সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৩
Raiha Zubair Ripti
সিকান্দারের কাটকাট জবাবের পর আর এক সেকেন্ডের জন্যও স্থীর হয়ে থাকতে পারে নি সাইদা মির্জা। মুখোমুখি বসিয়ে রেখেছে সিমরান কে। বেচারি সিমরান বুঝতে পারছে না এভাবে বসিয়ে কেনো রেখেছে তার চাচি। সাইদা মির্জা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে এবার বলল-
“ তোমার বাবা কে,তোমার ভাইকে বুঝাও সিমরান। তারা রাজি হলো কি করে সিকান্দারের এমন অযৌক্তিক অস্বাভাবিক আবদারে? নাকি ঐ মেয়েকে কেউ বিয়ে করছে না বলে সিকান্দারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে এভাবে? ”
সিমরান বিরক্ত হলো এমন কথা শুনে। কি ঠেকা তার বাপ ভাইয়ের? মুনতাহা গোল্লায় চলে যাক বা জাহান্নামে চলে যাক তাতে তাদের কি। আর সিকান্দার কি ১০ মাসের বাচ্চা যে তার ঘাড়ে মুনাতাহা কে চাপিয়ে দিবে আর সে তা বয়ে নিয়ে যাবে। আর তারচেয়ে বড় কথা এগুলো সিমরান কে কেনো শোনাচ্ছে? মুনতাহা কার বউ হবে না হবে তাতে তার কি আসে যায়? সে সিকান্দারের বউ হোক বা তার দাদার বউ হোক তাতে তার কি। সিমরান বসা থেকে উঠে বলল-
“ আমাকে কেনো এসব শোনাচ্ছেন চাচি? আব্বুর সাথে গিয়ে আপনি কথা বলুন। আমি প্রশ্ন করলে আব্বু আমাকে ধমক দিবে না? ”
“ তোমার বাবা তুমি কিছু বলবে না? তোমাদের বাড়ির ঐ আশ্রিতা কে এ বাড়ির সিকান্দারের বউ হিসাবে পাঠাতে চাইছে,তোমার খারাপ লাগছে না?”
“ কি আশ্চর্য আমার খারাপ লাগবে কেনো? সে কি আমার স্বামীর বউ হয়ে আসছে নাকি? আসছে না তো। তাহলে?”
“ ভুলে যেও না,একটা সময় কিন্তু অর্নব আর মুনতাহা একে অপরকে ভালেবাসতো। ”
“ তো?”
সাইদা মির্জা মুহূর্তে রেগে গেলেন সিমরানের এমন কথা শুনে। তো মানে? এই বোকা গাধা মেয়েটা বুঝতেছে না মানে টা? নিজের সংসারে যে আগুন লাগবে এটা ওর মাথায় ঢুকতেছে না?
“ তুমি এতোটা গাধা কি করে হতে পারো সিমরান? মুনতাহা অর্নবের সামনে দিয়ে ২৪ ঘন্টা ঘোরাফেরা করবে, তাদের মধ্যে কথাবার্তাও হবে। তোমার কি মনে হয় ওদের পুরোনো অনুভূতি তাজা হবে না? তোমার এই দুশ্চিন্তাটা একবারও মাথাতে আসছে না! এতটা রিলাক্স গা ছাড়া ভাবে কিভাবে আছো? ”
সিমরানের ভ্রু কুঁচকে আসলো। আসলেই সে এসব এক সেকেন্ডের জন্যও এসব ভাবে নি। মুনতাহাকে তার একটুও পছন্দ না। এমনকি ময়না বেগম কেও না। সিমরান জানে না কেনো দেখতে পারে না। হয়তো বাবার ২য় বউ সেজন্য। লোকে হয়তো তাকে সৎ মা বলে জানে সেজন্য। আর মুনতাহা ময়না বেগমের আগের ঘরের সন্তান হয়েও তাদের সাথে থাকছে হয়তো সেজন্য। হতে পারে। সিমরান এটা নিয়ে গভীর ভাবে কোনোদিন ভাবে নি। আজও ভাবতে চাইছে না। তার মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শ্বাশুড়ির কথা গুলো। অর্নব কে যে বিয়ের আগে পাগলের মতো ভালোবাসতো বিষয়টা এমনটাও না। তবে হ্যাঁ পছন্দ করতো। ভালো লাগতো।
এ বাড়ি থেকে যখন তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব গেলো তখন তার বাবা রাজি না হলেও সিমরান এক কথায় রাজি হয়ে যায়। তার ছোট থেকেই ইচ্ছে সে দূরের কোনো ছেলেকে বিয়ে করবে না। কাজিন বা চেনাজানা কাউকে বিয়ে করবে। যাতে শ্বশুর বাড়ির সব কিছু পরিচিত চেনাজানা থাকে। অচেনা লোককে বিয়ে করলে তার সাথে স্বাভাবিক হতে হতে তার ৩-৪ মাস সময় এমনিতেই ওয়েস্ট হয়ে যাবে। সেখানে পরিচিত কাউকে বিয়ে করলে তার সাথে সে শুরু থেকেই স্বাভাবিক একটা কম্ফোর্টজন থাকবে। সেই ভেবেই সিমরান রাজি হয়। রাজি হবার পরে অবশ্য জেনেছিল মুনতাহা আর অর্নব রিলেশনে ছিলো। থাকতেই পারে বিয়ের আগে। আর তাছাড়া মুনতাহাকে তো কেউ মেনেই নিবে না মির্জা বাড়িতে। তো সেখানে সিমরান আর না করবে কেনো? অর্নব তো তারও পছন্দের ছিলো। বিয়ের এই এক বছরে সিমরানের তো কোনো সমস্যা হয় নি। তবে মাঝেমধ্যে অর্নব সিমরান কে কিছু জিনিস নিয়ে কথা শোনায়। বিশেষ করে সে বোকা বলে।
