Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৭

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৭

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৭
সাঞ্জেনা শাজ

গাড়ি থামার সাথে সাথেই পরপর গাড়ি থেকে হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে এলেন রিমা বেগম আর রায়হান। তারাও এসে আদনান, কায়েস আর আশিকের সামনে আসতে আসতে দেখলো তারা উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে।
দাঁড়িয়ে গেল তারা। ওপাশে মেহরাদ শুভ্রতা আড়ালে, দেখা যাচ্ছে না ভালো করে।
“শুভ্রতা কোথায়? আমার মেয়ে কোথায়?” বলেই রিমা বেগম আগে ওঁদের সড়িয়ে সামনের দিকে পা বাড়াতেও গিয়েও থমকে গেলেন অযাচিত এক দৃশ্য দেখে। অবাক তিনি বাকরুদ্ধ। আবছা আলো অন্ধকারে যা বুঝলেন তাতে তার মস্তিষ্ক টগবগ করে উঠলো। মনে হলো মাথায় বাজ পড়েছে। স্নায়ুতন্ত্র গুলো লাভার ন্যায় টগবগ করে উঠেছে।
মেহরাদ এখনো শুভ্রতার ঠোঁটে ঠোঁট জোড়া চেপে ধরে আছে। ক্লান্ত শুভ্রতা এ পর্যায়ে নেতিয়ে পড়ে আছে মেহরাদের বাহুতে। তার মস্তিষ্ক এতক্ষণে এটা অন্তত ধরতে পেড়েছে যে সেফ জোনে আছে। তার মেহরাদ ভাইয়ের কাছে আছে।
শুভ্রতাকে শান্ত স্থীর দেখে মেহরাদ ছেড়ে দিলো ওঁকে। বুকের কাছটায় চেপে ধরলো শুভ্রতার মাথাটা নিগূঢ় ভাবে। তার বুকের মধ্যকার হৃৎযন্ত্রটার ধ্বক্ ধ্বক্ শব্দ শুভ্রতার কানে বাজছে।

“এই ছেলে এই! নোংরামি শুরু করেছো? ছাড়ো ওঁকে! ” রাগে কাপতে কাপতে এগিয়ে আসতে আসতে বললো রিমা খান।
নির্জীব শুভ্রতা মেহরাদের বাহুতেই কেপে উঠলো মা’য়ের আকস্মিক ধমকে। মেহরাদের থেকে টালমাটাল পায়ে দূরত্ব বাড়িয়ে মা’য়ের আগমন পথের দিকে তাকালো। পালিয়ে এসেছিলো সে না জানিয়ে! ভয় দানা বাঁধলো মনের ভিতর। কুকড়ে গেল কিছুটা।
মেহরাদের চোয়াল শক্ত হলো। নাক ফুসে উঠলো। দাতে কপাটি চেপে ঘুরে দাড়ালো সামনের দিকে। সামনে তাকিয়ে দেখলো আপাতত সকলের পদক্ষেপ তাদের দিকেই। রিমা খান এগিয়ে আসছেন শুভ্রতার দিকে। ভালো করে খেয়াল করে দেখলো, শুভ্রতা গুটিয়ে যাচ্ছে ভয়ে।
“শুভ্রতা তুমি ঠিক আছো? কাকে জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছো? আজ এ বিপদ বাধতো যদি এমন না করতে?” বলতে বলতে তিনি শুভ্রতার হাত ধরতে যাবে বাধা দিলো মেহরাদ। শুভ্রতাকে টেনে তার পাশে দাড় করিয়ে রিমা খানের উদ্দেশ্যে শক্ত কন্ঠে বললো,

“ভয় পাচ্ছে আপনাকে ও। ছুবেন না ওঁকে। ”
রিমা খান অবিশ্বাস্য নজড়ে তাকালো মেহরাদের দিকে। তার মেয়ে তাকে ভয় পাচ্ছে! ছেলেটা মেয়েটাকে ছুতে পর্যন্ত দিলো না!
“আমি ছুঁবো না, আমার মেয়েকে? তা-ও তোমার কথায়?”
“মেয়ে আপনার হলেও মা হওয়ার মতো কিছু আপনি করেন নি। কোন সাহসে ওঁকে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন? ঠিক কোন সাহসে!!!”
মেহরাদের ভারিক্কি শক্ত কথার ধাচে ফুসে উঠলো রিমা খান। বেয়াদব ছেলে! আবার তার সাথে বেয়াদবি করছে! কৈফিয়ত চাইছে!

