হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫০
তামান্না ইসলাম শিমলা
তাসলিমার ঘরে বসে আড্ডা দিচ্ছে ইরা, তাসলিমা ও তনয়া। খুশির সংসদ পেয়ে সকালেই বাড়িতে এসে হাজির সে। আড্ডার মাঝে মাঝে তনয়াকে লজ্জায় ফেলতেও ভাবছে না। তাসলিমা চোখ রাঙিয়ে বারবার থামিয়েও দিচ্ছে। বাড়িতে আজ পুরুষ মানুষ নেই, সবাই বেরিয়েছে কাজে।
এমন সময় ফোন বেজে উঠল তনয়ার। স্ক্রিনে ভেসে উঠল মায়ের নাম্বার। তনয়া এক পলক তামলিমার দিকে তাকাতেই তিনি তনয়াকে যেতে বললেন। তনয়াও কিছু না বলে চলে আসলো নিজের রুমে।
“হ্যাঁ বলো।”
ওপাশ থেকে ভেসে আসলো তানিয়ার গম্ভীর কন্ঠস্বর,
“যা বলেছি মনে আছে তো?”
তনয়া চোখ নামিয়ে নেয়, কিছু সময় চুপ থেকে বলল,
“হ্যাঁ কিন্তু……
“কোনো কিন্তু নেই। আল্লাহর রহমতে আজ তোর গর্ভে তোর সন্তান। সংসারের দিকে মন দে।”
তনয়া করুন মুখশ্রীতো তার মা দেখতে পাচ্ছে না।
“উনি মানবে না আম্মু। আমি নাহয়…..
তানিয়া এবারও বাকি কথা শেষ হতে দিল না। তার আগেই বলে উঠল,
“যা ইচ্ছে কর। আমার বলার আমি বললাম। তোমরা এখনকার ছেলেমেয়ে বেশি বুঝোতো যা ইচ্ছে করো।”
মায়ের রাগ দেখে দমে গেল তনয়া। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টেনে বলল,
“আচ্ছা।”
“যাইহোক রাখছি। একটু বাদে মেহমানরা আসবে।”
তনয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিল তানিয়া। তানহা ভারাক্রান্ত চেহারা নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইল। হঠাৎ কোমরে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে ধরফরিয়ে উঠল তনয়া। হাতে থাকা ফোনটাও পরে গেল নিচে। তেহরাব নিচেও ভরকে গিয়েছে তনয়াকে এভাবে চমকাতে দেখে।
“আরে ভয় পাচ্ছিস কেন? আমিই তো।”
তনয়ার হুট করেই মেজাজ গরম হল, রাগী কন্ঠে চেচিয়ে উঠল,
“উফফ অসহ্য। এভাবে হুটহাট জড়িয়ে ধরবেন না, বিরক্তিকর।”
তনয়া বারান্দা থেকে রুমে চলে আসলো। তেহরাব দাঁড়িয়ে রইল বারান্দাতেই। হল টা কি? তনয়া এভাবে রেগেই বা কেন গেল? অবশ্য শুনেছে প্রেগন্যান্সির সময় মেয়েদের মেজাজ একটু খারাপ থাকে, মুড সুইং হয় ঘনঘন। তেহরাব নিজেও চলে আসলো। শরীরে থাকা টিশার্টটা খুলতে খুলতে বলল,
“আচ্ছা সরি। খেয়েছিস?”
তনয়া বিছানায় বসে বসে ফোন টিপছে। সে তেহরাবের প্রশ্নের কোনো জবাবও দিল না। তেহরাবেরও রাগ লাগে তবে সে জানে এই সময় তনয়ার আচরণের পরিবর্তন দেখা দিবে। তাই নিজের রাগটা নিয়ন্ত্রণ করে দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করল,
“কি হল খেয়েছিস?”