সিমরান গায়ে মাখে না। সে নিজের যেটাতে খুশি সেটাই করে। অর্নব হার্ট হবে এমন কাজ তেমন করে না বললেই চলে। সেই অর্নব কে নিয়ে এখন শাশুড়ি যেই সন্দেহ আর আতঙ্কের বীজ রোপণ করে দিলো সিমরানের মধ্যে, বেচারি ডিপ্রেশনে শেষ হয়ে যাবে।
শাশুড়ির হাত ধরে আতঙ্কিত গলায় বলল-
“ চাচি আপনি আব্বুকে গিয়ে বোঝান। এমনিতেও তো শুনেছি মুনতাহা রাজি নেই। আব্বু দ্বিমত দিলে সিকান্দার ভাইয়ার পক্ষে কিভাবে সম্ভব হবে বিয়ে করা? ”
সাইদা মির্জা সিমরানের মাইন্ড নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিতে পেরেছে ভেবে বাঁকা হাসলেন। সোফা থেকে ফোনটা নিয়ে বললেন-
“ চলো তোমাদের বাসায়। আজই কথা বলে আসবো সালমানের সাথে। তার মেয়েকে এক ছেলের বউ করেছি,তাই বলে তার বাড়ির আশ্রিতা কে বড় ছেলের বউ করবো! কোনোদিনই না। ”
মুনতাহা ভার্সিটি থেকে ফিরে গোসল করে সেই যে একটা ঘুম দিয়েছিল সে ঘুম ভাঙলো সন্ধ্যার পর বাহিরের কারোর চেঁচামেচি তে। বিছানায় বসে গলার স্বর চেনার চেষ্টা করলো। সিমরানের গলা পেলো। কিন্তু কি বললো তা স্পষ্ট নয়। সবটা স্পষ্ট ভাবে শোনার জন্য মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে বসার ঘরে আসলো।
সাইদা মির্জা মুনতাহাকে দেখেই গলার স্বর আরো শক্ত করে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সহিত বলল-
“ সিকান্দার না হয় একটা অযৌক্তিক আবদার করেছে তোমার কাছে সালমান,তাই বলে তুমিও রাজি হয়ে যাবে? নিজে কি আর পারছো না অন্যের মেয়ের খরচ বহন করতে? সেজন্য সিকান্দার বলা মাত্রই ও মেয়েকে নিজের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলে সিকান্দারের গলায় ঝুলিয়ে দিচ্ছ! খরচ চালাতে হিমশিম খেলে বলো আমরা দিচ্ছি। তারপরও ও মেয়েকে আমাদের পরিবারের আশেপাশেও পাঠিও না। ওর না আছে বংশ পরিচয়, না আছে বাপের পরিচয়, থাকেই অন্যের বাড়িতে। এমন এক আশ্রিতা কে ছেলের বউ বানালে মুখ দেখাবো কি করে সমাজে? আমাদের এই সোসাইটিতে কত নাম ডাক আছে জানো না সেটা? লোকজন তখন হাসবে আমাদের দেখে। পিঠ পিছে বদনাম করে বেড়াবে। আর সেটা জেনেশুনে তো আর আগুনে ঝাপ দিতে পারি না আমরা। ”
লজ্জায় অপমানে মুনতাহার চোখ লাল হয়ে আসে। টপটপ করে জল পরলো গাল বেয়ে। তার মা চুপ হয়ে আছে। কেবল তাকিয়ে আছে ফ্লোরের দিকে। তার মেয়েকে কেউ যা তা বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে আর সে নীরব, শান্ত! সালমান মির্জা অবশ্য প্রতিবাদ করলো। শান্ত গলাতেই বলল-
“ ও মেয়ে ও মেয়ে এটা কেমন কথা ভাবি? ওর একটা নাম আছে, মুনতাহা। আর দ্বিতীয়ত আমি বা আমরা তোমার ছেলের কাছে যাই নি। তোমার ছেলেই এসেছিল আমাদের কাছে। সে নিজ থেকেই মুনতাহা কে বিয়ে করতে চেয়েছে। আর আমাদের টাকা পয়সা তোমাদের মতো এতো অঢেল নেই এটা ঠিক,কিন্তু তাই বলে এটা না যে আমরা একেবারেই গরীব যে মেয়ে পালতে পারবো না। আর মুনাতহার বাবা নেই কে বলেছে? আমি তার বাবার মতোই। ”
সাইদা মির্জা সে কথা শুনে হাসলো।
“ বাবার মতো! বাবা তো না। তাহলে তাকে নিয়ে সাফাই গেয়ে দোষ হাল্কা করছো কেনো সালমান!”