“কৈফিয়ত চাও তুমি আমার কাছে? বেয়াদব ছেলে! তুমি কোন সাহসে ছুয়েছো ওঁকে? ছাড়ো ওঁকে। এক্ষুনি ছাড়বে।”
“আপনার কথায়? বিয়ে করা বউ আমার। আগে বলেন, কোন সাহসে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন ওঁকে? ”
“একদম এই বিয়ের কথা মুখে আনবে না। এই বিয়ে আমি মানি না। তোমার মতো বেয়াদব ছেলে ওর ব্রেনওয়াশ করিয়েছো। তাই মেয়েটা এরকম করছে। ” বলেই তিনি শুভ্রতার এক হাত চেপে ধরলেন নিজের দিকে নিয়ে আসতে। কিন্তু মেহরাদ শক্ত ভাবে ধরে আছে আরেক হাত। শুভ্রতা থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে শুধু। দু’পাশের কথা তার কান পর্যন্ত পৌছাচ্ছে কিন্তু ব্রেনে আটছে কি-না সন্দেহ!
আলতাফ তালুকদার আর আকরাম তালুকদার এগিয়ে এলেন ওদের মাঝখানে। শুভ্রতাকে সুস্থ দেখে রবের শুকরিয়া আদায় করলেন।

“মেয়েটা সুস্থ আছে এটাই অনেক। তোমরা এসব রাখো এখন। ওকে নিয়ে আগে বাড়ি পৌছা যাক।” আলতাফ তালুকদার বললেন।
কায়েস নিয়ে চলে গেছে দুটো ছেলেকে। যাওয়ার সময় আদনানের সাথে কেসের বিষয়ে টুকিটাকি কথা বলার জন্য ওকেও গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে। ওদের ফেমিলি মেটারে তাদের থেকে কি লাভ?
আশিক এদিকেই দাঁড়িয়ে, তার পাশে রায়হান। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুভ্রতার দিকে। সেদিনকার হসপিটালের মতো তার হৃদয়টা আজও অতিরিক্ত ধুকপুক ধুকপুক করছে। কিন্তু কেন? সে আজও ধরতে পারলো না। কিন্তু এই মেয়েটার বিপদের কথা শুনলেই তার সব এলোমেলো হয়ে যায়। সব কেমন যেন থমকে যায়। এই থমকে যাওয়া কে কি বলে? এই যে মেহরাদের সাথে মেয়েটাকে দেখলে ভিতরে জ্বলন অনুভূত হয় সেটা কি?
সে তো ছোট না! তাহলে এগুলো তার বুঝের বাইরে কেন? সে কি বুঝেও বুঝতে চাইছে না? না-কি কিছু মানতে পাড়ছে না? সে-ও কি তার ফুপির মতো কাজটা করে ফেললো? কিন্তু তাদের তো প্ল্যানিং ভিন্ন!

“আগে উনাকে জবাব দিতে বলো বাবা। উনি শুভ্রাকে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন কেন? ঠিক কোন সাহসে? আজ আটকে রাখার প্রশ্ন না আসলে ও এরকম স্টেপ কখনোই নিতো না। ” রিমা খানের চোখে চোখ রেখে সিনা টান টান করে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো মেহরাদ।
“আর আমি যদি বলি, তোমার জন্য ও এরকম একটা স্টেপ নিয়েছে। তখন? তখিন তুমি কি বলবে? হ্যাঁ, তোমার জন্যই তো বেড়িয়ে গিয়েছে। তা না হলে কেন এমন পাগলামো করবে? কিসের অভাব ছিলো ওখানে ওর? তুমি ছেলে ওর মাথা নষ্ট করেছো। ” রিমা বেগম একই ভাবে শক্ত কন্ঠে বলে উঠলেন মেহরাদের উদ্দেশ্যে।
“ভালোবেসেছি ওঁকে। সের্ফ ভালোবেসেছি। কোন মাথা টাথা নষ্ট করিনি। বুঝতে পেড়েছেন আপনি? ওর স্বামী হই আমি, স্বামী। কাগজে কলমে অক্ষরে লিখা স্বামী !”
“তোমাকে আমি আমার মেয়ের জামাই হিসেবে মানি না। এই বিয়েই তো মানি না! আবার জামাই!”
“আপনাকেও আমি শাশুড়ী হিসেবে মানি না। কখনো মানবোও না। আপনার বিয়ে মানা না মানায় কি এসে যায়!”
“এই বেয়াদব ছেলে, আবার মুখে মুখে তর্ক করছো! ভাই ওকে থামতে বলুন দয়া করে। বেয়াদবির সমস্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলছে ও। ”

