়ে ঠেকে আমার কপাল। আর কত ছোট হতে বলেন? ”
“ যতটুকু ছোট হলে মানিব্যাগে ছবি রাখার মতো আপনাকেও আমি সারাদিন আমার বুক পকেটে রাখতে পারতাম ততটুকু। ”

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১২