হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩০
তামান্না ইসলাম শিমলা
সোফায় গা এলিয়ে বসে আছে তেহরাব, দেখছে গোটা বসার রুমটা। দামি দামি জিনিস পত্রে সাজানো,
“তুমি তনয়াকে বিয়ে করেছো?”
মিজুর কথায় তেহরাব সোজা হয়ে বসে, মুখে হাসি টেনে বলে,
“হ্যাঁ!”
মিজুকে কিছুটা গম্ভীর ও চিন্তিত দেখালো, গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করল,
“সব জেনে শুনে ওই মেয়েকে বিয়ে করার মানে কি?”
তেহরাব হায় তুলল, ঘাড়ে হাত রেখে এদিক ওদিক মাথা নাড়ল।
“সব জেনেই তো করেছি, আর জানি বলেই করেছি!”
“মানে?”
তেহরাব আবারও হাসল,
“মায়া দয়া হলো, তাই করে ফেললাম। বেচারির আর কি দোষ বলুন?”
মিজু আর কিছু বলল না, এসব বলা মানে পুরোনো কাসুন্দি টানা!! মিজু চায়ের কাপটা হাতে নিল, তেহরাবকেও নিতো বলল, তেহরাব নেয় না।
“আপনিই খান, তা আপনার ছেলের খবর কি?”
মিজু দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
“বছর দুয়েক হলো কথা বলতে পারে না, হাটতে পারে না। বড় নাতিটাও তো এক পা হাঁড়িয়ে এখন বিছানায়!”
তেহরাব নিজেও দুঃখ বোধ করল,
“সবই কর্মফল!”
মিজু ভ্রু কুঁচকায়,
“কিছু বললে?”
তেহরাব হেসে দুদিকে মাথা নাড়ে,
“তা মাহিমের কি খবর?”
তেহরাবের প্রশ্নে মিজু ভাবলেশ জবাব দিল,
“ওর খবর জানি না, কোন মেয়ে নিয়ে পালিয়েছে আজও খবর নেয়!”
“চু চু চু, কি দিন আসল!”
তেহরাব আফসোসের স্বরে কথাটা বলল, ভেতর ভেতর তার তো পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে। হাসি পাচ্ছে!
“আচ্ছা দাদা দোয়া করবেন, আসছি!”
মিজু মাথা নাড়ল, তেহরাব পা বাড়াল বাইরে যাওয়ার জন্য, যেতে যেতে বিড়বিড়ালো,
“আপনার সব থেকেও এখন কিচ্ছু নেয়, এটাই আপনার সব থেকে বড় শাস্তি৷ এটাই কর্মফল!”
তনয়ার কেন্দ্রের গেটের সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব, কিছু সময়ের মাঝেই বেরিয়ে আসে তনয়া। হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখেই বুঝে ফেলে তনয়ার পরিক্ষা ভালো হয়েছে, হবেই বা না কেন? এই মেয়ে পড়াশোনায় খুব ভালো!
তনয়া তেহরাবের দিকে এগিয়ে আসে, তেহরাব হাসি মুখে বলে,
“দ্যাটস মাই গার্ল!”
তনয়া মাথা নাড়ে, এমন সময় প্রীতি এসে উপস্থিত হয় তাদের সামনে,
“কেমন আছেন ভাইয়া?”
“এই তো ভালো, পরিক্ষা কেমন দিলে শালিকা?”
প্রীতি চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে বলে,
“ পাস করব এই বেশি!”
তেহরাব তনয়ার দিকে তাকায়,
“বাইকে উঠ!”
“আপনি এখনো ওকে তুই করেই ডাকেন?”
প্রীতির প্রশ্নে তেহরাব সেদিকে তাকায়,
“তুই করে ডাকার পথটা তো তনয়াও খুলে দিয়েছিল!”