“আহহ্! মেহরাদ! থামো তোমরা এবার। আর ছোট বৌমা তুমিও চুপ করো। মেয়েটাকে বাড়ি আসতে দাও। ”
“নাহ ভাই, আজ এখানেই এ বিষয় শেষ করতে দিন। এই বিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় কোন কথা আমি শুনবো না। কারো কাছ থেকেই না। আমার মেয়েকে আমি যার সাথে খুশি তার সাথে বিয়ে দিবো কিন্তু এই বিয়ে কিছুতেই মানবো না। দরকার পড়লে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো। কিন্তু এই ছেলের কাছে! কক্ষনো না!”
মেহরাদের মস্তিষ্ক যেন আগুন ধরে গেলো। মাথার চুল গুলোও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। কটমট করে উঠলো তীক্ষ্ণ চোয়াল খানা। গর্জে উঠে কিছু বলবে তার আগেই একটা দুর্বল অথচ দৃঢ় কন্ঠ সকলের কর্নকোহর হলো,
“আপনার হাতের পুতুল পেয়েছেন আমায়? আমার কোন ইচ্ছে নেই? ভালো লাগা ভালোবাসা নেই? মানুষ মনে হয় না আমায় আপনাদের? কি শুরু করেছেন এগুলো? একজন বন্ধি করে রাখতে চাইছেন আরেকজন যখন তখন রাগ দেখিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলছেন। ”
একে একে সকলের চাহনি গিয়ে বিদ্ধ হলো শুভ্রতার উপর। রিমা খান ফুসে উঠলো,
“এই বয়সে কিসের ভালো লাগা ভালোবাসা তোমার? থাপড়ে দাত ফেলে দিবো বেয়াদব! সেদিনের মতো যদি আজও বেহায়াপনা করেছো!”

“সতেরো প্লাস বয়সেও আমি অবুঝ, আর আট বছর বয়সে খুব বুঝের ছিলাম, তাই-না? তখন তো খুব বুঝতাম!” থমকে যাওয়া চেহারায় মা’য়ের কাছে প্রশ্ন ছুড়লো শুভ্রতা। আপাতত তার জ্ঞান ব্লকড। আপনা-আপনিই মুখ চলছে। হুশে থাকলে কখনোই এসব বলতে পাড়তো না। তবে, এরকম কিছু কথা বলার জন্য হলেও মাঝে মধ্যে সকলকে বেহুশে থাকা প্রয়োজন! আত্নার শান্তি এতে।

