সুইটহার্ট পর্ব ১৩
মোনালিসা মেহরোজ
—কি করছেন কি, স্যার? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? এসবের মানে কি?
—চুপচাপ বসে থাকো?
—থাকবো না। আমাকে নামিয়ে দিন। দিন বলছি।
তীব্র এক চিৎকার দিয়ে আদ্রিয়ানকে উপেক্ষা করে চলন্ত গাড়ির দরজায় ধাক্কাতে থাকে মেহরিন। তখন অভ্রের সামনে থেকে ওভাবে নিয়ে আসার পর হতভম্ব মেহরিন কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে বুঝতে পারছিলো না। তবে সম্বিত ফিরে পেতেই আদ্রিয়ানের থেকে মুক্তি পেতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছিলো রমণী। কিন্তু বেপরোয়া জেদী পুরুষটি তাকে ছাড়তে নারাজ। সে গাড়ি থামাচ্ছে না কোনমতেই। বাধ্য হয়ে মেহরিন চলন্ত গাড়ির দরজায় আঘাত করে মুক্তি পেতে চাইলো।
আদ্রিয়ান বাঁকা নজরে মেহরিনকে একবার পরখ করেও খুব একটা পাত্তা দিলো না তাকে। বরং নিজের মতো করে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলো আরো। মেহরিন ভয় পেলো ভিষন। তবে বাহিরে শক্ত থাকলো। ভয় না পাওয়ার ভান করে আওড়ালো—
—নামিয়ে দিন আমায়। আপনি আমার সাথে কেনো এমনটা করছেন, স্যার? কি ক্ষতি করেছি আমি আপনার?
ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো রমণী। অন্যদিকে ক্ষতির কথা শুনেই কি হলো কে জানে? হুট করেই ব্রেক কষে বসলো যুবক। ফলস্বরূপ হুমড়ি খেয়ে পরতে লাগে মেহরিন। আদ্রিয়ান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘাড় ঘুড়িয়ে মেহরিনের পানে তাকায়। তার ভ্রু কেমন তীরের ন্যায় উঁচিয়ে গেছে। চোখের কোণে অদ্ভুত তীক্ষ্ণতা। মেহরিন শুকনো ঢোক গিললো তার এহেন দৃষ্টিতে।
—ক….কি হয়েছে?
আদ্রিয়ান কথা বলে না। আচমকা ঝুঁকে আসে মেহরিনের উপর। হুট করে আদ্রিয়ানের এভাবে ঝুঁকে আসায় দম বন্ধ হয়ে আসে মেহরিনের। পিছিয়ে যায় রমণী। একদম গ্লাস ঘেষে কোণায় সিঁটিয়ে রয়। আদ্রিয়ানের গায়ের পুরুষালী ঘ্রাণে কেমন দ*ম বন্ধ লাগে তার। মনে হয়, এখনি নিশ্বাস নিতে না পেরে ম*রে যাবে। সাথে যুবকটি কেনো এভাবে এগিয়ে আসছে তা বুঝে উঠতে পারলো না মেয়েটা। ফলস্বরূপ অদ্ভুত ভয় জেঁকে ধরলো তাকে।
তবে এই ভয় বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বরং আদ্রিয়ান পাশের দরজাটা খুলে দিলো, সন্তপর্ণে বের করে আনলো দরজার ফাঁকে আঁটকে থাকা মেহরিনের ওড়না। অতঃপর একই ভাবে পুনরায় ঠাস করে দরজাটা আঁটকে দিলো। কেঁপে উঠল মেহরিন। চট করে খামচে ধরলো আদ্রিয়ানের শার্টের কলার। তার কাঁপতে থাকা সরু আঙুল গুলো ঠকঠক করে ধাক্কা খেতে লাগলো আদ্রিয়ানের উন্মুক্ত বুকে। যা টের পাওয়া মাত্রই সারা শরীর জুড়ে অদ্ভুত শিহরন বয়ে গেলো রমণীর। স্তব্ধ হয়ে গেলো তার পৃথিবী। আদ্রিয়ানের বুকের উষ্ণ ছোঁয়ায় তার ভেতরটাও যেনো কেঁপে উঠল। আদিম উন্মাদনা জেঁকে ধরলো তাকে। মাথা নিচু করে ঠাঁই তাকিয়ে রইলো তার পুরুষালী বক্ষস্থলে।
অন্যদিকে তার এহেন প্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো যুবক। কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি টোনে আওড়ালো—-
—শার্ট’টা কি খুলে দিবো? তাহলে তোমার দেখতে সুবিধে হতো আরকি!
কান দিয়ে উষ্ণ ধোঁয়া বের হলো রমণীর। উত্তপ্ত হয়ে উঠলো পেলবখানা। কেমন লাজুকপাতার ন্যায় নুইয়ে পরলো খনিকের ভেতরে। হাতে হাত ঘষে খানিক দূরে ছিটকে গেলো। মনে মনে ছুঁড়লো নিজেকে কয়েকশত গালি। আদ্রিয়ান তাকে নিশ্চয়ই নির্লজ্জ, বেহায়া ভাববে এতে আর কোন সন্দেহ নেই। ইশশ!
আদ্রিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে নিজের সিটে গিয়ে আবারো ড্রাইভ করতে প্রস্তুতি নিলো। স্বাভাবিকভাবে গলায় মেহরিনের লজ্জাকে চারগুন বাড়িয়ে বললো—-
—লজ্জা পেয়ো না। দেখার জিনিস দেখেছো, তাতে কি? আই ডোন্ড মাইন্ড।
চৌধুরী বাড়ির গেট দিয়ে আদ্রিয়ানের গাড়ি ঢুকতেই দারোয়ান গেট খুলে দিলেন। আদ্রিয়ান দরজা দিয়ে প্রবেশ করে গাড়ি পার্ক করে নেমে দাঁড়ালো। অন্যদিকে অচেনা জায়গায় এসে বেশ অস্বস্তি হচ্ছে মেহরিনের। কতবার করে বললো নেমে দিতে। এখন এখানে সে কি করবে? কি পরিচয় দিবে নিজের?
ভাবনার মাঝেই আদ্রিয়ান ডেকে উঠলো মেহরিনকে। চমকে উঠে রমণী। তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তার৷ মুখ ফসকে বেড়িয়ে যায়—
—এত্তো বড় বাড়ি?
মেহরিন চোখ ডলে। তবে ভালো করে দেখার আগেই আচমকা তার হাত খপ করে ধরে নেয় আদ্রিয়ান।
—চল।
ধপধপ পা ফেলে ভেতর দিকে আসে তারা। মেহরিনের মনোযোগ সরে গেলো। সে বাড়ির দিকে থেকে নজর সরিয়ে আবারো আদ্রিয়ানের থেকে নিজেকে আলাদা করতে চাইলো। ফলস্বরূপ আদ্রিয়ান তাকে চোখ রাঙানি দিলো।
বাড়ির সদর দরজায় নক করতেই সাহেলা চৌধুরী তা খুলে দিলেন। তবে আদ্রিয়ানের পাশে একজন মেয়েকে দেখে চক্ষু তার চড়কগাছ। একি কান্ড? তার ছেলের পাশে মেয়ে? এ কি করে সম্ভব? ছেলে আবার সেই মেয়ের হাতও ধরে আছে?
সাহেলা চৌধুরীর মাথা ঘুরে উঠলো। তবুও নিজেকে সামলে নিলেন তিনি। আদ্রিয়ান বুঝলো মায়ের মনের কথা। তাই চুপচাপ মেহরিনকে ছেড়ে ধপধপ পা ফেলে সরাসরি সোফায় গিয়ে গা এলিয়ে দিলো। অন্যদিকে বেচারি মেহরিন। সুতির কারুকাজ করা অতন্ত্য রুচিশীল শাড়ী পরিহিত মহিলাটিকে ভালো ভাবে পরখ করে বোকা বোকা হাসি ছুঁড়ে করে বসলো এক অঘটন।
—আসসালামু আলাইকুম আপু।
সালাম অবদি ঠিক ছিলো। তাই বলে আপু?
সাহেলা চৌধুরী দম খিঁচে দাঁড়িয়ে রইলেন। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো তার। মেয়ের বয়সি মেয়ে বলে কি-না আপু! এও কি মানা যায়? তাকে কি এতোটাই যুবতী মনে হয়? নাহ্৷ সে তো আর যুবতী নেই! গায়ের চামড়া কুঁচকে না গেলেও সে তো যুবতী নেই। গন্ডারের সমান তার একটা বুড়ো বাচ্চা আছে, যাকে বিয়ে দিলে দু’চার দিনের ভেতরে এক ফুটবল টিম পয়দা করতে পারবে। তার মা হয়ে তিনি কি করে যুবতী আছেন এখনো? না-কি স্বামীর ভালোবাসায় বয়স তার আঁটকে গেছে সেই আঠারো’তেই?
