Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৯

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৯

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৯
সাঞ্জেনা শাজ

শুভ্রতাদের সম্পর্ক ঠিক কোন জায়গায় আটকে আছে সে নিজেও জানে না। বুঝতে পারছে না আসলে। মেহরাদ ভাইয়ের নীরবতা তাকে পোড়াচ্ছে। কিন্তু, দাম্ভিক এক মন বলছে,
‘সবসময় তোর উপর রাগ দেখায় আর তুই গলে গলে পিছু ছুটিস। এরকম করলে চলবে না। তুই নিজেও একটু ভাব নিয়ে দেখ! তোর পিছু পিছু ছুটে কি-না! কিন্তু কিসের কি! তার পিছু ছুটবে দূরে থাক, তাকে দেখলে এমন করে! সে কি-না কি যেমন! আরে ব্যাটা বউ তো আমি তোর’ইইই। সংসার তো আমার সাথেই করবি না-কি! এই নটাংকি করার মানে কি! তোর হাড় মাস জ্বালিয়ে খাবো আমি বলে দিলাম!’ একনাগাড়ে দাত কপাট চেপে কথা গুলো বলে উঠলো শুভ্রতা। ব্যাগের উপর থাবা মে’রে চট করে উঠে দাড়ালো মেয়েটা। আবারও সোহানার দিকে তাকিয়ে আঙুল তাক করে বললো,

“এই তোর ভাইটা বেশি বেশি করতেছে না? এই লোকের মাথার সব চুল আমি তুলে ফেলবো বলে দিলাম! সয়তান লোক! এই ভালোবাসার নমুনা! কিছু বলতে না বলতেই নাক কাড়ে তোলে রাখে!দুনিয়ায় সব ব্যাটারা ভালোবাসার মানুষের আগে পিছে ঘুরে, রাগ ভাঙ্গায়। মান গলায়। আর এই লোক! নিজেই জেদ ধরে এভারেস্টের চুড়ায় উঠে বসে থাকে। ”
“কারেক্ট ইট সিস্টার। এটা আর কেউ না, এটা তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার। সো ভাইয়ের থেকে এসব আশা বাদ দে।”
“এসব বাদ দে মানে কি? তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার না কি না কি আমার! ছাই আমার! যত্তসব…. ”
শুভ্রতা আর কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না মেহরাদ কে গা*লি দেওয়ার। সয়তান লোকটা তাকে অসহ্য রকম ভাবে জ্বালাচ্ছে। সে শুধু ফোসফাস করতে থাকলো রাগে। এসব একদম মেনে নেওয়া যাচ্ছে না আর।
মূহুর্তেই শুভ্রতার রণমুর্তিটা উধাও হয়ে গেল দূর অজানায়। মুখটা কেমন কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল হটাৎ করেই। আবারও সোহানার পাশ ঘেঁষে বসলো কলেজের খোলা মাঠের একপাশের বেঞ্চিতে। সোহানাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বললো,

“তুই বল, আমি ভুলটা কি করেছি? মেহরাদ ভাই এমন করছে কেন? আচ্ছা সেদিন ভুল টুল যা-ই বলে থাকি উনি কি এগুলো বাদ দিয়ে আমার কাছে আবার আসতে পাড়েনা? তুই বল মেহরাদ ভাই এগুলো ঠিক করছে?”
আহহ্! সোহানার মনটা বিরক্তিতে চিড়বিড় করে উঠলো বোকা মেয়েটার কথায়। এই এক কথা এক সপ্তাহ ধরে ঘেনের ঘেনের করছে তার কাছে। সুস্থ হওয়ার পর এক সপ্তাহ ভালোই রাগ টাগ নিয়ে ভাব ধরে বসেছিলো। ভেবেছিলো মেহরাদ ভাই হয়তো ওকে এসে মানাবে। ওমাহ! কিসের কি পান্তা ভাতে ঘি! উল্টো মেহরাদ ভাই ফিরেও তাকাচ্ছে না। ওর বিষয়ে টোটালি কিছুই বলছে না! মানে শুভ্রতা যেন এক্জিস্টই করেনা ভাইয়ের কাছে এমন এক ভাব!
সেই থেকে রোজকার ওর পেনের পেনের এক কথা ওর কানের পোকা গুলোও তাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়িতে যা-ই একটু ভাব টাভ ধরে থাকে কলেজে আসলে তার মাথা খায়! আরেহ বইন! জানোস ভাই এমন, তাইলে উলটা পালটা বলস ক্যান, হুদাই!
“বইন বিশ্বাস কর? তোর এগুলি আর ভাল্লাগে না। এসব প্রেম ভালোবাসা না কইরা যদি ভন্ডামি করতি, তাইলেও এর থেকে বেশি ভালো থাকতি আমার মতো। এইসব কইরা মা*রা খাইয়া লাভটা কি? দুই দিন পর পর এই ঝামেলা ঐ ঝামেলা! ”
“তুই বুঝবি? আমার হইয়া কিছু বলতে না পারলে চুপ থাক মাইয়া!” ঝাঝিয়ে উঠে সোহানাকে থামিয়ে দিলো শুভ্রতা। এই সয়তান লোকটাকে সে জ্বালিয়ে মা*রবে! তাকে পাত্তা না দেওয়া!

সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। হিসেব মতো এক ছেলেকে বাড়িতে পাঠিয়েছে আলতাফ তালুকদার শুভ্রতার হায়ার ম্যাথের টিচার হিসেবে। পরিক্ষা চলে এসেছে তাই অতি শিগগিরই এই কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি তাও আদনানের সাহায্যে। তার গুনধর ছেলে তো বাকা হয়ে বসে আছে। যাক, ছেলে না থাকলেও ছেলের বন্ধুও সইই! ছেলেটা ভারী কাজের! কিরকম বলতেই বলতেই ঠিক করে দিলো টিউটর!
মেহরাদ আজ সন্ধ্যে সন্ধ্যেয় বাড়ি চলে এসেছে। গত একমাসে আজকেই ওকে বাড়িতে দেখা গেলো সন্ধ্যার পর। তবে আসার পর থেকে রুমেই। জাহানারা বেগম ছেলের শরীর ভালো না মনে করে দেখে এসেছেন ছেলেকে কিন্তু তেমন কিছু না। ছেলে ভালোই।

সাতটা বেজে গিয়েছে প্রায়ই। তালুকদার বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠলো। স্বপ্না গিয়ে দরজা খুলে দেখলো নতুন এক চেহারা। তাও চার চোখ ওয়ালা। সে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চাহনিতে পরখ করে নিলো চার চোখ ওয়ালাকে। এর সম্পর্কে তাকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও! বাড়ির স্থায়ী একজন কাজের লোক হয়ে কে বাড়ির মেয়েকে পড়াতে আসছে তার জানা শুনার একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে না!
“এই ছেলে তুমি নি শুভ্রতা মামনির নতুন স্যার?” জোহরি চোখে চেয়ে শুধালো স্বপ্না৷
অপ্রস্তুত কেশে উঠলো দ্বীপ। কেশে নিজের চশমাটা ঠিক ঠাক করে জবাব দিলো।

“জ্বী। ”
“তুমি ছেলে এই এলাকারই?”
“জ্বী।”
“তুমি ভালো কইরা পড়াইতে পাড়ো নি? ”
“জ্বী।”
“কি জ্বী জ্বী লাগায় রাখছো? আর কিচ্ছু বলতে পারোনা। পড়াইবা কি?”
“জ্বী… ”
“আবার জ্বী?”
“আহা বলতে দিবেন তো খালা মনি! ”

