Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৬

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৬

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৬
Raiha Zubair Ripti

পরের দিন সকালে যখন সিকান্দার ব্রেকফাস্ট করার জন্য নিচে নামলো তখন সেলিম মির্জা আর সাইদা বারবার আড়চোখে সিকান্দার কে দেখছিলো। সিকান্দার একটু বুঝলো। তবে জিজ্ঞেস করলো না এভাবে দেখার কি মানে। শুধু বলল-
“ আমার এক সপ্তাহ ছুটি লাগবে। আমি অফিসে যেতে পারবো না। সারিয়াকান্দি যাব। ”
এ কথা শুনে সেলিম মির্জার মুখ কালো হয়ে গেলো।
“ সেখানে কেনো যাবে?”
“ একটু ফ্রেশ সতেজ নির্মল বাতাসে কয়েকটা দিন মুনতাহা কে নিয়ে থাকার জন্য। ”
“ অফিসে এসে কথা বলছি এ নিয়ে। ”
খাওয়া দাওয়া শেষ করে সিকান্দার অফিসে চলে যেতেই সেলিম মির্জা তান্ত্রিক কে ফোন করলো। বলল-
“ কোনো পরিবর্তন তো লক্ষ্য করলাম না। সবই তো স্বাভাবিক। ”
তান্ত্রিক সেটা শুনে বলল-

“ আপনার ছেলেকে এত সহজে বশ করা সম্ভব না। তাকে চারিদিক থেকে করতে হবে বশ। অফিসে ওর খাবার পানি বদলে বোতলে আমার দেওয়া পানি ভরে রাখুন। বাসায় খাবার খাওয়ার সময় আমার দেওয়া পানি দিবেন। আমি তাবিজ করা শুরু করবো। তারপর একটা পুতুল বানিয়ে সেটা দিয়ে বাকি কাজ করবো। এই ছেলের ইমান নষ্ট করে আমি ওরে ঠিকই বিপথগামী করে ছাড়বো। ”
“ ছেলে তো ওর মামাদের বাড়ি যেতে চাচ্ছে বউ নিয়ে এক সপ্তাহের জন্য। কি করবো? ”
“ যেতে দিন। বউ নিয়ে কাটিয়ে আসুক একটা সপ্তাহ। তারপর তো আর পারবে না। ”
সিকান্দার কে কোনো স্বাভাবিক পানি খাওয়ানো হচ্ছে না। অফিস বাড়ি সব জায়গায় সে তান্ত্রিকের দেওয়া পানি খাচ্ছে অজান্তেই। সেলিম মির্জা অফিসে এসে তার ছুটি পাশ করলো। তারা আগামীকাল এশার নামাজের পর রওনা হবে। মুনতাহা কে ফোন করে বিষয়টা জানালো।
সেলিম মির্জা বিকেলের দিকে পুরান ঢাকায় সেই তান্ত্রিকের কাছে গেলো। তিনি একটা তাবিজ দিয়েছেন। সিকান্দার তো তাবিজ পড়বে না,সেজন্য তান্ত্রিক এই তাবিজ টা সিকান্দারের রুমের ভেতরে রাখতে বলো বিছানার নিচে। সেই সাথে সেলিম মির্জা দেখলেন ছোট একটা খড় দিয়ে পুতুল বানানো হয়েছে। সেলিম মির্জা জিজ্ঞেস করলেন-

“ এটা দিয়ে কি করবেন? ”
তিনি জানালেন এই পুতুলের সাথে তিনি যা যা করবেন সেই সবের প্রতিক্রিয়া গিয়ে সিকান্দারের শরীরে হবে। যেমন পুতুলটায় তিনি সূচ ফুটালে সেসবের যন্ত্রণা ব্যথা দাগ গিয়ে সিকান্দারের শরীরে প্রভাব ফেলবে। যন্ত্রণায় কাতরাবে। এতদিক থেকে যখন সিকান্দারের উপর এক্সপেরিমেন্ট করা হবে তখন নিশ্চয়ই একটা না একটা কাজে অবশ্যই দিবে।
সেলিম মির্জা চলে আসলেন। বাড়ি ফিরে সাইদা মির্জা কে বললেন সব। তিনি তো সিকান্দারের রুমে যেতে পারবে না সিকান্দারের অবর্তমানে। যাওয়া নিষেধ। সাইদা মির্জা রেণু কে পাঠালো। মাগরিবের নামাজ শেষ করে মুনতাহা চা খায়। রেণু জিজ্ঞেস করলো-
“ এটা কিসের তাবিজ খালাম্মা? ”
সাইদা মির্জা চোখ পাকালেন। সাথে হুঁশিয়ারি করে বললেন-