বলেই তেহরাব তনয়ার দিকে তাকায়, তনয়া মাথা নিচৃ করে ফেলে। মনে পরে যায় বছর দুয়েক আগের কথা, তখন তুমি তুমি করেই বলত তেহরাব। তনয়া বিজ্ঞান মেলায় গিয়েছেমিল, সেখানে তেহরাবও এসেছিল। তার কাছে প্রজেক্টের বর্ননা চেয়ে মছিল, কিন্তু তনয়া ভয়ে তার সামনে কিছু বলতে না পারায় তনয়ার এক সহপাঠী তনয়ার হাত ধরে সড়িয়ে দেয়। তৎক্ষনাৎ মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল, ছেলেটাকে সরি বলতে বলেছিল। কিন্তু তনয়া সেদিন বলেছিল,
“ছেড়ে দিন ওকে, সরি বলতে হবে না!”
এইতো এটুকুই, তেহরাবও রেগে গিয়েছিল,
“সরি বলতে হবে না মানে কি? হাত ধরবে কেন তোমার? “
তনয়া তখন নিজেই ওই ছেলের হাত ধরে সড়িয়ে আনে, সে কঁনো ঝামেলা চাইছিল না। ব্যাস তেহরাবকে আর পায় কে,
“ওই তুই ওর হাত ধরলি ক্যান? এত বড় হয়ে গেছিস? থাকিস তুই!”
সেদিন ফাহিম ও তার বন্ধুরা জোর করে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে মছিল, তবে তেহরাবের তুই বলাটা আর যায় নি। তার কাছে তুই ডাকটা আরো বেশি মিষ্টি লাগে, ভালো লাগে। আপন আপন লাগে!
আনমনে হেসে উঠে তনয়া,
“তারাতারি কর, খিদে পেয়েছে আমার।”
তনয়ার ধ্যান ভাঙে, উঠে পরে বাইকে, প্রীতিকে বিদায় জানায়। তেহরাব বাইক স্টার্ট দেয়,
“শক্ত করে ধর!”
“ধরেছি তো।”
তেহরাব লুকিং গ্লাসে তনয়ার মুখের দিকে তাকায়, বাঁকা হেসে বলে,
“ কিছুই তো ফিল করতে পারছি না, আরো শক্ত করে ধর।”
তনয়া কথা মতো আরো মিশে যায়, সাথে সাথে বাইকের স্পিড বাড়িয়ে দেয় তেহরাব, তনয়া তৎক্ষনাৎ চোখ বন্ধ করে নেয়।
“আরেহ আস্তে চালান!”
তেহরাব শুনে না, সে বাইকের স্পিড বাড়িয়েই চলছে। হঠাৎ অন্য পথে যেতে দেখে তনয়া ভ্রু কুঁচকায়,
“ এদিকে কোথায় যাচ্ছেন?”
“নবীনগর, রেস্তোরাঁ থেকে খেয়ে তারপর বাড়ি যাব। খিদে পেয়েছে প্রচুর!”
অতঃপর তেহরাব নবীনগর এসে থামে,শিল্পকুটিরে একটু ঘোরাঘুরি করে খেতে যায়। খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুজনে চলে আসে সেনা শপিংমলে, তনয়াকে ড্রেস চেঞ্জ করে আসতে বলে। ট্রায়াল রুম থেকে তেহরাবের কথা মতো ড্রেস চেঞ্জ করে বাইরে আসে, হলুদ রঙের একটি টপস, ব্লু জিন্স ও ব্লু হিজাব মাথায় দেওয়া। চুল গুলো আগের মতোই বিনুনি করা।
তেহরাব হাসল, এই মেয়ে এত সুন্দর কেন?
“আপনি যে কি করতে চাইছেন!”
তেহরাব তনয়ার হাত ধরে নিজের সামনে নিয়ে আসে,
“অনেক কিছু, আপাতত স্মৃতিশৌধ ঘুরব, চলুন ম্যাডাম!”
তনয়া হাসে,তেহরাব বিল দিয়ে বেড়িয়ে পরে ঘোরার উদ্দেশ্যে৷ গোটা বিকেল অনেক আনন্দে কাটে তাদের, তেহরাব তাকে অনেক ছবি তুলে দিয়েছে৷ জীবনের এই প্রথম সে বোধহয় এত ছবি তুলেছে, এর আগে তো ঘোরাঘুরিও করে নি।
আনন্দ মজা শেষ করে দুজনেই বাড়ি ফেরে সন্ধ্যার দিকে, বাড়িতে এসে দেখে তাসলিমা এসে পরেছে। ইউসুফ বাড়িতে নেয়, এই ভরসন্ধ্যা বেলা দুজনকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে রাগী দৃষ্টিতে তাসলিমা তাদের দিকে তাকায়,
“সারাদিন টুটু করে এখন বাড়ি ফেরা? মেয়েটার পরিক্ষা আর তুই ওকে নিয়ে টুটু করছিলি?”
তেহরাব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে তাসলিমাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“কেন গো বউমা? হিংসা হয়?”
তাসলিমা কপাল কুঁচকায়,
“হিংসা কেন করব? আজব কথাবার্তাতো!”
“হতেও পারে, আমার ছেলে তো আমার মতো এত রোমান্টিক না। তাই বলে শশুড় শাশুড়ীর উপর হিংসা করা ঠিক না!”
তাসলিমা নিজেকে ছাড়িয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় তেহরাবের দিকে, এই ছেলো বড় কবে হবে? সোফা থেকে কুশন ছুঁড়ে মারে তেহরাবকে, তেহরাব ধরে ফেলে,
“ছিঃ বউমা তুমি তোমার শশুড়কে মারছ, এখনকার যুগের মেয়েরা কি আর বলব।”
“তেহরাব!”
তাসলিমা ধমক দেয়, সাথে সাথে তনয়া হেসে উঠে।
“আর তুইও বা গেলি কেন? যা ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বস, আমি খাবার নিয়ে আসছি।”
তনয়ার হাসি বন্ধ হয়ে যায়, মাথা নেড়ে উপরে চলে যায়। তেহরাব মেকি মানুষ হাসে,
“খাবার পাঠাতে হবে না, খেয়ে এসেছি!”
তাসলিমা টিভির সামনে বসে পরল,
“তুইও যা ফ্রেশ হয়ে নে!”
তেহরাবও চলে যায়।.
আজ তনয়ার শেষ পরিক্ষা, দেখতে দেখতে আজ তাদের বিয়েরও এক মাস। এই একটা মাস তেহরাব যেভাবে তাকে সঙ্গ দিয়ে মছে, পড়াশোনা নিয়ে সাহায্য করেছে, এইড ভাইজ দিয়েছে তা নিয়ে তনয়া কৃতজ্ঞ।
তেহরাব না থাকলে হয়ত তার পরিক্ষা এতোটাও ভালো হতো না, এই এক মাসে তেহরাব শুধু পড়াশোনা নিয়েই প্যারা দিয়েছে তনয়াকে৷ তবে মাঝে মাঝে একটু দুষ্টুমি, তবে তেহরাব সেদিনের পর থেকে তনয়াকে আর কাছে পেতে চায়নি, কারন সে চাইনি তনয়ার পরিক্ষা খারাপ হোক।
হল থেকে বের হয় তনয়া, আজকে তার মা বাবা আসবে তাকে নিতে। এই একটা মাস এ বাড়িতে, অবশ্য মাঝে মাঝে মা বাবা দেখতে এসেছিল, আর তানহা সেতো ভয়ে কখনোই আসে না।
“ম্যাডাম ভাবনা শেষ হলে একটু আমার দিকে তাকান!”
তনয়া চমকায়, এদিক ওদিক তাকিয়ে শব্দের উৎস খোঁজার চেষ্টা করে, অতঃপর নজরে পরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তেহরাবের দিকে। তনয়া সেদিকে পা বাড়ায়,
“পরিক্ষা কেমন হলো?”