“কি খালা মনি? এই ছেলে তোমার আমাকে দেখে খালা টাইপ মনে হলো? আন্টি ডাকতে পাড়ো না! পড়াইবা কি? হায় হায় এই কি টিসার লইয়া আইলো শুভ্রতা মামনির লইজ্ঞা!” একপ্রকার বিলাপ করতে করতে পথ ছেড়ে ভিতরে ঢুকলো স্বপ্না। তার বিলাপে সুরাইয়া বেগম, জাহানারা বেগম রুম ছেড়ে বেড়িয়ে আসলেন।
এদিকে দ্বীপ হতভম্ব। আন্টি আর খালার মধ্যে পার্থক্য কি? এ কোন পাগল পারায় পাঠালো তাকে আদনান ভাই!
জাহানারা বেগম এসে দ্বীপকে সাধরে ড্রয়িং রুমে বসালেন। ছেলেটা স্বপ্নার ওভার এক্টিং এ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছে। স্বপ্নাকে বকে শুভ্রতার রুমে পাঠালে ওকে নিচে আসতে বলে। তারা দু’জন দ্বীপের সাথে একটু পরিচিত হয়ে কিচেনে গেলেন নাস্তার সরঞ্জাম তৈরি করতে।
স্বপ্না এসে শুভ্র‍তার রুমে ঢুকে গেলো চপাত করে দরজা খুলে। এ রুমে আসতে গেলে সে এতো পারমিশন টারমিশনের ধার ধারে না। মাইয়া মানুষ মাইয়া মানুষের রুমে ঢুকবো! এনে আবার কিসের পারমিশন!
বিকেলের পর থেকে সে আর রুম থেকে বের হয়নি আজ। সত্য ব্লতে তার পড়া বাকি অনেক। এক্সাম মাথায় মেয়েটার নাজেহাল অবস্থা! তার উপর হুট করেই বারতি টেনশন গুলো কিলবিল করে উঠে ।
আচমকা স্বপ্নাকে দেখে বুকে থু থু দিয়ে উঠলো শুভ্র‍তা। ভয় পেয়েছে সে। এভাবে কেউ আসে! একটু নক টক করবে তো!

“একটু নক টক করে আসবে তো! ”
“মাইয়া মানুষ মাইয়া মাইনষের রুমে আইমো এনে নক টক কি? তাড়াতাড়ি নিচে আসো। তোমার নতুন স্যার আইছে। চাইর চোখ। ব্যাটারে আমার ভাল্লাগে নাই।”
“খালা পড়মু। ভাল্লাগানের কি হুইলো? ”
“থাক যাই। আমার ভাল্লাগা না লাগা দিয়া কি! তুমি যাও গিয়া পড়তে বসো। আমি আবার যাই এই বাড়ির মহা রাজের কাছে। রাজায় আইজ সন্ধ্যা না হইতেই বাইত! আজব ঘটনা। ”
শুভ্রতা তেছড়া চোখে চেয়ে রইলো স্বপ্নার যাওয়ার পথে। রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে সেও পিছু গিয়ে দরজার পর্দা ধরে লটকে দেখলো মেহরাদের রুমের দিকে যাচ্ছে স্বপ্না খালা৷ সে প্রথমেই বুঝেছিলো! এই লোককেই স্বপ্না খালা দুনিয়ার আজগুবি নামে ডাকে।

বাবাহ্! আজ এতো তাড়াতাড়ি বাড়িতে!
শুভ্রতা দরজা থেকে ফিরে আসলো। এসে ঝটপট সময় দেখে নিয়ে মনে মনে সয়তানি হাসি দিলো।
কাবার্ড থেকে শুভ্র রঙা দেহ খানয় একটা শুভ্র রঙা কুর্তি জড়িয়ে নিলো। চোখে ভরাট করা কাজল দিয়ে পাতলা অধর জোড়ায় আর্টিফিশিয়াল রঙের প্রলেপ লাগিয়ে দিলো। চুল টুল সুন্দর করে বেধে একদম কাউকে ঘায়েল করার মতো ফিটফাট!
মূহুর্তেই মেয়েটার চেহারা থেকে চোখ ফেরানো দায় এমন অভিভূত রূপে আবারও দরজায় এসে দাড়ালো। দৃষ্টি স্থীর সামনের রুমের রুমের দরজার দিকে। ব্যাটা বের হচ্ছে না কেন? বের হবে না রুম থেকে? নয়তো সে কাকে জ্বালাতে সাজ দিলো!
প্রায় দু চার মিনিট এভাবেই অতিবাহিত হলো। নিচ থেকে শুভ্রতার জন্য ডাক এলো। বিরক্ত হলো শুভ্রতা। আসছে না কেন?