“ মুনতাহার নজরে যেন না আসে এটা। চুপিচুপি করবি। আর যদি এসব নিয়ে কখনো মুখ খুলছিস সিকান্দারের সামনে তাহলে তোর ভাইয়ের চিকিৎসা বন্ধ করে দিব। ”
রেণু ভয়ে আর জিজ্ঞেস করে নি। রুমে এসে যখন মুনতাহা কে নামাজ ঘরে দেখলো তখন রেণু সেই ফাঁকে তাবিজ টা তোষকের নিচে মাথার কাছটায় রেখে দিলো। তারপর চা টা নামাজ ঘরে রেখে বেরিয়ে আসলো।
মুনতাহা নামাজ শেষ করে চা টা খাওয়ার পর কেনো যেন আজ তার একটু শাড়ি পড়তে ইচ্ছে করলো। সাজতে ইচ্ছে করলো। রিলসে দেখেছিল ওয়াইফরা শাড়ি পড়ে হাসবেন্ডের জন্য অপেক্ষা করে আর হাসবেন্ড বাড়ি ফিরে বউকে শাড়িতে দেখে সারপ্রাইজড হয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মুনতাহা শাড়ি পড়তে পারে না ঠিকমতো। কোনো ব্যপার না। ইউটিউব দেখে সে শাড়ি পড়া শিখবে। যেই কথা সেই কাজ। এক ঘন্টা ইউটিউবে শাড়ি পড়া দেখলো। তারপর আলমারি থেকে মেরুন রঙের একটা শাড়ি বের করলো। শাড়ি পড়তে গিয়ে সবই ঠিকঠাক হলো কিন্তু তার কুঁচির যাচ্ছে তাই অবস্থা। মুনতাহা সেভাবেই গুঁজলো কুচি। সিকান্দার কি আর তার কুঁচি দেখতে যাবে নাকি?
মুনতাহা মুখে হাল্কা ফেস পাউডার দিলো। চোখে গাঢ় করে কাজল দিলো। ঠোঁটে একটু লিপস্টিক দিলো। টিপ পড়া হারাম, নইলে মুনতাহা একটা টিপ লাগাতো কপালে। সাজার শেষে মুনতাহা আবিষ্কার করলো তার একটাও কাঁচের চুড়ি নেই। হাত দুটো একদম ফাকা লাগছে। চুড়ি আছে তবে সেগুলো ভারী পাথরের মোটা,আর গোল্ডের। সেগুলো পড়া আর কাঁচের চুড়ি পড়ার মাঝে আলাদা আলাদা অনুভূতি থাকে। এই শাড়ি পড়ে তো বাহিরেও যেতে পারবে না। আর চুড়ি না পড়লে তার ভালোও লাগবে না। সেজন্য সিকান্দার কে ফোন করলো। সিকান্দার তখন অফিসের সব কাজ শেষ করে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। বউয়ের ফোন পেয়ে সেটা রিসিভ করতেই মুনতাহা সালাম দিলো। সিকান্দার সালামের জবাব দিলো। মুনতাহা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল-

“ শুনন। ”
“ বলুন। ”
“ আমি আজ সেজেছি আপনার জন্য। আসার পথে এক জোড়া কাঁচের চুড়ি আনবেন কিনে? আমার হাত দুটো একদম খালি । একটা কাঁচের চুড়িও নেই আমার। আম্মু কখনো কিনে দেয় নি আমাকে। আপনি আনবেন? এটারই কমতি আছে শুধু । ”
“ আনছি,একটু অপেক্ষা করুন। ”
মুনতাহা কেটে দিলো ফোন। অপেক্ষা করতে লাগলো সিকান্দারের ফেরার। সিকান্দার অফিস থেকে বের হয়ে শপিং মলে গেলো। দীর্ঘ দেড় ঘন্টা চুড়ির কালেকশন দেখে সেখান থেকে ২৪ রকমের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের মোট ৪৮ জোড়া চুড়ি কিনে বাড়ি ফিরলো। দরজাটা আস্তে খুলে রুমে পা রাখতেই মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। চোখ দুটো স্থির হয়ে রইল সামনের সেই নববধূর উপর। মেরুন রঙের শাড়িতে মোড়া এক শান্ত, লাজুক আবেশ।
পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর মায়াগুলো বুঝি লুকিয়ে থাকে নারীর শাড়ি পরিহিত আবরণেই।
কে বলে একজন পুরুষকে মুগ্ধ করতে নারীর দেহ উন্মোচনের প্রয়োজন হয়? নারী যখন শাড়ির আঁচলে নিজেকে জড়িয়ে একটুখানি লাজুক চোখে সামনে এসে দাঁড়ায়, তখনই তো একজন পুরুষের সমস্ত পৃথিবী থমকে যেতে বাধ্য হয়।

