Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩১

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩১

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩১
তামান্না ইসলাম শিমলা

মনমরা হয়ে ব্যালকনিতে বসে আছে তনয়া, কোথায় ভেবেছিল এতগুলো দিন পরে নিজের বাড়িতে যাবে। আজকেই অঘটন ঘটতে হলো? ওইতো দুপুরে সবাই খেতে বসেছিল, এমন সময় শফিকের ফোনে কল আসে। কলটা দিয়েছিল তানিয়া, তনয়ার মামা এক্সিডেন্ট করেছে, খুব খারাপ অবস্থা। কি করবে না করবে ভেবে না পেয়ে তৎক্ষনাৎ তানহাকে নিয়ে হাসপাতেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তারা। তনয়া তখন ঘরে ছিল, নিচে এসে সবটা শুনে তেহরাবের মুখে।
একদিকে মামার জন্য খারাপ লাগছে আরেক দিকে বাড়িতে না যেতে পেরে, সিগারেটের ধোঁয়া নাক দিয়ে প্রবেশ করা মাত্র নিজের বিরক্তিটা আরেকটু বাড়ল। পাশ ফিরে দেখল তেহরাব দাঁড়িয়ে আছে, তনয়া কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইল। তেহরাব তনয়ার সাসনে এসে রেলিং এ হেলান দিয়ে দাঁড়াল, সিগারেটে টান দিয়ে বলল,

“ রেডি হয়ে নে, তোর মামাকে দেখতে যাব।”
তনয়া চমকায়, তাকায় তেহরাবের দিকে।
“এভাবে তাকিয়ে না থেকে দ্রুত রেডি হয়ে নে, দেখো আসি তাকে।”
“এখন মানিকগঞ্জ যাব?”
তনয়ার প্রশ্নে তেহরাব সিগারেটটা ফেলে দিল নিচে, মুখে বলল,
“হুম, এখন সময় নষ্ট করে দ্রুত যা।”
তনয়া দ্রুত দৌড় লাগাল রুমে, তেহরাব নিচে আসল। তাসলিমাকে বলল তারা মানিকগঞ্জ যাবে, তিনি অমত করলেন না। ইতিমধ্যে তনয়া রেডি হয়ে নিচে এসেছে, একটি নীল রঙের পাতলা গাউন ও মাথায় ওড়না জড়িয়ে তনয়া নিচে আসে। তেহরাব এক পলক তনয়ার দিকে তাকিয়ে বাইরে চলে আসে, তনয়াও তাসলিমাকে বলে বেরিয়ে আসে।

তেহরাব বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছে, তনয়া উঠে বসল। তিন ঘন্টার পথ পারি দিয়ে তারা পৌঁছাল হাসপাতালে, তনয়ার মামা এখনো অপারেশন থিয়েটারে। তার বুকের চারটি হাড় ভেঙে গেছে, সাথে পায়ের অবস্থাও খারাপ। তানিয়া সহ তনয়ার খালা মামি সকলেই এখানে উপস্থিত, সবাই কান্না কাটি করছে। এসব দেখে আরো বেশি খারাপ লাগছে তনয়ার, তারও কান্না পাচ্ছে। বিষয়টা লক্ষ্য করল তেহরাব, শফিককে বলে তনয়াকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পরল। তনয়াকে নিয়ে নিচে এসে বসল তেহরাব,
“মন খারাপ করে থাকিস না, দুর্ঘটনা তো বলে কয়ে আসে না তাই না?”
তনয়া কিছু বলে না, আধার নেমেছে চারদিকে। আকাশটাও মেঘলা,
“এবার যাওয়া উচিত, নাহলে বেশি রাত হয়ে যাবে।”
তনয়ার কথায় তেহরাবও আকাশের দিকে তাকায়, আসলেই এখন যাওয়া উচিত। তেহরাব তনয়ার হাতে হাত রাখে,
“মন খারাপ করিস না প্লিজ, তোকে এভাবে দেখতে আমারো যে ভালো লাগে না।”
তনয়া তেহরাবের দিকে তাকায়, বড় করে শ্বাস ফেলে মৃদু হাসে। তেহরাবও চলে হাসে, আবারও চেপে বসে দুজনে বাইকে। কিছুদূর আসতেই তেহরাব রাস্তা পাল্টে অন্যদিকে মোর নিল, তনয়া কপাল কুঁচকাল,

