Home হৃদয় রাঙানো প্রেম হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৫

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৫

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৫
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

রৌদ্রময় ঝলমলে আকাশ। সাদা মেঘেদের রাজত্ব চলছে সেথায়। থেকে থেকে সুয্যি মামাকে আড়াল করার প্রয়াস চালাচ্ছে তারা।
প্রকৃতির এই নীরব খেলায় নিজের সকল মনোযোগ সমর্পন করে দিয়ে বারান্দায় নড়চড় হীন ভাবে বসে আছে কৃশান। মাঝেমাঝে দু আঙুলের ভাঁজে থাকা সিগারেটটা এনে আয়েশী ভঙ্গিতে ঠোঁটের অধীনে নিয়ে নিচ্ছে। মনে হচ্ছে এটাই যেন তার একমাত্র কর্ম। যেখানে নিজের সমস্ত সুখ খুঁজে নিয়েছে সে।

” ভাইয়া….? ”
সহসা রুমের ভিতর থেকে ভেসে আসলো ইকরার সংকীর্ণ স্বর। বহু বছর পর ডাকটার মাঝে কিছু একটা অনুভব হলো কৃশানের। যেমনটা অনুভব হয়েছিল প্রথম বার বোনের মুখে ভাইয়া ডাক শুনে। সে শান্ত স্বরে জাবাব দিল,
” এখানে। ”
কণ্ঠ অনুসরণ করে ধীর পায়ে বারান্দার দিক এগোলো ইকরা। কোনোরূপ কথা বার্তা হীন গিয়ে বসে পড়ল কৃশানের পাশে। কিছুটা হকচকাল ছেলেটা। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ কিরে মতলব কি? হঠাৎ এই অধমের কাছে! ”
তার ত্যাড়া কথায় মাথা ঘামাল না ইকরা। নিজের বাঁ হাতটা ভাইয়ের সামনের ধরে বলল,
“ দেখো, এখনও কি সুন্দর লাগছে! মনে আছে এই ব্রেসলেটের কথা? ”
ছ’বছর আগে নিজের দেয়া সেই পুরনো ব্রেসলেট টা এখনও নিখুঁত দেখে কিছুটা অবাক হলো সামনের মানব। কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে রইল সেদিকে। পরপর আকাশের পানে তাকিয়ে বিকৃত করার মতো হাসলো। বলল,

“ এই কমদামি জিনিস এখনও রয়ে গেছে! ”
“ এভাবে কেন বলছো! এটা আমার অনেক পছন্দের। ”
” আগে তো তোর বড় ভাইয়ের দেয়া বড় বড় উপহার গুলোই পছন্দ করতিস! ”
মুখটা ছোট হয়ে গেল রমণীর। বলল,
“ তখন কি আমি অতকিছু বুঝতাম নাকি! যেটা একটু বেশি চকচক করত ঐটাকেই সুন্দর ভাবতাম। ”
“ গিফ্টের ক্ষেত্রে নাহয় অবুঝ ছিলি তবে সব ক্ষেত্রেই তো তোর বড় ভাই বেস্ট ছিল। শুধু তোর কাছে না সবার কাছেই এবং সব ক্ষেত্রে মির্জা বাড়ির বড় ছেলে বেস্ট। বিশ্বের সবচেয়ে পারফেক্ট ছেলে হলো আলভি মির্জা। ”
“ তুমিও তো বেস্টই ছিলে হঠাৎ করে কেন এমন হয়ে গেলে। আগেরমতো থাকলে তো তোমাকেও সবাই ভালো বলতো। যেমনটা আগেও বলেছিল। ”
“ আমার বেস্ট হওয়া বাইরে অব্দিই সীমাবদ্ধ ছিল। মির্জা বাড়িতে আমি লাফাঙ্গা সারাজীবনের অযোগ্য ছিলাম!.. থাক, ওসব অতীত বাদ দে। বর্তমানে আমি চিলে আছি। একেবারে বিন্দাস! ওসব মনে করার সময় নেই। এখন কি বলতে এসেছিস সেটা বল। ”