সৌন্দর্য কখনও ছোট ছোট ড্রেসের অশ্লীলতায় থাকে না, সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে সেই সরল আবরণে, সেই ঘোমটার আড়ালে থাকা লাজুক মুখে, যা একজন পুরুষের বুকের ভেতর অনায়াসে ঝড় তুলে দিতে পারে।
মুনতাহা সিকান্দার কে দেখামাত্রই পেছন ফিরে দাঁড়ালো। লজ্জা লাগছে তার ভীষণ। আয়নায় আড়চোখে তাকাতেই দেখতে পেলো সিকান্দার কোট টা সোফায় ফেলে দিয়ে একটা বক্স নিয়ে এগিয়ে আসছে। বক্স টা বিছানায় রেখে মুনতাহা কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে থুঁতনি ঠেকালো। কেঁপে উঠলো সর্বাঙ্গ মেয়েটার তাতেই।
সিকান্দার আয়নায় দেখা মুনতাহার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ মাশা-আল্লাহ.. আপনাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে মন। সৃষ্টি কর্তার সৃষ্টি কত সুন্দর! চোখ মন পরান সব জুড়িয়ে যায়। তারপরও চোখ লেগে আসে না। ”
মুনতাহা আস্তে আস্তে সিকান্দারের দিকে ফিরলো। বুকে হাত রেখে বলল-
“ চুড়ি এনেছেন? ”
সিকান্দার বিছানা থেকে বক্স টা উঠিয়ে নিয়ে বলল-
“ এনেছি তো। দেখুন তো খুলে। ”
মুনতাহা বক্সটা নিয়ে বিছানায় বসলো। খুলে দেখলো অনেক চুড়ি।
“ আমি আপনাকে দু মুঠো চুড়ি কিনে আনতে বলেছিলাম। এ তো দেখে মনে হচ্ছে আপনি দোকানের সমস্ত চুড়ি কিনে এনেছেন। ”
“ আমার স্ত্রীর যেন আর কখনো চুড়ির অভাব না-হয় সেজন্য ভাবলাম নিয়ে যাই সব। আমি কেনো আপনাকে অল্প অল্প জিনিস দিব হু? আপনি বলেছেন আমি নিয়ে এসেছি। পরিমান কতটুকু সেটা ফ্যাক্ট না। সামর্থ্য আছে বলেই এনেছি। যেদিন সামর্থ্য কম থাকবে সেদিন কম নিয়ে আসবো। বুঝেছেন? ”

“ বুঝলাম। ”
“ দেখি আসুন,পড়িয়ে দেই তো চুড়ি আপনার হাতে। ”
সিকান্দার মুনতাহার পায়ের কাছে নিচে ফ্লোরে বসে মেরুন রঙের দু মুঠো চুড়ি বের করে পড়িয়ে দিলো। মুনতাহা অবাক হলো। সাইজ একদম পারফেক্ট। সেজন্য জিজ্ঞেস করলো-
“ আমার হাতের মাপ অনুযায়ী ঠিক সাইজের চুড়ি আনলেন কি করে? ”
সিকান্দার মুনতাহা কে দাঁড় করিয়ে হাতে চুমু খেয়ে বলল-
“ আপনার হাত ধরতে ধরতে আমি এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে আপনার হাতের সাইজ কত হতে পারে আমার সেটা ধারণা হয়ে গেছে। ”
সিকান্দার কথাটা শেষ করেই মুনতাহাকে আপাদমস্তক দেখতে গিয়ে টের পেলো মেয়েটা শাড়ি পড়তে জানে না। কুঁচি গুলো সব জবুথবু করে গুঁজে রেখেছে।
“ আপনি শাড়ি পড়তে জানেন না মন? ”
মুনতাহা হকচকিয়ে গেলো। আঁচল নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখিয়ে বলল-
“ কেনো হয় নি পড়া? ঠিকঠাকই তো আছে। ”
“ কুঁচি দেওয়া তো হয় নি। ”
মুনতাহা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল-

“ অনেক চেষ্টা করছি ঠিক করার পারি নি। সেভাবে কখনো শাড়ি পড়ি নি তো। তাই ইউটিউব দেখেও পারলাম না ঠিক করতে। ”
সিকান্দার এক টানে শাড়ির কুঁচি গুলো খুলে ফেলে বলল-
“ কোনো ব্যপার না। আমি আছি তো। শিখিয়ে দিব। না শিখলে আমিই রোজ ঠিক করে দিব কুঁচি। চলবে না? ”
সিকান্দার মনোযোগ দিয়ে শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে লাগলো। মুনতাহা ঠোঁট কামড়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ আপনি শাড়ি পড়ানো কিভাবে শিখলেন? আপনি না কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকান নি। তাহলে কার উপর এক্সপেরিমেন্ট করে শিখলেন এটা? সত্যি করে বলুন। ”
সিকান্দার হাসলো। কুঁচি গুলো মুনতাহার হাতে দিয়ে বলল-
“ দাদিজানের থেকে শেখা। ছোট বেলায় আমাকে দিয়ে কুঁচি ঠিক করাতো। ”
মুনতাহা কুঁচি গুলো গুঁজে বলল-

“ তাহলে ঠিক আছে। আমাকে সত্যি সুন্দর লাগছে তো? ”
সিকান্দার আঁচল টা মুনতাহার মাথায় দিয়ে বলল-
“ একদম সিকান্দার শাহ্ এর আদুরে বউয়ের মতো সুন্দর লাগছে। ”
মুনতাহা মাথা ঠেকালো গিয়ে সিকান্দারের বুকে। সিকান্দার কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে বলল-
“ যেদিন আপনাকে প্রথম ১৫ বছর বয়সে দেখেছিলাম। তখন আল্লাহ ছাড়া কে জানতো আপনিই একদিন আমার একমাত্র চাওয়া পাওয়া পছন্দের হয়ে যাবেন! আমি কোনোদিন ভুলবো না সেই দিন টা। আপনার ফুলোফুলো মুখ,জলে টইটম্বুর হওয়া আঁখি, থেকে থেকে কেঁপে উঠালো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ওষ্ঠ। আমি চোখ বন্ধ করলেও আজও সেই মুখশ্রী দেখতে পাই। ”
মুনতাহা বুক থেকে মুখ উঠিয়ে বলল-
“ এতটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছিলেন আপনি আমাকে! ভারী অসভ্য তো আপনি। ”
“ আমি নিজেও বেশ অবাক হয়েছিলাম নিজের এহেন কাণ্ডে। যেই আমি কোনো মেয়ের দিকে তাকাই না। সেদিন আমি কি না ১০ টা মিনিট তাকিয়ে দেখছিলাম আপনাকে! কথায় আছে যার সাথে যার মোহাব্বত তার সাথে তার কিয়ামত। তারপর আমি বুঝলাম আপনিই একমাত্র নারী যার সাথেই আমার মোহাব্বত আর কেয়ামত। ”

“ প্রেমিক প্রেমিক কথাবার্তা দেখছি আপনার মুখে। ”
“ ভুল কিছু বলি নি কিন্তু। সত্যি টাই বলেছি। এই আপনি আমাকে ভালোবাসেন না? ”
মুনতাহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
“ হঠাৎ একজন তাকওয়াবান পুরুষ তার রাব্বাতুল বাইত করে নিয়ে আসলো আমাকে। সেই পুরুষ কে কি ভালো না বেসে থাকা যায়? একজন দ্বীনদার ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া আল্লাহর নেওয়ামত। ইট’স পার্ট অফ জান্নাহ। আর আমি আপনাকে ভালোবাসতে গিয়ে একটা অর্থ আবিষ্কার করলাম। এই যে বাকি জীবন আপনাকে ভালোবেসে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। ”
সিকান্দার মুনতাহার কপালে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিয়ে বলল-
“ আপনি যাকে ভালোবাসেন সেও আপনাকে ভালোবাসে, পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর স্বস্তির অনুভূতি আর কিছুতেই নেই। অ্যাম ব্লেস্ট! ”
কপালে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দেওয়া সেই ক্ষণটুকু যেন থমকে থাকা এক প্রশান্ত সময়। মুনতাহা অনুভব করলো বুকের ভেতর কেমন শান্ত একটা উষ্ণতা জমছে ধীরে ধীরে। লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো। সিকান্দার মেয়েটার থুতনিতে আঙুল ছুঁইয়ে বলল-

“ এভাবে লজ্জা পেলে কিন্তু আমার হার্ট ঠিক থাকে না ম্যাডাম। ”
মুনতাহা মৃদু হেসে বুকের কাছে মুখ লুকালো।
“ আপনি দিন দিন ভয়ানক প্রেমিক হয়ে যাচ্ছেন। ”
“ শুধু প্রেমিক না। আমি তো আপনার স্বামীও। দুইটার ব্যালেন্স রাখতে হয়। ”
“ ওমা! তা আপনি কোনটায় বেশি ভালো? প্রেমিক না স্বামী? ”
সিকান্দার ভেবে দেখার ভান করলো। তারপর গম্ভীর হয়ে বলল-
“ প্রেমিক হিসেবে একটু কম হতে পারি। কিন্তু স্বামী হিসেবে আমি ভয়ানক পজেসিভ। ”
“ তাই নাকি? ”
“ হুম। আপনি আমার স্ত্রী। একমাত্র হালাল। আর হালাল মানে ব্যক্তিগত। আর আমার যার প্রতি ব্যক্তিগত অধিকার আছে তার প্রতি আমি ব্যতিত অন্য কারো নজর সহ্য হয় না। ”

“ আপনি কি সবসময় এমনই থাকবেন? ”
“ আপনার পাশে থাকলে আমি অন্যরকম হব কেন? ”
সিকান্দার মুনতাহার হাত ধরলো। কাঁচের চুড়িগুলো টুংটাং শব্দ তুলে উঠলো। সে মৃদু হেসে বলল-
“ চলুন? ”
“ কোথায়? ”
“ বেলকনিতে। আজ চাঁদটা খুব সুন্দর হয়েছে। ”
মুনতাহা কিছু না বলে মাথা নাড়লো। দু’জনে গিয়ে বেলকনিতে বসল। রাত অনেকটা গভীর হয়ে এসেছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। দূরের শহরটা এখনও জেগে আছে, তবে সেই শব্দ এ পর্যন্ত এসে কেবল অস্পষ্ট গুঞ্জনের মতো লাগছে।
আকাশে গোল চাঁদ ঝুলে আছে। সাদা আলো এসে পড়ছে মুনতাহার মুখে। মেরুন শাড়ির আঁচল বাতাসে দুলছে হালকা করে।

কিছুক্ষণ চুপচাপ চাঁদ দেখলো তারা। তারপরই হঠাৎ কোথা থেকে একটা কালো বিড়াল লাফ দিয়ে এসে পড়লো বেলকনির রেলিংয়ের উপর। মুনতাহা আঁতকে উঠে সিকান্দারের বাহু চেপে ধরলো।
বিড়াল টা অদ্ভুত ভাবে গোঙাতে লাগলো ম্যাওঁ ম্যাওঁ করে। জ্বলজ্বলে সবুজ চোখ দুটো অন্ধকারে কেমন ভয়ংকর দেখাচ্ছে। বিড়ালটা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে রেলিং ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাদের দিকে ফুঁসে যেতে লাগলো।

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৫

সিকান্দার বিড়াল টাকে দেখেই চিনে ফেললো। গতকাল কেও এমনই একটা বিড়াল দেখেছিল বাগানে। সেটাই বোধহয়। সিকান্দার এগিয়ে আসতে চাইলে বিড়াল টা আরো জোরে জোরে ফুঁসতে লাগলো। থাবা দিতে চাইলো। ভেতরে ঢোকার প্রয়াস চেষ্টা লাগলো। মনে হলো যেন বেলকনির রেলিং ভেঙে হলেও সে ঢুকতে চায় ভেতরে।
একটা বিড়ালের এমন আচারণ মোটেও স্বাভাবিক নয়। তার উপর কেমন রাগী, অস্বস্তিকর এক দৃষ্টি তার। সিকান্দার ভ্রু কুঁচকে তাকালো প্রাণীটার দিকে। তারপর মুনতাহা কে নিয়ে বেলকনির দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে চলে আসলো।
বেলকনির বাহিরে থাকা বিড়াল টা গেলো না। বরং চোখদুটো অস্বাভাবিকভাবে স্থির হয়ে আছে রুমের ভেতরের দিকে… ঠিক বিছানার দিকটায়।

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ১৭