শুভ্রতার অপেক্ষার প্রহর শেষ করে সামনের দরজাটার নব ঘুরে উঠলো। চট করে পর্দা ছেড়ে দরজা থেকে সড়ে আসলো শুভ্রতা। এমন ভাব সে সবেই রুম ছেড়ে বেরুবে।
মেহরাদ মোবাইল কানে চেপে রুম ছেড়ে বেরিয়েছে। কলে আদনান। দ্বীপ কে সে পাঠিয়েছে এটা জানাতেই কল করেছে মূলত। দ্বীপের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে সে। ছোট ভাই ব্রাদার হিসেবে পরিচিত ছেলেটা। নিজেদের বাড়ি এসেছে দেখা করতে যাওয়াটা কর্তব্য! আর তাছাড়াও….
আদনানের সাথেই টুকিটাকি কথা বলায় ব্যাস্ত মেহরাদ সামনে হেলে দুলে আসা লাস্যময়ী কিশোরী বঁধুর রূপ দেখতে পাইনি এখনো। কথা বলায় ব্যাস্ত তার কানে হটাৎ করেই নুপুরের ঝুমঝুম শব্দে পা থেমে গেলো তার। সেই সাথে নাসারন্ধ্রে মিষ্টি এক পরিচিত সুবাস ধমকা হাওয়ার ন্যায় ধাক্কা খেলো। হটাৎ করেই ঝিম ধরে যাওয়া বলিষ্ঠ দেহ খানা চোখ বুজে ফেললো। আরেকটু গভীর ভাবে টেনে নিলো ভিতরে মিষ্টি মেয়েলি ঘ্রাণটা।

বন্ধ চোখ জোড়া খুলে ঘার ঘুরিয়ে সামনের বরাবর করিডরে তাকালো মেহরাদ। শুভ্রতে তে মুড়ানো এক শুভ্র পরী ধীরপায়ে হেলেদুলে এগিয়ে আসছে সিড়ির দিকেই। যার হাত বারবার সামনের চুল গুলো ঠেলে কানের পিছনে গুজে দিচ্ছে। সে বর্তমানে দাঁড়িয়ে সিড়ির দোরগোড়ায়। এবং সেখানেই স্থীর কিয়ৎপল দাঁড়িয়ে রইলো।
শুভ্র‍তার এমন ভাব সে সামনে আগে পিছে কে আছে সে কিচ্ছু দেখেনি। কাউকে দেখেনি। সে নুপুরের ঝমঝম শব্দ তুলে গলায় পেচানো দোপাট্টাটার একাংশ হাতে পেচিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে সিড়ির কাছে পৌছালো। মেহরাদ তখনও দাঁড়িয়ে সিড়ির দোরগোড়ায়। তার এমন ভাব সে মেহরাদকে দেখেও দেখেনি। অথচ, এতক্ষণ এই মূহুর্তটার অপেক্ষাতেই ছিলো সে।
বিমোহিত মেহরাদের ঘোর কাটলো শুভ্রতা পুরো পুরি কাছে আসাতে। সাথে সাথেই চোয়াল শক্ত হলো এ রুপ দেখে। এতো সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছে? দ্বীপের সামনে?পড়তে? তা-ও তার সামনে দিয়ে ! সে এটা হতে দিবে?
.শুভ্রতার এতো দিকে খেয়াল নেই। সে মূর্তি বনে দাঁড়িয়ে থাকা মেহরাদকে বিনা পাত্তায় ওভার টেক করে কোমড় দুলিয়ে নিচে নামতে নামতে গেয়ে উঠলো,

“কেমন করে এতো নিঠুর
হইলো তোমার মন
তুমি মনটা আমার ভাংঙা দিলা
করিয়া আয়োজন
মনেতে গুরে গুরে আমার এ অন্তরে
প্রেমেরি আকাঙা, ও পাংখা
তোমার লাগি পাংখা হইয়া
পাংখা হইলো মন
এখন মনের পাংখা গুরে নাতো
খোজে বেরাই বন
আমি তোমার লাগি পাংখা হইয়া
পাংখা হইল মন
এখন মনের পাংখা গুরে নাতো
খোজে বেরাই বন
মনেতে গুরে গুরে আমার এই অন্তরে
প্রেমেরি আকাঙা,ও পাংখা
পাংখা পাংখা পাংখা পাংখা পাংখা হইলো মন
এখন মনের পাংখা গুরে নাতো
খোজে বেরাই বন…..”