কথাটায় সালমান মির্জার খুবই খারাপ লাগলো। সত্য কথাই মাঝেমধ্যে তিক্ত লাগে শুনতে। বাবার মতো! বাবা নই।
“ কোন দোষের কথা তুমি বলছো ভাবি? দোষ করলে তোমার ছেলে করেছে। তুমি তোমার ছেলেকে সামলাও। আমাদের বাড়ির মেয়ে তো শুরু থেকেই দ্বিমত দিয়ে আসছে। সে তো বলেই দিয়েছে বিয়েটাতে সে রাজি না। তাহলে একতরফা দোষ আমাদের কেনো দিচ্ছ? ”
“ তুমি ওর বিয়ের ব্যবস্থা করো। অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দাও। ছেলে না পেলে বলো আমাদের বাড়ির দারোয়ান রমজানের সাথে কথা বলবো। ভালোই সেলারি দেই আমরা। ওর পড়াশোনা খাওয়া পড়া,থাকা হয়েও বেঁচে যাবে। তাতেও কম হলে বাড়িয়ে দিব সমস্যা নেই। ”
এতক্ষণ ধরে চুপ থাকা ময়না বেগম এবার কথা বললেন। ছোট্ট করে শুধু এটুকু বললেন-
“ আপনি এবার আসতে পারেন ভাবি। মুনতাহার বিয়ে কোথায় হবে না হবে তার চিন্তা আপনার করতে হবে না। তবে হ্যাঁ আপনার ছেলের সাথে মুনতাহার বিয়ে কোনোমতেই হবে না। ”
“ যদি সিকান্দার তারপরও আসে…. ”
“ ফিরিয়ে দেওয়া হবে আপনার ছেলেকে। আপনিও এটা ইনশিওর করুন আপনার ছেলেকে আপনি এ বাড়িতে আসতে মানা করবেন। ”
“ সে তো আমার এখতিয়ারের বাহিরে। ও কেমন জানো না?”
“ জানি বলেই রাজি ছিলাম শুরুতে। তবে এখন আমিও দ্বিমত দিচ্ছি। আপনি আপনার ছেলের বিয়ে অন্যত্র দিন। তার বিয়ের বয়স হয়েছে। মুনতাহার বিয়ের বয়স যখন হবে তখন আমরা দিব। এখন আসুন। ”
সাইদা বেগম বসা থেকে উঠে মুনতাহার দিকে তাকিয়ে বলল-
“ মির্জা বাড়ির এক ছেলেকে ফাঁসিয়ে পাও নি বলে আরেক ছেলেকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিলে তাই তো? নির্লজ্জ মেয়ে কোথাকার। মিনিমাম লজ্জা আর আত্মসম্মানবোধ থাকলে এই কাজ টা করতে না। ”
সিমরানও তাল মিলিয়ে বলল-
“ তুমি আমার সংসার টা ভাঙতে চাইছো না তো মুনতাহা? দেখো তোমাদের মধ্যে একটা সময় কি ছিলে না ছিলো ওসব দেখার বা ভাববার বিষয় আমার না। বাট তুমি কি করে ঐ বাড়িরই আরেক ছেলেকে বিয়ে করতে চাও?”