সাহেলা চৌধুরীর হাত আপনাআপনিই নিজের গালে চলে গেলো। ফ্যাল ফ্যাল করে তিনি চেয়ে রইলেন অপরিচিত মেয়েটির পানে। অন্যদিকে আদ্রিয়ানের চোখ ছানাবড়া।
—হোয়াট…..??
যুবকের অবস্থা বেশ খারাপ। সদ্যই মুখে পানি তুলে নিয়েছিলো খাওয়ার জন্য, তবে সেই পানি পেট ছুঁতে পারেনি। তার আগেই বেড়িয়ে এসেছে, এবং ভিজিয়ে দিয়েছে পরণের শার্ট। হুট করেই কেশে উঠেছে পুরুষটি। নাক-মুখ জ্বলে যাচ্ছে কেমন।
আদ্রিয়ানের এহেন অবস্থায় আঁতকে উঠলেন সাহেলা চৌধুরী। দ্রুত এগিয়ে এসে ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। মেহরিন নিজেও এসে দাঁড়িয়েছে তার পাশে। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না সে।
—আদ্রিয়ান, ঠিক আছিস বাবা?
—স্যার! ঠিক আছেন?
মেহরিনের ডাকে কাশতে কাশতেই মাথা তুলে দাঁতে দাঁত চেপে তাকায় আদ্রিয়ান। তার দৃষ্টিতে ভস্ম করে দেওয়ার মতো ধার। মেহরিনের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল সেই দৃষ্টিতে।
—ঠিক আসিছ, বাবা?
আদ্রিয়ান মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো।
—হ….হ্যাঁ।
অন্যদিকে মেহরিন চট করে সাহেলা চৌধুরীকে বলে উঠলেন—–
—ওনাকে বাবা বলছেন! মানে আপনি ওনার মা? ওহ, সরি সরি, আমারি মিসটেক, আমি ভুল করে আপু বলে ফেলছি। মাফ করবেন আমায়।
—তোর ভুলের জন্য কোনদিন আমি না পটল তুলি শালী শশুরের বাচ্চা!
বিড়বিড় করে বলে উঠলো আদ্রিয়ান। মেহরিন কপাল কুঁচকে নিলো তার কথায়। সাহেলা চৌধুরী মেহরিনকে সোফায় বসিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন—–
—আদ্রিয়ান! কে এই মেয়ে?
মায়ের কথায় অনেক্ক্ষণ যাবত চুপ রইলো যুবক। নিজেকে শান্ত করলো সময় নিয়ে। তবে মেহরিন যখনি মুখ খুলে সত্যিটা বলতে যাবে তখনি পায়ের উপর পা তুলে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে গা এলিয়ে বসলো পুরুষটি। টাই’টা হালকা আলগা করে অতন্ত্য ভারিক্কি কন্ঠে বলে উঠলো—-
—তোমার হবু বউমা।
—কিহ্?
ছেলের এহেন কথায় সাহেলা চৌধুরী হতভম্ব, হতবিহ্বল। কানে বেশ বড় একখানা বিস্ফোরণ ঘটলো বলে মনে হলো। অন্যদিকে বেচারা মেহরিন হা করে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের পানে। বলে কি লোকটা? হুট করে কথা নেই বার্তা নেই একটা মেয়েকে তুলে এনে এখন হবু বউমা বলছে? আশ্চর্য! মেহরিনের রাগ হলো, প্রচুর রাগ। একপ্রকার ঝাঁঝিয়ে উঠলো রমণী।
—মিথ্যা কথা আন্টি, ওনি একজন মিথ্যুক।আপনার ছেলের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ওনি আমাকে তুলে এনে….
—হোয়াট! আমি কখন বললাম তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক আছে? তুমি না অভ্রের হবু স্ত্রী! সেই হিসেবে আমার মায়েরও তো বউমা! তাই না?
ফুটো হয়ে যাওয়ার বেলুনের ন্যায় নিজের ভেতরের সবটুকু দম বেড়িয়ে গেলো মেহরিনের। বসা হতে উঠতে উঠতে যেভাবে ঝগড়া শুরু করেছিলো, ঠিক সেভাবেই পাথরের ন্যায় ধপ করে সোফায় বসে পরে। আদ্রিয়ান এখনো তার পানে এক ভ্রু তীরের ন্যায় উঁচিয়ে রেখেছে। তবে সেকেন্ডের ব্যবধানে না দমে কপালে দ্বিগুন ভাজ ফেলালো যুবক। কেমন সন্দেহের দৃষ্টি ঢেলে দিলো রমণীর পানে। আদ্রিয়ান আঙুল তুললো এবার। কপালে ভাজ ফেলে ফের বললো—-
—ওয়েট অ্যা মিনিট। বাই এনি চান্স তুমি হবু জামাইকে রেখে তার ভাইকে লাইন মারার ট্রাই করছো না’তো?