তনয়া মুচকি হাসে,
“হুম ভালো!”
তনয়া এদিক ওদিক তাকায়, তেহরাবোর বাইকটা কোথায়? সেটা তো দেখতে পাচ্ছে না!
“ কাকে খুঁজছিস? “
“বাইক।”
তেহরাব স্মিত হাসে,
“আজ অটোতে যাব চল।”
দুজনেই উঠে বনে অটোতে, গাড়ি চলতে থাকে।
“তনয়া।”
তনয়া তেহরাবের মুখের দিকে তাকায়,
“হুম বলুন।”
তেহরাব তনয়ার হাতটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে,
“ তনয়া ওবাড়ি না গেলে হয় না?”
তনয়া কিছু সময় তেহরাবের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, তেহরাবের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
“আপনার কথা মতই একটা মাস তো আপনার বাড়িতেই রইলাম, এখন একটু যাই? আপনিও চলুন আমার সাথে।”
তেহরাব জড়িয়ে ধরল তনয়াকে,
“আমি গেলে তো দুদিনের বেশি থাকতে পারবি না।”
তনয়া তেহরাবের মুখের দিকে তাকায় পুনরায়,
“আচ্ছা।”
“আচ্ছা কি?”
“দুদিনই থাকব, তবুও চলুন।”
“পাক্কা?”
তনয়া স্মিত হেসে চোখ বন্ধ করে নেয,
“পাক্কা!”
তেহরাবও হাসে, কি আছে এই মেয়ের মাঝে? এক মুহুর্ত না দেখলে ছটফট করে অন্তর। গত এক মাসে তারও কাজের দিকে মনোযোগ বেড়েছে, রোজই মিলে যায় সে, সাথে এখন হাই স্কুলটার দায়িত্বটাও নেবে ভাবছে!
ইতিমধ্যে বাড়ি এসে পৌঁছেছে তারা, বাড়িতে আজ উৎসব লেগে আছে। ইরার শশুড় বাড়ির লোকরাও এসেছে, এদিকে অনেকদিন পর তানহাকে দেখে তনয়া আহ্লাদী হয়ে পরেছে। দুবোন মিলে গল্প জুড়েছে, আর বেচারা তেহরাব শুধু দেখছে।
“তনয়া ঘরে আয়!”
গম্ভীর কন্ঠে তনয়াকে কথাটি বলে তেহরাব উঠে ঘরে চলে যায়, তনয়া কিছুটা অস্বস্তিতে পরে গেছে, তাসলিমা ইশারা করলে তনয়াও নিজের রুমে চলে আসে।
তেহরাব বিছানায় বসে আছে, তনয়া দরজার কাছে এসে বলে,
“ডাকছিলেন কেন?”
“দরজা বন্ধ করে এখানে আয়।”
তনয়া ভ্রু কুঁচকায়, বাড়ি ভরতি মানুষ। দরজা আটকালে তারা কি ভাববে?
তেহরাব গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে,
“কি বললাম?”
তনয়া দরজা বন্ধ করে তেহরাবের সামনে এসে দাঁড়াল, তেহরাব তনয়াকে নিজে কোলে বসিয়ে গলায় মুখ ডুবাল।
তনয়া চোখ বন্ধ করে নিল,
“ আ আরে ক কি করছেন, বাড়িতে কত মানুষ।”
“তো আমি কি করব? চুপ করে বস।”
তেহরাব আবারো তনয়ার গলায় মুখ ডুবাল, ছোট ছোট চুমু খেল কয়েকটা। তেহরাবের হাত বিচরণ করছে তনয়ার কোমরে, তনয়া বার বার কেঁপে উঠছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে তার,
“শ শুনুন না, আমি ন নিচে যাব।”
তেহরাব তৎক্ষনাৎ তনয়াকে নিজের দিকে ঘুরাল, তনয়ার দুগালে হাতে রেখে বলল,
“ নিচেই তো যাবি, উপরে তো আর থাকতে পারবি না। নিব্বি!”
তনয়া ভ্রু কুঁচকায়,
“আপনি আমাকে নিব্বি কেন বলছেন?”
তেহরাব ছোট্ট করে তনয়ার ঠোঁটে চুমু খায়,
“তুই তো নিব্বি তাই তোকে নিব্বি বলছি।”
তনয়া ছুটার জন্য মুচড়ামুচড়ি শুরু করেছে,
“ইশ ছাড়ুন তো, এই গরমের মধ্যে এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখে কেউ?”
তেহরাব বাঁকা হাসে, হাস্কি স্বরে বলে,
“তবে খুলে ফেল!”
তনয়ার চোখ বড়বড় হয়ে যায়,
“ খুলে ফেলব মানে?”
“তুই তো বললি গরম লাগছে, তাহলে জামাকাপড় খুলে ফেল.”
তনয়া তেহরাবকে ধাক্কা দেয়, তবে তেহরাব ছাড়ে না।
তনয়া ঠোঁট উল্টে বলে,
“দেখুন..
“দেখার জন্যই তো বসে আছি, খুল দেখি।”
তনয়ার কান গরম হযে যাচ্ছে, চোখ বন্ধ করে কান চেপে ধরল দুহাতে। চোখ মুখ নিয়ে বলে,
“আপনার মুখটা বন্ধ করুন প্লিজ!”
তেহরাব তনয়ার গলায় কামড় বসিয়ে দেয়, তনয়া চিৎকার দিয়ে উঠে,
“আহহ!”
চিৎকারের শব্দটা একটু বেশিই জোরে ছিল, তেহরাব দ্রুত তনয়ার মুখে হাত রাখে।
“এই চুপ, এত জোরে চিল্লাচ্ছিস কেন?”
এই সুযোগে তনয়া উঠে বসে, নাক টেনে বলে,
“থাকুন আপনি, আমি বাবার বাড়ি গিয়ে একমাস থাকব।”
তনয়া দরজায় হাত দেওয়ার সাথে সাথে তেহরাব তনয়ার হাত ধরে ফেল। তনয়াকে দরজার সাথে চেপে ধরে বলে,
“আহ হা, আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস? তোকে তো তবে যেতেই দেব না.”
তনয়া মুখ ভেঙায়, এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ কারে আসে দুজনের। সাথে একটি কন্ঠস্বর,
“ওই আপু, তোমাদের কে খেতে ডাকছো আন্টি।”
তেহরাব বিরক্তিকে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে,
“শালি তুই ক্যান ভুল সময়ে এন্ট্রি নিচ্ছিস?”
তনয়া দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বেড়িয়ে আসে, যাওয়ার পথে তেহরাবকে বলে,
“খেতে আসুন!”
তেহরাব মুখ গোমড়া করে বিছানায় শুয়ে পরে,
“আমার মতো একটা ভদ্র, শান্ত, শিষ্ট স্বামী পেয়েছিলি বলে বিয়ের এক মাসে হয়ে গেছে তবুও বাসর করেনি, অন্য কেউ হলে…
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৯
তেহরাব থেমে যায়, উঠে বসে বিছানায়, রাগ হচ্ছে তার। নিজেকে নিজে ধমক দিয়ে বলে,
“শালা তুই ভাবলি কি করে তনয়াকে অন্য কেউ বিয়ে করবে? তোর ভাবনায় এক বালতি মরিচের গুঁড়ো মিশানো হোক।”
বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নামে তেহরাব, বাঁকা হেসে কাবার্ড থেকে কিছু একটা বের করে নিজের পকেটে ভরে নেয়। ক্রুর হাসে, ঠোঁট কামড়ে বলে,
“ গেট রেডি ডার্লিং, টুনাইট ইজ গোইং টু বি স্পেশাল। ইট ওয়েল বি পেইনফুল, এন্ড আই মিন ইট বেব!”