মুনতাহা এর জবাব টা দেওয়ার আগ দিয়েই ময়না বেগম বললেন-
“ তুমি হয়তো এতক্ষণ বলা কথাগুলো শুনো নি সিমরান। মুনতাহা কিন্তু সম্মতি দেয় নি বিয়ে তে। সে শুরু থেকে অমত। তাই বাড়তি কথা বলো না। ”
সাইদা মির্জা সিমরানের হাত ধরে বলল-
“ চলো সিমরান,সে তো তার মেয়ের সাইডই নিবে। তোমার সাইড কোনো নিবে? কে হও তুমি তার? তার সাথে কথা বাড়িও না অযথা। চলো এখন। ”
ময়না বেগম সালমান মির্জার দিকে তাকিয়ে বললেন-
“ সিকান্দার যেন পাগলামি না করে খবরদার। আমি সাইদা ভাবিকেও বলে দিয়েছি আপনাকেও বলছি ও বাড়ির বউ মুনতাহা হবে না। ”
ময়না বেগম উঠে চলে যাবার সময় মুনতাহাকে সামনে পেলেন। সিকান্দার ছেলেটা তার পছন্দের হলেও ও বাড়ির কাউকেই সুবিধার লাগে না। সব গুলোরই অর্থ প্রতিপত্তির ডুমুর অনেক। যা ময়না বেগমের মোটেই পছন্দ না। তবে সিকান্দার এর বিপরীত। সে বদ মেজাজি,শিরায় শিরায় রাগ হলেও সে স্পষ্টভাষী,ন্যায় কে ন্যায় অন্যায় কে অন্যায় বলে হোক সে মা হোক বাবা আর হোক সে অচেনা কেউ। সেজন্যই তো পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিল ১২ বছর আগে। এবার যে সে কিসের জন্য ফিরিছে সেটা সবাই জানে। জানে না কেবল মুনতাহা। সবাই তার ফেরার মানে টা জানে বলেই এমন আতঙ্কে পড়ে গেছে সিকান্দারের বিয়ে নিয়ে। দেশে আসতে না আসতেই তার পরের দিনই মেয়ে দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সাইদা মির্জা। অথচ তার ছেলে যে দেশে আসার আগেই বিয়ের কথা বলে রেখেছেন সালমান মির্জাকে। ময়না বেগম এটাও জানে সিকান্দার কে যতই না করা হোক,ছেলেটা শুনবে না কারোই কথা। সে বিয়ে করলে কেবল মুনতাহা কেই করবে।
“ এবার খুশি তুমি?”
মায়ের কথা শুনে মুনতাহা নত মাথা উঁচু করলো। গলার স্বরও যেমন শক্ত,চোখ মুখও ঠিক ততটাই শক্ত। এখানে তার কি দোষ সেটাই মুনতাহা বুঝতে পারছে না। সে তো বিয়েতে হ্যাঁ ও করে নি। তারপরও এতো গুলো কথা শুনতে হলো। তাকেই দোষারোপ করা হলো। ঐ লোককে তো সে ভালো করে চিনেও না তাহলে ফাঁসানোর কথা আসছে কোথা থেকে?
ময়না বেগম চলে যেতেই মুনতাহা নিজের রুমে চলে আসলো। লোকটা দেশে এসে তার আরো জ্বালা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন রোজ চোখে জল আসে। কান্না পায়। পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব ছিলো উনার? নজর এই অসহায় মেয়েটার উপরই পড়তে হলো? তার নজর যে মুনতাহার উপর ভারী হয়ে পড়ছে এটা কি বুঝে না?
সেলিম মির্জা রাতে বাড়ি ফিরেই সর্বপ্রথম ছেলের খোঁজ করলেন। সিকান্দার তাদের একটা কথাও শুনে না। কতবার করে বললো পার্টি অফিসে আসতে। ছেলেটা আসছি বলেও আর আসলো না! আবার ফোন করলো ফোনটাও রিসিভ করলো না! গলা ছেড়ে স্ত্রী কে ডাকলেন। ডেকে জিজ্ঞেস করলেন তার গুনধর রাগী ছেলেটা কোথায়?”
সাইদা মির্জা দোতলায় ইশারা করে বলল-
“ রুমে। ”
সেলিম মির্জা ছেলের রুমের দিকে পা বাড়ালেন। তবে দরজার কাছে এসে রীতিমত চমকে উঠলেন। সিকান্দার ল্যাগেজ গোছাচ্ছে! কিন্তু কেনো? বাড়িতে কি আবার কারো সাথে ঝামেলা হয়েছে? সেজন্যই কি বসার ঘর এত শান্ত ছিলো আজ!
সেলিম মির্জা রুমে ঢুকতে ঢুকতে ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন-
“ ল্যাগেজ গোছাচ্ছ কেনো তুমি? কি হয়েছে? ”
সিকান্দার কাভার্ড থেকে শার্ট নিয়ে ল্যাগেজে ভরে বলল-
“ আপনার স্ত্রী আপনাকে কিছু বলে নি?”
সেলিম মির্জা স্ত্রীর পানে তাকালো। গা ছাড়া ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে। পেছন পেছন সেলিম মির্জার মা মনোয়ারা মির্জা এসে দাঁড়ালেন লাঠি হাতে।
“ কি হয়েছে সাইদা?”
পাশ থেকে মনোয়ারা মির্জা ভেতরে প্রবেশ করে বলেন-
“ তোর বউ আজ সালমানের বাড়ি গেছিলো। ”
ভ্রু কুঁচকে আসলো সে কথা শুনে।
“ কেনো? সাইদা তুমি সালমানের বাড়িতে গিয়েছিলে কেনো? ”
“ বোঝাতে। সালমান তার ঘাড় থেকে ঐ মেয়েকে নামিয়ে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছিলো। ও মেয়ের কোনো যোগ্যতা আছে এ বাড়ির বউ হওয়ার? না রূপে না বংশে,সব দিক দিয়েই তো পিছিয়ে। মির্জা বাড়ির এক ছেলেকে তো পায় নি,এখন বড় ছেলের পেছনে পড়ে আছে লোভী নির্লজ্জ বেহায়া মেয়েটা। ”
কথাটা শেষ হতে না হতেই সজোরে কিছু ভাঙার শব্দ আসলো কানে। তাকিয়ে দেখলো সিকান্দার তার পাশে থাকা ফুলদানি টাতে লাত্থি দিয়ে ভেঙে ফেলছে। ফ্লোরে পড়ে আছে ফুলদানির ভাঙা টুকরো গুলো। চোখ মুখ রাগে লাল টকটকে হয়ে আছে। সামনে ফিরে আঙুল তুলে সাইদা মির্জা কে শাসিয়ে বললো-
“ চুপ,একদম চুপ। মুনতাহা কে নিয়ে আর একটা বাজে শব্দ মুখ থেকে বের করলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। জিভ টেনে, ছিঁড়ে নিয়েও আসতে পারি, বলা যায় না। ”
কথাটা শুনেই সাইদা মির্জা তেলেবেগুনে ফুঁসে উঠলো। কত বড় স্পর্ধা এই ছেলে তার জিভ টেনে ছিঁড়ে নিয়ে আসার কথা বলে!
“ শুনলে তুমি? শুনলে? কি বললো তোমার ছেলে! আমার জিভ টেনে ছিড়ে নিয়ে আসার কথা বললো! এত বড় কথা বললো কি করে! তুমি এরপরও ওর হয়ে কথা বলবে? এতটা বেয়াদব উশৃংখল বেয়ারা হয়েছে এই ছেলে! মায়ের সমতুল্য একজন কে এসব বলে! ”
সিকান্দার তাচ্ছিল্যের সাথে হাসে।
“ মায়ের সমতুল্য, মা না আপনি আমার। তাই চাইলেই ছিড়ে আনতে পারি আপনার জিভ। সেজন্য বলছি সাবধানের সহিত কথা বলুন। ”
সেলিম মির্জা চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে বলল-
“ সিকান্দার! সংযত করে বলো কথা। কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলছো এগুলো?”
“ একটা সিঙ্গেল ওয়ার্ড ও আমি আমি উল্টাপাল্টা বলেনি সেটা আপনিও ভালো মতো জানেন। আপনার স্ত্রী কোন সাহসে ও বাড়িতে গিয়ে যা নয় তাই বলে সবাইকে অপমান করে আসছে? উনার টাকার গরম কেউ দেখতে চেয়েছে? আমি কাকে বিয়ে করবো না করবো সেটা টোটালি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আপনার ওয়াইফ কেনো তার বোঁচা নাক টা বারবার গলাচ্ছে এখানে? ”
“ সে তোমার ভালোর জন্যই….”
“ দ্যাটস ন্যান অফ হার বিজনেস। আমার ভালো কিসে, মন্দ কিসে তার সব ডিসিশন কেবল আমিই নিব। ”
“ এখন তুমি ল্যাগেজ কেনো গোছাচ্ছ? ”
“ আমি এ বাড়িতে আর থাকবো না। আমার পক্ষে সম্ভব হবে না এ বাড়িতে থাকা। আমি ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠবো। ”
“ কিসব উল্টাপাল্টা কথা বলছো সিকান্দার! তুমি আমার ছেলে হয়ে ফ্ল্যাটে থাকবে! লোকে জানলে কি বলবে ভেবে দেখেছো?”
“ এসব আমার ভেবে দেখার বিষয় না। আপনারা ভাবুন আপনাদের মান সম্মান নিয়ে। আমাকে আটকাবেন না। ”
“ তুমি শান্ত হও। আচ্ছা তুমি কি চাও বলো? ”
“ মুনতাহাকে। ”
“ ও তোমার জন্য সঠিক না। ”
” তাহলে কারা সঠিক? যাদের আপনার ওয়াইফ খুঁজে এনেছে? তাদের মধ্যে কেউ লিভইনে থেকেছে, কেউ লুকিয়ে প্রেমিকের বাচ্চা পেটে নিয়ে এবর্শন করিয়েছে,কেউ দিন রাত ক্লাবে গিয়ে ছেলেদের সাথে ঢলাঢলি করে ড্রিংকস করে মাতলামো করে তারা? ”
“ আরো ভালো মেয়ে খুঁজবো তোমার জন্য। ”
“ আপনারা কি কানে কম শুনতে পান? নাকি স্পষ্ট কথা কম বুঝেন? আমি বলেছি পৃথিবীর সব মেয়ে আমার সামনে এনে হাজির করলেও আমি কেবল আর কেবল মুনতহাকেই চাইবো। ”
সেলিম মির্জা ভেতর ভেতর প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন। তবে ছেলের সামনে প্রকাশ করলেন না। এ ছেলেকে তার দরকার।
“ আচ্ছা তোমার মুনতাহা কে চাই তাই তো? বেশ মেনে নিব তোমার বউ হিসেবে,তবে আমার একটা শর্ত আছে। ”
সিকান্দারের ভ্রু কুঁচকে আসলো সে কথা শুনে।
“ কিসের শর্ত রাখতে চাইছেন আপনি?”
“ আমরা প্রস্তাব নিয়ে যাব ও বাড়িতে। তোমার বিয়ে মুনতাহার সাথেই হবে। তবে শর্ত এটাই তুমি এ বাড়ি ছেড়ে যাবে না। আমার বিজনেস রাজনীতি সব সামলাবে। ”
সাইদা মির্জা বিস্ফোরণ চোখে তাকালো স্বামীর পানে। এ কি বলছেন কি সেলিম! ওর নিজেরও তো অপছন্দ মুনতাহা কে। তাহলে এমন করার কি মানে!
“ আপনাদের মানা না মানায় আমার বিয়ে আঁটকে থাকতো না। তবে আমি আপনার এই শর্ত মেনে নিলাম। আমি চাই বিয়ের মতো পবিত্র একটা অনুষ্ঠান সুস্থ মতে হোক আর পাঁচ দশটা বিয়ের মতো বড়দের দোয়া নিয়ে। আপনারা যে দোয়া করবেন না এটাও জানি। তারপরও গার্ডিয়ান তো। বিয়েতে থাকা আবশ্যক। তবে আমি এখন এ বাড়িতে থাকতে পারবো না। আপনারা চাচার বাসায় গিয়ে কথা বলুন,তাদের রাজি করান। আপনার স্ত্রী কে তার ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইতে বলবেন,তারপর বিয়ের ডেট ফিক্সড করে আমাকে জানাবেন। আমি সেদিন ফিরবো এ বাড়িতে। তার আগে নয়। ”
সেলিম মির্জা আর ঘাটলেন না ছেলেকে। বাড়িতে থাকার কথা বললেও থামবে না।
“ ঠিক আছে তাহলে সেই কথাই রইলো। ”
সিকান্দার ল্যাগেজের চেইন আঁটকে দাদিকে জড়িয়ে ধরে বলল-
“ আসছি দাদিজান। ”
মনোয়ারা মির্জা নাতি কে স্নেহের সহিত আদর করলেন। খুবই পছন্দের প্রিয় নাতি বলে কথা। যতই রাগী বদমেজাজি হোক। খাঁটি একটা হৃদয় আছে তার।
“ সাবধানে থাইকো দাদুভাই। ”
“ আপনিও টাইম টু টাইম ঔষধ গুলো খাবেন। ”
সিকান্দার চলে যেতেই সাইদা মির্জা স্বামী কে টেনে নিয়ে গেলেন রুমে। কড়া গলায় বললেন-
“ রাজি হলে কেনো তুমি? ছেলে যা বলবে তাই শুনতে হবে তোমাকে? ”
সেলিম মির্জা শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বলল-
“ তুমি সালমানের বাড়ি গিয়েছিলে আগে জানাও নি কেনো?”
“ আমার ইচ্ছে হয়েছে আমি গিয়েছি। তুমি কথা না পেঁচিয়ে আমার প্রশ্নের জবাব দাও। ”
“ সিকান্দার কে আমার লাগবে। আমার ব্যবসা রাজনীতি, সব কিছুতেই তার থাকা লাগবে। আমি একা একা কতদিক সামলাবো? তোমার ছেলেকে দিয়েও তো হলো না কিছু। ডুবে মা-রা খাওয়ার রিস্ক কেনো নিব আমি? বিয়েই তো হচ্ছে। দুদিন পর ডিভোর্সও করানো যাবে। কঠিন কাজ নয়। আর বাড়িতে তো তুমি আছোই। সিকান্দার সারাদিন আমার সাথে থাকবে। বাড়িতে বসে বসে কি তুমি লুডু খেলবে? এক মাস দু মাস,তারপর ও মেয়ে নিজেই চলে যাবে সিকান্দার কে ছেড়ে। যত পারবে নির্যাতন করবে। ”
“ তোমার ছেলে জেনে চুপ থাকবে নাকি? আজই আমার জিভ টেনে ছিড়ে ফেলার কথা বলেছে। সেদিন কি করবে ধারণা আছে কোনো?”