“এদিকে কই যাচ্ছেন?”
তেহরাব বাইক চালানোর দিকে মনোযোগ দিয়েই বলল,
“গেলেই দেখতে পারবি!”
তনয়া আর কথা বাড়ায় না, আবারো এক ঘন্টার জার্নির পর বাইক থামল একটি জায়গায়। সামনেই একটি ঘাট বাঁধানো লেক, তার পাশে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর যার চারপাশে রঙিন বাতি!
রঙিন আলো পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছে, সাথে ঠান্ডা বাতাস। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, তনয়ার ঠোঁট আপনা আপনি প্রসারিত হলো।
“এবার নাম,, বসেই থাকবি নাকি?”
তনয়ার ঘোর কাটে, দ্রুত বাইক থেকে নেমে লেকের সিঁড়িতে গিয়ে দাঁড়ায়। তেহরাব বাইকের উপরেই বসে রইল, তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কেমন লেগেছে?”
তনয়া একগাল হেসে তেহরাবের দিকে তাকায়, চারপাশটা আরেকবার দেখে নেয়।

“অনেক বেশি সুন্দর, নিরিবিলি পরিবেশ।”
তনয়া দুহাত মেলে দেয়, এমন সময় মেঘ ডাকে। বৃষ্টি পরছে গুঁড়ি গুঁড়ি, তনয়া চলে আসতে চাইলে তেহরাব আগের ন্যায় বসে থেকেই বলে,
“চাইলে ভিজতে পারিস, যত ইচ্ছা।”
তনয়া পুনরায় হাসে, এই লোকটা কি মন পরতে জানে? নাহলে সে জানল কি করে যে এখন তার ভিজতে ইচ্ছে করছে? তনয়ার খুব শখ ছিল এমন একটি লেক, এমন একটি কুঁড়েঘরের সামনে সে ভিজবে, তেহরাব জানল কি করে? তনয়া হুট করে পেছনে তাকাল,
“এটা কার বাড়ি?”
তেহরাব বুকে হাতে গুঁজে মুগ্ধকর দৃষ্টিতে তনয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,

“একটা সময় দাদার শখের বাড়ি ছিল, মাঝে মাঝে এখানে ঘুরতে আসত। আপাতত এটা তোর আমার বাড়ি।”
তনয়া অবাক হয়, তারমানে আশেপাশে যা কিছু আছে সব পুরোনো! তনয়া আরো দুটো সিঁড়ি নামল, আস্তে আস্তে বৃষ্টির গতি বাড়ছে, বৃষ্টির পানি গুলো তনয়ার সর্বাঙ্গ ভিজিয়ে দিচ্ছে। তনয়া খেয়ালই নেয় কখন যে তার ওড়না তা মাথা থেকে নেমে গিয়ে চুল গুলোও উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছে৷
তনয়া তেহরাবের দিকে ঘুরে তাকাল, অনেকটা দূরেই বসে আছে সে। যেখানে মাথার উপর ছনের তৈরি ছাঁদ, যার দরুন তেহরাব ভিজছে না। যে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে, নেশা ধরে যাচ্ছে তার।
“আপনিও আসুন না, এক সাথে ভিজি!”