হতভম্ব মেহরিন ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলো সামনে বসা পুরুষটির পানে। সাহেলা চৌধুরী নিজেও বাকহারা, মেহরিন যে অভ্রের হবু স্ত্রী—আর এই রমণী’ই যে সেই দুর্ভাগা নারী যাকে তার কাঠখোট্টা ছেলে পছন্দ করেছিলো তা বুঝতে আর বেগ পোহাতে হলো না। ভদ্রমহিলা কপাল চাপড়ালেন। বিড়বিড় করে আওড়ালেন—
—বাবা অভ্র, বিয়ের জন্য আর মেয়ে পেলি না? যেচে বাঘের খাবারেই থাবা বসালি? আইবুড়ো থাকার এতো শখ তোর? ছ্যাঁহ্!
সাহেলা চৌধুরীর ভাবনার মাঝেই চট করে দাঁড়িয়ে গেলো আদ্রিয়ান। অতঃপর বললো—
—বাই দ্যা ওয়ে, তোমরা গল্প করো। আমি ফ্রেশ হবো।
—আমি বাসায় যাবো৷
—তো যাও, বারণ করেছে কে?
চট করেই বলে উঠলো আদ্রিয়ান। এবার বেশ কান্না পেলো মেহরিনের। একেই আদ্রিয়ান জোর করে তাকে এখানে এনেছে। আর এখন বলছে চলে যাও! মগের মুল্লুক? তাকে দিয়ে আসবে না! এ কেমন হিসেব?
—মা! আমি যাচ্ছি।
বলেই গটগট করে হেঁটে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো আদ্রিয়ান। অন্যদিকে মেহরিনের মলিন মুখের দিকে চেয়ে সাহেলা চৌধুরী বললেন—-
—চিন্তা করো না মা। ফ্রেশ-ট্রেশ হও, একটু বিশ্রাম নাও, কিছু খাও। আমি ড্রাইভারকে বলে তোমায় রেখে আসার ব্যবস্থা করে আসবো।
মেহরিন মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। অতঃপর সাহেলা চৌধুরী হাসিমুখে তাকে ঘরে নিয়ে গেলেন। ফ্রেশ করিয়ে খাবার খাইয়ে বিশ্রামে পাঠালেন।
—কি রে! কই তুই? ফোন ধরছিলিস না কেনো?
শিফার প্রশ্নের কোন উত্তর করে না শাওন। নিরবতায় কেটে যায় অনেকটা সময়। ভার্সিটি থেকে সেভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে শাওনের খোঁজ না পেয়ে বেশ চিন্তায় ছিলো শিফা। লজ্জায় খোঁজ নিতে না চাইলেও টেনশন হচ্ছিল যুবকটিকে নিয়ে। তাই নিজের সকল দ্বিধাকে পাশ কাটিয়ে বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলো তাকে৷ তারপরেও যখন শাওন ফোন ধরছিলো না তখন শিফা আরো বেশি চিন্তায় পরে যায়। মেহরিনদের বাড়ি এসেও নজর বুলিয়ে যায়, তবে শাওনের খোঁজ পায়না। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করে ফোন রিসিভ হওয়ার।
আর এখন যখন শাওন ফোন ব্যাক করে তখন তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন করে বসে রমণী। তবে যুবকটি কেমন নির্বাক হয়ে আছে! যেনো তার সব কথা ফুরিয়ে গেছে।
শাওনের থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে শিফা ফের বলে—-
—কি রে? মুখে কি কুলপ এঁটে বসে আছিস? কথা বলতে কি হচ্ছে তোর?
এবারেও কোন উত্তর করলো না শাওন। শুধু তার ধীর নিশ্বাসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। শিফা এবার বেশ রেগে গেলো৷ আচমকা শক্ত গলায় বলে বসলো—-
—এই রাখ, কথা বলতে হবে না তোর। তুই তোর ভাব নিয়েই থাক। যত্তসব বা*ল আমার কপালেই জোটে!
শিফা চট করে কল কেটে দিতে নিলো। তখনি ভেসে আসে শাওনের ফিসফিসানি গলা—-
—শিফা!
