Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ২৯

সে খলনায়ক পর্ব ২৯

সে খলনায়ক পর্ব ২৯
ফারহানা সানিয়াত

যেটা ভয় পাচ্ছিলাম সেটাই হলো আশেপাশের মানুষ প্রাণপ্রিয়া আর ইভানকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু করে দিয়েছে, বাজারে গেলেই নানান কথা, আশ্রমের মেয়ে ধনী ডক্টরের ছেলের গলায় ঝুলে পড়ার ধান্দা করছে আরো কত কি ভাবতে পারছো সেলিনা, কথা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে ।
সেলিনা কাঁথা সেলানোর মাঝে মিস্টার রহমানের কথা শুনে হা করে শ্বাস ফেলেন,,
__ আমি প্রিয়ার সাথে এ নিয়ে কথা বলবো কিন্তু কি বলবো ভাইজান ছোট থেকে তারা বন্ধু,বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি বললেই ভেঙে যায়। কেনো যে আমাদের সমাজটা এমন,,,
রহমান তাচ্ছিল্য হেসেন,, সমাজের কথা কি বলবো সমাজ হলো আরেক কালো দুনিয়া যেখানে যার শক্তি ধনসম্পদ বেশি তারা মাথায় তুলে থাকতে পারে। আর যাদের নেই তাদের পিষে তারা নিজেদের পায়ের নিচে রাখে সেখানে আমাদের মত অসহায় আশ্রমের মানুষেরা অদৃশ্য থেকেও নেই তবে সবাই এক না এটা মানি, শেষের কথাটা রহমান হুমায়ূন আবারকে বুঝিয়েছেন।
সেলিনার চোখে মুখে বেদনা স্পষ্ট,

__ ঠিক বলেছেন ভাইজান আমরা আসলেই থেকেও নেই অসহায়ত্বের নিচে মাটি চাপা। তবে ইভান, সে ভালো ছেলে,,
__ সেটা আমিও জানি সেলিনা। রহমান কিছুটা জোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, সে ভালো ছেলে আমি জানি কিন্তু আশেপাশের মানুষ এখন যা বলছে এটাতে তার ভালো খারাপ দিয়ে কিছু যায় আসবে না। এখানে আমাদের প্রিয়ার চরিত্রের উপর আঙুল উঠবে এবং ইতিমধ্যে উঠছেও সেখানে ইভান কে কেউ কিছু বলছে না আর বলবেও না কারন সে ধনী বাবার একমাত্র ছেলে আর প্রিয়া অনাথ আশ্রমে মেয়ে এটা আমি আগেও বলেছি, তাই আরো গভীরে না যাওয়ার থেকে এখানেই থেমে যাওয়া ভালো নাহলে সমাজ আর আশ্রমের উপমহল থেকে যে সমস্যা হবে আমাদের প্রিয়ার ই ভুগতে হবে।

সেলিনার হাত থেমে যায় সে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ নিয়ে রহমানের দিকে চোখ তুলে তাকান।রহমান গম্ভীর মুখে উঠানের দিকে চেয়ে আছে, তার কথা যে ভুল নয় সে জানে তাই খোদাতায়ালা কাছে একটাই প্রার্থনা মেয়ের জীবনে এমন কিছু না হোক যার কারনে তার হাসিখুশি জীবনটা নষ্ট হয়ে যায়।
আশ্রমের গেট দিয়ে প্রবেশ করে প্রানপ্রিয়া। স্কুল থেকে মাত্র ফিরল, শরীরে কান্তি পেটে ক্ষুধা দুটো মিলিয়ে তার অবস্থা খারাপ। আসার আগে ইভানের সাথে ভাজাপোড়া খেয়েছে তবুও পেটের খিদে যেন যায়নি।
সদর দরজার কাছে বসা মিস্টার রহমান প্রানপ্রিয়াকে স্কুল থেকে ফিরতে দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যান। তার গম্ভীর মুখ শক্ত হয়ে ওঠেছে, মিসেস সেলিনা রহমানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিজেও উঠানের দিকে তাকায়,
ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রাণপ্রিয়া হেলে দুলে আসছে,
__ তোমার সাথে কথা আছে প্রিয়া মা।গম্ভীর ভারি কন্ঠ রহমানের।
প্রানপ্রিয়া হাঁটার মাঝে থেমে দাঁড়ায়। আকম্মিক আঙ্কেলের ভারী কন্ঠ শুনে হালকা চমকে উঠেছে।
বোকা বোকা মুখ বানিয়ে কয়েকবার পলক ফেলে সে পাশে বসা আন্টিকে এক নজর দেখে বলে,
__ জিজ আঙ্কেল কি কথা,

আবরার ম্যানশনের পরিবেশ আজ আবারো তিন মাস আগের মত। সুবিশাল বসার ঘরে বাড়ির সকল সদস্য একসাথে। সকাল সকাল দামিয়ানের বাড়িতে আসা সবার মধ্যে খুশি ছড়িয়ে পড়েছিল। গতবার ছয় বছর পর বাংলাদেশ এসে ও বেশিদিন জন্য থাকেনি তবে এবার কয়েক মাসের জন্য এসেছে ।
__ আমি অনেক খুশি হয়েছি দামিয়ান, তুমি এবার অনেক দিন থাকবে। ছেলের কাঁধে হাত রেখে হুমায়ুন বলে ওঠেন, তার চোখে মুখে ছেলে আশার আনন্দ স্পষ্ট,
দামিয়ানের ঠোটের কোণে কিঞ্চিত হাসি।
তার পাশে সারা দেখানো আহ্লাদে তার হাত ধরে বসে আছে।
__ সকাল থেকে এই একই কথা কতবার বলবেন ভাইজান। হাবিব বলে কিছুটা শব্দ করে হাসেন।
হুমায়ুন ছেলের দিকে তাকিয়ে জোরে শ্বাস ফেলেন,
আমার ছেলে আবারো আমার কাছে এই খুশিতে বারবার বলছি, কি করবো বলো।
__ হাবিব মাথা নাড়ান, না এটা ঠিক। আচ্ছা দামিয়ান তোমার সেখানকার ব্যবসা তুমি না থাকলে সমস্যা হবে না।
দামিয়ান হাবিবের দিকে তাকায়, আমি সব ব্যবস্থা করে এসেছি, বলেই ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে চোখে ভেসে ওঠে মিখাইলের রক্তাক্ত নিস্তেজ শরীর।

__ তাহলে অনেক ভালো তুমিও নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে আমরাও।
পাশ থেকে রাইমা একজন সার্ভেন্টকে কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করতে বলেন।
তৎক্ষণাৎ সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন ডক্টর ইসরাফিল।
হুমায়ুন তাকে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যান,
__ আপনারই অপেক্ষা ছিল ডক্টর ,
সবার দৃষ্টি ডক্টর ইসরাফিলের দিকে পড়ে, তিনি এগিয়ে আসেন মুখে স্বচ্ছ হাসি নিয়ে।
__ অপেক্ষা করার জন্য দুঃখিত মিস্টার আবরার।
__ না না কোনো সমস্যা নেই চলুন আমরা অন্য কোথাও গিয়ে বসি।
__ হ্যাঁ অবশ্যই।
হুমায়ুন আর ডক্টর ইসরাফিল দোতলার সিঁড়ির দিকে চলে যান ।
হুমায়ূনকে চলে যেতে দেখে হাবিব ও উঠে নিজ কক্ষের দিকে পা বাড়ান।
বসার ঘরে এবার রাইমা, আহানাফ, দামিয়ান আর সারা।সার্ভেন্ট তাদের নাস্তা সামনে কিছু চা নাস্তা রেখে যায়। রাইমা সবার হাতে হাতে চা দিয়ে সারা উদ্দেশ্যে বলেন,,

__ আজকাল একটা কথা শোনা যাচ্ছে আমি একটু কৌতুহল ব্যাপারটায় তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছি সারা ,
রাইমার কথা শুনে সারা চায়ের কাপ ঠোঁটের সামনে নিয়ে গিয়েও থেমে যায়।
__ কোন ব্যাপার আন্টি, তার কপালে ভাঁজ,
রাইমা সোফায় হেলান দেন, তোমার ওই আশ্রমের বান্ধবী প্রানপ্রিয়া তার সাথে নাকি ডক্টর ইসরাফিলের ছেলে ইভান তার সাথে প্রেমে সম্পর্ক এটা কি সত্যি?
সারা বিস্মিত , হোয়াট!! আমি তো এমন কিছু শুনিনি।
রাইমা হা করে শ্বাস ফেলে ডক্টরের পরিবারকে নিয়ে আফসোস করে বলেন,, কি বলবো মানুষজনের মুখ থেকে নানান কথা শোনা যাচ্ছে মেয়ে যত ই সুন্দরী হোক তাদের একটা সম্মান আছে এসব কথা যেভাবে ছড়াচ্ছে,,
সারা ঠোঁট কামড়ে মনে মনে হাসে আড়চোখে পাশে দামিয়ান কে এক নজর দেখে সে মনোযোগ দিয়ে চা পান করছে।

__ সমস্যা কি প্রিয়া ভালো মেয়ে ইভানের সাথে ও তাকে বেশ মানায় শুধু সমস্যা অনাথ আশ্রমের মেয়ে তবে ইভান যদি তাকে বিয়ে করে এটা তো কোনো সমস্যাই না।
পাশে বসা দামিয়ানের কাপ ধরে রাখা হাতটা খানিক সময়ের জন্য থেমে যায় তবে মুহূর্তে আবার চুমুক বসায় কাঁপে, কোনরকম প্রতিক্রিয়া ছাড়া।
__ না সারা তাদের পরিবারের সাথে ওই মেয়েকে মানায় না সোসাইটিতে তো একটা ক্লাস বলে কথা আছে।
বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা ধরনীতে অন্ধকার ছেয়ে যাচ্ছে তাই আশ্রমের চারপাশের লাইট জ্বালিয়ে দেয় প্রানপ্রিয়া। বাচ্চারা বাহির থেকে এক এক করে হাত মুখ ধুয়ে নিজেদের ঘরে যাচ্ছে। প্রানপ্রিয়া তাদের দেখে হাতে কিছু কাপড় নিয়ে ভাজ করার জন্য নিজের ঘরের দিকে চলে যায়।তার ঘরের লাইট এখনো জালানো হয়নি তাই ঘরে ঢুকে প্রথম লাইট জ্বালিয়ে সোজা বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় অতঃপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার চোখ মুখ শুকিয়ে, হতাশা ভাব, কি করবে সে বুঝতে পারছে না হাতের কাপড় গুলো বিছানায় রেখে ধপ করে নিজেও বসে। স্কুল থেকে ফেরার পর আঙ্কেল তাকে তার আর ইভানকে নিয়ে আশেপাশে বলে কথা বলেছেন এমনটা হওয়া স্বাভাবিক ইভান আজকাল যা করছে এমনটা হওয়ারই ছিল কেনো ওই ছেলে বুঝেনা এটা,
এইগুলো না হওয়ার জন্যই তো সে দূরত্ব বজায় রেখে বন্ধুত্ব রাখতে চেয়েছিল কিন্তু এখন,,,,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের অসহায়ত্ব অনাথ হওয়া অভিশাপ মনে হচ্ছে উপরওয়ালা কেন তাকে অনাথ বানালো,

প্রাণপ্রিয়ার চোখ ঝাপসা হয়ে গাল গড়িয়ে জল পড়ে
হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের স্কার্ট শক্ত করে ধরে এটা সত্যি ইভানের প্রতি তার কোনো অনুভূতি নেই।তবে তার মন আছে আবেগ আছে ভালো লাগা অবশ্যই কাজ করে কিন্তু তার অবস্থান থেকে কিছু অনুভব করা যে পাপ।সে দূরে থাকতে চায় এসব ভাবনা থেকে আর থাকেও কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব এটা কোনদিনও হারাতে চাইনি।
প্রানপ্রিয়া হালকা নাক টেনে হাত দিয়ে চোখের জল মুছে নেয় তৎক্ষণাৎ তার ফোন ভেজে উঠে,
বিছানার পাশে টেবিলের ওপর ফোন। প্রাণপ্রিয়া অলস ভঙ্গিতে সেদিকে তাকায় সে জানে কে ফোন করেছে তাই দ্রুত হাতে ফোন নিয়ে রিসিভ করে গরগর করে বলে ওঠে,,
__ কাল সকাল নয়টায় দেখা করবি তোর সাথে দরকারী কথা আছে।
ওপাশ থেকে ইভান বোকা বোকা মুখ করে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকে অতঃপর,
__ কেন তোর কি মন বদলে গেছে?
__ জানি না,
__ তাহলে?
__ আমার কথা আছে তোর সাথে সব কিছু নিয়ে ,
ইভান কপাল কুঁচকায়,

__ সবকিছু নিয়ে বলতে,
প্রাণপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলে,
__ তোর পাগলামি সবকিছু নিয়ে।
ইভান ঠোঁট কামড়ে একগুয়ে কন্ঠে বলে,, বলে লাভ নেই,
__ কেন লাভ নেই তুই জানিস কি হচ্ছে,
__ যা খুশি তা হোক তুই আশেপাশে কেন দেখছিস তুই আমার মন বোঝ বাকি টা আমি সব সামলে নেব।
প্রাণপ্রিয়া মেজাজ গরম করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,,
__ কি সামলে নিবি তুই যেটা সম্ভব না কেন এমন বেঁজে আছিস আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। তোর আমার কথা মানা উচিত ছিল ইভান আমি তোকে হারাতে চাই না। বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাক চাই না।
__ আমিও চাই না প্রিয়া, আচ্ছা আমরা কাল দেখা করব সব কিছু নিয়ে কথা বলব সকাল ৯ টায় রেডি থাকিস আমরা একটা সলিউশন খুঁজে বের করব। ঠিক আছে?

__ কোনো সলিউশন চাই না আমি,
__ বের করব আমরা, আমরা একসাথে থাকবো । আমাদের বন্ধুত্ব ও ঠিক থাকবে ।
__ থাকবে …না,
__ বললাম তো থাকবে আমার বন্ধুত্বের মতো আমার ভালবাসা টা বিশ্বাস কর,
__ তুই পাগল ইভান একদম পাগল হয়ে গেছিস,
__ হলাম না হয় তোর জন্যই তো, বন্ধু হিসেবে থাকতে চাস ভালোবাসা হিসেবে কেন নয় একবার না হয় আমার প্রতি তোর দৃষ্টি বদলা।
প্রাণপ্রিয়া হতাশার শ্বাস ফেলে,,
__ আমি তোকে ভালোবাসি প্রিয়া এই অনুভূতি এখন থেকে না তুই বললেই শেষ হয়ে যাবে না। আর কাল দেখা করতে বলেছিস আমরা দেখা করব তোর যা যা কথা আছে আমি শুনবো কাল আমার লাস্ট এক্সাম এখন মাথা ঠান্ডা কর।
প্রাণপ্রিয়া হাত দিয়ে কপাল ঘষে তার অবশ্যই দেখা করতে হবে দেখা করে সে ভালো করে এই ছেলেকে বুঝাবে আশেপাশে কি হচ্ছে কি বলছে।