তেহরাবকে কিছু বলতে না দেখে সে আবার নিজের মতো ভিজতে লাগল, এদিকে তেহরাবের যে মনটা অস্থির হয়ে উঠছে। শ্বাস প্রশ্বাস গাঢ় হয়ে উঠছে, সামনে থাকা নারীটিকে ছুঁয়ে দেখার লোভযে তার মনকে অস্থির করে তুলছে। তেহরাব শুকনো ঢোক গিলে চোখ সড়িয়ে নেয় তনয়ার দিক থেকে, ঠোঁট গঁল করে শ্বাস ছেড়ে উল্টঁ দিক হয়ে দাঁড়ায়। বাইকে হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়িযে চোখ বন্ধ করে নেয়, মনে মনে নিজেকে শাসায়, কিন্তু তাতে লাব কি হবে?
মেয়েটা তার ভালোবাসার পূর্নতা, তার একান্ত ব্যক্তিগত নারী। দলিলকৃত সম্পত্তি, তার তো হক আছে এই মেয়ের উপর, নিজেকে কোন বারবার আটকাবে? তেহরাব স্মিত হাসল, পকেট থেকে ফোনটা বের করে তৎক্ষনাৎ কাউকে একটা কল করল। কিছু সময় পর রিসিভ হলো,
“চাচা, তুমি গেটে বাইরে থেকে তালা দিয়ে নিজের বাড়ি চলে যাও, আজ আমরা এখানেই থাকব।”
তেহরাবের কথায় লোকটা হ্যাঁ বলে কল কেটে দেয়, তেহরাব ফোনটা বাইকের উপর রেখে আবারও সামনের দিকে তাকায়। তনয়া লেকের পানিতে পা ডুবিয়ে বসে আছে, অন্য সময় হলে কখনোই পারত না, তেহরাব আছে বলেই হয়ত এতটা সাহস পাচ্ছে।
তেহরাব আবারো শুকনো ঢোক গিলল, এই মেয়ে আস্ত একটা বিষ যে বিষ স্ব ইচ্ছায় গ্রহন করা যায়।
তেহরাব অনুভব করলে তার শরীর কাঁপছে, এই মেয়েকে তার চায়, এখুনি চায়!
তেহরাব এক পা এক পা করে লেকের কাছে আসে, সেও বৃষ্টি মতে ভিজে গেল মুহুর্তেই। উপর থেকেই ডাক দিল তনয়াকে,

“তনয়া!”
তনয়া পেছনে তাকাল, তেহরাবকে ভিজতে দেখে তনয়া হাসি মুখে উঠে দাঁড়াল। উঠে আসল উপরে, তেহরাবের হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলল,
“চলুন নিচে চলুন।”
তেহরাব নড়লো না, উল্টো তনয়াকে টেনে নিজের সামনে দাঁড় করাল। তনয়া ভরকে গেল, হাসি মুখটা তৎক্ষনাৎ চুপসে গেল তেহরাবের নেশালো দৃষ্টি দেখে। তেহরাবের ঠোঁট জোড়া কাঁপছে, অতিরিক্ত উত্তেজনায় হয়ত।জ্বিভ ধারা ঠোঁট ভিজিয়ে ভারী ধরে আসা গলায় প্রশ্ন করল,
“পিরিয়ড শেষ হয়েছে?”
তনয়া ভ্রু কুঁচকায়, তেহরাবের কন্ঠস্বরে সে কেঁপে উঠছে। কেমন অদ্ভুত মাদকতা, গম্ভীর! তনয়া নিজেও শুকনো ঢোক গিলল, মাথা নাড়ল উপর নিচ।
“কবে?”
তেহরাবের প্রশ্নে তনয়া চোখ নামিয়ে নেয়, আমতা আমতা করে বলে,

