Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ১২

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১২

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১২
তানিয়া হুসাইন

____ইশায়া নিকোর কথা মত তাকায় স্ক্রিনের দিকে,
___ডিয়েগো ফোন করে নতুন নিয়োগ পাওয়া কাজের মেয়েকে।
স্ক্রিনে সেই মেয়েটিকে দেখা যায়, ফোন কানে নিয়ে সে বলে,
“আচ্ছা স্যার, ঠিক আছে।”
____তারপর এক গ্লাস দুধে ধীরে ধীরে কিছু মিশাতে যায়।
____নিকো ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
কি বেইবি বুঝতে পারছোনা।
এই বি*ষ মেশানো দুধটা তোমার ভাবীকে দেওয়া হবে।
সে তো মনে হয় প্রেগনেন্ট তাই না।

___ইশায়া আঁতকে ওঠে। এক ঝটকায় উঠে ছুটে যায় ভীরের দিকে।
সে এটা অন্তত বুঝেছে যে এখানে সবথেকে পাওয়ারফুল মানুষ এই লোকটা, এই লোকটার আন্ডারে সবাই কাজ করে।
সে যা বলে সবাই সেটা মানে,,
__ হাঁটু গেড়ে বসে ভীরের পা জড়িয়ে ধরে ইশায়া।
কাঁদতে কাঁদতে বলে,
__প্লিজ… প্লিজ আমার ভাবী প্রেগন্যান্ট… ওকে মারবেন না…।
ওরা আপনার কি ক্ষতি করছে, কেন আমার ফ্যামিলিকে টানছেন,
প্লিজ এরকম করবেন না। দয়া করুন।…
একটা নিষ্পাপ বাচ্চা আছে তার পেটে… দয়া করে আমার পরিবারের কারো কিছু করবেন না…।
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কথাগুলো বলে ইশায়া।
___ভীর চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে। একটুও নড়ে না। ঠোঁটে একটুও দয়ার ছায়া নেই, শুধু ঠান্ডা দৃষ্টি, যা ইশায়ার আত্মা কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

নিকোর মজা লাগছে।
সে এই সব বিষয়গুলো খুব এনজয় করে।
___নিকো পাশ থেকে হেসে বলে,
এই মেয়ে এত সহজে নুইয়ে গেলা!
আগের তেজ কই গেলো তোমার ,, আফসোস,
__তুমি তো বলেছিলে লড়বে। কিন্তু দেখো, দুই মিনিটেই সব গরিমা ভেঙে গেলো।
___ভীর চুপচাপ বসা।
সে শুধু দেখছে ইশায়ার কান্না,ছটফট।

ডিয়েগো পরের স্ক্রিন অন করে।
সেখানে কালো পোশাকে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে, হাতে বিস্ফোরক ডিভাইস।
___ইশায়া উঠে দাঁড়ায়।
একটা সিগন্যাল দিলেই পুরো বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে। সঙ্গে সব মানুষ ও শেষ।
তোমার পুরো পরিবার এক মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাবে, ডিয়েগো বলে ওঠে।
___ইশায়ার মুখের রঙ উড়ে যায় । সে দুলতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছে না আর। ঠাণ্ডা ঘামে ভিজে গেছে।
কেনো হচ্ছে এরকম তার সাথে।
সে যেন কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে না হলে এরকম কেন হবে তার সাথে, সে কি ক্ষতি করেছে এদের।
__ভীর এবার মুখ খোলে,
তার এতক্ষণের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঠাণ্ডা গলায় বলে,

____ওদের ভালো থাকা এখন তোর হাতে। তুই যদি আমার কথা শুনিস, তাহলে ওদের কিছুই হবে না।
ওরা ওদের মত থাকবে, আমি ওদের লাইফে ইন্টারফেয়ার করব না কখনও।
কিন্তু অবাধ্য হলে… আমি সবাইকে শেষ করে ফেলবো।
এটাতো জাস্ট একটা নমুনা,
আমি কি কি করতে পারি তার সম্পর্কে তোর ধারণা ও নেই মেয়ে।
তাই অন্য সব ধরনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দে,
__মরতে তো তুই এমনিতেই পারবিনা, কিন্তু এরকম কিছু ভাবলে বা করার চেষ্টা করলেও আমি একে একে তোর ফ্যামিলির সবাইকে ধূলোয় মিশিয়ে দিব।
আমার শহরে আমার অনুমতি ছাড়া একটা মাছিও গলতে পারে না।
এটা আমার রাজত্ব।
বোনের পরিণতি তো দেখেছিস,, এবার পরিবারের পালা।

____ইশায়া আবার ও হেঁটে যায় ভীরের দিকে। থরথর করে কাঁপছে সে। কণ্ঠস্বর ভেঙে যাচ্ছে কাঁদতে কাঁদতে।
তবুও বলে,
আমাকে মেরে ফেলুন… আমার ফ্যামিলির কিছু করবেন না প্লিজ… আমি আপনার সব কথা শুনবো… সব… যা বলবেন তাই হবে।
যেভাবে বলবেন সেভাবে হবে।
কিন্তু প্লিজ তাদের ছেড় দিন।
তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না দয়া করে।
___ভীর উঠে দাঁড়ায়,
চোখ দুটোতে আগুন জ্বলছে তার।
ঠোঁটে এক অন্ধকার হাসি।
___আমার কথার হেরফের হলে তোর পরিবারের একটা মানুষকে ও আমি বাঁচতে দেব না,
আদ্রিয়ানের হার্ট টুকরো টুকরো করে ফেলব,
আবিরের মাথার এইখানটায় গুলি করবো,
ইশায়ার মাথা স্পর্শ করে দেখায়।
আর তোর মায়ের সামনে তোর বাবার গলা কা*টবো।
তারপর তোর মা….

___ইশায়া চিৎকার করে ওঠে,
না!!”
সে আর শুনতে পারছে না।
গলা শুকিয়ে আসছে তার। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে অবিরাম।
ভয় আর অসহায়তায় গলা কাঁপতে কাঁপতে সে ফিসফিস করে বলে,
— আমি… মেনে নিচ্ছি…
যা বলবেন যেমন বলবেন ঠিক তেমন তেমন করবো আমি,
প্লিজ ওদের কিছু করবেন না।
____ভীর চোখে এক ঠাণ্ডা শিকারির হাসি টানে, তারপর ইশায়ার গার্ডদের ইশারা করে ওকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
____
গার্ডরা আজ্ঞাবহ ইশায়াকে দু’পাশ দিয়ে ধরে নিয়ে যায় প্রাসাদের সেই রাজকীয় অংশে।
— ভীরের ব্যক্তিগত রুম।
রুমের সামনে পৌঁছেই ইশায়ার মনে হয় যেন সে কোনো শূন্য রাজ্যে ঢুকছে যেখানে নিজের অস্তিত্ব বলে কিছু নেই, শুধু ভয় আর দখলদারিত্ব।
___সে আগে কোথায় ছিলো জানেনা দেখেনি,খেয়াল ও করেনি।

ভীরের পরবর্তী মিশন,(সাদা ছায়ার অভিযান)
ভীর এবার তার সাম্রাজ্যকে আরও শক্ত করতে চায়। লক্ষ্য,
—এক বিশাল কো*কেন চালান বাজেয়াপ্ত করা এবং সেই রাস্তা নিজের দখলে আনা।
কলম্বিয়ার কো*কেনের সাম্রাজ্যের শীর্ষে থাকা এক ভয়ানক জায়গা।
এই দেশটিকে White Gold Capital বলা হয়।
ভীর চায় সেই দেশের অন্যতম গ্যাংকে ধ্বংস করে, সেখানে নিজের আধিপত্য বিস্তার করা।
এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাদের মাধ্যমে।
ডিয়েগো, ম্যাটিয়াস, সান্তিয়াগোদের নিয়ে নতুন প্ল্যান করছে।
___নিকো গেছে তার কাজ আছে বলে,
তার কি কাজ এটা খুব ভালো করেই জানে সবাই,
ভীর ওকে আটকায় না কোন কিছুতে,
এইতো এখন হয়তো বা কোন মেয়েকে নিয়ে পড়ে আছে,
কোন মেয়ে বললে ভুল হবে ও তো কখনো একজনের সাথে থাকে না,
___ডিয়েগো ভীরের ডান হাত, তার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সবকিছুর ইনফরমেশন থাকে ওর কাছে। তার সবকিছুর তথ্য, যোগাযোগ, প্ল্যানিং, সবকিছুর ছায়া সে।

ইশায়া রুমে ঢুকেই ভেঙে পড়ে।
ফ্লোরে বসে পরে কাঁদে, চিৎকার করে না,
—একেবারে নীরবভাবে, বুক ফেটে আসছে তার।
তার মনের পর্দায় একে একে ভেসে ওঠে সবাই…
__(বাবা)
ছোটবেলায় যেভাবে সকালে ঘুম থেকে ডাকতো, গালে চুমু খেয়ে বলতেন, আমার রাজকন্যা ঘুম থেকে উঠেছে!
বাবার সব সময় চকলেট নিয়ে আসা।এটা নিয়ে দুই ভাইয়ের সাথে ঝগড়া।
সে মুহূর্তগুলো এখন পাহাড়ের মতো ভার হয়ে চেপে বসছে বুকের ওপর।
ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসছে এই জীবনে আর কখনো সে তার বাবাকে দেখতে পারবে না।
___কি করবে সে,
মরে যেতে ও তো পারবে না, সে মরে গেলে তো তার পুরো ফ্যামিলিকে ধ্বংস করে দিবে সে।
____আম্মু কোথায় তুমি।
মায়ের কোলে মাথা রেখে কান্না করা… মায়ের রান্না… তার মুখে সেই হাসি আর দেখা হবেনা…
একটা দিনও এমন যায়নি যেখানে মা ওকে জড়িয়ে ধরেনি।
দুই ভাই।
কিভাবে থাকবে সে ওদেরকে ছাড়া।
আর সাফা আপু কেনো হলো তার সাথে এমন।
ইশায়ার বাঁধ ভাঙা কান্না যেন আর থামছে না,

___ভাইয়ার সাথে প্রতিদিনকার হালকা ঝগড়া,
রিমোট নিয়ে কাড়াকাড়ি, পড়ার টেবিলে পানি ঢেলে দেয়া।
কিন্তু ভাইয়ার শক্ত হাতে রক্ষা পাওয়া মুহূর্তগুলো এখন একেকটা খঞ্জর হয়ে বিঁধছে তার মনে।
ভাবির সাথে রান্নাঘরের গল্প, মেয়েলি আলাপ।
ফুফা ফুফি।
___সাফা সাফার কথা মনে পড়তেই শূন্যতা গ্রাস করে তাকে.
তার সাথে ফুচকা খেতে যাওয়া, রিকশার ঝাঁকুনিতে হাসতে হাসতে নেমে পড়া,
সেই সাফা আজ নেই… সেই হাসিটা আর নেই।
___অরিণা, মেহনাজ।
ওদের সাথে আর কখনো আড্ডা দেওয়া হবে না।
আর সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাওয়া হবে না।
একসাথে গান গাওয়া, চুপি চুপি নুডলস খাওয়া, প্রেম নিয়ে হেসে হেসে গল্প।
কোথায় তারা? জানেই না কেউ ইশায়া আজ বেঁচে আছে কিনা…
___কি পাপ করেছিলাম আমি হে খোদা, কেন আমার সাথে এরকম করলে। কি দোষ ছিল আমাদের,
আমাদের আমাদের জীবনটা কেন এরকম ভাবে নষ্ট করে দিলে।
আমি কিভাবে বাঁচবো ওদেরকে ছাড়া। কি নিয়ে থাকবো।

— ডাইনিং হলে বসে ছিলো ভীর গভীর চিন্তায়। সামনে সারি দিয়ে রাখা খাবার সে স্পর্শ ও করেনি,
—শুধু এক গ্লাস ওয়াইন নিয়ে ঠোঁট ছুঁয়েছিলো একবার।
তার চোখে চিন্তার ছায়া, তবে ঠোঁটে হালকা এক নির্মমতার রেখা।
হঠাৎ সান্তিয়াগো কে ডেকে ওঠে,
গলায় গম্ভীর ও শীতল স্বর,
— সান্তিয়াগো, মারিয়া এলেনা কে ডেকে পাঠাও।
সান্তিয়াগো মাথা নুইয়ে বলে,
— “জী স্যার,”
তারপর দ্রুত রেডিওতে বার্তা পাঠায়,
—মারিয়া এলোনা এসে ওদেরকে কুর্নিশ জানায়।
__ডিয়েগো বলে ওঠে,
ভীর আজকে প্যালেসে থাকবেন।
ব্যবস্থা করো সব ।
___ডিয়েগোর সংক্ষিপ্ত কথায় যা বোঝার বুঝে যায় মারিয়া।
সে চলে যায় এখন তার অনেক কাজ।
দ্রুত শেষ করতে হবে সবকিছু।
__ভীরের মন মতো কিছু না হলে সে কাউকে আস্তো রাখবে না।

ভীর গ্লাসে ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে ডিয়েগোকে উদ্দেশ্য করে বলে,
নিকো ফিরেছে?
___ডিয়েগো বলে,
না।
____ভীর বিরক্ত হয় নিকোর ওপর।
ওর এই খামখেয়ালি পোনা স্বভাব ভীরের মোটেও পছন্দ না।
__ভীর মোবাইল বের করে নিকোর নম্বর ডায়াল করে।
_____এক বিলাসবহুল সুইটরুমের বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে নিকো কর্টেজ।
চোখ হালকা লাল, হাতে ওয়াইনের গ্লাস। পাশে এক লাস্যময়ী নারী, তার গায়ে ঠেসে বসে চুমুর বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।
নিকো একহাতে মেয়েটার কোমর জড়িয়ে অন্য হাতে গ্লাস ঘুরিয়ে নিচ্ছে ঠোঁটে।
____ঠিক সেই সময় তার ফোনটা বারবার বাজতে শুরু করে।
নিকো ইগনোর করে,

___কিন্তু ফোন থামছেই না,
বিপ.. বিপ…শব্দ করেই যাচ্ছে।
___নিকো বিরক্ত হয়ে একবার তাকায় স্ক্রিনের দিকে,
— ফা*ক! ভীর কল করছে?
বলেই ফোন হাতে নেয়।
মেয়েটা দুঃখী ভঙ্গিতে বলে,
—Don’t take it, baby… I’m your priority tonight.
নিকো ঠোঁটে হাসি এনে বলে,
__আর ইউ শিওর?
_তারপর ফোনটা রিসিভ করে কানে দেয়,
মেয়েটা তখনও তার গলায় ঠোঁট ছুঁইয়ে খেলার ছলে টানছে।

ফোন রিসিভ করতেই ভীর চিৎকার করে বলে,
— Where the hell are you, Nico?
আমি তোকে কতবার বলেছি সিকিউরিটি ছাড়া কোথাও যাবি না?
চারিদিকে শত্রুদের ছড়াছড়ি, আমাকে ধ্বংস করতে ওরা প্রথম টার্গেট তোকেই করবে এটা ভুলে যাস না!
ভীরের কণ্ঠে যেন আগুনে চাপা বিস্ফোরণ।
__নিকো একটু হেসে বলে,
Ohh Bro,I’m fine, relax. Just having a little fun, that’s it.
আসছি একটু পরেই।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১১

__দ্রুত।
ভীর আর কথা না বলে ফোন কেটে দেয়।
কল ডিসকনেক্ট হতেই নিকো ফিরে যায় আদিম খেলায়,
নিকো ফোনটাকে ছুড়ে ফেলে পাশে।
—মেয়েটা আবার তাকে জড়িয়ে নেয়, আর নিকো ফিরে যায় তার নিষিদ্ধ খেলায়,আনমনে, দায়িত্ব ভুলে, অন্ধকার পথে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৩