__ ঠিক আছে আমি তোর জন্য তোর ভার্সিটির সামনে যে রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে অপেক্ষা করব।
ইভানের ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে এক হাত মাথার নিচে দিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে বলে,,
__ আমরা কখনোই আলাদা হবো না আমরা সবসময় বন্ধু থাকব একসাথে থেকে,
প্রানপ্রিয়া গভীর শ্বাস ফেলে,
__ হুম।
গেস্ট হাউসে নিজের ঘরে সোফায় মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে দামিয়ান ঘরে হালকা আলোয় তার মুখে অত্যাধিক গম্ভীরতা স্পষ্ট ।
রাশিয়ার থেকে কয়েক মাসের জন্য এবার আসা তাকে এখান থেকে সামলাতে হবে অবশ্য নিকলাই আছে আর এবার তার মমও ,
দামিয়ান চোখ খুলে এখানে এত দ্রুত আসার ইচ্ছা ছিল না। তবে আজকাল তার পারিবারিক পরিবেশ পছন্দ ভিন্ন দুনিয়া ছেড়ে এক গাছপালা ঘেরা আবরার ম্যানশন। ঠোট বাকিয়ে হাসে দামিয়ান আবরার ম্যানশন ছাড়া ও এখানকার আরো তার কিছু পছন্দ যেটা এখানে আসার কারণ হিসেবে নিখুঁত,
সোজা হয়ে বসে সে ,টেবিলের উপর রাখা ওয়াইনের গ্লাস হাত বাড়িয়ে নেয় ।লাল পানীয় গ্লাসের কিছু অংশ পর্যন্ত, সে হালকা নাড়িয়ে ঘাড় কাত করে ,

__ যা এই নেশা পানীয় থেকে নেশালো তার মস্তিষ্ক জুড়ে প্রতি মুহূর্ত নেশায় ডুবিয়ে রাখেছে। কিন্তু কিভাবে এই নেশা হয়ে গেল সে জানে না ভাবতেও পারেনি । যাকে অপ্রয়োজনীয় আকর্ষণ ভেবেছিল সেটা নেশায় ডুবিয়ে দিয়েছে ।দামিয়ান গ্লাসে ঠোঁট ছোঁয়ায়,
প্রাণপ্রিয়া ,
নাম টা ধীর কন্ঠে আওড়ায়।
তার চোখে ভেসে ওঠে অসহায় আশ্রমের মেয়ে যার রূপ আবেদনময়ী শরীর তাকে কতটা আকর্ষণ করেছিল । সে প্রতিবার দূরে থাকতে চেয়েও থাকতে পারেনি। তার এখনো মনে আছে অসাধারণ মেয়ের শরীরের সুবাস ঠোঁটের স্বাদ যা তাকে ক্ষণে ক্ষণে কাবু করে ফেলেছে সে ভুলতে পারিনি রাশিয়া থেকে ও তাকে কাছে পাওয়ার বাসনা প্রতি মুহূর্তে আরো গভীর হয়ে নেশায় পরিণত হয়েছে।

আর এসব সবকিছুর পর সে অনুভব করে প্রাণপ্রিয়ার উপর তার অধিকার থাকবে তাকে সে বিনোদন হিসেবে উপভোগ বা ভোগ দুটো ই করবে। তার বাগানের অসহায় সাদা গোলাপে মালিক শুধু সে হবে।
দামিয়ান ক্রূর হাসে তবে গ্লাস ধরে রাখা হাত আস্তে আস্তে দৃঢ় করে আচমকা গ্লাস চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে। বসার ঘরে সারা আর রাইমার কথোপকথনে সে প্রতিক্রিয়া হীন ছিল ।দামিয়ান তার হাতের দিকে তাকায় হাত কেটে গলগলিয়ে রক্ত পড়ে ভেসে যাচ্ছে।

সে খলনায়ক পর্ব ২৮

তার চাওয়ার মাঝে কুকুর ছানাদের প্রেমের পরিণতি কতটা করুন করবে । দামিয়ান শব্দ করে হাসে কাউকে খুন করার ইচ্ছা জাগছে তার তবে নাহ সে শান্ত থাকবে শান্ত থেকে ওই ডক্টরের ছেলের প্রেমিকাকে তার জঙ্গলে ছেড়ে দিবে এবং তাকে স্বীকার করবে সে ।

সে খলনায়ক পর্ব ৩০