“ক কালকের আ আগের দিন।”
ব্যাস আর কিছু বলার সুযোগ দিল না তেহরাব, কোলে তুলে নিল তনয়াকে। তনয়া ভয় পেয়ে যায়, আঁকড়ে ধরে তেহরাবের গলা, তেহরাবের অস্থিরতা তনয়াও টের পাচ্ছে তার হৃদস্পন্দনের উঠা নামাতেই।
তেহরাব সোজা ঘরের সামনে আসে, কিন্তু দরজায় তো তালা৷ এখন কি হবে? মাথায় রক্ত চরে গেল তেহরাবের,
“শিট, বাল চাবিটাও আনিনি। এখন কি হবে?”
তেহরাবের উচ্চকন্ঠে তনয়া আবারো কেঁপে উঠে, জড়িয়ে ধরে আরো শক্ত করে তেহরাবকে। তেহরাব একবার তনয়ার দিকে তাকায়, দু’দিকে ঘাড় বাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করে,
“যায় হয়ে যাক, আজ আমি ছাড়ছি না।”
তেহরাব তনয়াকে নামিয়ে দেয়, পাশ থেকে একটা ইট এনে তালা তে আঘাত করে কিছু সময়। দু তিনবার বারি মারতেই তালা ভেঙে যায়, তেহরাব দ্রুত দরজা খুলে তনয়াকে নিয়ে ভেতরে আসে। তেহরাব লাইট জ্বালিয়ে দেয়
ঘরের ভেতরে একটি বিছানা ও প্রয়োজনীয় কয়েকটি জিনিসপত্র আছে। খট করে দরজা লাগানোর শব্দে তনয়ার ঘোর কাটে, তাকায় তেহরাবের দিকে।

“ আ আপনি ঠিক আছেন?”
তেহরাব একদম তনয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়, তনয়াকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। তনয়ার ডান হাত নিয়ে নিজের বুকে রাখে,
“একদম ঠিক নেই আমি, একদম না। এক্ষুনি তোকে দরকার তনয়া, আমার তোকে চাই।”
“ মা মানে?”
তেহরাব তনয়ার কোমরে হাত রেখে তনয়াকে ওকটু উঁচু করে,
“বুঝতে পারছিস না? আমার ভেতরে চলা ঝড়ের তান্ডব তোকেই বন্ধ করতে হবে, এই মুহূর্তেই।
তনয়ার গলা শুকিয়ে আসছে, তার পেটের মাঝে হাজারটা প্রজাপতির উড়াউড়ি। নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেয় তনয়া, মাথা নিচু করে বলে,

“ কিন্তু.
“কোনো কিন্তু না সোনা, আমি আর পারছি না। আটকাস না আমাকে!”
তনয়াকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তনয়ার ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়,এক হাত দিয়ে তনয়ার চুল খামচে ধরল, আরেক হাত দিয়ে তনয়ার দুহাত পেছনে চেপে ধরল। তনয়াকে ছটফট করার কোনো সুযোগ বা পথ কোনোটাই অবশিষ্ট রাখল না।
তনয়া শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, তেহরাব তাকে যেভাবে আষ্টেপিষ্টে ধরে রেখেছে তার শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর, সাথে ঠোঁট জোড়া অক্ষত রাখছে না। তনয়ার ভয় হচ্ছে, এই তেহরাবকে তার কাছে ভীষণ ভয় করছে, কান্না পাচ্ছে।
তেহরাব তনয়ার ঠোঁট ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, এক টানে ওড়না ছুঁড়ে ফোলল।

“শুনুন না, এখানে না প্লিজ। বাড়ি…
তেহরাব তনয়ার গাল চেপে ধরল, ঠোঁট কামড়ে বলল,
“হুঁশ, একটা কথাও বলবি না, কোনো কথায় আমি আজ শুনব না।”
তেহরাব তনয়ার জামার চেইনে হাত দিতেই তনয়া শব্দ করে কেঁদে ফেলল, তার যে সত্যি ভয় করছে।
তাতে কি? তেহরাব আজ চাইলেও তনয়ার থেকে দূরে সড়তে পারবে না, তনয়াকে পিছন ঘুরিয়ে জামার চেইনটা খুলে ফেলল। গলাটা কাঁধের নিচে নামিয়ে কাঁধে চুমু খেল বার কয়েক, এতেও যেন মন ভরল না তেহরাবের।
সে চাইছে তনয়া ক্ষত বিক্ষত করে ফেলতে, তাই করল। গলা, ঘাড় সম্পূর্ণ জায়গায় নিজের দাঁতের চিহ্ন বসিয়ে দিল। তনয়া ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠছে,