” আমাকে ক্ষমা করে দাও ভাইয়া, আমি তখন অতকিছু না বুঝেই তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আমি বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি বাবার পর তুমিই আমার একমাত্র ছায়া। মাদ্রাসায় আসতে যেতে কোনো ছেলে কখনো আমার দিক চোখ তুলে তাকায়নি কারণ তুমি ছিলে আড়ালে। আমি ধীরে ধীরে সব বুঝেছি। ইউ আর দা বেস্ট ব্রাদার। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ভাইয়া। ”
শেষ দিকে টপটপ করে পানি গড়াতে লাগল মেয়েটার গাল বেয়ে। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পাথর বনে গেল কৃশান। বোনের ক্রন্দনরত মুখ পানে চেয়ে কেমন যেন অসস্তি হতে লাগল। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। সময় নিয়ে মোলায়েম স্বরে বলল,

“ কান্না থামা বনু আমার, আমি তোর উপর রেগে নেই। আর নাতো তোর কোনো কান্ডে আমি কষ্ট পেয়েছি। ”
নাক টেনে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালাল ইকরা। আজকে কেন জানি কথায় কথায় তার চোখে পানি এসে যাচ্ছে। যার সাথেই কথা বলতে যাচ্ছে একই কান্ড ঘটছে। মনে হচ্ছে মানুষগুলোর সাথে আজকের পর অনেক দুরত্ব বেড়ে যাবে।
বহু বছর পর কৃশানের মুখ থেকে বনু ডাকটা শুনে কান্নার মাঝেও ভিতরে একটা শান্তি অনুভব করল মেয়েটা। বুঝতে পারল কৃশান তার উপর রেগে নেই। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাল সে। বলল,
“ আমার একটা কথা রাখবে ভাইয়া? ”
টানটান ভ্রু যুগল ওমনিই কুঁচকে গেল ছেলেটার। সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
“ তাহলে এর জন্যই এতক্ষন এই আদর্শ বোনের ডায়লগ দিচ্ছিলি? ”
“ ধুর ভাইয়া…! সবসময় এসব বলে মনটা খারাপ করে দাও তুমি। আমার কথাগুলো তোমার কাছে ডায়লগ মনে হলো? ”
নাক ফুলিয়ে বলে উঠল ইকরা। পৃষ্ঠে কৃশান বলল,

“ আচ্ছা বল কি কথা রাখতে হবে। বলে তাড়াতাড়ি ভাগ এখান থেকে। আমার আবার মির্জা বাড়ির লোকেদের ভালো রূপ বেশি সহ্য হয়না। ”
কৃশানের ত্যাড়া কথাগুলো নিঃশব্দে হজম করে নিল মেয়েটা। নিজের কাজে মনোযোগ দিল। অকপটে আবদার ছুঁড়ল,
” কথা দাও কখনো হুমায়রাকে কষ্ট দেবে না। ”
বোনের উপর ঠান্ডা দৃষ্টি নিক্ষেপ করল শক্ত মানব। মানস্পটে ভেসে উঠল হুমায়রাকে কষ্ট দেয়ার পর নিজের সাথে হওয়া প্রত্যেকটি অসহ্যকর দৃশ্য। ভিতরের সত্ত্বা হতে জবাব এলো,
“ নিজের আপন সত্ত্বাকে কেউ কষ্ট দেয় নাকি? ওঁকে কষ্ট দেয়ার পর আমি নিজেই তো আজকাল দিশেহারা হয়ে যাই! ”
শব্দগুলো ভিতর অব্দিই সীমাবদ্ধ রইল। মুখে বলল,