এই গান গাইতে গাইতে শুভ্রতা আর আগে পিছে কিছু দেখলো না। সুর ধরেই কিচেনের দিকে যেতে লাগলো। এদিকে আকস্মিক এ গান শুনে মেহরাদ ভিমরি খেয়ে সিড়ি বেয়ে নামতে থাকা পা টলে উঠেছিলো। পরতে পরতে কোন রকম সিড়ির হাতল ধরে নিজেকে স্থীর করেছে। আরেক দিকে দ্বীপ সবে ভদ্রতার খাতিরে গ্লাসে চুমুক দিয়েছিলো পানি খেতে, বেচারা কেশে উঠেছে। নাকে মুখে উঠে গিয়েছে বোধহয় পানি! এ কোন যাদুগর এ এসে পড়েছে সে!
শুভ্রতার গানের সুরে যখন কিচেনে হাজির হলো তাকে দেখে ভূত দেখার মতো জাহানারা বেগম আর সুরাইয়া বেগম চমকে উঠলেন। স্বপ্না তো এসে শুভ্রতার বাহু ধরে চোখ দুটো গোলডিমা বানিয়ে বললো,
“আল্লাহ গো! সন্ধ্যা বালা মাইয়াডারে কিছু ধরলো না-কি? এমনে সাজ্জো কা? আয় হায় রে! সুন্দরী মাইয়াগো এই এক জ্বালা !সুযোগ পাইলেই তেনারা আছর কইরা বইয়া থাহে। ”

সুরাইয়া বেগম আর জাহানারা বেগম দু’জন দুজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো। তারপর শুভ্রতার দিকে এগিয়ে গিয়ে চেহারায় হাত বুলিয়ে চুমু খেলেন। শুভ্রতা হেসে উঠলো খিলখিল করে মন খোলা হাসি বহুদিন পর। মেহরাদকে জ্বালিয়ে সে ভারী সন্তুষ্ট। তার সাথে তারা-ও হেসে দিলেন। চোখ জোড়াল তাদের। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“এভাবেই সবসময় হাসি খুশি থাকবি বুঝলি?”
শুভ্রতা উপর নিচ মাথা দোলালো। তার মাথা দোলানোর মাঝখানেই কারো ধপ ধপ পায়ের শব্দ ভেসে আসলো এদিকে। শুভ্রতার বুক ডিপডিপ শুরু হয়ে গেল। সে বুঝতে পেরেছে কে আসছে। তার ভিতরটা পুরনো লাভুডাভুতে শিরশির করে উঠলো কেমন। এমন হওয়ার মানে কি! আজব!
“এখানে টিউশনি চলবে না-কি পাত্রী দেখা চলবে? এসব চললে টোটালি পড়া শুনা বন্ধ করে দিবো। এইসব রঙ ডঙ আমি থাকতে এ বাড়িতে কক্ষনো না! ”

মেহরাদের শক্ত কন্ঠ ভেসে আসলো সকলের কাছে। হুরমোড়িয়ে দু’জা তাকালো সামনে। মেহরাদ দাঁড়িয়ে শক্ত চোয়ালে টান টান ভঙ্গিতে। এপাশ থেকে ‘উউউউহ’ বলেই মুখ মোচড়াল শুভ্রতা।
পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা মেহরাদ বুঝলো শুভ্রতার মুখ মোচড়ানো। এই মেয়ের রক্তে মেশা এই মুখ মোচড়ানো। সে একই ভাবে আবারও রাশভারি শক্ত কন্ঠে বলে উঠলো,

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৮

“আজ এই মূহুর্তের পর এই নাটক দ্বিতীয় বার দেখলে সোজা মাথায় তুলে আছাড় মারবো। সাবধান করে দাও।”
শুভ্রতা এবার নাক সিকোয় তুলে ফোসফাস করে পিছু তাকালো মেহরাদকে কিছু বলবে বলে। কিন্তু এর আগেই মেহরাদ হন হন করে চলে গিয়েছে সাথে দ্বীপকেও নিয়ে গিয়েছে সাথে করে। আজ আর পড়াতে হবে না।
শুভ্রতা মনে মনে মেহরাদকে শ’খানেক গালি দিলো। “জাদরেল…জাদরেল….. জাদরেল…..

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩০