Home সিকান্দার শাহ্ সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৩৯

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৩৯

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৩৯
Raiha Zubair Ripti

সিকান্দার বাড়ি ফিরেই সর্বপ্রথম মুনতাহাকে খুঁজল।
বাড়ির দরজা পেরিয়েই তার কণ্ঠ ভেসে এল। মুনতাহা কে ডাকছে। স্বামীর ডাক কানে যেতেই মুনতাহা ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। আর প্রতিদিনের মতো আজও সিকান্দারের দ্বিতীয় কাজটায় কোনো ব্যতিক্রম হলো না। কাছে এসেই প্রথমে স্ত্রীর কপালে আলতো করে চুমু খেল। তারপর দুটো হাত নিজের হাতে তুলে নিয়ে একে একে হাতের পিঠে চুমু খেল। পরক্ষণেই তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরল। কয়েক মুহূর্ত এভাবেই রেখে মাথায় হাত বুলিয়ে গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

” এখন ভালো লাগছে। এতক্ষণ কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। ”
মুনতাহা স্বামীর বুক থেকে মুখ তুলে তাকাল। তারপর দুই হাত দিয়ে সিকান্দারের গলা জড়িয়ে ধরে মৃদু হেসে বলল,
” আপনার স্বস্তি মিলে কেবল মুনতাহার কাছে এসে? ”
” হু। ”
একটুও দ্বিধা না করে উত্তর দিল সিকান্দার। মুনতাহার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
” তাহলে যান, আগে ফ্রেশ হয়ে আসুন। দেখুন, পানি উঠানো আছে বালতিতে। আজ আপনার জন্য ফুলকপির বড়া বানিয়েছি আমি। ”
সিকান্দার এবার একটা তপ্ত শ্বাস ফেলল। এ মেয়ে তার কথা শুনে না। রান্না ঘরে চলে যায় রাঁধতে। কলপাড়ের দিকে যেতে যেতে বলল,
” রান্না ঘরে তালা মেরে রাখতে হবে দেখছি। ”
মুনতাহা গলা উঁচিয়ে বলল,
” না খাইয়ে মারতে চান নাকি রান্নাঘর তালা মেরে সাইদা মির্জার মতো। ”
সিকান্দার একবার পিছু ফিরে আবার কাজে মনোযোগ দিলো। মুনতাহা গামছা হাতে কলপাড়ের দিকে এগিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর বাড়িটা আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এল।

সিকান্দার গোসল সেরে ঘরে ঢুকতেই তার চোখে পড়ল মুনতাহার আদরের বিড়ালছানাটাকে। এতক্ষণ ঘুমিয়েছিল ভেটকা মেরে। ঘুম ভাঙতেই সিকান্দার কে দেখে এখন লচ্ছামিপনা করা শুরু করবে অসভ্যটা। লাফ দিয়ে উঠে সোজা তার পায়ের কাছে এসে ঘুরঘুর শুরু করে দিল।
মুনতাহা দূর থেকে দৃশ্যটা দেখে বিরক্ত হলো। চরিত্রে সমস্যা আছে বিড়ালটার। সিকান্দার বাড়িতে না থাকলে সারাক্ষণ মুনতাহার পেছনে ঘুরবে, মুনতাহার কোলে বসবে, মুনতাহার কাছে আদর চাইবে। অথচ সিকান্দার বাড়িতে ফিরলেই মুনতাহাকে যেন সে জীবনে দেখেইনি! সিকান্দার নিচু খাবার টেবিলটার সামনে গিয়ে বসল।
ব্যস! বিড়ালটাও সুযোগ বুঝে এক লাফে সিকান্দারের কোলে উঠে বসল। মুনতাহা হাতে ফুলকপির বড়ার প্লেট নিয়ে এগিয়ে আসছিল। দৃশ্যটা দেখেই তার চোখ কপালে উঠল। সিকান্দারের সামনে প্লেটটা রেখে বিড়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,

” বেহায়া বিড়াল! আমার স্বামীর কোলে আমি কখনো উঠে বসিনি, আর সেখানে তুই গিয়ে দিব্যি বসে আছিস! নাম বলছি, নাম! ”
মুনতাহা বিড়ালটাকে কোলে থেকে নামানোর জন্য হাত বাড়াতেই বিড়ালটা সঙ্গে সঙ্গে নখ বের করে ম্যাঁও ম্যাঁও করতে লাগল। যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অন্যায় করা হচ্ছে তার সঙ্গে। মুনতাহা ভ্রু কুঁচকে বলল,
” দেখেছেন কাণ্ড? আমাকে খামচি দিচ্ছে! ”
সিকান্দার হেসে মুনতাহার হাত থামিয়ে দিল।
” থাকুক। ”
” থাকুক মানে? ”
” অবুঝ প্রাণী এরা। ওকে থাকতে দিন। ”
মুনতাহা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
” খুব ভালো। আমি বুঝলাম, আমার স্বামীর কোলে আমার চেয়েও বেশি অধিকার এখন এই বেহায়া বিড়ালের। ”
সিকান্দার এবার হেসে ফেলল। বলল,
” আপনাকে বসতে নিষেধ করেছে কে? আপনি বসেন না বলেই তো আপনার বিড়াল বসার সুযোগ পায়। সুযোগ আপনিই দিয়েছেন মিসেস সিকান্দার। ”
বিড়ালটা তখন দিব্যি আরামে তার কোলে গোল হয়ে বসে আছে। যেন এই সংসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সে-ই।
মুনতাহা অসন্তুষ্ট মুখে ফুলকপির বড়ার প্লেটটা তার সামনে এগিয়ে দিল।

” নিন। আপনার বেহায়া বিড়ালের সামনে বসে আপনার জন্য রান্না করা খাবারটা খেয়ে নিন। ”
সিকান্দার একটা বড়া হাতে নিয়ে মুনতাহার দিকে তাকিয়ে বলল,
” রাগ করেছেন? ”
” না। ”
” তাহলে মুখটা এমন করে রেখেছ কেন? ”
” কেমন করে রেখেছি? ”
” ব্যঞ্জনবর্ণের ঙ এর মতো। ”
” এটা স্বাভাবিক মুখ। ”
” এই মুখটা স্বাভাবিক মুখ আপনার? ”
” জি। একদম স্বাভাবিক। ”
সিকান্দার আবার হেসে ফেলল। তারপর বিড়ালটার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
” তোমার মালকিন দেখি তোমার ওপর খুব রাগ করেছে মিনি। ”
মিনি নাম টা মুনতাহাই রেড়েছে। সিকান্দারের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
” মালকিন না, আমি ওর মা! আর ও আমাকে ভুলে যায় আপনি বাড়িতে এলেই।
সিকান্দার এবার শব্দ করে হেসে ফেললো, বড়া খেতে খেতে বলল,
” আপনি আমাকে বাচ্চার বাপ না বানিয়ে এক বিড়ালছানার বাপ বানিয়ে দিলেন মন। নাইস। ”
মুনতাহা মলিন মুখে বলল, ” ও যা শুরু করছে তাতে বাপ না বানালেই নয়। চরিত্রহীন বিড়াল একটা। সতীনের মতো ব্যবহার করে। ”

খাওয়াদাওয়া শেষ হলে মুনতাহা বাড়িতে আর সিকান্দার মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করলো। কারন ইসলামে পুরুষদের নামাজের উদ্দেশ্য করে বলা আছে, জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে ২৭ গুন বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। শরয়ি ওজর ছাড়া মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় বর্জন করা অনুচিত। প্রতিকূল অবস্থায় মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে না পারলে সেক্ষেত্রে বাসায় নামাজ পড়ার অনুমতি আছে।
আর সিকান্দার আল্লাহর ঘরে গিয়ে জামাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মাধমে যেই স্বাদ শান্তি প্রশান্তি পায় তা বাসায় পাওয়া যায় না।
নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরতেই সিকান্দারের চোখ প্রথমে মুনতাহাকেই খুঁজল। ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল সে।
মুনতাহা মেঝেতে পাটি পেতে বসে আছে। পাশে তার আদরের বিড়ালছানাটা গোল হয়ে বসে, মাঝেমধ্যে মুনতাহার দিকে তাকাচ্ছে। আর মুনতাহা গভীর মনোযোগে কুরআন শরীফ খুলে তিলাওয়াত করছে।
সিকান্দার কিছুক্ষণ দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রইল। এই দৃশ্যটা তার কাছে প্রতিবারই নতুন লাগে। মুনতাহা ইদানীং একটা পণ করেছে, সিকান্দার যেমন পুরো কুরআন শরীফ মুখস্থ করেছে, সেও একদিন কুরআনের সম্পূর্ণটা মুখস্থ করবে। প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াত সেও একদিন সিকান্দারের মতো না দেখে গড়গড় করে বলে যাবে।
তবে শুধু মুখস্থ করলেই হবে না আয়াতের অর্থও জানতে হবে, বুঝতে হবে। তাই প্রতিদিন তিলাওয়াত করার পাশাপাশি বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যাও পড়ে মুনতাহা। কোনো আয়াতের অর্থ বুঝতে না পারলে সিকান্দারকে জিজ্ঞেস করে। কোনো শব্দের উচ্চারণে সন্দেহ হলে আবার তার কাছেই ফিরে আসে।
সিকান্দার নীরবে এগিয়ে এসে কিছুটা দূরে বসে পড়ল।
মুনতাহা প্রথমে খেয়ালই করল না। সে নিজের মতো করে তিলাওয়াত করে যাচ্ছিল। মাঝে কোনো হরফের উচ্চারণ সামান্য ভুল হলে সিকান্দার সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিচ্ছিল।

” এখানে একটু থামুন। উচ্চারণ সঠিক করুন। ”
মুনতাহা থেমে তাকাত। সিকান্দার ধীরে ধীরে সঠিক উচ্চারণটা করে দিত। মুনতাহা মন দিয়ে শুনে আবার বলত, “ এভাবে? ”
“ হ্যাঁ। এবার ঠিক হয়েছে। ”
মুনতাহা সন্তুষ্ট হয়ে আবার তিলাওয়াত শুরু করত।
এভাবেই একের পর এক আয়াত পার হয়ে গেল। তিলাওয়াত করতে করতে মুনতাহা এসে পৌঁছালো সূরা আন-নিসার তৃতীয় আয়াতে। সে পড়তে শুরু করল,
“ওয়া ইন খিফতুম আল্লা তুকসিতু ফিল ইয়াতামা, ফানকিহু মা ত্বাবা লাকুম মিনান নিসাই মাসনা ওয়া সুলাসা ওয়া রুবা‘। ফা ইন খিফতুম আল্লা তা‘দিলু ফাওয়াহিদাতান…”
এর বাংলা অর্থ—
“আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, এতিমদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে যাদের তোমাদের ভালো লাগে, তাদের দুই, তিন অথবা চারজনকে বিবাহ করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকেই…”
এই আয়াত টা পড়তে গিয়ে হঠাৎ মুনতাহার গলার স্বর কেমন যেন ক্ষীণ হয়ে গেল। অকারণে আরও আস্তে পড়ে ফেলল। সিকান্দারের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেল। সে বুঝতে পারলো,তার নারী ইচ্ছা করেই নিচু গলায় পড়ছে।
মুনতাহা চোখ নামিয়ে আবার তিলাওয়াতে মন দিল।সিকান্দার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তারপর শান্ত গলায় বললেন,

” হঠাৎ এত আস্তে পড়ছেন কেন? ”
মুনতাহা থেমে গেল। চোখ তুলে তাকিয়ে বলল
” আমি কি আস্তে পড়ছি? ”
” হ্যাঁ। ”
” মনে হয় আপনার ভুল ধারণা । ”
সিকান্দার এবার একটু কাছে এগিয়ে এলো। ” তা-ই নাকি? ”
মুনতাহা গম্ভীর মুখ করার চেষ্টা করল।
” কুরআন তিলাওয়াত করছি। দয়া করে বিরক্ত করবেন না।”
” বিরক্ত করছি কোথায়? তা কী এমন পড়লেন যে আপনার কণ্ঠ এত নিচু হয়ে গেল ? দেখি। ”
মুনতাহার গাল মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল। সে দ্রুত চোখ নামিয়ে কুরআনের দিকে তাকাল। সিকান্দার পড়লো আয়াত টা। পড়েই হেঁসে ফেললো।
” আপনি হাঁসছেন কেন? ভালো লাগছে নিশ্চয়ই? ”
সিকান্দার মুখে হাসি রেখেি বলল,
” আপনার মুখ দেখে খুব হাসি পেলো। তাই হাসলাম। বাই দ্যা ওয়ে আপনি কি ভয় পাচ্ছেন,আমি একাধিক বিয়ে করে বসি কি না এই ভেবে? ”
মুনতাহা মলিন মুখে বলল,

” অনুমতি তো দেওয়াই আছে। করতেও পারেন। ”
সিকান্দার বিড়াল টাকে সরিয়ে দিয়ে মাদুরের উপর শুয়ে মুনতাহার কোলে মাথা রেখে বলল,
“তবে শুনে রাখুন আপনি একাই চারজনের সমান।”
মুনতাহা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
” মানে? ”
সিকান্দার কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলললো,
” মানে হলো, একজন মানুষের মধ্যে যত রাগ, অভিমান, জেদ, বকাঝকা, মায়া, যত্ন আর ভালোবাসা থাকা সম্ভব,আলহামদুলিল্লাহ, আমি সবকিছু একসঙ্গেই পেয়েছি। সব মিলিয়ে একজন মুনতাহাই আমার কাছে চারজনের জায়গা পূরণ করে দেয়। সেখানে আমার আর চারজনের প্রয়োজন কোথায়?
আর আল্লাহ তায়ালা তো শর্তও দিয়ে দিয়েছেন,যদি আশঙ্কা করো যে, তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকেই। আমি তো জানি, চারজনের মধ্যে ন্যায়বিচার করার মতো মানুষ আমি নই। আমি কোনো বিষয়ে নিজেকে এত বড় ন্যায়বিচারক মনে করি না যে চারজন মানুষের অধিকার সমানভাবে রক্ষা করতে পারব।
আমার সবকিছু তো একজনের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আমার সময়, আমার মনোযোগ, আমার মায়া, আমার যত্ন সবকিছু কেবল আমার মুনতাহাকে ঘিরে। বাকি তিনজন তো আমার অবহেলাতেই অনাহারে মারা যাবে!
মুনতাহা হেসে ফেলল।

“এতটাও খারাপ নন আপনি।”
” জানি না। তবে নিজের ব্যাপারে এতটুকু জানি, অন্য তিনজনের হক নষ্ট করে চারজনের স্বামী হওয়ার কোনো শখ আমার নেই। আর জাহেলিয়াত যুগে ইয়াতীম মেয়েদের অধিকার চরমভাবে ক্ষুন্ন করা হত। যদি কোন অভিভাবকের অধিনে কোন ইয়াতীম মেয়ে থাকত আর তারা যদি সুন্দরী হত এবং তাদের কিছু সম্পদ-সম্পত্তিও থাকত, তাহলে তাদের অভিভাবকরা নামমাত্র মাহ্‌র দিয়ে তাদেরকে বিয়ে করে নিত অথবা তাদের সন্তানদের সাথে বিয়ে দিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চক্রান্ত করত। এসব অসহায় মেয়েদের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থার কথা তারা চিন্তাও করত না। আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ঠিক এ ধরণের একটি ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। ‘জনৈক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একটি ইয়াতীম মেয়ে ছিল। সে ব্যক্তির একটি বাগান ছিল, যার মধ্যে উক্ত ইয়াতীম বালিকাটিরও অংশ ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত মেয়েটিকে বিয়ে করে নিল এবং নিজের পক্ষ থেকে ‘দেন-মাহ্‌র’ আদায় তো করলই না, বরং বাগানে মেয়েটির যে অংশ ছিল তাও সে আত্মসাৎ করে নিল। তাই তাদের মাহ্‌র পূর্ণ ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের না দিয়ে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে কোন প্রকার ক্রটি করার ইচ্ছা থাকলে তাদের বাদ দিয়ে অন্যান্য মহিলাদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্যান্য নারীদের বেলায় ইনসাফ বিধান করা লাগবে না। বরং অন্যান্য নারীদের বেলায়ও তা করতে হবে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়’।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, যার দুই স্ত্রী রয়েছে, সে যদি তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উঠবে যে তার শরীরের এক পাশ কাত হয়ে থাকবে। [ সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৩৩। ]
তাহলে বলুন, চারজন স্ত্রী রাখা কি শুধু পুরুষের অধিকার নিয়ে গর্ব করার বিষয়? নাকি এর সঙ্গে এমন একটা জবাবদিহিও আছে, যেটা নিয়ে কিয়ামতের দিন দাঁড়াতে হবে?