এবারও জবাব এলো না তনয়ার তরফ থেকে, তেহরাব চট করে তনয়ার হাত থেকে ফোনটা কেঁড়ে নিল। তনয়া অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তেহরাবের দিকে তাকাল, তেহরাবকে ভাবুক দেখাল। এটা তনয়ার মুড সুইং নয় বরং কিছু একটা হয়েছে তার। তেহরাব বসলো তনয়ার পাশে। তনয়াকে আলতো হাতে কাছে টেনে জিজ্ঞেস করল,
“ কি হয়েছে? উহু একদম রাগ দেখাবি না। হিতে বিপরীত হয়ে যাবে জান।”
তনয়া চোখ নামিয়ে নেয়। মাথা রাখে তেহরাবের বুকে। সব রাগ যেন তার গায়েব এক নিমিষেই। কি আছে তেহরাবের মাঝে? কেন সে বুকে টেনে নিলে নিজের সকল আফসোস, দুঃখ ধুয়ে মুছে যায়?
“আচ্ছা আপনার তনয়া যদি আপনার কাছে কিছু একটা চায় তা রাখবেন?”
তেহরাব তনয়ার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“ শুধু একটা? তেহরাব তার তনয়াকে সব দিবে শুধু একবার বল।”
তনয়া চোখ বন্ধ করে নিল,
“আমি মেডিকেলে পরিক্ষা দিতে চাই না। এমন কি আর পড়াশোনাও করতে চাই না।”
তেহরাব চমকায় সাথে ভ্রু জোড়াও কুঁচকে যায়। তনয়াকে উঠিয়ে তার মুখের দিকে তাকায়,
“মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি তোর? কি বলছিস খেয়াল আছে?”
তনয়া তাকাল না তেহরাবের দিকে। মাথা নিচু রাখা অবস্থাতেই বলল,
“যা বলছি ভেবেই বলছি। আমি ভীতু একটা মানুষ, বাইরের দুনিয়া আমার জন্য নয়।”
তেহরাব তনয়ার দুগালো হাত রেখে তনয়াকে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
“বাইরের দুনিয়ায় সাথে তো এই তেহরাবই লড়াই করেছে আর সারাজীবন করবে।”
“আমি চাচ্ছি না। বিয়ে হয়েছ আমার, কদিন পর বাচ্চা হবে। আমি বাচ্চা, সংসার নিয়েই থাকতে চাই। দয়া করে জোর করবেন না।”
তেহরাবকে এবার গম্ভীর দেখাল, চোয়াল শক্ত করে বলল,
“আমি চাই না। তোকে ভবিষ্যতে নিজের পরিচয় বানাতে হবে আর এটাই হবে। তাই সুন্দর মতো পড়াশোনায় মন দে। আর আমি চাই না বিয়ের কথা বলে কেউ প্রশ্ন তুলক, বিয়ের কারনে পড়াশোনা কেন বন্ধ হবে?”
তনয়া কিছু না বলে বিছানায় শুয়ে পরল,কাঁথা টেনে নিজের শরীরে জড়িয়ে নিতে নিতে বলল,
“আমার কোনো পরিচয় লাগবে না। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি তেহরাব সরকারের স্ত্রী ও তার সন্তানের মা।”
তনয়ার এসব কথায় মেজাজ গরম হচ্ছে তেহরাবের। প্রচুর রাগ হচ্ছে, অন্য সময় হলে এতক্ষণে কি রেখে কি করে ফেলত জানা নেয় তেহরাবের। তেহরাব উঠে দাঁড়াল,
“তেহরাব সরকার যদি না থাকে তখন? তখন কে নিবে এই তনয়া ও তার সন্তানের দায়িত্ব? পরিচয় নিজে গড়তে হয়, অন্যের পরিচয়ে বাঁচাটা গর্বের নয়।”
তনয়া চট করে তেহরাবের দিকে তাকায়, তেহরাবের কথা গুলো সে নিতে পারছে না। কষ্ট হচ্ছ। তেহরাব না থাকলে মানে কি? তনয়া ছলছল নয়ন নিয়েও মৃদু হাসলো,
“দয়া করুন। আল্লাহ রহমত করেছে, আমার মনের আশা পূর্ণ করেছে। আমি চাই না নিজের ক্যারিয়ার, পরিচয় বানাতে গিয়ে আমার সন্তানের প্রতি কোনো অবহেলা করতে। আমি পারব না। তনয়া বোকা, সে বাইরের দুনিয়াতে টিকতেও পারবে না। পরিচয় বানিয়ে লাভ কি? এর থেকে আপনি আমাকে আপনার পরিচয়ে বাঁচিয়ে রাখুন, এটাই আমার গর্ব।”
তেহরাব নিজের মাথার চুল আঁকড়ে ধরল,
“উফফ তনয়া বাজে কথা বন্ধ কর। আর কারো বাচ্চা হয়না? আর কেউ বাচ্চাসহ নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করে না? তোকে সাহসী হতে হবে, বাইরের দুনিয়ার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।”
তনয়া এবারও হাসলো,
“আপনি তো এই বোকা, ভীতু তনয়াকেই ভালোবেসেছেন। আজ কেন এসব বলছেন? আপনি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আমি আপনার পরিচয়ে বাঁচলে সেটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। দয়া করে এসব নিয়ে আর কিছু বলবেন না। আর কিচ্ছু শুনতেও চাই না।”
“তনয়া!”
ধমকে উঠল তেহরাব। তনয়া অন্যপাশ হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পরল। খুব ক্লান্ত লাগছে এখন, একটু ঘুমানো উচিত। তেহরাবের রাগে শরীর রি রি করছে, সে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে বাইরে চলে গেল। তনয়া জানে তেহরাব রাগ করেছে, হয়তো রাগের কারনে আজ কথাও বলবে না। না বলুক। সে তার সন্তানকে নিজের সবটুকু দেবে, নিজের সময়, মূল্য, ভালোবাসা সব।
সময় থেমে থাকে না। কেটে গিয়েছে একটি মাস। আজকাল নিজের মাঝে আরেকটি প্রানের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে তনয়া। কেমন নড়াচড়া করে। ইশ কি যে খুশি লাগে তখন। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। আজ বাড়িতে ছোট খাটো একটি অনুষ্ঠান। কিছু মানুষ ও আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তেহরাব আজ মহাব্যস্ত। তনয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বারবার নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছে সে। গত সপ্তাহে মেডিকেল পরিক্ষা ছিল, গত একমাসে তেহরাব কতই না চেষ্টা করল তনয়াকে পরিক্ষা দেওয়াতে, পড়তে বসাতে। কিন্তু তনয়া তার সিদ্ধান্তে অটল।৷ এমনকি পরিক্ষার দিনও তেহরাব নিজেই এডমিট কার্ড এনে তনয়ার হাতে দিয়েছিল, বলেছিল যা পাড়িস তাই দিস। তাও পরিক্ষাটা দে। উহু, সেদিনও তনয়া রাজি হয়নি। এ নিয়ে প্রচুর রাগারাগি করে তেহরাব, তনয়ার জেদ দেখে সে হতভম্ব।
সেইদিন থেকে আজ গোটা সাতদিন তেহরাব তনয়ার সাথে কথা বলে না। একটি বাক্যও আদান-প্রদান ঘটেনি তাদের মাঝে। তনয়া জাগার আগে তেহরাব চলে যায় আর ঘুমানোর পর বাড়ি ফিরে। অথচ তেহরাব জানেই না তনয়ার দিন রাত কেমন কাটছে তাকে ছাড়া। এই সপ্তাহে চেকাপের কথা ছিল, তেহরাবকে বলতে গিয়েও বলতে পারেনি। তেহরাব সে সুযোগই দেয় নি। গত দুদিন ধরে পেটের ব্যথাটা আবার উদয় হয়েছে, যখন সহ্য করতে না পারে তখন ইচ্ছে করে চিৎকার করতে। তবে সেটা কি সম্ভব? সে যে এখন তেহরাবকেও বলতে পারে না কিছু। মানসিক শারীরিক সব মিলিয়ে তনয়া একদম নাজেহাল, তাসলিমাও বড্ড চিন্তায় আছেন। এখনই এই অবস্থা, সামনে তো আরো দিন পরে আছে। আজকাল তনয়াকে চেনায় যায় না। হাড়গোড় সব দৃশ্যমান, বিয়ের পর একটু স্বাস্থ হলেও এখন তা কমে আরো নাই হয়ে গিয়েছে। চোখ মুখ শুকিয়ে কেমন একটা অবস্থা।
তনয়া বিছানায় এসে বসল, আজ সে শাড়ি পরেছে। তাও তেহরাবের জন্য। যে করেই হোক তেহরাবের রাগ ভাঙাতে হবে। এভাবে যে আর থাকা যাচ্ছে না।
ভেবেছিল নিচে যাবে তবে তা আর হল না। পেটের ব্যথা মাথা চারা দিয়ে উঠল, পেটে হাত রেখে বসে রইল বিছানায়।
“আসতে পারি?”