“ ভয় পাচ্ছ নাকি? ও জানবে না। ততদিনে সিকান্দার কে আমি বশে করে ফেলবো। ”
“ এত বছরেও যা পারো নি,সেটা এক দু মাসে পারবে! ”
“ চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কিসে? ফেইল হলে কালো যাদু করবো ব্যাস। ”
পরের দিন মুনতাহার কানে খবর এসেছে সিকান্দার মির্জা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। দুবার কল এসেছিল তার নম্বর থেকে। তৃতীয় বার কল আসলো আর ওমনি ব্লক লিস্টে ফেলে রাখলো নম্বর টা । শুধু ব্লক লিস্টে রেখে থামলো না। সেই সাথে নিজের ফোনটাও বন্ধ করে রাখলো। বলা তো যায় না অর্নবেরই তো ভাই। অন্য নম্বর দিয়েও ফোন দিতে পারে।
সালমান মির্জা সিকান্দার কে ফোন দিলো। এমন পাগলামি কেউ করে?
ভাইস্তা ফোন ধরতেই সালমান মির্জা বলল-
“ এমন পাগলামি কেনো করছো সিকান্দার? বাড়ি ছেড়েছো কেনো?”
সিকান্দার জবাবে বলল-
“ একটু শান্তির খোঁজে চাচা। আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিবেন চাচা? আমি আপনার জামাই হতে চাই। খুব বেশি কোনো আবদার রেখেছিলাম? সাইদা মির্জা এসে দুটো কথা বলতেই আপনি বললেন মেয়ে দিবেন না আমার কাছে! এতই কি অযোগ্য আমি আপনার মেয়ের জন্য? তার হাতটা কি দেওয়া যায় না আমাকে? অযত্নে রাখবো না। পৃথিবীতে এক সিকান্দারের থেকে বেশি ভালো বেশি যত্ন কেউ করতে পারবে না আপনার মেয়ের। ”
সালমান মির্জার অসহায় লাগলো। এমন সোনার টুকরো ছেলে যে লোকের জামাই হবে সে লোক নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। কিন্তু মেয়েটা তো তার নিজের না। জোর টাও তো করতে পারে না। তখন লোকে বলবে নিজের মেয়ে না তাই এমনটা করছে।
“ তুমি বাড়ি যাও সিকান্দার। মুনতাহাকে হয়তো তোমার জন্য বানানো হয় নি। ”
“ মুনতাহা কে কেবল সিকান্দার শাহ্ এর জন্যই বানানো হয়েছে চাচা। ”
“ ভাইজান ভাবি রাজি না। ”
“ রাজি তারা। খুব সম্ভবত আসবে আপনার দোরগোড়ায়। প্লিজ আমার দিক টা ভাববেন। আপনার মেয়েকে ছাড়া আমি অচল। ”
সালমান মির্জা অবাক হলেন। ভাইজান ভাবি রাজি! গতকালই তো কতগুলো কথা শুনিয়ে গেলো। রাজি হলো কি করে! এ তো অসম্ভব কথা।
“ ঠিক আছে,আমি আমার তরফ থেকে চেষ্টা করবো। তুমি নিজের খেয়াল রেখো। খেয়েছো কিছু? থাকছো কোথায়?”
“ মায়ের ফ্ল্যাটে আছি। রাখছি এখন। ”
রাতের খাবার খেয়ে মুনতাহা যখন পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিলো তখন তার রুমে কেউ কড়া নাড়ে। দরজা খুলে দিতেই নাদিম গম্ভীর গলায় বলল-
“ তোমার ফোন কোথায়? বন্ধ কেনো?”
মুনতাহার মনে পড়লো ফোনটা তো সে দুপুরের দিকে বন্ধ করে রেখেছিল। আর অন করে নি। বিছানার দিকে তাকিয়ে বলল-
“ ওখানে আছে। ”
“ নিয়ে এসো। ”
মুনতাহা নিয়ে আসলো। নাদিম ফোন অন করে কি যেন করলো। তারপর ফোনটা তার হাতে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। সাথে সাথে ফোনটা বেজে উঠলো। মুনতাহা ফোনের দিকে তাকালো। সাথে সাথে আবিষ্কার করলো সিকান্দারের নম্বর টা। নাদিম তাহলে সিকান্দারের নম্বর টা আনব্লক করার জন্য এসেছিল! ভাবতে ভাবতে ফোনটা কে’টে গেলো। ২য় বার আবার বেজে উঠলো। মুনতাহা ফের ব্লক করে রাখলো। মিনিট দুয়েক পর আবার নাদিম আসলো। এবার ধমক দিয়ে বলল-
“ সমস্যা কি তোমার? নম্বর ব্লক করছো কেনো বারবার? সিকান্দার কি বলতে চায় শোনো সেটা। আর একবার ব্লক করলে তোমার ফোন চিরতরে আমি ভেঙে নষ্ট করে দিব। তখন ভার্সিটির এসাইনমেন্ট, ক্লাস কিভাবে করো সেটাও দেখে ছাড়বো। ”
মুনতাহা হকচকিয়ে গেলো নাদিমের রাগ দেখে। কি আশ্চর্য এ ছেলের সমস্যা কি? নাদিম রুমে চলে আসলো। মেয়েটা বারবার সিকান্দারের নম্বর টা ব্লক করছে আর সিকান্দার নাদিম কে শাসাচ্ছে।
মুনতাহার ফোন টা আবারও বেজে উঠলে আর ব্লক করলো না,কেটেও দিলো না। রিসিভ করে কানে নিয়ে রাগান্বিত গলাতেই বলল-
“ সমস্যা কি আপনার? ফোন কেনো দিচ্ছেন আমায়? ”
ওপাশ থেকে ধীর গলায় সিকান্দার কেবল বলল-
“ মন!!”