“ তোর বান্ধবী কে আমি শুধু শুধু কষ্ট দেই না। ওঁ নিজের দোষেই আঘাত প্রাপ্ত হয়। ”
“ অত কিছু আমি বুঝিনা। তুমি আমাকে কথা দাও তুমি কখনো ওঁকে কষ্ট দেবে না। ”
“ চেষ্টা করবো। এখন যা এখান থেকে। ”
সময় নিয়ে উত্তর করল ছেলেটা। গ্রহণযোগ্য জবাব শুনে ঠোঁটে হাসি ফুটল ইকরার। বসা থেকে উঠে দাঁড়াল সে। স্থান ত্যাগ করতে করতে বলল,
“ শুকরিয়া আমার প্রিয় ভাইয়া। ”
কিছুদূর যেতেই সহসা ডেকে উঠল কৃশান,
“ এই ইকরা.? ”
“ হুম ভাইয়া.? ”
“ তোর বান্ধবী কই? ”
“ ওঁকে আরিবা আপু মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে মনে হয়। ”
“ শেষ হলে রুমে আসতে বলিস তো। ”
“ আচ্ছা। ”

“ হাতের মাঝখানে কৃশান ভাইয়ার নাম লিখে দেই? ”
আরিবার প্রশ্নে সাথে সাথেই নিষেধ করতে নিচ্ছিল হুমায়রা। কিন্তু পাশে থাকা আয়াতকে লক্ষ্য করতেই মত পাল্টে ফেলল। নিচু স্বরে বলল,
“ দাও। ”
সম্মতি পেয়ে দেরী করল না আরিবা। ফর্সা হাতের তালুতে গুটিগুটি অক্ষর লিখতে লাগল,
“ কৃশান মির্জার….”
বাকিটুকু লিখার আগেই আগেই সেখানে উপস্থিত হলো ইকরা। এসেই অর্ধপূর্ণ লিখাটা দেখে আরিবার থেকে মেহেদিটা নিয়ে নিল। বলল,
“ দে এইটুকু আমি সম্পূর্ণ করে দিই। ”
“ আচ্ছা নে। ”
ইকরাকে সাইড দিয়ে সরে বসল আরিবা। পরপর তিন জোড়া উৎসুক দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে রইল হুমায়রার হাতে। পলকের মাঝেই দুটো শব্দ লিখে লেখাটুকু সম্পূর্ণ করল। অপ্রত্যাশিত শব্দদ্বয় দৃষ্টিগোচর হতেই আর্তনাদ করে উঠল হুমায়রা,

“ এটা কি লিখলি! ”
“ যা লিখেছি একদম পারফেক্ট। কি বলিস তোরা? ”
চোখ দিয়ে ইশারা করে আরিবা ও আয়াতের মতামত জানতে চাইল ইকরা।
“ একদম পারফেক্ট,কি মিষ্টি লাগছে লিখাটা। হায়! ”
প্রতিউত্তরে উচ্ছাসিত কণ্ঠ মিলল আরিবার। তবে আয়াতের পক্ষ থেকে থেকে কোনো কমপ্লিমেন্ট এলো না। সে গোমড়া মুখে বসে রইল।
“ আচ্ছা এখন যা, ভাইয়া তোকে যেতে বলেছি। ”
“ এটা যদি উনি দেখে? ”
“ দেখলে কি হবে? যা সত্য তাই লিখেছি। তুমি বেশি পকরপকর করো না তো সখি। তাড়াতাড়ি যাও ভাইয়া ডাকছে যে..! ”
একপ্রকার ঠেলেঠুলেই পাঠিয়ে দিল মেয়েটাকে। মনের ভিতর হাজারও সংকোচ চেপে রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিল সে।

“ আপনি নাকি আমায় ডাকছিলেন? ”
মিহি স্বরে ফোনে ডুবে থাকা কৃশানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ল হুমায়রা। কাঙ্ক্ষিত রমণীর গলা শুনতেই মোবাইল থেকে চোখ সরিয়ে সেদিকে চাইল কৃশান। বলল,
“ হুম। কাজ আছে তোকে দিয়ে। ”
বলেই বিছানা ছেড়ে ওয়ারড্রপের নিকট হাঁটা ধরল। পরপর ড্রয়ার থেকে নিজের কতগুলো শার্ট,প্যান্ট ও জ্যাকেট বের করল। সেগুলো হুমায়রার সামনে এনে বাড়িয়ে দিল। বলল,
“ এইগুলো ধোয়ে দে। ”
এই প্রথম মানুষটাকে নিজের কাজ করার আদেশ দিতে দেখে কিছুটা অবাক হলো হুমায়রা। বিয়ের পর থেকে এই অব্দি সে যতো বারই কৃশানের কাজে হাত লাগাতে চেয়েছে তত বারই মানুষটার রাম ধমক খেয়ে পিছিয়ে গেছে। আজকে হঠাৎ কি হলো? যাই হোক অত কিছু ভেবে দেখতে গেল না মেয়েটা। ডান হাত বাড়িয়ে কাপড়গুলো নিতে চাইল।

“ ঐ হাতে কি হয়েছে? ”
এক হাতে কুলাতে না পারা সত্বেও চেষ্টা করতে দেখে কিছুটা ধমকের সুরে বলল কৃশান।
“ কিছুনা, ঐ হাতে মেহেদি দিয়েছি তাই। ”
তড়িঘড়ি করে সাফাই গেয়ে বলে উঠল হুমায়রা। মেয়েটার চেহারায় স্পষ্ট অসস্তি। বাঁ হাত তখনও পিছে লুকানো। দৃশ্যটা চোখে পড়তেই ভ্রু কুঁচকে গেল কৃশানের। সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
“ মেহেদি দিলে হাত লুকিয়ে রাখার কারণ কি? ”
“ আসলে.. ”
“ হাত সামনে মেল। ”
স্বামীর শক্ত আদেশে কিছুক্ষন চুপ মেরে রইল হুমায়রা। কিভাবে হাতটা মেলে ধরবে মানুষটার সামনে- ভাবতেই লজ্জা লাগছে। মেয়েটার ভাবনার মাঝেই সহসা হাতের কাপড়গুলো বিছানায় ছুঁড়ে তার বাহু ধরে টান মারল কৃশান। ওমনিই তার ছোট্ট দেহ খানা চলে এলো স্বামীর একদম নিকটে। সংকীর্ণ আঁখি যুগল তুলে সামনের মানবের পানে চাইল রমণী। মানুষটার চোখ তখন জোড়া তার হাতের তালুতে নিবদ্ধ।

“ কৃশান মির্জার লক্ষ্মী বউ ”
লেখাটা বার কয়েক মনে মনে উচ্চারণ করল কৃশান। পরপর তাকাল হাতের মালকিনের দিকে। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ তুই লক্ষ্মী.? নিজের গুণগান নিজেই গাইছিস? ”
“ এটা ইকরা লিখে দিয়েছে। আমি কিছু বলিনি। ”
মাথা নুইয়ে কাচুমাচু ভঙ্গিতে বলল হুমায়রা। কিছুক্ষণ তাকে পূর্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করল কৃশান। পরপর বলল,
“ আচ্ছা যা এখন স্বামীর খেদমত করে বান্ধবীর কথা প্রমাণ কর। ”
সাথে সাথেই কোনোদিক না তাকিয়ে বিছানার থেকে কাপড়গুলো নিয়ে ওয়াশরুমের দিক হাঁটা দিল মেয়েটা।

ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করে বালতি ভরে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরোল হুমায়রা। সেদিকে চোখ পড়তেই কিছুক্ষন মেয়েটার ঘর্মাত্বক ক্লান্ত মুখপানে তাকিয়ে রইল কৃশান। বুকের কোথায় যেন হালকা চিনচিন ব্যাথার সঞ্চার হলো। তবে তা বেশিক্ষণ টিকল না। হুমায়রাকে রুমের বাইরে যেতে দেখেই ধমকে উঠল,
“ এই কোথায় যাচ্ছিস? ”
তৎক্ষনাৎ চলন্ত পদ যুগল থেমে গেল মেয়েটার। ফিরে চাইল স্বামীর পানে। বলল,
“ ছাদে যাচ্ছি কাপড় গুলো মেলে দিতে। ”
“ দরকার নেই, দে আমারগুলো আমিই দিয়ে আসি। তুই রুমে থাক আরও কাজ আছে তোর। আমি না আসা অব্দি বেরোবি না বলে গেলাম। ”
বাধ্যের মতো মাথা দোলালো হুমায়রা। অতঃপর আদেশ মোতাবেক রুমে বসে রইল। বাইরে থেকে লোকজনের হালকা শব্দ শুনা যাচ্ছে। হয়তো ইকরা শ্বশুড় বাড়ির মানুষজন এসে পড়েছে। কিছুক্ষন বাদেই তার প্রিয় সখি তাকে ছেড়ে চলে যাবে- ভাবতেই বুক ফেটে যাচ্ছে।
মিনিট দশেকের মধ্যেই রুমে ফিরে আসলো কৃশান। তাকে দেখতেই বসা থেকে উঠে পড়ল হুমায়রা। বলল,