তনয়া চমকায়, দরজার দিকে তাকায় ব্যথাতুর দৃষ্টিতে। ব্যথায় বসে থাকতে পারছে না আর না পারছে কথা বলতে। শুধু অস্পষ্ট দেখতে পেল পরিচিত একটি মুখ। শিহাব! তার পাশেই তানহা। কাগজপত্রের ঝামেলার কারনে এখনো দেশেই রয়ে গিয়েছে তারা। তানহা শিহাবকে ঠেলে নিজেই ভেতরে চলে আসে,
“আপুউউউ কেমন আছিস?”
তানহা জড়িয়ে ধরল তনয়াকে। তনয়া ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে, ঘামছে প্রচুর। তাহনাকে হাত দিয়ে সড়িয়ে দিল, মিনমিনিয়ে শুধু বলল,
“আমার কষ্ট হচ্ছে তানহা। উফফ, কাউকে ডাক। ত ত তেহরাবকে ডাক তাকে ডাক।”
তনয়ার অবস্থা আরো খারাবের দিকে যাচ্ছে, তানহা কি করবে বুঝতে না পেরে শিহাবকেই ঘরে আসতে বলল।
“শিহাব ভাই ভেতরে আসুন,দেখুন আপু কেমন করছে।”
শিহাব থতমত খেয়ে গেল,আসতে গিয়েও থেমে গেল। নাহ তার যাওয়াটা ঠিক হবে না। উপায় না পেয়ে শফিককেই ডাকতে গেল। শফিক, ইউসুফ আর তেহরাব দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির এক কোণে। কথা বলছে তারা, শিহাব ছুটে আসলো তাদের কাছে। অস্থির হয়ে বলল,
“মামা তনয়া,ত তনয়ার শরীর খারাপ করছে। মেয়েটা কেমন করছে।”
শিহাবের বলা গুলো কর্ণপাত হতেই তেহরাব থমকে যায়, দিক বেদিকে ভুলে দৌড় লাগায় তনয়ার কাছে। শফিক আর ইউসুফও চিন্তিত চিত্তে চলে আসে ঘরে।
তানহা তনয়াকে জড়িয়ে ধরে রেখে কান্না করছে, আর তনয়া শুধু বড়বড় শ্বাস নিচ্ছে। তানহাকে কান্না থামানোর কথাটুকু যে বলবে সেই শক্তিও নেই। একদম শরীর ছেড়ে দিয়েছে সে, শুধু বিড়বিড় করছে তেহরাবের নাম। কিছু সময়ের মাঝেই ঘেমে-নেয়ে অবস্থা শেষ তার। চোখ বেয়ে পানি পরছে, অথচ মুখে টু শব্দটিও নেই।
“আপু কি হয়েছে? বেশি খারাপ লাগছে?”
তনয়া এটারও জবাব দিতে পারল না, তার শরীর কাঁপছে। তানহা তবুও নিজের শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। শব্দ করে দরজা খুলে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে আসে তেহরাব, তনয়াকে এমন অবস্থায় দেখে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে তেহরাব। নিজেই এসে তনয়াকে জড়িয়ে ধরল, তনয়ার মুখের সামনে থেকে চুল গুলো সড়িয়ে কপালে দ্রুত চুমু খেল।
“জান কি হয়েছে? কই কষ্ট হচ্ছে পাখি? এমন করছিস কেন? কথা বল।”
তনয়া শধু মিটমিট করে তাকাচ্ছে আর শ্বাস নিচ্ছে। তেহরাবের অবস্থাও পাগল প্রায়, উন্মাদ হয়ে উঠছে তার অস্থির চিত্ত। চিৎকার করে ডাকতে লাগলো বাড়ির সবাইকে,
“আব্বু,মা কে কোথায় আছো? জলদি আসো। দেখো তনয়া কেমন করছে।”
ইতিমধ্যে ইউসুফ, শফিক ও শিহাবও হাজির। তেহরাব নিজেও অস্থির হয়ে উঠছে, এই সময় তনয়াকে সামলাবে নাকি তেহরাবকে!