“তখনকার কথা আসছে কেন? তখন কার কথা তুলে তোমারও আপমান করা বাকি আছে আমায়? ”
“আপমান করছি না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম। আমি জীবনে একজনকেই ভালোবেসেছি। মৃত্যু পর্যন্ত তাকেই বেসে যাবো। সংসার করলে তারিই করবো। এর আগে পিছে কিচ্ছু জোর করে করাতে পাড়বেন না আপনি আমার দ্বারা। এখন জোর করবেন না-কি আটকে রাখবেন সব আপনার ইচ্ছে! আপনি মা হিসেবে দোহাইয়ে সবই করতে পারেন। কিন্তু আমি স্থীর এক জায়গাতেই। ” দুজনের হাত থেকে নিজের হাত দুটো ছাড়িয়ে নিয়ে ব্রিজের সেফ ওয়ালের সাথে লেগে দাঁড়িয়ে বললো শুভ্রতা। মেহরাদ আর রিমা খানের থেকে দূরত্ব কিছুটা। মেহরাদের চিত্ত জুড়ে এক শীতল মিষ্টি হাওয়া দোলা দিয়ে গেল। আবেগপ্রবণ মন শুভ্রতাকে বক্ষপিঞ্জরায় বন্ধি করতে এগোবে এর আগেই রিমা বেগমের কর্কশ কন্ঠে আবারও ওনার মুখোমুখি হলো।
“তুমি এসব কি বলছো? আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নিয়ো না শুভ্রতা! আমার রাগ সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই।”
“আপনি ওঁকে আবারও ভয় দেখাচ্ছেন! আপনার রাগ সম্পর্ক ধারণা নিয়ে ওর কেন আমাদের কারোই কোন প্রয়োজন নেই। আজ ওর ডাল হয়ে আমি দাঁড়িয়ে! মেপে কথা বলুন, সাবধান, সাবধান । ” হুশিয়ার কন্ঠে বলে উঠলো মেহরাদ।

“তুমি চুপ থাকো। তোমার জন্য আজ এই অবস্থা আমাদের মধ্যে। নির্লজ্জ ছেলে! নিজের ছোট বোনের মতো মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে লজ্জা করেনি।”
“নাহ একদম করেনি। বাচ্চার মা বানাতেও করবে না। আপনার সমস্যা?” দাত কটমট করে বলে উঠলো মেহরাদ। আবারও একি স্বরে পিছনে বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রায়হানকে দেখিয়ে বললো,
“আপনার দুর্নীতিবাজ ভাইপো বুঝি জন্ম থেকে আপনার মেয়ের জামাই হওয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে? ও ভাই হয় না? না-কি জন্ম থেকেই বাগদত্তা!”
সিরিয়াস এ মূহুর্তেও একটু দূরে থাকা আশিক হেসে দিলো মুখ চেপে। ভাগ্যিস কেউ দেখেনি!
রিমা বেগমের রাগের পারদ কেবল বেড়েই যাচ্ছে এ ছেলের নির্লজ্জতায়। ইচ্ছে করছে দুটো চড় বসিয়ে দিতে মেয়ের গালে। তার বাইপো টা কি খারাপ!যে এইরকম নির্লজ্জ বেহায়া ছেলেকে ভালোবাসতে গেলো! আর বাসলেই কি? সে এসব মানবে না মানে মানবে না, ব্যাস!
“মেহরাদ! লিমিট ক্রস করছো তুমি। গুরুজনেরা দাঁড়িয়ে সামনে, ভুলে গিয়েছো?” ছেলেকে ধমকে উঠলেন আলতাফ তালুকদার। আকরাম তালুকদারও ভাতিজার কথায় মুখ চেপে ধরেছেন। হাসছেন না-কি কে জানে!
“যার তার সামনে মুখ সামলাতে পাড়বো না বাবা। গুরুজনদের মতো বেহেভ করতে বলো তাহলেই গুরুজনদের মতো ট্রিটমেন্ট পাবে৷ কথায় আছে না, যে যেমন তার সাথে তেমন! ”
এরকম ভাবে একের পর এক কথার কাউন্টার এট্যাক চলতেই থাকলো। কেউ কাউকে ছাড়া ছাড়ির নাম নেই।