“ আর কি কাজ করতে হবে? ”
“ অনেক কাজ আছে। আজকে রুমের বাইরে যাওয়া নেই তোর। ”
“ আচ্ছা আপনি বলুন আমি করে দিচ্ছি। ”
জবাব শুনে কিছুটা স্তব্ধ হয়ে গেল কৃশান। এতগুলো কাপড় ধোঁয়ার পরেও আবার কাজের কথা শুনে এমন ঠান্ডা আচরন মোটেও আশা করেনি সে। অথচ মেয়েটার মুখ জুড়ে আগ্রহের ছাপ দেখা যাচ্ছে। তার জানা মতে এখনকার বউরা তো একটু কাজ করেই হাপিয়ে জায়। উল্টো স্বামীকে দিয়ে কাজ করায়- এইগুলোই তো শুনেছে বিবাহিত বন্ধুদের থেকে। সবাই’ ই বলে বিয়ে-সংসার এসবে ঢুকলেই জীবন শেষ। তবে তার ক্ষেত্রে সব অন্যরকম হচ্ছে কেন? সবকিছু কেমন যেন শান্তিময়! তবে কি সামনের রমণী সবার থেকে আলাদা? কি যেন শব্দটা? লক্ষ্মী…
ওঁ কি আসলেই লক্ষ্মী বউ? বখাটে কৃশানের লক্ষ্মী বউ!
“ কিছু বলছেন না যে? ”
হুমায়রার কণ্ঠে সম্বিৎ ফিরল কৃশানের। অপ্রস্তুত চিত্তে বলল,

“ হ্যাঁ, কি বলবো..? ”
“ কি কাজ যেন দিবেন বলেছিলেন! ”
সময় নিয়ে কিছু একটা ভাবল কৃশান। পরপর সিদ্ধান্ত নিল কাজ ছাড়া অন্য কোনো অজুহাতে রুমে রাখবে হুমায়রাকে। তবুও ঐ লাফাঙ্গার সামনে পড়তে দেয়া যাবে না।
“ চোখে ড্রপ দিয়েছিলি তুই? ”
প্রশ্নটা শুনতেই চমকে গেল রমণী। পরক্ষনেই চেহারায় অপরাধী ভাব ফুটে উঠল। ওমনিই যা বুঝার বুঝে নিল কৃশান। বলল,
“ তোকে তো মেরে শুটকি বানানো উচিত। এই ওয়েট, তুই কি কোনোভাবে আবারও আমার কোলে চড়ার প্ল্যান করছিস? ”

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৪

” হায় আল্লাহ, মোটেও না। আমার মনে ছিল না। ”
“ আচ্ছা মানলাম, এবার যা চুপচাপ শুয়ে পড়। আমি ড্রপ দিয়ে দিচ্ছি। ”
দ্বিমত করল না মেয়েটা। চুপচাপ গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। অতঃপর তার চোখে ড্রপ লাগিয়ে দিল কৃশান। কাজ শেষ হতেই স্ত্রীর বন্ধ চোখের দিক তাকিয়ে বলল,
“ এভাবেই শুয়ে থাক। নড়লে খবর আছে। ”

হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ২৫ (২)

2 COMMENTS

Comments are closed.