থমে যায় শিফা। তার সাড়া শরীর বেয়ে কেমন শীতল স্রোত বয়ে যায়। কেপে উঠে সর্বাঙ্গ। অদ্ভুত অনুভূতি হয় রমণীর। শাওনের এই স্বরটা কেমন অদ্ভুত, অপরিচিত, অচেনা আর ভিষন পাগল করা। শিফা জমে যায়। কথা বলার শক্তি হারায় রমণী। তবুও অনেক শক্তি সঞ্চয় করে মৃদু গলায় বলে উঠে—
—ক…কি?
—আই লাভ ইউ।
বিকেল তিনটে।
ভিরিয়ে দেওয়া দরজা সামান্য ঠেলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে যুবক। মেয়েটা তখন বই পড়তে পড়তে বিছানায় ঘুমিয়ে গেছে। সাহেলা চৌধুরী এই ঘরটা মেহরিনকে থাকার জন্য দিয়ে গেছেন। বিকেলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। মেহরিন আপত্তি করলেও বারণ শোনেননি তিনি। মেহরিন উপায়ন্তর না পেয়ে শিফাকে দিয়ে বাড়িতে জানিয়ে দিয়েছে যে সে তার এক চেনা বান্ধবীর বাসায় আছে। অভ্রকে রিকুয়েষ্ট করেছে ব্যবপারটা ধামাচাপা দিতে। যদিও জানেনা অভ্র এটাকে কিভাবে নেবে।
মেহরিন বিছানায় কাদা হয়ে ঘুমিয়ে আছে। পড়নের ওড়না একপাশে লেপ্টে আছে। লম্বা কেশরাশি এলোমেলো, মুখের লালা গড়িয়ে বালিশের কোণ মেখে গেছে। হা হয়ে আছে খানিকটা। এরমধ্যেই ফাঁকা মুখটা চেপে ধরলো কেউ মৃদু ভাবে। ঘুমের মাঝেই বড্ড বিরক্ত হলো রমণী। হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো অপর হাত। সক্ষমও হলো তাতে। অপর হাতটি রমণীর পেলব হতে তার হাত সরিয়ে নিলো। অতঃপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মায়া মাখানো সেই মুখটার পানে।
জানালা দিয়ে আসা সূর্যের উষ্ণ আলো তখন ছুঁয়ে যাচ্ছে রমণীর নরম শরীর। হাতদুটো নিচের দিকে ঝুলে আছে। যুবকটি আস্তে করে রমণীর হাতদুটো উপরে তুলে দিলো৷ অতঃপর লম্বা চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিতেই আবারো নড়েচড়ে উঠলো মেয়েটা। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো আদ্রিয়ান। মেহরিন বিরক্ত হচ্ছে বুঝতে পেরে তাকে আর একটু বিরক্ত করার উদ্দেশ্য আবারো চুলের গোছায় হাত দিলো। পরপর বেশ কয়েকবার এরকম করে ঘুমে কাদা মেহরিনকে বিরক্ত করলো। তবে হুট করেই ঘুমের জগতে বিচরণ করতে থাকা রমণী করে বসলো অভাবনীয় এক কান্ড। যার ফলস্বরূপ আদ্রিয়ানের হাত থমকে গেলো মেহরিনের চুলের ভাজে।
আদ্রিয়ান যখন বারবার তার চুলে হাত দিয়ে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছিলো। ঠিক তখনি বিরক্ত হয়ে যাওয়া মেয়েটা চোখের পলক না খুলেই দাঁতে দাঁত চেপে ছুঁড়লো এক গা*লি—
সুইটহার্ট পর্ব ১২
—কোন শালা জাওড়া ব্যাটা রে, চুল ছাড়। নইলে ৭২ লাখ কাইটা হাতে ধইরা দিমু।
বেচারা আদ্রিয়ান শুকনো ঢোক গিলে ছিটকে দূরে সরে গেলো। চোখমুখ কেমন লাল হয়ে গেলো যুবকের। মেহরিন চুল ঠিক করে ফের ঘুমিয়ে পরলো। অন্যদিকে আদ্রিয়ান মেইন পয়েন্ট চেপে আওড়ালো—-
—এতো কিছু থাকতে ওর নজর আমার পটলের দিকেই কেনো?হোয়াই গড? হোয়াই? এতো আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে, একবার থেতলে দিতে দিতে বেঁচেছি, এবার সোজা কেটে…? ওমা!
মুখে আঙুল চেপে ধরলো আদ্রিয়ান। বড্ড কান্না পেলো যুবকটির। তড়িঘড়ি করে ঘর ছাড়লো মেহরিনের। আর সে যেতেই ঘুমের মধ্যেই আবারো নড়েচড়ে বিড়বিড়িয়ে উঠে মেহরিন।