শুভ্রতার নিজেকে ভিন্ন গ্রহের প্রানির মতো লাগছে নিজেকে। তাকে নিয়ে এতো তর্কাতর্কি আলোচনা সব বিষাক্ত ঠেকছে। এগুলো থেকে মুক্তি চাই তার। কিভাবে মেলবে মুক্তি? কোথায় গেলে মিলবে? সে-ও তো মানুষ! এইরকম ছোট্ট একটা বয়সে আর কতো এগুলো নেওয়া যায়! একজন তার মা আরেক জন তার ভালোবাসা।
তার নিজেকে অথৈয় সাগরে ভাসমান কোন কীটপতঙ্গ মনে হচ্ছে। যে বাচার জন্য হাবুডুবু খাচ্ছে অতল গভীর সমুদ্রে।
পিছু ঘুরে ব্রিজের সেফটি দেয়ালের উপরে হাত রেখে নিচের দিকে ঝুকলো শুভ্রতা। নিচের বহমান পানি গুলো স্রোতের মতো তাকে আহবান জানান দিলো। চোখ দুটোই কেবল জ্বল জ্বল করা জলরাশি। তাকে তো সেখানে থাকার কথা! সেখানেই তো ভাসছে সে! কিন্তু…
ব্রিজের বুক সমান সেফটি ওয়ালের মধ্যখানের ডিজাইন করা লেয়ারের মধ্যে এক পা দিলো শুভ্রতা। ঐ তো নিচে পানি দেখা যাচ্ছে। সে এতো উপরে কেন? পানিতে না থাকলে সে বাচার চেষ্টা করবে কিভাবে? তাকে তো এসব থেকে বাচতে হবে! চেষ্টা করতে হবে বাচার!

মানসিক বিপর্যস্ত শুভ্রতা কোন এক ঘোরের মধ্যে দেয়ালের উপরে উঠছে। তার ভিতরে সব কিছু কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। নিজেকে অনুভূতি শূন্য এক জড়বস্তু মনে হচ্ছে। যার কাজ সকলের জীবনে ঝড় তোলা। সে-ই সকলের সকল সমস্যা, সকল ঝায় ঝামেলার কারণ। এসব কিছু থামলে ভালো। এভাবে বাঁচা যায় না। সম্ভব না।
পানিতে ফোবিয়া থাকা মেয়েটাকে আজ পানিতে খুব টানছে। এসব পারিবারিক কোলাহল, তর্কবিতর্ক, ঝায় ঝামেলা থেকে বাঁচতে পানি তার একমাত্র সাহারা মনে হচ্ছে। সেখান থেকেই বুঝি সে বাচার উপায় খুজে পাবে!
তর্কাতর্কি কথা কাটাকাটিতে ব্যাস্ত সকলে কেউ খেয়াল করলো না শুভ্রতার অবস্থান। সকলের ধ্যান এক বিষয়ে। শুভ্রতা আর মেহরাদের বিয়ে নিয়ে। কায়েসের সাথে কথাবার্তা সেড়ে আসা আদনান এদিকটায় দূর থেকে আসতে আসতে খেয়াল করলো শুভ্রতার অবস্থান। আতংকে চোখ দুটো বড় বড় করে ফেললো সে। চেচালো শুভ্রতার নাম ধরে। কিন্তু দূরে বিধায় কেউ শুনলো না। সে দৌড়ে ছুটলো ওর জন্য।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৬

“উমমম, কিভাবে বাঁচা যায় বলুন তো এসব থেকে? আজ তো ঐ লম্পট গুলো থেকে বেঁচে গেলাম! কিন্তু, এই যে এই মানসিক যে চাপটা! সারাবছর এটা কিভাবে সহ্য করবো? এটা থেকে কিভাবে বাঁচা যায়? কোন পাড়ে গেলে শান্তিতে বাঁচতে পাড়বো বলুন তো মেহরাদ ভাই? আপনি জানেন! আমি বিপদে পড়লে সবসময় সবার আগে আপনার কথা মনে পড়ে।তাই আজও আপনার কথাই মনে পড়লো। একটা বুদ্ধি দিন না…. ” স্বাভাবিক ভাবে হরবর করে কথা গুলো বলতে বলতে একদম বুক সমান দেয়ালটা বেয়ে উপরে উঠার শেষ ধাপে পা রাখলো শুভ্রতা। তার অবস্থা এমন হয়ে আছে বর্তমানে — শুধু মানসিক শান্তি চাই তার, ব্যাস! সে অনুভূতিহীন নিশ্চল কন্ঠে আবারও বলে উঠলো ,
“এখান থেকে নিচে পড়লে তারপর কোন পাড়ে গেলে একটু স্বস্তি পাওয়া যাবে বলুন তো!নিজেকে জীবিত মনে হবে! আগে পড়ে দেখি হেহ…… ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৮