আফসোসের বিষয় হলো, আমাদের সমাজের কিছু পুরুষ চার বিয়ের অনুমতিটাকে এমনভাবে দেখে, যেন এটা পুরুষের কোনো ফরজ দায়িত্ব! অথচ আল্লাহ তায়ালা কোথাও বলেননি যে প্রত্যেক পুরুষকে চারটি বিয়ে করতেই হবে। বরং কুরআনের আয়াতেই ন্যায়বিচারের শর্ত রাখা হয়েছে,আর ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজনের কথাই বলা হয়েছে। অজ্ঞতার কারণেই মানুষ কখনো কখনো আল্লাহর দেওয়া অনুমতিকে ফরজ বানিয়ে ফেলে, অথচ অনুমতি আর ফরজ এক জিনিস নয়। চারজন পর্যন্ত বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাউকে চারটি বিয়ে করতেই হবে,এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
আর আমার মতো মানুষের জন্য তো একজন মুনতাহাই যথেষ্ট। চারজনের প্রয়োজন নেই। একজনের হক ঠিকমতো আদায় করতে পারাটাই যদি সারাজীবনের পরীক্ষা হয়, তাহলে চারজনের হক নিয়ে কিয়ামতের দিন দাঁড়ানোর সাহস আমি কোথা থেকে পাব?
মুনতাহা কুরআন শরীফ টা বন্ধ করে সাইডে সরিয়ে রাখলো। তারপর পাশ থেকে কুশান নিয়ে সিকান্দারের মাথার নিচে দিয়ে নিজেও মাথা রেখে শুয়ে পরলো। পায়ের নিচে থাকা বিড়ালটা সাথে সাথে শোয়া থেকে উঠে এসে তাদের দু মাথার মাঝখানে এসে মাথা রেখে শুলো।
মুনতাহা হতাশ হলো। তার মানুষ রূপী সতীনের দরকার নেই। এই বিড়ালটাই সতীনের চেয়ে কম না। মুনতাহা সাইড থেকে সিকান্দারের বাটন ফোনটা নিয়ে ক্যামেরাটা অন করে উপরে, মুখের সামনে উল্টো করে ধরে বলল,

” এই এই এদিকে তাকান। ”
সিকান্দার তাকালো। বিড়ালটাও তাকালো। মুনতাহা ফট করে একটা ছবি তুলে নিলো তাদের তিনজনের।
ছবি তোলা শেষে মুনতাহা ছবিটা দেখার জন্য মুখের কাছে এনে দেখে বিড়ালের পুরো মুখ আসলেও সিকান্দার আর মুনতাহার কেবল মুখের এক সাইডের একটি চোখ আর কপালের অংশ এসেছে। বাটন ফোন তো। সেজন্যই হয়তো এমন হয়েছে। তবে দারুন দেখাচ্ছে। বিড়ালটাও দেখার জন্য উকি দিলে মুনতাহা বের হয়ে আসে ছবির ফাইল থেকে। রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,
” From this থেকে যেদিন To this হব। সেদিন দেখাবো তোকে। এখন সর আমার স্বামীর কাছ থেকে। যা বাহিরে যা। ডিস্টার্ব করবি না একদম। তাহলে বাহিরে বের করে দরজা আঁটকে দিব হু। ”

এদিকে বিনোদিনী বাড়িতে ফিরেই অপমানে ফুঁসতে লাগল।সারাটা পথ হরিমতি তার পাশে হাঁটলেও বিনোদিনী একটি কথাও বলেনি। মুখটা শক্ত হয়ে ছিল। চোখেমুখে এমন এক অস্থিরতা, যেন ভেতরে ভেতরে কোনো কিছুর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চলছে। বাড়ির উঠোনে পা দিয়েই বিনোদিনী সোজা নিজের ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। হরিমতি বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
এই প্রথম সে বিনোদিনীর চোখে এমন কিছু দেখেছে, যা আগে কখনো দেখেনি। অথচ বিনোদিনী নিজের ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই চোখ দুটোই যেন সহ্য করতে পারছিল না। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “সিকান্দার শাহ্…” নামটা উচ্চারণ করতেই বুকের ভেতর কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ হলো। সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত হয়ে নিজের মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল।

কিছুক্ষণ পর আবার আয়নার দিকে তাকাল। মনে পড়ে গেল সেই মুহূর্তটা। সে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর সিকান্দার? একবারও তার দিকে তাকায়নি। এমনকি তার উপস্থিতি যেন তার কাছে কোনো গুরুত্বই বহন করেনি।
বিনোদিনী নিজের অজান্তেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চুলের গোছাটা কানের পেছনে সরিয়ে নিল। তারপর নিজেকেই প্রশ্ন করল, “আমাকে দেখলো না কেন?”
এই সত্যটাই বিনোদিনীর সবচেয়ে বেশি অপমান লাগল। কারণ উপেক্ষা সে কখনো সহ্য করতে পারে না।ছোটবেলা থেকে সে দেখেছে, মানুষ তাকে গুরুত্ব দেয়। তার কথা শুনে। তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে। তার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় পুরুষদের চোখে এক ধরনের অস্বস্তি থাকে।
অথচ আজ একজন মানুষ তাকে দেখে যেন নিজের দৃষ্টি বাঁচিয়ে চলে গেল! মাথা তুলো তাকালো না অব্দি!
বিনোদিনী বিছানায় বসে পড়ল। মনে হলো, লোকটা তাকে অপমান করেছে। আবার অদ্ভুতভাবে মনে হলো, এই অপমানটাই তাকে লোকটার কথা আরও বেশি ভাবাচ্ছে।
এত অহংকার কোথা থেকে এলো এই লোকের? অহংকার কেবল জমিদার দের থাকে। ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।

বিনোদিনী বিরক্ত হয়ে বলল, “কে?”
হরিমতির গলা শোনা গেল, “আমি দিদিমনি।”
“কী চাই?”
“ভেতরে আসব?”
“আয়।”
হরিমতি ভেতরে ঢুকল। কিছুক্ষণ চুপ করে বিনোদিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “মন খারাপ?”
বিনোদিনী সঙ্গে সঙ্গে চোখ তুলে তাকাল। “আমাকে বলছিস?”
“হুম।”
” মন খারাপ কেন হবে আমার?”
” তাহলে কি রাগ করছেন? ও ব্যাটা আপনার দিকে তাকালোও না দেখে?”
বিনোদিনীর চোখ মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।
” সেটাই ভাবাচ্ছে আমায়। তাকালো না কেন আমার দিকে? আমি চাই তার নজর আমার উপর পড়ুক। আমার চোখের সাথে তার চোখের চোখাচোখি হোক। ”
হরিমতি বিনোদিনীর পা মালিশ করতে করতে বলল,

” তার নজর আপনের উপর জিন্দেগী তেও পরতো না। ”
” কেনো? সব পুরুষ আমাকে দেখলে থমকে যায়। সেখানে সিকান্দার কেনো থমকাবে না? ”
” কারন শুনছি সে বিবাহিত, তার বউ আছে। ”
বিনোদিনী যেন একটু চমকে উঠলো। সিকান্দার বিবাহিত? আজ প্রথম শুনলো। সে শক্ত গলায় বলল,
” তার বউ কি আমার থেকেও সুন্দরী, রূপবতী? ”
” তা তো জানি না। উনার বউরে কেউ দেখে নাই এই গেরামের। ”
” কেনো দেখে নি? ”
” পর্দা করে হের বউ। মেলা ধার্মিক তারা। ”
” মহিলারাও কি দেখে নি? ”
” রহিমুদ্দিন মিয়ার বাড়ির মহিলারা হয়তো দেখছে শুধু। ”
” সিকান্দারের বাড়ি কোথায়? আমি দেখতে চাই তার বউকে। দেখবো সে কত সুন্দরী আর রূপবতী। কী এমন আছে তার মধ্যে যে সিকান্দার শাহ্ তাকে নিয়ে এতটা ব্যস্ত যে অন্য নারীর দিকে তাকায় না।”
” আপনে দেখে কি করবেন এক মুসলিম ব্যাটার বউ? হের বউ রূপবতী হলেই বা কি আর অসুন্দর হলেই বা আপনার কী? আপনি কি করতে চাইতেছেন বলেন দেখি। ”
বিনোদিনী পা সরিয়ে আনলো। বিরক্ত গলায় বলল,

” যা তো তুই। রুম থেকে বের হ। যা। ”
হরিমতি চলে গেলো। বিনোদিনী বিছানায় গা এলিয়ে চোখ বুজলো। সাথে সাথে সিকান্দারের মুখটা ভেসে উঠলো। এত সুন্দর পুরুষ সে এর আগে কখনো দেখে নি। তার এই পুরুষকে চাই,চাই,চাই। যে কোনো মূল্যে হলেও তার চাই। অপমানের বদলা, তাকে উপেক্ষা করার অপরাধে কিংবা তার পৌরুষদীপ্ত সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে।
অথচ বিনোদিনী জানে না, এই কৌতূহল কোথায় গিয়ে থামবে। সে জানে না, আজকের সেই উপেক্ষা তার ভেতরে এমন এক জেদ জন্ম দিয়েছে, যা একদিন তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যেখান থেকে ফিরে আসা সহজ হবে না। তার বিধর্মী এক ছেলেকে পাবার বাসনা মনে জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এই বাসনার পরিণতি যে গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে সে উদাসীন।
ঢাকায় ফেরার পর থেকেই নাদিমের কেমন যেন একটা হাসফাঁস লাগা শুরু করেছে। এই যান্ত্রিক, একাকী জীবনটা আর ভালো লাগছে না তার। দিনের শেষে ফাঁকা বাসায় ফিরে দরজা খুলতেই বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা চেপে বসে। এতদিন যেটাকে স্বাধীনতা ভেবেছিল, এখন সেটাই যেন নিঃসঙ্গতার অন্য নাম। আর সেই শূন্যতার নামটা অদ্ভুতভাবে গিয়ে মিলে,ইলা। সিকান্দারের মতো তারও বিবাহ করতে ইচ্ছে করছে।
ইলার সঙ্গে রাস্তায় যতবার দেখা হয়েছে, ততবারই তার বক্ষজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এসেছে। প্রথমে ভেবেছিল এটা হয়তো সাময়িক ভালো লাগা। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই বুঝেছে এটা সেই ভালো লাগা, যে ভালো লাগার শেষ ঠিকানা বিয়ে।

কিন্তু এই কথাটা মুখ ফুটে বলবে কীভাবে? নাদিমের শরম করে। কী না কী ভাববে। তাই সরাসরি কিছু না বলে, সুযোগ পেলেই ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করে।
একদিন ইলার পাশে হেঁটে যেতে যেতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“কিছু মানুষ আছে, যাদের জীবনে একটা ভালো মানুষ এলেই সবকিছু পূর্ণ হয়ে যায়।”
ইলা গম্ভীর মুখে বলল,
“হুম। আল্লাহ সবাইকে সিকান্দার শাহ্ এর মতো মানুষ দান করুন।”
নাদিম পারলো না তখন তাকে চিবিয়ে খেতে। সব সময় শুধু সিকান্দার সিকান্দার আর সিকান্দার। এ মেয়ে কি সিকান্দার ছাড়া আর কোনো পুরুষকে দেখতে পারে না? নাদিম কি কম ভালো?
আরেকদিন বলল,
“আচ্ছা, কারও যদি কাউকে এত ভালো লাগে যে সারাজীবন পাশে রাখতে ইচ্ছে করে, তখন কী করা উচিত?”
ইলা এক মুহূর্ত ভেবে নির্বিকার গলায় উত্তর দিল,
“ইস্তিখারা করা উচিত।”
নাদিমের ঠোঁট কেঁপে উঠল। এ কী উত্তর!

” ইস্তিখারা কেন করবে? ”
” তাহলে কি করবে? ”
” বিয়ে করবে। ”
” জানেনই যখন তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেনো? ”
নাদিম হতাশ হলো।
” আপনি বিয়ে করবেন কবে মিস ঢিলা? ”
” সিকান্দার শাহ্ এর মতো কাউকে পেলেই করে ফেলবো। ”
হাহ্ দারুন! খুুব নাইস জবাব। নাদিমের হাত পা ছুড়ে নাচানাচি করার মতো অনুভূতি হচ্ছে। হাহ্ সিকান্দার শাহ্ তুমি নিজের বউরে মুগ্ধ করছো তো করছই অন্য বেডার হবু বউরেও মুগ্ধ করে বসে আছো। বেক্কল বেডির চোখে সিকান্দার শাহ্ ছাড়া আর কোনো ব্যাডা নাই।
” সিকান্দার শাহ্ এর মতো যদি কাউকে না পান তখন? ”
” আজীবন সিঙ্গেল থাকবো। ”
থাপড়িয়ে মিঙ্গেল বানায় ফেলবো বেয়াদব মেয়ে। কথাটা বলতে চেয়েও বলতে পারলো না। নিজেকে কুল কুল বলে শান্ত করে চুল গুলো পরিপাটি করে বলল,
” আমি মানুষটাকে আপনার কেমন লাগে? ”
ইলা সাথে সাথে বলে উঠলো, ” মানে? ”

” মানে..আই মিন স্বামী হিসেবে কেমন হবো আমি? আমাকে কেমন লাগবে?”
” সেটা আমি কি করে বলবো? আপনার স্ত্রী বলতে পারবে। ”
” আপনি বলুন না। আপনি তো আমাকে চেনেন তাই না? ধারণা করে বলুন। ”
” খুবই জঘন্য হবেন। যে ছেলে ছয় সাতটা গার্লফ্রেন্ড পুষে, সে ব্যাডা খুবই জঘন্য স্বামী হবে। আপনার বউয়ের জন্য কষ্ট হচ্ছে। মেয়েটার কপালে একটা রেড ফ্ল্যাগ জুটবে ভেবে। ”
কথাটা বলেই ইলা এগিয়ে গেল। নাদিম এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। ও কি বলে গেল! নাদিম রেড ফ্ল্যাগ! হায় খোদা গজব ফেলাও ঐ মেয়ের ওপর। জীবনে একটা মেয়ের সাথে হাই হ্যালো হয় নি। সেখানে বলছে গার্লফ্রেন্ড পুষছে। অবশ্য নাদিম নিজেই তো বলেছিল ভাব মেরে। নাও এবার ঠেলা সামলাও। মাইয়াডা জানে না নাদিম কতটা পিওর গ্রিন ফ্ল্যাগ। ইলা মূল্য দিলো না,বুঝলো না নাদিমের মন। হাহ্ শালার কাউয়া জীবন…
নাদিম তারপরও মিথ্যা অপবাদ গিলে বলল,

” আল্লাহ চাইলে আগামী বছর এই সময়ে আমার জীবন পুরো বদলে যেতে পারে।”
” আলহামদুলিল্লাহ তাহলে তো ভালোই। আপনার জন্য দোয়া করি, খুব ভালো একটা মেয়ে যেন পান।”
এবার নাদিমের আর কিছু বলার রইল না। মনে মনে শুধু বলল,
“হে আল্লাহ! আমি যাকে চাই, সে-ই আমার জন্য দোয়া করছে যেন আমি অন্য কাউকে পাই!”
ইলা চলে গেল নিজের মতো। এত ইশারা, এত ইঙ্গিত… তবুও মেয়েটা কিছুই বুঝছে না। নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছে? অসহায়ের মতো ইলার চলে যাওয়ার পিঠের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল নাদিম। তারপর নিজের কপালে আলতো চাপড় মেরে ইলার পিছু নিতে নিতে হতাশ গলায় গুনগুন করে উঠল,

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৩৮

চলো না ভাগি…..
ওগো তুমি আর আমি।
কেউ ধরার আগে পালিয়ে যাবই….
আমি যা বলি চলো একসাথে চলি,
বাঁধবো দুজন সুখের জীবন…..
তুমি আমারই কেবল।
আসো হয়ে যাই ডাবল।
সিঙ্গেল জীবন ভাল্লাগে না….
হচ্ছে জ্বালাতন…..।

সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৪০