শরীর জমে গেলো। কেনো তার নামটাকে এমন বিকৃত করে ডাকে এই লোক? জানে না নাম বিকৃত করে ডাকলে কবিরা গুনা হয়?
“ নিচে আসতে পারবেন মন?”
থতমত খেয়ে গেলো মুনতাহা। দেওয়ার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো এখন বাজে সাড়ে ১২ টা। কি খারাপ এই লোক! তাকে এত রাতে নিচে ডাকছে। তারচেয়ে বড় কথা এই লোক কি তাদের বাসার নিচে?
ওপাশ থেকে আবার ভেসে আসলো-
“ না নিচে আসাটা ভালো দেখাবে না এতরাতে। আপনি বরং বেলকনিতে এসে দাঁড়ান মন। আমি আপনাকে দেখবো। আর দেখেই চলে যাব। ”
মুনতাহা কথাটা শুনে বেলকনির দিকে তাকালো। সে তো দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। মুনতাহা এখনও আসছে না দেখে ওপাশ থেকে সিকান্দার ফের বললো-
“ কি হলো আসুন। ”
মুনতাহার কি যেন হলো। তোতাপাখির মতো বেলকনির দরজা টা খুলে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিচে তাকাতেই আবিষ্কার করলো, কালো প্রাইভেট কারের দরজার কাছটায় দাঁড়িয়ে আছে এক সুপুরুষ। রাস্তার আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পড়নে কালো শার্ট কলো প্যান্ট। সিকান্দার তাকিয়ে ছিলো আগে থেকেই বেলকনিতে। মুনতাহা এসে দাঁড়ানো মাত্রই তার বুকের বা পাশ টা কেঁপে উঠলো। হাল্কা করে হাতও রাখলো বুকের উপর। সিকান্দার পলকবিহীন কতক্ষণ তাকিয়ে রইলো জানা নেই। কালো কামিজে খোলা চুলে মুনতাহা কে যে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। সেদিনের সেই পিচ্চি কাঁদুনি মেয়েটা এখন কত বড় হয়ে গেছে। তাদের প্রথম দেখাটাও এমনই ছিলো। চাচার বিয়ের দিন দোতলা ঘরের এক জানালা দিয়ে ফুলোফুলো চোখে মায়ের বিদায় দেখছিলো সাত বছরের মেয়েটা। আর নিচ থেকে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫ বছরের সিকান্দার আচমকা ঘাড় ফেরাতে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলো সেই সাত বছরের বাচ্চা মেয়েটাকে!
সিকান্দার কে চুপ করে থাকতে দেখে মুনতাহা প্রশ্ন করলো-
“ কি জন্য আসতে বললেন বেলকনি তে?”
সিকান্দার এবার চোখ বুঝলো। কিছুটা এলোমেলো গলায় বলল-
“ চলে যান মন। আপনি আর এক সেকেন্ড থাকলে বাড়ি ফেরা মুশকিল হয়ে যাবে আমার জন্য। ”
“ মানে?”
সিকান্দার শাহ্ পর্ব ২
সিকান্দার কেটে দিলো ফোন। দ্বিতীয় বার আর তাকালোই না ঐ বেলকনিতে। গাড়ির ভেতর ঢুকে সোজা চলে গেলো। আর একটু থাকলেই সিকান্দার অসুস্থ হয়ে যেত। রমণী টা কে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে জাগতো। কপালে একটা গাঢ় চুম্বন এঁকে দিতে ইচ্ছে করতো। এসব সিকান্দারের জন্য এখন হারাম। যেখানে সে আজ অব্দি মেয়েটার হাত ধরে দেখেনি সেখানে এসব ভাবনা মনে আসলে তার জন্য যন্ত্রণার হতো।
সিকান্দার মুনতাহা দের বাড়ি ছেড়ে কিছুটা দূরে চলে আসা মাত্রই ঠোঁটের কোণে বিরবির করে উচ্চারণ করে-
❝ আমি হালালে বিশ্বাসী মন। আপনাকে আমি কেবল হালাল ভাবেই ছুঁতে চাই..হারামে আমার জ্বর আসে…❞