শফিক এসে তনয়ার কাছে দাঁড়াল,
“কি হয়েছে মা? তাকা মা, কি হয়েছে? ভাই ওকে হাসপাতালে নিতে হবে।”
শেষ কথাটা শফিক ইউসুফের দিকে তাকিয়ে বললেন, ইউসুফ কিছু বলার আগেই তেহরাব তনয়াকে কোলে তুলে নিল। তেহরাব নিজেও কাঁপছে!
“আব্বু গা গাড়ি বের করো, দ্রুত।”
ইউসুফ দ্রুত হাঁটা ধরলেন, তেহরাব তনয়াকে নিয়ে যেতে যেতে বিড়বিড়ালো,
“কিছু হবে না জান, চোখ খুল একটু।”
তনয়া পুরো শরীর ছেড়ে দিয়েছে, হয়তো এতক্ষনে নিজের জ্ঞানটাও হারিয়েছে। শিহাব শুধু এতক্ষণ দেখল তেহরাবকে। তনয়ার প্রতি তেহরাবের পাগলামি, অস্থিরতা। এতটা অস্থির বুঝি সে নিজে হতো? উহু হতো না। তার খারাপ লাগছে, চিন্তা লাগছে তবে এতটা না। হঠাৎ হাসলো শিহাব, মনে মনে বলল,
“তেহরাবের জন্যই তনয়ার জন্ম, এতটা আগলে রাখে কজন? তনয়া ভাগ্যবতী কারন সে পৃথিবীর সেরা একটি মানুষকে পেয়েছে। আর তেহরাব নিজেও কপাল করে এসেছে, যে তনয়াকে পেয়েছে।”
শিহাব তানহার দিকে তাকাল, মেয়েটা কাঁদছে।বোনের চিন্তায়। শিহাব গিয়ে তানহাকে বুকে জড়িয়ে নিল, তানহা আরো জোরে কাঁদতে লাগল,
“আপু ঠিক হয়ে যাবে তো? কি হল আপুর?”
শিহাব হাত বুলিয়ে দিল তানহার মাথায়, চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টানল।
“কাঁদে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি শান্তু হও।”
তানহা কি কান্না থামানোর মেয়ে? সে তো শিহাবের সান্নিধ্যে এসে আরো বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। শিহাব অনুভব করল তার জীবনে আসলে কোনো আফসোস নেই। সে পূর্ণ!
তানহা কম কীসে? বিয়ের এতদিন হয়ে গিয়েছে আর প্রতিটি দিন তানহা তাকে এটা সেটা রান্না করে খাইয়েছে। অবশ্য রান্না পারে না, সব নষ্টই করেছে বেশিরভাগ। শিহাবের প্রতিটা বিষয়েই খেয়াল রেখেছ তানহা। সাথে বাচ্চামো আচরণ। সুন্দর একটি বন্ডিং তৈরি হয়ে গিয়েছে তাদের মাঝে। তবে শিহাব তো তানহাকে তার অধিকার এখনো দেয়নি। কেন সে বঞ্চিত হবে?
শিহাব তানহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৪৯
“তানহা আজ যদি আমি তোমাকে কাছে চাই তাতে কি তোমার আপত্তি আছে?”
তানহার কান্না যেন সাথে সাথে থেমে গেছে, চট করে মাথা তুলে শিহাবের দিকে তাকাল। লজ্জায় গাল দুটো লালবর্ণ ধারন করেছে। শিহাব কিছু না বলেই তানহার অধরে চুমু খায়,
“ভালোবাসি কিনা জানা নেই, তবে ভালোবাসবো। আমি তোমার হয়েই থাকব।”