“তেহরাব ভাই, প্লিজ ছাড়ুন। আমার আমার ভয় করছে!”
তেহরাব রেগে যায, কীসের ছাড়ুন ছাড়ুন লাগিয়ে দিয়েছে,
“ ওই তোকে শো কেসে সাজিয়ে রাখার জন্য বিয়ে করেছি? ইশশ, বাল বুঝতে কেন পারছিস না আমি সহ্য করতে পারছি না!”
শেষ কথাগুলো অসহায় স্বরে বলে তেহরাব, তনয়ার শরীর কাঁপছে,
“বাড়ি যাই চলুন, এখানে না।”
“বাড়ি আর এখানে পার্থক্য কি? এখানেও খাট আছে, বাড়িতেও সেই খাটই আছে। তোর জন্য আলাদা করে সাজিয়ে রেখে আসিনি, নে এবার চুপ কর জান। একটু রহম কর, প্লিজ।।”
তেহরাব তনয়াকে বিছানায় ফেলে দিল ধাক্কা দিয়ে , নিজেও উঠে বসল তনয়ার উপর। তনয়ার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোই নিয়ে মাথার উপর চেপে ধরল,

“আমার ভয় করছে তেহরাব ভাই, প্লিজ প্লি…
আর কিছু বলার আগেই তেহরাব তনয়া গাল চেপে ধরল, ধমক দিয়ে বলল,
“শাট আপ তনয়া, কীসের ভাই ভাই করছিস? তোর কোন কালের ভাই আমি? তেহরাব বলে ডাক, তেহরাব বল!”
ধমক খেয়ে চুপ হয়ে যায় তনয়া, ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে,
“ত তে তেহরাব।”
তেহরাব বাঁকা হাসে, তাকায় তনয়ার বুকের দিকে,
“ এইতো গুড গার্ল, এভাবেই সব সময় আমার কথা শুনে চলবি৷ বাই দ্যা ওয়ে তুই আমাকে চাস না? একটুও না?”
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়, লোকটা তাকে লজ্জায় ফেলছে। তেহরাব ঠোঁট গোল করে শ্বাস ছাড়ল, না এভাবে হবে না। এই মেয়েকে তার মতো করেই বোঝাতে হবে, তেহরাব তনয়ার কপালে কপাল ঠেকায়,
“জান, কেন এমন করিস? এই একটা মাস আমি কি করে ছিলাম তুই জানিস? আর কত অপেক্ষা করাবি?”
তেহরাবের নরম কন্ঠ, তনয়া চোখ বন্ধ রেখেই বলে,

“ভয় করে আমার।”
তেহরাব সড়ে এসে চুমু খায় তনয়ার বুকের মধ্যেখানে, হাস্কি স্বরে বলে,
“ভয়? কীসের ভয়? জাস্ট ফিল ইট বেবি।”
তেহরাব এক এক করে নিজের শার্টের বোতাম খুলছে, তনয়া তাকায় তেহরাবের দিকে। তার শরীর যে মৃগী রোগীর মতো কাঁপছে, তেহরাব নিজের শার্টটা ছুঁড়ে মারল নিচে।
তনয়ার মুখের কাছে মুখ এনে বলল,
“তাকা আমার দিকে, তুই চাস না আমায়?”
তনয়া শান্ত হয়ে তেহরাবের দিকে তাকায়, সে তো চায় তেহরাবকে। সেও চায় তেহরাবের অধিকার তাকে বুঝিয়ে দিতে, কিন্তু তার যে ভয় করে।
“কি হলো বল!”
তনয়া হালকা মাথা নাড়ে, তেহরাবের অধরে ফুটে উঠল কিঞ্চিৎ হাসির রেখা। তেহরাব ক্রুর হাসে, পকেট থেকে প্যাকেটটি বের করে তনয়ার হাতে দেয়। তনয়ার চোয়াল ঝুলে পরে, তার মানে লোকটা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল?

“আপনি প্ল্যান করে আমাকে এখানে এনেছেন?
“ধরে নে তাই, আর প্ল্যানের কি আছে? তুই আমার প্রেমিকা না যে ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে নিয়ে আসতে হবে, তুই আমার বিয়ে করা বউ।”
তনয়া দ্রুত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়, এই লোকটা সত্যি নির্লজ্জ৷ তেহরাব ঠোঁট কামড়ে হাসে,
“আমার কিচ্ছু করার নেই সোনা, আজকের রাতটা নাহয় তুই আমার জন্যই কাঁদ। শুধু আজ নয়, এখন থেকে প্রতিটা রাতই তোকে কাঁদতে হবে!”
তনয়ার কথা আটকে গেছে গলায়, এই ছেলে তাকে আরো ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। লজ্জা, ভয়, উত্তেজনা সব মিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি তনয়াকে শ্বাস প্রশ্ব্স ভারী করে তুলছে।আগে জানলে কখনোই এখানে আসত না সে, লোকটা চরম লেভেলের অসভ্য!
“ক্যান আই মেক ইউ মাইন?”
তেহরাব তনয়ার মুখ থেকে হাত সড়ায়, তনয়ার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ায়, ফিসফিসিয়ে আবারও বলে,

“ জাস্ট ফিল মাই প্রেজেন্স, ইট উইল বি পেইনফুল, বাট দেয়ার্স নো এসকেপ ফর ইউ। আই লাভ ইউ! “
তেহরাব তনয়ার অধর জোড়া আবারও আঁকড়ে ধরল, তনয়াকে মিশিয়ে নিল নিজের সাথে। তনয়া তৎক্ষনাৎ তেহরাবের চুল খামচে ধরল, চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে। ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে তেহরাবোর উন্মুক্ত পিঠ নিজের নখের আঁচড়ে।
তেহরাবও আটকালো না, কিছু আঘাত কিছু পূর্ণতার চিহ্ন। এই রাত তাদের, এই পূর্ণিমা চন্দ্র তাদের, প্রতিটা মূহুর্ত তাদের।
“জান একবার ভালোবাসি বল।”
অতিরিক্ত উত্তেজনা ও যন্ত্রণার কারনে তনয়ার মুখ দিয়ে শব্দই বের হচ্ছে না, অনেক কষ্টে কান্না আটকে রেখেছে। আর এদিকে তেহরাব কিনা বলছে ভালোবাসি বলতে?
“একবার বল, প্লিজ।”
তনয়া আরো শক্ত করে তেহরাবের চুল আঁকড়ে ধরে, ধরে আসা গলায় বলে,
“ভা ভালোবাসি!”

সাথে সাথে আবারও তেহরাব তনয়ার অধর আঁকড়ে ধরে, আজ সে তার জীবনের সব চেয়ে বেশি আনন্দিত। তার এলোকেশী তাকে ভালোবাসে, মেয়েটা তাকে বলেছে। এইযে তার ভালোবাসায় তার এলোকেশীর চোখ অশ্রুসিক্ত করছে এটাও তেহরাবের কাছে বড় পাওয়া, তার তনয়া শুধু তার। তেহরাব মনে মনে বিড়বিড়াল,

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩০

“তোকে যতবার আমি ছুঁয়ে দেব, ততবার তুই ক্ষতবিক্ষত হবি৷ কারন তুই আমার একমাত্র দুর্বলতা, আর আমার স্পর্শ তোর দুর্বলতা। ভালোবাসি, আর ওই ভালোবাসা কষ্টকর হলেও তোর, শুধু তোর!”
অতঃপর আজ রাত তাদের মিলন রাত্রি, একে অপরকে এক নতুন ভাবে অনুভব করছে দুজনে৷ এক স্বর্গীয় সুখময় বৃষ্টিময় রাত তাদের মিলনের সাক্ষী হয়ে রইল। প্রতিটি স্পর্শে মিশে আছে এক আকাশ পরিমান ভালোবাসা, একে অপরের প্রতি আস্থা, নতুন সূচনার গল্প।

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩২